বুধবার, জুলাই ৩১, ২০১৯

ঘাটাইলে সাবেক মেয়র হাসান আলী ও ডাঃ আব্দুল জলিল মিয়ার স্মরণে দোয়া মাহফিল

হেলাল, ঘাটাইল: টাংগাইলের ঘাটাইলে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সদস্য প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাবেক মেয়র হাসান আলী মিয়া এবং ডাঃ আব্দুল জলিল মিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার (৩১ জুলাই ) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এতে ঘাটাইল প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতি জনাব আলহাজ্ব হাসান আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু।

এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র মোঃ শহিদুজ্জামান খান, ঘাটাইল উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জনাব আসাদুল ইসলাম, প্রবীব হিতৈষী সংঘের সাধারন সম্পাদক অধির চন্দ্রসাহা, সাবেক অধ্যক্ষ শামছুল আলম মনি, সাংবাদিক হায়দার রহমান, ডাঃ ফনিন্দ্র পাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ সাত্তার, রফিক হাসান প্রমুখ।

ঘাটাইলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৫

মাসুম মিয়া, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সিএনজি ষ্টেশনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (৩১ জুলাই) ঘাটাইল পৌরসভার কলেজ মোড় চত্বরে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহতরা হলেন, আঃ মজিদ (৩৫), রেজাউল ইসলাম (২৮) বাদল মিয়া (২৭), ইয়ার মাহমুদ (২৫) ও মোতালেব হোসেন (৩৫)। আহতদেরকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ঘাটাইল উপজেলা অটোরিক্সা, অটোটেম্পু ও সিএনজি স্ট্যান্ডে দুটি কমিটি গঠিত হয়। একটি কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন লিটন সরকার ও আবু সাইদ রুবেল এবং অপর কমিটির নেতৃত্বে রয়েছে রফিকুল ইসলাম ও কফিলুর রহমান ভুটান। উভয় কমিটির লোকজন আধিপত্য বিস্তার করতে চাইলে আজ মুখোমুখি এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে ঘাটাইলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফলে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশ ছাড়াও অতিরিক্ত পুুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মাকছুদুল আলম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার পর অতিরিক্ত পুুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

টানা ৯ দিন ছুটি পাচ্ছে না সরকারি চাকরিজীবীরা

সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ায় ঈদের ছুটিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ঢাকা না ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্তদেরও এ ছুটিতে ঢাকার বাইরে যেতে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) শেখ মুজিবুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় চিকিৎসক স্বল্পতার জন্য যেসব চিকিৎসক ট্রেনিংয়ে আছেন, তাদেরকে ট্রেনিং বাদ দিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও গুজব প্রতিরোধ-সংক্রান্ত একটি পর্যালোচনা সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর প্রার্দুভাবরোধে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের আবাসস্থল ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এডিস মশার বিস্তাররোধে এ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে।

ঘাটাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা উপলক্ষে র‌্যালি

গতকাল ৩০ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে ঘাটাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ মশক নিধন ও পরিচ্ছনতা সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ”নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখি সবাই মিলে সুস্থ থাকি” এ প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে উপজেলা প্রশাসন এই র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। 

র‌্যালি ও উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহের উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম । 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. নুর নাহার বেগম, পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান খান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা সুলতানা শিল্পী। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আরিফ হোসেন, জামুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শামীম খান, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলম প্রমূখ। 

র‌্যালি ও আলোচনা সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। 

ঘাটাইলে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

ঘাটাইলে কিশোর অটোবাইক চালক শাকিল হত্যা মামলায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন ঘাটাইল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আপেল মাহমুদ। অভিযুক্ত আসামিরা হচ্ছে ঘাটাইলের পাড়া কুশারিয়া গ্রামের হারুন, শাহ আলম, শফিক খান, গৌরিশ্বর গ্রামের শফিকুল ইসলাম, নলমা গ্রামের আমির আলী ও জমির উদ্দিন। আসামিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরা জেলহাজতে রয়েছে। অপর মূল পরিকল্পনাকারী হারুন পলাতক রয়েছে। একাধিক আসামি স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভিকটিম শাকিলের অটোবাইকটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও তদন্ত শেষ করতে সাড়ে সাত মাস সময় লেগেছে।

২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর অটোবাইকচালক শাকিল খান বাড়ি থেকে বের হয়ে অটোবাইকসহ নিখোঁজ হয়। ওই অটোবাইকের জন্য আসামিরা তাকে ওই রাতেই মধুপর গড়ের জঙ্গলে নিয়ে যায়। এরপর ৬ জন মিলে শাকিলকে হত্যা করে লাশ পুঁতে রাখে।

ফের বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন কণ্ঠশিল্পী সালমা

আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্লোজআপ ওয়ানখ্যাত কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমা। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) ছিল তার জন্মদিন। এদিনই সংবাদমাধ্যমকে আবারও বিয়ের কথা জানিয়েছেন তিনি।

শিবলীর সঙ্গে সালমার ডিভোর্স হয়েছে প্রায় তিন বছর। কিন্তু এতদিন পর কেন এ সিদ্ধান্ত? তার জবাবে তিনি বলেন, পরিবারের সবাই চায়, আমি নতুন জীবন শুরু করি। নিজেও খুব একাকীত্ব বোধ করছি। তাই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, পড়াশোনার জন্য এ বছরেই দেশের বাইরে যাব। এর আগেই বিয়ের কাজটি সেরে ফেলতে চাই। বাসার লোকজনও সে অনুযায়ী এগোচ্ছে। খুব শিগগিরই বিয়ের খবর জানানো হবে।

এদিকে সালমার সঙ্গে বিচ্ছেদের কিছু দিন পরই নতুন জীবন শুরু করেছিলেন শিবলী সাদিক। তবে সালমা ও শিবলীর মেয়ে স্নেহা শিবলীর সঙ্গেই থাকে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় শিবলী সাদিক ও সালমার। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ২০১৬ সালের নভেম্বরে তাদের বিচ্ছেদ হয়।

জানাযার সময় উঠে বসলো মৃতদেহ, দৃশ্য দেখে ইমামের মৃত্যু

সৌদি আরবে জানাযা নামাজ করার সময়ে নড়েচড়ে উঠে বসেন মৃতদেহ। আর তা দেখেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন মৃতব্যক্তিকে দাফনের জন্য আসা ইমাম।​

সৌদি আরবের ‘লাইফ ইন’ নামে একটি ওয়েবসাইটের তথ্যানুসারে, হাসাপাতালে চিকিৎসার সময়ে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে জনৈক ব্যক্তিকে।

তবে সে সময়ে তার মৃত্যু হয়নি। তার শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর গতিতে হচ্ছিল। তিনি এতটাই ধীর গতিতে শ্বাস নিচ্ছিলেন যে, চিকিৎসক শুধু মৃত বলেই ঘোষণা করেননি, ডেথ সার্টিফিকেটও দিয়েছেন।

এরপর স্বাভাবিকভাবেই ওই মৃত ব্যক্তিকে দাফনের আয়োজন করা হয়। ইমাম এসে জানাযা করার প্রস্তুতিও নিলেন। আর তখনই বাধল বিপত্তিটা। জানাযা করার সময়েই নড়েচড়ে উটে বসেন মৃতদেহ।

আর এই দৃশ্য দেখেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন ওই ইমাম। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর।

মঙ্গলবার, জুলাই ৩০, ২০১৯

নয়নের উদ্ধার করা ল্যাপটপে পাওয়া গেছে প্রচুর পর্ন ভিডিও

গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে শুধু একটাই আলোচনা চলছে। স্ত্রীর সামনে স্বামীকে খুন। আর তাও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল শ খানেক লোক। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসল না।

এ নিয়ে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। রিফাত শরীফের (২২) মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে চলছে শোকের মাতম।এদিকে রিফাত শরীফ হত্যার মূল নায়ক সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ডের মৃত্যুর পর তার সম্পর্কে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে।

তার সম্পর্কে মুখ খুলতে শুরু করেছেন তার প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। ছিঁচকে চোর থেকে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হয়ে ওঠা নয়ন বন্ডের মাদক, নারী, অবৈধ টাকা এসবের সঙ্গে ছিল নিত্য আনাগোনা। জনপ্রিয় বন্ড সিরিজের নাম থেকেই নিজের নাম রাখে নয়ন বন্ড।

বরগুনা শহরের কলেজের পাশেই তার বাড়ি। ফলে কলেজের আশপাশেই সময় কাটতো তার বেশি। কলেজের পাশের পরিত্যক্ত ইটের ঘেরা একটি জায়গায় ছিল নয়নের আস্তানা। ওই আস্তানার কক্ষে ছাত্রীদের নিয়ে ফূর্তি করতো নয়নবন্ড। এদের মধ্যে কাউকে ব্ল্যাকমেইল কাউকে ভয় দেখিয়ে আবার কাউকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নিয়ে যেত নয়নবন্ড।

