বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১০, ২০১৯

৩৪ বছরের পুরনো নীল গাড়ি এবং মাহাথির মোহাম্মদ

মাল‌য়ে‌শিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ জহুর প্র‌দে‌শের বর্তমান সুলতা‌ন ইব্রা‌হিম ইস্কান্দারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ক‌রেছেন আজ (১০ ডিসেম্বর)। আর সেখা‌নেই ঘ‌টে গেল অভূতপূর্ব এক ঘটনার। আতি‌থিয়েতার এক ভিন্ন ন‌জির স্থাপন কর‌লেন জহুর প্র‌দে‌শের সুলতান।

সাক্ষাৎ শেষে ফেরার প‌থে সুলতান ইব্রা‌হিম তার বাবার ৩৪ বছ‌রের পুর‌নো ‘প্রো‌টন ১’ সাগা ম‌ডে‌লের প্রথম সংস্ক‌রণের গা‌ড়ি‌তে ক‌রে জহুর বারুর ইস্তানা বু‌কেট সে‌রেইন থে‌কে প্রধানমন্ত্রী‌কে ‌সিনাই বিমানবন্দ‌রে নি‌য়ে যান। এই ২০ কি‌লো‌মি‌টার পথ সুলতান ইব্রা‌হিম নি‌জেই গা‌ড়ি‌টি চালা‌চ্ছি‌লেন। আর তার পা‌শের সি‌টে বসা ছি‌লেন মাহাথির মোহাম্মদ।


মূলত ৩৪ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৮৫ সা‌লে বর্তমান সুলতা‌নের বাবা সুলতান ইস্কান্দার‌কে মাহাথির মোহাম্মদ তার প্রথম মেয়া‌দে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন উপহারস্বরূপ প্রদান ক‌রে‌ছি‌লেন এ গাড়িটি। প্রথম সংস্কর‌ণে তৎকালীন বাজারমূল্য ছি‌ল ১৭ হাজার রি‌ঙ্গিত!

এ‌টি ছি‌ল মাল‌য়ে‌শিয়ার তৈ‌রি প্রথম জাতীয় গা‌ড়ি এবং এটি প্রোট‌নের ফ্যাগ‌শিপ ম‌ডে‌লের গা‌ড়ি। প্রো‌টন-১ ছি‌ল ম্যানুয়াল ট্রান্স‌মিশন যার ও‌ডো‌মিটার প্রায় ২২ হাজার কি‌লো‌মিটার।

৩৪ বছ‌রের পুর‌নো মাল‌য়ে‌শিয়ার প্রথম উৎপা‌দিত এবং একাধা‌রে সুলতা‌নকে উপহার দেয়া গা‌ড়ি‌টি‌তে ২০ কি‌লো‌মিটার যাত্রা ক‌রে এ সময় ড. মাহাথিরকে বেশ আবেগপ্রবণ হতে দেখা গেছে।

ঘাটাইলে ডিবি পরিচয় দিয়ে স্কুল ছাত্রকে অপহরন করার সময় গনধোলাই

বৃহস্পতিবার সন্ধায় ফুলবাড়িয়া উপজেলা থেকে ৯ম শ্রেনীর স্কুল ছাত্রকে এক অপহরন করে নিয়ে যাওয়ার সময় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের সলিংবাজার সংলগ্ন অপহরন কারীকে আটক করে গনধোলাই দিয়েছে এলাকাবাসী।

অপহৃত তানজিল খান (১৪) ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল টেকিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম মাষ্টার ছেলে । এ সময় বিক্ষুদ্ধ জনতা ব্যাবহৃত প্রাইভেট কারে আগুন ধরিয়ে দেয়। অপহরন কারীদের নাম তাৎক্ষনিক জানা যায়নি।

ঈুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল টেকিপাড়া গ্রামের রফিক মাষ্টারের ছেলে ৯ম শ্রেনীর ছাত্র তানজিল খান (১৪) মোটর বাইক নিয়ে বেড়াতে বের হলে পথিমধ্যে চার যুবক ডিবি পরিচয় দিয়ে তাকে চোখ বেধে প্রাইভেট কারে উঠালে আশে পাশের লোকজন দেখে ফেলে। তার পিছু নিয়ে ঘাটাইল উপজেলা লক্ষিন্দর ইউনিয়নের সলিংবাজার আসলে এলাকাবাসী রাস্তায় গাছ ফেলে আটক করে গনধোলাই দেয় এ সময় গাড়িতে থাকা দুই যুবক পালিয়ে যায় বাকি দুজনকে আহত অবস্থায় প্রথমে সখিপুর হাসাপাতালে পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় ।

ঘাটাইল থানার পুলিশের উপপরিদর্শক(এসআই) আব্দুল মান্নান জানায় গনধোলাইয়ের ফলে তাদের নাম ও ঠিকানা জানা যায়নি যেহেতু বিষয়টি পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়িয়া থানার লোক আমরা আসামীদের সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছি।


ঘাটাইলে মানবাধিকার কমিশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সারা দেশের ন্যায় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ঘাটাইল উপজেলা শাখা সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও কেককাটা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করেছে।

উপজেলা মানধিকার কমিশন আয়োজিত অফিস কার্যালয়ে কেক কাটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোছাম্মৎ নূর নাহার বেগম, উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি এমদাদুল হক খান হুমায়ন, সাধারন সম্পাদক মোঃ খাদেমুল ইসলাম খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিজা আক্তার, দৈনিক যায়যায়দিন ঘাটাইল প্রতিনিধি ও নিউজ পোর্টাল বার্তাবাজার ডটকম এর জেলা প্রতিনিধি উত্তম আর্য্য, মোঃ রুহুল আমীন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক দৈনিক ভোরের কাগজ ঘাটাইল প্রতিনিধি রবিউল আলম বাদল, সহকারী অর্থ সম্পাদক এস এম বাবলু প্রমুখ।

বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে নানা অনিয়মের অভিযোগ

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ঘাটাইল বিতরণ বিভাগে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুতুড়ে বিলসহ নানাভাবে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এ বিভাগ। সেবার নামে কিছু দুর্নীতিবাজের হাতে জিম্মি হয়ে আছেন গ্রাহকরা। 

জানা যায়, কিছুদিন আগে উপজেলার এনায়েতবাড়ি গ্রাম থেকে বিদ্যুৎ অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে গভীর রাতে তিনটি অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার যন্ত্র স্ট্যাবিলাইজার অফিসে নিয়ে আসে এমনটি জানান অটোরিকশা চালক আলম। অবৈধ সংযোগে অটো চার্জ দেওয়া হচ্ছে- এমন অভিযোগ এনে এ কাজ করেন তারা। প্রত্যেক অটোরিকশা চালকের কাছ থেকে আট হাজার করে টাকা নিয়ে স্ট্যাবিলাইজার ফেরত দেন। এর আগেও এ গ্রাম থেকে চারটি স্ট্যাবিলাইজার বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন নিয়ে আসে এবং এরও রফাদফা হয় একই রূপে। বিষয়টি গ্রামের সবাই অবগত। অথচ সহকারী প্রকৌশলী কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি অফিসের কেউ জানে না।

মিটার রিডিং না দেখেই ঘরে বসে বিল করে অফিস। এ কারণে গ্রাহক যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বিল ধরিয়ে দেওয়া হয় গ্রাহকের হাতে। ফলে আবাসিক বিল হয়ে যায় বাণিজ্যিক। দীর্ঘদিন ধরে মোট ৩০ হাজার গ্রাহকের প্রায় অর্ধেকের সঙ্গে একই ধরনের অনিয়মের কাজটি করে আসছে সংশ্নিষ্টরা। প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগীদের বারবার অফিসের দরজায় কড়া নাড়তে হচ্ছে; কিন্তু আশানুরূপ সাড়া মিলছে না সংশ্নিষ্টদের কাছ থেকে। উপজেলার মোগলপাড়া গ্রামের রাসেল সুমন জানান, আমার মিটার লক হয়ে আছে পাঁচ মাস ধরে। পাঁচবার অফিসে কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমার অভিযোগ মনে হয় বোকা বাক্সতেই বন্দি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ লাইনে কোনো সমস্যা হলে মেরামত বাবদ লাইনম্যানকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা ঘুষ দিতে হয়। তা না হলে তারা কাজ করেন না। কুশারিয়া গ্রামের আবু হানিফ জানান, আমি সর্বমোট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছি এক হাজার ৪০০ ইউনিট আর লেজার খাতায় ওঠানো হয়েছে পাঁচ হাজার ইউনিট। অভিযোগ নিয়ে অফিসে গেলে তারা বলেন, পরের মাস থেকে সমন্বয় করে দেব। যা বিল আসছে তা আপনাকে পরিশোধ করতে হবে। সে সমন্বয় আর হচ্ছে না। তার আগেই প্রিপেইড মিটার লাগানোর পাঁয়তারা করছে অফিস। জামালপুর গ্রামের সঞ্জয় চন্দ্র সাহা জানান, ডিজিটাল মিটার খুলে যখন প্রিপেইড লাগানো হলো, তখন আমি তাদের কাছে ৭০০ ইউনিট বিদ্যুৎ পাওনা ছিলাম, সে টাকা গেল কোথায়? ডিজিটাল মিটারের কোনো বিল বাকি থাকলে প্রিপেইড মিটারের ওপর তার প্রভাব পড়ে এবং লক হয়ে যায়। কিন্তু ডিজিটাল মিটারের হাজার হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে গ্রাহকের পাওনা থাকলে তার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকমতো বিদ্যুৎ বিলের কপিও পৌঁছানো হয় না গ্রাহকের হাতে, যার দরুন গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। অথচ গ্রাহকপ্রতি এ বাবদ প্রতি মাসে চার টাকা চার্জ নিয়ে থাকে অফিস।

এ ছাড়া গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রিপেইড মিটার নাকি টাকা গিলে খাচ্ছে। তাদের কোনো ধরনের নোটিশ না করেই নাকি ডিজিটাল মিটার খুলে লাগানো হয়েছে প্রিপেইড মিটার। প্রিপেইড মিটারের গ্রাহক উপজেলার চানতারা গ্রামের আ. খালেক জানান, আগে মাসে পাঁচ-সাতশ' টাকার মতো বিল আসত। আগের মতোই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এখন দুই হাজার টাকার ওপরে রিচার্জ করতে হচ্ছে। এসব বিষয়ে ঘাটাইল পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম খান বলেন, গ্রাহকের সব অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করি, তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য।