সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮

ঘাটাইলে তৃণমূল আওয়ামী লীগের কর্মী সমাবেশ


মাসুম মিয়া, ঘাটাইল : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু’র নেতৃত্বে তৃণমূল আওয়ামী লীগের এক কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঘাটাইল বাস স্ট্যান্ড চত্বরে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা “শহীদুল ইসলাম লেবুকে এমপি হিসাবে দেখতে চাই” ব্যানার ও ফেস্টুন সহকারে সমাবেশে যোগদান করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রহিম। বক্তব্য রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার শাহজাহান, হেকমত সিকদার , মো. হায়দার আলী, শরিফ হোসেন, একাব্বর আলী, ঘাটাইল পৌরসভার প্যানেল মেয়র লিটন সরকার, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সরোয়ার আলম রুবেল, জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ভিপি আবু সাইদ রুবেল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কান্ডারী ও তৃণমূল আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগী নেতা হচ্ছেন শহীদুল ইসলাম লেবু। লেবুই দীর্ঘদিন ধরে দলকে সুসংগঠিত করেছেন। তাকে বাদ দিয়ে অন্য কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে তৃণমূলের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা তা মেনে নিবেন না।

বক্তারা আরো বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে এ আসনে মনোনয়ন দেয়ার জন্য প্রধান মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন।

ঘাটাইলে ইউএনওর সাথে ক্রাইম রিপোর্টাস সোসাইটি’র সৌজন্য সাক্ষাৎ


আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল : ওয়ার্ড হিউম্যান রাইটস ক্রাইম রিপোর্টাস সোসাইটি ঘাটাইল উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহম্মেদের সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎ ও ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ২৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্ড হিউম্যান রাইটস ক্রাইম রিপোর্টাস সোসাইটি ঘাটাইল উপজেলা শাখার সভাপতি এস কে সরকার সুকুমার, সহ- সভাপতি অবসর প্রাপ্ত মেলেটারী মান্নান মিয়া, মো. জাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেম্বার মো. এবাদত হোসেন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক মো.হাবিবুর রহমান, নির্বাহী সদস্য ফেরদৌস, মো. সুজন প্রমুখসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ঘাটাইলে ড্রাগন ফল চাষে সাফল্য


খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল: ঔষধি গুণে ভরপুর বিদেশি এক ফলের নাম ড্রাগন ফল। ক্যান্সার থেকে শুরু করে ডায়াবেটিসসহ নানা রোগের মহাঔষধ হিসেবি ব্যবহার হয় এটি। এ ফল দেখতে যেমন লোভনীয় খেতেও তেমন সুস্বাদু। ঔষধিগুণে গুণান্বিত, রসালো এবং মুখরোচক এই ড্রাগন ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে লাভবান হয়েছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মিনহাজ মিয়া।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের ফুলমালীর চালা গ্রামের মিনহাজ মিয়া নিজ উদ্যোগে তৈরি করেছেন ভিয়েতনামের ড্রাগন ফলের বাগান। দীর্ঘদিনের ইচ্ছা শক্তি থেকেই তিনি প্রায় তিন বছর আগে ৩০০ শতাংশ জমির উপর এই ফলের বাগান তৈরি করেন।

তার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি ড্রাগন ফলের গাছে শোভা পাচ্ছে বিদেশি এই ফল। ফলটি পাকার পর অত্যন্ত মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়। ক্যান্সার ও ডায়বেটিস সহ বিভিন্ন রোগের জন্য অত্যন্ত উপকারী এই ফল। মিনহাজ মিয়ার তিন একর বাগানে তেরোশ ৪০ টি ড্রাগন ফলের গাছ রয়েছে। প্রায় সব গাছেই ফল এসেছে। গত বছর তিনি প্রতি কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি করেছেন ৩ থেকে ৪ শত টাকা। চলতি বছরে তিনি সাড়ে তিন হাজার কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি করেছেন। যার থেকে দাম পেয়েছেন প্রায় ১২ লাখ টাকা। তিনি আশা করেন আগামী বছর তার বাগার থেকে প্রায় ১০ হাজার কেজি ড্রাগন ফল বিক্রি করবেন। এভাবে ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত ফল আসতে থাকবে বলে তিনি জানান।

