বুধবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৮

ঘাটাইলে সাংবাদিকদের সাথে জেলা তথ্য অফিসারের মত বিনিময়

বুধবার বিকালে ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের বিভিন্ন পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসারের এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের তথ্য সমূহ সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন এবং তা প্রচারে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহমেদ,  জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার কজাী গোলাম আহাদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নূরুল ইসলাম,  ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি মোঃ সাজ্জাদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুজ্জামান মিঞা, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও  সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক  আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সাংবাদিক সাইয়্যিফ মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ, নিউজ ২৪ জেলা প্রতিনিধি আতিকুর রহমান, আনোয়ার হোসেন বকুল, বিষ্ণু প্রিয় দীপ, রেজাউল করিম খান রাজু প্রমুখ।

ঘাটাইলে যেভাবে শূণ্য থেকেকোটিপতি ইউপি চেয়ারম্যান

রবিউল আলম বাদল, ভোরের কাগজ: উত্তর টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, কালিহাতী, ভূয়াপুর, গোপালপুর, মধুপুর, ধনবাড়ী উপজেলার টপটেরর মাদক সম্রাট, বিশিষ্ট জুয়ারু, নারী ব্যবসার মহাজন, সুদ ও ঘুষখোরের কথিত সভাপতি, দুর্নীতির মহারাজা, সন্ত্রাসের গডফাদার, সকল অপরাধের হোতা ঘাটাইল উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অপরাধের অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। তিনি জেলার উত্তর এলাকায় মাদক জুয়া, নারী সুদ, ঘুষ প্রতারনা ও দুর্নীতির ফাঁদ তৈরি করে এলাকায় শত শত পরিবারকে নিঃস্ব ও ধ্বংস করে নিজে সম্পদের পাহাড় গড়লেও তিনি রয়েছেন ধরাছোয়ার বাইরে। তার বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে ঘাটাইল, কালিহাতী ও টাঙ্গাইল থানায় মাদক, জুয়া, নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সহ ১০ থেকে ১২টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। মানুষ তার ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও অনেকে গোপনে আইনের কাছে তার শাস্তি দাবী জানিয়েছেন।

গত দুই মাসের অনুসন্ধানে ভূক্তভোগী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, মাতাব্বর, এলাকার যুবক ছাত্র বৃদ্ধ ব্যবসায়ী শিক্ষক শ্রমিক দিনমজুর সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, দিঘলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সকাল বেলায় ঘুম থেকে জাগে জুয়ার টাকা হাতে নিয়ে। দুপুরে ভাত খায় সুদ ও ঘুষের টাকা দিয়ে এবং রাতে ঘুমাতে যায় মাদকের টাকা হাতে নিয়ে। এভাবে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বে-আইনী কর্মকান্ড চালিয়ে আট বছরে শূণ্য থেকে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। অনুসন্ধানে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।

ভূক্তভোগী ও এলাকাবাসী জানায়, চেয়ারম্যান নজরুল উত্তর টাঙ্গাইলের মাদক, জুয়া নারী, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের গডফাদার। তার ইশারায় এলাকায় সকল অপরাধ সংগঠিত হয়ে থাকে। ২০০৪ ও ২০১৭ সালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফায়দা লুটতে কাশতলা ও নাটশালা গ্রামের মধ্যে মারামারি সৃষ্টি করে শতাধিক দোকানপাট ও হাট ভাংচুর ও লুটতরাজ করে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। তাছাড়াও হামিদপুর গ্রামের রাজ্জাক খার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে লুটতরাজ করে চেয়ারম্যান নজরুল। শেষে নজরুলকে আসামী করে একাধিক মামলা হয়।

তার অতীত কর্মকান্ডের ফলে উপজেলার দেউলাবাড়ি বাজার থেকে কালিহাতী ব্রীজ পর্যন্ত আশে পাশের মানুষ তার ভয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকে। জানা যায়, নজরুল যেমন উশৃংখল তেমনি বেপরোয়া। সে গায়ের জোরে আইনকেও তোয়াক্কা করে না।

২০১৪ সালে জামায়েত বিএনপির আন্দোলনের সময় দেউলাবাড়ি থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত গাড়ি পোড়ার নেতৃত্ব দেয় চেয়ারম্যান নজরুল। তার নামে পাকুটিয়া গাড়ী পোড়া, বানিয়াপাড়া গাড়ী ভাঙ্গা, গুণগ্রাম গাড়ীপোটা, কদমতলী হুন্ডা পোড়া, হামিদপুরে গাড়ী পোড়া ও টাঙ্গাইলে নাশকতার মামলা রয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের লোক হয়েও তার ইউনিয়নে সরকারী দলের ইউপি সদস্যদের কাজ না দিয়ে উল্টো তাদের কোনঠাসা করে রাখে। ফলে ২০১৭ সালের টিক্কা মেম্বারের নেতৃত্বে সকল ইউপি সদস্য তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অনাস্থা দিলেও তিনি ক্ষমতার বলে আজও রয়েছেন বহাল তবিয়তে।

