বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৬

পা দিয়ে লিখে সেই চান মিয়া পেল “এ” গ্রেড

মো. মাসুম মিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক, আমাদের ঘাটাইল ঃ 
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ছাত্র সেই চাঁন মিয়া এবার প্রাথমিক সমাপনী (পিএসসি) পরিক্ষায় পা দিয়ে লিখে ৪.২৫ পেয়ে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার এ সফলতায় বাবা-মা, আত্বীয়-স্বজন ও শিক্ষক সহ সবাই অনেক খুশি।  

এ সফলতায় তার মা রতœা বেগম বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্বেও ছেলে যে ফলাফল করেছে তা দেখে আমি খুশিতে আত্তহারা। তার বাবা বিদেশ থেকে ফোন করে ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরো উৎসাহ দিয়েছেন। তাই আমাদের ইচ্ছা ছেলে যতোদিন পড়ালেখা করতে চায় ততোদিন আমরা তার লেখাপড়া চালিয়ে যাবো। লেখাপড়া শিখে সে স্বাভলম্বী হোক এটাই আমাদের কামনা। প্রতিবন্ধী চাঁন মিয়ার স্বপ্ন লেখা পড়া করে বড় হয়ে শিক্ষক হবে।

ঘাটাইল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল বারী খান বলেন, এবছর আমার বিদ্যালয় থেকে প্রথম প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নেয়। তাদের ফলাফল অত্যন্ত সন্তুষ জনক। তাদের এ সাফল্যে আমি আনন্দিত। বিদ্যালয়ের এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশাকরি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন জানান,  প্রতিবন্ধী হিসাবে তার এ অর্জন অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের লেখা পড়ায় উৎসাহ যোগাবে বলে আমি আশাকরি। দোয়া করি তার এ সফলতা অব্যহত থাকুক। তার লেখাপড়ার পুরো দায়িত্বটাই জেলা প্রশাসক মহোদয় নিয়েছেন। 

পা দিয়ে লিখে সেই চান মিয়া পেল “এ” গ্রেড

মো. মাসুম মিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক, আমাদের ঘাটাইল ঃ 
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ছাত্র সেই চাঁন মিয়া এবার প্রাথমিক সমাপনী (পিএসসি) পরিক্ষায় পা দিয়ে লিখে ৪.২৫ পেয়ে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার এ সফলতায় বাবা-মা, আত্বীয়-স্বজন ও শিক্ষক সহ সবাই অনেক খুশি।  

এ সফলতায় তার মা রতœা বেগম বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্বেও ছেলে যে ফলাফল করেছে তা দেখে আমি খুশিতে আত্তহারা। তার বাবা বিদেশ থেকে ফোন করে ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরো উৎসাহ দিয়েছেন। তাই আমাদের ইচ্ছা ছেলে যতোদিন পড়ালেখা করতে চায় ততোদিন আমরা তার লেখাপড়া চালিয়ে যাবো। লেখাপড়া শিখে সে স্বাভলম্বী হোক এটাই আমাদের কামনা। প্রতিবন্ধী চাঁন মিয়ার স্বপ্ন লেখা পড়া করে বড় হয়ে শিক্ষক হবে।

ঘাটাইল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল বারী খান বলেন, এবছর আমার বিদ্যালয় থেকে প্রথম প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নেয়। তাদের ফলাফল অত্যন্ত সন্তুষ জনক। তাদের এ সাফল্যে আমি আনন্দিত। বিদ্যালয়ের এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশাকরি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন জানান,  প্রতিবন্ধী হিসাবে তার এ অর্জন অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের লেখা পড়ায় উৎসাহ যোগাবে বলে আমি আশাকরি। দোয়া করি তার এ সফলতা অব্যহত থাকুক। তার লেখাপড়ার পুরো দায়িত্বটাই জেলা প্রশাসক মহোদয় নিয়েছেন। 

ঘাটাইল মুকুল একাডেমি স্কুলের বার্ষিক পরিক্ষার ফল প্রকাশ

টাংগাইলের ঘাটাইল উপজেলা সর্বপ্রথম আধুনিক বিদ্যাপীঠ মুকল  একাডেমি স্কুলের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার ফল  প্রকাশিত হয়েছে।
সহকারী কমিশনার ভুমি প্রভাংশু সোম মহান এর সভাপতিত্বে ফল প্রকাশিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ মজিবর রহমান,অধ্যাপক মতিউর রহমান,সদস্য সাবেক মেম্বার দেলোয়ার হোসেন,সাবেক মুিক্তযোদ্বা কমান্ডার হবিবর রহমান,মুিক্তযোদ্বা এমদাদ খান হুমায়ন প্রমুখ।

ঘাটাইল মুকুল একাডেমি স্কুলের বার্ষিক পরিক্ষার ফল প্রকাশ

টাংগাইলের ঘাটাইল উপজেলা সর্বপ্রথম আধুনিক বিদ্যাপীঠ মুকল  একাডেমি স্কুলের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার ফল  প্রকাশিত হয়েছে।
সহকারী কমিশনার ভুমি প্রভাংশু সোম মহান এর সভাপতিত্বে ফল প্রকাশিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ মজিবর রহমান,অধ্যাপক মতিউর রহমান,সদস্য সাবেক মেম্বার দেলোয়ার হোসেন,সাবেক মুিক্তযোদ্বা কমান্ডার হবিবর রহমান,মুিক্তযোদ্বা এমদাদ খান হুমায়ন প্রমুখ।

ঘাটাইলে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে কম্বল বিতরণ

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ 
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাঝে মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। প্রথম পর্বে আলোচনা সভায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার মোঃ তোফাজ্জল হোসেন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং কর্পোরেশনের সাবেক এমডি নুরুল আলম তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন, সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব হাসান আলী মিয়া, জি.বি.জি কলেজের অধক্ষ্য শামছুল আলম মণি, মুক্তিযোদ্ধা জেলা সহকারী কমান্ডার মোঃ আঃ ছাত্তার ভুইয়া প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে ২১০ জন মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

ঘাটাইলে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে কম্বল বিতরণ

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ 
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাঝে মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। প্রথম পর্বে আলোচনা সভায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার মোঃ তোফাজ্জল হোসেন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং কর্পোরেশনের সাবেক এমডি নুরুল আলম তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন, সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব হাসান আলী মিয়া, জি.বি.জি কলেজের অধক্ষ্য শামছুল আলম মণি, মুক্তিযোদ্ধা জেলা সহকারী কমান্ডার মোঃ আঃ ছাত্তার ভুইয়া প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে ২১০ জন মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

ঘাটাইলে পিএসসিতে উইজডম ভ্যালির সেরা সাফল্য

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ 
প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ‘আমরা গড়বো, সুন্দর আগামী’ এ প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এক অনন্য শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উইজডম ভ্যালি সেরা সাফল্য অর্জন করেছে। এবার এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৫ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে সকলেই কৃতকার্য হয়েছে। এদের মধ্যে ৫১ জন জিপিএ ৫, বাকী ১৪ জন এ গ্রেড লাভ করেছে।
এ বিষয়ে উইজডম ভ্যালীর অধক্ষ্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠার ফলে এ ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। 

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৬

মুক্তিযোদ্ধা জাহাজমারা হাবিবের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাহাজমারা হাবিবুর রহমান বীর বিক্রম এর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৮ সালে ২৭ ডিসেম্বর এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় তার নিজ গ্রামে জাহাজমারা হাবিবুর রহমান স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় কাদেরিয়া বাহিনীর নেতৃত্বে ১১ আগস্ট ভূঞাপুর উপজেলার মাটিকাটায় যমুনা নদীর তীরে পাকিস্তানিদের দুইটি জাহাজ ধ্বংস করে দেয়। এতে প্রায় ২১ কোটি টাকার মুল্যের অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধার করে। এই যুদ্ধে সফল নেতৃত্ব দেন কমান্ডার হাবিব। এরপর থেকেই তিনি জাহাজমারা হাবিবুর রহমান বীর বিক্রম নামে পরিচিত লাভ করেন।

সোমবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬

ঘাটাইলে সরিষার চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা


ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ১০০ হেক্টর জমিতে মৌসুমী ফসল সরিষার আবাদ কমে গিয়েছে । এর কারন হিসেবে সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত না হওয়াকে দায়ী করছে উপজেলা কৃষি অফিস।                                                                                                                                                                                                      
কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, উপজেলায় দিগড় ইউনয়িনের  কদমতলী, হামিদপুর, কান্দুলিয়া, লোকের পাড়া, বাসাবাইদ এলাকায় গত বছর বিএডিসি চাষী পর্যায়ে উন্নতজাতের বীজ সংগ্রহ করে ১৪০০ হেক্টর জমিতে ১৩৫০মেট্রিকটন বারি ১৪-১৫, টাবি ৭ জাতের সরিষা কৃষকরা উৎপাদন করে। এর মধ্যে দীঘর ইউনিয়নে সরিষার আবাদ বেশী।
কিন্তু চলতি বছরে কমে গিয়ে ১৩০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ ১২০০ মেট্রিক টন সরিষা আবাদ হবে ধারনা করা হচ্ছে। এর কারন দেরিতে বৃষ্টিপাত হওয়াকে দায়ী করেছে কৃষি অফিস। তবে চাষী পর্যায়ে উন্নতমানের ভাল তৈল ও পিয়াজ, উৎপাদন সংরক্ষণ ও বিতরন প্রকল্প এর আওতায় কাজ করছে। হামিদপুর কদমতলী কান্দুলিয়া, লোকের পাড়া জামুরিয়া থেকে ১৫ জন কৃষক সরিষা প্রদর্শনির কাজ করছে। তার পরও যাতে বেশী ফলন আসে সে জন্য পরাগায়ন নিশ্চিত করার লক্ষে আরও মৌবক্স স্থাপন করা হবে । যদিও এর মধ্যে মৌচাষীদের মৌবক্স ফতেরপাড়া কান্দুলিয়া স্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস জানান, সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত না হ্ওয়ার কারনে এবার আবাদ কম হয়েছে। 

