শুক্রবার, আগস্ট ৩১, ২০১৮

গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা, চাচা শ্বশুরকে মারধর

এক গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলার জের ধরেই বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) সকালে ওই গৃহবধূর চাচা শ্বশুরকে মারধর করা হয়েছে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি মিলন কৃষ্ণ মিত্র বলেন, ‘ওই গৃহবধূর চাচাকে মারধর করার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যার তদন্তের দায়িত্ব চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকে দেওয়া হয়েছে।’

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, বাদী গৃহবধূর স্বামী সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেক সময় মাছ ধরা শেষে গভীর রাতে বাড়ি ফেরেন। এ সুযোগে আসামি জামাল প্যাদা বিভিন্ন সময় গৃহবধূকে কু-প্রস্তাব দেয়। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গৃহবধূর ওপর ক্ষিপ্ত হয়। গত সোমবার রাতে গৃহবধূর স্বামীর অনুপস্থিতিতে আসামি ঘরে অনাধিকার প্রবেশ করে। এক পর্যায় গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে তার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে ডাক-চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন আসামিকে আটকে ফেলে। কিন্তু আসামির বাবা প্রভাবশালী ইউপি সদস্য হওয়ায় তাকে ছেড়ে দিতে হয়।

এদিকে এ ঘটনায় মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ইউপি সদস্যের লোকজন ওই গৃহবধূর চাচা শ্বশুরকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় আজ দুপুরে রাঙ্গাবালী থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন, জলিল প্যদা (৩৫), নান্নান প্যাদা (৩৫), আবু ছালে প্যাদা (২৫), জসিম প্যাদা (২৫) ও ফারুক প্যাদা (৪০)। তাদের সকলের বাড়ি চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামে। তারা কেউ ইউপি সদস্যের ছেলে, কেউ তার ভাইয়ের ছেলে।

মারধরের শিকার আহত চাচা শ্বশুর বলেন, ‘ইউপি সদস্যের ছেলে জামাল প্যাদার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করার পরে আতঙ্কে আছি। পরিবারের যারা বাড়িতে আছে, তারা বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। আর যারা বাড়ির বাহিরে, তারা বাড়িতে যেতে পারছে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম প্যাদা বলেন, ‘আমার ছেলের বিরুদ্ধে একজনে মামলা করতেই পারে। আমি লঞ্চে আছি, পরে কথা বলব।’

জানা গেছে, এ ঘটনার পর গত বুধবার ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম প্যাদার ছেলে জামাল প্যাদার (৩১) বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

৪ ডিজিটের শর্টকোড বন্ধ আজ থেকে

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ৪ ডিজিটের শর্টকোড। এখন থেকে টেলিসেবা দিতে ৫ ডিজিটের শর্টকোড ব্যবহার করতে হবে।

তবে ৫ ডিজিটের শর্টকোড চালু করতে আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় চেয়েছে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশেন (বিএমপিআইএ)। গত ২০ আগস্ট বিটিআরসি চেয়ারম্যান বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অনুরোধ জানান সংগঠনটির জেনারেল ম্যানেজার মনিরুল বাশার।

চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল নাম্বারিং প্ল্যান ২০১৭ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ৪ ও ৫ ডিজিটের শর্টকোড ব্যবহৃত হচ্ছে। টেলিকম অপারেটররা ৫ ডিজিটের শর্টকোড চালু করতে ইতোমধ্যেই কারগরি সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এই ডিজিট উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে হলে আরও সময় প্রয়োজন। এ জন্য আগামী ৩১ মার্চের আগ পর্যন্ত মোবাইল ইম্পোর্টার্সদের জন্য বরাদ্দকৃত ৫৯৫৯ শর্টকোর্ডটি চালু না রাখলে একদিকে আমদানিকারকরা যেমন মোবাইল ফোন সচল হওয়া সংক্রান্ত তথ্য পাবেন না, তেমনি গ্রাহকের বিক্রয়োত্তর সেবা প্রাপ্তিতেও জটিলতা সৃষ্টি হবে।

কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে শর্টকোড ৫ ডিজিটে রূপান্তর কেবল ডেটাবেজ ও পোর্ট হালনাগাদ করণের ওপরই নির্ভর করছে না জানিয়ে মনিরুল বাশার বলেন, মোবাইল ফোনের ভেতরেই ৫৯৫৯ শর্টকোর্ডটি সংরক্ষিত থাকে। তাই ইতোমধ্যেই যেসব ফোন আমদানি করা হয়েছে তার কোড পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এগুলো বিক্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৪ ডিজিটের এই শর্টকোড চালু না রাখার কোনো বিকল্প নেই।

প্রসঙ্গত, ফোন কল সেবার সংক্ষিপ্ত হলো শর্টকোড। লম্বা সিরিয়ালের নম্বরে ফোন না করে সংক্ষিপ্ত একটি নম্বরে কল করা যায় নিমিষেই। ছোট সংখ্যার নম্বর বলে এটি মনে রাখাও সহজ। দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জরুরি বিভাগ এই সেবাগুলো দিচ্ছে। তবে এসব নম্বর ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করার সুযোগ নেই।

বিশ্বব্যাপী তিন ধরনের শর্টকোডের প্রচলন রয়েছে- গোল্ডেন শর্টকোড, ডেডিকেটেড শর্টকোড ও শেয়ারড শর্টকোড। নিয়ম মাফিক আইএসপি-টিএসপি (ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান) এবং পিএসটিএন (ফিক্সড ফোন) অপারেটররাই দেশে একমাত্র শর্টকোড পার্ক করে থাকে।

বিটিআরসি দুই ধরনের সেবার জন্য শর্টকোড দিয়ে থাকে। একটি হলো ব্যবসায়িক আর দ্বিতীয়টি হলো অব্যবসায়িক। বিটিআরসির নির্দিষ্ট ফি ও নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে শর্টকোড বরাদ্দ নেওয়া যায়।

ক্যাটাগরি এ-ব্যবসায়িক শর্টকোডের বরাদ্দ ফি এক লাখ এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংকিং সেক্টরগুলো সাধারণত এই সেবা নিয়ে থাকে। ক্যাটাগরি বি হলো অব্যবসায়িক শর্টকোড। এর বরাদ্দ ফি ৫০ হাজার এবং নবায়ন ফি ২৫ হাজার টাকা। ই-হেলথ, ই-এডুকেশন, ই-গভর্নেন্স এ জাতীয় সেবাগুলো এই ক্যটাগরির আওতায় দিয়ে থাক।

বিটিআরসি আগে ৩ বা ৪ ডিজিটের শর্টকোড বরাদ্দ দিলেও বর্তমানে ৫ ডিজিটের নম্বর বরাদ্দ দিয়ে থাকে। ৩, ৪ বা ৫ ডিজিটের নিজস্ব শর্টকোড রয়েছে মোবাইল অপারেটরদের। মূলত নিজেদের সেবা দেয়ার জন্যই তারা নিজস্ব শটকোড ব্যবহার করে থাক। একজন মোবইল অপারেটরের শর্টকোড অন্য মোবাইল অপারেটর ব্যবহার করতে পারে না।

মোবাইল অপারেটররা নানা ধরনের ভ্যালু অ্যাডেড (ওয়েলকাম টিউন, কলার টিউন ইত্যাদি) সেবা প্রদান করতে নিজস্ব শর্টকোড ব্যবহার করে থাকে। এই শটকোডের মাধ্যমে তারা নানারকম রেজিস্ট্রেশন, ভোটিং, পোলিং, কুইজ এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এগুলোর মাধ্যমে পরীক্ষার আসন বিন্যাস, ফলাফল প্রকাশসহ অনেক কিছুই জানানো যায়।

