বৃহস্পতিবার, আগস্ট ০৯, ২০১৮

বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার হালচাল এবং গৃহীত পদক্ষেপ

২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসের রেষারেষিতে দুই শিক্ষার্থী নিহতের পর থেকে নিরাপদ সড়কের জোর দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। এই দাবির প্রেক্ষিতে  ৬ আগস্ট সোমবার সচিবালয়ে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।
জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ ও ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ও শহর। প্রায় ১৬ কোটি মানুষের বাসস্থান এই দেশে, প্রতি বর্গ কিঃমিঃ জায়গায় ১১১৮ জন বসবাস করে। রাজধানী ঢাকায় মাত্র ৩০০ বর্গ কিঃমিঃ এলাকায় প্রায় ১ কোটি মানুষের বাস যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিঃমিঃ জায়গায় ২৮৪১০ জন।  তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এখানকার সড়ক ব্যবস্থায় নানা সীমাবদ্ধতা  রয়েছে। জনসংখ্যা ও যান্ত্রিক যানের আধিক্য, গণপরিবহনের অপ্রতুলতা, রাস্তার স্বল্পতা, অবকাঠামোগত ত্রুটি, যানবাহনের তুলনায় প্রশিক্ষিত চালকের অভার, সড়ক শৃঙ্খলার বিষয়ে চালক তথা সকল শ্রেণীর নাগরিকদের অজ্ঞতা ইত্যাদি বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের পরিবহন খাত পরিচালিত হচ্ছে।

এত সীমাবদ্ধতা থাকা স্বত্বেও বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার হার বেশ কম। World Health Organisation (WHO) ও Global Status Report on Road Safety 2015 গবেষণা  অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দিক থেকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর হার বাংলাদেশ হতে বেশী। লাখ প্রতি জনসংখ্যায় সমগ্র বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির হার যেখানে ১৭.৪ সেখানে বাংলাদেশের হার ১৩.৬। উক্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণপূর্ব এশিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সম্মিলিত গড় ১৫.৯। ব্রাজিলের মত উন্নয়নশীল দেশের গড় ২৩.৪। ভারতের ১৬.৬, পাকিস্তানের ১৪.২, শ্রীলংকার ১৭.৪, নেপালের ১৭.০, ইন্দোনেশিয়ার ১৫.৩, মালয়েশিয়ার ২৪.০,সেীদি আরবের ২৭.৪। এটি পরিষ্কার যে, দক্ষিণ –এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তার অবস্থা বেশ ভাল। বুয়েট এর দুর্ঘটনা গবেষণা  ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী  ২০১৭ সালে এই হার ৭.৫ এ নেমে এসেছে।
নানান প্রতিকূলতা থাকা স্বত্বেও সরকার সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বদ্ধ পরিকর। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আইন প্রণয়ন এবং নানারকম নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমেও এ ব্যাপারে সরকার তার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।ক
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর খসড়ায় সর্বোচ্চ ৫ বছরের সাজা অনুমোদনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতিফলন হয়েছে। ইচ্ছাকৃত  দুর্ঘটনায় চালক বা সংশ্লিষ্টদের যে শাস্তির দাবি শিক্ষার্থীরা করে আসছে তার সবটাই এ আইনে রয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে মৃত্যু হলে এবং তা যদি প্রমাণ হয় ৩০২ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে। সুতরাং এই আইনে তাদের ইচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন হয়েছে।
ড্রাইভারকে মোট ১২ পয়েন্ট দিয়ে একাট ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হবে । একটা অপরাধে এক পয়েন্ট কাটা যাবে চালকের। এভাবে ১২ পয়েন্ট কাটা গেলে তাকে আর ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হবে না। এ অত্যাধুনিক ব্যবস্থা আগে আমাদের দেশে ছিল না। এবার এ আইনে এটা যুক্ত করা হয়েছে। এ আইনে  ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার বিষয়ে এবং মটরযানের রেজিষ্ট্রেশনসহ যানবাহন নিয়নন্ত্রণের বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর শাস্তি ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। বর্তমানে এ অপরাধের শাস্তি চার মাসের কারাদণ্ড বা ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড। নিবন্ধনহীন যান চালনার শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড। ফিটনেসবিহীন গাড়ির ক্ষেত্রে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড প্রস্তাব করা হয়েছে। চালকদের লাইসেন্স নিতে ন্যূনতম ১৮ বছর বয়স হতে হবে। আর পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে বয়স হতে হবে ২১ বছর। এছাড়া কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণী পাস না হলে কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
আইনে মোটরযান নির্মাণ, যন্ত্রপাতি বিন্যাস, ওজনসীমা নির্ধারণ এবং পরিবেশ দুষণসহ বেশকিছু ইস্যুতে এখানে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও বীমা ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা রাখা হয়েছে এ আইনে। চালক সমিতি, মালিক ও সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করার নির্দেশনা রয়েছে এ আইনে। এ ট্রাস্টি বোর্ডের কাজ হবে তহবিল তৈরি করা। দুর্ঘটনা ঘটলে ইন্সুরেন্সের সমস্যা সমাধানে যে সময় লাগে সেই সময়ে উক্ত তহবিল থেকে দ্রুত সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে পারে।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত কল্পে সরকারের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ সড়কে প্রাণহানির পরিমাণ  অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

