শনিবার, অক্টোবর ০৬, ২০১৮

ঘাটাইলে ৩ দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা সমাপ্ত

দর্শনার্থীদের ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও জাঁকজমকপূর্ণ সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আজ শনিবার (৬ অক্টোবর) বিকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে তিনদিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার সমাপ্ত হয়েছে।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ৬৪ জেলার সাথে একযোগে এ উন্নয়ন মেলার আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করেন। ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে এ মেলায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের উদ্যোগে ৪০টি স্টল স্থান পায়। এসব স্টলে স্বস্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গণমানুষের সেবায় তাদের উন্নয়ন সেবার তথ্য ও সামগ্রীর সমাবেশ ঘটানো হয়।

ঘাটাইলে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ উন্নয়ন মেলাটি উদ্বোধনের পর থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় করে স্কুল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনগণ। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই চলে তিন দিন। মেলা প্রাঙ্গণে আগমন করেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার দর্শক, শ্রোতা ও ক্রেতা। বিশেষ করে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের গণমানুষের পদচারণায় মেলাটি গণমানুষের মনে ব্যাপক সারা জাগিয়েছে।

মেলা প্রাঙ্গণে শেষ দিনেও আশাতীত দর্শনার্থীদের ভিড়ে মলা জমজমাট হয়ে উঠে।

সমাপনি অনুষ্ঠানে ঘাটাইল শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীবৃন্দ সংগীত পরিবেশন করে মেলা প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত করে তোলে।

এ ছাড়াও একই দিন সন্ধ্যায় উন্নয়ন মেলা মঞ্চে মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহাম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সামু।

কোথায় পাবেন একটুখানি সাহায্য ঘাটাইলের নিঃসন্তান ফাতেমা

টাঙ্গাইলে ঘাটাইল উপজেলার নবগঠিত লক্ষিন্দর ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ডের মুরাইদ (চাকপাড়া) গ্রামের মৃতঃ একাব্বর আলীর স্ত্রী মোছাঃ ফাতেমা (৫১) দীর্ঘ ৩৫ বৎসর সংসার করেও নিঃসন্তান রয়ে গেছেন। বছর তিনেক আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর দু’কূলে কেউ নেই তার ভালোমন্দে। বাবা মা মারা গেছেন বহু আগেই। এখন যেন তার আর কোন ভরসা নাই। কাজ করে খাওয়ার মত শক্তি সামর্থ না থাকলেও লজ্জায় ভিক্ষাবৃত্তি করতে পারেন না। এতো কষ্টে থাকার পরেও এখনো কোন প্রকার সরকারী সহায়তা পাননি ফাতেমা।

জানা যায়, ফাতেমার স্বামীর রেখে যাওয়া পুরাতন ভিটাই তার এখন থাকার একমাত্র স্থান। প্রায় দিনই ক্ষুধার জ্বালায় একা ঘরেই কেঁদে দিন কাটিয়ে দেন ফাতেমা। সূর্যের আলো শেষে রাত নামলেই ক্ষুধার জ্বালার সাথে যোগ হয় আরও বেশ কিছু। একা বাড়িতে নাই কোন টিউবয়েল বা টয়লেটের ব্যবস্থা, নাই বৈদ্যুতিক সংযোগ বা কুপি জ্বালানোর তেল, নাই থাকার উপযোগী বাসস্থল ও ঘুমানোর উপকরণ। বৃষ্টি এলে সারা রাত ঘরের ভিতর ভাঙা একখানা ছাতা মাথায় দিয়ে ফাতেমা মাটির তৈরি ঘরের এক কোনেই কাটিয়ে দেন রাত।

সরেজমিনে ফাতেমার ঘরে গিয়ে দেখা যায়, স্বামীর রেখে যাওয়া মাটির দেয়ালের দু’চালা পুরাতন টিনের ঘরে উপর দিকে তাকালেই আসমান দেখা যায়। টিনগুলো একেবারেই মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