সেখানে নিয়ে ছাত্রীদের ধর্ষণের সময় বিশেষভাবে রাখা ক্যামেরায় ভিডিও করে রাখতেন তিনি। পরে ওই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ছাত্রীদের সঙ্গে আপত্তিকর কাজে লিপ্ত হতেন। তার হাতে ঠিক কতজন ছাত্রীর সর্বনাশ হয়েছে তার সঠিক হিসাব পুলিশের কাছেও নেই। তবে নয়নের বিশেষ কক্ষ থেকে উদ্ধার করা একটি ল্যাপটপে প্রচুর পর্ন ভিডিও পাওয়া গেছে।

ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি পর্ন ভিডিওতে কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে নয়ন বন্ডের অন্তরঙ্গ মহুতের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ভিডিওর পাত্র পাত্রীদের মধ্যে নয়ন বন্ডের চেহারা স্পষ্ট। শুধু তার বিছানা সঙ্গী হওয়া তরুণীদের কারো কারো চেহারা অস্পস্ট।

একেকদিন একেক ছাত্রীকে নিয়ে তিনি ফুর্তিতে মেতেছেন। রিফাতের স্ত্রী মিন্নিও তার লালসার শিকার হয়েছেন। এমন অন্তত ১২ ছাত্রীর সম্ভ্রম হারানোর তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। এর বাইরেও অনেক ছাত্রী নয়নের লালসার শিকার হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, নয়ন বন্ডের বিশেষ কক্ষের গোপন জায়গায় আইপি ক্যামেরা (ইন্টারনেট ক্যামেরা) সুকৌশলে সেট করা থাকতো। এমনভাবে সেগুলো সেট করা থাকতো যে ভুক্তভোগীরা ক্যামেরার অস্তিত্ব টের পেতেন না। একবার নয়নের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার পর তার আর রক্ষা ছিল না।

বার বার সে নয়নের হাতে ব্যবহৃত হত। ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হত অনেক ছাত্রীকে। অনেক ছাত্রী নয়নের হাত থেকে বাঁচতে কলেজ ছেড়ে আড়ালে চলে গেছেন। অনেকে তার চাহিদামত মোটা অংকের টাকা তুলে দিয়ে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

পুলিশের হাতে এমন অন্তত ১২ জন ছাত্রীর তথ্য আছে বলে জানা গেছে। নয়ন নিহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কে বা কারা এসব ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছে তার সন্ধান করতে পারেনি পুলিশ।

নয়ন বন্ডের বাড়ি বরগুনা শহরের ডিকেপি রোডের মাঝ বরাবর একটি সরু গলির শেষ প্রান্তে। বাড়ির সামনে অনেকটা জায়গা খালি। সম্প্রতি সেখানে বাড়ি নিমানের জন্য প্রচুর ইট স্তুপ করে রাখা। নয়নের বাড়ির মূল দরজার পাশেই একটা ছোট বৈঠক ঘর। নয়ন সেখানেই থাকতেন।

গভীর রাত পযন্ত ঘরের দরজা খোলা থাকতো। সারাদিন এখানে সেখানে ঘোরাঘুরি করে গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন। রাত ১২ টার পর থেকেই তার কক্ষে নানা রকম লোকজনের আনাগোনা হত। আসতেন পুলিশের লোকজনও।

প্রতিবেশিরা বলছেন, পুলিশের অসাধু কয়েকজন সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারা নয়নকে ব্যবহার করে নিবিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। সূত্র বলছে, মাদক ব্যবসায়ী নয়ন নিজেও মরণ নেষা ইয়াবায় আসক্ত ছিলেন। কলেজ ঘেষা বাড়িটিকে প্রকাশ্যে তিনি মাদক বিক্রির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করেন।

এ ব্যাপারে নয়ন বন্ডকে নিয়ে তার মা সাহিদা বেগম বলেন, ছেলেকে ভালো করার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু একা একা পারিনি। আমার দুটি ছেলে। একটা বিদেশে থাকে। স্বামীকে হারিয়েছি অনেক আগে। নয়নকে সঙ্গে নিয়ে থাকতাম। কিন্তু নয়ন নেশাগ্রস্ত হয়ে গেল। ছেলেকে ভালো পথে ফিরিয়ে আনতে পারিনি। বলতে পারেন আমি একজন ব্যর্থ মা।

তিনি বলেন, তবে ছেলেটা অপরাধী হলে আইনের হাতে তুলে দিতে পারত। তার বিচার হতো। আদালত যে শাস্তি দিত তা সে ভোগ করত। কিন্তু তাকে ক্রসফায়ারের নামে মেরে ফেলল। কেন তাকে মেরে ফেলা হলো। তাকে যারা নয়ন বন্ড বানিয়েছে তাদের আড়াল করতেই কি তাকে মেরে ফেলা হলো?

যে কারণে ১০ তলার কার্নিশে ঝুলছিল গৃহকর্মী

রাজধানীর কাকরাইলের কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির পাশে ১৫ তলা একটি ভবনের দশম তলার বারান্দার কার্নিশে ঝুলে ছিল এক কিশোরী।ভবনটি অধিক উচ্চতার হওয়া প্রথমে বিষটি খেয়াল করতে পারিনি পথচারীরা।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে সেখানে উৎসুক মানুষের জটলা বাধে। খবর পেয়ে আসে পুলিশও। ততক্ষণে বারান্দারা গ্রিলের জানালা খুলে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন ওই নারী।

তবে ঘটনাটি কি ছিল যার জন্য এই কিশোরী কার্নিশে ঝুঁকি নিয়ে ঝলেছিল। পুলিশ জানায়, খাদিজা (১৪) নামের এই কিশোরী দশ তলায় বি-১০ ফ্ল্যাটে হাবিবুর রহমান ও লাভলী রহমানের গৃহকর্মী। অন্য এক গৃহকর্মীর সঙ্গে ঝগড়া করে সে বারান্দার গ্রিলের ফোকর দিয়ে পালাতে চেয়েছিল। তবে গৃহকর্ত্রী লাভলী রহমান তাকে উদ্ধার করেন।

লাভলী রহমান পুলিশকে জানিয়েছেন, খাদিজা ও হেলেনা নামে তার দুই গৃহকর্মী রয়েছে। দুজনের মধ্যে ঝগড়ার পর খাদিজা পালাতে চেয়েছিল। তাকে উদ্ধারের পর তিনি স্বজনদের খবর দিয়েছেন।

খাদিজা এক বছর ধরে তার বাসায় ছিল। তার বাড়ি সিলেটে।

তবে ওই কিশোরীর ঝুলে থাকা ছবিতে দেখা গেছে, বারান্দার ভেতর থেকে এক নারী তার দিকে তাকিয়ে কিছু বলছিলেন। তবে তাদের মধ্যে কি কথা হয়েছে তা জানা যায়নি। এছাড়া মেয়েটি ঝূঁকিপূর্ণভাবে ঝুলে আছে, নিচ থেকে তা ঠিক বোঝাও যায়নি।

তবে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ জানিয়েছে, ওই গৃহকর্ত্রী মেয়েটিকে পুলিশের সামনেই গালাগাল করছিলেন। সোফায় বসিয়ে ঘটনা জানার চেষ্টা করলেও গৃহকর্ত্রী তাকে সোফায় বসতে দেয়নি। এই নারী নিজেকে মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দেন।

রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম বলেন, ওই নারী গৃহকর্ত্রীকে কোনো মারধর করেছে কিনা তা জানতে চাইলেও সে তা অস্বীকার করেছে। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

চট্টগ্রামের চাবি সাকিবের হাতে

বিশ্বের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের হাতেই সম্মানসূচক চট্টগ্রামের চাবি তুলে দিলেন নগর পিতা আজম নাছির উদ্দিন। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) ক্রিকেট কমিটির উদ্যোগে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ চাবি তুলে দেয়া হয়েছে। এই সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের ভিতরে-বাইরে সাকিব ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। প্রিয় ক্রিকেটারকে এক নজর দেখতে স্টেডিয়ামের গ্যালারি পরিপূর্ণ। হাজার কন্ঠে ‘সাকিব, সাকিব’ শব্দে মুখরিত হয় পুরো স্টেডিয়াম পাড়া।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) ক্রিকেট কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান যখন অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন, তখন এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের চিত্র ছিলো এমনি। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অসাধারণ পারফরমেন্সের জন্য সাকিব আল হাসানের জন্য এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের প্রথম কোনো খেলোয়াড় হিসেবে সাকিব আল হাসানের হাতে সম্মানসূচক ‘নগর চাবি’ তুলে দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, সাকিব শুধু একটি নাম নয়, নিজ গুণে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন। সাকিবের অসাধারণ পারফরমেন্স এর কারণেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মঞ্চে ভালো খেলেছে। তার প্রতি সারাদেশের মানুষের সঙ্গে চট্টগ্রামবাসীও কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, সাকিবের সঙ্গে দীর্ঘদিন মেশার কারণে বুঝেছি চট্টগ্রামের প্রতি, চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা আছে। চট্টগ্রামকে তিনি নিজের এলাকায়ই মনে করেন। দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বিশ্ব বরেণ্য এ ক্রিকেটারকে ‘নগর চাবি’ দেয়া হচ্ছে। তাকে সম্মানিত করে চট্টগ্রামবাসীই সম্মানিত হলো।
মেয়র বলেন, কোটি ক্রিকেট ভক্তের মতো খুদে ক্রিকেটারদের কাছেও সাকিব স্বপ্নপুরুষ। তাকে কাছে পেলে খুদে ক্রিকেটাররা অনুপ্রাণিত হবে। এ জন্য এ অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে চট্টগ্রামের খুদে ক্রিকেটারদের কথা বলার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। যাতে চট্টগ্রাম থেকে সাকিব, তামিম বা মাশরাফির মতো মানের ক্রিকেটার উঠে আসে। সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ও সিজেকেএস ক্রিকেট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলী আব্বাস বলেন, ক্রীড়াবান্ধব মেয়র হিসেবে পরিচিত পাওয়া চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সার্বিক সহায়তার কারণেই সাকিবকে সম্মানিত করার মতো অসাধারণ একটি আয়োজন আমরা করতে পেরেছি। এ জন্য তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আবু হাসান সিদ্দিক বলেন, সাকিবের কারণেই সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আজ পরিচিত। সাকিব আমাদের কাছে শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনিই আমাদের বাংলাদেশ। তার মতো ব্যক্তিকে সম্মানিত করতে পেরে আমরা সম্মানিত হলাম। তাকে কাছে পেয়ে এখানকার তরুণরাও অনুপ্রাণিত হবে। চসিক কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সিরাজ উদ্দীন, সদস্য আব্দুল হান্নান আকবর।

