সোমবার, এপ্রিল ০৮, ২০১৯

ঘাটাইলে দুই মিষ্টি ব্যবসায়ীর জরিমানা

রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মিষ্টি প্যাকেটজাতকরণের নামে ওজনে কম দেওয়ার অপরাধে দুই মিষ্টি ব্যবসায়ী থেকে জরিমানা আদায় করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইফতেখারুল আলম রেজভী। আজ সোমবার (৮ এপ্রিল) বিকালে ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর বাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর বাজার এলাকা অবস্থিত ‘ভাই ভাই মিষ্টান্ন ভান্ডার’ এবং ‘মেসার্স জয়কালী মিষ্টান্ন ভান্ডার’ এ মিষ্টি প্যাকেটজাতকরণের নামে প্রতি কেজিতে মিষ্টি কম দেওয়ার অপরাধে জরিমানা আদায় করেন আদালত।

জানা যায়, ২ কেজি মিষ্টি কিনলে প্রতি কেজিতে মিষ্টির প্যাকেট দেওয়া হয় একটি করে। প্রতি মিষ্টির প্যাকেটের ওজন ২০০ গ্রাম করে হলে তাতে মিষ্টি কম পাওয়া যায় ৪০০ গ্রাম। এই ৪০০ গ্রাম মিষ্টির বাজার মূল্য ৬০ টাকা। এই ৬০ টাকা মিষ্টির প্যাকেট বাবদ নেওয়া হচ্ছে, মিষ্টি পরিমাণে কম দেওয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমান আদালত সরেজমিনে এক একটি মিষ্টির বাক্সের গড় ওজন ২০০ গ্রাম করে পেয়েছেন।

ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইফতেখারুল আলম রেজভী এ সময় জানান, খাদ্যে ভেজাল রোধে এবং অন্যান্য আইন ভঙ্গের দায়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়, জনস্বার্থে যা অব্যাহত থাকবে।

ঘাটাইলে ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক

শফিকুল ইসলাম জয়, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের গুপ্তবৃন্দাবন ওয়ার্ড এলাকা থেকে তিন মাদক ব্যবসায়ীকে মাদক সহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আজ সোমবার (৮ এপ্রিল) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাগরদিঘী তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ তাদের আটক করে।

আটককৃতরা হলেন, মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম আকন্দ চিনি (৫০), হযরত আলীর ছেলে বুলবুল হোসেন আকন্দ বুলু (৩৫) এবং আঃ খালেকের ছেলে খলিলুর রহমান (৩৮)। এরা সবাই উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের গুপ্তবৃন্দাবন ওয়ার্ডের শোলাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা। গুপ্তবৃন্দাবন বাজার এলাকা থেকে প্রায় ১১০ গ্রাম গাজাঁসহ তাদের আটক করা হয়।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গুপ্তবৃন্দাব­ন বাজারে তমালতলা এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকের কারবার করে আসছেন তারা। এদের ছত্রছায়ায় এলাকায় গড়ে ওঠেছে মাদকের ভয়াবহ সিন্ডিকেট। এরা লোকচক্ষুর আড়ালে লিপ্ত ও নানা বেআইনি কাজে জড়িত।

এদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, এদের কারণে স্কুল-কলেজের ছেলেরা নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। সন্ধা হলেই এরা স্কুল আঙ্গিনায় বসায় মাদকের হাট।

ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাকছুদুল আলম জানান, সোমবার বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) জনাব মোঃ আশরাফুল ইসলাম (আইসি), সাগরদিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় মাদক ব্যবসায়ী মোঃ খলিলুর রহমান (৩৫), মোঃ সাইফুল ইসলাম আকন্দ চিনি ও বুলবুল ইসলাম আকন্দ (৩০) কে ১১০ গ্রাম গাজা সহ গ্রেফতার করা হয়। আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকারি চাকরির ভালোমন্দ