হামিদপুর বাজারে একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, নজরুল এলাকায় নাম করা অপরাধ জগতের হোতা। এমন কোন অপরাধ নাই যা তিনি না করে থাকেন। তিনি মাদক বিক্রি থেকে শুরু করে জুয়ার ব্যবসা, সুদের ব্যবসা, ঘুষের ব্যবসা, নারীর ব্যবসা, ছাড়াও প্রতারনা ও দুর্নীতি করে নিজে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। আট বছর আগেও যার লবন আনতে পান্তা ফুরাত, সে আজ নাটশালা গ্রামে দুইতলা পাকা বাড়ীর মালিক। কালিহাতী সদরে জমি ক্রয় করে একতলা রাজপ্রাসাদ তৈরি করে সেখানে বসবাস করছেন। তাছাড়াও তার রয়েছে ময়মনসিংহের বাসা, ঢাকা আশুলিয়ায় বাসা, সাভারে ব্যবসা, পাবনায় পেট্রোল পাম্প, কালিহাতীতে একাধিক রাইচমিল, হামিদপুরের একাধিক রাইচমিল ও ইটভাটা। উত্তরবঙ্গে একাধিক গাড়ী, হামিদপুর কবিরের বাসা ও বাবুল সাহার ব্যাটারীর দোকানে জুয়া খেলা, শতাধিক মাদকের ডিলারের নিকট থেকে টাকা আদায় করা ছাড়াও প্রায় ২০ কোটি টাকা সুদ ব্যবসা এক হাতে পরিচালনা করে আসছে।

জানা যায়, চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম প্রতারকের বড় ভাই, তিনি গাছের শিকর কেটে উপরে পানি ঢালে। তিনি একদিকে গোপনে এনজিওর মাধ্যমে ভূয়া সার্টিফিকেট ক্রয় করে এলাকায় শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান বলে প্রচার করে, অপরদিকে তিনি জুয়া, মাদক, নারী ফাঁদে যুবসমাজকে ধ্বংস করে তাদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে।

কালিয়াগ্রাম, সালেঙ্গা ও হামিদপুর গ্রামের একাধিক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, চেয়ারম্যান নজরুলের মতো এতো বড় মাদক সম্রাট টাঙ্গাইল জেলায় দ্বিতীয় জন নাই। তার যতগুলি মাদকের ডিলার রয়েছে কোন কোন ইউনিয়নে ঐ পরিমান লোক বসবাস করে না।

তারা আরও জানায়, নাটশালা গ্রামের শাজাহান তালুকদারের ছেলে মনিরুজ্জামান ওরফে মনির মেম্বার এবং একই গ্রামের বেল্লাল হোসেনের ছেলে রুবেল এরা উভয়েই মাদকে বড় ডিলার এবং চেয়ারম্যান নজরুলের প্রধান সহযোগী। বর্তমানে মনির মেম্বার পলাতক থাকায় তার ব্যবসা পরিচালনা করছে মনির মেম্বারের স্ত্রী এবং চেয়ারম্যান নিজেই।

