রবিবার, আগস্ট ১২, ২০১৮

সরকারের নয় বছরের সাফল্য

আগামী বত্রিশ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। এ লক্ষ্যে রূপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১ প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিগত দশকে বাংলাদেশের দারিদ্রের হার ৫৭.৬ শতাংশ থেকে ২৪.৪ শতাংশে নামিয়ে এসেছে। চলতি অর্থবছরে মাথাপিছু আয় আগের বছরের চেয়ে ১৪২ ডলার বেড়ে ১ হাজার ৭৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার নয় বছরে মাথাপিছু জাতীয় আয় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। প্রায় চারগুণ বেড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে রফতানি আয়। সাড়ে তিনগুণ বেড়েছে প্রবৃদ্ধি। প্রায় দশগুণ বৃদ্ধি পেয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলারে। একইভাবে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের বিস্ময়। দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

বিগত দশকে বাংলাদেশের দারিদ্রের হার ৫৭.৬ শতাংশ থেকে ২৪.৪ শতাংশে নামিয়ে এসেছে। চলতি অর্থবছরে মাথাপিছু আয় আগের বছরের চেয়ে ১৪২ ডলার বেড়ে ১ হাজার ৭৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণার মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এই ১০টি বিশেষ উদ্যোগ হচ্ছে- ডিজিটাল বাংলাদেশ, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রয়ণ প্রকল্প, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচী, সকলের জন্য বিদ্যুত নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচী, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী, কমিউনিটি ক্লিনিক, বিনিয়োগ বিকাশ ও পরিবেশ সংরক্ষণ।

সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সম্পূর্ণরূপে দারিদ্র্য বিমোচন। এছাড়া রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে নিয়ে যাওয়া এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদায় বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে কাজ করছে সরকার। এই লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেটে প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নের কৌশলগত দলিল হিসেবে পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২০২১) প্রণয়ন করে।

জানা গেছে, আগামী ২০২১ সালে এ উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রাথমিক ধাপ শেষ হবে। কিন্তু রূপকল্প ২০৪১ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লক্ষ্যসমূহ হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি সঞ্চালক বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প গ্রহণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসৃজন, দক্ষ উৎপাদনশীলতা, সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বৃদ্ধি, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং টেকসই পরিবেশবান্ধব নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ

ই -পাসপোর্ট ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

স্যাটেলাইট, অপটিক্যাল ফাইবার যুগের পর বাংলাদেশ এবার প্রবেশ করতে যাচ্ছে ই-পাসপোর্ট যুগে। দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদার এবং ভুয়া পাসপোর্ট প্রতিরোধে ই-পাসপোর্ট (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট) চালু করছে সরকার। বর্তমানে ১১৮টি দেশ ই -পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। ১১৯তম দেশ হিসেবে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্টের মাধ্যমে ভুয়া পাসপোর্টের পরিমাণ হ্রাস পাবে এবং আগের থেকে পাসপোর্ট বিষয়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।

দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) মালিক। প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার মানুষ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করছে। ঢাকার আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও কেরানীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে জমা পড়ে গড়ে চার হাজার আবেদন। বর্তমানে ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) পাসপোর্টও থাকবে। বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর জন্য সঠিক সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট হস্তান্তর করা একটু সময় সাপেক্ষ। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণের দক্ষ জনবলের ফলে এই কাজ আরো দ্রুত করা সম্ভব।