চাকরির পত্রিকাগুলোতে নিয়মিত চোখ রাখে বিপ্লব। সরকারি চাকরির সার্কুলারগুলো খুটিয়ে দেখে, সেই অনুযায়ী আবেদনও করে। তার লক্ষ্য সরকারি চাকরি, বিশেষত বিসিএস এবং দেশের স্বনামধন্য ব্যাংকগুলো। সামনে আসছে বিসিএস প্রিলিমিনারি, বেশ কিছু সরকারি ব্যাংকের চাকরি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পাট চুকেছে তাও দুবছর আগে। ছাত্রজীবন শেষ করার আগে থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি চাকরি নামক সোনার হরিণের পিছনে ছুটছে এখনো। এত সময় সরকারি চাকরির জন্য অপেক্ষার অন্যতম কারণ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা এবং সামাজিক ভালো অবস্থান।

সরকারি চাকরির বাজার বর্তমান দিনগুলোতে অনেক বেশি। কারণ বেসরকারি চাকরিতে বিভিন্ন অনিশ্চয়তা, খাটুনি অনেকেই নিতে চায় না। এখন তো একটা ছেলের লক্ষ্যই হয়ে গেছে সরকারি চাকরি, নইলে নাকি বিয়ের বাজারে ভালো মেয়েই পাওয়া যাবে না! শুনতে হাস্যকর হলেও তো এমনটা হচ্ছে এখন। কেন সরকারি চাকরির পিছনে এত লম্বা লাইন, এর ভালোমন্দ নিয়ে থাকছে আজকের আলোচনা-

সুবিধা বা ভালো দিকগুলো

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে বেতন স্কেলসুবিধা যথেষ্ট বাড়নো হয়েছে। যোগদানের শুরুতেই এখন ভালো পরিমাণের একটা বেতন মিলছে। এর পাশাপাশি প্রতি বছর পাঁচ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি, পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, চাকরির নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত ছুটি, পরিবহন ও আবাসন সুবিধা, সন্তানদেরকে স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার, অবসরকালীন সুবিধার পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদাও সরকারি চাকরির অন্যতম ভালো দিক।

প্রথমশ্রেণীর পাশাপাশি দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতেও এখন বেতন কাঠামো আকর্ষণীয়। এই পদগুলোতে যারা যোগ দেন, তাদের সমান শিক্ষাগত এবং অন্যান্য যোগ্যতা নিয়ে বেসরকারি চাকরিতে এসব সুযোগ সুবিধা অনেক কম। সেখানে সুনির্দিষ্ট কাঠামো না থাকা, পদোন্নতির জন্য কাজের চেয়ে নিয়োগকর্তার সুনজরে পড়ার বিষয়ও থাকে।

এর বাইরেও বেশকিছু বিষয় রয়েছে। যেমন মাতৃত্বকালীন ছুটি বেশিরভাগ বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চার মাস হলেও সরকারি চাকরিজীবীরা এই ছুটি পান ছয় মাসের। নৈমিত্তিক ছুটি সরকারি চাকুরেরা ইচ্ছা অনুযায়ী কাটাতে পারলেও বেসরকারি চাকুরেরা সে সুবিধা পান না অনেক ক্ষেত্রেই। অসুস্থতাজনিত ছুটির ক্ষেত্রেও বৈষম্য রয়েছে। আবার সরকারি চাকুরেদের অর্জিত ছুটি জমলে এর বিনিময়ে টাকার জন্য দুশ্চিন্তা করতে হয় না, কিন্তু বেসরকারি চাকরির অনেক ক্ষেত্রেই এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।

আবার সরকারি চাকরিতে আগ্রহের সবচেয়ে বড় কারণ চাকরির নিশ্চয়তা। এটা বেসরকারি খাতের চাকরিতে নেই। কারণ বেসরকারি খাতে সহজেই চাকরিচ্যুত করা যায়। কিন্তু সরকারি চাকরি সহজে যায় না।