তবে বিটিআরসি থেকে শর্টকোড বরাদ্দ নিলেই কিন্তু তা ব্যবহার করা বা সেবা দেয়া যায় না। দেশের যেকোনও জায়গায় সেবা দিতে সক্ষম আইপিটিএসপি বা পিএসটিএন অপারেটরের কাছ থেকে সেবা নিতে হয় যাদের উন্নত ও পরিষ্কার ভয়েস কল থাকতে হবে এবং কলড্রপের হার হবে শূন্য।

বর্ষসেরা ফুটবলার লুকা মদ্রিচ

পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং মিশরের তারকা ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহকে পেছনে ফেলে উয়েফা বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হলেন ক্রোয়েশিয়ার তারকা ফুটবলার লুকা মদ্রিচ। বৃহস্পতিবার মোনাকোয় বর্ষসেরা ফুটবলারের নাম ঘোষণা করা হয়।


রিয়ালের টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে পেছনে বড় অবদান ছিল মদ্রিচের। মাদ্রিদের ক্লাবটির হয়ে গত মৌসুমে উয়েফা সুপার কাপ, স্প্যানিশ সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপাও জিতেন তিনি।

সদ্য শেষ হওয়া রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তুলতে বড় অবদান রেখেছিলেন মদ্রিচ। সে কারণে জিতেছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’।

বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। অথচ বর্তমান সময়ের এ তারকা ফুটবলারের নামই ছিল না উয়েফার বর্ষসেরার তালিকায়।

উয়েফার বর্ষসেরা পুরস্কার সর্বোচ্চ তিনচার জিতেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দুইবার উয়েফার বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি।

পুরস্কার ঘোষণার আগে উয়েফার পক্ষ থেকে বর্ষসেরা পুরস্কারের জন্য ১০ জনের একটা প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই তালিকায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, লুকা মদ্রিচ, মুহাম্মদ সালাহ, কেভিন ডি ব্রইন, আঁতোয়া গ্রিজম্যান, কিলিয়ান এমবাপ্পে, এডেন হ্যাজার্ডের নাম থাকলেও ছিল না মেসির নাম।

নাব্য সংকট কাটছে না ড্রেজিং করেও

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে দিনে সীমিত চলাচল করলেও রাতে ফেরি চলাচল থাকছে বন্ধ। নাব্য সংকটের কারণে গত তিন মাস ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌরুটে ফেরি সার্ভিস সচল রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের। তার মধ্যে দিনে সীমিত চলাচল করলেও প্রায় সময়ই নাব্য সংকটে নৌ-চ্যানেলে ফেরিগুলো আটকে যাচ্ছে নদীর তলদেশে। কখনও বন্ধ রাখা ও কখনও চালু করার ঘটনায় দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের মাধ্যম শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরি সার্ভিস বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। 

এদিকে গত তিন মাস ধরে নাব্য সংকট নিরসনে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ একাধিক ড্রেজার দিয়ে ড্রেজিং কাজ করলেও কোনো উপকারই হচ্ছে না। তাই ড্রেজিং কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ড্রেজিং করে পলি মাটি দূরে না ফেলে তা পাশেই ফেলে দেওয়ায় ঘূর্ণায়মান স্রোতে পলি মাটি আবারও জড়ো হয়ে নাব্য সংকট রয়েই যাচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পদ্মায় মাত্রাতিরিক্ত পলি জমেছে। জরিপ করে দেখা গেছে, নাব্য সংকট নিরসনে নৌরুটে ৩২ লাখ ঘনমিটার পলিমাটি অপসারণ করতে হবে। সে হিসাবে এখন পর্যন্ত পলি অপসারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ঘনমিটার। আরও ২৪ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করতে হবে বলে জানা গেছে।

শিমুলিয়া ঘাট সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে বিভিন্ন জেলার মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করলেও প্রতিবন্ধকতার কবলে পড়েন শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে। শনিবার রাতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হলে রোববার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শত শত যাত্রী নৌরুট পাড়ি দিতে না পেরে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে আটকা পড়ে। সকালে ফেরি চালুর পর এসব যাত্রী ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোটে পদ্মা পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে রওনা হয়ে যায়। সাড়ে ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রোববার সকালে সীমিত আকারের ফেরি চালুর পর লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে আটকে যায় ফেরি কিশোরী। পরে আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়। এ সময় ফেরিতে থাকা শত শত যাত্রী দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। ঘাট সূত্র জানায়, দিনে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করলেও রাত ৮টার পর আবারও ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়। সাড়ে ১১ ঘণ্টা পর সোমবার সকাল ৭টায় আবারও সীমিত আকারে ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। গতকাল মঙ্গলবারও দিনের বেলায় ফেরি সার্ভিস সীমিত আকারে সচল করা হয়।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া কার্যালয়ের এজিএম খন্দকার শাহ খালেদ নেওয়াজ জানান, নাব্য সংকট ও ডুবোচর থাকায় নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি সার্ভিস রাতে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। 

বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তা জসিমউদ্দিন জানান, লৌহজং টার্নিং চ্যানেলের মুখে বারবার পলি জমে নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায় ফেরি চলাচল করতে পারছে না। বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজারগুলো পলি কেটে তা ফেলে দিচ্ছে ড্রেজিং স্থানের আশপাশেই। ফলে কোন উপকারই হচ্ছে না। 

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (ডেজিং) এএসএম আরেফিন জানান, লৌহজং টার্নিং চ্যানেলের মুখেই ড্রেজিং করা হচ্ছে। ড্রেজিংকৃত স্থান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কি করা হলে ফেরি চলাচল সচল করা যায়। 

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান জানান, নৌরুটে যে পরিমাণ পলিমাটি জমেছে, সে হিসাব অনুযায়ী ৩২ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করতে হবে। গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হওয়া ড্রেজিং কার্যক্রমে এ পর্যন্ত পলি অপসারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ঘনমিটারের বেশি। আরও ২৪ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩০, ২০১৮

ঘাটাইলের মাদক ব‌্যবসায়ী ইয়াবাসহ মধুপুরে গ্রেফতার

মধুপুর নিউজ ডেস্ক:  গতকাল বুধবার (২৯ আগস্ট)  টাঙ্গাইলের মধুপুর নয়াপাড়া এলাকায় বিসমিল্লাহ্ মটরসের সামনে ইয়াবা ট‌্যাবলেট বিক্রির সময় দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে মধুপুর থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন, টাঙ্গাইরের ঘাটাইল  ‍উপজেলার উত্তর খিলগাতী গ্রামের আঃ বাছেদ এর ছেলে  মোঃ মনির হোসেন (২০), অপরজন হলেন একউ গ্রামের আঃ হামিদ এর ছেলে  মোঃ রাব্বি (২০)।

এসময় তাদের নিকট হইতে ১০ (দশ) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৩,০০০/- টাকা সহ গ্রেফতার করা হয়। আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে মধুপুর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা রুজু করিয়া বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ক্রিকেটাররা একাধিক বিয়ে করলে আমাদের কিছু করার নেই: পাপন

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ক্রিকেটারের আচরণে নষ্ট হয়েছে দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি। কয়েকজন ক্রিকেটারের বিরুদ্দে শৃঙ্খলা ভঙের অভিযোগ উঠেছে।


সম্প্রতি স্ত্রীকে ডিভোর্স দেন জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এই ঘটনার দিন কয়েক পর ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন ৩ ও ৪ ধারায় অভিযোগ করেন মোসাদ্দেকের স্ত্রী সামিয়া শারমিন।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অনেক বিষয় আছে। সে বিষয়ে বিসিবির বলার কিছু নেই। কোনো ক্রিকেটার যদি তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয় অথবা একাধিক বিয়ে করে তাহলে আমারদের কিছু করার নেই।

তবে ক্রিকেটাররা যেহেতু দেশের আইডল সেহেতু তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। এমনটি জানিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ক্রিকেটাররা যেহেতু দেশের মানুষের কাছে আইডল। তাদের অনেকে অনুসরণ করে, তাই তাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। সে জন্য বিসিবি চেষ্টা করে তাদের ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে।

