শুক্রবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৮

ঘাটাইলে কাজী নূরুল আলম শিশু বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল : ঘাটাইলে কাজী নূরুল আলম শিশু বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘাটাইলের পাকুটিয়া পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে এপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এ পরীক্ষায় দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের প্রাথমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশু শ্রেণী থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত ৩ শত ৫০ জন শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

এসময় পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ১নং দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.রফিকুল ইসলাম খান,উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সদস্য মধুপুর আউশনারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন ভূইয়া,কালীহাতি আর এস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনুপম কুমার রায়, পাকুটিয়া পাবালিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জীবনু নিছা, কাজী নূরুল আলম শিশু বৃত্তির সভাপতি ব্যাংকার কাজী আরঙ্খজেব,কেন্দ্র সচিব ও পাকুটিয়া অক্সফোর্ড কিন্ডার গার্টেন অধ্যক্ষ সাকের আহম্মেদ,ইউপি সদস্য মো.রহিজ উদ্দিন,নুচিয়া মাহমুদপুর সরকারী স্কুলের শিক্ষক মো.শাহজাহান আলী, ভূয়াপুর কলেজের অধ্যাপক শ্যামল কান্তি পাল,পাকুটিয়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম (বি.এস.সি),মো.আব্দুল রাজ্জাকপ্রমুখ সহ আরও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবন্দ।


ডিআরইউ নির্বাচন: ইলিয়াস সভাপতি, কবির সাধারণ সম্পাদক

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে এসএ টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ইলিয়াস হোসেন সভাপতি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিনিয়র রিপোর্টার কবির আহমেদ খান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।



সেগুনবাগিচায় কার্যালয়ে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে রাতে এই ফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১৪৭৭ জন। ভোট পড়েছে ১১৪৮টি।

সভাপতি পদে ইলিয়াস হোসেন পেয়েছেন ৬৪১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী একাত্তর টেলিভিশনের মনির হোসেন লিটন পেয়েছেন ৪৯৬ ভোট। সহ-সভাপতি পদে খন্দকার কাওছার হোসেন ৪১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে কবির আহমেদ খান ৪৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াজ চৌধুরী পেয়েছেন ৪৪০ ভোট। একই পদে আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ জামাল পেয়েছেন ২৪৫ ভোট।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহসান সিপু। অর্থ সম্পাদক পদে বাংলা ভিশনের জিয়াউল হক সবুজ ৮০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বাংলাদেশের খবরের সিনিয়র রিপোর্টার আফজাল বারী ৭১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নারী বিষয়ক সম্পাদক পদে ৬৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সমকালের স্টাফ রিপোর্টার সাজিদা ইসলাম পারুল। প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৫৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল হাই তুহিন। ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৫৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন শফিকুল ইসলাম শামীম।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ৫৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এমদাদুল হক খান। এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দফতর সম্পাদক পদে জিহাদ চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে শেখ মাহমুদ এ রিয়াদ, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে এইচ এম আকতার ও কল্যাণ সম্পাদক পদে কাওসার আজম নির্বাচিত হয়েছেন।

কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৭০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জিটিভি’র মহিউদ্দিন। অন্য সদস্যরা হলেন খালিদ সাইফুল্লাহ (৬৪৬), বাদল নূর (৫৮০), নঈমুদ্দিন (৫৬৪), মাকসুদুল হাসান (৫৬৪), রাসেদুল হক (৫৩০) ও শাহাবুদ্দিন মাহাতাব (৪৩২)।

ডিআরইউ নির্বাচনের জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন নিউজ টুডের সাবেক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ। অন্য সদস্যরা হলেন বিএফইউজের সাবেক সভাপতি এম শাজাহান মিয়া, একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান বুলবুল, বাংলাদেশ প্রতিদিনের যুগ্ম সম্পাদক আবু তাহের, সাংবাদিক নেতা এম এ আজিজ ও জনকণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি উত্তম চক্রবর্তী।


ভোটের মাঠে এবার সিদ্দিকী পরিবারের মেয়ে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনায় রয়েছে টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী সিদ্দিকী পরিবার। এতদিন এ পরিবারের চার ভাইয়ের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা থাকলেও এখন যোগ হয়েছে আরও একটি নাম কুঁড়ি সিদ্দিকী। তিনি কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে। টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের এমপি প্রার্থী হয়েছেন মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী।

একই দল ও আসন থেকে বাবা-মেয়ের এ প্রার্থিতা নিয়ে সাধারণ ভোটারসহ রাজনৈতিক অঙ্গনজুড়ে রীতিমত চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম আর তার মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী সখীপুর-বাসাইল আসন থেকে ঐক্যফ্রন্টের দুই এমপি প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করে এ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন।


বুধবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্নার কার্যালয়ে তারা বাবা-মেয়ে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে ইতোপূর্বে টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপ-নির্বাচনে ঋণখেলাপী অভিযোগে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এটি দলীয় একটি বিশেষ কৌশল বলেই মনে করছেন জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এ প্রসঙ্গে কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীরপ্রতীক জানান, টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের ঐক্যফ্রন্টের এমপি প্রার্থী হিসেবে শুধু বাবা-মেয়েই মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি, আসনটির তৃতীয় প্রার্থী হিসেবে তিনিও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।


তিনি আরও জানান, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে টাঙ্গাইলসহ কয়েকটি জেলায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ৪০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে জেলার টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্তেই আসনগুলোতে একক প্রার্থী নির্ধারণ হবে বলেও জানান তিনি।

এছাড়াও টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও তার ভাই শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী।

অপরদিকে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে করছেন তাদের ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকী।

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৮

বাসাইল-সখীপুরে ১০জনের মনোনয়নপত্র দালিখ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে বুধবার (২৮ নভেম্বর) বিভিন্ন দলের ১০জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

প্রার্থীরা জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলামের কার্য়ালয়সহ নিজ এলাকায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

এরা হলেন- কৃষকশ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও তার মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী এবং দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীরপ্রতিক, আওয়ামী লীগ মনোনীত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম ভিপি জোয়াহের, জাতীয় পার্টি থেকে কাজী আশরাফ সিদ্দিকী ও রেজাউল করিম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল লতিফ, স্বতন্ত্র প্রার্থী বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী লিয়াকত আলী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি থেকে শফি সরকার।

আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ করিনা চাই ভালোবাসার রাজনীতি

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) :  টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল(৩) ঘাটাইল আসনে বর্তমান এমপি আমানুর রহমান খান রানার  পিতা আতাউর রহমান খান  কে বরন করে নিতে মানুষের ঢল নেমে আসে হাজার হাজার উৎসুক জনতা রাস্তার দুই ধারে দাড়িয়ে থাকে।

ঘাটাইল থেকে হামিদপুর পর্যন্ত নেতাকর্মীদের বিশাল মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা ছিল চোখে পড়ার মত ।সকাল থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত নেতা কর্মী জড়ো হয় জিবিজি কলেজ মাঠে এমনকি তিল ধারনের স্থান ছিল না কলেজ মোড় বিজয় একাত্তর চত্বরে। গতকাল বুধবার দুপুরে তিনি নির্বাচনী এলাকা ঘাটাইল এসে পৌছালে হাজার হাজার নেতা কর্মী  ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরন করে নেন জন¯্রােত থামাতে আইন শৃংখলা বাহিনীর হিমশীম খেতে হয়। তিনি মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে নেতা কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

এ সময় তাদের প্রার্থীকে একনজর দেখার জন্য ময়মনশিংহ টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুপাশে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত হাজার হাজার নেতা কর্মী দাড়িয়ে থাকে বাংলদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীকে  দেখার জন্য। যে হবেন সারে চার লক্ষ জনতার অভিভাবক যে আগামী দিনের ঘাটাইল কে বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিজিটাল ঘাটাইল হিসেবে রুপান্তর করার জন্য।

এ বিষয়ে ঘাটাইল থেকে আরেকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি প্রফেসর ডঃ অধীর চন্দ্র সরকার বলেন আমি নৌকার টিকেট পাইনি তাতে আমার কোন দুঃখ নেই নেত্রী যাকে নৌকার জন্য নির্বাচিত করেছেনে আমি তার জন্য সর্বদাই কাজ করে যাবো।

এময় তার ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলগের সহ-সভাপতি আলমগীর খান মেনু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আরিফ হোসেন,উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হেষ্টিংও মোতালেব হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা তানভীর রহমান,উপজেলা যুব লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম, পৌর  কাউন্সিলর শেখ মোঃ কবীর আহমেদ, যুবলীগ নেতা এস এম বাবলু, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুলাহ আল মামুন, সাধারন সম্পাদক বিদ্যুৎ সরকার, প্রমুখ। 



সাঈদী পুত্র ধানের শীষের প্রার্থী হলেন

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে আজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
সাঈদীর ছোট ভাই ইন্দুরকানি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী মনোননয়নপত্র জমার শেষ দিন বিকালে পিরোজপুর-১ আসনের জন্য রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ওই মনোনয়নপত্র জমা দেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরে শামীম সাঈদীর প্রাথমিক মনোনয়নের একটি প্রত্যয়নপত্রের ছবিও মাসুদ সাঈদী তার ফেইসবুকে দিয়েছেন।
নিবন্ধন হারানো দল জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ দাবি করেছেন, তাদের প্রার্থীরা এবার জোট শরিক বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবে।
বুধবার ঢাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোট থেকে তাদেরকে ২৫টি আসন নিশ্চিত করা হয়েছে।
পিরোজপুরে শামীম সাঈদী এবং সিলেটে জামায়াত নেতা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর নামে ধানের শীষের প্রত্যয়নপত্রের ছবি ফেইসবুকে ঘুরলেও এ বিষয়ে বিএনপির নেতাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইগো বুস্ট করতে কেউ তেল চায়, কেউ সেক্স: শ্রীলেখা মিত্র