ফাতেমা জানান, কাজ করে খাওয়ার মত শক্তি সামর্থ নেই। লজ্জায় ভিক্ষাবৃত্তি করতে পারেন না। এতো কষ্টে থাকার পরেও এখনো পাওয়া যায়নি কোন প্রকার সরকারী সহায়তা। পাননি বিধবা কার্ড, মিলেনি বয়স্ক ভাতা কার্ড, নেই বিজিএফ-বিজিডি’র কার্ড, কোন বিত্তবান সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেননি।

নির্বাচন এলেই নানা প্রতিশ্রুতিতে আশায় বুক বাধেন ফাতেমা। এখন তার আশা নিভু নিভু। তার করুন আর্তনাদ ধ্বনি পৌছায় না সরকার দলীয় কোন নেতা-কর্মী, স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার বা কোন সমাজ সেবকের কাছে। বহু নেতা কর্মীর হাতে পায়ে ধরেও কোন লাভ হয়নি। তাই এখন ক্ষুধার জ্বালায় অন্ধকার ঘরই তার নিত্য দিনের সাথী।

এমতাবস্থায় কার কাছে, কোথায় গেলে পাবে সাহায্য- এমনটাই প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা ফাতেমার।

ঘাটাইলে উন্নয়ন মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত উন্নয়ন মেলার দ্বিতীয় দিন গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় দর্শকদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। এছাড়া প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ও আজকে শনিবার শেষ দিনে মেলা প্রাঙ্গনে বিভিন্ন স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে সেলফিতে মেতে থাকতে দেখা গেছে প্রাণোচ্ছল তরুণ-তরুণীদের।
নান্দনিক পরিবেশে সজ্জিত উপজেলা চত্বরে আয়োজিত মেলার ৩২টি স্টলেই লোকজনের ভিড় ছিল লক্ষণীয়।
এদিকে উন্নয়ন মেলাকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ সাজানো হয়েছে বেশ সুন্দর করে। প্রধান ফটকে সুদৃশ্য তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। আশাপাশের বিভিন্ন ভবনে আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মেলার দ্বিতীয় দিনে (শুক্রবার) আসা সরকারি জিবিজি কলেজের ছাত্র মামুন আহমেদ বলেন, নতুন ভাবনায় আয়োজন করা উন্নয়ন মেলা তার ভীষণ ভালো লাগছে। এছাড়া অনেক দিন পরে মেলা হওয়ায় তারা অনেকটা সময় এখানে কাটাতে পারছেন।
ঘাটাইল সরকারী গণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী সালেহা তাবাসসুম জানান, মেলায় এসে অনেক তথ্য জানতে পেরেছেন। যা তার কাছে অনেকটাই নতুন মনে হচ্ছে। আবার মেলায় এসে বইয়ের পাতায় পড়া অনেক কিছুর মিলও পাওয়া যাচ্ছে। যা তার অনেক কাজে লাগবে।
একজন সাধারণ দর্শানার্থী কামাল হোসেন বলেন, টেলিভিশনের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ড সব সময়ই জানা যাচ্ছে। তবে মেলায় এসে এসবের বিস্তারিত জানা যাচ্ছে, দেখাও যাচ্ছে। এতে বাস্তব ধারণা মিলছে। যা সরকারের সাফল্য বিবেচনায় ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা চত্বর ঘুরে দেখা গেছে এবারের উন্নয়ন মেলায় উপজেলা প্রশাসনের তথ্য কেন্দ্র, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বিএডিসি, কৃষি গবেষণা, জনস্বাস্থ, এলজিইডি, পল্লী উন্নয়ন, সমবায়, যুব উন্নয়ন অধিদফতর, ইসলামী ফাউন্ডেশন, বিভিন্ন ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র, ঘাটাইল সরকারী গণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, এসই পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, একটি বাড়ী একটি খামার, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর এর স্টল সহ রাষ্ট্রের মধ্যে সরকারি উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত এমন ৩২টি স্টল স্থান পেয়েছে।