সোমবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৮

ঘাটাইলে শাকিল হত্যার বিচার দাবীতে বিক্ষোভ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অটোচালক শাকিল (১৫) এর হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে অটোবাইক চালক সংগঠনের নেতা কর্মী ও নিহত শাকিলের গ্রামবাসী।

উপজেলা সদর থেকে ১৫ কি.মি. দূরে তার নিজ গ্রাম থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে প্রায় দেড় শতাধিক অটোরিক্সা নিয়ে লোকজন উপজেলা সদরে এসে সমবেত হয়। পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অটোবাইক চালক সংগঠনের নেতা কর্মীরা শাকিলের হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেন।

শাকিলের মা শাহিদা বেগম বিলাপ করে ঘাটাইলডটকমকে বলেন, আমার নিষ্পাপ ছেলেকে যারা নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর শাকিলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে এ ঘটনায় জরিত থাকার সন্দেহে গত শনিবার রাতে চারজনকে উপজেলার নলমা ও পাড়া কুশারিয়া গ্রাম থেকে আটক করে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যানুসারে রবিবার দুপুরে ঘাটাইল থানার পুলিশ মধুপুর উপজেলার অরণখোলার শালবনের ভেতর থেকে শাকিলের কঙ্কাল উদ্ধার করে। এর পর জামালপুর জেলা সদর থেকে শাকিলের অটোরিক্সাটি উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এনামুল হক চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় নিহত শাকিলের বাবা রহিজ খান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ঘাটাইলে আ.লীগে যোগ দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান সহ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শহিদ। তিনি আজ সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) উপজেলার কুশারিয়া গণ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় শত শত নেতাকর্মী নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

এ সময় চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে যে পরিমান উন্নয়ন করেছেন তার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে এবং ঘাটাইল আসনের নৌকার প্রার্থী আলহাজ্ব আতাউর রহমান খানের সততা এবং তার মতো ভালো মানুষকে মনোনীত করায় বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

তিনি আরও বলেন, সন্ধানপুরের মাটি আওয়ামী লীগের ঘাটি সেটা আবারও প্রমান করার লক্ষ্যে আগামী ৩০ তারিখে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে প্রমান করে দিবেন

জনসভায় সন্ধানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শাহজাহান মিয়া আনন্দের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে নৌকার প্রার্থীর ছেলে ও টাঙ্গাইলের সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি। আরও বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এস আকবর খান, ডেপুটি এটর্নী জেনারেল শহিদুল ইসলাম শহিদ প্রমুখ। এ সময় জেলা আওয়ামীপন্থী আইনজীবী পরিষদসহ জেলা উপজেলার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইলে বিএনপি প্রার্থীর গাড়ী ভাংচুর, দেড় ঘন্টা থানায় অবরুদ্ধ

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রার্থী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদের গাড়ি ভাংচুর ও তাকে থানায় দেড় ঘন্টা অবরুদ্ধ করে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। আজ সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) তার নির্বাচনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সোমবার দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার হামিদপুর বাজারে আসলে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে জানান বিএনপি প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ। এ সময় তার সাথে থাকা নেতা-কর্মীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।

পরে এ ঘটনায় বিকেলে থানায় মামলা করতে গেলে থানার প্রধান ফটকসহ চারপাশে অবস্থান নেন ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। এ সময় তারা দেন এনজিও এসডিএস ও আইটি সিএল এর টাকা ফেরত চাই ফেরত চাই বলে শ্লোগান দেন। প্রায় দেড় ঘন্টা পর পুলিশ পাহাড়ায় থানা ত্যাগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদুল আলমকে থানায় গিয়ে পাওয়া যায়নি এবং তার ব্যবহৃত সরকারি নম্বর ০১৭১৩-৩৭৩৪৬১ বার বার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

ঐক্যফ্রন্টের শেষ ৫ দিন

ভোটের মাঠে সেনা মোতায়েনকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি। ভোটের পাঁচ দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েনে নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে তারা। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ থেকে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা জোরদার নির্বাচনী প্রচার অভিযান শুরু করবেন। বিএনপির প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান ইতোমধ্যে সকল প্রার্থীকে মাঠের উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, গতকাল রাতেই বিভিন্ন স্থানে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছেন। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, সেনা মোতায়েন হওয়ায় ভোটের মাঠ এবার ‘সমতল’ হবে। গতকাল রোববার পৃথক বিবৃতিতে তারা এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অনেক দিন থেকেই তারা সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে ভোটের মাঠে নামানোর দাবি জানালেও নির্বাচন কমিশন তাতে সাড়া দেয়নি।

এদিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকে ঐক্যফ্রন্ট কিংবা বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় তাদের বক্তব্যে বলেছেন, ‘নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে তারা ব্যাপকভাবে শোডাউন করবেন।’ সে হিসেবে আজ সোমবার থেকে তাদের ‘নির্বাচনী শোডাউন’ শুরু হওয়ার কথা। কারণ নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এত দিন তারা মাঠে নামেনি। দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে তাদের কোনো প্রার্থী নির্বাচনী মিছিল তো দূরের কথা, কোনো পোস্টার সাঁটানোরও প্রমাণ মেলেনি। এই পাঁচ দিন তাদের নির্বাচনী কৌশল কী হবে, তা এখন দেখার অপেক্ষা।

গতকাল রোববার মধ্যরাত থেকে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ খবরে এক বিবৃতিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘আমরা আশা করি সেনা মোতায়েনের ফলে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হবে, যা আগে ছিল না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আশা করি সশস্ত্র বাহিনী জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মানুষের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে না। সশস্ত্র বাহিনী দেশের মানুষের সেবায় নিয়োজিত। গুটিকয়েক মানুষের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হওয়া উচিত না। সশস্ত্র বাহিনীর উচিত সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা এবং ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।’

আলাদা বিবৃতিতে বিএনপি মহাসসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি সেনা নিয়োগের ফলে নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ সৃষ্টি হবে, যা এত দিন মোটেও বিদ্যমান ছিল না। ‘আমরা আশা করি, আমাদের দেশের গর্বিত সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য জনগণের স্বার্থের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন এবং কোনোভাবেই একজন ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করবেন না।’

ভোটের মাঠে সশস্ত্র বাহিনী : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আজ সোমবার সারা দেশে মাঠে থাকছে সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) সদস্যরা। গতকাল রোববার মধ্যরাত থেকেই তাদের স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য মাঠে নামার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সেনাবাহিনী মাঠে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং নির্বাচনে বিবদমান পক্ষগুলোর শঙ্কা-সংশয়ের মধ্যে নির্বাচনের মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। ক্ষমতাসীন দলের বাইরে নির্বাচনে থাকা বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এ দিনটির জন্য অপেক্ষায় ছিল। সেনা সদস্যরা মাঠে নামার মাধ্যমে নির্বাচনী অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগ কমে আসবেÑ এ ধারণা করছে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল। তাদের আশা, বাকি পাঁচ দিন ভোটের প্রচারে তৈরি হবে সমান সুযোগ। দূর হবে সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা।

এদিকে, গত ১০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়। এরই মধ্যে সারা দেশে নির্বাচনের প্রচারে নৌকার সমর্থকরা এগিয়ে আছেন। তবে প্রচারে পিছিয়ে আছে বিএনপির সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থীরা। শুরুতে বিএনপিসহ অন্যরা যেভাবে প্রচারে নেমেছে, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি বেড়ে যাওয়ায় কৌশলগত কারণে অনেকটা নিজেদের গুটিয়ে নেয় বিএনপি।

গতকাল রোববার আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সারা দেশের ২৮৯ উপজেলায় সেনাবাহিনী থাকবে ভোট গ্রহণ ও ফল প্রকাশের সময়। আর ১৮ উপজেলায় নৌবাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। এর আগে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা ছিল ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে সেনাবাহিনী রাখার। ইসির কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী নামানো হবে কী হবে না, এ নিয়ে রাজনৈতিক দুই শক্তি (আওয়ামী লীগ-বিএনপি) পরস্পরবিরোধী অবস্থানে ছিল। তবে, নির্বাচনের নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে সেনারা দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সেনাবাহিনী দেশরক্ষা বাহিনী। বিশ্বেও বিভিন্ন দেশে শান্তি রক্ষায় কাজ করে বিশেষ সুনাম কুড়িয়েছে। আশা করি, জাতীয় নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে এ বাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। তারা মাঠে নেমেছেন। আশা করছি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তারা বলেছে, ভোটের মাঠ এবার ‘সমতল’ হবে বলে তারা আশা করছে। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন এক বিবৃতিতে এই আশা প্রকাশ করেন। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত রাত থেকে ভোটের মাঠে নেমেনেছ সেনা সদস্যরা। তারা কাজ করবেন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। অর্থাৎ প্রয়োজন মনে করলে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের তলব করবেন। এ ছাড়া ইভিএমের আসনগুলোয় দায়িত্ব পালন করবেন সেনা সদস্যরা। গতকাল বিএনপির পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল এসে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ফরিদপুরসহ অনেক জায়গায় প্রার্থীসহ দলীয় কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে বলে ইসিতে অভিযোগ দিয়েছে।

