রবিবার, জানুয়ারি ২০, ২০১৯

জনতার হাতে পুলিশের এসআই ধরা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ডাকাতি চেষ্টার অভিযোগে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল কদ্দুছসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের গেড়ামারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ২টার দিকে সাদা পোশাকে মির্জাপুর থানা পুলিশের এসআই সোহেল কদ্দুছের নেতৃত্বে ৭/৮ জন যুবক বহুরিয়া ইউনিয়নের গেড়ামারা গ্রামের আলমাছ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দরজায় আঘাত করে। আলমাছ দরজা না খুলে তাদের পরিচয় জানতে চান। বাহির থেকে তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে একাধিকবার দরজা খুলতে বলেন। এতে আলমাছের সন্দেহ হলে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করেন। চিৎকার শুনে গ্রামের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের আটক করেন। এ সময় সেখান থেকে দুই যুবক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে রাত ৪টার দিকে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।


আলমাছ মিয়া জানান, তিনি সাড়ে পাঁচ মাস আগে সিঙ্গাপুর থেকে বাড়িতে এসেছেন। গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে দরজায় আঘাত করার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পুলিশ পরিচয় দিলেও তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। পরে তিনিসহ পরিবারের লোকজন চিৎকার করলে গ্রামবাসী এসে তাদের আটক করেন।

এসআই সোহেল কদ্দুছ ছাড়াও আটকরা হলেন- রংপুরের শহিদুর রহমান ও সাইদুল ইসলাম, মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কোর্ট বহুরিয়া গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন, গোড়াই ইউনিয়নের মীর দেওহাটা গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ মিয়া। পালিয়ে যাওয়া দুই যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক বলেন, এ ঘটনায় এসআই সোহেল কদ্দুছের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাছাড়া পালিয়ে যাওয়াদের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এস এম এরশাদ/আরএআর/জেআইএম/এসজি

ঘাটাইলে পালন হল না জিয়ার জন্মদিন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল বিএনপি বর্তমানে সময়ের সবচেয়ে কঠিন ও খারাপ সময় পার করছে। উপজেলা কমিটিতে থাকা কয়েকজন নেতা দল ত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগদান করায় হতাশ সাধারণ কর্মীরা। ঘর ভাড়া করে পরিচালিত দলীয় কার্যালয়টির আসবাবপত্র এমন পরিস্থিতিতে মালিক পক্ষ নামিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘ ২১ বছর পর দলীয় কার্যালয়হীন ঘাটাইল উপজেলা বিএনপি। সাংগঠনিকভাবে দুর্বল থাকায় পালন করা হয়নি জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী।

একটা সময় এ উপজেলা বিএনপি’র দূর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। নানাবিধ কারনে এ দূর্গে দেখা দিয়েছে ফাঁটল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তা রূপ নিয়েছে ভাঙ্গনে। নেতাকর্মীরা আজ দলছুট।

আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং পরে প্রায় হাজার খানিক বিএনপি’র নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। এলাদশ নির্বাচনী মহাযজ্ঞে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া পাঁচ ইউপি চেয়ারম্যান যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগে। এসবের কারনে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে অতীতের যে কোন সময়ের থেকে দুর্বল অবস্থায় পতিত হয়েছে।

দলটির নেতাকর্মীদের দলছুটের বিষয়টি নতুন নয়। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় কোন্দলে পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও পৌর মেয়র আ. রশিদ মিয়া যোগ দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে। নব্বইদশকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজমল হোসেনের নেতৃত্বে বেশ গোছালো ছিল দলটি। কোন গুরুতর কারণ ছাড়াই তৎকালীন মন্ত্রী ও বর্তমানে বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদ তাকে বাদ দিয়ে দলের সভাপতি করেন শামছুল আলমকে। আজমল যোগ দিলেন আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগ তাকে সাদরে গ্রহণ করে বানালেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। শামছুল আলম বেশী দিন সভাপতির আসন ধরে রাখতে পারলেন না। নতুুন সভাপতি বানানো হল ঘাটাইল বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক সানাকে।

এর মধ্যে ২০১২ সালে এ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ডাঃ মতিউর রহমানের মৃত্যুতে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে বিএনপি’র কেন্দ্রিয়ভাবে প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল না। নৌকা প্রতীকে শহিদুল ইসলাম লেবু ও আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে নির্বাচন করেন লুৎফর রহমান খান আজাদের ভাতিজা আমানুর রহমান খান রানা। উপ-নির্বাচন এবং সে সময়কার যুবদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সভাপতি সানা এবং আজাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে।

সিরাজুল হক সানা বলেন, আমার এবং আজাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার কারণ হল আজাদ শুরুতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নৌকার পক্ষে কাজ করতে বলেন, কিন্তু কিছুদিন পরেই আবার তার ভাতিজা রানার পক্ষে কাজ করতে বলেন। যা ঐ সময় বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ পায়। এতে করে নেতাকর্মীরা দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। বিএনপি’র সেই দু’টি ভাগ এখনো বিদ্যমান। যার ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল না বিএনপি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিনে কোন কর্মসূচি না থাকার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ. খ. ম রেজাউল করিম বলেন, আজ (১৯ জানুয়ারি) আমাদের কোন কর্মসূচি ছিল না। আমরা সাংগঠনিকভাবে একটু দুর্বল হয়ে পরেছি।

সোর্স : ঘাটাইল ডটকম।