মিনহাজ মিয়া আরো বলেন, ‘এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ভেষজ ফল। আমি অন্যান্য কৃষি কাজের পাশাপাশা এই ফল বাগানের পরিচর্যা করে থাকি। এই ফল এখন অত্যন্ত লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। আমার এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন লোকজন আসে ড্রাগন ফলের বাগান দেখতে।’

ড্রাগন ফলের গাছ মূলত কাণ্ড থেকে হয়। এই ফল চাষ করার জন্য অতিরিক্ত কোনও রাসায়নিক সার বা কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। শুধু মাত্র জৈব সারই যথেষ্ট। গাছ লাগানোর প্রায় ছয় মাস পর থেকে ফল আসতে শুরু করে এবং ফলের বয়স ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হয়।

বর্তমানে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় এ ফল বেশ জনপ্রিয় খাবার হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের স্বপ্ন, ডেইলি নিডস, আগোরাসহ অনেক বড় বড় শপিংমল বাগান থেকেই পাইকারী দরে এই ফল কিনে নেন।

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, ‘উপজেলার একজন আদর্শ কৃষক মিনহাজ মিয়া। তিনিই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ঘাটাইলে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। তাছাড়া পাহাড়ি এলাকার মাটি ড্রাগল ফল চাষের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। আমরা সবসময় মিনহাজ মিয়াকে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করে আসছি।’

লোকেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানকে সালাম না দেয়ায় বাদিকে মারধর


রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লোকের পাড়া ইউনিয়নের নলছোপা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মামলা করায় এবং ইউপি চেয়ারম্যানকে সালাম না দেয়ার অজুহাতে বাদী খলিলুর রহমানকে পিটিয়ে আহত করেছেন বিবাদীর ছেলে লোকেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ হোসেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে নলছোপা গ্রামের তিনরাস্তা মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, লোকেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ হোসেন এর মা তাহমিনা আক্তার নলছোপা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যাবহার করে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। তিনি কতৃপক্ষের অনুমতি ও টেন্ডার ছাড়াই স্কুল পরিচালনা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে ভবন মেরামতের কাজ করেন। এমনকি ছেলে চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাজু আহমেদ, সহকারী শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার ও আনোয়ারা খাতুনকে সাথে নিয়ে চলতি বছরের ১৯ শে এপ্রিল ভবনের ৮০ফিট লম্বা ৩৬ ফিট প্রশস্ত ও ৬০ফিট বারান্দা সহ চৌচালা টিনশেট ভবনের সকল পুরাতন টিন, ঘরের দরজা-জানালা টেন্ডার ছাড়াই গোপনে বিক্রি করে দেন। পরে স্কুলের ঘর বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে সকল টাকা আত্মসাৎ করেন।

এইসব অনিয়মের বিরুদ্ধে নলছোপা গ্রামের বাসিন্দা ও স্লিপ কমিটির সভাপতি খলিলুর রহমান বাদী হয়ে গত ২২ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহমেদ এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। চারমাসেও সেই অভিযোগের প্রতিকার না হওয়ায় খলিলুর রহমান গত ২৯ আগষ্ট টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ঘাটাইল থানা আমলী আদালতে দুইজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। এর জের ধরে ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ হোসেন ও সাঙ্গপাঙ্গরা ক্ষিপ্ত হয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী খলিলুর রহমানকে একা পেয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করে।

দুর্নীতির বিষয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে না জানিয়ে ইউপি সদস্য রাজু আহমেদ ঘরের সকল টিন ও দরজা জানালা গোপনে বিক্র করে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

বাদী খলিলুর রহমানকে মারধরের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ হোসেন জানান, তাকে সালাম না দেওয়ায় দুচারটি চরথাপ্পর দেওয়া হয়েছে।

টেন্ডার ছাড়া স্কুলের টিন বিক্রির অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহমেদ এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সঠিক তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন এখনও পাইনি। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।