বক্তৃতা পর্ব শেষে সাকিবের হাতে সম্মানসূচক ‘নগর চাবি’ তুলে দেন, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, নেছার উদ্দীন মঞ্জু, জোবাইদা নার্গিস খান এবং চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দৌহা। অনুষ্ঠানে সাকিবের হাতে সিজেকেএস এর পক্ষ থেকে ক্রেস্ট তুলে দেন সিজেকেএস এর সহ সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আবু হাসান সিদ্দিকসহ সিজেকেএস এর ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট তুলে দেন সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিনিয়র সহ সভাপতি সালাউদ্দীন রেজা, সহ সভাপতি মনজুর কাদের মনজু, যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

বিমানে জন্ম, আজীবন আকাশ ভ্রমণ ফ্রি!

ভারতের বেসরকারি এয়ারলাইন্স জেট এয়ারওয়েজে এক শিশু জন্ম নিয়েছে। সৌদি আরব থেকে ভারত যাওয়ার পথে শিশুটির জন্ম হয়। ওই বিমান কর্তৃপক্ষ শিশুটির আজীবন বিনামূল্যে আকাশ ভ্রমণের সুবিধা করে দিয়েছে। তবে শিশুটি পৃথিবীতে আসার ব্যাপারটি সহজ ছিল না।

বিমান কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, বিমানটি তখন ৩৫ হাজার ফুট উঁচুতে। হঠাৎ করে গর্ভবতী এক নারীর নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রসব ব্যথা শুরু হয়। বিমানে কোনো ডাক্তার না থাকায় একজন ক্রু ও এক যাত্রী নারীটিকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। অবশ্য তারা দুইজনই ছিলেন প্রশিক্ষিত নার্স।
তাদের সাহায্যে প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উঁচুতে মধ্য আকাশে জন্ম হয় শিশুটির। জেট এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি মুম্বাই পৌঁছানোর পর মা ও শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিমান কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছে। সফলভাবে একটি ছেলের শিশুকে পৃথিবীতে আনতে প্রসবকাজে সহায়তার জন্য বিমানের ওই যাত্রী ও কেবিন ক্রুকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছে জেট এয়ারওয়েজ।

এর আগে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ৪২ হাজার ফুট উঁচুতে এক শিশুর জন্ম হয়েছিল। প্রসঙ্গত, বেশিরভাগ এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুযায়ী, গর্ভবতী নারীদের গর্ভধারণের ৩৬ সপ্তাহ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের বিমানে চড়তে কোনো বাধা নেই।তবে এক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীদের ডাক্তারের স্বাক্ষরসহ একটি চিঠি দেখাতে হয় যে তাদের গর্ভধারণের কত সপ্তাহ পার হয়েছে।

ঘাটাইলে হেরোইনসহ নারী গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর) ৫ গ্রাম হেরোইন সহ জোসান বেগম (৩২) নামে একনারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি ভূয়াপুর উপজেলার বীর হামদি গ্রামের বিপ্লব মিয়ার স্ত্রী।

জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর) এর অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে এস আই নুরুজ্জামান, এ এস আই সুমন চৌধুরী ও এ এস আই আবুল হাশেমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘাটাইল উপজেলার লোকের পাড় এক মাদক বিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় স্থানীয় শাহজাহান তালুকদারের বাড়ীর সামনে থেকে জোসনা বেগমকে ৫ গ্রাম হেরোইন সহ হাতে নাতে গ্রেপ্তার করে।

এ ব্যাপারে গোয়েন্দা পুলিশের এস আই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে সোমবার ঘাটাইল থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।


ঘাটাইলে জেএসসি শিক্ষার্থীদের ফরম পুরণের জন্য আর্থিক সহায়তা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং শতভাগ পাশ নিশ্চিত করনের লক্ষে গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির উদ্যোগে  বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮৭ জন  জেএসসি পরীক্ষার্থীদের  মাঝে ফরম পুরনের জন্য  ৫শত করে মোট ৪৩ হাজার ৫ শত  টাকা বিতরণ করা হয় ।  


মঙ্গলবার  (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার শালিয়াজানি  গুড নেইবারস বাংলাদেশ  ঘাটাইল সিডিপি প্রাঙ্গনে এ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।   

 বিতরণ অনুষ্ঠানে গুড নেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির ম্যানাজার  মো.জাহাঙ্গীর আলম   সভাপতিত্ব করেন। 


এ সময়  উপস্থিত ছিলেন,ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো.নজরুল ইসলাম, গুড নেইবারস বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা,প্রোগ্রাম অফিসার বিপ্লব কুমার, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল লতিফ,বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন গুডনেইবারস  উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো.মোশারফ হোসেন ।

ঘাটাইলে বিশেষ বরাদ্দকৃত বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বিতরণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিশেষ বরাদ্দকৃত বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আতোয়ার রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম বিন্তে হুসাইয়ন (খেয়া)। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা সুলতানা শিল্পী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম ও মনিরুজ্জামান।

এসময় ১২০ জনের মাঝে বিশেষ বরাদ্দকৃত বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বিতরণ করা হয়।

ঘাটাইলে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সাথী (২০) নামের এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নিহতের শ্বশুরবাড়ি ঘাটাইলের দিগড় ইউনিয়নের ধোপাজানি (কালিদাসপাড়া) গ্রামে। এ ঘটনায় সোমবার সাথীর বাবা হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নিহতের স্বামী আলম, শ্বশুর বেলায়েত হোসেন, দেবর সজিব (৩০) ও শাশুড়ি নুরনাহার বেগমকে (৬০) আসামি করা হয়েছে।


নিহত সাথী মধুপুর উপজেলার গাংগাইর গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে ও ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের ধোপাজানি (কালিদাসপাড়া) গ্রামের বেলায়েত হোসেনের স্ত্রী। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
জানা গেছে, অকারণে মাঝে মাঝেই তার স্ত্রী সাথীকে অকথ্য গালিগালাজ ও নির্যাতন করতো। এক পর্যায়ে সাথীকে তার স্বামী দেবর ও শাশুরি মিলে নির্যাতন করে ঘরে আটকে রেখে দুই দিন না খাইয়ে রাখে। এতে সাথী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দুদিন পর গত ২০ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাথীর গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিলে তার আত্মচিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে আসে। ততক্ষণে আগুনে ঝলসে গিয়ে শ্বাসনালীসহ শরীরের ৭৬% অংশ পুড়ে যায়।

মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঘাটাইল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ২৬ জুলাই সেখানে তার মৃত্যু হয়।

সাথীর মা রাশিদা বেগম বলেন, ৬ বছর আগে আমার মেয়ে সাথীকে ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের ধোপাজানি (কালিদাসপাড়া) গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে আলমের (৩০) সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের ২-৩ বৎসর পর থেকেই আমার মেয়েকে নির্যাতন করতে থাকে। নির্যাতনের পরেও ‘বুকে পাথর বেঁধে’ আমার মেয়ে সব কিছুই সহ্য করেছে।

ধোপাজানি গ্রামের স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মনিরুজ্জামান মনির জানান, তাদের দাম্পত্য জীবনে যে কলহ হয়েছে তা আমাকে কখনো জানানো হয়নি। ঘটনার পরে জানতে পারলাম ভেতরে ভেতরে তাদের কলহ চলছিল। দুই দিন না খাইয়ে রাখা হয়েছিল।

ঘাটাইল থানার ওসি মো. মাকছুদুল আলম বলেন, মানসিক অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে নিজের গায়ে নিজেই কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাড়াতাড়িই মামলাটি রেকর্ড হবে। তদন্তে ঘটনার কারণ উদঘাটিত হবে বলে জানান তিনি।<