মনির এবং রুবেল এর মতো উপজেলায় আরও মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে তারা হলো নাটশালা গ্রামের ময়েজ মিয়ার ছেলে মুক্তার আলী, ভোলা মিয়ার ছেলে কিসলু, সুরুজ আলীর ছেলে কবির হোসেন, হায়দর আলী স্ত্রী বেদেনা (বর্তমান ঠিকানা-হামিদপুর) কালিয়াগ্রামের হাবু মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম, একই গ্রামের আন্তাজ আলীর ছেলে রাজ্জাক ওরফে কানা , জোতনসর গ্রামের বাছেদ মিয়ার ছেলে রঞ্জু, নজুনবাগ গ্রামের ফরহাদ ও শিপন, কোকডহরা গ্রামের শুকুর, ব্রাহ্মণশাসন গ্রামের মাহতাব উদ্দিনের ছেলে আতিক, ধোপাজানী গ্রামের ফজলু তালুকদারের ছেলে মনি মেম্বার, একই গ্রামের করিমের ছেলে মিজানুর রহমান মিঠু, হবিবরের ছেলে কালাম, বেলদহ গ্রামের মিন্নাত আলীর ছেলে জাকির, একই গ্রামের সাবিব্বার হোসেন, হামিদপুর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে হারুন ও মেয়ে মনি, খালেক মিয়ার ছেলে বারেক, হুমায়ুন, আশরাফ, গারট্ট গ্রামের মৃত-জুলহাস মেম্বারের ছেলে আলমগীর হোসেন বাদশা, একই গ্রামের জাহাঙ্গীর, কাশতলা গ্রামের খলিল ড্রাইভারের ছেলে আরশেদ (তার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে সবাই মাদক বিক্রি করে) আঠারদানা গ্রামের বাহাদ আলীর ছেলে রউফ, মোদি মিয়ার ছেলে আলাল, দেলোয়ারের ছেলে মনি, বাগুনডালী গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ ও রাজু, (রাজুর বর্তমান ঠিকানা মিলকুড়িয়া) মাইজবাড়ি মৃত খালেকের ছেলে হিরা মেম্বার, পুরুলী মাইজবাড়ী গ্রামের মৃত আবুল পুলিশের ছেলে রঞ্জু, একই গ্রামের মীর বাদশাহ এর ছেলে জুয়েল, ওমর আলীর ছেলে এনামুল, মৃত-হাসান সরকারের ছেলে মালেক সরকার, ওমর আলীর ছেলে মিলন সহ এরকম ৭০ জন মাদকের ডিলার রয়েছে। চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তাদের সকলের গডফাদার।

চেয়ারম্যান এসব মাদকের ডিলারের কাছ থেকে সাপ্তাহিক কিংবা মাসিক হিসেবে মাসওয়ারা নিয়ে প্রতি মাসে আয় করে প্রায় কোটি টাকা। মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যেকের নামেই ৫/১০/২০টি করে মাদক মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের ১০/২০ বার আটক হয়েও আইনের ফাক ফোকরে ছাড়া পেয়ে পুনরায় চেয়ারম্যানের সহযোগীতায় মাদক ব্যবসা করে আসছে।

বাগুনডালী মাইজাবাড়ী গ্রামের এক মাদক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চেয়ারম্যান নজরুলকে চাঁদা না দিয়ে কেউ মাদকের ব্যবসা করতে পারে না। যারা টাকা দেয় না তারাই বার বার পুলিশের হাতে আটক হয়। যারা চেয়ারম্যান নজরুলকে সাপ্তাহিক বা মাসোয়ারা নিয়মিত দেয় তারাই আটকের ভয় না করে অনায়াসে মাদক বিক্রি করে আসছে।

হামিদপুর এলাকার এক ড্রাইভার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায় নজরুল (চেয়ারম্যান) আড়ালে তার নিজস্ব লোক দিয়ে হামিদপুর পেট্রোল পাম্পের দ্বিতীয় তলায় কালো গ্লাসের ভেতরে বসে গোপনে নিজেই হিরোইন ও জুয়ার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এই হিরোইন বিক্রির দায়ে ২০১৪ সালে চেয়ারম্যান সহ তার ব্যবসার সহযোগী বাদে পারশী গ্রামের রহিমের নামে ১ কেজি হিরোইন বিক্রির দায়ে মামলা দেয় ঘাটাইল থানা পুলিশ। সে মামলায় চেয়ারম্যান নজরুল হাইকোর্ট থেকে জামিনে এলেও আঃ রহিম তিনমাস হাজত বাস করে।

এসব অপরাধের বিষয়ে দিঘলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এতকিছু করিনা, মানুষ না জেনে আমার নামে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে।

পুলিশ কেন আপনার নামে মাদক ও জুয়ার মামলা দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশ প্রথমে আমাকে সন্দেহ করেছিল পরে ঠিক হয়ে গেছে।

চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদক, জুয়া সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে ঘাটাইল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদুল আলম বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না।

মাদক, জুয়া, সন্ত্রাসী দমন বিষয়ে ঘাটাইল আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ তুহিনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে জঙ্গি দমন হয়েছে মাদকেও দমন করা হবে। তবে ঘাটাইল উপজেলায় যত বড় মাদক সম্রাট, জুয়ারু, ঘুষখোর ও সন্ত্রাসী থাকুক না কেন তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত বিএনপি

১২ বছর ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে চিকিৎসাধীন। শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত প্রত্যেকটি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা। কারাগারেও বন্দি রয়েছেন অসংখ্য নেতাকর্মী।