ভারতীয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী এবার #মিটু নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরলেন লেখার মাধ্যমে। লেখাটি পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল।



হ্যাশ ট্যাগ মিটু দেশ জুড়ে প্রবল বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। সৃষ্টি করেছিলই শুধু বলব না। আংশিক ভাবে সেটা কার্যকরীও হয়েছিল। প্রভাব ফেলেছিল বা ফেলেছে বৈকি। তবে এখন এই লেখাটা বিতর্কের খাতিরে লেখা নয় বলে আমি মনে করছি। হ্যাঁ লেখা শুরু করার আগেই। ঐ খানিক স্ট্যাটুটরি ওয়ার্নিংয়ের মতো বিষয়টা।

প্রথম সন্তান মেয়ে হলে অনেককেই বলতে শুনেছি, ঘরে লক্ষ্মী এল। সেই কারণেই কিনা জানি না, বাড়িতে সবারই আদরে বেড়ে ওঠা আমি বরাবরই গোঁয়ার এবং জেদি। পেট্রিয়ার্কির ফলআউটের শিকার খুব বেশি হতে হয়নি সেকালে। আর তখন পেট্রিয়ার্কি কী, খায় না মাথায় দেয় সেই বিষয়ে ভাববার মতো বা বোঝার মতো বোধবুদ্ধিও তৈরি হয়নি। তবে হ্যাঁ, মাকে দেখেছি চিরকাল বাবাকে এবং পরবর্তী কালে আমাদের সবাইকে খানিক সমঝে চলতেন। সরি মা। ভেরি সরি। বাবা আসছে টিভি বন্ধ কর। কলেজ থেকে তাড়াতাড়ি ফিরো। আড্ডা মারতে যেও না। বাবা ফিরে এসে কিন্তু খুব অশান্তি করবে। বাড়িতে ছেলে বন্ধু আবার কেন? বিশেষ দ্রষ্টব্য, তারা কিন্তু কেউ বয়ফ্রেন্ড নয়। এরকম টুকটাক চলতেই থাকত। বাবাকে ভয় পেতাম। মাকে নয় কেন?

টিনএজ হরমোন যখন ধিতাং ধিতাং বলে শরীরে নাচতে শুরু করল, তখন থেকেই লাগল বিরোধ। সব কিছুর সঙ্গে জড়িত হল একটি বিশেষ শব্দ। কেন? ভাগ্যিস। ইয়েস আই ডু হ্যাভ আ মাইন্ড অফ মাই ওন। অ্যান্ড ইটস ইন ওয়ার্কিং কন্ডিশন। ট্রাস্ট মি। এই অ্যাটিটিউড আর প্যাশন ফর দ্য আর্ট নিয়ে আমি যুদ্ধে নামলাম অনাত্মীয় এই ইন্ডাস্ট্রিতে। গড ফাদার নয়, শুধু নিজের ফাদারকে সঙ্গে নিয়ে আউটডোর শুটে গিয়ে অভিনয় যাত্রা শুরু।

না! কোনও তিমি মাছ, হাঙর গিলতে আসেনি আমায়। শুধু কিছু চারাপোনা একটু আধটু জ্বালিয়েছিল বইকি। কিন্তু আমি চারাপোনা খাই না বলে, আমায় তারা জ্বালায়নি। হ্যাঁ, খুব বেশি হলে তাদের ছবিতে আমায় নেয়নি। কিন্তু তাতে আমার আবার অনীকদার ভাষায়, কিস্যু যায় আসে না।

জনৈক প্রোডিউসার বাবাকে ডেকে এক পার্টিতে বলেছিলেন, মিত্র সাহেব আপনার মেয়েকে হয়ত বিশেষ কারণে আমার ছবিতে কখনওই নেব না। তবে ওকে আমি খুব রেসপেক্ট করি। উত্তরে বাবা স্মিত হেসে তাঁর হাত ধরে বলেছিলেন, “বাবা হয়ে এটা আমার দারুণ প্রাপ্তি। থ্যাঙ্ক ইউ স্যার।” বিশেষ কারণটা সবিস্তারে বলতে হবে? জানি, আপনারা বুদ্ধিমান।

ফলপ্রসূ আমার বরাবরই ছবি কম। প্রচার কম। কাগজে বড় বড় ছবি ছাপা হয় কম। তাতে আবারও কিছু যায় আসে না। আসলে গোটা বিষয়টা আমার কাছে পাওয়ার স্ট্রাগল। যার যত ক্ষমতা, ক্ষমতা টাকার হোক বা কাজ দেওয়ার হোক, তার তত গর্জন। তোষামোদপ্রিয় মানুষ সর্বক্ষেত্রেই বিরাজমান। সে ইগো বুস্ট করতে কেউ তেল চায়। কেউ সেক্স। কেউ বা দুটোই। যাঁরা দেন, তাঁরা দেন। ভাল করেই দেন। যাঁরা দেন না, তাঁদের আমার মতো, কিচ্ছু যায় আসে না।

লেখিকা: শ্রীলেখা মিত্র (ভারতীয় অভিনেত্রী)

সুত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

রাজনীতির নতুন সমীকরণে মনির না রোমেল, কে নৌকার মাঝি?

শিক্ষা, সংস্কৃতি আর রাজনীতির খ্যাতি সম্পন্ন জেলা টাঙ্গাইলের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সৃষ্টি হয়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের আটটি আসনই মহাজোটের দখলে থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েই চলছে অংক কষাকষি।

পরপর দু’বার ক্ষমতায় থাকাসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুতে আওয়ামী লীগের অবস্থান শক্তিশালী হলেও অনেকটাই ঘরবন্দি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে বিএনপি। টাঙ্গাইলের বিগত সময়ে ঘরবন্দি রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে তেমন কোন কিছুই করতে পারেনি জেলা বিএনপি। এ জন্য জেলা বিএনপি’র কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা বিরোধ ও কোন্দলকেই দায়ী করেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

সরকারে থাকায় অনেকটাই নিবর-অলস সময়ই পাড় করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দলীয় ছোট-খাটো কর্মসূচির বাইরে জেলা আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ফারুক আহমেদ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতেই সরব সময় পার করেছে।

কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগমনি বার্তা থেকেই নড়ে চড়ে বসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারের বিগত সময়ে উন্নয়ন চিত্র সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আটঘাট বেধেই মাঠে নামে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। নির্বাচনী আবেশে আওয়ামী লীগ ব্যস্ত সময় কাটালেও বিএনপি’র অবস্থান ছিল খুবই নাজুক।

কিন্তু বর্তমান সরকারের সর্বদলীয় নীতির কারণে পূর্বের অবস্থান থেকে বের হয়ে আসতে বাধ্য হয় বিএনপি। গঠন হয় ঐক্যজোট। ঐক্যজোটের হাত ধরেই ধীরে ধীরে নির্বাচনের মাঠে আসে বিএনপি।

টাঙ্গাইলে এখনো বিএনপি’র বড় কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী চোখে না পড়লেও ভিতরে ভিতরে দল ও ভোটারদের গুছানোর কাজ চলছে। তবে রাজনীতির নতুন সমীকরণ চলছে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের প্রার্থীতা নিয়ে।

টাঙ্গাইলের প্রত্যেকটি আসনেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আটটি আসনে আটজনকে নৌকার মাঝি ঘোষণা করে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে মনোনয়ন বঞ্চিতরা কিছুটা নাখোশ হলেও তা ধীরে ধীরে কেটে যাওয়ার আশাই ছিল তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) ব্যতিত অন্যসব আসনে মনোনিত ও মনোনয়নবঞ্চিতদের নেতাকর্মীরা কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ শুরু করলেও নতুন সমীকরণ দেখা দিয়েছে টাঙ্গাইল-২ আসন নিয়ে।

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত অন্যতম আসামী আব্দুস সালাম পিন্টুর এই নির্বাচনী আসনটি বিএনপি’র ঘাটি খ্যাত হলেও বিগত দুই নির্বাচনে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিল আওয়ামী লীগ। তবে এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্ধিতামূলক হবে এমন ইঙ্গিতেই নির্বাচনী মাঠ নিজেদের দখলে রাখতে আটঘাট বেধেই নামে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করে জনসমর্থন তৈরি করতে সক্ষম হয় জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভির হাসান ছোট মনির। অন্য প্রার্থী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও ব্যতিক্রমধর্মী কাজের কারণে তৃণমূলে শক্ত অবস্থান তৈরি করে। কিন্তু বাধ সাথে বর্তমান এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামানের পুত্র খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল। প্রথম দিকে মাঠে তেমন একটা দেখা না গেলেও শেষ সময়ে এসে তিনিও মাঠে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে। নির্বাচনী মাঠে দেখা দেয় নতুন সমীকরণের। দলীয় নেতাকর্মীরা শুরু থেকেই বিভক্ত থাকলেও শেষ দিকে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অধিকাংশই। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ সামনে আসে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কৌশলের অংশ হিসেবে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভির হাসান ছোট মনিরকে নৌকার মাঝি ঘোষণা করা হয়। এসময় তার সমর্থকরা মিষ্টি বিতরণ করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করে পুরোদমে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এ নির্বাচনে বিএনপি’র ঘাটি খ্যাত এ আসনটির জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আওয়ামী লীগের শক্ত প্রার্থীর বিকল্প নেই এমন ভাবনা থেকেই জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভির হাসান ছোট মনির পক্ষেই একাট্ট্রা হতে শুরু করে নেতাকর্মীরা। কিন্তু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনই ঘটে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। কেন্দ্র থেকে এ আসনে বর্তমান এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামানের পুত্র খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল কেও মনোনয়ন দেওয়া হয়। এ খবরে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। আবারো বিভক্ত হয়ে যায় নেতাকর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন নৌকার কান্ডারি এ বিষয়টি টক অব দা টাউনে পরিণত হয়।