সোমবার, জুলাই ২৯, ২০১৯

ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

আজ ২৯ জুলাই  ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা হাসপাতাল ব্যাবস্থাপনা কমিটির সভাপতি টাঙ্গাইল-৩(ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্জ আতাউর রহমান খান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মোঃ সাইফুর রহমান খানের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. অধীর চন্দ্র সরকার , মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম মনি, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মোঃ রায়হানুল ইসলাম হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ শহিদুল ইসলাম খোকন  ঘাটাইল প্রেক্লাবের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম প্রমূখ।

সভায় বক্তারা হাসপাতালের সমস্যাদি নিয়ে আলোচনা করেন এবং রোগীদের সেবা প্রদানের সুবিধার্থে বিভিন্ন সরঞ্জামের চাহিদা তুলে ধরেন। তারা এগুলো সমাধানের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুদৃষ্টি কামান করেন। এর আগে মাননীয় সংসদ সদস্য ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা ও রোগীদের খবর নেন। 

ঘাটাইলে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণিত উসব অনুষ্ঠিত

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণিত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুলাই) দিনব্যাপী উপজেলার শালিয়াজানি গুড নেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপি এ গণিত উৎসবের আয়োজন করে। গণিত উৎসবে উপজেলার ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ২০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

পরীক্ষা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে গুড নেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির ম্যানাজার মো.জাহাঙ্গীর আলম সভাপতিত্ব করেন। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার রুবি খান। বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গুড নেইবারস বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও আনন্দ টিভির ঘাটাইল প্রতিনিধি আব্দুল লতিফ, সৎসঙ্গ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মালতিদে,নাগবাড়ী সরকারী পোড়াবাড়ী সকরারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাসিনা নাহার মুন্নী, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির প্রোগ্রাম অফিসার বিপ্লব কুমার ।

রবিবার, জুলাই ২৮, ২০১৯

ঘাটাইলে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস পালিত

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল : গুডনেইবারস বাংলাদেশ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সিডিপির উদ্যোগে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে রোববার (২৮ জুলাই) দুপুরে গুডনেইবারস প্রাঙ্গণে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দেউলাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো.রফিকুল ইসলাম।

গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির ম্যানেজার মো.জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মেডিক্যাল অফিসার ডা. শুভ বসাক, হেলথ অফিসার মো. শাহিন আলম প্রমুখ সহ শিক্ষক- শিক্ষিকা অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইলে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

গতকাল শনিবার দুপুরে টাংগাইলের ঘাটাইল উপজেলার কাঁশতলা- নয়াপাড়া গ্রামে কালভার্টের পানির স্রোতে ডুবে শিমু (৭) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সে পার্শ্ববর্তী কৌডলা সাকসেস মডেল স্কুলের নার্সারি শ্রেনির ছাত্রী।তার বাবার নাম ইন্নছ আলী।

জানা যায়, দুপুরে শিমু তিন বান্ধবী মিলে গ্রামের রাস্তার কালভার্টের পাড়ে পানির স্রোত দেখতে যায়। এ সময় শিমু নিচু হয়ে (উঁকি) দিয়ে পানির স্রোত দেখতে গিয়ে পা পিছলে নিচে পড়ে যায়। মুহূর্তেই পানির স্রোত শিমুকে কালভার্টের ভিতরে নিয়ে যায়। সে সময় অপর দুই বান্ধবীর আর্ত চিৎকারে গ্রামবাসী কালভার্টের ভিতর থেকে শিমুকে মৃত উদ্ধার করে।

শুক্রবার, জুলাই ২৬, ২০১৯

বর্জ্য ফেলার জায়গা নেই, ময়লা সহ ট্রাক ঘাটাইল পৌর ভবনে

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভার ময়লা বা বর্জ্য ফেলার জায়গা না থাকায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পৌরবাসী। এই বর্জ্য এখন পৌরবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্জ্য ফেলার জন্যে পৌরসভার নিজস্ব জায়গা না থাকার সংকটে প্রতিনিয়ত নানা স্থান থেকে দুই তিন দিনের আবর্জনা সংগ্রহ করে ট্রাকের মধ্যে তুলে ময়লা সহ গাড়ি পৌরসভার ভিতরে ঢুকিয়ে রেখে পরবর্তীতে সুযোগ সুবিধা মতো সেগুলো অদূরে ফেলে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সমাজকর্মী শাহেদ আহমেদ আজ শুক্রবার (২৬ জুলাই) জানান, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঘাটাইল পৌরসভার ময়লা বা প্রাকৃতিক বর্জ্য ফেলার জায়গা নেই। জনগণ তাদের নিজস্ব যায়গায় ময়লা ফেলতে দেয় না। বর্জ্য ফেলতে গেলে এলাকাবাসী পৌরসভার কর্মীদের বাধা দেয়। প্রায়শই এমন হয়, নানা জায়গা থেকে দুই তিন দিনের বর্জ্য সংগ্রহ করে ট্রাকের মধ্যে তুলে ময়লা সহ গাড়ি পৌরসভার ভিতরে ঢুকিয়ে রেখে পরবর্তীতে সুযোগ সুবিধা মতো সেগুলো দূরে কোথাও ফেলে দেওয়া হয়।

ক্ষোভের সাথে তিনি আরও জানান, ঘাটাইল পৌরসভার জনবসতি বৃদ্ধি পেতে পেতে সামনে আরও বৃদ্ধি পাবে, তখন বর্জ্যর পরিমাণ আরও বাড়বে। এখনই বর্জ্য ফেলা নিয়ে যে সমস্যা হচ্ছে ভবিষ্যতে এই দুর্ভোগের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এ সমস্যা সমাধানে ঘাটাইলের প্রশাসন ও রাজনিতিক বৃন্দ কার্যকরভাবে সহযোগিতাও করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে, জানান তিনি।

ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান  বলেন, ময়লা ফেলার জায়গার জন্য তিনি টাংগাইল ডিসি অফিস থেকে শুরু করে ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসন সহ সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, কিন্তু সমস্যা সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছেন না। অতি শীঘ্র ময়লা ফেলার জন্য স্থায়ী ও কার্যকরী সমাধান না হলে এর থেকে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, জায়গার অভাবে ময়লা-আবর্জনা ভর্তি গাড়ি আমরা পৌরসভার ভিতরে রাখি, যেন সাধারণ নাগরিকদের সমস্যা বা দুর্ভোগ না হয়। এরপর রাতে আমরা পৌরসভার বাইরে যেখানে সুবিধাজনক জায়গা পাই সেখাই ফেলে দিয়ে আসি। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও বর্তমানে এছাড়া আমার আর কোন বিকল্প উপায় নেই। আমি চাই আমার পৌরসভার নাগরিকরা যেন সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন।
পৌর মেয়র আরও বলেন, সরকার আমাদের পৌরসভার বর্জ্য ফেলার জন্য সরকারি খাস জায়গা থেকে কিছু জমি বরাদ্দ দিতে পারে। প্রয়োজনে বর্জ্য ফেলার প্রয়োজনীয় জায়গা পৌরসভা নিজের টাকা দিয়ে কিনে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রস্তুত। এ ব্যাপারে তিনি পৌরবাসী, রাজনিতিক ও প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন এবং এই সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ভুমিকা রাখার উদাত্ত আহব্বান জানান।

বাঁচতে সাহায্য চায় ঘাটাইলে অসুস্থ বকুল


টাংগাইলের ঘাটাইল উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গণি মিয়ার ছেলে চার কন্যা সন্তানের জনক মোঃ বকুল হোসেন (৩৫) এর হার্টের দুটি বাল্পই নষ্ট হয়ে গেছে। দরিদ্র ঘরের সন্তান বকুল এখন মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন। সরেজমিনে আজ শুক্রবার (২৬ জুলাই) বকুলের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, চাচা, চাচী, প্রতিবেশি ও অসুস্থ বকুলের সাথে। জানা যায়, খুব ছোট বেলায় সে তার বাবাকে হারিয়ে এতিম হয়ে যান। এতিম বকুলকে নিয়ে তার মা দিশাহারা হয়ে পড়েন। জমি-জমা বলতে কিছুই নেই বকুলদের। অনেক কষ্ট করে আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় বকুলকে বড় করেন। জন্ম লগ্ন থেকেই বকুল একটি বাল্পের ফুটা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। বকুলের মা নিজেও হার্টের রোগী।

বকুলের আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বছর দুয়েক আগে থেকে বকুল আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পরেন, হাঁটা চলা করতে পারেন না। বিছানায় শুয়েই কাটাতে হয়। বকুল ছোট্র একটি চায়ের দোকান করে মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বর্তমানে সেটিও বন্ধ আছে।

এদিকে ছোট ছোট চারটি কন্যা সন্তান নিয়ে দিশে হারা হয়ে পরেছেন বকুল সহ বকুলের পরিবার। বড় মেয়েটি এবার ৫ম শ্রেণিতে পড়া লেখা করছেন। বাকী তিন জন এখনোও অনেক ছোট।