শেখ হাসিনার সক্রিয় ভূমিকায় রাজধানীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে

প্রাধানমন্ত্রীর সক্রিয় ভূমিকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে। আজও রাজধানীর কোথাও কোনও শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করেনি। যানবাহন চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সকাল থেকে মহানগরীর শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাব, রামপুরা, বাড্ডা, মিরপুর ১০, উত্তরা হাউজ বিল্ডিং, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শিক্ষার্থীদের কোনও জমায়েত দেখা যায়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে গত কয়েকদিনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনায় রাজধানীতে গণপরিবহনের সংখ্যা তুলনামূলক কম দেখা গেছে। ট্রাফিক পুলিশকে বিভিন্ন সড়কে পরিবহনের কাগজপত্র চেক করতে দেখা গেছে। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি মোবাইল টিম এবং বিআরটিএ’র ৫টি মোবাইল কোর্ট রাজধানীতে পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে, ঈদের আগাম টিকিট নিতে বাস কাউন্টারগুলোতেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক (প্রকৌশলী) মাসুদ আলম জানান, সড়কে যানবাহনের অব্যবস্থাপনা প্রতিরোধে আমাদের ৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে।

গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। বিমানবন্দর সড়কের বামপাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন। তাদের কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।

এরপর থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত ৬ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। প্রথমে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও পরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। একটি কুচক্রী মহল শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভীন্ন খাতে প্রভাহিত করার চেষ্টা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সক্রিয় ভূমিকার ফলে তাদের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি।

দুর্ঘটনায় নিহত প্রতি পরিবারকে ২০ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস নির্মাণে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া শহীদ রমিজ উদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজকে ৫টি বাস দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে নতুন সড়ক পরিবহন আইন মন্ত্রীসভায় পাশ করা হয়েছে। এরপর থেকে রাজধানীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে।

খালেদা জিয়ার নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বই প্রকাশ করে ধরা খেলো দুইজন

আদালতের অনুমতি ছাড়াই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেয়া জবানবন্দি বই আকারে প্রকাশ করছে একটি চক্র। বইটিতে আদালতে দেয়া খালেদা জিয়ার জবানবন্দি, মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রসহ বিভিন্ন অসত্য তথ্য জুড়ে দেয়া হয়েছে।
৮ আগস্ট দুপুরে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাইয়ুমুজ্জামান খান।

তিনি জানান, ৭ আগস্ট রাতে মিরপুর ১০ নম্বরে এসএ পরিবহন থেকে ৫ কার্টনে ‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ নামের বইটির ৪৮৫টি কপিসহ আব্দুর রহমান নূর রাজন (৩২) ও মেহেদী আরজান ইভান (৩৭) নামে দুইজনকে আটক করা হয়।

তিনি বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তথ্য গোপন করে আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে মিথ্যা, বিকৃত ও অসত্য তথ্য সম্বলিত এই বইটি সিলেটের একটি প্রেসে ছাপিয়ে ঢাকায় বাজারজাত করতে চেয়েছিল গ্রেফতাররা। সরকারকে বেকায়দায় ফেলা, আদালত সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতেই তারা এই কাজ করছিল বলেও জানান র‍্যাবের এই কর্মকতা।

তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা য়ায়, বইটি ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন মেনে প্রকাশ করা হয়নি। তার সহযোগী হিসেবে ইভান, ওয়াসিম ইফতেখারুল হক, শিপন মোল্লা, বৈরাম খাঁ ওরফে রেজওয়ানুল হক শোভন এবং আব্দুর রব চৌধুরী নামের কয়জন কাজ করছিলেন। তারা আদালতের অনুমতি ছাড়াই একে অপরের সহায়তায় বিচারাধীন একটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ এক আসামির জবানবন্দি, মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করে কতিপয় সুশীল সমাজের মন্তব্য সন্নিবেশ করে তা গোপনে প্রকাশ করে। গ্রেফতার রাজন ও ইভান মূলত একজন অনলাইন এক্টিভিস্ট ও সাইবার এনালিস্ট। তাদের কাছ থেকে জব্দ মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের বিষয়ে ফেসবুক উস্কানির বিভিন্ন পোস্ট পাওয়া গেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিও বলেন, এই বই প্রকাশের পেছনে কোনো রাজনৈতিক নেতা কিংবা আরো কেউ জড়িত আছে কি না, বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে। এঘটনায় রাজধানীর মিরপুর থানায় ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

ঘাটাইলে ভ্রাম্যমান আদালতের ১৬টন ভেজাল সরিষার তৈল জব্দ

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল : বুধবার বিকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পৌর এলাকার পশ্চিমপাড়া গুডাউন থেকে ১৬টন ভেজাল সরিষা তৈল জব্দ করেছে ভ্রম্যমান আদলতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রট, সহকারী কমিশনার (ভুমি) আম্বিয়া খাতুন।এ সময় গুডাউনের মালিক মোজাম্মেল হোসেন (৩০) কে ১ লক্ষটাকা জরিমানা করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহমেদ জানায়, ঘাটাইল উপজেলা পৌর এলাকার  ধারিয়াল গ্রামের বাসিন্দা হাজী মহিউদ্দিনের ছেলে, মোঃ মোজাম্মেল হোসেন (৩০) দীর্ঘদিন যাবৎ মানব দেহে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল সরিষার তৈলের সাথে মিশিয়ে বিক্রি করে আসছে ।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রট সহকারী কমিশনার (ভুমি) আম্বিয়া খাতুন পশ্চিমপাড়ায় অবস্থিত গুডাউনে তল্লাশী করে ৬৫ ড্রাম বা ১৬টন কেমিক্যাল জব্দ করে পার্শ্ববর্তী ডোবায় ফেলে দেয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন জানায় গুডাউন তল্লাশী করে ১৬টন সরিষার তৈলে মিশানোর জন্য কেমিক্যাল রাখা হয়েছিল যার আনুমানিক মুল্য ২৫লক্ষাধিক টাকা সম্পুর্ন ধ্বংশ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র : নিউজ৭১অনলাইন ।

উরু হোক সুগঠিত



স্থুল উরু না হোক, সুগঠিত উরু সকলের পছন্দ। অতিরিক্ত মেদ জমলে উরু লাগে বেখাপ্পা। আর যদি থাকে সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে ঠিকঠাক, তবে সেটাই কাঙ্ক্ষিত। উরুর বিষয়েও থাকা উচিত ভীষণ সচেতন। 

হার্ভার্ড হেলথ পাবলিকেশনসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অয়েস্ট্রোজেন দেহের উরু, কোমর ও শ্রোণীচক্রের চারপাশে চর্বি জমার কারণ হয়। আর টেসটোস্টেরণ চর্বি জমায় পেটে। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের আরেক গবেষণায় বলা হয়, উরুর চর্বি সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের জন্যে ভালো হলেও তা সৌন্দর্য নষ্ট করে। সাধারণত শরীরচর্চা কেন্দ্রে উরু স্লিম করতে ছুটে গেলে প্রশিক্ষক আপনাকে সীমাহীন পরিশ্রম করাবেন। তাই যদি নিজ উদ্যোগে এ কাজটি করতে চান, তবে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



সোল-টু-সোল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সানা বিদ্যালংকার জানান, উরুর চর্বি কমানোর অর্থ একে পেশিতে পরিণত করা। কেউ চান না তার উরু খুব বেশি সরু হোক। তবে বাড়িতে বা জিমনেশিয়ামে যেখানেই সুযোগ পান সুন্দর উরু পেতে নিন কিছু মৌলিক টিপস। 

১. স্টেয়ারমাস্টার স্টেপমিল : ব্যায়ামাগারে স্টেয়ারমাস্টার ব্যবহার করতে পারেন ২০-৩০ মিনিট। স্পোর্টসফিট জিমের ব্যবস্থাপক গৌরব শর্মা জানান, স্টেয়ারমাস্টার স্টেপমিলের ব্যবহারে দেহের নিচের অংশের সৌন্দর্য আদর্শমানের করে তোলা যায়। ব্যায়ামের আগে হাই গ্লিসেমিক খাবার খেয়ে নিন আধা ঘণ্টা আগে। যদি জিমে যেতে অলস লাগে তবে বাড়িতে বা অফিসে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। 