সামজিক স্বীকৃতিও অন্যতম একটা বড় কারণ। এছাড়া রয়েছে ক্ষমতা ব্যবহারের চর্চা। একজন সরকারি কর্মকর্তা ক্ষমতা চর্চা করতে পারেন। কিন্তু বেসরকারি খাতে একজন সর্বোচ্চপদধারী ব্যক্তিও ক্ষমতা চর্চা করতে পারেন না।

সরকারি চাকরিতে সময় দেওয়ার নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা আছে। কিন্তু বেসরকারি খাতে সেটা নেই। এসব মিলিয়ে তরুণদের প্রথম পছন্দ থাকে সরকারি চাকরির দিকে। সময় মাপা কাজ কে না করতে চায়!

প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় সরকারি চাকরি করলে লোন পেতে বেশি সুবিধা পাওয়া যায় ৷ তাই লোন পাওয়া নিয়ে বেশি ছুটোছুটি করতেই হয় না ৷ আর ভবিষ্যত নিয়ে কোনো চিন্তা নেই, আছে পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটির ব্যাপারটাও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অনেক বড় একটি কাঙ্ক্ষিত বিষয়।

সরকারি চাকরির অসুবিধাগুলো

এত সুবিধার মাঝে অসুবিধাও রয়েছে কিছু। বেসরকারি ভালোমানের চাকরিগুলোর সঙ্গে যদি তুলনা করা হয় তো সরকারি চাকরিতে বেতন তুলনামূলক কম। এখানে অতিরিক্ত কমিশন, লভ্যাংশের সুযোগ কম। এখানে দুর্নীতির বাইরে সব সুযোগই নির্দিষ্ট।

প্রমোশন বা পদোন্ততি সরকারি চাকরিতে খুব স্থির গতিতে হয়। কোনো কোনো পদে তা আবার হয়ও না। খুব কসরত করে চাকরিতে ঢুকলেন কিন্তু আপনার বেতন, প্রমোশনগুলো কিন্তু সেভাবে আগাবে না।

আরেকটা সমস্যা হলো বদলি করে দেওয়া। শিক্ষকতা, আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত পদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ পদেও বদলির বিষযটি ঘটে। এটা কিছুটা অসুবিধার।

মালয়েশিয়ায় ৬ বাংলাদেশি সহ নিহত ১০, আহত বহু

মালয়েশিয়া নিলাই থেকে এয়ারপোর্টগামী বাস দুর্ঘটনায় ৬ বাংলাদেশি সহ মোট ১০ জন নিহত। আহত হয়েছে আরও অন্তত ২৫ জন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জানা গেছে, ৮ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে নিলাই থেকে এয়ারপোর্ট গামী বাংলাদেশি কর্মী বাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে ৬ জন বাংলাদেশি সহ ৯জন কর্মী নিহত হয়। এরপর হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থল স্থানীয় পুলিশ ঘিরে রেখেছে। এয়ারপোর্টগামী এই কর্মীগুলোর থাকার হোস্টেল ছিল নিলাই। তারা কাজের উদ্দেশ্যে কেএলআইএ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে যাচ্ছিল। সবাই মাসকার্গোতে কর্মরত ছিল।

কেএলআইএ এর পুলিশ প্রধান এসিপি জুলকিফিলি জানান, নিহতদের মধ্যে আটজন বিদেশি কর্মী, বাস চালক এবং একজন স্থানীয় রয়েছে।

তিনি বলেন, সেরডাঙ্গ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজন বিদেশি নাগরিক মারা জান। যিনি একজন মহিলা কর্মী ছিলেন।

জুলকিফিলি জানান, বাসে ৪৩ জন কর্মী ছিলেন। যারা সকলেই বিদেশি।

তিনি আরও জানান, আহতদেরকে চিকিৎসার জন্য সার্ডাঙ্গ হাসপাতালে, পুলরাজায়া হাসপাতাল, ব্যাটিং হসপিটালে এবং কাজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।