বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ঘাটাইল বিতরণ বিভাগে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুতুড়ে বিলসহ নানাভাবে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এ বিভাগ। সেবার নামে কিছু দুর্নীতিবাজের হাতে জিম্মি হয়ে আছেন গ্রাহকরা।
জানা যায়, কিছুদিন আগে উপজেলার এনায়েতবাড়ি গ্রাম থেকে বিদ্যুৎ অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে গভীর রাতে তিনটি অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার যন্ত্র স্ট্যাবিলাইজার অফিসে নিয়ে আসে এমনটি জানান অটোরিকশা চালক আলম। অবৈধ সংযোগে অটো চার্জ দেওয়া হচ্ছে- এমন অভিযোগ এনে এ কাজ করেন তারা। প্রত্যেক অটোরিকশা চালকের কাছ থেকে আট হাজার করে টাকা নিয়ে স্ট্যাবিলাইজার ফেরত দেন। এর আগেও এ গ্রাম থেকে চারটি স্ট্যাবিলাইজার বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন নিয়ে আসে এবং এরও রফাদফা হয় একই রূপে। বিষয়টি গ্রামের সবাই অবগত। অথচ সহকারী প্রকৌশলী কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি অফিসের কেউ জানে না।
মিটার রিডিং না দেখেই ঘরে বসে বিল করে অফিস। এ কারণে গ্রাহক যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বিল ধরিয়ে দেওয়া হয় গ্রাহকের হাতে। ফলে আবাসিক বিল হয়ে যায় বাণিজ্যিক। দীর্ঘদিন ধরে মোট ৩০ হাজার গ্রাহকের প্রায় অর্ধেকের সঙ্গে একই ধরনের অনিয়মের কাজটি করে আসছে সংশ্নিষ্টরা। প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগীদের বারবার অফিসের দরজায় কড়া নাড়তে হচ্ছে; কিন্তু আশানুরূপ সাড়া মিলছে না সংশ্নিষ্টদের কাছ থেকে। উপজেলার মোগলপাড়া গ্রামের রাসেল সুমন জানান, আমার মিটার লক হয়ে আছে পাঁচ মাস ধরে। পাঁচবার অফিসে কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমার অভিযোগ মনে হয় বোকা বাক্সতেই বন্দি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ লাইনে কোনো সমস্যা হলে মেরামত বাবদ লাইনম্যানকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা ঘুষ দিতে হয়। তা না হলে তারা কাজ করেন না। কুশারিয়া গ্রামের আবু হানিফ জানান, আমি সর্বমোট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছি এক হাজার ৪০০ ইউনিট আর লেজার খাতায় ওঠানো হয়েছে পাঁচ হাজার ইউনিট। অভিযোগ নিয়ে অফিসে গেলে তারা বলেন, পরের মাস থেকে সমন্বয় করে দেব। যা বিল আসছে তা আপনাকে পরিশোধ করতে হবে। সে সমন্বয় আর হচ্ছে না। তার আগেই প্রিপেইড মিটার লাগানোর পাঁয়তারা করছে অফিস। জামালপুর গ্রামের সঞ্জয় চন্দ্র সাহা জানান, ডিজিটাল মিটার খুলে যখন প্রিপেইড লাগানো হলো, তখন আমি তাদের কাছে ৭০০ ইউনিট বিদ্যুৎ পাওনা ছিলাম, সে টাকা গেল কোথায়? ডিজিটাল মিটারের কোনো বিল বাকি থাকলে প্রিপেইড মিটারের ওপর তার প্রভাব পড়ে এবং লক হয়ে যায়। কিন্তু ডিজিটাল মিটারের হাজার হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে গ্রাহকের পাওনা থাকলে তার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকমতো বিদ্যুৎ বিলের কপিও পৌঁছানো হয় না গ্রাহকের হাতে, যার দরুন গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। অথচ গ্রাহকপ্রতি এ বাবদ প্রতি মাসে চার টাকা চার্জ নিয়ে থাকে অফিস।
এ ছাড়া গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রিপেইড মিটার নাকি টাকা গিলে খাচ্ছে। তাদের কোনো ধরনের নোটিশ না করেই নাকি ডিজিটাল মিটার খুলে লাগানো হয়েছে প্রিপেইড মিটার। প্রিপেইড মিটারের গ্রাহক উপজেলার চানতারা গ্রামের আ. খালেক জানান, আগে মাসে পাঁচ-সাতশ' টাকার মতো বিল আসত। আগের মতোই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এখন দুই হাজার টাকার ওপরে রিচার্জ করতে হচ্ছে। এসব বিষয়ে ঘাটাইল পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম খান বলেন, গ্রাহকের সব অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করি, তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য।