ই-পাসপোর্টের জন্য স্মার্ট আইডি কার্ডের মতোই গ্রাহকের কাছ থেকে তথ্য নেয়া হবে। নিরাপত্তার জন্য ই-পাসপোর্টেও থাকবে চোখের মণির ছবি ও আঙুলের ছাপ। আর এর পাতায় থাকা চিপসে সংরক্ষিত থাকবে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য। ফলে পরিচয় গোপন করা সম্ভব হবে না। এই ই -পাসপোর্ট তৈরির জন্য জার্মানির সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। ই-পাসপোর্টের চুক্তি অনুযায়ী জার্মান কোম্পানি ৩০ লাখ ই-পাসপোর্ট বই সরবরাহ করবে। এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫ শ’ ৬৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশের পক্ষে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এম মাসুদ রেজওয়ান এবং জার্মানির ভেরিডোস কোম্পানির পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হেনস উলফগ্যাং কুনজ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ই-পাসপোর্ট শুরু হলে সেবার মান আরো বাড়বে। এতে জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে। এর জন্য বিমান, স্থল ও নৌবন্দরে ই-গেট স্থাপন করা হবে। ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পেরিয়ে যাওয়া ই-পাসপোর্টধারী ব্যক্তি লাইনে না দাঁড়িয়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমিগ্রেশন শেষ করতে পারবেন। এতে সময় ও ভোগান্তি কমবে।

দিন দিন দেশ উন্নত দেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় উন্নত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও ব্যবস্থা করা হচ্ছে উন্নত সব সেবা। এই প্রেক্ষিতেই দেশে নাগরিক সুবিধার সাথে যুক্ত হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট। বর্তমান সরকার দেশের জনগণের জীবন মানোন্নয়নের জন্য সর্বদা সচেষ্ট। এজন্যই দেশের মানুষের জন্য সংযোজন করা হচ্ছে আধুনিক নাগরিক সেবা এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ঘাটাইলের হাক্কানী দরগাহ শরীফের পীরের বাসায় গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল : শনিবার (১১ আগস্ট) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের গৌরাঙ্গী গ্রামে হাক্কানী দরগাহ শরীফের পীর আব্দুল হালিম এর ঢাকা মিরপুর ছয় নং রোডের বাসায় ১১ বছরের কাজের ছেলে রাসেল এর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। নিহতের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। লাশের গায়ে, মাথায়, মুখে, দুহাতে পায়ে গলায় ও অন্ডকোষে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।

নিহত রাসেল উপজেলার গৌরাঙ্গী গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে।

নিহতের বাবা ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ঢাকায় বসবাসরত আনেহলা ইউনিয়ের গোরাঙ্গী গ্রামের আব্দুল হালিম পীর একই গ্রামের হত দরিদ্র আব্দুল হামিদকে বাড়ি ঘর তৈরী করে দেবে বলে নানা ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে তার ছোট ছেলে রাসেলকে আট মাস পুর্বে ঢাকা মিরপুরের বাসায় কাজের জন্য নেয়। চলতি আগষ্ট মাসের শুক্রবার (১০ আগস্ট) দিনের বেলায় নির্মমভাবে নির্যাতন করলে রাসেলের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা ধারনা করেন। পীরের পরিবার ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে রাসেল ছয় তলা ছাদ থেকে পড়ে আহত অবস্থায় মিরপুর ১১নম্বর রোডে ডেলটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে রাসেলের বাবা-মাকে জানায়। রাতেই তাদেরকে ছেলের অসুস্থতার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে যায়। হাসপাতালে গিয়ে দেখে ছেলে নিথর দেহ পড়ে আছে।

এসময় রাসেলের বাবা-মা এর কাছ থেকে সাদা কাগজে টিপ সহি দিয়ে লাশ বুঝিয়ে দেয় আব্দুল হালিম এর পরিবার।

শনিবার দুপুরে উলঙ্গ অবস্থায় রাসেলের লাশ গ্রামে পৌছালে এলাকায় শোকের মাতম পড়ে যায়। এ সময় শোকাহত পরিবারকে শান্তনা দেওয়ার জন্য নিহতের বাড়িতে শতশত লোকের ভির জমায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ গ্রামের এক গৃহবধু জানায় পীরের পরিবার নানা রকম সুযোগ সুবিধার কথা বলে ঢাকা বাসায় কাজের জন্য নিলেও সামান্য ভুল করলেই পীরের স্ত্রী ও তার ছেলের স্ত্রী নির্মমভাবে নির্যাতন করে থাকে। অতীতে একই গ্রামে লালুর মেয়ে রুমী এবং চাঁন মিয়ার ছেলে রানা নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ী চলে এসছে।

এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদুল আলম জানান, লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তথ‌্যসূত্র : ঘাটাইল ডট কম।

ঘাটাইলে জঙ্গিবাদ নির্মূলের প্রত্যয়ে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে জঙ্গিবাদ নির্মূলের প্রত্যয়ে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলার সাধুটি নজিব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এর আয়োজন করা হয়।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা উন্নয়ন) মো. আব্দুল খালেক।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম শামসুল হক, ঘাটাইল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের আজহারুল ইসলাম, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি আতা খন্দকার, টিভি অভিনেতা শাহীন নজরুল প্রমুখ।

ছোট পর্দার নতুন জুটি

বাংলাদেশের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছোট পর্দার নাটক। প্রতিনিয়তই একের পর এক নতুন নাটক আসছে টিভি পর্দায় কিংবা ইউটিউবে। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে তরুণ প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নাটকই বেশি দেখছেন দর্শকরা। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন নতুন মুখদেরও কমতি নেই।

আসছে ঈদুল আজহায়ও নতুন এক জুটিকে দেখা যাবে টিভি পর্দায়। ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে প্রথমবারের মতো দেখা যাবে স্নিগ্ধা মোমিনকে। নানা রকম আমেজের গল্পে দেখা যাবে তাদের। নাটকের নাম ‘তোমার প্রেমে বিভোর হয়ে’। এটি পরিচালনা করেছেন তাইফুর জাহান আশিক।

প্রথমবার তৌসিফের সঙ্গে অভিনয় প্রসঙ্গে স্নিগ্ধা বলেন, 'তৌসিফ আমাদের প্রজন্মের জনপ্রিয় একজন অভিনেতা। কখনো ওর সঙ্গে কাজ করা হয়নি। সেই সুযোগটা এবার হয়ে গেল। এই নাটকে রোমান্টিক জুটি হিসেবেই হাজির হচ্ছি আমরা। আসছে কোরবানি ঈদে প্রায় হাফ ডজন নাটক-টেলিছবিতে কাজ করেছি। তার ভিড়ে এই নাটকের গল্প ও নির্মাণ দর্শককে ভিন্ন মাত্রার বিনোদন দিবে বলে আমার বিশ্বাস'।

পরিচালক জানান, গেল ৯ ও ১০ আগস্ট নাটকটির শুটিং হয়েছে। রাজধানীর উত্তরাতে শুটিং হাউস আপন ঘর-৩ এ এই নাটকের দৃশ্যায়ন হয়েছে। আসছে ঈদে কোনো একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে নাটকটি প্রচারিত হবে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশংসা করলেন কমনওয়েলথ মহাসচিব

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ ও প্রশংসা করেছেন সফররত কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে কমনওয়েলথ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান আইনমন্ত্রী আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।।
তিনি বলেন, কমনওয়েলথ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে দেশের বিচার বিভাগসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কমনওয়েলথের মহাসচিব বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ যে স্বাধীনভাবে কাজ করছে, তাতে তিনি অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়েও আলাপ-আলোচনা করেছি। আইনের বিস্তার লাভ, ডিজিটাইজেশনসহ সবকিছু নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছি। বৈঠকে কমনওয়েলথকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার বিষয়ে উভয়ে একমত হয়েছেন।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, কমনওয়েলথ মহাসচিব অনুরোধ করেছেন শেখ হাসিনার সরকার বিচার বিভাগের উন্নয়নে ও দেশের উন্নয়নে যেভাবে এগিয়েছেন এটা যেন আমরা কমনওয়েলথ এর অন্য দেশগুলোর সাথে শেয়ার করি। এতে তারাও উপকৃত হবেন।
আনিসুল হক বলেন, এই সংস্থাকে (কমনওয়েলথ) শক্তিশালী করা না গেলে যে উদ্দেশ্যে এটা গঠন হয়েছে, সেটা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। এটাকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে পারলে বৈশ্বিক সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করা সম্ভব হবে।
বৈঠক শেষে কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসি সাংবাদিকদের বলেন, কমনওয়েলথ বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। কমনওয়েলথে অন্তর্ভূক্ত ৫৩টি দেশ একসঙ্গে কাজ করলে বিশ্বের একটি বিশেষ স্থান দখল করতে পারেবে।