শারীরিক সম্পর্কে আনন্দ ও আকর্ষণ বৃদ্ধি করবেন যেভাবে

দাম্পত্যের রসায়ন ঠিকমত জমাতে হলে, যৌনতার বিকল্প কিছু নেই। যৌন জীবনের এই সফলতার উপর অনেকাংশে নির্ভর করছে আপনার বিবাহিত জীবনের অগ্রযাত্রা। আর এজন্য আপনার কিছু কৌশল ও পরিকল্পনা প্রয়োজন অবশ্যই। যৌনতার আনন্দ ও আকর্ষণ বৃদ্ধিতে, গবেষকদের পর্যালোচনার আলোকে চলুন জেনে নেয়া যাক প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো।

১. গড়ে তুলুন রোম্যান্টিক আবহ: প্রত্যাশিত আনন্দ পেতে হলে, আপনাকে পরিকল্পিত উপায়ে অগ্রসর হতে হবে। নিজের বেডরুমটিকে দুজন মিলে সাজিয়ে তুলুন। হালকা আলোয় চমৎকার একটি রোম্যান্টিক আবহ গড়ে তুলুন। সাজানো-গোছানো পরিবেশে দুজনেরই মনস্তাত্ত্বিক যোগাযোগ আরো নিবিড় হয়ে উঠবে। এজন্য উত্তেজক সাজগোজ এবং পোশাক-পরিচ্ছদেও গুরুত্ব দিতে হবে দুজনকে। চাইলে এয়ার ফ্রেশনার দিয়ে সুগন্ধও ছড়িয়ে দিতে পারেন চারপাশে।

২. মেতে উঠুন গল্প আর খুনসুটিতে: যৌনতা মানেই ঝাঁপিয়ে পড়া নয়। পারস্পরিক বোঝাপড়ার বিষয়টিকে মজবুত করতে তাই কিছুক্ষণ গল্প করুন সঙ্গীর সাথে। মেতে উঠুন আড্ডা আর খুনসুটিতে। এতে করে দুজনেরই ভাললাগা ও অনুভূতিগুলো আরো ঘনীভূত হয়ে উঠবে।

৩. শেয়ার করুন আপনার যৌন ফ্যান্টাসিগুলো: মনে মনে আপনি হয়তো যৌবনকে উপভোগ করার নানান চিন্তা ও পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। সঙ্গীর সাথে সেগুলো শেয়ার করতে ভুলবেননা। এতে করে আপনার চাহিদা সম্পর্কে তার ভেতরে ধারনা তৈরী হবে। ঠিক একইভাবে সঙ্গীর চাহিদাগুলোও মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করুন। শুধু নিজেকে নয়; তাকেও আনন্দ দেয়ার দায়িত্ব কিন্তু আপনারই।

৪. বৈচিত্র্য আনুন আসনে: একঘেয়ে-ক্লান্তিকর পদ্ধতি পরিত্যাগ করুন। মনে রাখবেন, যতো বেশি বৈচিত্র্য ও পরিবর্তন আনতে পারবেন; ততোই উপভোগ্য হবে আপনাদের যৌনসম্পর্ক। বিভিন্ন প্রকার মৈথুন ও আসন সম্পর্কে ধারনা নিলে উপকৃত হবেন যথেষ্ট। এক্ষেত্রে বইপত্র বা ইন্টারনেট থেকেও সহায়তা নিতে পারেন। তবে পর্নগ্রাফিকে অবশ্যই না বলবেন। কারণ উত্তেজিত হওয়ার জন্য পর্ন নির্ভরতা খুবই নেতিবাচক; যা আপনার দাম্পত্য সম্পর্ককে অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ করবে।

৫. মনোযোগী হোন সঙ্গীর প্রতি: স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে না বুঝলে বিরাট সমস্যা। তাই সঙ্গীর মনের ভাব ও ভাষা বোঝার দিকে মনোযোগী হতে হবে আপনাকে। তার ইচ্ছে-প্রত্যাশা-কামনা সবকিছুর প্রতি মনোনিবেশ করুন। এতে করে আপনার সঙ্গীও আপনার প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা অনুভব করবে মন থেকে। মনে রাখবেন, শারীরীক আকর্ষণই সবকিছু নয়। একটা সম্পর্কের ভিত্তি গঠনে মানসিক ঐক্য থাকা অপরিহার্য।

৬. সম্ভব হলে ঘুরে আসুন কোথাও থেকে: দর্শণীয় ও প্রাকৃতিক সুন্দর জায়গাগুলো থেকে ঘুরে আসুন সম্ভব হলে। এতে দুজনের আনন্দ ও ভালোলাগাগুলো বৃদ্ধি পাবে বহুগুণ। পাহাড়-নদী-সমুদ্রের সান্নিধ্যে আপনার যৌনতার ফ্যান্টাসিগুলোও উপভোগ্য হয়ে উঠবে দারুনভাবে। সূত্র: হাফিংটন পোস্ট

ঔষধ উৎপাদন ও রফতানিতে শীর্ষ অবস্থান বাংলাদেশের

বর্তমানে দেশে উদীয়মান শিল্প ঔষধ। দেশে পোশাক শিল্পের পরই এই ঔষধ শিল্পের অবস্থান। পঞ্চাশের দশকের শুরু থেকে দেশে এই ঔষধ শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। যদিও তখন মোট চাহিদার ২০ভাগ পূরণ করতে সক্ষম ছিল নতুন বাংলাদেশ। দেশের মানুষের জন্য ৮০ ভাগ ঔষধের চাহিদা নির্ভর করতে হতো বৈদেশিক আমদানির ওপর। সেই দেশ আজ দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও অত্যন্ত সুনামের সাথে ঔষধ করছে ঔষধ।

ঔষধ রফতানিকারক ৪৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে বর্তমানে শীর্ষ স্থানে। ঔষধ উৎপাদনের জন্য বর্তমানে দেশে কাজ করে যাচ্ছে দুই শতাধিক ঔষধ উৎপাদনকারী কোম্পানি। এসব কোম্পানিতে প্রতি বছর ২৪ হাজার ব্র্যান্ডের ঔষধ উৎপাদিত হয়ে থাকে। এই ঔষধ উৎপাদনের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে দুই লক্ষাধিক কর্মী। বর্তমানে ১৬০টি দেশে বাংলাদেশের তৈরী ঔষধ রফতানি করা হচ্ছে। ঔষধ রফতানি কয়েকদিন পর দেশের পোশাক রফতানি খাতকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মীগণ। বিগত পাঁচ বছরে এখাতে রফতানি বেড়েছে দ্বিগুণ।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী জানা যায়, দেশের উৎপাদিত ঔষধ সব থেকে বেশি রফতানি হচ্ছে মিয়ানমারে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শ্রীলংকা। দেশে বিপুল পরিমাণ ঔষধ উৎপাদন করা হলেও ঔষধ তৈরির কাঁচামাল এখনো আমদানি করতে হয়। এর ফলে খরচ কিছুটা বেশি হয়। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক এ বিষয়ে জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের মাটিতেই কাঁচামাল তৈরী করা সম্ভব। এর ফলে ঔষধ উৎপাদনের খরচও কমবে। খরচ কমার ফলে ঔষধ উৎপাদন আরও বেশি বেড়ে যাবে। উৎপাদন বেড়ে যাওয়ার ফলে বর্তমানের তুলনায় আরো বেশি ঔষধ রফতানি করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। বর্তমানে ঔষধ রফতানিতে দেশের শীর্ষ কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।

বাংলাদেশ পুরো বিশ্বকে কম মূল্যে প্যারাসিটামল তৈরী করে চমক লাগিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয় হৃদরোগের জন্য অনেক দুর্লভ ঔষধ তৈরী করে তা বিদেশেও রফতানি করছে দেশ। একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ঔষধ শিল্প যুগান্তকারী অবদান রাখছে। পোশাক শিল্পের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে দেশের ঔষধ শিল্প। বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই ঔষধ শিল্প এগিয়ে যাবে বহুদূর- এই আশা সংশ্লিষ্ট সকলের।

