রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৬

ঘাটাইলে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার নতুন অডিটরিয়ামের সামনে রবিবার দিন ব্যাপি  পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত পিঠা উৎসব অনুষ্ঠানে কান্দুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, বীরখাগিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁনতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পিঠা উৎসবে অংশগ্রহন করে উৎসবে তেলের পিঠা, পাটি সাপটা, নারিকেল পিঠা, মিঠা পিঠা, ভাপা পিঠা, খেজুর পিঠা, সেমাই পিঠা সহ ৪১ রকমের পিঠা প্রদর্শন করা হয়।

শেষে ইউএনও আছমা আরা বেগমের সভাপতিত্বে নতুন অডিটরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পিঠা উৎসবে অংশগ্রহনকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামুসহ উপজেলা প্রশাসনের অফিসারবৃন্দ।

ঘাটাইলের লোকেরপাড়ায় ১ সপ্তাহে ৫ বাড়িতে দুবৃত্তের আগুন জনমনে আতঙ্ক

ঘাটাইল উপজেলার পশ্চিম অঞ্চল লোকেরপাড়া গ্রামে গত ১ সপ্তাহে ৫টি বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে গোখাদ্য খড়ের পালা। আর এজন্য এলাকায় সাধারন মানুষের মনে আতঙ্কের ঝড় উঠেছে।
জানা যায়, লোকের পাড়া গ্রামে ১ দিন পর পর ১সপ্তাহে ৫ বাড়িতে খড়ের পালায় আগুন দিয়ে আসছে একটি চক্র। প্রথমে আব্দুল খাঁনের বাড়িতে আগুন দিলে এলাকার লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। পরে পর্যায়ক্রমে একই গ্রামের সাহেব আলী তালুকদার, মোশারফ তালুকদার, ফরিদ তালুকদার ও আব্দুল আলিম ভুইয়ার বাড়ির খড়ের পালায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ভূঞাপুর ফায়ার সার্ভিস ও গ্রামের লোকজনের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়। খড়ের পালায় আগুন দেয়ায় একদিকে যেমন গরুর খাদ্যের সংকট দেখা দিচ্ছে অপর দিকে জনমনের আতঙ্কও বিরাজ করছে। এতে করে সাধারন কৃষকের চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
এব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য বলেন, এটা উঠতি বয়সের ছেলেদের দুষ্টামি ছাড়া আর কিছুনা। কিন্তু এলাকাবাসী এই বিষয়টিকে দুষ্টুমি বলে মানতে নারাজ। তাদের ধারনা দুর্বৃত্তরা বড় ধরনের কোন নাশকাত করার প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে পারে।
এব্যাপারে ঘাটাইল থানার ওসি বলেন, আমাকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানানো হয়েছে লিখিত কোন অভিযোগ এখনো পাইনি। পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

ঘাটাইলের মেয়ে মিতুর এশিয়া গেমসের সাফল্য

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল: প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে যে সাফল্যে আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে গিয়েছে যা মানুষ কখনো ভাবেনি তাই এটা এখন ভাবনা নয় সত্যি সত্যি বাস্তবে পরিণত হয়েছে।

৩ ফেব্রুয়ারি সাউথ এশিয়া অলম্পিক কাউন্সিল আয়োজিত ভারতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া গেমস প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার ৩নং জামুরিয়া ইউনিয়নের সাধুরপাড়া গলগান্ডা নিভৃত পল্লীর মেয়ে ফারজানা শারমিন মিতু কুস্তি খেলায় এশিয়া গেমসে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে রৌপ্য পদক এনে দিয়ে বাংলাদেশকে সম্মানিত করেছেন। স্কুল জীবন থেকে খেলাধুলার প্রতি সর্বদাই ঝোঁক ছিল এবং প্রায় প্রতি খেলায় তিনি প্রথম স্থান অধিকারী হতেন।

বাবা মোঃ আনোয়ার হোসেন মা মোছাঃ রেহেনা আক্তার এর অনুপ্রেরনায় তিনি দেশের মাটি থেকে বিদেশের মাটিতে গিয়ে ছিনিয়ে এনেছে এ সাফল্য।