জনসাধারণে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। তানভির হাসান ছোট মনিরই কি নৌকার মাঝি? নাকি তাকে বাদ দিয়ে বর্তমান এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামানের পুত্র খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেলকে নৌকার মাঝি করা হয়েছে এ প্রশ্ন ঘুরপাকখায় দিনব্যাপি। কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা না থাকায় দুপক্ষই নিজেদের পক্ষে জোর অবস্থান নেয়। এনিয়েই শুরু হয় রাজনৈতিক নতুন সমীকরণ।

শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি? এই প্রশ্নেই স্থানীয় আওয়ামী লীগে এই সমিকরণ দেখা দিয়েছে। তবে এ প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব।

তবে এই আসনটির বিজয় ধরে রাখতে শক্তিশালী প্রার্থীর বিকল্প নেই বলেও অভিমত প্রকাশ করেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি জনসমর্থন ও মাঠে শক্ত অবস্থান আছে এমন প্রার্থী যদি বাছাইয়ে কোন প্রকার ভুল হয় তাহলে আসনটি আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের উপরই আসনটিতে নৌকার জয় পরাজয় নির্ভর করছে বলেও নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন। যাকেই শেষ পর্যন্ত নৌকার মাঝি করা হোক না কেন দলীয় বিভেদ ও বিরোধ দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে না পারলেও নির্বাচনে তার প্রভাব পড়বে বলেও মনে করছেন তারা।

বুধবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৮

একই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন কাদের সিদ্দিকী ও মেয়ে

টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম ও তার মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী। বুধবার বিকেলে মনোনয়নপত্র জমার শেষদিনে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমানের কার্যালয়ে তারা উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।



এ সময় টাঙ্গাইল জেলা কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সহ-সভাপতি আবদুল হালিম সরকার, উপজেলা কমিটির সভাপতি আতোয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মীর জুলফিকার শামীম, স্থানীয় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মোহাম্মদ হাবীব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

একই আসনে তিনি এবং তার মেয়ের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের উদ্দেশ্যেই মেয়ের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আমি ব্যাংকের যথেষ্ট পরিমাণ টাকা পরিশোধ করেছি। যতক্ষণ এই সরকার থাকবে ততক্ষণ আমার নির্বাচন করা নিয়ে নানা রকম আলোচনা থাকবে। তারপরও সরকার যদি গায়ের জোরে কিছু করে এ নিয়ে কিচ্ছু আসে যায় না। এরপরও যদি সরকার আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করে তাহলে এ আসনে আমার মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার যত চেষ্টাই করুক তাদের হাত সংকুচিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কাজী আশরাফ সিদ্দিকী ও কেন্দ্রীয় কমিটির এনজিও বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আবদুল লতিফ মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী লিয়াকত আলী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

ইত্তেফাক/বিএএফ

ঘাটাইলে নৌকার প্রার্থী আতাউর রহমানের মনোনয়নপত্র দাখিল

রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল: বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতাকর্মীর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বুধবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসন থেকে নৌকা প্রতিকের মনোনয় পত্র দাখিল করলেন আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান। সহকারী রিটার্নিং অফিসার দিলরুবা আহমেদ এর কাছে মনোনয়ন পত্র জমা দেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামু, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলমগীর খান মেনু, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ও সমৃদ্ধ ঘাটাইল এর আহ্বায়ক প্রফেসর ডঃ অধীর চন্দ্র সরকার, ঘাটাইলের প্রয়াত এমপি’র ছেলে ও আওয়ামী লীগ নেতা তানভীর রহমান, ষ্টাফ অফিসার মোঃ মাহমুদুল আলম, ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান হেষ্টিং ও মোতালেব হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কানিজ ফাতেমা, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগ নেতা এসএম বাবলু ছাড়াও বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আটজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতাউর রহমান, বিএনপি’র প্রার্থী মাইনুল ইসলাম ও লুৎফর রহমান খান আজাদ, ঐক্যফ্রন্টে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী আব্দুর রশিদ মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা রেজাউল করিম, তরিকত ফেদারেশনের প্রার্থী মো. আবু হানিফ, বিএনএফ’র প্রার্থী আতাউর রহমান খান বড় ভাই, জাকের পার্টির প্রার্থী মো. খলিলুর রহমান।

মনােনয়ন পত্র বাছাই আগামী ২ ডিসেম্বর, ৯ ডিসেম্বর প্রত্যাহার, ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বিতরণ, ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ।

টাঙ্গাইল-৩: মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন শিল্পপতি মাইনুল ইসলাম

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) নির্বাচনী আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা শিল্পপতি মাইনুল ইসলাম। 

বুধবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে স্থানীয় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দিলরুবা আক্তারের হাতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তিনি।  

এর আগে গতকাল বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাত থেকে মনোনয়নের চিঠি নেন মাইনুল ইসলাম। 

এদিকে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় উপস্থিত সাংবাদিকদের ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, ‘দেশনেত্রীকে কারাগারে বন্দি করে সরকার গোটা দেশের গণতন্ত্রকেই বন্দি করে রেখেছে। আমরা সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। জনগণ এবার গণতন্ত্র না ফিরিয়ে ঘরে ফিরবে না।’

গতকাল মনোনয়নের চিঠি হাতে পাওয়ার পরই বিকেলেই নিজের নির্বাচনী এলাকায় যান তিনি। এসময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা দলের মনোনয়ন পাওয়ায় তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনিও সবাইকে অতীতের মতোই আগামী দিনেও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। 

এর আগে গত ১৩ নভেম্বর টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) নির্বাচনী আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন শিল্পপতি মাইনুল ইসলাম। ১৫ নভেম্বর বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর হাতে মনোনয়ন ফরম জমা দেন তিনি। 

টাঙ্গাইল-৩ ঘাটাইল আসন আট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

মোঃ নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল : মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে টাঙ্গাইল ৩- ঘাটাইল আসনে আটজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

সকালে সহকারী রিটারনিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বিএনপি প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদ। বিকালে সহকারী রিটারনিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আতাউর রহমান খান।

এর আগে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা সহকারে তাকে উপজেলা সদরে নিয়ে আসে। মনোনয়নপত্র দাখিলকারি অন্যান্যরা হলেন, মো.আ. রশিদ মিয়া (কৃষক শ্রমিক জনতালীগ), মো.মাইনুল ইসলাম(বিএনপি), মাওলানা রেজাউল করিম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. আবু হানিফ  (তরিকত ফেডারেশন), আতাউর রহমান খান বড় ভাই ( বিএনএফ), মো. খলিলুর রহমান (জাকের পার্টি)।

টাঙ্গাইলে আইনজীবী ফরহাদ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

জাহাঙ্গীর আলম, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলে আইনজীবী ফরহাদ আলী হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে জেলা এডভোকেট বার সমিতির উদ্যোগে বুুুধবার (২৮ নভেম্বর) বেলা ১১ টায় আদালত চত্ত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন পালিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা এডভোকেট বার সমিতির সভাপতি এডভোকেট ফারুক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক এডঃ মোঃ শামস উদ্দিন, পিপি এডঃ এস আকবর খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবু, টাঙ্গাইল এডভোকেট বার সমিতির লাইব্রেরী সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সিকদার, ক্রীড়া সম্পাদক তোফায়েল আহম্মেদ।

বক্তারা ফরহাদের হত্যাকারীদের সাত দিনের মদ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে টাঙ্গাইল জেলা এডভোকেট বার সমিতি বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেবেন বলে জানান।

উল্লেখ্য: জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এডভোকেট ফরহাদ আলীকে তার নিজ বাড়ী ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘি বেতুয়া গ্রামে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার চাচাত ভাই শফিকুল ইসলাম শফিক পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

ঘাটাইলে বাংলা একাডেমি অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বাংলা একাডেমি অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গত ২৭ ও ২৮ নভেম্বর দুই দিনব্যাপি শিক্ষা পদ্ধতি বিষয়ক এক আর্ন্তজাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উইজডম ভ্যালিতে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সময়ের উপযোগী শিক্ষা পদ্ধতি ও বিশ্বের উন্নত শিক্ষার সম্প্রসারণে এ সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমি অস্ট্রেলিয়ার পরিচালক আনোয়ার আকাশ। যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলা একাডেমি অস্ট্রেলিয়া ও বেসরকারি সংস্থা নির্মান সংগঠনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান উইজডম ভ্যালি।

