সোমবার, জানুয়ারি ২১, ২০১৯

ঘাটাইলে প্রাণিসম্পদ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ৬০ জন সিআইজি (গাভী পালন কমন ইন্টারেস্ট গ্রুপ) সদস্যদের নিয়ে উন্নত ও আধুনিক প্রাণিসম্পদ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের কোচপাড়া, তালতলা এলাকায় উপজেলা প্রানীসম্পদ দপ্তর আয়োজিত এনএটিপি সহযোগিতায় দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসুচীতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রানীসম্পদ অফিসার (ইউএলও) আব্দুল মান্নান, ভেটেরিনারী সার্জন বাহাউদ্দিন সরোয়ার রিজবী, উপজেলা প্রাণী সম্পদ সম্প্রসারণ অফিসার অমিত সাহা প্রমুখ।

ঘাটাইলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শাহজাহান আকন্দ ফাউন্ডেশনের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান

নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল : ঘাটাইলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে শাহজাহান আকন্দ ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের মাঝে এ বৃত্তি প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী ছিলেন উপজেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। 

অনুষ্ঠানে শাহজাহান আকন্দ ফাউন্ডেশন কতৃক আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মাঝ থেকে বৃত্তি প্রাপ্ত  সপ্তম শ্রেনির ২৫ জন শিক্ষার্থী অর্থ বৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া পিএসসি ও জেএসসিতে  জিপিএ ৫ জন প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে এবং স্থানীয় নাগবাড়ি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেনিতে প্রথম থেকে তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীকে অর্থ বৃত্তি প্রদান করা হয় ।

মোঃ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, শাহজাহান আকন্দ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ শামীম মিয়া, সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন, দেউলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম. মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি খন্দকার তাহাজ্জত হোসেন সহ সভাপতি হাসান আলী. শিক্ষানুরাগী খলিলুর রহমান খোকন, আসাদুজ্জামান শাহীন প্রমূখ। 

ঘাটাইলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল ঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা মোট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জমির মাঠপর্চা, খাজনা দাখিলা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই জালিয়াতী চক্র গোপনে দাতা সেজে একজনের জমি অন্যজনের নিকট বিক্রি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে পৌর এলাকার বানিয়াপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমান বাদী হয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে ১৭ জানুয়ারি জেলা রেজিস্ট্রার ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। 
  
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঘাটাইল সাব-রেজিস্ট্রার এ কে এম রফিকুল ইসলাম এর সহযোগীতায় জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া গত ৩রা ডিসেম্বর ৯০৮৭ নং ক্রমিকে ৯০৮২/১ নং দলিল সম্পাদন করা হয় । এ দলিলের ১১০টি দাগে ৭২ শতাংশ জমির বিপরীতে ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারন করে দলিল সম্পাদন করে। এ দলিল গ্রহিতা হলেন মোছাঃ নূরজাহান, দিলরুবা ইয়াসমিন ও বিনা খাতুন এবং দাতা মোস্তাফিজুর রহমান, মিজানুর রহমান ও আতিকুর রহমান খান।  ১৬৯, ১৭০, ১৭১ নং খতিয়ানের জমি বিভিন্ন রেজিস্ট্রি দলিল মূলে প্রাপ্ত হইয়া স্বত্ববান দখল থাকাবস্থায় হাল জরিপে রেকর্ড প্রাপ্ত হয়ে জমির প্রকৃত মালিক বানিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আঃ লতিফ, লুৎফর রহমান ও লোকমান হোসেন। কিন্তু ৯০৮২/১ নং দলিল দাতা মোস্তাফিজুর রহমান গংরা দলিল লেখক আজম আলী, ভেন্ডার নজরুল ইসলাম ও অফিস স্টাফ মুক্তার হোসেনের সহযোগীতায় জাল কাগজ তৈরী করে ভূয়া দাতা সেজে দলিল সম্পাদন করে দেয়। 

বাদী লুৎফর রহমান জানায় সাবরেজিস্ট্রার এ কে এম রফিকুল ইসলামও তার প্রধান সহযোগী রাইটার আজমা আলী এবং চিনা সাক্ষী ভেন্ডার নজরুল ইসলাম ও মুক্তার হোসেন লোভের বশবর্তী হয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একজনের জমি অন্য জনের নিকট বিক্রি করে দেয়। জানা যায় ঘাটাইল মৌজার ৯নং খতিয়ানের ১১১ নং দাগের পোনে ১২ শতাংশ জমি ১৯৯৬ সনের ১১ আগষ্ট ৬৫৪৮ নং দলিলের ক্রয়সূত্রে মালিক রৌহা গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন। সেই জমিতে ২২ বছর পূর্বে বাসা বাড়ী তৈরী করে অন্য লোক বসবাস করে আসছে। ক্রয়সূত্রে মালিকের সাথে ৯০৮২/১নং দলিলের দাতা-গ্রহিতার কোন প্রকার সর্ম্পক নাই বলে জানা গেছে। অথচ সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকের যোগসাজশে দাতা মোস্তাফিজুর রহমান গংরা জাল কাগজ তৈরী করে সেই জমি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়। তাছাড়াও ঘাটাইল মৌজার ১৬২নং খতিয়ানের হাল ৬১০নং দাগের ৬ শতাংশ (বাড়ী) মালিক সাবেক কমিশনার আঃ করিম অথচ ৯০৮২/১ নং দলিলের দাতা মোস্তাফিজুর রহমান খান ও তার দুই ভাই জাল কাগজ তৈরী করে সেই ৬ শতাংশ বাড়ী অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়। 

এ বিষয়ে দলিল লেখক আজমের কিনট জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন দলিল দাতা মোস্তাফিজুর রহমান যেসব কাগজ দিয়েছে আমি সেই অনুসারে দলিল লিখে দিয়েছি। তবে কাগজপত্র জাল থাকায় দলিল লেখা ভুল হয়েছে।   

জাল কাগজের বিষয়ে ঘাটাইল সাব রেজিস্ট্রার এ কে এম রফিকুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দলিল লেখক ও ভেন্ডার নজরুলের কারনে আমার ভুল হয়ে গেছে। তবে জেলা রেজিস্ট্রারের সাথে আমি কথা বলেছি তার অনুমতি পেলে দলিল বাতিল করন সহ দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।