বকুলের স্ত্রী বলেন, মানুষের কাছে হাত পেতে যে দু, চার টাকা সাহায্য পাই তাই দিয়ে চলে আমাদের সংসার। সেই সাথে স্বামীর জন্যও প্রতিদিন ঔষধ কিনতে হয়। গত ১৫ দিন আগে ডাক্তার দেখানোর জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করিয়েছি। ডাক্তাররা তাকে দ্রুতও ঢাকা নিয়ে হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে। বকুলের দুটি হার্টই সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। দ্রুত হার্ট না বদলালে বকুলকে বাঁচানো সম্ভব হবে না বলে তিনি  জানান।

তিনি আরও জানান, ডাক্তার বলেছেন বকুলের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজন।
বকুলের মা  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিকট বকুলের চিকিৎসার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করেন।

বকুল কাতর স্বরে বলেন, আমি আমার সন্তানদের জন্য বাঁচতে চাই। দেশের বিত্তবান মানুষ, রাজনিতিক ও সরকারের কাছে সাহায্য ও দোয়া কামনা করেন তিনি।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা
মোঃ বকুল মিয়া, গ্রাম- ভাটপাড়া, কুশারিয়া, সন্ধানপুর, ঘাটাইল, টাংগাইল।
মোবাইল নম্বর- (বিকাশ) ০১৯০৩ ৪৭৮১৯৩

ঘাটাইলে ঈদ উল আযহা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) পবিত্র ঈদ-উল-আযহা ২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্ত্ততিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারমোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজু ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা সুলতানা।



বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০১৯

গুজব রোধে ঘাটাইল পুলিশের জন সচেতনতা মূলক সভা


পদ্মা সেতুতে শিশুদের মাথা লাগবে, ছেলে ধরা এবং তিনদিন বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে এমন গুজব ও রটনার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানা পুলিশ। গুজব রোধে তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গনসচেতনতা মূলক সভা ও প্রচার অভিযান চালাচ্ছে ।

এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ঘাটাইল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথী হিসাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য গুজবের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করেন ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাকসুদুল আলম।

তিনি উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে তারা সমাজ ও দেশ ও জাতীর শত্রু। তাই তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের গুজবে কান না দিয়ে শ্রেনী কক্ষে মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান।
তিনি আরো বলেন গুজবে কান দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে দেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ঘাটাইল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ আজহারুল ইসলাম, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান প্রমূখ।

সোমবার, জুলাই ২২, ২০১৯

ঘাটাইলে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ

ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া ও জামুরিয়া ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ করেন আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান, মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ১৩২, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) ও জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু, চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ ঘাটাইল এবং জনাব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘাটাইল।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জনাব শাহিনা সুলতানা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ ঘাটাইল, জনাব ইখলাক হোসেন খান শামীম, চেয়ারম্যান, জামুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, জনাব তালুকদার মোঃ শাহজাহান, চেয়ারম্যান, আনেহলা ইউনিয়ন পরিষদ, জনাব মোহাম্মদ শরীফ হোসেন, চেয়ারম্যান, লোকেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, জনাব মোঃ আব্দুল মতিন বিশ্বাস, উপজেলা ‍কৃষি অফিসার, ঘাটাইল, জনাব এনামুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, ঘাটইল, জনাব মোঃ সাদ্দাম হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (জনস্বাস্থ্য), ঘাটাইল।

বস্ত্র অধিদফতরে এইচএসসি পাসে চাকরি

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে বস্ত্র অধিদফতরে ২টি পদে ২২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: বস্ত্র অধিদফতর

পদের নাম: টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট
পদসংখ্যা: ২১ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি (ভোকেশনাল) টেক্সটাইল কোর্স
বেতন: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা

আরও পড়ুন > ১২৮ জনকে চাকরি দেবে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর

পদের নাম: লাইব্রেরি অ্যাসিস্ট্যান্ট
পদসংখ্যা: ০১ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি/গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে সার্টিফিকেট কোর্স/গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা
বেতন: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা।

আবেদনের ঠিকানা: আগ্রহীরা dotr.teletalk.com.bd এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ২২ আগস্ট ২০১৯

ঘাটাইলে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত বকুল বাঁচতে চায়

বকুল হোসেন। ১৯ বছরের এক প্রাণবন্ত যুবক। উচ্চতা ৬ ফুট। কেউ বলতে পারবে না জীবনে কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে বা কারো সাথে উচ্চ স্বরে কথা বলেছে। খুব নম্র ও ভদ্র একটি ছেলে। অধূমপায়ী ও স্বল্পভাষী। অসুস্থ অবস্থাতেও সে এই বছর এইচ.এস.সি পরীক্ষায় পাশ করেছে। এরই মধ্যে তার শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যধী লিভার ক্যান্সার।

চিকিৎসকরা জানিয়েছে, দ্রুত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করাতে হবে তাকে। নয় তো পৃথিবীর আলো ক্রমান্বয়ে নিভে যাবে বকুলের জীবন থেকে। তবে বকুল যে বাঁচতে চায়, একমাত্র মায়ের জন্য পৃথিবীর আলোয় আবারও উদ্ভাসিত হতে চায় এই ভুবনে। 


রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯

নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে মাকে হারালো অবুঝ এই শিশু!

ছেলেধরা গুজবে কিছু মানুষের নিষ্ঠুরতায় মাকে হারালো অবুঝ শিশু তুবা। যে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় ছিলেন ওই মা সেই সন্তানের আগামীটা এখন হয়ে গেছে আরও বেশি অনিশ্চিত। তার মাকে কেন হ*ত্যা করা হলো ছোট্ট তুবা যদি এমন প্রশ্ন করে কী জবাব দেবেন ওই হামলাকারীরা। পাপবোধ কি তাদের তাড়া করে ফিরবে না?

কিন্তু তারপর একটি গুজব পাল্টে দিলো সব হিসেব-নিকেশ, গ*ণপি*টুনিতে প্রাণ গেলো এক মায়ের।

ছেলেধরা গুজবে কিছু মানুষের নিষ্ঠুরতা র*ক্তাক্ত করেছে স্নেহের আঁচল।

কিন্তু কেন এই পাশবিকতা? কেইবা রেনু? সে কি সত্যিই ছেলেধরা, নাকি মমতাময়ী এক মা ? কী বলছে স্বজন-প্রতিবেশীরা?

যদিও ছোট্ট তুবা এখনও জানেই না যে মা নেই, মা আর ফিরে আসবে না কখনই। আর কখনোই জাপটে ধরবে না বুকের ভেতর,কিনে দেবে না রঙিন জামা ও হরেক খেলনা।

আটষট্টি হাজার গ্রামের প্রতিটি মাঠ থেকে খুঁজে নিয়ে আসা, সবচেয়ে সুন্দর সরিষা ফুলের সবটুকু রেণু দিয়েও আর ফিরিয়ে আনা যাবে না মমতাময়ী এক রেনুকে তবে চাইলেই তো ফেরানো যায় মনুষ্যত্ববোধ। সূত্র-চ্যানেল২৪

শনিবার, জুলাই ২০, ২০১৯

২টি গরু দিয়ে শুরু, মোজাম্মেল এখন অর্ধকোটি টাকার মালিক

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল : ছোট বেলা থেকেই ইচ্ছে জাগে নিজে চাকরি না করে অন্যকে নিজের প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেবেন মোজাম্মেল হোসেন। সেই স্বপ্ন আজ পূরণের পথে। ইতোমধ্যেই তার প্রতিষ্ঠানে চারজন শ্রমিককে চাকরি দিয়েছেন। মোজ্জাম্মেল হোসেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দড়ি চৈথট্র গ্রামের বাসিন্দা।

মোজ্জাম্মেল হোসেন ১৯৯৫ সালে এসএসসি পাস করেন। তিনি স্কুলের পাশাপাশি ১৯৯৩ সাল থেকে বিভিন্ন জাতের গাছের নার্সারী শুরু করেন। এর পাশাপাশি তিনি হাস-মুরগী, খাসি ও কবুতর বাণিজ্যিকভাবে পালন শুরু করেন। এসব থেকে তিনি লাভের টাকা একত্র করতে শুরু করেন। এরপর ২০০৮ সালে দুইটি ষাঁড় গরু কিনে বাণিজ্যিকভাবে খামার শুরু করেন। প্রতি ছয় মাস পরপর গরু বিক্রি করে তার খামারে গরু বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে তার খামারে ৫২টি ষাঁড় গরু রয়েছে। এ বছর তিনি ৫২টি গরুই কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন। এই ৫২টি গরু তিনি প্রায় ৫০ লাখ টাকা বিক্রির কথা ভাবছেন। ৫২টি গরু বিক্রি করলে খরচ বাদে প্রায় ১০ লাখ লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার।

মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘এবার কোরবানির ঈদের জন্য আমার খামারে ৫২টি গরু প্রস্তুত করেছি। এই ৫২টি গরু প্রায় ৫০ লাখ টাকা বিক্রির কথা ভাবছি। ৫০ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারলে খরচ বাদে ১৪-১৫ লাখ টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার খামারে বর্তমানে চারজন শ্রমিক রয়েছে। ঈদের পর ষাঁড় গরুর পাশাপাশি গাভি গরুও খামারে উঠানো হবে। ভবিষ্যতে প্রায় তিনশ গরুর খামার করার কথা ভাবছি।’

তিনি বলেন, ‘ছোট বেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল। নিজে চাকরি করবো না, অন্যকে নিজের প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেবো। সেই স্বপ্ন আজ পূরণের পথে। ৩শ’ গরু নিয়ে খামার করতে পারলে প্রায় ২০জন শ্রমিক আমার খামারে কাজ দিতে পারবো। এতে করে আমার এলাকার কিছুটা হলেও বেকার সমস্যা দূর হবে।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মো. মান্নান বলেন, ‘মোজাম্মেল হোসেন তার খামারে দেশীয় খাবার খাইয়ে গরুগুলোকে লালন-পালন করেছেন। আমারা তার খামার নিয়মিত দেখাশোনা করছি খুজ খবর নিচ্ছি । উপজেলায় তার খামারটিই সবচেয়ে বড়।’

শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯

হজ্বে যাওয়ার অনুমতি পেলেন সাবেক এমপি রানা!