ঘাটাইল ইউসুফ জাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি ও জি.বি.জি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করে ২০০৯ সালে আনসার বাহিনীতে চাকুরীতে যোগদান করেন। তার পর থেকেই খেলাধুলায় আরও মনোনিবেশ করেন। জুডো, চাইনিজ মার্শাল আর্ট, রেসলিং, বক্সিং ও কাবাটি খেলায় অংশগ্রহন করেন।

২০১০ সালে প্রথম রেসলিং প্রতিযোগিতায় খুব একটা ভালো ফলাফল করতে না পারলেও থেমে যায়নি সেখানে। তাইতো অদম্য মনোবল নিয়ে  ২০১০ সালে উশু ৬৫ কেজিতে খেলে স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ২০১০ সালে জুডোতে রৌপ্য, ২০১১ সালে স্বাধীনতা কাপ জুড়োতে স্বর্ণপদক লাভ করে তার জীবনের মোড় কে আরো গতিশীল করে তোলে। ২০১২ সালে ওয়াল্টন চতুর্থ জাতীয় সিনিয়র প্রতিযোগিতায় ৬৩ কেজিতে স্বর্ণ পদক, ২০১২ সালে জাতীয় উশু প্রতিযোগীতায় ৬৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্বর্ণপদক, ২০১২ সালে ইন্দোবাংলা গেমসে ভারত গিয়ে ৬৭ কেজি ওজন শ্রেণিতে রেসলিংয়ে রৌপ্য পদক লাভ করে তারই ফলশ্রুতিতে আনসার বাহিনী পদক লাভ করায় ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতি আনসার পদক সেবা প্রদান করে, ২০১৩ ঢাকায় অষ্টম গেমসে তৃতীয় খেলায় অংশগ্রহন করে ৬০ কেজি বক্সিংয়ে স্বর্ণপদক, ৬৩ কেজি রেসলিংয়ে স্বর্ণপদক ও ৬৫ কেজি উসুতে স্বর্ণপদক ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

তার সাফল্যের ধারাবাহিকতায় অষ্টম বাংলাদেশ গেমস এর পরপরই সেনাবাহিনীতে প্রথম নারী খেলোয়াড় সৈনিক হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন। সেখানে ২০১৪ সালে ২৬ জানুয়ারি সৈয়দপুর ই.এম.স্টোর এন্ড স্কুলে এক বৎসরের ট্রেনিং চলাকালীন অবস্থাতেই ঢাকাতে ২০১৪ সালে সিনিয়র জাতীয় কুস্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে ৬৩ কেজিতে স্বর্ণ পদক লাভ করে। ৫ম সার্ভিসেস প্রতিযোগিতায় রেসলিংয়ে ৬৩ কেজিতে স্বর্ণপদক লাভ করে পরে ঘাটাইল সেনানিবাসে পোষ্টিং হয়।

পরে ১২তম এশিয়ান গেমস ২০১৫ সালে বাছাই পর্বে রেসলিংয়ে বাংলাদেশ টিমে খেলার সুযোগ পাই। কোচ নায়েক সুবেদার আশরাফ আলী এবং কালাম হোসেন ৮টি ওজন শ্রেণিতে রেসলিং এর উপরে কঠোর প্রশিক্ষণ দিয়ে ২০১৬ সালের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহন করে।

শ্রীলংকা, নেপাল ও ভারতের সাথে অত্যান্ত সাহসিকতার সাথে বিজয়ী হয়ে ফাইনালে উঠে। প্রতিপক্ষ ভারতের শিল্পীর কাছে হেরে রৌপ্য পদক লাভ করে। তার এই সাফল্যের কথা জিজ্ঞাসা করলে জানান আমার সাফল্যের পিছনে আমার স্বামী মোঃ আরশেদ আলী শুরু থেকেই অনুপ্রেরনা যুগিয়েছে যদিও তিনি শেরপুর জেলায় গ্রামীণ ব্যাংকে চাকুরীরত অবস্থায় আছে তারপরও আমার অনুপ্রেরনায় সেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচেছন।