শনিবার, মার্চ ১৬, ২০১৯

যে কারণে এখনই কারামুক্তি মিলছে না ঘাটাইলের সাবেক এমপি রানার

টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় জামিন পেলেও দুই যুবলীগ নেতা (শামিম, মামুন) হত্যা মামলায় পাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত হওয়ায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন। তবে টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় গত সপ্তাহে হাইকোর্টের দেয়া জামিন চেম্বার আদালতে স্থগিত করেছে।

হাইকোর্টে রানার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

গত বুধবার (৬ মার্চ) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ টাঙ্গাইল যুবলীগের দুই নেতা (শামীম ও মামুন) হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আমানুর রহমান খান রানাকে ছয় মাসের জামিন দেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুই যুবলীগ নেতা (শামিম, মামুন) হত্যা মামলায় রানার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

বিগত ২০১৭ সালের (১৩ এপ্রিল) মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন রানা। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে তা স্থগিত করে দেয় আপিল বিভাগ। এরপর ওই বছরের (১৯ অক্টোবর) আপিল বিভাগ জামিনের এই স্থগিতাদেশ চলমান রেখে জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল ৪ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেয়। ওই আদেশ অনুযায়ী চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। পরে নতুন করে বিচারিক আদালতে জামিন আবেদন করেন সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা।

বিচারিক আদালতে গত বছরের (৫ সেপ্টেম্বর) ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় এবং (৩০ সেপ্টেম্বর) যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় রানার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। এরপর হাইকোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

বিগত ২০১৩ সালের (১৮ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তৎকালীন এমপি রানা ২০১৬ সালের (১৮ সেপ্টেম্বর) আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠান টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালত। এ মামলায় বিগত ২০১৭ সালের (৩ ফেব্রুয়ারি) আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাই জাহিদুর রহমান খান কাকন, শহিদুর রহমান খান মুক্তি, সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। ওই বছর (৬ সেপ্টেম্বর) দণ্ডবিধির ৩০২, ১২০, ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তাদের বিচার শুরু করে আদালত। মামলাটি বর্তমানে স্বাক্ষগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন বিগত ২০১২ সালের (১৬ জুলাই) মোটরসাইকেলে করে টাঙ্গাইল শহরে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই ঘটনায় বিগত ২০১৩ সালের (৯ জুলাই) নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্ত করে ওই বছরের (২১ সেপ্টেম্বর) মামলাটি তালিকাভুক্ত করে পুলিশ।

পরে এ মামলায় গ্রেপ্তার খন্দকার জাহিদ, শাহাদত হোসেন ও হিরণ মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগ নেতা আমানুর রহমান খান রানার নাম আসে। গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেন, রানার নির্দেশেই যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল।

ঘাটাইলে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কেক কাটা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। গতকাল শুক্রবার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টায় ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের ঘাটাইল প্রতিনিধি আতিকুর রহমানের পরিচালনায় ও ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম খান সামু।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ( সুপ্রিম কোর্ট) মো: শহিদুল ইসলাম, ঘাটাইল থানা অফিসার ইনচার্জ জনাব মাকসুদুল হক, জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম মনি, ঘাটাইল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম, ঘাটাইল উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির অধ্যাপক মতিউর রহমার, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান মিয়া, জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক ভিপি আবু সাঈদ রুবেল প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সাফল্য কামনা করেন এবং দেশ ও জনগণের কথা তুলে ধরে এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।