নেপালের জলবিদ্যুৎ আসছে বাংলাদেশে

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মিটানো ও শিল্প খাতের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করতে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জলবিদ্যুৎ আমদানির ফলে দুই দেশের বন্ধুত্ব সম্পর্ক আরো জোরালো হবে। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতেতে জলবিদ্যুৎ আমদানিতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। এই স্মারকে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও নেপালের নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বর্ষা মান পুন অনন্ত।

অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার নেপাল। পাহাড়ে ঘেরা একটি ছোট দেশ। শুধু পাহাড়ই নয় রয়েছে পাহাড়ি ঝর্ণা ও পাহাড়ি নদী। যার সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতি বছর দেশ বিদেশ থেকে বহু পর্যটক ভিড় করে নেপালে। বর্তমানে  পর্যটন শিল্পে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে এই দেশ। বিশ্বের জনপ্রিয় ট্রাভেল অনলাইন পোর্টাল ট্রিপ এডভাইসরের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় ২৫টি দেশের মধ্যে ১৯তম অবস্থানে রয়েছে নেপাল। ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল ভয়াবহ ভূমিকম্পে পর্যটন শিল্প মুখ থুবড়ে পরে। যদিও তারা আশানুরূপ ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয় এবং পর্যটন শিল্পে আবার আগের রূপে ফিরে যায় এই পাহাড়ে ঘেরা দেশ।

প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে নেপাল। যদিও বর্তমানে কিছু মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে নেপাল আমদানি করলেও আর কয়েক বছরের ভিতর ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করেছে নেপাল। এবং বাংলাদেশও আমদানি করতে সক্ষম হবে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নেপাল থেকে বাংলাদেশে জলবিদ্যুৎ আমদানি, যৌথ বিনিয়োগে নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সোলার হোম সিস্টেম প্রসারে নেপালকে বাংলাদেশের সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয় স্মারক স্বাক্ষরকালে । নেপালের আপার কারনালি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করবে বাংলাদেশ।

প্রতিবেশী দেশ নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির ফলে দুই দেশের বন্ধুত্ব সম্পর্ক আরো বেশি জোরদার হবে এবং বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতেও এগিয়ে আসবে নেপাল এবং বাংলাদেশ।

বেসরকারি ২৭১ কলেজকে জাতীয়করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের ২৭১ কলেজকে সরকারি করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব নাছিমা খানম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ৮ আগস্ট থেকে এসব কলেজকে সরকারি করার আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

এর আগে সারা দেশে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ (টিটিসি), সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাসহ ৩২৭টি সরকারি কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠান ছিল। নতুন ঘোষণা আসায় সরকারি কলেজের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৯৮টি।