সেনাবাহিনীর কাজ : ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৭ থেকে ১৩২ ধারা অনুযায়ী কাজ করবে সশস্ত্র বাহিনী। অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে সশস্ত্র বাহিনীকে ডাকা হলে এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো উপায়ে বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা না গেলে ঘটনাস্থলে থাকা সর্বোচ্চ পদের ম্যাজিস্ট্রেট সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ ও গ্রেফতারের নির্দেশ দিতে পারবেন। এ ছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে যদি কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে কমিশন্ড অফিসার সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং গ্রেফতার করার নির্দেশ দিতে পারবেন। সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটকে লিখিত নির্দেশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও মৌখিক নির্দেশ দেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব তা লিখিত আকারে দেবেন।

ইভিএম পরিচালনায় থাকছেন সাড়ে ৩ হাজার সেনা : এদিকে আসন্ন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হতে যাওয়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পরিচালনার জন্য ৩ হাজার ৩০০ সেনা সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এরই মধ্যে ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের কারিগরি সহায়তার জন্য থাকবেন মোট ২ হাজার ৫৩৫ জন সেনা সদস্য। আর প্রতি কেন্দ্রের জন্য গঠিত একেকটি টিমে থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর তিনজন করে সদস্য। তাদের মধ্যে একজন করপোরাল, দুজন ল্যান্স করপোরাল অথবা সৈনিক সেনা সদস্য। তাদের কাছ থেকে তথ্য নেবে ভ্রাম্যমাণ কারিগরি টিম। এই টিমে থাকবেন ৫০৭ সেনা সদস্য। প্রতি পাঁচ কেন্দ্রের জন্য গঠিত প্রতি টিমে থাকবেন তিনজন করে সেনা সদস্য। তাদের মধ্যে একজন সার্জেন্ট, দুজন করপোরাল অথবা ল্যান্স করপোরাল বা সৈনিক সেনা সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তারা সহকারী রিটার্নিং অফিসার বা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা কার্যালয়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। আর সবগুলো টিমের কাজ তত্ত্বাবধান করবে উচ্চপর্যায়ের আরেক টিম। প্রতি আসনে পাঁচজন করে সেনা সদস্য নিয়ে এই টিম গঠিত হবে। অর্থাৎ মোট ৬টি আসনে ৩০ জন সেনা সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এতে একজন মেজর, দুজন ক্যাপ্টেন অথবা ল্যাফটেন্যান্ট, একজন জেসিও অথবা সার্জেন্ট এবং একজন করপোরাল অথবা ল্যান্স করপোরাল অথবা সৈনিক সমমর্যদার সদস্য। এই টিম রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

ইভিএম পরিচালনা করা হবে দুটি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে। যার একটি থাকবে নির্বাচন কমিশনে আর একটি থাকবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে। সেনা সদস্যরা কাজ করবেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কন্ট্রোল রুমের অধীনে। আর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কন্ট্রোল রুম কাজ করবে নির্বাচন কমিশনের কন্ট্রোল রুমের অধীনে। কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উচ্চপর্যায়ের একটি কারিগরি টিমের মাধ্যমে পুরো দেশের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ঘাটাইলে সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাছে লড়ছেন যারা

মোট ভোটার
৩১৭,৯৯১
পুরুষ ভোটার
১৫৮,৪৭৬
মহিলা ভোটার
১৫৯,৫১৫
কেন্দ্র
১১৯

প্রার্থীর ছবিনামপ্রতীকদল
candidate_photoআতাউর রহমান খানparty_symbolবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
candidate_photoমোঃ খলিলুর রহমানparty_symbolজাকের পার্টি
candidate_photoরেজাউল করিমparty_symbolইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
candidate_photoমোঃ আবু হানিফparty_symbolবাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন
candidate_photoমোঃ লুৎফর রহমান খান আজাদparty_symbolবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বি.এন.পি
candidate_photoএস, এম, চান মিয়াparty_symbolন্যাশনাল পিপলস্‌ পার্টি (এনপিপি)
candidate_photoমোঃ আতাউর রহমান খানparty_symbolবাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ

সবজি চাষে স্বাবলম্বী ঘাটাইলের চাষীরা

টাঙ্গাইলে ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নে একটি গ্রাম পাচটিকরী। শীত মৌসুমে এ এলাকার চাষীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন সবজি চাষে। এখানে সারা বছরই কিছু না কিছু সবজি উৎপাদন করে থাকেন চাষিরা। এ কারনেই এ গ্রামের নাম সবজির গ্রাম নামে খ্যাত।

স্থানীয় চাষিরা জানিয়েছেন, শীতের মাত্রা কম আর কুয়াশা না থাকায় এবার সবজির আবাদ ভাল হয়েছে। গ্রামের অধিকাংশ চাষীরা ১২ মাসই সবজি চাষ করে থাকেন। এতে করে তারা তাদের সংসারে স্বাবলম্বি জীবন ফিরে পেয়েছেন ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। ফলে এ এলাকার মানুষ অনেকটাই সবজি চাষের উপর নির্ভরশীল। বাজারে সবজির দাম ভাল থাকায় দিন দিন সবজি চাষের দিকে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এ কারনে ক্ষেতে খামারে শোভা পাচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাল শাক, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, শিম, বেগুন সহ নানান জাতের দেশীয় সবজির সমাহার। আর সবজি আবাদে লাভবান হওয়ায় ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন তারা।

বিগত ২০ বছর ধরে এ গ্রামের কৃষকরা এই সবজি চাষ করে আসছেন বলে গ্রামবাসি জানান।

পাচটিকরী গ্রামের সবজি চাষী সাইফুদ্দিন জানান, আমি ৮ শতাংশ জমিতে সবজি আবাদ করেছি। এক বছরে খরচ হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। গত এক বছরে লাখ টাকার মতো বিক্রি হয়েছে। আর ধান আবাদে খরচ বেশী। এতে প্রতিবছর লোকসান গুনতে হয়। বর্ষার সময় পানি উঠেনা এমন উচু জমিতে সবজি চাষ করা হয়।

সরেজমিনে পাচটিকরী গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ক্ষেতের পর ক্ষেত সবজি আর সবজিতে ভরপুর। এগুলো বাজারজাত করনের জন্য চাষীরা গ্রামে একটি সমিতি করেছেন। জানতে চাইলে সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী জানান, সবজি চাষিদের নিয়ে একটি সমিতি করা হয়েছে। সমিতির সদস্য রয়েছে ৪৫ জন। সবজি ক্ষেতে পানি সেচ সুবিধার জন্য একটি এনজিও থেকে ২টি স্যালো মেশিন দিয়েছে। আর সবজি বাজারজাত করনের জন্য পয়েন্ট করা হয়েছে। সকাল বেলায় চাষীরা সবজি তুলে পয়েন্টে নিয়ে জড়ো করেন। সেখান থেকে ঘাটাইল, মধুপুর, কালিহাতী, ভূয়াপুরসহ আশপাশের হাটবাজারের সবজি ব্যবসায়ীরা এসে কিনে নিয়ে যান।

এদিকে ভ্রমন পিপাসি সৌখিন মানুষজন ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা সময় অসময়েই বেড়াতে আসেন সবজি বাগানে ভরপুর এ পাচটিকরী গ্রাম দেখতে। তারা দল বেঁধে বাগানে ফটোসেশনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

জানতে চাইলে ঘাটাইল উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বিশ্বাস জানান, এ বছর ঘাটাইলে শীতকালীন সবজি চাষে লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৪৫০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ১৭০১ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে শীতকালিন সবজি চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিরাপদ সবজি চাষের লক্ষে আমরা চাষীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষন ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।