গ্রাহকদের এসএমএস পাঠাতে হবে বাংলায়

দেশের সব মোবাইল ফোন অপারেটরকে এখন থেকে বাংলা ভাষায় গ্রাহককে এসএমএস পাঠাতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বিটিআরসি।

বুধবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এ সিদ্ধান্ত নিযেছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

তিনি বলেন, বিটিআরসির এ সিদ্ধান্ত বুধবার থেকেই কার্যকর হবে। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সকল মোবাইল ফোন অপারেটরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য শিগগির আসছে নতুন প্রকল্প স্ট্যাবলিশিং ডিজিটাল কানেকটিভিটি (ইডিসি)। বুধবার আগারগাওস্থ আইসিটি টাওয়ারে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জু এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার একান্ত বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এ সময় তারা পারস্পারিক দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ করে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের ইনফো সরকার তৃতীয় পর্যায় প্রকল্প, ডাটা সেন্টার প্রকল্প, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের র্মডানাইজশেন অব টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক প্রকল্পসহ চীন সরকার ও সে দেশের বিভিন্ন কোম্পানির অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পসমূহের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।



এ সময় মন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী ও দীর্ঘ পরীক্ষিত বন্ধু। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের আইসিটি, টেলিকমিনিউকেশনসহ বিভিন্ন খাতে অধিকহারে অর্থায়নসহ সহযোগিতার আহবান জানান।

মির্জাপুরে ছাত্রলীগ নেতার পাশে এমপি একাব্বরসহ আ.লীগের দুই নেতা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছাত্রলীগ নেতা তাওহিদুজ্জামান রানার চিকিৎসা সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় এমপি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাববর হোসেন ও হংকং শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মির্জাপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ লিটন।

রানা মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও মহেড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে রানা সবার ছোট।

বৃহস্পতিবার এমপি একাব্বর হোসেনের পক্ষে তার একমাত্র ছেলে তাহরিম হোসেন সীমান্ত জানান, তার পিতা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫০ হাজারসহ আরও কিছু সুহৃদ মিলে রানার চিকিৎসায় দেড় লাখ টাকা সহায়তার ব্যবস্থা তিনি করবেন।

অপরদিকে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ লিটন তার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে পঁচিশ হাজার এবং সহকর্মীদের মাধ্যমে আরও পঁচাত্তর হাজার টাকাসহ মোট এক লাখ টাকা ব্যবস্থা করে দেবেন বলেন তিনি জানান।

‘বাঁচতে চান ক্যানসার আক্রান্ত ছাত্রলীগ নেতা রানা’ শিরোনামে একটি মানবিক প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার সকালে দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকাটাইমসে প্রকাশিত হলে তা অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে পড়ার পর তারা এ প্রতিবেদককে ফোন করে আর্থিক সহায়তার কথা জানান।

এছাড়া রানার গ্রাম মহেড়ার বাসিন্দা আবু তাহের ১০ হাজার, রুকন উদ্দিন ১০ হাজার এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ব্যক্তি বিকাশে পাঁচ হাজার টাকা সহায়তা পাঠিয়েছেন।

এদিকে রানা চিকিৎসা সহায়তা এমপি একাব্বর হোসেন ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের জন্য দোয়া করেছেন রানার মা রেখা বেগম। এছাড়া রানাকে নিয়ে মানবিক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তিনি অনলাইন নিউজপোর্টাল ঢাকাটাইমস সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন ও মির্জাপুর প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেনের জন্যও দোয়া করেছেন। 

টাঙ্গাইলের শাহজাহাল (রহ.) মেডিকেল ইনস্টিটিউশন থেকে মেডিকেল অ্যাসিস্টান্ট পাস করা তাওহিদুজ্জামান রানা গলায় ও ঘাড়ে তিন মাস আগে (ননহসকিন লিস্ফোমা) ক্যানসার ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি তার বাবার সঙ্গে ভারতের হায়দ্রাবাদের ‘যশোদা হাসপাতালে’ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে তাকে ক্যামু থ্যারাপি দিতে হবে। তার চিকিৎসায় ব্যয় হবে ২০ লাখ টাকা। এই বিপুল অংকের টাকা রানার পরিবারের পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। রানার মা রেখা বেগম তার সন্তানের চিকিৎসায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে আবেদন জানালে তা ঢাকাটাইমসে তুলে ধরার পর প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকা সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

টানা বসে কাজ করলে শরীরে যেসব ক্ষতি হয়

আমাদের শরীরে এক জায়গয়া বসে থাকার জন্য তৈরি হয়নি। সে সব সময় সচল থাকবে এমনই হওয়া উচিত। কিন্তু এমনটা না করে আমরা কাজের জন্য হলেও বহুক্ষণ একভাবে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকি। ফলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বিগড়ে যেতে শুরু করে। ফলে একে একে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে একাধিক মারণ রোগ। 

প্রসঙ্গত, একাধিক কেস স্ট্যাডি করে দেখা গেছে কেউ যদি দিনে মোট ১০ ঘণ্টা বসে থাকেন, তাহলে শরীরের যা ক্ষতি হয় তা ১ ঘণ্টা শরীরচর্চা করেও মেটানো যায় না। কিন্তু আজকালকার দিনে যে বেশিরভাগ মানুষকেই বসে কাজ করতে হয়। তাহলে কি তারা চাকরি ছেড়ে বাড়ি বসে থাকবেন? একদমই না। শুধু একটা কথা মাথায় রাখবেন। টানা বসে কাজ করবেন না। ২-৩ ঘন্টা কাজ করার পর কম করে ১০ মিনিট হেঁটে আসবেন। এমনটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর করতে থাকলেই দেখবেন আর কোনও সমস্যা হবে না। আর যদি এমনটা করতে না পারেন তাহলেই দেখা দেবে জটিল সব রোগ। যেমন... 

১. হার্ট: 
বসে থাকার সময় আমাদের শরীরে রক্তচলাচল খুব কমে যায়। ফলে দেহে জমে থাকা ফ্যাটের গলন কম পরিমাণে হতে থাকে। এতে ফ্যাটি অ্যাসিডের কারণে হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে যায়। প্রসঙ্গত, আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র অনুসারে যারা দিনে ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় বসে কাজ করেন, তাদের হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা, যারা ৫ ঘণ্টার কম সময় বসে থাকেন, তাদের থেকে বেশি হয়। এর থেকে একটা কথাই প্রমাণ হয়ে যায় যে, বসে থাকা মানেই হার্টের ক্ষতি কিন্তু! 

২. প্যানক্রিয়াস: 
মাত্র একদিন বেশি সময় বসে থাকলেই ইনসুলিন ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। তাহলে ভাবুন দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে শরীরের কতটা ক্ষতি হয়। প্রসঙ্গত, একথা তো সকলেই জানেন যে ইনসুলিন যখন ঠিক মতো কাজ করতে পারে না, তখন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই তো বসে কাজ করলে এমন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। সম্প্রতি ডায়াবেটিলোজিয়াতে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে যারা দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি সময় বসে কাজ করেন, তাদের ৯০ শতাংশেরই টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

৩. কোলোন ক্যান্সার: 
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে কোলোন, ব্রেস্ট এবং এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। আসলে বেশি সময় বসে থাকলে শরীরে ইনসুলিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পায় কোষেদের জন্মহারও। ফলে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এখানেই শেয নয়, দেহ সচল না থাকলে শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা কমে যায়। সেই কারণেও কিন্তু ক্যান্সার রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। কারণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এই মারণ রোগকে আটকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

৪. বদ হজম: 
খাওয়ার পর পরই যদি বসে পরেন, তাহলে খাবার ঠিক মতো হজম হতে পারে না। ফলে বদ হজম এবং গ্যাস-অম্বল সহ একাধিক পেটের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। 