নতুন করে সরকারি হওয়া কলেজগুলোর মধ্যে ঢাকা জেলার ৪টি, মানিকগঞ্জের ৪টি, নারায়ণগঞ্জের ৩টি, মুন্সীগঞ্জের ৩টি, গাজীপুরের ৩টি, নরসিংদীর ৪টি, রাজবাড়ীর ২টি, শরীয়তপুরের ৪টি, ময়মনসিংহের ৮টি, কিশোরগঞ্জে ১০টি, নেত্রকোনার ৫টি, টাঙ্গাইলে ৮টি, জামালপুরে ৩টি, শেরপুরে ৩টি, চট্টগ্রামে ১০টি, কক্সবাজারে ৫টি, রাঙামাটিতে ৪টি, খাগড়াছড়িতে ৬টি, বান্দরবানে ৩টি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ফেনীতে একটি করে, কুমিল্লায় ১০টি, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া ৬টি, চাঁদপুরে ৭টি, সিলেটে ৯টি, হবিগঞ্জে ৫টি, মৌলভীবাজারের ৫টি, সুনামগঞ্জে ৮টি, রাজশাহীতে ৭টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২টি, নাটোরে ৩টি, পাবনায় ৭টি, সিরাজগঞ্জে তিনটি, নওগাঁ জেলায় ৬টি, বগুড়ায় ৬টি, জয়পুরেহাটে একটি, রংপুরে ৭টি, নীলফামারীতে ৪টি, গাইবান্ধায় ৪টি, কুড়িগ্রামে সাতটি, দিনাজপুরে ৯টি লালমনিরহাটে ৩টি, ঠাকুরগাঁয়ে একটি, পঞ্চগড়ে ৪টি, খুলনায় ৫টি, যশোরে ৫টি, বাগেরহাটে ৬টি, ঝিনাইদহে একটি, কুষ্টিয়ায় দুটি, চুয়াডাঙ্গায় দুটি, সাতক্ষীরায় দুটি, মাগুরায় ৩টি, নড়াইলে একটি, বরিশালে ৬টি, ভোলায় ৪টি, ঝালকাঠিতে ৩টি, পিরোজপুরে দুটি, পটুয়াখালীতে ৬টি, বরগুনায় তিনটি কলেজ রয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি কলেজ না থাকা উপজেলায় একটি করে কলেজ জাতীয়করণ করতে ২০১৬ সাল থেকে তালিকাভুক্তির কাজ শুরু করে সরকার। ওই তালিকা থেকে ২৭১টি কলেজ জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গত ২ আগস্ট এ সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার এটি অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরে সারসংক্ষেপটি ফের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসে। এর পর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জানা গেছে, নতুন সরকারি কলেজগুলোতে আট হাজারেরও বেশি শিক্ষক রয়েছেন। এসব শিক্ষক সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) অধীনে পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডারভুক্ত হতে পারবেন।

গত ৩১ জুলাই এ সংক্রান্ত ‘সরকারিকৃত কলেজশিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকৃত বিধিমালা ২০১৮’ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিধি অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলে বেসরকারি কলেজের যে কোনো শিক্ষক শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পদে নিয়োগ পেতে পিএসসির অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

তবে সরকারি হওয়া কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকরা নন-ক্যাডার হিসেবে নিজ নিজ পদে নিয়োগ পাবেন। তাদের চাকরি বদলিযোগ্য নয়।

ঘাটাইলে বেস্ট লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিডের কর্মী ও গ্রাহক সমাবেশ

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলে ঘাটাইলে বেস্ট লাইফ ইন্সুরেন্স লিমিটেডের কর্মী ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টায় ঘাটাইল কমিউনিটি সেন্টারে ঘাটাইল জোনাল অফিস বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মী ও গ্রাহক সমাবেশে প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক মো. শহিদুল ইসলাম লেবু।
প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খোরশেদ আলম, দ্বিতীয় বক্তা হিসাবের উপস্থিত ছিলেন, বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো.আব্দুল হালিম সিকদার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ঘাটাইল জোনাল অফিসের ডিভিশনাল কো-অর্ডিনেটর মো. শিবলু মিয়া। বিশেষ অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল পৌর মেয়র শহীদ্জ্জুামান খান ভিপি শহীদ,ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি আতা খন্দাকার,বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট খন্দকার ইব্রাহিম খলিল,ভিপি আবু সাইদ রুবেল প্রমুখ।
গ্রাহক ও কর্মী সমাবেশ পরিচালনা করেন ইকবাল হোসেন তালুকদার ।