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে হজ্জে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি রানা বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হজে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন।

দীর্ঘ ৩৪ মাস কারাগারে থাকার পর আমানুর গত ৯ জুলাই জামিনে মুক্তি পান। জামিন পাওয়ার পর মুক্ত অবস্থায় এ প্রথম তিনি ফারুক হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হলেন।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলী (পিপি) মহসিন সিকদার জানান, টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক মোজাম্মেল হোসেন সাক্ষ্য দেন। এরপর আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। এ নিয়ে এ মামলার মোট ১৮ জনের সাক্ষী দেওয়া হলো।

চিকিৎসকের সাক্ষ্য দেওয়ার পর রানা আইনজীবীর মাধ্যমে হজব্রত পালনের জন্য সৌদি আরব যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করে আবেদন দাখিল করেন। পরে আদালতের বিচারক রাশেদ কবির রানার হজ্বে যাওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য,দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর রানা ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এ আদালতেই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে ফারুক হত্যা মামলায় গত মার্চে এবং এ মাসেই দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পর গত ৯ জুলাই তিনি মুক্তি পান।

বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০১৯

ঘাটাইলে সাবেক মেয়র হাসান আলী স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

টাংগাইলের ঘাটাইল দারুল উলুম হামিউস সুন্নাহ্ মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এম হাসান আলীর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই ) মাদ্রাসা মসজিদ প্রাঙ্গণে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এতে ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র মোঃ শহিদুজ্জামান খান শহীদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা মোতালেব হোসেন, সাবেক ভিপি মোঃ সাইদুর রহমান লিপু, সাবেক ভিপি রুবেল, সাবেক জিএস মতিয়ার রহমান, সাহাদত হোসেন প্রমুখ।

উল্লেখ্য : ঘাটাইল পৌরসভার প্রথম প্রশাসক ও মেয়র পৌরর চাঁন্দশী এলাকার নিবাসী মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী (৮০) গত ২১ জুন শুক্রবার সকাল ৮.৪০ মিনিটে ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তিনি ফুসফুসে সংক্রামক ব্যাধি সহ নানা অসুখে ভুগছিলেন।

ঘাটাইলে বজ্রপাতে দুই জনের মৃত্যু

আজ বৃহস্পতিবার ( ১৯ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মধ্যকর্না গ্রামে পৃথক বজ্রপাতে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন শাহাদৎ (৩৩) ও রনি (২০)।এ সময় ঘাটাইলে পৃথক পৃথক বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও পাঁচ জন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, আজ বিকাল সাড়ে ৫টায় উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের নব রত্ববাড়ি গ্রামে আব্দুল ছালামের ছেলে শাহাদৎ হোসেন (৩৫) পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।একই সময় বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলা শেষে উপজেলার গুণগ্রাম থেকে মধ্যকর্না নিজ বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে সরকারি জিবিজি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র রনি (২০) মারা যায়। রনি উপজেলার মধ্যকর্ণা গ্রামের আবু হানিফের ছেলে।

এ ছাড়া পৃথক বজ্রপাতে আহত হয়েছেন ঘাটাইলের আরো পাঁচ জন। তারা হলেন, উপজেলার মধ্যকর্ণা গ্রামের আনিস আলীর ছেলের খোরশেদ আলম (৩২), আব্দুর রহমানের ছেলে রমজান আলী(৩০), নবরত্ন গ্রামের জুব্বার আলীর ছেলে আবেদ আলী (৩০), উপজেলার কান্দুলিয়া গ্রামের বেলাল হোসেন (৫৫), ও লিমন(২৭)।

ঘাটাইলে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত


আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: ‘মাছ চাষে গড়বো দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ – এই শ্লোগান কে সামেন নিয়ে সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচানা সভা ও পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে একটি র‌্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই জায়গায় এসে শেষ হয়।

র‌্যালী শেষে সহকারী কমিশনান (ভূমি) নুর নাহার বেগমের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ হল রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম লেবু, পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান, মৎস্য কর্মকর্তা তাহমিনা আখতার তামান্না প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা উপজেলা পরিষদ পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন।

মির্জাপুরে ফুল-মিষ্টি নিয়ে কৃষক কন্যার বাসায় হাজির এসআই!

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়ের প্রতিশ্রুতিতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দরিদ্র কৃষকের মেয়ে রেখা আক্তারের পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি হওয়ায় ফুল ও মিষ্টি দিয়ে অভিনন্দন জানালেন মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দয়াল চন্দ্র সরকার। বুধবার বিকেলে রেখা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান তিনি।

জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের কাটরা গ্রামের দরিদ্র কৃষক আজাহার তালুকদারের মেয়ে রেখা আক্তার ১০০ টাকা খরচ করে পুলিশে চাকরি পান। চাকরিতে যোগদানের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশনে তার বাড়িতে যান মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক দয়াল চন্দ্র সরকার। এ সময় তিনি নিজ উদ্যোগে তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং মিষ্টি মুখ করান।

দরিদ্র কৃষক আজাহার তালুকদারের চার মেয়ের মধ্যে রেখা আক্তার তৃতীয়। সম্প্রতি তিনি পুলিশে চাকরি পেয়েছেন। এছাড়া এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।

রেখা আক্তার জানান, দরিদ্র বাবার পক্ষে তাদের চার বোনের লেখাপড়ার খরচ বহন করা সম্ভব না হওয়ায় বড় দুই বোনকে অনেক আগেই বিয়ে দিয়েছেন। ছোট বোন ইতি আক্তার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। খুব কষ্ট করে বাবা-মা তদের লেখাপড়ার খরচ যুগিয়েছেন। এ অবস্থায় চাকরিটা তার খুবই দরকার ছিল বলে জানান তিনি।

রেখা আক্তার বলেন, মাত্র ১০০ টাকায় আমার চাকরি হবে কল্পনাও করতে পারিনি। চাকরি পেয়ে আমি খুবই খুশি। চাকরিতে যোগদানের পর সৎভাবে দেশ ও জনগণের সেবা করতে চাই। সরকারি বেতন-ভাতা দিয়ে বাবা-মার ভরণপোষণ ও ছোট বোনকে লেখাপড়া করাবেন বলেও জানান তিনি।
১০০ টাকায় চাকরি পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রেখা আক্তার।

রেখার মা সখিনা বেগম বলেন, আল্লাহ আমাগো গরীবের মুখের দিকে তাকাইছে। মেয়েটার পুলিশে চাকরি হইছে।
তার বাবা আজাহার তালুকদার জানান, টিভিতে দেখি- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০০ টাকায় পুলিশে চাকরি দেবে। এরপর লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মেয়েকে টাঙ্গাইল পুলিশ মাঠে নিয়ে যাই। সেখানে মেয়ের যোগ্যতায় ১০০ টাকায় পুলিশের বড় স্যার আমার মেয়েকে চাকরি দিছে। আল্লাহ স্যারের ভালো করুক।

কালিহাতীতে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মানসিক প্রতিবন্ধী!