৫. মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়: 
বহুক্ষণ বসে কাজ করলে ব্রেন ফাংশনও ধিমে তালে হতে থাকে। সেই সঙ্গে মস্তিষ্কে কম পরিমাণ অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছানোর কারণে ব্রেন পাওয়ারও কমতে শুরু করে। ফলে এক সময়ে গিয়ে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি উভয়ই কমে যায়। 

৬. ঘাড়ে এবং কাঁধে যন্ত্রণা: 
কম্পিউটারে কাজ করার সময় আমরা একটু সামনের দিকে ঝুঁকে যাই। ফলে শরীরের উপরিঅংশ, বিশেষত ঘাড় এবং কাঁধ, শরীরের নিচের অংশের থেকে এগিয়ে যায়। এমন পসচারে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে সেরিব্রাল ভাটিব্রার উপর মারাত্মক চাপ পরে। ফলে ঘাড়ে এবং কাঁধে যন্ত্রণা হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। 

৭. পিঠে ব্যথা: 
বসে থাকার সময় শিরদাঁড়ার উপর মারাত্মক চাপ পরে। ফলে দীর্ঘ সময় বসে থাকলে পিঠে ব্যথা হওয়ার মতো রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে পিঠে ব্যথার কারণে যারা কষ্ট পাচ্ছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশেরই দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার অভ্যাস রয়েছে। কী কী নিয়ম মানলে বসে কাজ করলেও কোনও রোগ হবে না? এক্ষেত্রে কতগুলি নিয়ম মেনে চললে দারুন উপকার পেতে পারেন। যেমন- 
১. কাজের ফাঁক মাঝে মধ্যেই একটু হেঁটে নিন। একভাবে ২-৩ ঘণ্টার বেশি কাজ করা চলবে না। 
২. লিফ্টের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। 
৩. প্রতিদিন কিছুটা সময় হাঁটার চেষ্টা করুন। 
৪. রিভলভিং চেয়ারের পরিবর্তে কাঠের চেয়ার ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এমনটা করলে শরীরের ক্ষতি কম হয়। 
৫. শরীরকে সার্বিকভাবে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন নিয়ম করে শরীরচর্চা করুন।

নৌকার মনোনয়ন পাচ্ছে অরাজনৈতিক ব্যক্তিরাও

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেতে পারে বেশ কিছু অরাজনৈতিক ব্যক্তিও। এদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন সেলিব্রেটিরাও (তারকা) রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কিছু সিনিয়র নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিভিন্ন তথ্য নিয়ে কয়েকটি সংস্থার রিপোর্ট জমা পড়েছে। রিপোর্টে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিতর্কিত এমপিদের আমলনামা এবং মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের ভালো-মন্দ দু’টায় ঠাঁই পেয়েছে। দলের কর্মকাণ্ড কিংবা জনপ্রিয়তার দিক থেকে কোন এমপির কি আমলনামা সবই লেখা রয়েছে সেই রিপোর্টগুলোতে।

তবে এবার রাজনৈতিক নেতা ছাড়া বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় মানুষের তালিকা জমা পড়েছে দলের সভাপতির কাছে। তাদের মধ্যে অভিনয়শিল্পী, আইনজীবী, ক্রিকেটার, কিংবা সমাজসেবীর নামও রয়েছে। তাদের বর্তমান ও অতিতের আমলনামাও জমা পড়েছে।

আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, প্রতিটি আসনে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। এ মুহূর্তে প্রকাশ্যে কারো নাম ঘোষণা করা যাবে না। নাম ঘোষণা করলে বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। সংঘাতও হতে পারে। নাম ঘোষণার সময় এখনো হয়নি। সময় বলে দেবে কে মনোনয়ন পাবে। যেই মনোনয়ন পাবে তার পক্ষ নিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে। যাদের ব্যক্তি ইমেজ ভালো। দলের সুনাম কুড়াবে। তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

গত (২৯ মে ) মঙ্গলবার একনেকের সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, ‘নড়াইল থেকে নির্বাচন করবে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও নির্বাচন করবে।

একাদশ জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে। এখনো খেলা চালিয়ে যাওয়া এই ক্রিকেটাররা নির্বাচন করলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা অবস্থায় নির্বাচন করার প্রথম উদাহরণ তৈরি হবে। সরাসরি রাজনীতির মাঠে না থাকলেও মাশরাফি নড়াইল এক্সপ্রেস নামের একটি সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন দিয়ে নিজ এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘বিভিন্ন সংস্থা এবং দলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করছেন। এ সংখ্যা এখন পর্যন্ত একশ। বাকি আসন নিয়ে কাজ শেষ পর্যায়ে।’

আরো ১০ বছর পর ইভিএম চান মাহবুব তালুকদার

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় বিরোধিতা করে নোট অব ডিসেন্ট(আপত্তিপত্র) দিয়েছেন বলে জানালেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আরপিও সংশোধন নিয়ে বৈঠক শেষে সংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভোটারদের মধ্যে ইভিএম ব্যবহারে অনিহা রয়েছে। আগামী নির্বাচনে এটি সম্ভব নয়। আমি মনে করি ভোটারদের অভ্যস্ত করতে না পারলে ইভিএম সফল হবে না।

তিনি আরো বলেন, ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি। অল্প সময়ের মধ্যে ইভিএম প্রকল্পের বরাদ্দ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারার সক্ষমতা, বিনা টেন্ডারে কেনা ইভিএমের কারিগরি পরীক্ষায় ঘাটতি, ইভিএম ব্যবহারে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব, ইভিএম নিয়ে ভোটারদের অনভ্যস্ততা ও ইভিএম ব্যবহারে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কার কারণে ইভিএম ব্যবহারে আরপিও সংশোধনে ইসির উদ্যোগ সমর্থন করছি না।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য যে প্রস্ততি থাকা দরকার তা আমাদের নেই।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেভাবে ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে তাতে করে আগামী ৫ থেকে ৭ বছরে ভোটাররা এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়বেন বলেও মনে করেন এ নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, আমি আশা করি আগামী ১০ বছর পর ইভিএম ব্যবহারে নির্বাচনে অনিবার্য হয়ে পড়বে।  

এর আগে সকাল ১১টা ইসি সচিবালয়ের সভা কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে.এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে আরপিও সংশোধন নিয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
পরে সভা শুরুর ১০ মিনিট পর বের হয়ে ইভিএমের বিপক্ষে মত দিয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করেন মাহবুব তালুকদার।

এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে মাইকেল জ্যাকসনের ভূত


পপসাম্রাজ্যের বাদশাহ খ্যাত মাইকেল জ্যাকসন গান, নাচ ও ফ্যাশনে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তাকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে সফল সেলিব্রেটি।

আফ্রো-আমেরিকান পরিবারে ১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট জন্মেছিলেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে বিতর্কিত পপসম্রাট বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে চার দশকেরও বেশি সময় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বৈশ্বিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। ১৯৮০-এর দশকে তার জনপ্রিয়তা আকাশ ছোঁয়া।



কিন্তু হঠাৎই কোন এক অজ্ঞাত কারণে আচমকা মৃত্যু বরণ করেন মাইকেল জ্যাকসন। অনেকে তার মৃত্যুর জন্য দীর্ঘ মেয়াদে পেইন কিলার সেবনকে দায়ী করেছেন। কেউ কেউ আবার এটাকে হত্যাকাণ্ড বলেও দাবি করেছেন।

কিন্তু এবার বেরিয়ে এল নতুন এক তথ্য যেখানে দাবি করা হচ্ছে এখনো ঘুরে বেরাচ্ছে মাইকেলের আত্মা। যেটা রয়েছে তার বাড়ি নেভারল্যান্ড র‌্যাঞ্চে।