ঘাটাইলে দলিল গ্রহীতা জিম্মি সিন্ডিকেটের কাছে

ঘাটাইল সাবরেজিস্ট্রারের মাসিক সেলামি সাড়ে ৩১ লাখ টাকা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কৌশলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন দলিল গ্রহীতাদের কাছ থেকে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন ১ লাখ টাকা থেকে শুরু করে কমপক্ষে ২০-৩০ লাখ টাকা মূল্যের দলিল রেজিস্ট্রেশন হয়ে থাকে। এতে ৭০-৮০টি দলিল হয় প্রতিদিন।

প্রতি লাখে সেরেস্তা নামে সাবরেজিস্ট্রার মোতালেব হোসেনকে সেলামি দিতে হয় ৫০০ টাকা। আর এ টাকা নিয়ে থাকেন ক্যাশিয়ার নামে পরিচিত সেরেস্তাদার ছামাদ। ফলে প্রতদিন গড়ে ১৫ লাখ টাকা দলিল হলে তাতে প্রতি মাসে তার সেলামি দাঁড়ায় সাড়ে ৩১ লাখ টাকা। এছাড়াও হেবা ঘোষণার একটি দলিলে সরকারি ফিস ৪০০ টাকা । সেক্ষেত্রে নেয়া হয় ১০,০০০ হাজার থেকে ৫০,০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সাবরেজিস্ট্রার লাখে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকার ১টি দলিল থেকে নিয়ে থাকেন ৫০,০০০ হাজার টাকা। আর সাব-কবলা দলিল করতে ব্যাংকে টাকা জমা দানের বিধান থাকলেও হাতে হাতে টাকা নেয়া হয়। এদিকে সিন্ডিকেট করে প্রতারণার মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দলিল লেখক সমিতি। প্রতি লাখে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারও বেশি টাকা নেয় দলিল লেখক সমিতি। আর এ সিন্ডিকেটের সদস্য হচ্ছে- ঘাটাইল উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মো. মোতালেব হোসেন, দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম সরকার ও যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাবরেজিস্ট্রারের ঘনিষ্ঠ আবদুল লতিফ (চামুরিয়া)। আর এ দালাল চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে দলিল গ্রহীতারা। চা বিক্রেতা মোহর আলী জানান, তিনি নন্দনগাতী মৌজায় ১৫ শতাংশ জমির দলিল করতে ৩৩ হাজার ৩’শ টাকা ব্যাংক চালান দেন। তারপরও অতিরিক্ত আরও ৮ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে তাকে। ঘাটাইলের সর্বত্র সাবরেজিস্ট্রার মোতালেবের দুর্নীতির ঝড় ওঠায় তিনি এখান থেকে দ্রুত পোস্টিং নেয়ার জন্য তদবির শুরু করেছেন। অভিযোগের বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবরেজিস্ট্রার মোতালেব হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার জানামতে এ অফিসে কোনো অনিয়ম নেই। দলিল লেখক সমিতি নামে কোনো সিন্ডিকেট আছে কিনা এরকম অভিযোগ নেই। অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টিও তার জানা নেই বলে জানান। সেরেস্তায় লাখে ৫শ’ টাকা নেয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সরকার বলেন, এনডসমেন্ট, আর ব্যাংকে চালান কপি জমা দিতে খরচ বাবদ এ টাকা নেয়া হয়। দলিল লেখক সমিতির বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, মজুরি হিসাবে ৪ হাজার টাকা নেয়া হয়। এ টাকা গুলো দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের মাঝে ভাগ করে দেয়া হয় বলে তিনি জানান।

রবিবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬

উত্তর টাঙ্গাইল সাংবাদিক ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত

জয়নাল আবেদীন সভাপতি ; নূরুজ্জামান সম্পাদক 



ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ
‘সুস্থধারার গ্রামীণ সাংবাদিকতা চাই, অপসাংবাদিকতা বন্ধ হোক’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে উত্তর টাঙ্গাইলের ৬টি উপজেলার সাংবাদিকদের সমন্বয়ে উত্তর টাঙ্গাইল সাংবাদিক ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ ইসলাম তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুমুর রহমান, গোপালপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল জলিল।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দৈনিক ইত্তেফাকের গোপালপুর সংবাদদাতা প্রবীণ সাংবাদিক অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনকে সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের ঘাটাইল সংবাদদাতা নূরুজ্জামান মিঞা -কে সাধারণ সম্পাদক করে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।
কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্যরা হলেন- সহ সভাপতি- ধনবাড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি স.ম. জাহাঙ্গীর আলম, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম, ধনবাড়ি প্রেসক্লাবের সম্পাদক আনসার আলী, দৈনিক সকালের খবর পত্রিকার গোপালপুর প্রতিনিধি কেএম মিঠু, দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের কালিহাতী প্রতিনিধি  মো. কামরুল হাসান, দৈনিক সংগ্রামের ভূঞাপুর প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, যুগ্ন-সম্পাদক পদে- দৈনিক যুগান্তরের মধুপুর প্রতিনিধি এস এম শহীদ, দৈনিক সংবাদের কালিহাতি প্রতিনিধি দাস পবিত্র, দৈনিক ইত্তেফাকের ভূঞাপুর সংবাদদাতা অভিজিৎ ঘোষ, দৈনিক খবরপত্র গোপালপুর প্রতিনিধি সেলিম হোসেন, দৈনিক ভোরের পাতার ধনবাড়ি প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আবু এহসান, ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বকুল, অর্থ-সম্পাদক- দৈনিক খবরপত্রের কালিহাতি প্রতিনিধি মোল্লা মুশফিকুর মিল্টন, সাংগঠনিক সম্পাদক- (১) গোপালপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার দত্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক- (২), দৈনিক আমাদের সময় এর কালিহাতি উপজেলা প্রতিনিধি কাজল আর্য, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক- দৈনিক সকালের খবরের মধুপুর প্রতিনিধি আমিনুল হক, দপ্তর সম্পাদক- দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের ঘাটাইল প্রতিনিধি বিষ্ণুৃ প্রিয় দীপ, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে- দৈনিক আমাদের সময় প্রতিনিধি ও ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম কিসলু, সমাজ কল্যাণ- দৈনিক খবরপত্রের ভূঞাপুর প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম শাহীন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক- দৈনিক সংবাদের মুধুপুর হাবিবুর রহমান, আইসিটি সম্পাদক পদে - দৈনিক সংবাদের ঘাটাইল প্রতিনিধি মোঃ খায়রুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক- দৈনিক সকালের খবরের ঘাটাইল সংবাদদাতা মোঃ মাসুম মিয়া। নির্বাহী সদস্যরা হলেন- দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার উপজেলা সংবাদদাতা ও কালিহাতী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মোঃ হেলাল উদ্দিন হীরা, দৈনিক নয়া দিগন্তের গোপালপুর প্রতিনিধি মোঃ সাইফুল ইসলাম, দৈনিক ভোরের কাগজের ঘাটাইল প্রতিনিধি রবিউল আলম বাদল।

শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৬

সন্ধানপুর স্টুডেন্টস্ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর বৃত্তি পরিক্ষা অনুষ্ঠিত

সবুজ সরকার, নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সন্ধানপুর স্টুডেন্টস্ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর উদ্যেগে বৃত্তি পরিক্ষা ২০১৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধানপুর স্কুল এন্ড কলেজে বৃত্তি পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রছাত্রীদের মেধা বিকাশ, প্রতিযোগিতার মাধ্যেমে মেধা যাচাই, মানোন্নয়ন ও আর্থিক সহযোগিতায় লেখাপড়ায় উৎসাহী করে তোলার লক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় চলতি বছরেও বৃত্তি পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, মধুপুর এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪র্থ থেকে ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত মোট ৪৮১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে। বৃত্তি পরিক্ষা শেষে একই দিনে ফল ঘোষনার মাধ্যোমে বৃত্তি প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সন্ধানপুর স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ বায়েজিদ হোসেন, মির্জা রফিকুল ইসলাম, মির্জা ওমর ফারুক, মতিন ভূইয়া, মোজাম্মেল, শহিদুল, আনোয়ার, আমিনুল,আরিফ,জয়নাল,রঞ্জু,মনিরুল,রুহুল,শরিফুল,হাফিজুর,মিজানুর,আনিছুর,আজিজুল সহ অন্যান্য সদস্য বৃন্দ।

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২২, ২০১৬

ঘাটাইলে মহা পবিত্র বিশ্ব ওরশ শরীফের র‌্যালী অনুষ্ঠিত

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল ঃ
১৮,১৯,২০,ও ২১ শে ফেব্রুয়ারী ২০১৭  বিশ্ব জাকের মঞ্জিল ফরিদপুরে মহাপবিত্র  ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা জাকের পাটির উদ্যোগে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক বিশাল র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছ্।ে গতকাল বৃহস্পতিবার  বিকেলে ঘাটাইল পশ্চিম পাড়া থেকে র‌্যালী শুরু হয়ে ঘাটাইলের প্রধান প্রধান সড়ক পদক্ষিন শেষে একই জায়গায় এসে র‌্যালী শেষ  হয় । র‌্যালীতে উপস্থিত ছিলেন - মিশন প্রধান মিজানুর রহমান , সহকারী মিশন প্রধান মওলানা হাফেজ রুহুল আমীন সিদ্দিকী , অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন , টাঙ্গাইল জাকের পার্টির সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান , সহ সভাপতি মোঃ লুৎফর রহমান সহ টাঙ্গাইল জেলার সমস্ত থানার সভাপতিও সম্পাদক বৃন্দ। 

ঘাটাইলে মহা পবিত্র বিশ্ব ওরশ শরীফের র‌্যালী অনুষ্ঠিত

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল ঃ
১৮,১৯,২০,ও ২১ শে ফেব্রুয়ারী ২০১৭  বিশ্ব জাকের মঞ্জিল ফরিদপুরে মহাপবিত্র  ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা জাকের পাটির উদ্যোগে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক বিশাল র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছ্।ে গতকাল বৃহস্পতিবার  বিকেলে ঘাটাইল পশ্চিম পাড়া থেকে র‌্যালী শুরু হয়ে ঘাটাইলের প্রধান প্রধান সড়ক পদক্ষিন শেষে একই জায়গায় এসে র‌্যালী শেষ  হয় । র‌্যালীতে উপস্থিত ছিলেন - মিশন প্রধান মিজানুর রহমান , সহকারী মিশন প্রধান মওলানা হাফেজ রুহুল আমীন সিদ্দিকী , অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন , টাঙ্গাইল জাকের পার্টির সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান , সহ সভাপতি মোঃ লুৎফর রহমান সহ টাঙ্গাইল জেলার সমস্ত থানার সভাপতিও সম্পাদক বৃন্দ। 