২. ট্রেডমিল : কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম এর চাবিকাঠি। ট্রেডমিলে দৌড়াতে পারেন। এতে বাড়তি চর্বি পুড়ে যায়। পেশি হয় সুগঠিত। এ যন্ত্রের উচ্চতা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ঠিক করে নিতে পারেন। এতে উরুর ওপর চাপ পড়বে বিভিন্নভাবে। যদি বাইরে দৌড়ানোর সুযোগ থাকে তবে তা হেলায় হারাবেন না। 

৩. স্কোয়াট : দুই পা কিছুটা ফাঁকা করে সোজা হয়ে দাঁড়ান। দুই হাঁটু ভাঁজ করে শূন্যে বসুন এবং আবারো দাঁড়ান। হাঁটু ভাঁজ হওয়ার সময় দুই হাত সামনের দিকে সমান্তরালভাবে বাড়িয়ে দিন। বসার সময় খেয়ার রাখবেন আপনার শিঁড়দাঁড়া সোজা হয়ে রয়েছে। একবার বসার পর শূন্য থেকে ৮ পর্যন্ত গুনতে থাকুন। তারপর আবার দুই পায়ে দাঁড়িয়ে পড়ুন। প্রতিদিন ৮-১০ বার এভাবে স্কোয়াট করুন। 

৪. পা উঁচিয়ে রাখা : যদি ব্যায়ামাগারে যেতে আলস্য আসে তবে এই ব্যায়ামটি আপনার ইচ্ছা পূরণ করতে পারে। মেঝেতে উপুর হয়ে সটান শুয়ে পড়ুন। দুই হাত মেঝেতে চাপ দিয়ে দুই পা ৪৫ ডিগ্রি কোণে উঁচিয়ে ধুরুন। কিছু সময় ধরে রেখ ধীরে ধীরে পা দুটো নামিয়ে আনুন। ধীরে ধীরে পা দুটো উঁচুতে রাখার সময় বৃদ্ধি করতে হবে। প্রথম দিন ৬ সেটে ব্যায়ামটি শুরু করতে পারেন। 

৫. লাঞ্জেস : প্রথমে সোজা হয়ে দাঁড়ান। এবার হাঁটু দুটো ভাঁজ করা শুরু করুন। একটি পা সামনের দিকে এগিয়ে নিন। যে পাটি সামনে ভাঁজ করে নিলেন তার ওপর পুরো দেহের ভর চাপিয়ে দিন। অপর পাটি সোজা অবস্থায় পেছনে থাকবে। এই ঢংয়ে আট সেকেন্ড থাকুন। আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। এবার অপর পা একই ঢংয়ে সামনে বাড়িয়ে দিন। 

৬. নি-প্লাঙ্ক : ছবিতে দেখুন। বাম হাত ও ডান পায়ে ভর দিয়ে অন্য দুই হাত পা সামনে-পেছনে ছড়িয়ে দিন। যে দুটো হাত-পা ছড়িয়ে দেবেন তা সমান্তরাল রাখবেন। একইভাবে অন্য দুই হাত-পা ছড়িয়ে দিন। এ কাজ দিনে ৬ বার করে করুন। 

৭. সাইক্লিং : দেহের বিশেষ কোনো অংশে চর্বি কমানো যখন কঠিন বলে মনে হয়, তখন সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যেতে পারেন। এটা উরু কমানোর দারুণ ব্যায়াম। সাইকেল দুই পা দিয়েই চালাতে হয়। তাই পায়ের দারুণ ব্যায়াম হয়। উরু তো বটেই, কোমরের দারুণ যত্নের উপায় সাইক্লিং। 

এসব ব্যায়াম করার সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট 

তৃণমূল বিএনপির সমর্থনেই জামায়াতকে মাইনাসের সিদ্ধান্ত ‘চূড়ান্ত’

২০ দলীয় জোট থেকে শরিক দল জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দেয়ার জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে বিএনপির তৃণমূল নেতারা। নেতারা এর পেছনে বেশকিছু যুক্তিও তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে। সূত্র বলছে, যুক্তিগুলো বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামীকে ২০ দল থেকে বাদ দেয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