এ দাবি বাড়ির গৃহপরিচারিকা থেকে শুরু করে বাড়িতে আনাগোনা আছে এমন সবারই।

মাইকেলের মৃত্যুর পর বাড়িটির নিলাম নিয়ে বেঁধে যায় এক অদ্ভুত ঘটনা। মাইকেল জ্যাকসনের সম্পত্তি কিনতে আগ্রহী ব্যক্তিরা কিনতে গিয়েও ফিরে আসতে থাকে। কারণ আর কিছুই নয় ভূতের ভয়। এক মার্কিন শিল্পপতি প্রায় কিনেই ফেলেছিলেন বাড়িটি। কিন্তু এলাকার স্থানীয় মানুষদের কথা শুনে পিছিয়ে আসেন সেই শিল্পপতি।



এক মার্কিন ওয়েবসাইট জানিয়েছে, সিসি টিভি ফুটেজে নাকি মৃত্যুর পরেও মাইকেল জ্যাকসনের ছায়া দেখা গেছে। ১৯৯৮ সালে বাড়িটি কিনেছিলেন মাইকেল জ্যাকসন।

স্থানীয়রা জানায়, নেভারল্যান্ড র‌্যাঞ্চে এখনো মাইকেল জ্যাকসানের আত্মা ঘুরে বেড়ায়। মাইকেল জ্যাকসনের বাড়ির উল্টো দিকে বাস করা এক ব্যক্তি জানায়, মৃত্যুর পরেও মাইকেল এখনো ওই বাড়িতে ভূত হয়ে ঘোরে। মাঝে-মাঝেই রাতে নাকি জ্যাকসনের ঘর থেকে অদ্ভুত আওয়াজ আসে।

ঘাটাইলে গৃহবধূ মৃত্যুর পাঁচ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন


রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আলুপাকুটিয়া গ্রামে গত ২৮ মার্চ ‘ঝড়ে ছিঁড়ে পড়া’ বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে গৃহবধূ মৃত্যু ঘটনার পাঁচ মাস গতকাল কবর থেকে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে আদালতের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা আহম্মেদ এর উপস্থিতিতে আলুপাকুটিয়া গ্রামের কবর থেকে ওই গৃহবধূ ফুলজান বেগমের (৪৫)  লাশ উত্তোলন করা হয়। মৃত্যুর এ ঘটনার পর নিহতের ছেলে সুমন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ পত্র দায়ের করেন।

এ সময় উপজেলার দিগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন, ঘাটাইল থানার এসআই আব্দুল মান্নান সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

‘ঝড়ে ছিঁড়ে পড়া’ বিদ্যুতের তারে গৃহবধুর মৃত্যুর এ ঘটনায় ঘাটাইলডটকম, বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম সহ গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ফুলজান বেগমের মৃত্যুতে তার ছেলে সুমন ও মেয়ে খাদিজা আক্তার বিদ্যুৎ লাইন ত্রুটিপূর্ণ থাকায় এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন। এদিকে এ মৃত্যু ঘটনার প্রতিবাদ করায় গত ১৮ জুন (সোমবার) মেহেদী হাসান মঞ্জু (৩৪)  নামের এক ব্লগার  ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টকে পিটিয়ে আহত করে স্থানীয় কয়েকজন।

প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে থাকার তিন দিন পর (২৮ মার্চ) ওই তারে জড়িয়ে মারা যান উপজেলার দিগর ইউনিয়নের আলুপাকুটিয়া গ্রামের আফাজ উদ্দিনের (৫০) স্ত্রী ফুলজান বেগম (৪৫)। এলাকাবাসীর অভিযোগ জানায়, “সিমেন্টের খুঁটিতে হালকাভাবে লাগিয়ে রাখা অত্যাধিক উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে পড়া এরকম একটা তারে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান ফুলজান বেগম। এই গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সময় নিয়ম অনুযায়ী তার ও খুঁটি না দিয়ে নিম্নমানের তার ও বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করার ফলে অল্প বাতাসে তার ছিঁড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।”

ফুলজান বেগমের মৃত্যুর পর তার ছেলে সুমন ও মেয়ে খাদিজা আক্তার বিদ্যুৎ লাইন ত্রুটিপূর্ণ বলায় স্থানীয় মোস্তফা ও আজমত তাদেরকে মারতে উদ্যত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তখন  মোস্তফার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপানারা যা খুশি লেখেন, তাতে আমার কিছু করতে পারবেন না।”

এদিকে মেহেদির অভিযোগ, ঘটনার পরদিন মামলা করার জন্য তিনি এবং তার এক চাচাত ভাই ঘাটাইল থানায় যান। সেখানকার সেকেন্ড অফিসার এসআই ফরিদ হোসেনের কাছে গেলে তিনি বলেন, “মৃত ব্যক্তির দাফন হয়ে গেছে। এখন আর কিছু করা যাবে না। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আপনাদের বিপদ হবে।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই ফরিদ হোসেন বলেন, “কেউ এ রকম অভিযোগ নিয়ে এসেছে, আর আমি ফিরিয়ে দিয়েছি তা আমার মনে পড়ছে না। এই ঘটনায় তো সংশ্লিষ্টদের ‘নেগলিজেনসি’ আছে।

এ ঘটনায় ঘাটাইলডটকম, বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম সহ গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার জনগণের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

এদিকে ফুলজান বেগম মৃত্যু ঘটনার প্রতিবাদ করায় গত গত ১৮ জুন (সোমবার) মেহেদী হাসান মঞ্জু (৩৪)  নামের এক ব্লগার  ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টকে পিটিয়ে আহত করেছে স্থানীয় কয়েকজন। আহত মেহেদী হাসান মঞ্জুর শারীরিক অবস্থা অবনতি ঘটলে তাকে কালিহাতী হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেহেদী ঈদের ছুটিতে (ইদুল ফিতর) নিজ বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গেলে সোমবার দুপুরে তাদের গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি গোলাম মোস্তফা ও তার ছেলে এবং ভাই-ভাতিজাসহ আরো অনেকে তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত পরে। এ ঘটনায় ঘটনার দিন বিকেলে মেহেদীর পিতা নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

দিগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন, ময়নাতদন্তর জন্য আদালতের নির্দেশে ওই কিশোরীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা আহম্মেদ জানান, ‘লাশ ময়না তদন্তের জন্য উত্তোলন করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে’।

সাংবাদিক সুবর্ণা হত্যার প্রতিবাদে ঘাটাইলে মানববন্ধন

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল:  আনন্দটিভি’র পাবনা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক সুবর্ণা নদীকে নৃশংস হত্যার প্রতিবাদ ও দোষিদের শাস্তির দাবিতে আনন্দ টিভি পরিবার ও ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সহযোগীতায় মানববন্ধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) ১১ টায় ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ঘাটাইলের কর্মরত সাংবাদিকরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ঘাটাইল পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান শহীদ,  আতা খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম বাদল,  উত্তম কুমার আর্য্য,  এস. কে. সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা হায়দার আলী হীরা,  মিজানুুর রহমান আকন্দ, ঘাটাইল ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক মোহাম্মদ সারোয়ার জাহান, আনন্দ টিভির গোপালপুর প্রতিনিধি সোহেল রানা, আনন্দ টিভির ঘাটাইল প্রতিনিধি আব্দুল লতিফ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ডেপটি কমান্ডার শাহনেওয়াজ, ঘাটাইল মানবাধিকর কমিশনের সভাপতি মো. হুমায়ুন খান, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, প্রেসক্লাবের সদস্য মো. হেলাল উদ্দিন, মো. রিপন খান প্রমুখ সহ বিভিন্ন স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডায়ার সাংবাদিক বৃন্দ।

এসময় বক্তারা বলেন, এসময় স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা আনন্দ টিভির প্রতিনিধি সুবর্ণা আক্তার নদীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। বিগত দিনে সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের কোন সুষ্ঠু বিচার হয়নি। সাগর-রুনিসহ সকল সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার হলে সুবর্ণা নদীকে প্রাণ হারাতে হত না। অবিলম্বে সুবর্ণা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে সাংবাদিকদের হত্যা ও নির্যাতনকারীদের বিচারের দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ২৮ আগষ্ট রাত সোয়া ১০টায় আনন্দ টিভির পাবনা জেলা প্রতিনিধি সুবর্ণা আক্তার নদীকে দুর্বৃত্তরা তার নিজ বাসার সামনে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাংবাদিক নদীকে মৃত ঘোষনা করেন।