সেমিনারে স্থানীয় পেশাজীবী, যুব সমাজ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সুধীজনদের নিয়ে উন্নত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে মত বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। উইজডম ভ্যালি স্কুলের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি রেজাউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নূরুল ইসলাম। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন উইজডম ভ্যালির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ কামাল হোসেন, উপাধক্ষ্য মেহেরুন্নাহার,ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সহ সভাপতি খান ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুজ্জামান মিঞা, নির্মান সংগঠনের পরিচালক জাহাঙ্গীর হেসেন, ইউআরসি ইনস্ট্রাক্টর রাজিয়া সুলতানা প্রমূখ। সেমিনার শেষে অংশ গ্রহনকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরন করা হয়। 

উল্লেখ্য বাংলা একাডেমি অস্ট্রেলিয়ার পরিচালক আনোয়ার আকাশ বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছেন। বাঙ্গালির শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া সহ প্রায় ৪০টি দেশে সময় উপযোগী শিক্ষাবার্তা পৌঁছে দিতে কাজ করছেন।

কালিহাতীতে ক্ষোভে আ.লীগের প্রার্থী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে

দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষোভে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগদান করেছেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ সদস্য ও কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরির্ববতন ডটকমের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী নিজেই।

জানা যায়, গত রোববার লিয়াকত আলী জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগদান করেন। যোগ দেওয়ার পর তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন।

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী ও  বর্তমান সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী ছাড়াও আরো তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দল সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারীকে মনোনয়ন দেয়।

দলের মনোনয়ন না পাওয়ায় দল বদল করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন বলে তার সমর্থকরা জানান।

এ ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী পরির্ববতন ডটকমকে বলেন, কয়েক বছর ধরে নিজ উদ্যোগে কালিহাতীতে কাজ করছি। প্রতিটি গ্রামে আমার শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। নেত্রীর কথায় আমি মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠে নেমেছিলাম। কিন্তু  আমার মতো একজন সৎ এবং নিষ্ঠাবানকে মূল্যায়ন না করে আরেকজনকে  মনোনয়ন দেন। তাই আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়ায় এবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগদান করেছি। পরে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম লিয়াকত আলীর যোগদান এবং তাদের দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৮

টাঙ্গাইলে শিশু হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড


টাঙ্গাইলে জুয়েল নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার দায়ে আবদুর রহিম (৩৭) নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ মো. শওকত আলী চৌধুরী এই রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুর রহিম টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের বিল মাগুরআটা গ্রামের মো. হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।

টাঙ্গাইল আদালতের পিপি এস আকবর খান জানান, ২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে বিল মাগুরআটা গ্রামের শহিদুর রহমানের ছেলে জুয়েল (৬) ওই গ্রামেই ধর্মসভায় (ওয়াজ মাহফিল) গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে পার্শ্ববর্তী পিচুরিয়া গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে জুয়েলের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে নিহত জুয়েলের মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি দণ্ডিত রহিমকে গ্রেফতার করে। রহিম শিশু জুয়েলকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। তারপর থেকে সে কারাগারে আছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী আতাউর রহমান আজাদ এ মামলায় বাদীপক্ষকে আইনগত সহায়তা দেন।

খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথ আটকে গেল?

বিচারিক আদালতে দুই বছরের বেশি সাজা হলে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।



দুর্নীতির দায়ে বিচারকি আদালতের দেয়া দণ্ড ও সাজা (কনভিকশন অ্যান্ড সেন্টেন্স) স্থগিত চেয়ে আমান উল্লাহ আমানসহ বিএনপির পাঁচ নেতার করা আবেদন খারিজের রায়ে এ আদেশ দেয়া হয়।

আদালতের এই আদেশের ফলে দুই দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথও আটকে গেল।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল বা স্থগিত করে তাকে জামিন দেয়।

বিএনপি নেতা আমান উলাহ আমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান ও মো. আব্দুল ওহাবের পক্ষে দণ্ড ও সাজা বাতিলের ওই আবেদন করা হয়েছিল।

বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে অতীতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার নজির থাকায় তারাও একইভাবে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে আশা করছিলেন বিএনপি নেতারা।

কিন্তু বিএনপির পাঁচ নেতার আবেদন খারিজের রায়ের সঙ্গে হাই কোর্টের দেয়া পর্যবেক্ষণে সেই পথ বন্ধ হয়ে গেল বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

তবে বিএনপি নেতাদের আইনজীবীরা বলেছেন, তারা হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে যাবেন।

টাঙ্গাইল-৩ আসনে ধানের শীষের চিঠি পেলেন মাইনুল ইসলাম

আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) টাঙ্গাইল আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন চিঠি পেয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা শিল্পপতি মাইনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তার হাতে মনোনয়ন চিঠি তুলে দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এসময় কার্যালয়ের বাইরে তার নির্বাচনী এলাকার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মনোনয়ন চিঠি হাতে পাওয়ার পর নেতাকর্মীরা উল্লাস করেন।

গত ১৩ নভেম্বর টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) নির্বাচনী আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন শিল্পপতি মাইনুল ইসলাম। ১৫ নভেম্বর বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর হাতে মনোনয়ন ফরম জমা দেন তিনি। 

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘সব সময়ই ঘাটাইলবাসীর পাশে ছিলাম, আছি এবং আগামীদিনেও থাকতে চাই। ইনশাল্লাহ, জননন্দিত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই আসনটি উপহার দিতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি নির্বাচন যাচ্ছে। দেশের মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, শান্তি চায়। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চায়। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে একক সংখ্যাগরিষ্টতা পাবে দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি।’

গোপালপুর আসনে মনোনয়ন চিঠি পেলেন দুই ভাই

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন চিঠি পেয়েছেন দুই সহোদর যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা।

সোমবার (২৬ নভেম্বর) রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে এচিঠি দেয়া হয়। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা এ চিঠি গ্রহণ করেন।

১৩ নভেম্বর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আব্দুস সালাম পিন্টু এবং তার দুই সহোদর যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফার জন্য টাঙ্গাইল-২ ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট হামলা মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-২ আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু এবং নাশকতার মামলায় বিএনপির ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কারাগারে রয়েছেন।

অভিমত : অপরাধের পুরস্কার!

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা অনেক দিন ধরেই বলে আসছিলেন, কোনো বিতর্কিত, নিন্দিত ও সমালোচিত সাংসদ মনোনয়ন পাবেন না। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারাই মনোনয়ন পাবেন। কিন্তু গত রোববার মনোনয়ন ঘোষণার পর দেখা যাচ্ছে, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সব বিতর্কিত ব্যক্তিরাই দলের মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, লোকলজ্জার ভয়ে যে দুজন অতি বিতর্কিত ও নিন্দিত সাংসদকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিতে পারেনি, সান্ত্বনা হিসেবে সেই মনোনয়ন তাঁদের পরিবারেই রেখে দিয়েছে। বাইরে যেতে দেয়নি। এই দুই সাংসদ হলেন কক্সবাজার-৪ আসনের (টেকনাফ-উখিয়া) আবদুর রহমান ওরফে বদি ও টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আমানুর রহমান খান ওরফে রানা।

টাঙ্গাইলে আমানুরের জায়গায় মনোনয়ন পেয়েছেন তাঁর বাবা আতাউর রহমান খান, বয়স আশির কাছাকাছি। আর কক্সবাজারের আবদুর রহমান বদির জায়গায় তাঁর প্রথম স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরী (দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে অনেক আগে বদির ছাড়াছাড়ি হয়েছে, না হলে হয়তো মনোনয়নটিও ভাগ করে দিতে হতো)। তাঁদের রাজনৈতিক-সামাজিক পরিচয় যা-ই থাকুক না কেন, একজন খুনের মামলার চার আসামির পিতা, আরেকজন ইয়াবা গডফাদার হিসেবে পরিচিত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকার শীর্ষে নাম থাকা ব্যক্তির স্ত্রী। শুধু বদি নন, তাঁর পাঁচ ভাই, ভাগনে, বেয়াই, ফুফাতো ভাইসহ বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির নামও আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায়।

টাঙ্গাইল-৪ আসনে সাংসদ আমানুর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যার আসামি হিসেবে এখন কারাগারে। তিনি সংসদে উপস্থিত না হয়েও শুধু সাংসদ পদ রাখার জন্য পলাতক অবস্থায় হাজিরা খাতায় সই দিয়ে যেতেন। খুনের মামলার আসামি অপর তিন ভাই পলাতক, যাঁদের দুজন বিদেশে। অথচ পুলিশ পাঁচ বছরেও তাঁদের খুঁজে পায়নি। ২০১৩ সালে মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের নেতা ফারুক আহমেদ খুন হন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে চেয়েছিলেন, আমানুরের ভাইও ওই পদপ্রত্যাশী ছিলেন। আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ একবার আসামি আমানুরকে দেখে বলেছিলেন, ‘আমরা তোকে সন্তানের মতো দেখতাম, আর তুই আমাকে বিধবার শাড়ি পরালি!’ নাহার এখনো বিচারের আশায় আদালতে ধরনা দেন, আর নানা বাহানায় মামলার তারিখ কেবল পিছিয়ে যায়।