বুধবার, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬

মোবাইলে ফোনে ডেকে এনে প্রেমীকাকে ধর্ষণ

মো. খায়রুল ইসলাম, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ
মোবাইলে ফোনে ডেকে এনে প্রেমীকাকে ধর্ষণ করল প্রেমিক।প্রতারনার শিকার গার্মেন্টস কর্মী গতকাল বুধবার নিজে বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় মামলা করেছে। 
পুলিশ ও ধর্ষিতার মা জানায়, ধর্ষিতা কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মজুমদার পাড়া গ্রামে আঃ  রাশিদ মিয়ার মেয়ে। মেয়েটি সাভারের এক গার্মেন্টে চাকরি করত। ২ বছর আগে মোবাইল ফোনে শাহীন মিয়ার (৩০) সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে মেয়েটির। শাহিনের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার কর্ণা গ্রামে। তার বাবার নাম রহীম বাদশা। প্রেমের সূত্র ধরেই শাহিন তার প্রেমিককে মোবাইল ফোনে ঘাটাইল আসতে বলে। তার কথায় বিশ্বাস করে গত সোমবার রাতে বাস যোগে সাভার থেকে ঘাটাইলের গুনগ্রাম আসে সে।  বাস থেকে নেমেই প্রেমিক শাহীনের সাথে দেখা মেয়েটির। সেখান থেকে প্রতারক শাহীন তাকে হরিপুরের গৌরদ্বীপ অটো বয়েল মিলে নিয়ে যায়। সেখানে একটি রুমে আটকে রেখে মেয়েটিকে সারা রাত ধর্ষণ করে। পরে বয়েল মিলে রেখে কৌশলে সটকে পড়ে প্রতারক প্রেমিক শাহীন। পরে এঘটনায় ধর্ষিতা বাদী হয়ে ধর্ষক প্রতারক প্রেমিক শাহীন কে আসামী করে  ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত  ধর্ষককে আটক করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্তকারী ঘাটাইল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক  শাহীন মিয়া বলেন, ধর্ষক প্রেমিক শাহীনকে আটকের চেষ্টা চলছে।

মোবাইলে ফোনে ডেকে এনে প্রেমীকাকে ধর্ষণ

মো. খায়রুল ইসলাম, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ
মোবাইলে ফোনে ডেকে এনে প্রেমীকাকে ধর্ষণ করল প্রেমিক।প্রতারনার শিকার গার্মেন্টস কর্মী গতকাল বুধবার নিজে বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় মামলা করেছে। 
পুলিশ ও ধর্ষিতার মা জানায়, ধর্ষিতা কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মজুমদার পাড়া গ্রামে আঃ  রাশিদ মিয়ার মেয়ে। মেয়েটি সাভারের এক গার্মেন্টে চাকরি করত। ২ বছর আগে মোবাইল ফোনে শাহীন মিয়ার (৩০) সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে মেয়েটির। শাহিনের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার কর্ণা গ্রামে। তার বাবার নাম রহীম বাদশা। প্রেমের সূত্র ধরেই শাহিন তার প্রেমিককে মোবাইল ফোনে ঘাটাইল আসতে বলে। তার কথায় বিশ্বাস করে গত সোমবার রাতে বাস যোগে সাভার থেকে ঘাটাইলের গুনগ্রাম আসে সে।  বাস থেকে নেমেই প্রেমিক শাহীনের সাথে দেখা মেয়েটির। সেখান থেকে প্রতারক শাহীন তাকে হরিপুরের গৌরদ্বীপ অটো বয়েল মিলে নিয়ে যায়। সেখানে একটি রুমে আটকে রেখে মেয়েটিকে সারা রাত ধর্ষণ করে। পরে বয়েল মিলে রেখে কৌশলে সটকে পড়ে প্রতারক প্রেমিক শাহীন। পরে এঘটনায় ধর্ষিতা বাদী হয়ে ধর্ষক প্রতারক প্রেমিক শাহীন কে আসামী করে  ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত  ধর্ষককে আটক করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্তকারী ঘাটাইল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক  শাহীন মিয়া বলেন, ধর্ষক প্রেমিক শাহীনকে আটকের চেষ্টা চলছে।

ঘাটাইলে ঘাতক বাস কেড়ে নিল বৃদ্ধের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) ঃ
দাড়িয়ে থাকা শত শত মানুষের সামনে মূহুর্তের মধ্যে একটি ঘাতক বাস গতকাল বুধবার আঃ ছামাদ (৮৫ ) নামে এক বৃদ্ধের প্রাণ কেড়ে নিল। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল কলেজ মোড় চত্বরে বিকালে এ মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটে। 
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উত্তরবঙ্গ ছেড়ে থেকে আসা ময়মনসিংহগামী একটি বাস (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৪-০১৩৭) গতকাল বিকাল তিনটার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘাটাইল কলেজ মোড় চত্বরে এক বৃদ্ধকে চাপা দেয়। এসময় তার মাথা থেতলে যায় এতে ঘটনাস্থলেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। নিহতের বাড়ি উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের হাতিবর গ্রামে। পুলিশ চালক সহ ঘাতক বাসটি আটক করেছে। 

ঘাটাইলে ঘাতক বাস কেড়ে নিল বৃদ্ধের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) ঃ
দাড়িয়ে থাকা শত শত মানুষের সামনে মূহুর্তের মধ্যে একটি ঘাতক বাস গতকাল বুধবার আঃ ছামাদ (৮৫ ) নামে এক বৃদ্ধের প্রাণ কেড়ে নিল। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল কলেজ মোড় চত্বরে বিকালে এ মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটে। 
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উত্তরবঙ্গ ছেড়ে থেকে আসা ময়মনসিংহগামী একটি বাস (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৪-০১৩৭) গতকাল বিকাল তিনটার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘাটাইল কলেজ মোড় চত্বরে এক বৃদ্ধকে চাপা দেয়। এসময় তার মাথা থেতলে যায় এতে ঘটনাস্থলেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। নিহতের বাড়ি উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের হাতিবর গ্রামে। পুলিশ চালক সহ ঘাতক বাসটি আটক করেছে। 

ঘাটাইলে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছে চিহ্নিত রাজাকাররা

মূল হোতা হিসেবে অভিযোগের তীর তিন মুক্তিযোদ্ধার দিকে
খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) থেকে
ঘাটাইলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত এর সঠিক কোনো তথ্য নেই। তবে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি এ উপজেলায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা পৌনে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’র বেশি নয়। অথচ ঘাটাইলে বর্তমানে ভাতা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১১শ’ সাত জন। অপরদিকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৩ থেকে ৫ জনের বেশি নয় বলে দাবি করা হয়। সেক্ষেত্রে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলন করছেন ৩২ জন। আর শহীদ পরিবারের সুবিধা নিচ্ছেন ৩৮ জন। সব মিলে ১১শ ৭৭ জন ভাতা উত্তোলন করছেন। এর মধ্যে ১৫/২০ জন চিহ্নিত রাজাকারও রয়েছেন। যুদ্ধকালীন কমান্ডার মকবুল হোসেন (গেজেট নং- ৫১২১) জানান, অনেক রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সদস্যরা ভাতাসহ সরকারের দেয়া সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। এদের তালিকা তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে প্রেরণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৯ নং সন্ধানপুর ইউনিয়নের বোয়ালী হাটবাড়ী গ্রামের মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে তোরাপ আলী, একই গ্রামের মৃত আঃ বাছেদের ছেলে মফিজ, আজগর আলীর ছেলে আঃ আজিজ, কুশারিয়া গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে মীর ছামাদ ও তার ভাই মীর কাশেম, দিগড় ইউনিয়নের ধোপাজানী গ্রামের মোবারক আলী, আব্দুল আজিজ ও রাজাকার মোতাহারের অর্থ জোগান দাতা আবদুল মালেক মিয়া, দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের দয়কান্দি গ্রামের পিস কমিটির সদস্য আবদুস ছাত্তার খান এরা সবাই চিহ্নিত রাজাকার। এরা বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধার সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধ না করেও গেজেট ভুক্ত হয়েছে ৫ শতাধিক । এরা বেশির ভাগই জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) কর্তৃক অর্থের বিনিময়ে সনদ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে বেংরোয়া গ্রামের ফালু খানের ছেলে ফজলুর রহমান খান, ঘাটাইলের আবদুল করিমের ছেলে আনোয়ার হোসেন , ঘাটাইল দক্ষিণ পাড়া আঃ ছাত্তার, পশ্চিম পাড়া এম এ মজিদ, কামার চালা গ্রামের আবদুস ছালাম মির্জাসহ আরো অনেকে। আর এ ভুয়া ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা বানাতে একটি চক্রকাজ করেছে। এ চক্রের সঙ্গে সরাসরি ৩ জন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই কারিগর হলেন- সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবদুল বাছিত করিম, সাবেক কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ ওরফে কাদের, সাবেক জেলা কমান্ডার ফজলুল হক বীরপ্রতীক। এরা স্বাধীনতা পরবর্তীতে ঘাটাইল ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। এ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ৪টি তালিকা প্রণীত হয়েছে। এর সবই অসম্পূর্ণ ও ভুলে ভরা । অনেক ভুয়া ব্যক্তির নাম এসব তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আবার কারও নাম বাদও পড়েছে । বাদ পড়ার মধ্যে একজন আনছারুল আলম। তার বাড়ি উত্তর লক্ষীন্দর। তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে মর্টার শেলের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত বরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরিত একটি সনদও রয়েছে তার কাছে। কিন্তু তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারেননি। অথচ এ পর্যন্ত ৪ বার তালিকা হয়েছে । ১৯৮০-৮৬ সালের মধ্যে এরশাদ সরকার একটি জাতীয় তালিকা করে। এতে মুক্তিযোদ্ধা ছিল ৬৯০ জন। ১৯৮৮-৮৯ সালে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক একটি তালিকা প্রণয়ন করে। এতে ৩৯০ জন বৃদ্ধি পেয়ে ১০৮০ জনে উন্নীত হয় । ১৯৯৪-৯৫ সালে বিএনপি সরকার তৃতীয় দফায় একটি তালিকা তৈরি করে । এ তালিকায় মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১১০১ জন। ১৯৯৬-৯৯ সালে চতুর্থ দফায় আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিবার্তায় ১১০৭ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে। এভাবেই ঘাটাইলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা বানানো কারিগরদের মধ্যে বাছিত করিম বয়সে ছিলেন একেবারে কিশোর। তিনি ১৯৭১ সালের ১২ আগস্ট রাতে স্থানীয় নগরবাড়ী ব্রিজের ওপর গ্রেনেড বিস্ফোরণে আহত হন। পরে মির্জাপুর হাসপাতালে ৯ মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানা যায় । জানতে চাওয়া হলে বাছিত করিম বলেন, যদি কোনো ভুয়া ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় এসে থাকে তার জন্য কেন্দ ীয়, জেলা, থানা ও ইউনিয়ন কমান্ড সবাই দায়ী। তবে উল্লিœখিত কতিপয় ব্যক্তি রাজাকার বলে স্বীকার করে বলেন এরা কীভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে তা আমার জানা নেই। এদিকে তার (বাছেদ করিম) সম্পর্কে স্থানীয় অভিযোগ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধের সময় তার বয়স ছিল অল্প। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রায় ১ বছর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে স্কুলে রেজিঃ সময় বয়স কমিয়ে ১০/০৬/১৯৬০ করেন । তার প্রকৃত বয়স ১০-০৬-১৯৫৬ বলে দাবি করেন। এক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বনিন্ম বয়স যদি ১৩ বছর ধরা হয় তাহলে সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার বয়স দাঁড়ায় ১১ বছর। অপরদিকে আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন অবৈধ কাজগুলো করেছে সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বাছিত করিম ও কমান্ডার হাবিবুর রহমান। ঘাটাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার তোফাজ্জল হোসেন রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিচ্ছে বলে স্বীকার করে বলেন- বিগত দিনে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারাই ভুয়া ব্যক্তিসহ চিহ্নিত রাজাকারদেরও মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় এদেরকে বাদ দেয়া হবে বলে জানান। অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে ফজলুল হক বীরপ্রতীক বলেন, ঘাটাইলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত তা সঠিক করে বলা যায় না।