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্বপাশে মাথার কাছে কয়েকটি পোটলা নিয়ে অসুস্থ্য শরীরে খোলা চৌকির উপর শুয়ে কাতরাচ্ছে একটি মেয়ে।

বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। পরনে ছেড়া ময়লা কাপড়। কালো বর্ণের মলিন চেহারার মেয়েটিকে দেখার জন্য মানুষ চারদিকে ভীড় জমিয়েছেন। এরমধ্যে এক ব্যক্তি ২ টা পাউরুটি নিয়ে মেয়েটির হাতে দিলেন খেতে। ক্ষুধার্ত পেটে পাউরুটি পেয়ে সে মহাখুশি। কোন দিকে না তাকিয়ে নিমিষেই খেয়ে ফেললো পাউরুটি দুটো।

জানা যায়, মেয়েটি মানসিক প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী। স্থানীয়রা মেয়েটিকে নিয়ে নিকটস্থ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে যান। সেখানে দায়িত্বরত পরিদর্শিকা মর্জিনা বেগম প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে বলেন মানসিক প্রতিবন্ধী এই মেয়ে ৬ মাসের গর্ভবতী।

সে শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল এবং গায়ে জ্বর রয়েছে। তার সুচিকিৎসা প্রয়োজন। এভাবে পথে পথে ঘুরতে থাকলে সে মারাও যেতে পারে। হাসপাতালে থাকা অন্যরা মেয়েটিকে দেখে মর্মাহত হন।

মেয়েটি তার নাম পরিচয়, গ্রাম ঠিকানা কিছুই বলতে পারছে না। সে রাস্তায় কে বা কাদের দ্বারা ধর্ষিত হয়ে গর্ভবতী হয়েছে, নাকি গর্ভবতী হয়ে বাড়ি থেকে চলে এসেছে এ বিষয়েও কিছু বলছে পারে না।

তবে মেয়েটির সাথে আকার ইঙ্গিতে কথা বলে স্থানীয়দের ধারণা মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ার সুযোগ নিয়ে মানুষ নামক কোন পশু বা পশুদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েই সে গর্ভবতী হয়েছে। এ ধরনের হৃদয় বিদারক ঘটনা সমাজে প্রতিনিয়তই ঘটছে।

উপজেলার মাইস্তা গ্রামের জমশেদ আলী নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, দু তিন দিন যাবত এই পাগলীটাকে এলাকায় দেখতেছি। খুব ক্লান্ত অবস্থায় আমদের গ্রামে এসে খেতে চাইলে আমি বাড়িতে খেতে দেই। সে গর্ভবতী হয়েছে এটা দেখাচ্ছে সবাইকে।

টাঙ্গাইল জেলা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ, বলেন যদি এই মানসিক প্রতিবন্ধী ধর্ষিত হয়ে গর্ভবতী হয়ে থাকে, তবে অপরাধীদের খুঁজে বের অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে।

তা না হলে সমাজের এই ভয়াবহ ব্যাথি রোধ করা সম্ভব হবে না। ধর্ষনের ফলে মেয়েটির বাচ্চা হলে এর দায়ভার কে নেবেন কিংবা বাচ্চাটি কার পরিচয়ে বড় হবে? তিনি আরো বলেন মেয়েটির পরিচয় ঠিকানা বের করার জন্যে পুলিশসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শাহআলম বলেন, এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় থানায় জিডি করার পর গর্ভবতীকে গাজীপুরের পুবাইলে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

সেখানে প্রসবের পর বাচ্চাটিকে এতিমখানায় লালন পালনের জন্য দেওয়া হয়। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব। সেইসাথে মেয়েটির পরিচয় পেলে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বুধবার, জুলাই ১৭, ২০১৯

ঘাটাইলে নার্সারি মালিকদের হাতে সম্মাননা স্মারক প্রদান

উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফলদ বৃক্ষ মেলা -২০১৯ এ অংশগ্রহণকারী নার্সারি মালিকদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলেদেন ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু ও ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম


ঘাটাইলে সাংবাদিকদের সাথে মৎস্য কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল : জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঘাটাইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

বুধবার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় “মৎস্য সেক্টরের সমৃদ্ধি,সুনীল অর্থনীতির অগ্রগতি” শীর্ষক প্রতিপাদ্য বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের অবহিত করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাহমিনা আখতার তামান্ন। 

তিনি সপ্তাহব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচিরও বর্ননা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম. সিনিয়র সহ-সভাপতি খান ফজলুর রহমান সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুজ্জামান মিঞা, সিনিয়র সাংবাদিক সাইয়্যিফ মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ , যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল  লতিফ , কোষাধ্যক্ষ মো. মাসুম মিঞা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান সহ মৎস্য অধিদপ্তর কমকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০১৯

ঘাটাইলে দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক


টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর) ১০ গ্রাম হিরোইনসহ ২ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ঘাটাইল উপজেলার কালিয়া গ্রামের শেখপাড়ার নারী মাদক ব্যবসায়ী মহারানী (৩৮) ও আব্দুর রাজ্জাক।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বিপিএম এর নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর) এর অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাজ্জাদ হোসেন এর নেতৃত্বে এসআই মো. নুরুজ্জামান, এএসআই সুমন চৌধুরী, এএসআই আবু হাশেম সহ একদল গোয়েন্দা পুলিশ ঘাটাইল উপজেলায় অভিযান চালায়।

এ সময় অভিযান পরিচালনায় ঘাটাইল উপজেলাধীন কালিয়া গ্রামের শেখপাড়া আনছার আলীর চৌচালা টিনের বসত ঘরের ভিতর থেকে তাদেরকে ১০ গ্রাম হিরোইন সহ আটক করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ টাকা।

এ ব্যাপারে ডিবি পুলিশের এসআই নুরুজ্জামান বাদি হয়ে ঘাটাইল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

শনিবার, জুলাই ১৩, ২০১৯

‘বাবা, আমার বিয়ে মেনে নাও, পালাতে পালাতে আমি ক্লান্ত’

মেয়ের বাবা ক্ষমতাসীন দলের নেতা। অন্যদিকে ছেলের পরিবার নিচু জাতের। কিন্তু প্রেমের টানে শ্রেণি-বৈষম্য ভুলে গিয়ে দু’জনে আবদ্ধ হয়েছেন বিয়ের বন্ধনে। কিন্তু অমতে বিয়ে করায় মেয়ে ও তার স্বামীকে মারতে গুণ্ডা পাঠিয়েছেন ক্ষমতাধর বাবা। শুনতে অনেকটা সিনেমার গল্পের মতো হলেও, আদতে বাস্তবেই ঘটেছে এই ঘটনা। বাবা-ভাইয়ের রোষ থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজেপি বিধায়কের মেয়ে সাক্ষী। এ খবর দিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

খবরে বলা হয়, দলিত ছেলেকে বিয়ে করে বাবা-ভাইয়ের রোষানলে পড়েছেন ২৩ বছর বয়সী সাক্ষী। তার বাবা রাজেশ মিশ্র বিজেপি বিধায়ক।

তিনি ও তার ব্যবসায়ী স্বামী অজিতেশ কুমার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ভিডিওতে জানিয়েছেন, তাদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন সাক্ষীর বাবা রাজেশ। এমনকি তাদের খুন করতে ভাড়াটে গুণ্ডাও পাঠিয়েছেন। ভয় দেখানো হচ্ছে অজিতেশের পরিবারকে। বাবার সঙ্গে এসব কাজে জড়িত সাক্ষীর ভাই ভিকিও।

সম্প্রতি তাদের নিস্তার দিতে বাবা, ভাইয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ভিডিও পোস্ট করেছেন। সর্বশেষ ভিডিওতে দেখা যায় অজিতেশের পাশে বসে আছেন সাক্ষী। বাবা, ভাইয়ের উদ্দেশে বলছেন, বাবা, আমার বিয়ে মেনে নাও। যে গুণ্ডাকে পাঠিয়েছো, আমাদের কিছু হলে সেই রাজীব রানার পুরো খানদান জেলে যাবে। পালাতে পালাতে আমি ক্লান্ত। বাবা এবং ভিকি, মাননীয় এমএলএ পাপ্পু ভারতৌলজি এবং ভিকি ভারতৌলজি, নিজেরা শান্তিতে থাকো, যত খুশি রাজনীতি করো, আমাদেরও শান্তিতে থাকতে দাও।

ভিডিওতে অজিতেশ বলেন, একটা হোটেলে উঠেছিলাম। প্রচুর লোক এসেছিল আমাদের মেরে ফেলতে। ভাগ্য ভালো, সুযোগ বুঝে পালিয়ে যাই। আমি দলিত পরিবারের ছেলে। তাই নিজেদের ইজ্জত বাঁচাতে এই সব করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওতে সাহায্য চাওয়া ছাড়া, নিরাপত্তা চেয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টেও আবেদন জানিয়েছেন নবদম্পতি। অন্য একটি ভিডিওতে সাক্ষীকে বাবার উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, বাবা, আমি সত্যিই বিয়ে করেছি। ফ্যাশন করে সিঁদুর পরিনি। দয়া করে মেনে নাও। অজিতেশের বাড়ির লোকজনকে ভয় দেখানো বন্ধ করো। বাবা, অজিতেশরাও মানুষ, জানোয়ার নয়। নিজের চিন্তাভাবনা বদলাও। সাক্ষীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন বলিউডের খ্যাতনামা পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপও।

এদিকে, স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা ভিডিওটি দেখেছে। এই দম্পতিকে নিরাপত্তা দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। অজিতেশের বাড়ির সামনে প্রহরা বসানো হয়েছে। তবে ওই দম্পতি কোথায়, তা তারা জানে না। এদিকে, সাক্ষীর সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার বাবা। সাংবাদিকদের কাছে তার দাবি, সব রাজনৈতিক চক্রান্ত। আমি বিয়ের বিরোধী নই। একটাই চিন্তা, ছেলেটি মেয়ের থেকে ৯ বছরেরও বেশি বড়। তেমন রোজগারও করে না। আমি চাই, ওরা বাড়ি ফিরে আসুক। এখানে উল্লেখ্য, তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে চারটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার, জুলাই ০৯, ২০১৯

অদম্য এক নারী, অনুপ্রেরণার বাতিঘর !

