সোমবার, আগস্ট ১৩, ২০১৮

নারী শিক্ষায় বর্তমান সরকারের অবদান

”বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর”- কবির এই উক্তিটি শুধু কবিতায় নয়, বিশ্ব বাস্তবতায় বর্তমান। পুরো বিশ্বেই নারীরা উন্নয়নে সমান অংশীদার। কিন্তু শিক্ষা ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষে রয়েছে পার্থক্য। নারীরা পিছিয়ে রয়েছে এখানে। কিন্তু উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীকে এগিয়ে নিতে হবে।

বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নারীশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। আর তাই বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে গ্রহণ করেছে নানা পদক্ষেপ। শহুরে নারীদের তুলনায় গ্রামীণ নারীরা শিক্ষা ক্ষেত্রে বেশি পিছিয়ে রয়েছে। অর্থনৈতিক দৈন্যতা, সামাজিক নেতিবাচক মনোভাব, ধর্মীয় কূসংস্কার ইত্যাদি নানা কারণে গ্রামের মেয়েরা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায় না বা শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়না। তাই বর্তমান সরকার গ্রামীণ নারীদের শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে নির্মাণ করেছে স্কুল ও কলেজ। অনেক প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে নির্মাণ করা হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়গুলোতে তৈরী করা হয়েছে নারীবান্ধব শিক্ষার পরিবেশ।

নারী শিশুদের শিক্ষামুখী করতে সরকার নারীদের জন্য উপবৃত্তি বা মাসিক টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত প্রদান করা হয় উপবৃত্তি। ফলে নারীরা এখন শিক্ষা গ্রহণে অধিক আগ্রহী। এছাড়া সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে বইও বিতরণ করছে। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের দুপুরের খাবার দেয়া হয়। এতে গ্রামের দরিদ্র শিশুরা বিশেষ করে নারী শিশুরা অধিকহারে বিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করেছে।

নারী শিক্ষার আরেকটি বড় প্রতিবন্ধকতা হলো ‘বাল্যবিবাহ’। তাই বাল্যবিবাহ বন্ধে করা হয়েছে আইন আর এ আইন অমান্যে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করায় বেড়েছে শিক্ষার হার। বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। এছাড়া বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষাগুলোতেও পাসের হার মেয়েদের বেশি।

কর্মক্ষেত্রেও বেড়েছে নারীর পদচারণা। আর এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে বর্তমান সরকারের কারণে। বাংলাদেশসহ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নারী শিক্ষা ও ব্যবসায়িক উদ্যোগে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও যানজট মুক্ত করতে সরকারের পদক্ষেপ

নাড়ীর টানে বাড়ি ফিরতে অগ্রিম টিকিট কিনতে ভিড় জমাচ্ছে নগরীর মানুষ। যদিও সরকার ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে বাস, ট্রেন, প্লেন এর অগ্রিম টিকিট কাটার সুযোগ করে দিয়েছে, এতে অনেকেই ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে না দাঁড়িয়ে, কষ্ট না করে পেয়ে যাচ্ছে বাড়ি ফেরার চাবি।

কোরবানির ঈদ মানেই পশুহাট। ঈদের ৫ থেকে ৩ দিন আগেই বিভিন্ন ঘাটে এমনকি সড়কেও দেখা যায় পশুর পসরা, যা ঈদ যাত্রায় যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণ। তাই যেদিক সেদিক সড়ক পথ দখল করে যেন হাট না বসে সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। সেই সাথে কোরবানির পশুকে যেন কোন প্রকার ওষুধ বা ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজাকরণ করা না হয় সেদিকে বিশেষ মনিটরিং টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে। এছাড়া ভারতীয় গরুকে ‘না’ বলে দেশীয় গরু দিয়ে চাহিদা মেটাতে খামারিদের ব্যাংক ঋণের সুবিধাও দিয়েছে সরকার।

ঈদযাত্রা যেন বিঘ্নিত না হয়, দুর্ঘটনা ঠেকাতে এবং যানজট মুক্ত ঈদযাত্রা উপহার দিতে বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সেগুলো হল: যানজট নিরসনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো চার লেনে উন্নীতকরণ, যেদিক সেদিক সড়ক দখল করে পশুহাট না বসা, দুর্ঘটনা ও যানজট এড়াতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি মহাসড়কে চলাচল না করা, গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা, গাড়ির ছাদে লোক না নেওয়া, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি না চালানো, হেলপারকে দিয়ে গাড়ি না চালানোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার এবং তা তদারকি করতে ভ্রাম্যমান আদালত থাকবে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে।

ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে তৎপর সরকার।

চলে গেলেন সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার আর নেই। সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি .... রাজিউন)। দেশবরেণ্য সাংবাদিক, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি এবং প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এক সফল সাংবাদিকের জীবনের সমাপ্তি ঘটল। নিভে গেল এদেশের সাংবাদিকতার উজ্জ্বল বাতিঘর।

গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোকবার্তায় তারা মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রিয় সম্পাদকের মৃত্যুতে সমকালের প্রকাশক এ. কে. আজাদসহ সমকাল পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। সহকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

৭৫ বছর বয়সী গোলাম সারওয়ার মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

সোমবার দুপুরের পর থেকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন গোলাম সারওয়ারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। বিকেল ৫টায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় তাকে। তখন চিকিৎসকরা তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছিলেন। রাত ৯টা ২৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে।

সিঙ্গাপুরে গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে তার স্ত্রী সালেহা সারওয়ার, দুই ছেলে গোলাম শাহরিয়ার রঞ্জন ও গোলাম সাব্বির অঞ্জন, জামাতা মিয়া নাইম হাবিব এবং সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম গিয়েছিলেন।

গোলাম সারওয়ার হৃদরোগের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট মধ্যরাতে সমকাল সম্পাদককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। পর দিন সকালে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতিও হয়েছিল। নিউমোনিয়া সংক্রমণ হ্রাসের পাশাপাশি ফুসফুসে জমে থাকা পানিও কমে গিয়েছিল। হার্টও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল। কিন্তু গত রোববার হঠাৎ করে তার রক্তচাপ কমে যায়। কিডনিও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না। এ অবস্থায় সোমবার বিকেলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এর আগে অসুস্থতা অনুভব করার পর গত ২৯ জুলাই মধ্যরাতে গোলাম সারওয়ার রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হন। ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সোহরাবুজ্জামানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। এদিকে, সমকাল সম্পাদককে দেখতে সোমবার দুপুরে হাসপাতালে যান সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান। হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন।

বিভিন্ন মহলের শোক : গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তারা মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং পরিবারের সদস্যসহ ঘনিষ্ঠজন যাতে এই কষ্ট সইতে পারেন মহান আল্লাহর কাছে তারা সে কামনা করেন।

বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন: বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে গোলাম সারওয়ার উজ্জ্বল এক নাম। মুক্তচিন্তা, প্রগতিশীল মূল্যবোধ আর মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে সোচ্চার এ মানুষটি সাংবাদিকতা জগতের প্রতিষ্ঠানতুল্য ব্যক্তিত্ব। ষাটের দশকে সাংবাদিকতার শুরু থেকে একটানা পাঁচ দশকের বেশি সময় তিনি এই পেশায় মেধা, যুক্তিবোধ, পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার নিরবচ্ছিন্ন চর্চায় নিজেকে এবং বাংলাদেশের সংবাদপত্রকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংবাদপত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বার্তা বিভাগে গোলাম সারওয়ারের সৃজনশীলতা, সংবাদবোধ ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এদেশের সংবাদমাধ্যম জগতে উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দৈনিক ইত্তেফাকে দীর্ঘ ২৭ বছর বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধারে সৃজনশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতায় অতুলনীয় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। সত্তরের দশকের প্রথমার্ধে দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সাপ্তাহিক পূর্বাণীর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। পূর্বাণীতে তারই সম্পাদনায় এদেশে প্রথম ম্যাগাজিন আকারে বৃহদায়তনের ঈদসংখ্যা প্রকাশের রীতি শুরু হয়। তার নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক সাপ্তাহিক হিসেবে পূর্বাণী অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