ধর্মের কথা হলো, পিতার অপরাধের জন্য পুত্রকে দায়ী করা যাবে না। কিন্তু এখানে পুত্রের অপরাধের জন্য পিতাকে পুরস্কৃত করা হলো। মনোনয়ন পাওয়া পিতার চার পুত্রই খুনের আসামি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব অন্তত মামলার বিচার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম ওরফে লেবু বলেছেন, ‘ফারুক হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠায় যাঁরা এত দিন পালিয়ে ছিলেন, এখন আবার তাঁরা প্রতাপ দেখাবেন। পলাতক আসামিরাও ফিরে আসবেন।’

অন্যদিকে কক্সবাজার-৪ আসনের সাংসদ আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াও নানা অভিযোগ আছে। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় কাজ করেছেন এমন সরকারি কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, শিক্ষক কম পাওয়া যাবে, যাঁরা তাঁর হাতে প্রহৃত হননি। কিন্তু এই ‘সাহসী পুরুষই’ দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে সৌদি আরবে যান ওমরার নাম করে। সে সময় টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের নেতা একরামুল বন্দুকযুদ্ধে মারা গেলে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

আমানুরের বাবা আতাউর রহমান সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা। অবসর নেওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও কখনো নেতৃত্বে আসেননি। জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হয়েছেন সাংসদপুত্রের কল্যাণে। এবার সেই সাংসদপুত্র জেলে থাকায় একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নও পেয়ে গেলেন। আর কক্সবাজারের শাহীন আক্তার ২০০৮ সালে স্বামী বদির ছায়া প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কেননা, নারী প্রার্থী হিসেবে অন্দরমহলে স্বামীর পক্ষে প্রচার চালাতে পারতেন। তিনি ভোট পেয়েছিলেন ৬৭৬। এবারে স্বামীর সুবাদে ‘আসল প্রার্থী’ হলেন আওয়ামী লীগের টিকিট নিয়ে। এই সৌভাগ্য কজনের হয়?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২০ নভেম্বর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছিলেন, বদি ও রানার পরিবর্তে তাঁদের পরিবারের ভেতরেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, ‘ঘরে কি সবাই অপরাধী, আপনি অপরাধী হলে কি সবাই অপরাধী বা পরিবারের সব লোক খারাপ? বদি সম্পর্কে যে কন্ট্রোভার্সি আছে, তার কোনো প্রমাণ আছে? কন্ট্রোভার্সি থাকায় অলটারনেটিভ বেছে নিয়েছি।’ এর মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিলেন, ঘরে ‘অপরাধী’ আছে। আর সেই অপরাধের ‘পুরস্কার’ হলো আওয়ামী লীগের ‘দুর্লভ’ মনোনয়ন।

টাঙ্গাইলে চালকের আসনে খান পরিবার

এক সময় টাঙ্গাইল আওয়ামী লীগের মেরুদণ্ড বলা হতো খান ও সিদ্দিকী পরিবারকে। সাধারণ মানুষ এ দুই পরিবারকে বাঘ ও সিংহের খেতাবও দিয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জৌলুস হারাতে থাকেন তারা। বর্তমানে এ দুই পরিবারই কোণঠাসা। আবির্ভাব ঘটেছে নতুন নেতৃত্বের। ১৯৬৪-৬৫ সালে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী করটিয়া সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদে ভিপি নির্বাচিত হন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের লড়াকু সৈনিকের ভূমিকায় থাকার সুবাদে সত্তরের নির্বাচনে টাঙ্গাইল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। একাত্তরে দেশমাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে আওয়ামী লীগের টিকিটে ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে এমপি হন লতিফ সিদ্দিকী।

অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জায়গা দখল করে নেন। এভাবে টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে প্রতাপশালীতে পরিণত হন সিদ্দিকী পরিবারের এ দুই ভাই। ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ ছেড়ে কাদের সিদ্দিকী গড়ে তোলেন ‘কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ’। দুই ভাই আজাদ ও মুরাদ সিদ্দিকীও কাদের সিদ্দিকীর অনুসারী হন। একমাত্র লতিফ সিদ্দিকী থেকে যান আওয়ামী লীগে। ২০০১ সালের নির্বাচনে ‘গামছা প্রতীকে’ টাঙ্গাইল-৮ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়ে উত্তাপ ছড়ান জাতীয় সংসদে। ২০০৯ সালের পর ক্ষমতায় না থেকেও টাঙ্গাইলসহ জাতীয় রাজনীতিতে আলোচিত নাম ছিল সেই বাঘা কাদের সিদ্দিকীর। সিদ্দিকী পরিবারের কথায় চলত টাঙ্গাইলের রাজনীতি। কিন্তু বর্তমান চিত্রটা উল্টো। ২০১৪ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে হজ ও মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করে লতিফ সিদ্দিকী সংসদ সদস্য পদ, মন্ত্রিত্ব থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্য পদও হারিয়েছেন। প্রায় ১০ বছর সংসদের বাইরে আছেন কাদের সিদ্দিকী। অনেকর ধারণা ছিল লতিফ সিদ্দিকীকে পুনরায় দলে নেয়া হবে এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন। কিন্তু তা আর হলো না। এ ছাড়াও মুরাদ সিদ্দিকীর আওয়ামী লীগে যোগদান নিয়ে আলোচনা চলছিল অনেকদিন আগে থেকেই। শেষ পর্যন্ত তাও আর হয়ে উঠছে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমেই আওয়ামী রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে সিদ্দিক পরিবারকে। 
অপরদিকে আওয়ামী লীগে খান পরিবারের আবির্ভাব ঘটে শামসুর রহমান খান শাহজাহানের মাধ্যমে। তিনি ১৯৫৪ থেকে ৫৬ সালে পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৬৫ থেকে ৬৬ সাল পর্যন্ত টাঙ্গাইল মহকুমা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭০, ১৯৭৩, ১৯৭৯ এবং ১৯৮৬ সালে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৫ সালে শামসুর রহমান খান শাহজাহান টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তার ভাতিজা রানা, বাপ্পি, মুক্তি, কাঁকনের রাজনীতিতে আবির্ভাব ঘটে। ২০০২ সালে শামসুর রহমান খান শাহজাহান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হলে টাঙ্গাইলে ভাতিজাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরো সুদৃঢ় হয়। টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে শামসুর রহমান রহমান খান শাহজাহান বিএনপি প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদের কাছে হ্যাটটিক পরাজিত হলে এ আসনে শাহজাহান অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। ২০০৮ সালে মনোনয়ন দেয়া হয় ডা. মতিয়ার রহমানকে। ডা. মতিয়ারের মাধ্যমেই ২৪ বছর পর আসনটি পুনরুদ্ধার করে আওয়ামী লীগ। ২০০৪ সালের ৫ই জানুয়ারি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক থেকে পুনরায় টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয় শামসুর রহমান খান শাহজাহানকে। ২০১১ সালের ২রা জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন তিনি। খান পরিবারের দায়িত্বে থাকেন রানা, মুক্তি, কাঁকন ও বাপ্পা। ২০১২ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ডা. মতিউর রহমান মারা গেলে উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চান খান পরিবারের উত্তরসূরি তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আমানুর রহমান খান রানা। কিন্তু উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান শহীদুল ইসলাম লেবু। মনোনয়ন বঞ্চিত রানা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দল থেকে বহিষ্কার হন। ওই উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন আমানুর রহমান খান রানা। পুনরায় দলে জায়গা করে নেন তিনি। ২০১৪ সালে দলীয় টিকিট পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। খান পরিবারের আধিপত্য আরো জোরালো হয়। আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার মাধ্যমে এ আধিপত্যের পতন শুরু হয়। সেই মামলায় ২০১৪ সালের ১১ই আগস্ট গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় আনিসুল ইসলাম রাজা। মোহাম্মদ আলী নামের আরেকজন গ্রেপ্তার হয় একই বছরের ২৪শে আগস্ট। তারা দু’জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ফারুক আহমদ হত্যাকাণ্ডে খান পরিবারের চার ভাই জড়িত বলে তারা আদালতকে জানান। পরে পুলিশ খান পরিবারের চার ভাইকে গ্রেপ্তার করতে অভিযানে নামে। কিন্তু এর আগেই তাঁরা আত্মগোপনে চলে যান। সংসদ সদস্য রানা ২০১৬ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। সেই সময় থেকে তিনি কারাগারে আছেন। ২০১৭ সালের ১৬ই জানুয়ারি সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র শহিদুর রহমান খান মুক্তি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা ও ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে ১১ বছর পর ২০১৫ সালের ১৮ই অক্টোবর সম্মেলনের মাধ্যমে ফজলুর রহমান খান ফারুককে সভাপতি ও এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা আওয়ামী লীগের যে কমিটি গঠন করা হয় তাতে স্থান হয়নি সিদ্দিক পরিবারের। তবে আমানুর রহমান খান রানার বাবা আতাউর রহমান খানকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য করা হয়। একাদশ সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে রানার পরিবর্তে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আতাউর রহমান খানকে। আর এ মনোনয়নের মাধ্যমে টাঙ্গাইল আওয়ামী লীগে খান পরিবার টিকে রইলো। বিদায় নিলো সিদ্দিক পরিবার। এ বিষয় নিয়ে টাঙ্গাইলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলতে গেলে কেউই মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রথম সারির কয়েকজন নেতা বলেন, টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে খান পরিবারের দরকার আছে। আর এ বিষয়টি চিন্তা করেই দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা আতাউর রহমান খানকে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন। 