ঘাটাইলে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছে চিহ্নিত রাজাকাররা

মূল হোতা হিসেবে অভিযোগের তীর তিন মুক্তিযোদ্ধার দিকে
খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) থেকে
ঘাটাইলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত এর সঠিক কোনো তথ্য নেই। তবে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি এ উপজেলায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা পৌনে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’র বেশি নয়। অথচ ঘাটাইলে বর্তমানে ভাতা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১১শ’ সাত জন। অপরদিকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৩ থেকে ৫ জনের বেশি নয় বলে দাবি করা হয়। সেক্ষেত্রে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলন করছেন ৩২ জন। আর শহীদ পরিবারের সুবিধা নিচ্ছেন ৩৮ জন। সব মিলে ১১শ ৭৭ জন ভাতা উত্তোলন করছেন। এর মধ্যে ১৫/২০ জন চিহ্নিত রাজাকারও রয়েছেন। যুদ্ধকালীন কমান্ডার মকবুল হোসেন (গেজেট নং- ৫১২১) জানান, অনেক রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সদস্যরা ভাতাসহ সরকারের দেয়া সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। এদের তালিকা তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে প্রেরণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৯ নং সন্ধানপুর ইউনিয়নের বোয়ালী হাটবাড়ী গ্রামের মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে তোরাপ আলী, একই গ্রামের মৃত আঃ বাছেদের ছেলে মফিজ, আজগর আলীর ছেলে আঃ আজিজ, কুশারিয়া গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে মীর ছামাদ ও তার ভাই মীর কাশেম, দিগড় ইউনিয়নের ধোপাজানী গ্রামের মোবারক আলী, আব্দুল আজিজ ও রাজাকার মোতাহারের অর্থ জোগান দাতা আবদুল মালেক মিয়া, দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের দয়কান্দি গ্রামের পিস কমিটির সদস্য আবদুস ছাত্তার খান এরা সবাই চিহ্নিত রাজাকার। এরা বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধার সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধ না করেও গেজেট ভুক্ত হয়েছে ৫ শতাধিক । এরা বেশির ভাগই জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) কর্তৃক অর্থের বিনিময়ে সনদ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে বেংরোয়া গ্রামের ফালু খানের ছেলে ফজলুর রহমান খান, ঘাটাইলের আবদুল করিমের ছেলে আনোয়ার হোসেন , ঘাটাইল দক্ষিণ পাড়া আঃ ছাত্তার, পশ্চিম পাড়া এম এ মজিদ, কামার চালা গ্রামের আবদুস ছালাম মির্জাসহ আরো অনেকে। আর এ ভুয়া ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা বানাতে একটি চক্রকাজ করেছে। এ চক্রের সঙ্গে সরাসরি ৩ জন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই কারিগর হলেন- সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবদুল বাছিত করিম, সাবেক কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ ওরফে কাদের, সাবেক জেলা কমান্ডার ফজলুল হক বীরপ্রতীক। এরা স্বাধীনতা পরবর্তীতে ঘাটাইল ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। এ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ৪টি তালিকা প্রণীত হয়েছে। এর সবই অসম্পূর্ণ ও ভুলে ভরা । অনেক ভুয়া ব্যক্তির নাম এসব তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আবার কারও নাম বাদও পড়েছে । বাদ পড়ার মধ্যে একজন আনছারুল আলম। তার বাড়ি উত্তর লক্ষীন্দর। তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে মর্টার শেলের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত বরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরিত একটি সনদও রয়েছে তার কাছে। কিন্তু তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারেননি। অথচ এ পর্যন্ত ৪ বার তালিকা হয়েছে । ১৯৮০-৮৬ সালের মধ্যে এরশাদ সরকার একটি জাতীয় তালিকা করে। এতে মুক্তিযোদ্ধা ছিল ৬৯০ জন। ১৯৮৮-৮৯ সালে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক একটি তালিকা প্রণয়ন করে। এতে ৩৯০ জন বৃদ্ধি পেয়ে ১০৮০ জনে উন্নীত হয় । ১৯৯৪-৯৫ সালে বিএনপি সরকার তৃতীয় দফায় একটি তালিকা তৈরি করে । এ তালিকায় মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১১০১ জন। ১৯৯৬-৯৯ সালে চতুর্থ দফায় আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিবার্তায় ১১০৭ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে। এভাবেই ঘাটাইলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা বানানো কারিগরদের মধ্যে বাছিত করিম বয়সে ছিলেন একেবারে কিশোর। তিনি ১৯৭১ সালের ১২ আগস্ট রাতে স্থানীয় নগরবাড়ী ব্রিজের ওপর গ্রেনেড বিস্ফোরণে আহত হন। পরে মির্জাপুর হাসপাতালে ৯ মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানা যায় । জানতে চাওয়া হলে বাছিত করিম বলেন, যদি কোনো ভুয়া ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় এসে থাকে তার জন্য কেন্দ ীয়, জেলা, থানা ও ইউনিয়ন কমান্ড সবাই দায়ী। তবে উল্লিœখিত কতিপয় ব্যক্তি রাজাকার বলে স্বীকার করে বলেন এরা কীভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে তা আমার জানা নেই। এদিকে তার (বাছেদ করিম) সম্পর্কে স্থানীয় অভিযোগ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধের সময় তার বয়স ছিল অল্প। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রায় ১ বছর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে স্কুলে রেজিঃ সময় বয়স কমিয়ে ১০/০৬/১৯৬০ করেন । তার প্রকৃত বয়স ১০-০৬-১৯৫৬ বলে দাবি করেন। এক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বনিন্ম বয়স যদি ১৩ বছর ধরা হয় তাহলে সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার বয়স দাঁড়ায় ১১ বছর। অপরদিকে আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন অবৈধ কাজগুলো করেছে সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বাছিত করিম ও কমান্ডার হাবিবুর রহমান। ঘাটাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার তোফাজ্জল হোসেন রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিচ্ছে বলে স্বীকার করে বলেন- বিগত দিনে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারাই ভুয়া ব্যক্তিসহ চিহ্নিত রাজাকারদেরও মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় এদেরকে বাদ দেয়া হবে বলে জানান। অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে ফজলুল হক বীরপ্রতীক বলেন, ঘাটাইলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত তা সঠিক করে বলা যায় না।

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২০, ২০১৬

লোকেরপাড়া আইন শৃঙখলা বিষয়ক সভা

স্টাফ রিপোর্টার : ঘাটাইলের লোকেরপাড়া ইউনিয়নে ২নং ওয়ার্ডে গত ১৯ ডিসেম্বর বিকেলে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে লোকেরপাড়া নতুন বাজারে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন লোকেরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: আকরাম হোসেন খান, ঘাটাইল থানার এস আই আলী হোসেন, এএসআই নবাব আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম তালুকদার আনোয়ার, নূরুল ইসলাম তালুকদার, আব্দুল বাছেদ সিকদার, আনেহলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ লাল মিয়া, লোকেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মসলিম উদ্দিন খান, আব্দুস ছাত্তার আকন্দ, বিএনপি নেতা রবি শেখ, জুলহাস শেখসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় আলোচকরা উক্ত ওয়ার্ডে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, যে কোন ধরণের আইন রিরোধী কর্মকান্ড সংঘঠিত হলে তাৎক্ষনিক ভাবে পুলিশকে অবহিত করা হবে।

ঘাটাইলে ৮ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঘাটাইল ঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল  উপজেলার  ঝুনকাইল উত্তরপাড়া  গ্রামে এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষিত হয়েছে। সে উপজেলার সৎসঙ্গ তপোবন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ বিষয়ে তার মা পিয়ারা বেগম  বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েল করেছেন।

