সোমবার, এপ্রিল ১৫, ২০১৯

গ্রেফতার শম্পাই সেই পপি

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার উম্মে সুলতানা পপিই হলো আলোচিত সেই শম্পা ওরফে চম্পা।

সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন ফেনী পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল শম্পা সন্দেহে সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে উম্মে সুলতানা পপিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই সময় সোনাগাজী-দাগনভূঞা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, শম্পা সন্দেহে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে মাদরাসারছাত্রী রাফির শ্লীলতাহানির ঘটনায় আটক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলার শ্যালিকার মেয়ে। শম্পা একই মাদরাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষার্থী। ১১ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাফ উদ্দিন আহম্মেদ তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঘটনার দিন অগ্নিদগ্ধের সময় নুসরাত জাহান রাফি কেউ একজন শম্পা চল বলেছেন এমন শব্দ রাফি শুনেছেন বলে চিকিৎসকদের কাছে তথ্য দিয়েছেন। সেই সূত্রে পুলিশ তাকে আটক করে। উম্মে সুলতানা পপি কি শম্পা এ নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল?

আলোচিত এ মামলা এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। এদের মধে ওই অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকছুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, যোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন ও মো. শামীম। এদের মধ্যে মামলার এজহারভুক্ত আটজনের মধ্যে ৭ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। হাফেজ আবদুল কাদের নামে এজহারভুক্ত আরও এক আসামিকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।


এদিকে রোববার রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামিম। জবানবন্দিতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে তারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়েছে বলে স্বীকার করেছেন।


গত ১০ এপ্রিল (বুধবার) রাত নয়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দেয়ার পর বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

ওসির বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার সুমনের মামলা!

সমাজের বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে ফেসবুকে লাইভ করে আলোচিত আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের ওসি (প্রত্যাহার হওয়া) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেছেন। নুসরাতের পরিবারকে সহযোগিতা না করার অভিযোগে ইতোমধ্যে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার সাইবার আদালতে এ আবেদন করেছেন তিনি। বেলা ২টায় এ আবেদনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আদালতের পেশকার শামীম আল মামুন।

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুর পর মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে। ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে অধ্যক্ষ শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না। ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ওসির সামনে অঝোরে কাঁদছিলেন নুসরাত। আর সেই কান্নার ভিডিও করছিলেন সোনাগাজী থানার ওসি। নুসরাত তার মুখ দু’হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। তাতেও ওসির আপত্তি। বারবারই ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে।’

গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে। এ ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। এ সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা ৪-৫ জন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

গেল ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সখীপুরে বৈশাখী মেলায় কুরুচিপূর্ণ স্টল

টাঙ্গাইলের সখীপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পাঁচ দিন ব্যাপী বৈশাখী মেলা চলছে। এ মেলায় দর্শক সমাগম উল্লেখযোগ্য। নিঃসন্দেহে এটি বর্ষবরণের প্রয়াস। কিন্তু বেশ কিছু স্টলের নাম এতটাই অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ যা দেখে বিভিন্ন বয়সী নারীদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। 

মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, মেলায় অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে বেশ কয়েকটি স্টল করা হয়েছে। ওই স্টলগুলোতে উঠতি বয়সের যুবকেরা বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি করছে। ব্যানারে খুব বড় করে ওই অশালীন ভাষাগুলো লেখা হয়েছে। ওই লেখাগুলো দর্শনার্থীদের খুব সহজেই নজরে আসছে। এতে করে মেলায় ঘুরতে আসা নারীরা বেশি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন। তারা দ্রুত ওই স্টলগুলোর ব্যানার সরিয়ে ফেলার দাবি জানান।  

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছবুর রেজা বলেন, ‘বিষয়টি আমি ফেসবুকে দেখেছি। লেখাগুলো খুবই অলাশীন ও কুরুচিপূর্ণ। ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্যই বৈশাখী মেলার আয়োজন। আর সেটা যদি বিকৃত হয় তাহলে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা কি শিখবে। প্রশাসনের আয়োজনে মেলায় এ লেখাগুলো কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ওই ব্যানারগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে সখীপুরের ইউএনও আমিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার চোখে পড়েনি। বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘাটাইলের সড়কে এক পাগলীর মৃত্যু

আতিক সরকার, ঘাটাইল: টাংগাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গতকাল রোববার (১৪ এপ্রিল) রাতে কোন এক সময় গাড়ির চাপায় পৃষ্ট হয়ে এক পাগলির (৪৫) মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘাটাইলের পাকুটিয়া বাসষ্টেশনের কাছে ফুলহারা (খনিরচড়া) নামক স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় লোকজন ঘাটাইল থানায় বার বার যোগাযোগ করলেও কোন সাড়া না পেয়ে পুলিশ হেডকোয়াটার এর ৯৯৯ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তার মৃত্যুর পরের দিন আজ সোমবার (১৫ এপ্রিল) সকাল নয়টায় থানা থেকে পুলিশ এসে রাস্তা থেকে পাগলির থেতলে যাওয়া মৃত দেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

নিহত পাগলিটার নাম মিনুতি রানী বলে স্থানীয় একজন দোকানদার জানান। দীর্ঘদিন ধরে সে উপজেলার পাকুটিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি পরিত্যাক্ত ঘরের বাড়ান্দায় থাকত। পাগলিটা বেশ কিছু দিন ধরে পাকুটিয়া ও পোড়াবাড়ি এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে ঘুরাঘুরি করতো।

ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক মো. শাহিন মিয়া বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। মাথার ওপর দিয়ে গাড়ির চাকা চলে যাওয়ায় মাথা পুরোপুরি থেঁতলে গেছে। বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করার জন্য লাশ আঞ্জুমানে মফিদুলের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঘাটাইলে হামিদপুর আমাদের বাংলা যুব সংঘের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে হামিদপুর আমাদের বাংলা যুব সংঘ ক্লাবের সপ্তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আজ রোববার (১৪ এপ্রিল) এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। রোববার দুপুরে উপজেলার হামিদপুরে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দিগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন।

সংগঠনের উপদেষ্ঠা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হামিদপুর ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মো. হরমুজ আলী, বঙ্গবন্দু কেন্দ্রীয় পেশাজীবি লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম খান, কৃষিবিদ প্রিন্স রহমান পাবেল, ঢাকাটাইমস ও দৈনিক মজলুমের কন্ঠের ঘাটাইল উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক রেজাউল করিম খান রাজু প্রমুখ।

সোহানুর রহমান প্রিন্স এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরোও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি আল-আমিন, সাধারন সম্পাদক সেলিম তালুকদার, পরিচালক আব্দুর রহমান রনি, কমিটি উপদেষ্ঠা সাদ্দাম হোসেন, বাবু মিয়া প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সংগঠনটির কার্যক্রম সর্বমহলে প্রসংশীত হয়েছে।