যারা মুক্তিযোদ্ধ করেনি । যারা স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সাথে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভাবে জড়িত ছিলেন, যারা ওই সময়ে ছিলেন দুর্ধর্ষ রাজাকার তারা অনেকেই এখন মুক্তি যোদ্ধা । শুধূ মুক্তিযুদ্ধাই নয় , তারা এখন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। তেমন একজন দুধর্ষ রাজাকার আঃ আজিজ ওরফে কাশেম ওরফে কাশু। এলাকায় রাজাকার কাশেম নামে সে পরিচিত। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ সব তথ্য।জানা গেছে, ঘাটাইলের চান্দশী গ্রামের মৃত বাজেতুল্লাহর ছেলে কাশেম ওরফে কাশু । তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এখন, পর্যন্ত কখনও বিএনপি কখনও জামাতের কট্টর সমর্থক। সৌভাগ্যক্রমে তিনি হয়েছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। শুধু মুক্তি যোদ্ধাই নন, তিনি ভূয়া নাম আঃ আজিজ ব্যবহার করে একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত হয়েছেন। যুদ্ধাহত হওয়ার পেছনে রয়েছে মজার গল্প। তার বাড়ি চান্দশী।
পরে ঘাটাইল ক্যান্টমেন্টের হিলিপ্যাড এলাকার বন বিভাগের মধ্যে বাড়ি করে । সংরক্ষিত বনের মধ্যে বাড়ি থাকায় কখনও মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে আবার কখনো চুরি করে তিনি এবং তার ছেলে লিটন সরকার গাছ কেটে বিক্রি করতো। তার কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে ওঠে অনেকেই। ২০০৪ সালের ঘটনা, একদিন স্থানীয় মোনার পাড়া গ্রামের কয়েকজন কাঠচোর রাতে কাঠ কাটতে এলে তাদের বাধা দেয় কাশেম । এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠচোর হামলা করে। তাকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসলে কাঠচোরের হাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় তার স্ত্রী । আর ঐ ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আঃ আজিজের হাতে দায়ের কুপ লাগে। এতে তিনিও আহত হন। তারপর থেকেই সে যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি একাধারে বিএনপি ও জামাতের কট্টর সমর্থক। ফলে সরকার বিরুধী যে কোন সমালচনা করতে ধিদাবোধ করেনা । বর্তমানে তিনি সরকারের দেয়া যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। তার দাপটে এলাকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা কোন ঠাসা হয়ে আছেন ।
ঐ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম মিয়া আক্ষেপ করে কে বলেন, এগুলো বললে কি হবে , কোন লাভ নেই। যারা অমুক্তিযোদ্ধা তাদের কাছেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মুক্তি বার্তা , লাল বই , নীল বইয়ে নাম। আর এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে আব্দুল বাছেদ ।
স্থানীয় একজন সাবেক সেনা সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, চান্দশী গ্রামের কাশেম ওরুফে কাশু কখনো মুক্তিযুদ্ধ করেনি। এটা এলাকার সবাই জানে। সে বর্তমানে যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সকল সুবিধা ভোগ করছে। তার বাড়ি পর্যন্ত ২০০ গজ ফ্রি বিদ্যুত লাইন সংযোগ নিয়েছে । বন বিভাগের জমি দখল করে বাড়ি বানিয়েছে । তার দাপটে ও উৎপাতে এলাকা বাসি অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা তদন্ত্য সাপেক্ষে অভিলম্ভে এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সকল সনদ বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন । এদিকে ওই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কাশুর ছেলে লিটন সরকার বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা কালে জাতির জনকের ছবি ছিড়ে প্রকাশ্যে প্রস্রাব করে স্থানীয় মানুষকে ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল । এঘটনায় বিস্মিত হয়েছিল স্থানীয় মানুষ ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল বাছেদ কে বলেন, আঃ আজিজ ওরফে কাশেম মুক্তিযোদ্ধা ছিল কিনা জানি না, তবে তার কাছে বঙ্গবন্ধুর সাক্ষরিত একটি সনদ দেখেছিলাম ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে লোকের পাড়া ইউনিয়নের একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, টাকা হলে সনদ এখনও পাওয়া যায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে যত গুলো কাগজ আছে তার চেয়ে বেশি আছে ভুয়ামুক্তিযোদ্ধাদের । এদিকে ২০১৩ সালের ১৭ জুন সংসদীয় কমিটির সভায় একজন যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে প্রধান করে বিগত দিনে যত সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে সে গুলো যাচাই বাচাই করে তদন্তে অসত্য তথ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধার সনদ গ্রহন কারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করা হয়।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আঃ আজিজ ওরুফে কাশেম ওরুফে কাশু বলেন, আমি ৭৩ সালে দরখাস্ত করে মুক্তিযুদ্ধা হয়েছি। আরো বলেন আমার নাম ২ টা প্রাইমারি স্কুলে ছিল কাশেম , হাই স্কুলে গেলে তৎকালিন হেড মাস্টার দোলোয়ার কাজি আঃ আজিজ নাম দিয়ে আমায় সার্টিফিকেট দিলেন । সেইথেকে আমার নাম আঃ আজিজ । বর্তমানে তিনি বিএনপি ও জাকের পার্টি সমর্থক বলে দাবি করে।
মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আব্দুল কাদের বলেন , ঘাটাইলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সাড়ে ৪ শ থেকে ৬ শ । সে খানে বর্তমানে ১১০৭ জন মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পাচ্ছেন । স্বাধীনতার পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে যারাই দায়িত্বে ছিলেন তারাই ভুয়ামুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছেন । নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘাটাইলে ৩/৪ জনের বেশী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা নেই । অথচ ৩০ জনের বেশী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পাচ্ছে।