পুলিশ ও তার মা জানায়, ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের ঝুনকাইল উত্তরপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের মেয়ে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। প্রতিবেশী ইয়াসিন আলীর ছেলে অন্তর (১৯)  তাকে মাঝে মধ্যেই কু-প্রস্তাব দিত। এতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অন্তর কৌশলে তাদের বাড়িতে নিয়ে স্কুল ছাত্রীটিকে জোড় পূর্বক তাকে ধর্ষন করে। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে গ্রাম্য মাতাব্বররা শালিসী বৈঠকের আয়োজন করে। মিমাংসা না দিতে পারায় ব্যর্থ হয়ে মেয়েটির মা বাদী হয়ে গত সোমবার সন্ধায় ধর্ষক অন্তর সহ আরো দুই জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করে।
এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামাল হোসেন জানান, গতকাল মঙ্গলবার ধর্ষিতাকে ডাক্তরী পরীক্ষা করার জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হবে।

ঘাটাইলে ৮ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঘাটাইল ঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল  উপজেলার  ঝুনকাইল উত্তরপাড়া  গ্রামে এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষিত হয়েছে। সে উপজেলার সৎসঙ্গ তপোবন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ বিষয়ে তার মা পিয়ারা বেগম  বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েল করেছেন।

পুলিশ ও তার মা জানায়, ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের ঝুনকাইল উত্তরপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের মেয়ে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। প্রতিবেশী ইয়াসিন আলীর ছেলে অন্তর (১৯)  তাকে মাঝে মধ্যেই কু-প্রস্তাব দিত। এতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অন্তর কৌশলে তাদের বাড়িতে নিয়ে স্কুল ছাত্রীটিকে জোড় পূর্বক তাকে ধর্ষন করে। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে গ্রাম্য মাতাব্বররা শালিসী বৈঠকের আয়োজন করে। মিমাংসা না দিতে পারায় ব্যর্থ হয়ে মেয়েটির মা বাদী হয়ে গত সোমবার সন্ধায় ধর্ষক অন্তর সহ আরো দুই জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করে।
এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামাল হোসেন জানান, গতকাল মঙ্গলবার ধর্ষিতাকে ডাক্তরী পরীক্ষা করার জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হবে।

ঘাটাইল বিদ্যুত অফিস দূনীতির আখড়া

রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) ঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিদ্যুৎ অফিসে ব্যাপক দুর্নীতি আর সীমাহীন অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  আর এই অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মুখ থুবরে পড়েছে অফিসের কার্যক্রম। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি চক্রের হাতে বিদ্যুৎ বিভাগ  মূলত জিম্বি হয়ে পড়েছে। ঘুষ না দিলে মেলেনা নতুন সংযোগ। পরিবর্তন হয়না ট্রান্সফরমারসহ তার ও খুঁটি। কাজ না করেই বরাদ্ধের টাকা  করা হচ্ছে আত্মসাৎ। এ অবস্থায়ই চলছে ঘাটাইল বিদ্যুৎ অফিসের কার্যক্রম।
জানা যায়, ঘাটাইল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পালের সীমাহীন অব্যবস্থাপনায় ঘাটাইল বিদ্যুৎ অফিস এখন দুর্নীতির আখড়া। অনিয়মের শেষ নেই ঘাটাইল বিদ্যুৎ বিভাগে। মিথ্যা বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করে গ্রাহকদের করা হচ্ছে বিভিন্ন হয়রানী। টাকার বিনিময়ে দেয়া হচ্ছে অবৈধ কাজের বৈধতা। সিষ্টেম লস দেখাইয়া সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচেছ। নির্বার্হী প্রকৌশলীর এইসব অনিয়মের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন ঘাটাইলের ২৪ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক ।
 গ্রাহকের মিটার থেকে প্রকৌশলীর টেবিল পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই চলে অনিয়ম। সম্প্রতি তার অনিয়ম ও দুনীতির বিরুদ্ধে সন্ধানপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও এবং  অবরোধ করে রাখে। পরে মিছিল করে প্রকৌকশলীর অপসারণ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারে বিভিন্ন দফতরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান  করেন। 
নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পাল সকল সরকারী সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও অফিসের কর্তা হয়ে তিনি নিজেই অফিসের আইন মানেন না।  সার্বক্ষনিক  নিজ ষ্টেশনে থাকার কথা থাকলেও তিনি  থাকেন ষ্টেশন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে জেলা সদরে। তিনি নিয়মিত অফিসেও আসেন না এমন অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মধ্যে দুপুর ১ টার পর অফিসে আসলেও ব্যস্ততা দেখাইয়া  আবার চলে যান। । প্রকৌশলীর এইসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে উপজেলার  বেরিবাইদের লিটন মিয়া ২০ জুন জেলা প্রশাসকের বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন। 
প্রকৌশলীর অনিয়মের পাল্লা এতটাই ভারী যে ঘুষ না দিলে মেলে কারো নতুন সংযোগ, পরিবর্তন হয়না ট্রান্সফরমান সহ তার ও খুটি। ক্ষুদ্রকুটির শিল্পের নামে কোন মিল কারখান খুললে তাকে দিতে হয় মোটা টাকার সেলামী। লাইন অনুমোদন নিতে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরিচালন ও সংরক্ষন সার্কেল (বিউবো) টাঙ্গাইলের নাম ভাঙ্গাইয়া প্রতি অনুমোদনে নেওয়া হয়  ৪০ থেকে ১ লাখ টাকা। প্রতি এলটি খুটি স্থাপন করতে তাকে দিতে ১০/২০ হাজার টাকা, এসটি খুটি স্থাপন করতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা, ট্রন্সফরমার স্থাপন করতে দিতে হয় ১ থেকে ৩ লাখ টাকা। সম্প্রতি জামুরিয়া ইউনিয়নের বীর ঘাটাইল গ্রামে আল করিম তালুকদারের কাছ থেকে কুটির শিল্পের অনুমোদন ও সংযোগ বাবদ প্রকৌশলী নেয় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। তার কাছ থেকে ট্রান্সফরমার  স্থাপন করার কথা বলে নেয় ৯০ হাজার টাকা, একই গ্রামের ওসমান ও হালিমের কাছ থেকে লাইন অনুমোদন ও ট্রান্সফরমার স্থাপন বাবদ নেয় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। হরিপুর ইটভাটা ও লাকড়ির মিল থেকে নেয় ১২ লাখ টাকা। নজুনবাগ গ্রামের আলতাফ এর কাছ থেকে নেয় ২ লাখ টাকা। একাশি গ্রামে রবি টাওয়ারে বাঁেশর খুুটি দিয়ে তার ও ট্রান্সফরমার স্থাপন করে নেয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পাল ঠিকাদারের মাধ্যমে জামুরিয়া ইউনিয়নে সংকরপুর, হেলনাপাড়া, পুংলি, হরিপুর, চাঁনতারা, লাউয়াগ্রাম,বীর খাগিয়ান, কাতরা এবং সন্ধানপুর ইউনিয়নের দেওজানা, ফকিরচালা, খুপিবাড়ী, ছামানের বাজার, নয়নচালা  ও রসুলপুর ইউনিয়নের বাসাবাইদ, ঘোড়ারটিকরী, লাল মাটিয়া, বিলজলঙ্গি ও দিগর ইউনয়ের গুসা এবং দিগর গ্রামে নতুন সংযোগ ও ট্রান্সফরমার স্থাপন করে প্রায় এক কোটি টাকা ভাগাভাগি করে নেন বলে জানা যায়।  
তিনি ঘাটাইল অফিসের যোগদানের পর  থেকেই নামধারী একাধিক ঠিকাদারের সাথে হাত মিলিয়ে দর্ুীতিতে জড়িয়ে পড়েন । এই সব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ঘাটাইল বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের  নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পালের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। 


প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ,  ভিডিওচিত্র, বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি

ঘাটাইল বিদ্যুত অফিস দূনীতির আখড়া

রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) ঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিদ্যুৎ অফিসে ব্যাপক দুর্নীতি আর সীমাহীন অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  আর এই অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মুখ থুবরে পড়েছে অফিসের কার্যক্রম। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি চক্রের হাতে বিদ্যুৎ বিভাগ  মূলত জিম্বি হয়ে পড়েছে। ঘুষ না দিলে মেলেনা নতুন সংযোগ। পরিবর্তন হয়না ট্রান্সফরমারসহ তার ও খুঁটি। কাজ না করেই বরাদ্ধের টাকা  করা হচ্ছে আত্মসাৎ। এ অবস্থায়ই চলছে ঘাটাইল বিদ্যুৎ অফিসের কার্যক্রম।
জানা যায়, ঘাটাইল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পালের সীমাহীন অব্যবস্থাপনায় ঘাটাইল বিদ্যুৎ অফিস এখন দুর্নীতির আখড়া। অনিয়মের শেষ নেই ঘাটাইল বিদ্যুৎ বিভাগে। মিথ্যা বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করে গ্রাহকদের করা হচ্ছে বিভিন্ন হয়রানী। টাকার বিনিময়ে দেয়া হচ্ছে অবৈধ কাজের বৈধতা। সিষ্টেম লস দেখাইয়া সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচেছ। নির্বার্হী প্রকৌশলীর এইসব অনিয়মের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন ঘাটাইলের ২৪ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক ।
 গ্রাহকের মিটার থেকে প্রকৌশলীর টেবিল পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই চলে অনিয়ম। সম্প্রতি তার অনিয়ম ও দুনীতির বিরুদ্ধে সন্ধানপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও এবং  অবরোধ করে রাখে। পরে মিছিল করে প্রকৌকশলীর অপসারণ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারে বিভিন্ন দফতরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান  করেন। 
নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পাল সকল সরকারী সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও অফিসের কর্তা হয়ে তিনি নিজেই অফিসের আইন মানেন না।  সার্বক্ষনিক  নিজ ষ্টেশনে থাকার কথা থাকলেও তিনি  থাকেন ষ্টেশন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে জেলা সদরে। তিনি নিয়মিত অফিসেও আসেন না এমন অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মধ্যে দুপুর ১ টার পর অফিসে আসলেও ব্যস্ততা দেখাইয়া  আবার চলে যান। । প্রকৌশলীর এইসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে উপজেলার  বেরিবাইদের লিটন মিয়া ২০ জুন জেলা প্রশাসকের বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন। 
প্রকৌশলীর অনিয়মের পাল্লা এতটাই ভারী যে ঘুষ না দিলে মেলে কারো নতুন সংযোগ, পরিবর্তন হয়না ট্রান্সফরমান সহ তার ও খুটি। ক্ষুদ্রকুটির শিল্পের নামে কোন মিল কারখান খুললে তাকে দিতে হয় মোটা টাকার সেলামী। লাইন অনুমোদন নিতে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরিচালন ও সংরক্ষন সার্কেল (বিউবো) টাঙ্গাইলের নাম ভাঙ্গাইয়া প্রতি অনুমোদনে নেওয়া হয়  ৪০ থেকে ১ লাখ টাকা। প্রতি এলটি খুটি স্থাপন করতে তাকে দিতে ১০/২০ হাজার টাকা, এসটি খুটি স্থাপন করতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা, ট্রন্সফরমার স্থাপন করতে দিতে হয় ১ থেকে ৩ লাখ টাকা। সম্প্রতি জামুরিয়া ইউনিয়নের বীর ঘাটাইল গ্রামে আল করিম তালুকদারের কাছ থেকে কুটির শিল্পের অনুমোদন ও সংযোগ বাবদ প্রকৌশলী নেয় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। তার কাছ থেকে ট্রান্সফরমার  স্থাপন করার কথা বলে নেয় ৯০ হাজার টাকা, একই গ্রামের ওসমান ও হালিমের কাছ থেকে লাইন অনুমোদন ও ট্রান্সফরমার স্থাপন বাবদ নেয় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। হরিপুর ইটভাটা ও লাকড়ির মিল থেকে নেয় ১২ লাখ টাকা। নজুনবাগ গ্রামের আলতাফ এর কাছ থেকে নেয় ২ লাখ টাকা। একাশি গ্রামে রবি টাওয়ারে বাঁেশর খুুটি দিয়ে তার ও ট্রান্সফরমার স্থাপন করে নেয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পাল ঠিকাদারের মাধ্যমে জামুরিয়া ইউনিয়নে সংকরপুর, হেলনাপাড়া, পুংলি, হরিপুর, চাঁনতারা, লাউয়াগ্রাম,বীর খাগিয়ান, কাতরা এবং সন্ধানপুর ইউনিয়নের দেওজানা, ফকিরচালা, খুপিবাড়ী, ছামানের বাজার, নয়নচালা  ও রসুলপুর ইউনিয়নের বাসাবাইদ, ঘোড়ারটিকরী, লাল মাটিয়া, বিলজলঙ্গি ও দিগর ইউনয়ের গুসা এবং দিগর গ্রামে নতুন সংযোগ ও ট্রান্সফরমার স্থাপন করে প্রায় এক কোটি টাকা ভাগাভাগি করে নেন বলে জানা যায়।  
তিনি ঘাটাইল অফিসের যোগদানের পর  থেকেই নামধারী একাধিক ঠিকাদারের সাথে হাত মিলিয়ে দর্ুীতিতে জড়িয়ে পড়েন । এই সব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ঘাটাইল বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের  নির্বাহী প্রকৌশলী সুরেশ চন্দ্র পালের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। 


প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ,  ভিডিওচিত্র, বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি

সোমবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৬

ঘাটাইলে পৌছেছে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বই

ঘাটাইল(টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ২০১৭ সালের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামুল্যে বই বিতরণের জন্য বিনামূল্যের বই ঘাটাইল শিক্ষা অফিসে এসে পৌছে।
জানা গেছে, উপজেলার ১৭৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বই এসে পৌছেছে, এবার নির্ধারিত সময়ে বই বিতরণ করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে সময় মত লেখাপড়া করতে পারে সেজন্য আগে ভাগে তারা এবার বই পাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিমা আক্তার জানান, আমরা এরই মধ্যে ৩য়ও ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কিছু বই বিতরন করিেছ । বাকি কিছু বই আমরা অল্প কিছু দিনের মধ্যে বিতরন করবো বলে আশাকরি ।

পলাতক মানবতাবিরোধী অপরাধীর মৃত্যু

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি করিমগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার গাজী আব্দুল মান্নান মারা গেছেন।

সোমবার সকালে ঢাকার মিরপুরে তিনি মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ যুদ্ধাপরাধ প্রতিরোধ আন্দোলন কমিটির সভাপতি রেজাউল হাবীব রেজা।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের দুই সহোদরসহ চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।  রায় ঘোষণার পর থেকেই গাজী আব্দুল মান্নান পলাতক ছিলেন। গত ৩ মে সকালে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হকের তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।
রায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হচ্ছেন, দুই সহোদর শামসুদ্দিন আহমেদ ও সেনাবাহিনীর বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ এবং রাজাকার কমান্ডার গাজী আব্দুল মান্নান ও হাফিজ উদ্দিন। আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে আজহারুল ইসলামকে।
আসামি পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, নির্যাতনের লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের সাতটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এতে ছিল ১৪ জনকে হত্যা ও গণহত্যা, একজনকে আটক ও নির্যাতন এবং ২০-২৫টি বাড়িতে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ।
অভিযোগগুলোর মধ্যে হত্যা-গণহত্যার তিনটি (১, ৩ ও ৪ নম্বর) ছিল পাঁচজনেরই বিরুদ্ধে। বাকি চারটির মধ্যে হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের দুটিতে (৬ ও ৭ নম্বর) গাজী আব্দুল মান্নান এবং হত্যার একটিতে (২ নম্বর) নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও হত্যার একটিতে (৫ নম্বর) শামসুদ্দিন আহমেদ এককভাবে অভিযুক্ত হন। এসব অভিযোগে ভিন্ন ভিন্নভাবে আসামিদের সাজা দেয় ট্রাইব্যুনাল। শুধু ৩ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছিলেন মান্নান।

রবিবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৬

ঘাটাইলে পাঁচ স্কুলছাত্রের তৈরি ড্রোন আকাশে


ওরা পাঁচ বন্ধু। মনিরুজ্জামান তালুকদার হূদয়, সজীব, সুমন রেজা, তৌকির ও ওমর ফারুক। পাঁচজনই টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। বয়সের বিবেচনায় তারা খুব বেশি বড় নয়। কিন্তু ওদের স্বপ্নটা অনেক বড়। দীর্ঘদিন ধরেই তারা চেষ্টা চালিয়ে আসছিল একটি ড্রোন বানানোর। অবশেষে তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়েছে। গত শুক্রবার সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এই ক্ষুদে পাঁচ বিজ্ঞানী তাদের তৈরি একটি ছোট ড্রোন নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠের আকাশে উড়িয়েছে।

ড্রোন তৈরি করা ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের দলনেতা মনিরুজ্জামান হূদয় জানায়, গত নভেম্বর মাসে তারা ড্রোনটির নির্মাণ কাজ শুরু করে। নির্মাণ কাজ শেষ হয় ৫ ডিসেম্বর। এখনও চলছে সেটির উন্নয়ন কাজ। ড্রোনটির সঙ্গে ক্যামেরা স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া সাঁতার না জানা কোনো ব্যক্তি যদি নদীর মধ্যে পড়ে যায় তাহলে তাকে বাঁচানোর জন্য ড্রোনটির মাধ্যমে এক কিলোমিটার দূর থেকেও লাইফ সাপোর্ট জ্যাকেট পাঠানো যাবে। 
হূদয় আরও জানায়, ৯৫০ গ্রাম ওজনের ড্রোনটি তৈরি করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এটি প্রায় ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের মালামাল বহন করতে পারে। প্রাথমিকভাবে দেড় কিলোমিটার এলাকায় রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তারা এটিকে আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও জনকল্যাণময় করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যদি সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয় তাহলে আরও উন্নতমানের ড্রোন তৈরি করা সম্ভব বলেও জানায় হূদয়।
ক্ষুদে বিজ্ঞানী সুমন রেজা জানায়, শ্রেণি শিক্ষিকা কামরুন্নাহার ড্রোনটি তৈরি করার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাদেরকে উত্সাহ প্রদান ও সব দিক দিয়ে সহযোগিতা করছেন। এর আগে তারা এয়ার প্লেন, কলিং কারসহ আরও কয়েকটি ইলেকট্রিক যন্ত্র তৈরি করেছে।

ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের ড্রোন তৈরি সম্পর্কে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাহাবউদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, ছাত্রছাত্রীদের যেকোনো ধরনের বিজ্ঞানমনস্ক গবেষণাকে আমরা উত্সাহিত করি। আমাদের শিক্ষার্থীদের তৈরি ড্রোনটি বিজয় দিবসের দিনে আকাশে ওড়ানোর জন্য আমরা বিশেষ ব্যবস্থা করি। ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের এ আবিষ্কার আমাদের জন্য গর্বের। আশা করি ভবিষ্যতে তারা আরও উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন আবিষ্কার করবে।   - 

ঘাটাইলে দেউলাবাড়ী স্পোটিং ক্লাবের ২য় বর্ষপূর্তি পালিত

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ 
২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত ঘাটাইলের দেউলাবাড়ী স্পোটিং ক্লাবের এর সদস্যরা পর পর ২টি আতসবাজি ফুটিয়ে গত শুক্রবার রাতে ২য় বর্ষপূর্তি পালন করেছে। খেলাধূলার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকা টাঙ্গাইরের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ীতে অবস্থিত দেউলাবাড়ী স্পোর্টিং ক্লাব।
জানাযায়, শুররু থেকেই খেলাধূলার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকে এই সংগঠনটি। বিভিন্ন স্কুল কলেজে বিনা মুল্যে রক্তের গ্রুপ নির্নয়,  বিনা মুল্যে ছাত্র-ছাত্রিদের গাছের চারা বিতরন, অসহায় গরীব দুঃখীদের  ফ্রি তে স্বাস্থ্য সেবা , চক্ষু সেবা সহ মাদক বিরোধী র‌্যালী এবং বাল্যবিবাহ বন্ধে সংগঠনটি নিরঅলসভাবে কাজ করে আসছে। 
২য় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে পালন করার সময় উপস্থিত ছিলেন, দেউলাবাড়ী স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক বিপ্লব রানা , সভাপতি মন্ডলীর উপদেষ্টা নাসিম আহাম্মেদ, সভাপতি ফয়সাল আহাম্মেদ , সম্পাদক শিশির আহাম্মেদ , তমাল তৌহিদ, সহ সম্পাদক নাইমুর রেজা, আলিফ মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শারিফুল ইসলাম সবুজ, ক্রিড়া-সম্পাদক মুহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর,  ফারুক সহ সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

