মঙ্গলবার, মার্চ ১৯, ২০১৯

ঘাটাইলে সবুজ ধানের চাদরে ঢাকা কৃষি জমি

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল :  সরিষা মৌসুম শেষ হওয়ার সাথে সাথে শুরু হয়ে গেছে ইরি বোরো ধান চাষ।ত্ইাতো বাতাসে দুলছে সবুজ ধানের পাতা শোভা পাচ্ছে পাচ্ছে প্রকৃতির অপরুপ খেলা।

এরই মধ্যে কৃষি জমিতে সার নিরানী দেওয়া শেষ হয়ে গেছে। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের এখন এমন দৃশ্য চোখে পড়ার মত।যেন চারি দিকে ধান গাছ আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে সবুজ চাদরের মত ঢেকে গেছে বেশীর ভাগ ইউনিয়ন। যদিও পাহাড়ী অ লে আবাদ কম হলেও একে বারে পিছে পড়ে থাকার মত না।সাধারনত ঘাটাইল উপজেলা দোফসলি জমি বেশী ।

একটা মৌসুম দোলাই ধান , বিরই ধান,পাইজাম ধান,চামারা ধান আবাদ হয় ।পওে আবার বিআর ২৮,২৯ চাষ হয় ।এমনি করে পর্যায় ক্রমে আবাদী জমিতে চাষ চলতে থাকে । আর কদিন পরে ধান পাকবে ।কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যাবে ।তখন ব্যাস্ত হয়ে পড়বে তাদের ধান কাটা নিয়ে ।

দিঘল কান্দি ইউনিয়নের সাধুটি গ্রামের নুরজাহান বেগম জানায় আমরা বড় আশা করে ধান রোপন করেছি যদি সঠিক দাম পাই তাহলে ভালই টাকা আনা যাবে । উপজেলার বেশীর ভাগ জমি উর্বর থাকার কারনে ফলন ভালো হয় ।

ঘাটাইলে খাল দখল করে পুকুর খনন; জলাবদ্ধতার আশংকা, ঝুঁকিতে সেতু

মাসুম মিয়া, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শ্যামবিয়ারা ও দিঘলকান্দি গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া শত বছরের পুরনো খাল অবৈধ ভাবে দখলের পথে। খাল দখল করে চলছে পুকুর খনন। এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস বাধা দিলেও তা তোয়াক্কা করছে না প্রভাবশালী দখলদার মহল।

খালের সঙ্গে থাকা আড়াই বিঘা পৈতৃক সম্পত্তিতে পুকুর খনন করছেন শ্যামবিয়ারা গ্রামের তিন ভাই হায়দার আলী, হারুন মিয়া ও হুমায়ুন। জানা যায়, পুকুর খননের জন্য উপজেলা মৎস্য অফিসের যে অনুমতি পত্র লাগে তাও তাদের নেই।

সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খালটির বয়স প্রায় একশ’ বছর। ঝিনাই নদীর শাখা এটি। ভূমির নকশা অনুসারে এর প্রশস্ত ৪৫ ফুট। উপজেলা প্রশাসন থেকেও পর্যায়ক্রমে খনন করা হয় খালটি। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে সরকারিভাবে খালটি খনন করা হয়। শত শত একর কৃষি জমির সেচ ও পানি নিস্কাশন হয় এই খালকে কেন্দ্র করে। কিন্তু পুকুর খনন করে পাড় বেঁধে খালের প্রায় পুরো মুখ আটকে দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতায় খালের উজানের অনেক জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খনন করা পুকুরের খুব কাছাকাছি খালের ওপর রয়েছে বড় একটি ব্রিজ। ভেকু দিয়ে অনেক গভীর থেকে মাটি কাটার কারণে ব্রিজটিও রয়েছে ঝুঁকিতে।

শ্যামবিয়ারা গ্রামের আকবর হোসেন   বলেন, পুকুর খনন করে খালে বাঁধ দেওয়ার ফলে ঠিকমতো পানি নিস্কাশন হতে পারবে না। বর্ষার পানিতে আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

এ বিষয়ে খনন করা পুকুরের মালিক হায়দার আলী  বলেন, আমি খাল দখল করে পুকুর কাটিনি। খাল আমার জমির ওপর দিয়ে বয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার হিটলু  বলেন, মিথ্যা প্রত্যয়ন এনে অনেকেই খাল দখল করে আসছে। দখল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, খালের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে পুকুর কাটলে ভারি বর্ষণ হলে শত শত একর জমির ফসল ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দিঘলকান্দি ইউপি ভূমি অফিসের সহকারী শামছুল হক খান বলেন, পুকুর খননে আমি বাধা দিয়েছি এবং বিষয়টি উপজেলা ভূমি অফিসকে অবহিত করেছি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূর নাহার বেগম বলেন, বিষয়টি জানার পর খনন কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। তার পরও যদি তারা এ কাজ করে তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।