এই অবস্থায় সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সংবিধান অনুয়ায়ি বর্তমান সরকারের অধীনেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যদিও একই পরিস্থিতিতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকরা।
Amader Ghatail
তাই এবার নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করতে যুক্তফ্রন্ট, গণফোরামকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে বিএনপি। আজ সিলেটে হতে যাচ্ছে এই জোটের প্রথম মহাসমাবেশ। রাজপথের আন্দোলনের জন্য এই জোট গঠন করা হলেও ২০ দলীয় জোটের মতো ঐক্যফ্রন্টও নির্বাচনী জোটে পরিণত করতে চায় দলটি। চাওয়া-পাওয়া ভুলে বৃহত্তর স্বার্থে শরিকদের বড় ধরণের ছাড় দিয়ে হলেও বর্তমান সরকারের বিদায়ের পক্ষে দলটির নেতাকর্মীরা। দলটি সূত্রে জানা যায়, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যে কোন মূল্যে বর্তমান সরকারের বিদায়ের জন্য বার্তা পাঠিয়েছেন কারাবন্দি অবস্থা থেকে। একইরকম নির্দেশনা দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। চাওয়া-পাওয়া, ভাগাভাগি, দাবি-দাওয়াতে মনোযোগ না দিয়ে গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে নেতাকর্মীদের কাজ করতে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতির এই চরম দুর্দিনে জাতি মুক্তির পথ খুঁজছে, সকলে পরিবর্তন দেখতে চান, এই সরকারের পতন দেখতে চান। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চান। যিনি তার সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। এজন্যই তাকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাবন্দি করা হয়েছে। তিনি জেলে যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিলেন, দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে, দেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। সকল দল, মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি সবাইকে এই স্বৈরাচার ও দখলদার সরকারকে সরাতে হবে। এজন্য ঐক্য হচ্ছে একমাত্র পথ। এর কোন বিকল্প নাই। কারাগার থেকেও খালেদা জিয়া খবর পাঠিয়েছেন, আমার কি হবে সেটি নিয়ে পরোয়া করিনা। যে কোন মূল্যে এই দুঃশাসন থেকে মুক্ত হতে, স্বৈরাচার সরকারকে সরাতে হবে। জোট গঠন এবং জোটের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা রকম সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আসন, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর পদ কে পাবেন কিংবা মন্ত্রী ইত্যাদি। তবে এসব কিছুকেই গণমাধ্যমের অনুমানভিত্তিক বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। তারা মনে করেন এখন কোন চাওয়া পাওয়া নয়, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি তাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী কেন আলোচনা করে শীর্ষ নেতারা যে কোন বড় ধরণের ত্যাগও স্বীকার করতে রাজি আছেন। যার দৃষ্টান্ত ইতোমধ্যে ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে বিএনপি। ফ্রন্টের সভায় ৭ নম্বর চেয়ারে বসেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যে দাবি এবং লক্ষ্য নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চলছে সেই দাবি আদায় হলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকল দল ও জোটকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন ও কনকল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারেও আশাবাদ প্রকাশ করেছেন তারা। এক্ষেত্রে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে ছাড় এবং ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত নেতাকর্মীরা। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে এগিয়ে নিতে বিএনপি সর্বোচ্চ ছাড় দিতে রাজি।