ঘাটাইলের হামিদপুর হাটের জায়গা প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে

রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইল : টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার শত বছরের পুরনো হামিদপুর হাটের জায়গা অবৈধ দখলে নিয়ে দোকান করে রেখেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এ জায়গার মালিকানা ঠিক রাখার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ছোট-বড় প্রায় অর্ধশতাধিক দোকানঘর। হাটের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে রাস্তার ওপর চলছে কেনাবেচা। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর।

অভিযোগে প্রকাশ, এই উপজেলার হামিদপুর সপ্তাহে সোমবার ও বৃহঃস্পতিবার হাট বসে। এ হাটে হামিদপুর, কাশতলা, কালিয়াগ্রাম, সালেংকা, নাটশালা, কদমতলি ও আশপাশের আরও ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ সমবেত হয়। উপজেলার হামিদপুর হাটই কেনাবেচার প্রধান হাট। এছাড়া কৃষিপ্রধান ঘাটাইল উপজেলার সবচেয়ে বড় ধানের হাট এ হামিদপুর।

স্থানীয় কৃষক বছরজুড়ে টন টন ধান বেচাকেনা করেন এ হাটে। অথচ এ জনগুরুত্বপূর্ণ হাটের মূল জায়গায় কমপক্ষে অর্ধশতাধিক দোকানঘর করে দখল করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এ কারণে হাটের মালামাল দোকান বিছিয়ে বসার জায়গা না থাকায় অনেকে বসে পড়েছেন অন্যের জায়গা এবং হাটের সঙ্গে পাকা রাস্তার ওপর।

হাটের ইজারাদার মো.স্বপন মিয়া জানান, দোকানিদের দোকান নিয়ে বসার জায়গা প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে থাকায় হাটের কেনাবেচা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। সেইসঙ্গে সরকারের রাজস্ব কমে এসেছে।

এ হাটের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করার জন্য ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহমেদ বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ্য করেন।

মঙ্গলবার, আগস্ট ২৮, ২০১৮

ঘাটাইলে আ’লীগ নেতা কোহিনূর খান মৃত্যুবরণ করেছেন


টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কায়সার রহমান কোহিনূর খান মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তিনি আজ মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার পাকুটিয়া এলাকার নিজ বাসভবনে দুপুর আনুমানিক তিনটার দিকে মৃত্যুবরণ করেন।
মরহুমের জানাজা নামাজ আগামীকাল বুধবার সকাল নয় ঘটিকার সময় পাকুটিয়া কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে।
তার মৃত্যুতে ঘাটাইলের সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘাটাইলে ধর্ষকের যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইলের ধর্ষণ মামলায় আব্দুল জলিল (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
  
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল জলিল টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শালিয়াবহ গ্রামের মৃত ইদ্দিস আলীর ছেলে। দণ্ডিত আসামি পলাতক রয়েছেন। 

মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ দণ্ডাদেশ দেন।

এছাড়া ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া কন্যাশিশুর ভরণপোষণের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দায়িত্ব দেন আদালত। জেলা প্রশাসককে এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালের পয়লা জানুয়ারি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শালিয়াবহ গ্রামের গজারীবনে এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন আব্দুল জলিল। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তি তরুণীকে আর বিয়ে করেননি। ধর্ষণের ফলে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হলে একই বছরের আগস্ট মাসে তিনি নিজেই বাদী হয়ে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে আব্দুল জলিলকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তরুণী কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।

এ ব্যাপারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট নাসিমুল আক্তার নাসিম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এ ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট নাসিমুল আক্তার নাসিম।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নিরুজা বেগম, সিরাজুল ইসলাম ও আব্দুর রাজ্জাক। 

ঘাটাইলের ভবনদত্ত গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ভবনদত্ত গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বি-বার্ষিক ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে অভিভাবক প্রতিনিধি পদে চারজন, দাতা সদস্য (অভিভাবক প্রতিনিধি) পদে একজন এবং সংরক্ষিত (মহিলা) পদে একজন নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির নয় সদস্য বিশিষ্ট ম্যানেজিং কমিটির তিন সদস্য ইতোপূর্বে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনে প্রাপ্ত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী অভিভাবক প্রতিনিধি পদে মোঃ চান মাহমুদ (৩ নং ব্যালট) ২০৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া আক্তার হোসেন (১নং ব্যালট) ১৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে, আব্দুল লতিফ (৫নং ব্যালট) ১৮৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে এবং মোঃ রোস্তম আলী (৬ নং ব্যালট) ১৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

রবিবার, আগস্ট ২৬, ২০১৮

ভূঞাপুরে সেই স্কুল ছাত্রীর সন্তান প্রসব, বাবা কে? চাচা না ভাতিজা?

ফরমান শেখ, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) : চাচা ও ভাতিজার যৌন লালসার শিকার টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির সেই ছাত্রী কন্যা সন্তানের মা হয়েছে। কে পিতা ধর্ষক চাচা আনছের আলী না ভাতিজা শরিফুল এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা।

রবিবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে সে মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করে। ওই হাসপাতালের গাইনী বিভাগের অধ্যাপক ডা. নাজমা খলিল এ অপারেশন সম্পন্ন করেন। বর্তমানে মা-মেয়ে উভয়ই সুস্থ আছেন।

এর আগে গতকাল ২৫ আগস্ট (শনিবার) ভোর ৫ টার দিকে ওই মেয়েটি প্রসব ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের এক নম্বর ওয়ার্ডের এক নম্বর বেডে ভর্তি হয়।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের এক নম্বর ওয়ার্ডের এক নম্বর বেডে ওই স্কুল ছাত্রী মেয়েকে নিয়ে শুয়ে আছেন। জন্ম নেয়া ওই শিশুটির দেখভাল করছেন স্কুল ছাত্রীর মা কমলা বেগম ও বড় বোন মরিয়ম। পাশেই নিরবে বসে আছেন বাবা আবুল হোসেন ও ভগ্নপতি মোখলেছুর রহমান। তাদের চোঁখে-মুখে শুধুই হতাশার ছাপ।

হাসপাতালে কথা হয় ছাত্রীর বাবা মো. আবুল হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, আমার মেয়ে এমনিতেই শিশু তার মধ্যে আবার আরেকটি শিশুর মা হলো। এখন এ শিশুর দায়িত্ব নেবে কে? আর পিতৃ পরিচয় কি? আমি এই মেয়েকে নিয়ে এখন কি করবো। আমি মামলা করার পরও মূল আসামি আনছের আলী ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তারা আমার মেয়েকে হত্যার হুমকিও দিচ্ছে। আমি কি এর কোনো বিচার পাবো না। নাকি আমি গরীব বলে বিচার পাওয়ার অধিকার নাই?