ঘাটাইল আসনে ২ প্রার্থীকে বিএনপির চিঠি

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন চিঠি দেয়া দিচ্ছে বিএনপি। ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল আসনে ২ জন প্রার্থীকে দলীয় চিঠি দিয়েছে বিএনপি।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে) বিএনপির চিঠি পেয়েছেন । তারা হলেন-

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ শিল্পপতি মাঈনুল ইসলাম ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা চারবারের সাবেক এমপি ও সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ।
উল্লেখ্য, এই আসনটিতে ১৯৭০, ১৯৭৩ ও ১৯৮৬ সালে সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপির চাচা আওয়ামী লীগের শামসুর রহমান খান শাহজাহান নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে নির্বাচিত হন বিএনপির শওকত ভুইয়া। ১৯৮৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সাইদুর রহমান খান মোহন এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে শামসুর রহমান খান শাহজাহান আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেলেও বিজয়ী হতে পারেননি। পর পর চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ। ১৯৯১ ও ২০০১ বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

১২৪ আসনে ২০৯ জনকে ধানের শীষের টিকিট

কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দিয়ে মনোনয়ন চিঠি ইস্যু শুরু করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে প্রার্থীদের এই চিঠি দেয়া হচেছ।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের কাছ থেকে বগুড়া-৬ আসনে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়ন চিঠি গ্রহণ করেন ভিপি সাইফুল ইসলাম। এরপর বগুড়া-৭ আসনে তার জন্য আরেকটি মনোনয়ন চিঠি গ্রহণ করেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান লালু।

এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বিভাগের নেতাদের ধানের শীষ প্রতীকের টিকিট ইস্যু করা হয়। বেশিরভাগ আগনে একাধিক প্রার্থী রেখে চিঠি দেয়া হচ্ছে। এতে বেশিরভাগই পুরনো মুখগুলোকে দেখা গেছে।

রাত পর্যন্ত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে লড়াইয়ের জন্য ১২৪টি আসনে মনোনয়ন চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। এতে প্রার্থী তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন ২০৯ জন। তারা হলেন—

ঢাকা সিটি

ঢাকা-২ আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা-৩ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ সালাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-৫ নবীউল্লাহ নবী, ঢাকা-৬ আবুল বাশার, ঢাকা-৮ মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৯ হাবীব-উন নবী সোহেল, ঢাকা-১৩ আবদুস সালাম।

ঢাকা বিভাগ

নরসিংদী-১ খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ সানাউল্লাহ মিয়া,

খুলনা বিভাগ

ঝিনাইদহ-১ জয়ন্ত কুমার কুন্ডু/অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান/মো. আব্দুল ওহাব, ঝিনাইদহ-২ আব্দুল মজিদ/এমএম মশিউর রহমান, ঝিনাইদহ-৩ কণ্ঠশিল্পী মনির খান/মেহেদী হাসান রনি, ঝিনাইদহ-৪ সাইফুল ইসলাম ফিরোজ/শহীদুজ্জামান বেল্টু।


মেহেরপুর-১ মাসুদ অরুণ, মেহেরপুর-২ জাবেদ মাসুদ মিল্টন/আমজাদ হোসেন।

সিলেট বিভাগ

সিলেট-২ তাহসিনা রুশদীর।

মৌলভীবাজার-২ সুলতান মুহাম্মদ মনসুর (ঐক্যফ্রন্ট)।



বরিশাল বিভাগ

বরিশাল-১ জহিরউদ্দিন স্বপন/আবদুস সোবহান, বরিশাল-২ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল/শরফুদ্দিন সান্টু/শহিদুল হক জামাল, বরিশাল-৩ অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন/সেলিমা রহমান, বরিশাল-৪ মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ/রাজীব আহসান, বরিশাল-৫ মজিবর রহমান সারোয়ার/এবাইদুল হক চাঁন, বরিশাল-৬ আবুল হোসেন খান/অধ্যাপক রশীদ খান।

বরগুনা-১ মতিউর রহমান তুলুকদার ও নজরুল আসলাম মোল্লা, বরগুনা-২ নুরুল ইসলাম মনি।

পটুয়াখালী-১ এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী/তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ শহিদুল আলম তালুকদার/সালমা আলম, পটুয়াখালী-৩ গোলাম মওলা রনি/হাসান মামুন/মো. শাহাজান, পটুয়াখালী-৪ এবিএম মোশাররফ হোসেন/মনিরুজ্জামান মনি।

ভোলা-১ ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি), ভোলা-২ হাফিজ ইব্রাহিম/রফিকুল ইসলাম মনি, ভোলা-৩ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ/কামাল হোসেন, ভোলা-৪ নাজিমুদ্দিন আলম/মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন।

ঝালকাঠি-১ ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, ঝালকাঠি-২ রফিকুল ইসলাম জামাল/ইসরাত জাহান ইলেন ভুট্টো/জেবা আলম খান।

পিরোজপুর-১ জোটের শরিকদের জন্য, পিরোজপুর-২ ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান (লেবার পার্টি), পিরোজপুর-৩ রুহুল আমিন দুলাল/শাহজাহান মিয়া।

রংপুর বিভাগ

পঞ্চগড়-১ ব্যারিস্টার নওশাদ জমির/তৌহিদুল ইসলাম, পঞ্চগড়-২ জাহিদুর রহমান/ফরহাদ হোসেন আজাদ/তাসমিয়া প্রধান (জাগপা)।

ঠাকুরগাঁও-১ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঠাকুরগাঁও-২ মো. আবদুস সালাম/জুলফিকার মুর্তজা চৌধুরী তুলা, ঠাকুরগাঁও-৩ জাহিদুর রহমান/জিয়াউল ইসলাম জিয়া।

দিনাজপুর-১ মঞ্জুরুল ইসলাম/মামুনুর রশীদ, দিনাজপুর-২ লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান/সাদিক রিয়াজ, দিনাজপুর-৩ জাহাঙ্গীর আলম/মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, দিনাজপুর-৪ হাফিজুর রহমান সরকার/আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫ এজেডএম রেজওয়ানুল হক/এসএস জাকারিয়া বাচ্চু, দিনাজাপুর-৬ মো. লুৎফর রহমান/সাহিদুল ইসলাম শাহীন।

নীলফামারী-১ রফিকুল ইসলাম/ন্যান্সি রহমান কবির, নীলফামারী-২ শামসুজ্জামান জামাল/কাজী আক্তার জামান, নীলফামারী-৩ ফাহমিদা ফয়সাল কমেট চৌধুরী, নীলফামারী-৪ কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন/আমজাদ হোসেন।

লালমনিরহাট-২ সালাউদ্দিন হেলাল, লালমনিরহাট-৩ আসাদুল হাবিব দুলু।

রংপুর-১ মোশাররফ হোসেন সুজন, রংপুর-২ ওয়াহিদুজ্জামান মামুন/মোজাফফর আলী, রংপুর-৩ রিটা রহমান (পিপিবি)/মোজাফফর আহমদ, রংপুর-৪ এমদাদুল হক ভরসা, রংপুর-৫ সোলায়মান আলম/ডা. মমতাজ, রংপুর-৬ সাইফুল ইসলাম।

কুড়িগ্রাম-১ মো. সাইফুর রহমান রানা/তার স্ত্রী শামীমা রহমান আপন, কুড়িগ্রাম-২ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ/আবু বকর সিদ্দিক, কুড়িগ্রাম-৩ তাজভীরুল ইসলাম/আবদুল খালেক, কুড়িগ্রাম-৪ আজিজুর রহমান/মুখলেছুর রহমান।

গাইবান্ধা-১ খন্দকার জিয়াউল ইসলাম/মাজহারুল ইসলাম, গাইবান্ধা-২ আহমদ খান, গাইবান্ধা-৩ অধ্যাপক ডা. মঈনুল হাসান সাদিক, গাইবান্ধা- ৪ ফারুক আলম।

রাজশাহী বিভাগ

জয়পুরহাট-১ ফয়সাল আলিম/ফজলুর রহমান, জয়পুরহাট-২ ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা/আবু ইউসুফ খলিলুর রহমান।

বগুড়া-১ কাজী রফিকুল ইসলাম/মোহাম্মদ শোকরানা, বগুড়া-৩ আব্দুল মুহিত তালুকদার/মাসুদা মোমেন, বগুড়া-৫ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ/জানে আলম খোকা, বগুড়া-৬ খালেদা জিয়া, বগুড়া-৭ খালেদা জিয়া।

নাটোর-১ কামরুন নাহার শিরিন/তাইফুল ইসলাম টিপু, নাটোর-২ সাবিনা ইয়াসমিন/রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৩ দাউদ আর মাহমুদ/আনোয়ার হোসেন আনু, নাটোর-৪ আবদুল আজিজ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ শাহজাহান মিয়া/বেলাল ই বাকী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আনোয়ারুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আবদুল ওয়াহেদ/হারুনুর রশীদ।

নওগাঁ-১ ডা. ছালেক চৌধুরী/মাসুদ রানা/মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ সামসুজ্জোহা খান/খাজা নজীবুল্লাহ চৌধুরী, নওগাঁ-৩ পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি/রবিউল আলম বুলেট, নওগাঁ-৪ শামসুল আলম প্রামাণিক/ডা. ইকরামুল বারি টিটো, নওগাঁ-৫ জাহিদুল ইসলাম/নাজমুল হক সনি, নওগাঁ-৬ আলমগীর কবির/শেখ রেজাউল ইসলাম।