রোশনারা আলী ঢাকায়

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্য দূত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রোশনারা আলী এক সরকারি সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গুরুত্ব আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরবেন এই সফরে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাণিজ্য দূত হিসেবে এটিই রোশনারা আলীর প্রথম বাংলাদেশ সফর।
তিনি তার সফরের সময় বাংলাদেশে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সদস্য, শিল্প ও বাণিজ্য নেতা, রাজনৈতিক নেতা ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
বাংলাদেশের নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার এলিসন ব্ল্যাক বলেন, রোশনারা আলীর এই সফর বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে প্রতিশ্রুতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক।
ব্ল্যাক বলেন, তার এই সফর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আমাদের প্রতিশ্রুতির আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আমাদের ব্যবসা ও বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করার পথকে উন্মুক্ত করবে।
যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক তৈরিতে ২০১২ সালে ক্রুস-পার্টি বাণিজ্য দূত কর্মসূচি শুরু হয়। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক হয়, যেখানে যুক্তরাজ্য প্রধান বাজার খুঁজে পায়।
এই কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বেতনভুক্ত নন। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ জন পার্লামেন্ট সদস্য ৫০টি বিভিন্ন মার্কেটে (দেশে) কাজ করছেন। প্রত্যেক বাণিজ্য দূত তাদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট সেক্টর ও দেশে তাদের জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নিযুক্ত হন।
এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মার্কেট ও সেক্টরে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ওই দেশের সরকারের নতুন (হোল-অব-গভর্নমেন্ট) পদ্ধতি।

রোশনারা আলী ঢাকায়

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্য দূত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রোশনারা আলী এক সরকারি সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গুরুত্ব আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরবেন এই সফরে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাণিজ্য দূত হিসেবে এটিই রোশনারা আলীর প্রথম বাংলাদেশ সফর।
তিনি তার সফরের সময় বাংলাদেশে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সদস্য, শিল্প ও বাণিজ্য নেতা, রাজনৈতিক নেতা ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
বাংলাদেশের নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার এলিসন ব্ল্যাক বলেন, রোশনারা আলীর এই সফর বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে প্রতিশ্রুতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক।
ব্ল্যাক বলেন, তার এই সফর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আমাদের প্রতিশ্রুতির আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আমাদের ব্যবসা ও বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করার পথকে উন্মুক্ত করবে।
যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক তৈরিতে ২০১২ সালে ক্রুস-পার্টি বাণিজ্য দূত কর্মসূচি শুরু হয়। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক হয়, যেখানে যুক্তরাজ্য প্রধান বাজার খুঁজে পায়।
এই কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বেতনভুক্ত নন। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ জন পার্লামেন্ট সদস্য ৫০টি বিভিন্ন মার্কেটে (দেশে) কাজ করছেন। প্রত্যেক বাণিজ্য দূত তাদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট সেক্টর ও দেশে তাদের জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নিযুক্ত হন।
এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মার্কেট ও সেক্টরে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ওই দেশের সরকারের নতুন (হোল-অব-গভর্নমেন্ট) পদ্ধতি।

শনিবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৬

পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের কত পাওনা?

রক্তাক্ত বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কি আদৌ পাকিস্তানের কাছ  থেকে তার পাওনা অর্থ আদায় করতে পারবে? পাকিস্তানিদের আগ্রাসন আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর চলে গেছে ৪৫ বছর। গণহত্যা চালানো পাকসেনাদের বিচার দূরে থাক, আর্থিক পাওনাই আদায় করতে পারছে না বাংলাদেশ।

১৯৭৪ সালের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকায় আসলে বঙ্গবন্ধু সরকার তার কাছে চারশ কোটি ডলার ন্যায্য পাওনা দাবি করেন। জুলফিকার আলী কৌশলে বঙ্গবন্ধুর দাবি এড়িয়ে যান। বঙ্গবন্ধু পরবর্তী সরকারগুলোর পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সাথে সম্পদ বণ্টনের বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
পাকিস্তান আমলের ডলারের মান ছিল এক টাকার বিপরীতে আট ডলার। সে হিসাবে বাংলাদেশ পাকিস্তান চার হাজার কোটি ডলার যা তখনকার টাকায় ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা। সুদ না ধরলেও ডলারের বর্তমান বিনিময় হারে তা প্রায় তিন লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। সুদ ধরলে সেটি আরও কয়েক গুণ হয়।
১৯৯৭ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তান সফর শেষে দেশে ফিরে এ ব্যাপারে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে ২০০২ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ঢাকায় আসলেও সম্পদ বণ্টন বিষয়টির কোন সুরাহা হয়নি।
২০০৬ এর ১২-১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বিহারি প্রত্যাবাসন ও সম্পদ বণ্টন বিষয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা করবেন বলে জানান। তবে সম্পদ বণ্টনের বিষয়টি অমীমাংসিত রেখেই চারটি সমঝোতা স্মারক, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় সমঝোতা শেষে দেশে ফিরে আসেন।
আরও নানা হিসাব
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাট এবং ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যা ইত্যাদি মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষয়-ক্ষতি হিসেব করে অর্থনীতিবিদরা দেখেছেন, যুদ্ধের নয়মাস সরকারি ও বেসরকারি খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ  ১২৪৯ কোটি টাকা বা ১.২ বিলিয়ন ডলার।
১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য সহায়তা হিসেবে বিভিন্ন দেশের পাঠানো ২০ কোটি ডলারও পায়নি তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের মানুষ। এদিকে মানুষ মরেছে হাজারে হাজারে আর বিদেশিদের অর্থ ও ত্রাণ সহায়তা জমিয়েছে তাদের ব্যাংক আর গুদামে।
পাকিস্তান আমলের ২৪ বছর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানিরা এখন থেকে রপ্তানি খাত থেকে হওয়া আয়ের প্রায় পুরোটাই পাচার করেছে। এদেশের কৃষক- শ্রমিকের খাজনার  টাকা গেছে পশ্চিম পাকিস্তানের পেটে। পূর্ব পাকিস্তানের টাকায় গড়ে উঠেছে করাচি, লাহোর, ইসলামাবাদ আর রাওয়ালপিন্ডির আধুনিক ভবন আর রাস্তাঘাট। এই হিসেব নেবে কে? দুইযুগে পাচার হওয়া বাংলাদেশের সম্পদ ফেরত চেয়ে পাঠানোর আছে কোন উপায়? আছে কোন উদ্যোগ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চারটি নীতি অনুসারে বাংলাদেশের দাবি সম্পূর্ণই যৌক্তিক। জনসংখ্যা নীতির নীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ৫৬ শতাংশ সম্পদ দাবি করতে পারে। সমতার নীতিতে বাংলাদেশ ৫০ শতাংশ দাবি করতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রানীতির ভিত্তিতে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান কর্তৃক অর্জিত মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ভিত্তিতে ৫৪ শতাংশ সম্পদের দাবি করতে পারে। এছাড়া সমগ্র দেশের সম্পদের অনুপাতের নীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ৪৪ শতাংশ সম্পদ দাবি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশ বিভক্ত হয়ে পড়লে বা স্বাধীন হলে দেশটির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিও বণ্টন হয়ে থাকে। কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তানের সম্পদের একটি অংশ বাংলাদেশের প্রাপ্য হলেও স্বাধীনতার ৪৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো সম্পদ পাকিস্তানের কাছ থেকে  বাংলাদেশ এখনো পায়নি।
পাকিস্তান শাসনামলে যেখানে জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্যের ৫৬ শতাংশ কিংবা সমবণ্টনের ভিত্তিতে ৫০ শতাংশ ঋণ পূর্ব পাকিস্তানের প্রাপ্য ছিল, সেখানে পাকিস্তান ৭৬৪০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি পেলেও পূর্ব পাকিস্তান পেয়েছে মাত্র ২০২৪ মিলিয়ন ডলার বা ২৬.৬ শতাংশ। ঋণের ৬৪৩৯ মিলিয়ন ডলার কাজে লাগানো হয় এবং বাংলাদেশ পায় ১৯৪১ মিলিয়ন ডলার বা ৩০ শতাংশ।
পাকিস্তানের অধীনে পূর্ব পাকিস্তান রপ্তানির মোট আয় করেছিল প্রায় ৫৪.৭ শতাংশ বা ২৫,৫৫৯ মিলিয়ন টাকা বা ৫,৩৭০ মিলিয়ন ডলার। এখানে পশ্চিম পাকিস্তানের আয় ছিল ২১,১৩৭ মিলিয়ন টাকা বা ৪,৪৪০ মিলিয়ন ডলার। ৪৬,৬৯৬ মিলিয়ন টাকার মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের আমদানির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ২০,০৬৭ মিলিয়ন টাকা। অর্থাৎ ৪,২২৬ মিলিয়ন ডলার যেখানে পশ্চিম পাকিস্তান পেয়েছে ৯,৩১২ মিলিয়ন ডলার। পূর্ব পাকিস্তানের রপ্তানি আয়ের উদ্বৃত্ত ৪৪২২ কোটি টাকা পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ব্যায় করা হয়। পাকিস্তান আমলে নেওয়া ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ ১৯৭৮ সালের মধ্যে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে সমাপ্ত প্রকল্পের মোট ৫০৬.৭৬১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৩.৪৮৫ মিলিয়ন ডলারের দায় গ্রহণ করে।
এ ছাড়াও সেসময় চলমান প্রকল্পের ১৪৫.৮৬ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৩৬.১২১ মিলিয়ন ডলারের দায়ও বাংলাদেশ গ্রহণ করে। তৎকালীন, পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক যেসকল পাকিস্তানি ছিল তারা যুদ্ধের সময় এবং স্বাধীনতার পূর্ব মূহূর্তে তাদের সম্পত্তি রেখেই  বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যায়।
এই টাকা আদায় কীভাবে সম্ভব?
পাকিস্তানের কাছে পাওনা আদায় করা নিয়ে ঢাকাটাইমস কথা বলেছিল অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদ এর সঙ্গে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে এই অর্থ উদ্ধারের জন্য সরকারকেই উদ্দ্যোগ নিয়ে প্রয়োজনে জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করতে হবে।’
এই অর্থনীতিবিদ বলেন,  ‘সরকার যদি সুষ্ঠু হিসাব নিকাশ করে একটি দাবিপত্র বিশ্বের সকল বড় অর্থকরি প্রতিষ্ঠানে  জমা দেয়, তবে পাকিস্তান থেকে পাওনা অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়ায় গতি আসবে।’
আনু মোহাম্মদ আরো বলেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রনীতি ও পরিকল্পনার কারণে বাংলাদেশের পুরো অঞ্চলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ তবে তাদের এই নীতির কারণে কিছু গোষ্ঠি লাভবান হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিজেরা ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উল্টো বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ৭০০ কোটি টাকা দাবির প্রসঙ্গে আনু মোহাম্মদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘পাকিস্তানের এ দাবির মূল কারণ হল বাংলাদেশের সাথে তাদের অন্যায় ও দায়কে এড়িয়ে যাওয়া।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘সরকারিভাবে দক্ষনেতৃত্বের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় পর্যায় বৈঠক করেতে হবে। এখানে পাকিস্তানের কোন সাড়া না পেলে প্রয়োজনে পার্শবর্তী দেশ ভারতসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি তুলে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা জরুরি।’
ডলারের বর্তমান মূল্যে প্রাপ্য অর্থ দাবি করা উচিত বলে মনে করেন এই সমাজবিজ্ঞানী। তিনি আরো বলেন, ‘এখানে যে যার কাছে টাকা পাবে সে তাকে পাওনা পরিশোধ করেব।’ পাকিস্তানি  সম্পত্তির হিসাব ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের পাওনার সমন্বয় করেও এ সমস্যার সহজ সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের কত পাওনা?

