শুক্রবার, জানুয়ারি ০৪, ২০১৯

বাসাইলে টেলিভিশনই শিশুটির মৃত্যুর কারণ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে টেলিভিশনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জিহাদ (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বাসাইল পৌর এলাকার পূর্ব নয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিহাদ ওই এলাকার মহর আলীর ছেলে।

বাসাইল পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহানুর রহমান জুয়েল জানান, টেলিভিশনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে শিশুটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এ ঘটনায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর চাচা কুরবান আলী জানান, জিহাদকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বাসাইল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়েছিল। এ অপমৃত্যুর কারণে তার আর বিদ্যালয়ে পড়া হলো না। নিহত শিশু জিহাদের ছোট প্রায় তিন বছর বয়সের আরেকটি ভাই আছে বলেও জানান তিনি।

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা নিহত

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় বাদল মিয়া (৪০) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নগর জলফই এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বাদল মিয়া নগর জলফই এলাকার মৃত জহিরুল মাস্টারের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল পূর্বাঞ্চল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট রাজন দত্ত বলেন, শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহর থেকে বাদল মিয়া মোটরসাইকেলযোগে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তিনি নগর জলফই এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় ঢাকাগামী একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাদল নিহত হয় এবং একজন আহত হয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে আহতকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে এবং নিহতের লাশ মর্গে পাঠায়। পুলিশ ঘাতক বাসটিকে জব্দ করলেও চালক পালিয়ে যায়।

রাজশাহীতে শৈত্যপ্রবাহে স্থবির জনজীবন

রাজশাহীর ওপর দিয়ে এখন বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ভোরে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও কম তাপমাত্রায় স্থবির হয়ে উঠছে জনজীবন। বেলা বাড়ার পরও সূর্য উত্তাপ না ছড়ানোর কারণে কমছে না শীত। আবহাওয়া অফিস বলছে, এমন অবস্থা বিরাজ করবে আরও কয়েকদিন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানান, রাজশাহীতে এখন দিনের তাপমাত্রা  ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে মধ্যে বিরাজ করছে।

শুক্রবার ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল।

কিন্তু এখন আবার তাপমাত্রা কমছেই। তবে এ মৌসুমে সর্বনিম্ন ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল ২৯ ডিসেম্বর।

এদিকে তাপমাত্রা কমতে থাকায় পদ্মাপাড়ের ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতের তীব্রতায় কাবু হয়ে পড়েছে। উত্তরের হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সকালে ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে ভোরের সূর্যের দেখা মিললেও থাকছে না উত্তাপ।

সন্ধ্যায় খোলা আকাশের নিচে থাকা শীতার্ত মানুষগুলোর শরীরে উষ্ণতা ছড়াতে খড়কুটো জ্বালাতে হচ্ছে।

শীতে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। তারা আক্রান্ত হচ্ছে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে। হাসপাতালে বাড়ছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত নবজাতক শিশুর সংখ্যাও।

তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন অ্যাজমায় আক্রান্ত রোগীরা। ফলে শীতে অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে।

রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক আজিজুল হক জানান, শীত বেড়ে যাওয়ায় সব বয়সের মানুষ ঠাণ্ডা জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে ঠাণ্ডা জনিত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এসব রোগীর মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।

ঢাকা আবহাওয়া অফিসের বরাত দিয়ে রাজশাহীর পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, আগামী ৩-৪ দিন শেষে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত রাজশাহী অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। বয়ে যেতে পারে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। এ সময় দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।