নাজমুন নাহার।প্রায় দুই দশক ধরে কর্মজীবনে।পরিবারের চাপে প্রথমে পোশাক শ্রমিক দিয়ে শুরু।এরপর কখনো দেশি আবার কখনো আন্তর্জাতিক সংগঠনের ডে লেবার, হেল্পার, কন্ট্রাক্টর, সুপারভাইজার আবার কখনো ড্রাইভার হিসেবে। দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। এভাবেই কেটেছে ১৯টা বছর।

মাঝখানে কিছু বুঝে উঠার আগেই এলাকার এক দিনমুজুর ছেলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্কুলের গন্ডি পেরুতে ২০০৩ ও ২০০৭ সালে এসএসসি পরীক্ষার আসরে অংশ নেয়ার চেষ্টা ছিল আপ্রাণ। কিন্তু কর্মজীবনের চাপে সেটাও সম্ভব হয়ে উঠেনি। দু’বারই পরীক্ষার ঠিক আগ মুহুর্তে এসে পেশার চাপে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় এসে পরীক্ষা দেয়া হয়নি। তাতেও দমে যাওয়ার মেয়ে নন রেশমা। এরই মধ্যে পেটে সন্তান আসে।পরিবার ও স্বামীর পক্ষ থেকে অনেক বাধা-বিপত্তি আসতে থাকে এসব দৌড়া-দৌড়ি আর পুরুষদের পেশা ছেড়ে মেয়ের মতো চলাফেরার জন্য। কিন্তু তাতেও রেশমা থামেনি। শেষ পর্যন্ত সন্তান সম্ভবা মেয়েকে রেখে স্বামী আলাদা হয়ে যান। নিজ পরিবারও অনেকটা সেরকমই। সে বারেও দমে যাননি তিনি। চলতে থাকে কেয়ার বাংলাদেশ, অক্সফামসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এনজিও ও দাতব্য সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে। জীবনের প্রতিটি ঘাত-প্রতিঘাত থেকে শিখতে থাকেন অনেক কিছু আর চলতে থাকেন সামনের দিকে। 

পাশের কলিগ কিংবা বান্ধবী যখন মাসের শেষে জমানো বাড়তি টাকা দিয়ে দামি গহনা, পোশাক, ফার্ণিচার কিংবা মোবাইল কিনেছেন, কিংবা অবসর সময়ে ফেসবুক-টুইটার নামক সোস্যাল মিডিয়ার মোহে পড়ে জীবনকে নষ্ট করছেন,  অপরাজিতা এই নারী তখন সেই টাকা ও মূল্যবান সময় দিয়ে কখনো কম্পিউটার কোর্স, বৃটিশ কাউন্সিলে ইংলিশ কোর্স কিংবা ড্রাইভিং কোর্স করেছেন। আর সমাজে নারীদের শুধু অবলা বলে যারা বিভিন্ন ধরণের টিটকারী করেছেন চলাফেরার প্রতিটি মুহুর্তে তাদের দেখিয়ে দিতে চেয়েছেন যে মেয়েরাও পারে। মেয়েদের আলাদাভাবে দেখার কোন সুযোগ নেই। হে সমাজ ব্যবস্থা তোমার দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলাতে হবে।

বয়স এখন ৩৫। মেয়ের বয়স ৯। মেয়ে গুলশানের অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়ে। মা আর একমাত্র মেয়েরে সাথে বাসা নিয়ে গুলশানে থাকেন। কিন্তু সেখানে সপ্তাহ বা মাসের বেশির ভাগ সময়ই থাকা হয় না। কারণ পেশার কারণে থাকতে হয় কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায়। ড্রাইভার থেকে পদন্নোতি পেয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম এর   গাড়ি রক্ষাণা্বেক্ষন (ভেহিকল) শাখার সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মাস শেষে যা পান তাও প্রায় ৬০,০০০/- (ষাট) হাজারের কাছাকাছি।

পেশাজীবনে অনেক অভিজ্ঞতা ও ট্রেনিং কোর্স সমপন্ন করলেও সব সময়ই নাজমুন নাহারের মনে হয়েছে এতোকিছুর পরেও তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটাও জরুরি। তাই চলতি বছর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেষবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হওয়ার পর আজ এসেছিলেন আমাদের সাইক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। অটোমোবাইলে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা করবেন। জীবনের স্বপ্ন সামনে আরও অনেকদূর এগিয়ে যাওয়ার।সেই স্বপ্নকে সফল করতে আজ ভর্তি হলেন ডিপ্লোমা ইন-অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ। কথা হয় তখনই। জানার চেষ্টা করেছি তার জীবনের সংগ্রামের আদ্যপ্রান্ত সম্পর্কে। বললেনও খুব স্বত:স্ফুতর্তার সঙ্গে(কথা বলেছেন বেশি ইংলিশে, কারন বাংলা একটু কম বলতে পারেন)। পেলাম শিক্ষক হয়েও ছাত্রীর কাছ থেকে অনেক অনুপ্রেরণা। জীবনে অনেক কিছু শেখার আর জানার আছে এসব উদ্যোমী অপরাজিতাদের কাছ থেকে। 

এগিয়ে যান নাজমুন নাহার। আপনাকে অনুসরণ করেই পাল্টাবে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা, ভঙ্গুর সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি। খুলে যাবে অনেক শিক্ষিত-বেকার যুবক-যুবতীদের চোখ। আপনিই পারবেন সমাজটাকে পাল্টাতে।

খাদেম হানিফের ‘খুনি’ আরেক খাদেম

আজিমপুর কবরস্থান জামে মসজিদের খাদেম হানিফ শেখ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো।

পিবিআই বলছে, ওই মসজিদের প্রধান খাদেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন সাইফুল ইসলাম (৩৮)। তবে তার কাজে অসন্তুষ্ট মসজিদ কর্তৃপক্ষ গত মে মাসে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। এরপর প্রধান খাদেম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় হানিফ শেখকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই খুন হন হানিফ।

মঙ্গলবার  রাজধানীর ধানমন্ডি পিবিআই প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান বনজ কুমার মজুমদার জানান, পদ হারিয়ে সাইফুলকে ক্ষুব্ধ হন। সহকারী খাদেম হয়েও সে প্রধান খাদেমকে বিভিন্ন কাজের নির্দেশনা দিতে থাকেন। এ নিয়ে সাইফুলের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগও করেন হানিফ। এসব বিষয়ের পাশাপাশি হারানো পদ ফিরে পেতে হানিফকে খুন করেন সাইফুল।

সোমবার চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই ঢাকা মেট্রো। প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের দায়ও স্বীকার করেছেন তিনি।

বনজ কুমার বলেন, ‘আজিমপুর গোরস্থান মেয়র হানিফ জামে মসজিদটি গত বছরের ৪ নভেম্বর উদ্বোধনের পর সাইফুল খাদেম হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু তিনি সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন না করায় কর্তৃপক্ষ গত রমজানের আগে হানিফকে খাদেম হিসেবে নিয়োগ দেয়।’

‘‘হানিফ তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাইফুলকে বিভিন্ন কাজের জন্য নির্দেশ দিতেন এবং সাইফুলের দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে বলতেন। এই বিষয় নিয়ে সাইফুলের সঙ্গে হানিফের মনোমালিন্য দেখা দেয়। এর জের ধরে এবং নিজের পদ ফিরে পেতে হানিফকে খুনের পরিকল্পনা করেন সাইফুল।’’

পিবিআই প্রধান বলেন, ‘গত ২ জুলাই কাজ করতে বলায় সাইফুল তাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়। বিকেল চারটার দিকে হানিফ খাবার শেষ করে ফ্লোরে ঘুমিয়ে পড়েন। ওই সময়ে রুমে কেউ ছিলেন না। এই সুযোগে সাইফুল রান্নঘর থেকে একটি চাকু এনে ঘুমন্ত হানিফের পেটে আঘাত করে।’

পিবিআইয়ের সংবাদ সম্মেলন
‘‘হানিফের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সাইফুল বাইরে থেকে প্লাটিকের বস্তা ও পলিথিন নিয়ে আসেন এবং মৃতদেহ বস্তায় ঢুকিয়ে ব্যালকনিতে একটি বাঁশের ঝুড়িতে রেখে দেন। এ অবস্থায় রাত ৯টার দিকে সুস্থ মস্তিষ্কে সে বাইরে খাওয়া-দাওয়া করে রুমে ফেরত আসে। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে হানিফের মরদেহ বাইরে একটি ভাঙ্গা কবরস্থানে রেখে আসবে বলে পরিকল্পনা করে। কিন্তু অন্যরা জেগে থাকায় রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সিদ্ধান্ত বদল করেন খুনি সাইফুল। তার বাবা মারা গেছে বলে মসজিদ থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে বেরিয়ে যান।’’

ঘটনার পরদিন রাতে মসজিদ পরিচ্ছনতার কাজে নিয়োজিত বাহাউদ্দিন ও নতুন খাদেম ফরিদ নিহত খাদেম হানিফের কক্ষে ঘুমাতে যায়। কিন্তু দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তারা বস্তা খুলে খাদেম হানিফের লাশ দেখতে পান।

পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।