রক্তাক্ত বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কি আদৌ পাকিস্তানের কাছ  থেকে তার পাওনা অর্থ আদায় করতে পারবে? পাকিস্তানিদের আগ্রাসন আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর চলে গেছে ৪৫ বছর। গণহত্যা চালানো পাকসেনাদের বিচার দূরে থাক, আর্থিক পাওনাই আদায় করতে পারছে না বাংলাদেশ।

১৯৭৪ সালের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকায় আসলে বঙ্গবন্ধু সরকার তার কাছে চারশ কোটি ডলার ন্যায্য পাওনা দাবি করেন। জুলফিকার আলী কৌশলে বঙ্গবন্ধুর দাবি এড়িয়ে যান। বঙ্গবন্ধু পরবর্তী সরকারগুলোর পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সাথে সম্পদ বণ্টনের বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
পাকিস্তান আমলের ডলারের মান ছিল এক টাকার বিপরীতে আট ডলার। সে হিসাবে বাংলাদেশ পাকিস্তান চার হাজার কোটি ডলার যা তখনকার টাকায় ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা। সুদ না ধরলেও ডলারের বর্তমান বিনিময় হারে তা প্রায় তিন লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। সুদ ধরলে সেটি আরও কয়েক গুণ হয়।
১৯৯৭ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তান সফর শেষে দেশে ফিরে এ ব্যাপারে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে ২০০২ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ঢাকায় আসলেও সম্পদ বণ্টন বিষয়টির কোন সুরাহা হয়নি।
২০০৬ এর ১২-১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বিহারি প্রত্যাবাসন ও সম্পদ বণ্টন বিষয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা করবেন বলে জানান। তবে সম্পদ বণ্টনের বিষয়টি অমীমাংসিত রেখেই চারটি সমঝোতা স্মারক, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় সমঝোতা শেষে দেশে ফিরে আসেন।
আরও নানা হিসাব
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাট এবং ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যা ইত্যাদি মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষয়-ক্ষতি হিসেব করে অর্থনীতিবিদরা দেখেছেন, যুদ্ধের নয়মাস সরকারি ও বেসরকারি খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ  ১২৪৯ কোটি টাকা বা ১.২ বিলিয়ন ডলার।
১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য সহায়তা হিসেবে বিভিন্ন দেশের পাঠানো ২০ কোটি ডলারও পায়নি তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের মানুষ। এদিকে মানুষ মরেছে হাজারে হাজারে আর বিদেশিদের অর্থ ও ত্রাণ সহায়তা জমিয়েছে তাদের ব্যাংক আর গুদামে।
পাকিস্তান আমলের ২৪ বছর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানিরা এখন থেকে রপ্তানি খাত থেকে হওয়া আয়ের প্রায় পুরোটাই পাচার করেছে। এদেশের কৃষক- শ্রমিকের খাজনার  টাকা গেছে পশ্চিম পাকিস্তানের পেটে। পূর্ব পাকিস্তানের টাকায় গড়ে উঠেছে করাচি, লাহোর, ইসলামাবাদ আর রাওয়ালপিন্ডির আধুনিক ভবন আর রাস্তাঘাট। এই হিসেব নেবে কে? দুইযুগে পাচার হওয়া বাংলাদেশের সম্পদ ফেরত চেয়ে পাঠানোর আছে কোন উপায়? আছে কোন উদ্যোগ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চারটি নীতি অনুসারে বাংলাদেশের দাবি সম্পূর্ণই যৌক্তিক। জনসংখ্যা নীতির নীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ৫৬ শতাংশ সম্পদ দাবি করতে পারে। সমতার নীতিতে বাংলাদেশ ৫০ শতাংশ দাবি করতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রানীতির ভিত্তিতে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান কর্তৃক অর্জিত মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ভিত্তিতে ৫৪ শতাংশ সম্পদের দাবি করতে পারে। এছাড়া সমগ্র দেশের সম্পদের অনুপাতের নীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ৪৪ শতাংশ সম্পদ দাবি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশ বিভক্ত হয়ে পড়লে বা স্বাধীন হলে দেশটির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিও বণ্টন হয়ে থাকে। কিন্তু তৎকালীন পাকিস্তানের সম্পদের একটি অংশ বাংলাদেশের প্রাপ্য হলেও স্বাধীনতার ৪৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো সম্পদ পাকিস্তানের কাছ থেকে  বাংলাদেশ এখনো পায়নি।
পাকিস্তান শাসনামলে যেখানে জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্যের ৫৬ শতাংশ কিংবা সমবণ্টনের ভিত্তিতে ৫০ শতাংশ ঋণ পূর্ব পাকিস্তানের প্রাপ্য ছিল, সেখানে পাকিস্তান ৭৬৪০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি পেলেও পূর্ব পাকিস্তান পেয়েছে মাত্র ২০২৪ মিলিয়ন ডলার বা ২৬.৬ শতাংশ। ঋণের ৬৪৩৯ মিলিয়ন ডলার কাজে লাগানো হয় এবং বাংলাদেশ পায় ১৯৪১ মিলিয়ন ডলার বা ৩০ শতাংশ।
পাকিস্তানের অধীনে পূর্ব পাকিস্তান রপ্তানির মোট আয় করেছিল প্রায় ৫৪.৭ শতাংশ বা ২৫,৫৫৯ মিলিয়ন টাকা বা ৫,৩৭০ মিলিয়ন ডলার। এখানে পশ্চিম পাকিস্তানের আয় ছিল ২১,১৩৭ মিলিয়ন টাকা বা ৪,৪৪০ মিলিয়ন ডলার। ৪৬,৬৯৬ মিলিয়ন টাকার মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের আমদানির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ২০,০৬৭ মিলিয়ন টাকা। অর্থাৎ ৪,২২৬ মিলিয়ন ডলার যেখানে পশ্চিম পাকিস্তান পেয়েছে ৯,৩১২ মিলিয়ন ডলার। পূর্ব পাকিস্তানের রপ্তানি আয়ের উদ্বৃত্ত ৪৪২২ কোটি টাকা পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ব্যায় করা হয়। পাকিস্তান আমলে নেওয়া ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ ১৯৭৮ সালের মধ্যে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে সমাপ্ত প্রকল্পের মোট ৫০৬.৭৬১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৩.৪৮৫ মিলিয়ন ডলারের দায় গ্রহণ করে।
এ ছাড়াও সেসময় চলমান প্রকল্পের ১৪৫.৮৬ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৩৬.১২১ মিলিয়ন ডলারের দায়ও বাংলাদেশ গ্রহণ করে। তৎকালীন, পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক যেসকল পাকিস্তানি ছিল তারা যুদ্ধের সময় এবং স্বাধীনতার পূর্ব মূহূর্তে তাদের সম্পত্তি রেখেই  বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যায়।
এই টাকা আদায় কীভাবে সম্ভব?
পাকিস্তানের কাছে পাওনা আদায় করা নিয়ে ঢাকাটাইমস কথা বলেছিল অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদ এর সঙ্গে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে এই অর্থ উদ্ধারের জন্য সরকারকেই উদ্দ্যোগ নিয়ে প্রয়োজনে জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করতে হবে।’
এই অর্থনীতিবিদ বলেন,  ‘সরকার যদি সুষ্ঠু হিসাব নিকাশ করে একটি দাবিপত্র বিশ্বের সকল বড় অর্থকরি প্রতিষ্ঠানে  জমা দেয়, তবে পাকিস্তান থেকে পাওনা অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়ায় গতি আসবে।’
আনু মোহাম্মদ আরো বলেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রনীতি ও পরিকল্পনার কারণে বাংলাদেশের পুরো অঞ্চলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ তবে তাদের এই নীতির কারণে কিছু গোষ্ঠি লাভবান হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিজেরা ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উল্টো বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ৭০০ কোটি টাকা দাবির প্রসঙ্গে আনু মোহাম্মদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘পাকিস্তানের এ দাবির মূল কারণ হল বাংলাদেশের সাথে তাদের অন্যায় ও দায়কে এড়িয়ে যাওয়া।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘সরকারিভাবে দক্ষনেতৃত্বের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় পর্যায় বৈঠক করেতে হবে। এখানে পাকিস্তানের কোন সাড়া না পেলে প্রয়োজনে পার্শবর্তী দেশ ভারতসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি তুলে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা জরুরি।’
ডলারের বর্তমান মূল্যে প্রাপ্য অর্থ দাবি করা উচিত বলে মনে করেন এই সমাজবিজ্ঞানী। তিনি আরো বলেন, ‘এখানে যে যার কাছে টাকা পাবে সে তাকে পাওনা পরিশোধ করেব।’ পাকিস্তানি  সম্পত্তির হিসাব ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের পাওনার সমন্বয় করেও এ সমস্যার সহজ সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।