মঙ্গলবার, আগস্ট ০৭, ২০১৮

ঘাটাইলে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ

‘নিরাপদ সড়ক চাই’- এর দাবিতে সারাদেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে এক আনন্দ মিছিল, সমাবেশ করেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা ছাত্রলীগ। আজ মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে এই অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষে ঘাটাইল জি.বি.জি. বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ঘাটাইল পৌরর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ মোড় চত্বরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহবান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু, সাগরদিঘী ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত শিকদার, জি.বি.জি. কলেজের ভিপি আবু সাইদ রুবেল প্রমুখ। সে সময় জি.বি.জি. কলেজের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য: গতকাল সোমবার নতুন সড়ক পরিবহনের আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইন অনুযায়ী, বেপরোয়াভাবে বা অবহেলা করে গাড়ি চালানোর কারণে কেউ গুরুতর আহত বা নিহত হলে মামলা হবে দণ্ডবিধির ৩০৪ (খ) ধারায়। এই ধারায় সাজা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা। বর্তমানে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ডের বিধান আছে।

মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখেই সড়ক পরিবহন আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন

 ইচ্ছাকৃত হত্যায় ফৌজদারি আইনে চালকের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখেই পরিবহন আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
আজ (সোমবার/৮ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রি পরিষদ সচিব শফিউল আলম।

মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সড়ক পরিবহণ বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘তদন্তে দুর্ঘটনা যদি উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে প্রমাণিত হয় তাহলে তা দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে। আর চালকের কারণে প্রাণহানি হয়ে থাকলে ৩০৪(বি) ধারা অনুযায়ী সাজা দেয়া হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘মোটরযান দুর্ঘটনায় আহত বা প্রাণহানি হলে পেনাল কোড অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে শর্ত থাকে যে, পেনাল কোডে যা কিছু থাকুক না কেন অবহেলাজনিত কারণে গুরুতরভাবে আহত বা প্রাণহানি হলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবে। এ সংক্রান্ত আইনে আগে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বা প্রাণহানির জন্য সবোর্চ্চ সাজা ছিল তিন বছরের কারাদণ্ড। এখন সব শ্রেণির সর্বসম্মত মত অনুযায়ী পাঁচ বছর করা হয়েছ, অর্থদণ্ডের বিষয়ে লিমিট দেয়া নেই।’

অনুমোদিত আইনে ইচ্ছাকৃত হত্যা প্রমাণিত হলে চালকের ফৌজদারি আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বেপরোয়া গাড়ি চালনায় দুর্ঘটনার সাজা তিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। অপরাধ করলে ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে চালকের পয়েন্ট কাটা যাবে। ১২ পয়েন্ট হারালে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মোটরযান চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা রাখা হয়েছে অষ্টম শ্রেণি পাশ। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতি পূরণে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করার কথা বলা হয়েছে।

যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দীন কাদেরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নওশাবা

অভিনেত্রী নওশাবার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁর দেওয়া বক্তব্য নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে রাজধানীতে। কিন্তু আমরা এ ভয়ংকর দেশদ্রোহীর পারিবারিক পরিচয় কি জানি?

শোনা যাচ্ছে, নওশাবার চাচাতো বোনের মেয়ে সাবা সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরির ছোট ভাই জামালউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলের বউ। পারিবারিকভাবে তারা খুবই ঘনিষ্ঠ। একাত্তরের কুখ্যাত রাজাকার সালাহউদ্দিল কাদের চৌধুরীর ফাঁসি তারা কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি। সাকা তাঁদের পারিবারিক অভিভাবক ছিল। আর এই সম্পর্কের খাতিরে এমন গুজব ছড়াতে পারে বলে অনেকে মনে করছে।

নওশাবার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মামলায় চার দিন রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার মহানগর হাকিম মাজহারুল হক এ আদেশ দেন। উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ নওশাবাকে আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে।

রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, গত শনিবার জিগাতলায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ‘দুই ছাত্রের মৃত্যু এবং একজনের চোখ তুলে ফেলার’ কথা তিনি ছড়ান।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোতে নওশাবার হাত ছিল। পরিকল্পিত এ গুজব ছাড়ানো ও পরিকল্পনায় সহযোগী ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে আসামি নওশাবার পক্ষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয়া হয়।