রাজশাহী-১ ব্যারিস্টার আমিনুল হক, রাজশাহী-২ মিজানুর রহমান মিনু/সাঈদ হাসান, রাজশাহী-৩ শফিকুল হক মিলন/মতিউর রহমান মন্টু, রাজশাহী-৪ আবু হেনা/আবদুল গফুর, রাজশাহী-৫ নাদিম মোস্তফা/নজরুল মন্ডল, রাজশাহী-৬ আবু সাঈদ চাঁদ/নুরুজ্জামান খান মানিক।

সিরাজগঞ্জ-১ কনক চাঁপা/নাজমুল হাসান রানা, সিরাজগঞ্জ-২ রোমানা মাহমুদ/ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সিরাজগঞ্জ-৩ ভিপি আইনুল হক/আবদুল মান্নান তালুকদার, সিরাজগঞ্জ-৪ (২০ দল), সিরাজগঞ্জ-৫ আমিরুল ইসলাম খান আলিম/রকিবুল করিম খান পাপ্পু, সিরাজগঞ্জ-৬ কামরুদ্দিন ইয়াহিয়া খান মজলিস/ডা. এমএ মুহিত।

পাবনা-২ একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৩ কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা-৪ হাবিবুর রহমান হাবিব/সিরাজুল ইসলাম, পাবনা-৫ অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

চট্টগ্রাম বিভাগ

নোয়াখালী-১ ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ জয়নাল আবেদীন ফারুক, নোয়াখালী-৪ মোহাম্মদ শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নোয়াখালী-৬ ফজলুল আজিম।

লক্ষ্মীপুর-১ শাহাদাত হোসেন সেলিম (এলডিপি), লক্ষ্মীপুর-২ আবুল খায়ের ভুইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, লক্ষ্মীপুর-৪ আশরাফ উদ্দিন নিজাম।

ফেনী-১ খালেদা জিয়া, ফেনী-২ ভিপি জয়নাল, ফেনী-৩ আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

কক্সবাজার-১ হাসিনা আহমেদ, কক্সবাজার-৩ লুৎফর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ মো. সালাহ উদ্দিন/শাহজাহান চৌধুরী।

রাঙ্গামাটি- দীপেন দেওয়ান/মনি স্বপন দেওয়ান

বান্দরবন: সাচিন ক্রু জেরি/উম্মে কুলসুম সুলতানা

ময়মনসিংহ বিভাগ

ময়মনসিংহ-৪ ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।

তফসিল অনুসারে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, ২ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাই ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারিত রয়েছে ৯ ডিসেম্বর।



নৌকার যত মাঝির হাতে ধানের শীষ

এক সময়ের ডাকসাইটে অনেক আওয়ামী লীগ নেতা এবার বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। তারা এক সময় কঠর সমালোচনায় মুখর থাকতেন বিএনপির বিরোদ্ধে .

গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বেশ কয়েকজন নৌকার মাঝির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র। গণফোরামের ব্যানারে ধানের শীষ নিলেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী এবং দলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়াও মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তফা মহসীন মন্টু, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদসহ আরও কয়েকজন ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পাচ্ছেন। এই তালিকায় গতকাল যুক্ত হলেন গোলাম মাওলা রনি। তিনি পটুয়াখালী-৩ আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে অর্থনীতিবিদ রেজাকিবরিয়া সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়বেন। গণফোরামের পক্ষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে হবিগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী তিনি। ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।



এক সময়ের মাঠ কাঁপানো ছাত্র নেতা নৌকার হাল ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে বগুড়া-২ আসনে ধানের শীষে মনোনয়ন পাচ্ছেন তিনি। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এক সময়ের প্রতাপশালী এই ছাত্রনেতা দায়িত্ব পালন করেছেন ডাকসুর ভিপি হিসেবে। ধানের শীষ প্রতীকে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচন করবেন তিনি। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে এমপি নির্বাচিত হন মোস্তফা মহসীন মন্টু। এ ছাড়া পালন করেছেন যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। পরে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ছেড়ে গণফোরাম গঠন করেন। ধানের শীষ প্রতীকে এবার ঢাকার যে কোনো একটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন তিনি।বিএনপিতে যোগ দিলেন রনি : বিএনপিতে যোগ দিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি। গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই যোগদানের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের মাঝে এসেছেন দেশের একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা, কলামিস্ট ও তরুণ সমাজের প্রিয়মুখ গোলাম মাওলা রনি। আমাদের এই কঠিন সময়ে, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে তার এই যোগদান নিঃসন্দেহে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। ’ এ সময় গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত স্বজ্ঞানে সুস্থ শরীরে সুস্থ মনে চিন্তাভাবনা করে আমার দল আওয়ামী লীগ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করলাম। আমি সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে এই দলকে এবং এই দলের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী আদর্শের সেবা করব। তারই মাধ্যমে দেশের মানুষের সেবা করতে আমি এই দলে এসেছি। ’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন এবং তিনি আপনাকে তার ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপিতে যোগদানের জন্য। ’ এ সময়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, শামা ওবায়েদ, নাসির উদ্দিন অসীম প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

চার কারণে পেছালো আ'লীগের প্রার্থী ঘোষণা

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জোটের মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা পিছিয়েছে কৌশলগত কারণে।



দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে মূলত চারটি কারণে প্রার্থীর নাম ঘোষণায় দেরি করা হচ্ছে। কারণ চারটি হল:

১. প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী দেখে তাকে মোকাবিলা করতে পারবেন— এমন প্রার্থী দেওয়া,

২. দলের ও জোটের নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীতা রোধ করা,

৩. দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে খুব কমসংখ্যক আসনে অধিকতর যাচাই-বাছাই করা এবং

৪. ঋণখেলাপী বা অন্য কোনও কারণে কারও মনোনয়ন বাতিল হলে সেখানে অন্য কাউকে প্রার্থী করার সুযোগ তৈরি রাখা। সোমবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ৩০০ আসনে দল এবং জোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার কথা ছিল। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা কৌশলে মার খেতে চাই না, কৌশলে এগিয়ে যেতে হবে। এতে আমরা কারও থেকে পিছিয়ে থাকতে চাই না। কৌশলগত, টেকনিক্যাল বিষয়গুলো বিবেচনার আছে। আরও যাচাই-বাছাইয়ের পর এই তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।’

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, সংবাদ সম্মেলনের আগে ওবায়দুল কাদের গণভবনে গিয়ে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। সে আলোচনাতেই তালিকা পরে প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, আগে-ভাগে প্রার্থীদের চিঠি দেওয়ায় যারা চিঠি পাননি তাদের অনেকেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এখন আগে-ভাগেই চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা করলে সেটা আগুনে ঘি ঢালা হবে। আর তাছাড়া প্রার্থী আগে থেকেই জানা থাকলে অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নিতে পারেন। তাই তালিকা ঘোষণা করতে সময় নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির কৌশলী মনোনয়ন

কৌশলী মনোনয়ন ঘোষণা করেছে বিএনপি। শরিকদের জন্য পর্যাপ্ত আসন রেখে গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিছু আসনের এবং আলাদা ভাবে কিছু আসনের প্রার্থীদের কাছে মনোনয়নপত্র হস্তান্তর করা হয়। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অনেকে নিজের এলাকায় টেলিফোন করে নেতা-কর্মীদের কাছে মনোনয়নপত্র গ্রহণের কথা জানান।

আজ আরও কিছু আসনে প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়নপত্র তুলে দেওয়া হবে। সবমিলিয়ে পুরো মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বিশেষ কৌশলী অবস্থান বজায় রেখেছে বিএনপি। রবিবার রাত থেকেই অনানুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মনোনয়ন ফরম নিতে শুরু করেন বিএনপি নেতারা। একদিকে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তিনটি আসনে মনোনয়নের কথা জানানো হলেও গোপনে সেখানেও আলাদা প্রার্থী রাখছে দলটি। বেগম খালেদা জিয়া কোনোভাবে নির্বাচনে অংশ না নিতে পারলে এসব প্রার্থী সামনে চলে আসবেন। এর বাইরে বেশ কিছু আসনে দুই বা ততধিক প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে মনোনয়ন। এর আগে গতকাল বিকালে মনোনয়ন ঘোষণা প্রক্রিয়ার একেবারে শুরুতে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারান্তরীণ থাকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিএনপি মহাসচিব। সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীরাও এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ সময় মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আজকে যখন আমি আপনাদের সামনে এসেছি, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে, এই প্রথম আমরা একটা নির্বাচন অংশ নিতে চলেছি আমাদের চেয়ারপারসনকে ছাড়া।’ কান্না চাপতে না পেরে একপর্যায়ে তিনি টিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন এবং পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ মোছেন। পরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) কারাগারে। সরকারের প্রচণ্ড প্রতিহিংসামূলক মামলা ও কলা-কৌশলে তাকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। আমরা দেশনেত্রীর মনোনয়নপত্র তাঁর প্রতিনিধিদের কাছে তুলে দিয়ে এই কার্যক্রমের সূচনা করছি।’ এমন পরিস্থিতিতেই বগুড়া-৬ ও ৭ এবং ফেনী-১ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা ঘোষণার মাধ্যমে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপির যেসব প্রার্থী গতকাল পর্যন্ত মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন নিচে তাদের নাম দেওয়া হলো। তবে গতকাল রাত ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম চলছিল। আজ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করা হবে।

