বৃহস্পতিবার, মে ০৪, ২০১৭

ঘাটাইলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে রাস্তা মেরামত


খাাদােমুল মামুন, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) ঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা মেরামত করে সমাজসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাগরদিঘী এলাকার দুই ব্যবসায়ী যুবক।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সাগরদিঘী থেকে গুপ্তবৃন্দাবন পর্যন্ত  প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পরে। একশ মিটার পরপর বড় বড় খানা খন্দে বৃষ্টির পানি জমে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতিনিয়তই চোখে পড়তো মালবাহী ট্রাক, কাভার ভ্যান ও অটো রিক্সা উল্টে পড়ার দৃশ্য। চোখে পড়তো ঘন্টার পর ঘন্টা মালবাহী ট্রাকের অলসভাবে দাড়িয়ে থাকার দৃশ্যও।
সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা সহ অনলাইন ও আঞ্চলিক পত্রিকায় একাধিক বার এ খবর প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলা আর দায়িত্বহীনতাকেই বড় করে দেখছেন ওই এলাকার জনসাধারণ।
বর্তমানে রাস্তার এমন বেহালদশা দেখে সাগরদিঘী এলাকার দুই ব্যবসায়ী যুবক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক এবং আজাহার উদ্দিন ব্যক্তিগত ভাবে ইট এবং বালু দিয়ে কিছুটা হলেও চলাচলের জন্য উপযোগী করে তোলে রাস্তাটির। সাগরদিঘী থেকে গুপ্তবৃন্দাবন পর্যন্ত রাস্তায় ইট এবং বালু দেওয়ায় এলাকার সাধারণ লোকজন বেশ উপকৃত হয়। রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, সাধারণ মানুষ এবং যানবাহন চলাচলে যে জনদুর্ভোগ ছিল তা কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে কিন্তু এটা সাময়িকের জন্য। আমরা ব্যক্তিগত ভাবে এ সমাজ সেবামূলক কাজটি করেছি। তবে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ঘাটাইলে অধিকার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ॥

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মমরেজ গলগন্ডা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়ার্ল্ড কনসার্ন বাংলাদেশ (বিবিসি) ঘাটাইল শাখার আয়োজনে ৩ দিন ব্যাপী শিশুদের জন্য প্রতিবন্ধকতা দুরিকরণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল বাছেদ করিম এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় ৭০ জন শিশু ও অভিভাবকদের নিয়ে শিশু অধিকার, শিশু নির্যাতনের ধরণ, নির্যাতনের ক্ষতিকর প্রভাব ও নির্যাতন বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করেন, জেমস্ সানি বৈরাগী ও জিহিস্কেল ইজারদার। অন্যান্যদের মধ্যে আরো ছিলেন, ডেভিট তাপস সাহা, দূর্জয়, শুভ্র, হোসনেআরা ও ইউপি সদস্য রাফিজা বেগম প্রমুখ।

টানা তিনবার শতভাগ পাশ করার গৌরব অর্জন করলো লোকের পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়

এসএসসিতে টানা তিনবার শতভাগ পাশ করার গৌরব অর্জন করলো লোকের পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়। এ ফলাফলে কৃতি  ছাত্র-ছাত্রী, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক মন্ডলী সহ এলাকার সর্বস্তরের সাধারন মানুষের মাঝে আনন্দ-উল্লাস পরিলক্ষিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টি পর পর টানা তিনবার শত ভাগ পাশের মাধ্যমে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখার গৌরব অর্জন করেছে। এক প্রতিক্রিয়ায় বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা লোকের পাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আকরাম হোসেন খান বলেন, “টানা তিন বার শত ভাগ পাস করায় আমি আনন্দিত। এ সফলতা অর্জনে শিক্ষকমন্ডলী অক্লান্ত পরিশ্রম করায় আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। বিদ্যালয়টির উত্তরোত্তর সফলতা অর্জনে অভিভাবক সহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি। ধন্যবাদ জানাচ্ছি বিজ্ঞ পরিচালনা পরিষদকে।” কৃতি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ সেবার পরামর্শ দেন লোকের পাড়া গ্রামেরই কৃতি সন্তান কবি সাইফুল ইসলাম। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারোজ্জামান তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “শত ভাগ পাশে হ্যাট্রিক অর্জনে শিক্ষকমন্ডলী ও এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা রয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, “অজপাড়া গ্রামের একটি বিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ফলাফলে আমি সত্যি অভিভূত। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা যাতে আরও ভাল ফলাফল অর্জন করতে পারে সভাপতি হিসেবে আমি সে ধরনের সকল প্রকার পদক্ষেপ নেব। প্রতিষ্ঠানটির জমিদাতা নুরুল ইসলাম আবেগ্লাপুত কন্ঠে নেক্সটনিউজকে জানান, ” স্কুলে আমার জমি দান সার্থক হয়েছে।”
টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার এ প্রতিষ্ঠান থেকেএবার ৪১ জন শিক্ষার্থীর সবাই কৃতকার্য হয়েছে।

সেই বাক প্রতিবন্ধী তাসলিমা বি-গ্রেড পেয়েছে

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ
 কথা বলতে পারেনা কানেও শুনে না। সমাজের সবাই তাকে বোবা বলেই জানে। এমন এক শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধীত  তাসলিমা খাতুন (১৫)। সে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। অন্য সব শিক্ষার্থীদের মতই পরিক্ষার খাতায় স্বাভাবিক উত্তর লিখে জানিয়ে দিল নিজের ইচ্ছে শক্তি থাকলে পাহাড় সমান প্রতিবন্ধকতাকে মাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। ছোট একটি কাগজে লিখে সংবাদকর্মীদের জানিয়েছিল সে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শিক্ষক হয়ে তার মত বাক প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আরো ছড়াতে চায়। তাসলিামার স্বপ্নএ সংক্রান্ত একটি সংবাদ মানবজমিনে প্রকাশ হয়েছিল। তার সে স্বপ্ন এক ধাপ এগিয়েছে ।গতকাল বৃহস্প্রতিবার এসএসসি পরীক্ষার ঘোষিত ফলাফলে বি-গ্রেড পেয়ে পাস করেছে

তাসলিমা টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের মধ্য কর্ণা গ্রামের দিনমজুর বদর উদ্দিনের মেয়ে। তিন ভাই বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। তার দুই ভাই শাহ্ আলম (১৮)  সিনহা (১০)। তাসলিমা প্রতিবন্ধী হিসাবে জন্ম নিলেও মেয়ের প্রতি যতেœর কমতি ছিলনা মা শাহীনা বেগমের। অস্বচ্ছল পরিবারের মেয়ে হলেও বাবা-মার আগ্রহ আর বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় সে উপজেলার মমরেজ গলগন্ডা পাবলিক উচ্চ  বিদ্যালয় থেকে ার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।  তার এ ফলাফলে খুশি মা-বাবা ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু হানিফ খান ।
অস্বচ্ছল পরিবারের এই মেয়েটি লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তার মা শাহিনা বেগম জানান, আমরাও চাই সে লেখাপড়া চালিয়ে যাক। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় হিমিশিম খেতে হচ্ছে। তাই তার আশা পূরনে আমি সকলের সার্বিক সহযোগিতা চাই।