এসব কৃতিত্বের ধারাবাহিকতায় তিনি দেশের দুটি সেরা দৈনিক 'যুগান্তর' ও 'সমকাল'-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে নজিরবিহীন সাফল্য অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক এবং এর ছয় বছর পর ২০০৫ সালে আরেকটি নতুন দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পালন করে যান সে দায়িত্ব। তার সুযোগ্য নেতৃত্ব, ক্ষুরধার মেধা ও অসামান্য সাংগঠনিক দক্ষতা পত্রিকা দুটিকে দ্রুততম সময়ে পাঠকপ্রিয় করে তোলে।
মেধা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার কারণে গোলাম সারওয়ারকে অনেকেই সাংবাদিকদের শিক্ষক হিসেবে অভিহিত করেন। তার হাতে গড়া অন্তত পাঁচ শতাধিক সাংবাদিক এখন দেশের বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশন মাধ্যমে নিজ নিজ দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তার হাতে সরাসরি কাজ শেখা বেশ কয়েকজন সাংবাদিক বর্তমানে দৈনিক পত্রিকা ও টেলিভিশন মাধ্যমের সম্পাদক বা প্রধান সম্পাদক হিসেবে যোগ্যতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা অনেকেই গর্বভরে নিজেদের পেশার শিক্ষক হিসেবে গোলাম সারওয়ারের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের সংবাদপত্রের বিকাশ ও ক্রমপরিণতির ইতিহাসে গোলাম সারওয়ারের নাম অতিগুরুত্ব ও স্পষ্টতার সঙ্গে উচ্চারিত হবে বারবার। শৌখিন, কুটিরশিল্পসদৃশ সংবাদপত্রের ক্ষীণ বলয় থেকে বৃহৎ কলেবরের সংবাদপত্রের অভিযাত্রার অন্যতম সফল পথিকৃৎ সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। তিনিই প্রথম এদেশে প্রতিদিন রঙিন খেলার পাতা, বিনোদন পাতা, নানা স্বাদের গুচ্ছ গুচ্ছ ফিচার প্রকাশ করার রীতি প্রবর্তন করে দৈনিক পত্রিকার চেনা অবয়বকে পাল্টে দিয়ে একটি দৈনিককে পরিবারের সব সদস্যের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনাকে সফলভাবে বাস্তবায়িত করেন। সংবাদকে তার উপযুক্ত গুরুত্ব দিয়ে যথাযথ ট্রিটমেন্টে প্রকাশ করায় তার সমতুল্য কোনো সম্পাদক এদেশে নেই- এটি অপরাপর সম্পাদকের ভাষ্যেই বহুবার জানা গেছে। গোলাম সারওয়ার এদেশের সংবাদপত্রের সাফল্য ও পেশাদারিত্বের প্রতীক।

তার জন্ম ১৯৪৩ সালের ১ এপ্রিল বরিশালের বানারীপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। বাবা মরহুম গোলাম কুদ্দুস মোল্লা ও মা মরহুম সিতারা বেগম দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান গোলাম সারওয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্মানসহ এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ১৯৬২ সালে চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা হিসেবে তার সাংবাদিকতা পেশার সূচনা। একই বছর দৈনিক সংবাদের সহসম্পাদক হিসেবে যুক্ত হন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত সংবাদে চাকরিরত ছিলেন। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন নিজ এলাকা বানারীপাড়ায়। মুক্তিযুদ্ধের পর কয়েক মাস বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তার পরপরই ১৯৭২ সালে ইত্তেফাকে সিনিয়র সহসম্পাদক হিসেবে যুক্ত হন। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত যথাক্রমে প্রধান সহসম্পাদক, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের দৈনিক সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

সৃজনশীল সাহিত্যে গোলাম সারওয়ারের অকৃত্রিম আগ্রহ ও উদ্যোগ তার সৃষ্টিশীলতা ও প্রাণময়তার আরেক ক্ষেত্র। দৈনিক পত্রিকায় সাহিত্যকে তিনি মানে ও মর্যাদায় স্বতন্ত্র করেছেন। তার গদ্য স্বাদু-অনায়াস দক্ষতায় তিনি রাজনীতির বক্র বিষয়াদির সঙ্গে সমকালীন বাস্তবতা ও ধ্রুপদী সাহিত্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে দেন। তিনি দক্ষ ছড়াকার; ষাটের দশকে অসংখ্য ছড়া লিখেছেন। সত্তরের দশকেও ছড়ায় সচল রেখেছিলেন নিজের কলম। 'রঙিন বেলুন' নামে শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত ছড়ার বইটি তার ছড়া সৃষ্টির উজ্জ্বল নিদর্শন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতে একসময় তিনি ছিলেন ঘনিষ্ঠ। তার লেখা বেশ কয়েকটি গান আজও শ্রোতাহৃদয়ে শিহরণ জাগায়। তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে 'সম্পাদকের জবানবন্দি', 'অমিয় গরল', 'আমার যত কথা', 'স্বপ্ন বেঁচে থাক' ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সাংবাদিকতায় জীবনব্যাপী অনন্য ভূমিকার জন্য তিনি ২০১৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।

ঘাটাইল জিবিজি কলেজসহ সরকারি হল টাঙ্গাইলের ৮ কলেজ


আরিফুল ইসলাম, টাঙ্গাইল: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বেসরকারি ২৭১ কলেজ সরকারি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব নাছিমা খানম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় ৮ আগস্ট থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে। সরকারি হওয়া কলেজগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলার আটটি কলেজ সরকারি করণ হলো।

এগুলো হল, ঘাটাইল জিবিজি কলেজ, দেলদুয়ার সৈয়দ মহব্বত আলী ডিগ্রী কলেজ, কালিহাতী সামছুল হক মহাবিদ্যালয়, বাসাইল জোবেদা-রুবেয়া মহিলা কলেজ, গোপালপুর কলেজ, মির্জাপুর কলেজ,মধুপুর কলেজ, ধনবাড়ি কলেজ।