বিএনপি সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তুত। ঐক্যফ্রন্টের সভায় আমাদের মহাসচিব বসেন ৭ নম্বর চেয়ারে। সভাপতির পাশের চেয়ারগুলোয় বসেন আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তফা মহসীন মন্টুও বসেন। আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বসেন আরও দূরে। আমরা মেনে নিয়েছি। কারণ বড় দল হিসেবে আমাদের অবশ্যই ছাড় দিতে হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জাতীয়তাবাদী দল সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক সহশীলতা দেখিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে, মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে, মানুষের কথা বলার অধিকার, ন্যায়-বিচার, আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার স্বার্থে সর্বোচ্চ ছাড় দেবে বিএনপি। তবে এখন দল ও দেশের মানুষের কাছে মূল প্রাধান্য বিষয় হচ্ছে একটি নির্দলীয় নির্বাচনকালী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন। বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা জানান, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন যে কোন মূল্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সকল দল ও ব্যক্তিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার এবং তাদের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার এই আন্দোলনে সফল হলে যারা শরিক থাকবেন তাদেরকে নিয়েই দেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক এবং জনকল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশনা তারা দিয়েছেন। এর আগে ২০০১ এবং ২০০৮ সালে জোটগতভাবেই জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। পরবর্তীতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে জোটগতভাবেই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। চলতি বছরের শেষে কিংবা আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি দল আওয়ামী লীগ প্রচারণায় নামলেও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বলে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে বিএনপি। এছাড়া নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাহী ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন, ইভিএম (ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার বাতিলসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে রাজপথের প্রধান বিরোধী দলটি। এসব দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামকে নিয়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় ঐকফ্রন্টও। ২০ দলীয় জোটের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে রাজনৈতিক কৌশলে বিজয়ী হিসেবে দেখছেন বিএনপির শীর্ষ থেকে তৃণমূল নেতারা। রাজপথে এই জোটের নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি পূরণ হবে বলে মনে করেন তারা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এখন যে জোট গঠন করা হয়েছে তা ৭ দফার ভিত্তিতে আন্দোলনের জন্য। এটি নির্বাচনী জোট নয়। আগে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করাই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। এটি হলে পরবর্তীতে আমরা নির্বাচনী জোট ঘোষণা করবো। তখন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে। জাতীয় ঐক্য গঠন হয়েছে, ছোটখাটো কোন বিষয় নিয়ে কোন কিছু আটকে থাকবে না। বড় দল হিসেবে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বার্থে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, অতীতে কোন সময় নির্বাচনে যাওয়ার ক্ষেত্রে জোটের মধ্যে কোন সমস্যা হয়নি। ছোটখাট কিছু বিষয় থাকে কিন্তু সেগুলো বড় করে দেখার সুযোগ নাই। বড় দল হিসেবে বিএনপি সব সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। আগামীতেও করবে। ৭ দফা দাবি পূরণ হলে বিএনপি এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। দলের সবারই ছাড় দেয়ার মন মানসিকতা রয়েছে। তাই এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, এখনো নির্বাচন নিয়ে কোন কথা হচ্ছে না। আমাদের দলের অবস্থান হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না। তাকে মুক্ত করেই, নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে বিএনপি। নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হলেই তখন আসন বন্টন, ভাগাভাগি অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হবে। জোটগত নির্বাচনে বিএনপির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য আতাউর রহমান ঢালী বলেন, অতীতে বিএনপি দুইবার জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।

সেসময় আসন কিংবা দাবি দাওয়া নিয়ে কোন সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। ফলে আগামীতেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এই বিষয়টা বড় কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না। কারণ বড় দল হিসেবে অন্যদেরকে ছাড় দেয়ার মানসিকতা থাকতে হয় এবং বিএনপির সেটি আছে। শুধু কেন্দ্রীয় নেতারা নয়, তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরাও দলের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা মেনে যেকোন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে প্রস্তুত আছে জানিয়ে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন বলেন, আমরা চাই দেশে একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসুক। মানুষ তাদের নিজের ভোট নিজে দেয়ার অধিকার ফিরে পাক। জাতির স্বার্থে, একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বিএনপি সবধরণের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছে। পরিস্থিতি বিবেচনায়, বৃহত্তর স্বার্থে দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে নির্দেশনা দেবেন দলের প্রতিটি নেতাকর্মী তা মেনে নেব। আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত যে কোন ছাড় দেয়ার জন্য। যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা, মামলা, নির্যাতনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। স্বাধীন দেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কোন নিরাপত্তা নেই, কথা বলার অধিকার নেই, আইনের শাসন নেই।

 ফলে তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাবনা হচ্ছে দেশকে, দেশের জনগণকে প্রথমে স্বৈরাচারমুক্ত করা। দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে স্বস্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। এজন্য ২০ দলীয় জোট কিংবা ঐক্যফ্রন্টসহ আরও যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির সাথে যুক্ত হবে তাদেরকে যে কোন বিষয়ে ছাড় দিতে হলেও কোন আপত্তি থাকবে না। আড়াইহাজার বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমন বলেন, দেশে এখন অগণতান্ত্রিক, স্বৈরশাসন চলছে। দেশের মানুষ দিশেহারা, বাকস্বাধীনতা নাই, সব সেক্টর ভেঙে পড়েছে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এ থেকে উত্তোরণের জন্য জাতীয় ঐক্য হয়েছে। তৃণমূল বিএনপি এই ঐক্যকে স্বাগত জানায় এবং আশা করে এই নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। তিনি বলেন, আমরা মনে করি জাতীয় নেতৃবৃন্দ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়েই দিকনির্দেশনা দেবেন। এতে বিএনপি, দলের নেতাকর্মীদের যে কোন রকম ছাড় বা ত্যাগ স্বীকার করতে হলেও তা করতে প্রস্তুত। কারণ এখন সবার আগে প্রয়োজন এই স্বৈরশাসকের বিদায়, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা।