টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভায় সাত কোটি ৫৩ লক্ষ টাকায় বাস্তবায়িত হচ্ছে ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প। এর মধ্যে পাঁচ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঘাটাইল পৌরসভায় ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এসকল প্রকল্প এখন টেণ্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামি দুই মাসের মধ্যে এগুলো বাস্তবায়িত হবে। এদিকে একই প্রকল্পের আওতায় প্রথম কিস্তির এক কোটি ৮৪ লক্ষ টাকার ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এগুলো ‘গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’এর আওতায় বাস্তবায়িত হবে। এসকল প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে পৌর এলাকায় যোগাযোগ, ভৌত অবকাঠামো, শিক্ষা, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন হওয়ার মাধ্যমে পৌর নাগরিকগণের জীবনমানের উন্নতি ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ঘাটাইল পৌরসভা এবং সারা উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় পাঁচ কোটি ৬৯ লক্ষ ৫৯ হাজার ৪২৮ টাকা ব্যয়ে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এবং এক কোটি ৮৪ লক্ষ টাকার ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে, যেগুলো অল্প সময়ের মধ্যে জনগণের ব্যবহারের জন্য অবমুক্ত করা হবে। এগুলো ‘গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’এর আওতায় বাস্তবায়িত হবে।
পাঁচ কোটি ৬৯ লক্ষ ৫৯ হাজার ৪২৮ টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত ঘাটাইল পৌরসভায় ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হচ্ছে:
১) ৫৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রাস্তার পুরাতন বিদ্যুৎ অফিস হতে কর্না বক্স কালভার্ট পর্যন্ত ৭৯০ মিটার রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন।
২) ৮৩ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে হালুয়াপাড়া ফেরদৌসের বাড়ী হতে হালুয়াপাড়া মাদরাসা হয়ে স’মিল রোড পর্যন্ত ১০৪৫ মিটার রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন।
৩) ৬৪ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ঝরকা বাজার হতে ভানিকাত্রা ইদ্রিস ভেণ্ডারের বাড়ী পর্যন্ত ১২১৫ মিটার রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন।
৪) ৫৯ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা ব্যয়ে ফতেরপাড়া ব্রিজ হতে ফতেরপাড়া কালভার্ট পর্যন্ত ৮৭০ মিটার রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন।
৫) ৪৭ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ঘাটাইল পশ্চিমপাড়া বালা মাস্টারের বাসা হতে কুলাইতলা কালভার্ট পর্যন্ত ৭৬৫ মিটার রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন
৬) ক. ঘাটাইল-সাগরদীঘি রাস্তার চান্দশি বয়েলমিল হতে চান্দশি লতিফের বাসা পর্যন্ত ৬৭৫ মিটার রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন; খ. চান্দশি সাহেদের বাসা হতে চান্দশি দক্ষিণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যন্ত ১৩১ মিটার রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা।
৭) ক. চান্দশি ইসমাইলের বাড়ী হতে রফিকের বাসা পর্যন্ত ৬৫৩ মিটার রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন; খ. চান্দশি জোয়াদ আলীর বাসা হতে চান্দশি ছেকান্দরের বাসা পর্যন্ত ২১০ মিটার রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন; গ. চান্দশি ছেকান্দরের বাসা হতে ছালামের বাসা পর্যন্ত ১৪৮ মিটার রাস্তা আরসিসি দ্বারা উন্নয়ন। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা।
৮। ক. রতনপুর বক্স কালভার্ট হতে আফতাব উদ্দিনের বাড়ী পর্যন্ত ১৭২ মিটার রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন; খ. রতনপুর আফতাব উদ্দিনের বাড়ী হতে খিলপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত ৪৫৩ মিটার রাস্তা আরসিসি দ্বারা উন্নয়ন; গ. ঘাটাইল-জামুরিয়া রাস্তার নন্দনগাতি মোড় হতে শিমলা ব্রিজ পর্যন্ত ৩৫২ মিটার রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা।
৯। ক. ধারিয়াল মাজহারুলের বাড়ী হতে মিজানুরের বাড়ী পর্যন্ত ৪১৫ মিটার রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন; খ. ঘাটাইল-জামুরিয়া রাস্তার আলাউদ্দিনের বাড়ী হতে ধারিয়াল মসজিদ পর্যন্ত ২৬৪ মিটার রাস্তা আরসিসি দ্বারা উন্নয়ন। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা।
এছাড়া আরও যে ৫টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষের দিকে সেগুলো হচ্ছে-
১। ক. টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড হতে বাজার মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন; খ. বাজার মসজিদ হতে বাজার কালিঘর পর্যন্ত রাস্তা আরসিসি দ্বারা উন্নয়ন।
২। থানামোড় হতে চন্দবাড়ী হয়ে ঘাটাইল-সাগরদীঘি রাস্তা পর্যন্ত বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন।
৩। ঘাটাইল বাজারের মুরগী হাট হতে ফতেরপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন।
৪। ঘাটাইল-সাগরদীঘি রাস্তা হতে খরাবর ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন।
৫। ঘাটাইল-সাগরদীঘি রাস্তা হতে চান্দশি বয়েলমিল হয়ে উত্তরে দুলালের বাসা পর্যন্ত রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন।
এ ৫টি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা।
ঘাটাইল পৌরসভার রতনপুর এলাকার এস এম সাহেদ আহমেদ জানান, বর্তমান সরকারের আমলে পৌরমেয়র শহিদুজ্জামান খান শহিদ ভাইয়ের নেতৃত্বে পৌর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হচ্ছে। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডেই ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ঘাটাইল পৌরসভাটি অচিরেই একটি আধুনিক, উন্নত নাগরিক সুবিধা সমৃদ্ধ নিরাপদ বাসযোগ্য পৌরসভায় পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঘাটাইল পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় প্রথম কিস্তির ৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ পর্যায়ে। আগামি এক মাসের মধ্যে এই রাস্তাগুলোর কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে। এছাড়া একই প্রকল্পের আওতায় আরও ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়ে টেণ্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা খুব দ্রুতই বাস্তবায়িত হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সরাসরি পৌরসভার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ও বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্পূর্ণ গুণগত মান অক্ষুণ্ন রেখে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ঘাটাইল পৌরসভা মেয়র শহিদুজ্জামান খান শহিদ বলেন, ঘাটাইল পৌরবাসী অনেক স্বপ্ন ও আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জননেত্রি শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও উন্নয়নে অবিচল আস্থা রেখে আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছিলেন। আমি তারই মর্যাদা দিতে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছি। পৌর নাগরিকদের সমস্যা ও সুযোগ-সুবিধাসমুহের অগ্রাধিকার বিবেচনা করে এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হচ্ছে।
পৌর মেয়র পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে পৌর নাগরিকসহ সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে পৌর নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যপক ভূমিকা রাখবে বলে তরুণ মেয়র আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি উন্নয়ন বিষয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।