৩ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তৃণমূল বিএনপি নেতাদের সাথে জামায়াতে ইসলামীকে জোট থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে আলোচনায় এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছে তারা। দুদিনব্যাপী তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে দলটির হাইকমান্ড বৈঠকে বসে। ৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিএনপির ১৯টি সাংগঠনিক জেলার সঙ্গে বৈঠক করে দলের হাইকমান্ড। এই সেশনে ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দিতে তৃণমূল নেতারা পরামর্শ দেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও আগামী নির্বাচনের আগে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ডাক দেওয়া ‘জাতীয় ঐক্য’ করতে জোট থেকে জামায়তকে বাদ দেওয়া দরকার বলে মত দিয়েছেন।
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর এ বক্তব্যকে সমর্থন করেন রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনে এখন জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দিতে হবে।
২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দিতে জেলার নেতারাও এই দুই সাংগঠনিক সম্পাদকের বক্তব্যকে সমর্থন দেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈঠকে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটি এক সদস্য বলেন, তৃণমূল নেতারা জামায়াতকে বাদ দিতে পরামর্শ দিয়েছেন। বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও জামায়াতের অসহযোগমূলক মনোভাবে আমরাও এর যুক্তিকতা খুঁজে পাই। তবে জমায়াতকে বাদ দেয়া নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু না বললেও একে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলা অমূলক হবে না। কেননা, তাদের ডিসকার্ড করা এখন তৃণমূলেরও দাবি। অতি-সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জোট সঙ্গীদের নিজেদের করে ভবিষ্যত গড়ার পরিকল্পনা জামায়াতের


জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে টানাপোড়েন। চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে গিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব চরম পর্যায়ে রূপ নিয়েছে। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এমনকি বিবিধ অভিযোগে ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বের করে দেয়ারও পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াত জোটের সঙ্গীদের নিজেদের করে ভবিষ্যত গড়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। সূত্র বলছে, জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনসমর্থন প্রায় তলানিতে পৌঁছেছে বিএনপির। আর তাই শরিকদের নিজেদের দিকে টেনে ভবিষ্যত গড়তে চায় জামায়াত।
বিএনপির একাধিক নীতি নির্ধারক জানান, জামায়াতের একটি অংশের কার্যক্রমের ওপর অনেক আগে থেকেই তারা নজর রাখতে শুরু করে। নজরদারীতে তাদের কর্মকাণ্ডে গলদ দেখা যায়। দলের হাইকমান্ডও বিষয়টি অবহিত এবং বর্তমানে রাজনৈতিক নানা হিসাব-নিকাশ করেই কোনো কৈফিয়ত চাওয়া হচ্ছে না। আপাতত কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতেই সচেষ্ট দলের হাইকমান্ড।

অন্যদিকে জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির নেতিবাচক মনোভাবের প্রেক্ষিতে জামায়াতের সিনিয়র নেতারা বলছেন, জামায়াত আর কাউকে কৈফিয়ত দিতে প্রস্তুত নয়। বরং মৃতপ্রায় বিএনপি থেকে বেরিয়ে আলাদা একটি প্লাটফর্মে তৈরি করে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়ার মতো সামর্থ জামায়াতের রয়েছে। ২০১৩ ও ২০১৫ সালের ‘আন্দোলনে’ বিএনপিকে ‘সর্বাত্মক সমর্থন’ দিয়ে রাজপথে ছিল জামায়াত। তাদের হিসাবে এ আন্দোলনে জড়িয়ে তাদের তিন লাখ ৬০ হাজার নেতাকর্মী মামলার আসামি হয়েছেন। শতাধিক নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে সংঘর্ষ-সহিংসতায়। কিন্তু প্রতিদানের বেলায় ফলাফল শূন্য।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর একজন আমীর বলেন, বর্তমানে বিএনপি যে আবস্থানে পতিত হয়েছে তাতে তারা আর মাথা তুলে দাঁড়ানোর মতো অবস্থায় নেই। আর এমন পরিস্থিতিতে তাদের জনসমর্থন যেখানে পৌঁছেছে তা নিয়ে দলের শরিকরাও চিন্তাগ্রস্ত। ফলে আমরা চাইলেও শরিকদের নিয়ে নতুন করে বেড়ে উঠতে পারি। তাতে শরিক দলগুলোর সমর্থনও রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু কালের বিবর্তনে ২০ দলের প্রধান দুই জোট-শরিক এখন প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে দেখার বিষয় বিএনপির হাতে জামায়াত নাকি জামায়াতের হাতে বিএনপি পরাস্ত হয়।