রংপুর বিভাগ : পঞ্চগড়-১ ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, পঞ্চগড়-২ ফরহাদ হোসেন আজাদ/ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, ঠাকুরগাঁও-১ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঠাকুরগাঁও-৩ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, জয়পুরহাট-১ ফয়সাল আলীম/ ফজলুর রহমান, জয়পুরহাট-২ আবু ইউসুফ খলিলুর রহমান/ গোলাম মোস্তফা, দিনাজপুর-১ মঞ্জুরুল ইসলাম/মামুনুর রশিদ, দিনাজপুর-২ সাদিক রিয়াজ পিনাক/বজলুর রশিদ, দিনাজপুর-৩ সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ হাফিজুর রহমান সরকার/আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫ রেজোয়ানুল হক ও জাকারিয়া বাচ্চু, দিনাজপুর-৬ লুত্ফর রহমান মিন্ট/ শাহিন মণ্ডল, রংপুর-১ মোকারম হোসেন সুজন, রংপুর-২ ওয়াহেদুজ্জামান মামুন/ মোহাম্মদ আলী সরকার, রংপুর-৩ রিটা রহমান/মোজাফফর হোসেন, রংপুর-৪ এমদাদুল হক ভরসা, রংপুর-৫ সোলাইমান আলম ফকির/ ডা. মমতাজ, রংপুর-৬ সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী-১  রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, নীলফামারী-২ মনিরুজ্জামান মন্টু/শামসুজ্জামান জামান, নীলফামারী-৩  সৈয়দ আলী, নীলফামারী-৪  আমজাদ হোসেন সরকার/বেবী নাজনীন, গাইবান্ধা-১ খন্দকার জিয়াউল ইসলাম/মোজাহারুল ইসলাম, গাইবান্ধা-২ মাহমুদুন্নবী টিটুল/আহাদ আহমেদ, গাইবান্ধা-৩ ডা. মইনুল হাসান সাদিক, গাইবান্ধা-৪ ওবায়দুল হক/ফারুক আলম, গাইবান্ধা-৫ হাছান আলী/ ফারুক কবীর, কুড়িগ্রাম-১ সাইফুর রহমান রানা/শামীমা রহমান আপন, কুড়িগ্রাম-২ সোহেল হাসনাইন কায়কোবাদ ও আবু বকর সিদ্দিক, কুড়িগ্রাম-৩ তাসভীর-উল-ইসলাম/আবদুল খালেক, কুড়িগ্রাম-৪ মোখলেছুর রহমান/আজিজুর রহমান, লালমনিরহাট-১ ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান এবং লালমনিরহাট-৩ আসাদুল হাবিব দুলু। রাজশাহী বিভাগ : বগুড়া-৬  বেগম খালেদা জিয়া, বগড়া-৭ বেগম খালেদা জিয়া, বগুড়া-১ মো. শোকরানা, বগুড়া-৪ ডা. জিয়াউল হক মোল্লা, বগুড়া-৫ জি এম সিরাজ, রাজশাহী-১ ব্যারিস্টার আমিনুল হক, রাজশাহী-২ মিজানুর রহমান মিনু/সাঈদ হাসান, রাজশাহী-৩ মতিউর রহমান মন্টু/শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ আবু হেনা/মো. আবদুল গফুর, রাজশাহী-৫ নাদিম মোস্তফা, নজরুল মণ্ডল, রাজশাহী-৬ আবু সাঈদ চান/নুরুজ্জামান খান মানিক, সিরাজগঞ্জ-১ নাজমুল হাসান তালুকদার রানা/কনকচাঁপা, সিরাজগঞ্জ-২ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু/রুমানা মাহমুদ, সিরাজগঞ্জ-৩ আবদুল মান্নান তালুকদার, সিরাজগঞ্জ-৫ আমিরুল ইসলাম খান আলীম/রফিকুল করিম খান পাপ্পু/মেজর (অব.) আবদুল্লাহ আল মামুন, সিরাজগঞ্জ-৬, ড. এম এ মুহিত/কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিশ, নাটোর-১ তাইফুল ইসলাম টিপু/ অধ্যক্ষ কামরুন নাহার শিরীন, নাটোর-২  রহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু/সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, নাটোর-৩ দাউদ আর রহমান/আনোয়ার হোসেন আনু, নাটোর-৪ আবদুল আজিজ, পাবনা-২ এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৩ : কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা-৪ : হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা-৫ শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নওগাঁ-১ ডা. সাদেক চৌধুরী/ মোস্তাফিজুর রহমান/ মাসুদ রানা, নওগাঁ-২ শামসুজ্জোহা খান/খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী, নওগাঁ-৩  রবিউল আলম বুলেট/পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি, নওগাঁ-৪ : শামসুল আলম প্রামাণিক ও ডা. ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ জাহিদুল ইসলাম ধলু ও নাজমুল হক সনি, নওগাঁ-৬ আলমগীর কবীর/রেজাউল ইসলাম রেজু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া/বেলাল বাকী ঈদ্রিসী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আমিনুল ইসলাম এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ হারুনুর রশিদ/আবদুল ওয়াদুদ। বরিশাল বিভাগ : বরিশাল-১ জহিরউদ্দিন স্বপন/আবদুস সোবাহান, বরিশাল-২ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল/সরদার শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু/শহীদুল হক জামাল, বরিশাল-৩ অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন/বেগম সেলিমা রহমান ও বরিশাল-৪ রাজীব আহসান/ মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, বরিশাল-৫ মজিবর রহমান সরোয়ার/ এবাদুল হক চান, বরিশাল-৬ আবুল হোসেন খান/রশীদ খান, ঝালকাঠি-১ ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর বীরউত্তম, ঝালকাঠি-২ রফিকুল ইসলাম জামাল/ইসরাত জাহান ইলেন ভুট্টো/জেবা খান, পিরোজপুর-৩ রুহুল আমিন দুলাল/শাহজাহান মিলন, বরগুনা-১ মতিউর রহমান তালুকদার/নজরুল ইসলাম মোল্লা, বরগুনা-২ অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম মনি, পটুয়াখালী-১ এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী/সুরাইয়া আক্তার চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ শহিদুল আলম তালুকদার/সালমা আলম, পটুয়াখালী-৩ গোলাম মাওলা রনি/হাসান মামুন/মোহাম্মদ শাহজাহান খান, পটুয়াখালী-৪ এ বি এম মোশাররফ হোসেন/মনিরুজ্জামান মনির, ভোলা-২ হাফিজ ইব্রাহিম/ রফিকুল ইসলাম মনি, ভোলা-৩ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ/কামাল হোসেন এবং ভোলা-৪ নাজিমউদ্দিন আলম/নূরুল ইসলাম নয়ন। চট্টগ্রাম : ফেনী-১ বেগম খালেদা জিয়া, ফেনী-২ জয়নাল আবেদীন ভিপি, ফেনী-৩ আবদুল আউয়াল মিন্টু, নোয়াখালী-১ ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ জয়নুল আবদিন ফারুক, নোয়াখালী-৩ মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৪ বরকতউল্লা বুলু, নোয়াখালী-৫ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নোয়াখালী-৬ ফজলুল আজিম, লক্ষ্মীপুর-২ আবুল খায়ের ভুইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, লক্ষ্মীপুর-৪ আশরাফ উদ্দিন নিজান। ঢাকা বিভাগ : ঢাকা-২ আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা-৩ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ সালাউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-৫ নবীউল্লাহ নবী, ঢাকা-৬ আবুল বাশার, ঢাকা-৮  মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৯ হাবিব উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা-১৩ আবদুস সালাম, নরসিংদী-১ খায়রুল কবির এবং নরসিংদী-৩ সানাউল্লাহ মিয়া। সিলেট বিভাগ : সিলেট-২ তাহসিনা রুশদীর লুনা। খুলনা বিভাগ : ঝিনাইদহ-১ অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ/আবদুল ওয়াহাব, ঝিনাইদহ-২ অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ/ এস এম মশিউর রহমান, ঝিনাইদহ-৩ মেহেদী হাসান রনি/মনির খান, ঝিনাইদহ-৪ সাইফুল ইসলাম ফিরোজ/শহিদুজ্জামান বেল্টু, মেহেরপুর-১ মাসুদ অরুণ এবং মেহেরপুর-২ আমজাদ হোসেন।

সোমবার, নভেম্বর ২৬, ২০১৮

৬টি আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ১৩

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনে ১৩ জনকে ধানের শীষের প্রাথমিক মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে বিএনপি।

সোমবার বিকেলে ঢাকার গুলশান কার্যালয়ে বরিশাল বিভাগের বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত নেতাদের হাতে চিঠি হস্তান্তর করা হয়।


বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ১৩ জনকে ধানের শীষের প্রাথমিক মনোনয়নের চিঠি দিয়েছে বিএনপি। আসনে একাধিক প্রার্থী রাখা হলেও যথাসময়ে প্রতিটি আসনে একজন করে প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।

বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন সান্টু ও সাবেক এমপি শহিদুল হক জামাল।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিমা রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান সুুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন।

বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসনে মনোনয়ন পান কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মেজবাহউদ্দিন ফরহাদ। এ আসন থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসানকেও প্রার্থী রাখা হয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান এমপি পংকজ নাথকে।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে দলের যুগ্ম মহাসচিব মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চানকে।



বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসন থেকে দুইজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তারা হলেন- বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান ও সাবেক এমপি আব্দুর রশিদ খান।

একই আসনে একাধিক প্রার্থী রাখার বিষয়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, এটা দলের একটা কৌশল হতে পারে। যথাসময়ে প্রতিটি আসনে একজন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।