বুধবার, আগস্ট ০৩, ২০১৬

ঘাটাইলে মানববন্ধন

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে পিডিবিকে কোম্পানীর হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় গতকাল বুধবার সারাদেশের ন্যায় মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিকলীগ আয়োজিত ঘাটাইল উপজেলা বিদ্যুৎ বিতরন বিভাগের অফিসের সামনে মানববন্ধনে অংশগ্রহন করেন ঘাটাইল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন বিভাগের সকল  কর্মচারীবৃন্দ।

ঘাটাইল পৌরসভার আওয়ামী লীগ-বিএনপির মর্যাদার লড়াই

আগামী ৭ আগস্ট সারা দেশের মেয়াদোত্তীর্ণ আট পৌরসভার সঙ্গে ঘাটাইল পৌরসভার নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঘাটাইলে এগিয়ে চলেছে প্রার্থীদের প্রচারণা। ভোটারদের কাছে মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো পৌর এলাকা। আওয়ামী লীগ-বিএনপির ভিআইপি নেতাদের মাঠে উপস্থিতি ভোটারদের নজরে এসেছে। এ অবস্থায় বিএনপি চাইছে হ্যাটট্রিক বিজয় আর আওয়ামী লীগ চাইছে জয়ের ধারায় ফিরতে। এক কথায় ঘাটাইল পৌর নির্বাচন দুই দলের মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। তবে পৌর এলাকা ঘুরে ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। ভোট সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন অনেকে।
পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থী হলেন— আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুজ্জামান খান ভিপি শহিদ, বিএনপির প্রার্থী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা মো. রফিকুল ইসলাম। আওয়ামী লীগ-বিএনপি এ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের মধ্যে দুটি গ্রুপ রয়েছে। এক পক্ষে আছে পলাতক এমপি রানার অনুসারী, অপর পক্ষে আছে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবুর নেতৃত্বে। তবে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মী মিলেমিশে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ভিপি শহীদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন। জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা পথসভা ও উঠান বৈঠক করে ভোট চাইছেন ভিপি শহীদের পক্ষে। এ দিকে রানা এমপির অনুসারী রফিকুল ইসলাম মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও বাছাইয়ে তা বাতিল হয়ে যায়। আপিল করেও তিনি মনোনয়নপত্রের বৈধতা পাননি। পরবর্তীতে হাইকোর্টে রিট করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে তিনিও এখন মাঠে। তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় ভোটে তেমন প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে না আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন, পৌরসভার সব নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগের প্রার্থী ভিপি শহিদকে জয়ী করতে কাজ করছেন। সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ও সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত পৌরসভা গড়তে ঘাটাইল পৌরবাসী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। তিনি আরও বলেন, এখানে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষের শঙ্কার কারণ নেই।
অন্যদিকে, জয়ের সঙ্গে ভয় ও শঙ্কাও কাজ করছে বিএনপিতে। গত পৌরসভা নির্বাচনে দুটি কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা শেষে গোলযোগ সৃষ্টি করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তার রেশ ধরে সে সময় উপজেলা পরিষদে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হলে একটি কেন্দ্রের ফল স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। পরে সে কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৭ ভোটে বিএনপি প্রার্থীই জয়ী হন। এসব কারণে এবারও একই রকম শঙ্কা ও ভয় রয়েছে তাদের। দলের মধ্যে কিছুটা মতভেদ থাকলেও এটাকে গ্রুপিং বলতে নারাজ বিএনপির নীতি নির্ধারকরা। নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভোটের মাঠে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুত্ফর রহমান খান আজাদের উপস্থিতি মনোবল চাঙ্গা করেছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আখম রেজাউল করিম বলেন, ‘দলে কোনো বিভেদ নেই, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির প্রার্থীই জয়লাভ করবেন।