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিহাতী থানার এসআই মো.মনির হোসেন বলেন, স্কুল ছাত্রীর বাচ্চা প্রসবের বিষয়টি আমি শুনেছি । মামলাটি একটু জটিল। ইতিমধ্যে মামলার এক আসামি শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ওই স্কুল ছাত্রী ও শরিফুলের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান আসামি আনছের আলীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, দরিদ্র হওয়ার কারণে কালিহাতী উপজেলার গিলাবাড়ি গ্রামের আনছের আলীর বাসায় কাজ করতো ওই স্কুল ছাত্রী। কাজের সুবাধে আনছের আলী ওই স্কুল ছাত্রীকে নিয়মিত ধর্ষণ করতো। ধর্ষণ করার সময় ঘটনাটি দেখে ফেলে তারই আপন বড় ভাই মুনসুর আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম।

পরে শরিফুল ঘটনাটি লোকজনের কাছে বলে দেয়ার ভয় দেখিয়ে সেও মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। হত্যার ভয় দেখিয়ে ও কাউকে কিছু না বলতে ওই মেয়েকে নিষেধ করে দেয় আনছের আলী ও শরিফুল। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে চাচা-ভাতিজা প্রায়ই তাকে ধর্ষণ করতো। ধর্ষণের ফলে সে অন্তঃসত্বা হয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পিতা বাদি হয়ে চাচা আনছের আলী ও ভাতিজা শরিফুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার করা হয় শরিফুলকে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় শরিফুল। ঢাকায় অবস্থান করায় ঘটনার মূলহোতা আনছের আলীকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয় পুলিশ।

ঘাটাইলে ক্লিনিক মালিকের অবহেলার কারনে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মা হাসপাতাল মালিকের অবহেলায় আজ শনিবার (২৫ আগস্ট) রাত ৮টার সময় মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী (৭০)এর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, পৌর এলাকার ঝরকা বাজারে হাতেম আলী হঠাৎ মাথা ঘুরে পরে গেলে তাকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার এর কাছে নেওয়া হয়। তিনি হাসপাতালে ইসিজি অপারেটর না থাকায় বাহির থেকে ইসিজি করতে বলেন। নিহতের স্বজনরা তাকে মা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার ব্যাবস্থাপক ইসিজি মেশিন বিকল বলে জানিয়ে পার্শ্ববর্তী ক্লিনিক থেকে আরেকটি ইসিজি মেশিন আনেন এবং সেটাও বিকল পাওয়া যায়। এতে করে সময়ক্ষেপণে একসময় মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলীর মৃত্যু ঘটে।
তার বাড়ি ঘাটাইল পৌর এলাকার কিসমত কাতরা গ্রামে।
নিহত হাতেম আলীর ভাতিজা রোমেল জানায়, “শনিবার সন্ধায় পৌর এলাকার ঝরকা বাজারে হাতেম আলী (৭০) হঠাৎ মাথা ঘুরে পরে গেলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ ইসরাত জাহান এর কাছে নেওয়া হলে তিনি হাসপাতালে ইসিজি অপারেটর না থাকার কারনে বাহির থেকে রোগীর ইসিজি করতে বলেন। নিহতের স্বজনরা রোগীকে মা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার ব্যাবস্থাপক মোঃ ফারুককে ইসিজি করার কথা বললে তিনি রোগির স্বজনদের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরন করেন। তাদেরকে ইসিজি করে দেবেন না বলে জানিয়ে সেখান থেকে রোগিকে অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন। পরে ক্লিনিকের মালিক মোঃ আসিফ তাদের ইসিজি মেশিন বিকল বলে জানায়, এবং পার্শ্ববর্তী ক্লিনিক থেকে আরেকটি ইসিজি মেশিন আনলে সেটাও বিকল পাওয়া যায়।”
ক্লিনিক মালিকের (মা হাসপাতাল) অবহেলার কারনে সেখানে রোগির (মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী) মৃত্যু হয়েছে বলে রোগির সাথে থাকা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার শাহনেওয়াজ জানান।
মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলীর মৃত্যুর কারন সম্পর্কে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ ইসরাত জাহান ঘাটাইল ডট কমকে মুঠোফোনে জানান, ” মূলত রোগির পালস পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই তিনি জীবিত আছে কিনা সেটা জানার জন্য বাহির থেকে ইসিজি করতে বলি।”
মা হাসপাতালের মালিক মোঃ আসিফ জানান, “আমার হাসপাতালের ইসিজি মেশিন খারাপ থাকায় পাশের একটি ক্লিনিক থেকে ইসিজি মেশিন চেয়ে আনি, সেটাও খারাপ (বিকল) থাকার কারনে সময়মত ইসিজি করতে পারিনি।”
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাকসুদুল আলম জানান, “আমার কাছে এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে মুল ঘটনা জানা যাবে।”

শুক্রবার, আগস্ট ২৪, ২০১৮

বান্দরবান জেলার উন্নয়নে সরকারের অবদান

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বান্দরবান জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বাধিক উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎসহ নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিট অফিসের প্রকৌশল বিভাগ যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি,পানীয়জল সরবরাহ, ভৌত অবকাঠামো এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে ৯৬১টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্প বাস্তায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ চলমান রয়েছে।

 লামা উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক মাতামুহুরী ব্রিজের উপরে ১৪০ মিটার গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের যেসব উপজেলায় সরকারি স্কুল-কলেজ নেই সেই উপজেলাগুলোতে একটি করে স্কুল এবং একটি করে কলেজ সরকারীকরণ করেছে। বান্দরবানের লামা উপজেলার মাতামুহুরী কলেজ, নাইখ্যংছড়ির হাজী এম এ কালাম ডিগ্রি কলেজ, রুমা উপজেলার রুমা সাংগু কলেজকে সরকারীকরণ করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় নতুন নতুন স্কুল-কলেজ নির্মাণ, সংস্কার করা হয়েছে। জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলার হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে পার্বত্য বান্দরবান জেলার এই উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করেন জেলার জনগণ।
ভিডিও এখানেঃ

ঘাটাইলে ড. কামরুল হাসানের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্বববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও পেশাজীবি সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব ড: কামরুল হাসান খান সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও গণসংযোগ করেছেন।

তিনি সমর্থকদের নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) দিনব্যাপী ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং নৌকার পক্ষে গণসংযোগ করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক গোলজারুল ইসলাম, উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সোয়েব রানা, মমরেজ গলগন্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু হানিফ, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজনু খান, দেওপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বাহাদুর আলম খান, জামুরিয়া ইউপি মেম্বার খাদেমুল ইসলাম খান, জিবিজি কলেজের সাবেক এজিএস মিজানুর রহমান মজনু, সাবেক যুবলীগের প্রচার সম্পাদক শাহ আলম প্রমুখ।

এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সম্পাদক সহ বিভিন্ন নেতা-কর্মীরা গণসংযোগের সময় তার সাথে মিলিত হন।

মন্দিরে ঈদ জামাত, মসজিদে হিন্দু পরিবার!

ভারতের কেরালায় বন্যায় মসজিদ ডুবে যাওয়ায় গত বুধবার (২২ আগস্ট ২০১৮) মন্দিরে মুসলমানদের ঈদের নামাজ পড়ার সুযোগ করে দেয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এবার সেই কেরালায় মসজিদে ১৭ হিন্দু পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছে মুসলমানরা। ওইসব হিন্দু পরিবারের বাড়িঘর পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা যেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে এনে দাঁড় করিয়েছে।

এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি ঘটায় আক্রান্ত এলাকার মানুষ নিজ নিজ গ্রামের ফিরে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে প্রকাশ পাচ্ছে বেশ কিছু অনন্য সাধারণ মানবিক গল্পের। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐক্যের সেসব উদাহরণ সাধারণ মানুষদের আপ্লুত করছে।



কেরালার দক্ষিণ মালাপুরামে আরো একটি ঘটনা প্রকাশ পেল। টাইমস অব ইন্ডিয়া খবরে বলা হয়, সেখানের জুমা মসজিদে আশ্রয় পেয়েছিল বন্যা দুর্গত ১৭টি হিন্দু পরিবার। শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও পুরুষসহ গৃহহীন পরিবারগুলো মসজিদে রাত্রিযাপন করেছেন, আহার সেরেছেন। এমনকি বাড়ি ফেরার সময় তাদেরকে দেওয়া হয়েছে গৃহস্থলি কাজের জরুরি কিছু মালামাল।

আশ্রয় দেওয়া চালাইয়ার গ্রামের পঞ্চায়েত ওসমান বলেন, ‌‌মসজিদে অবস্থান করা মোট ৭৮ জনের অধিকাংশই ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। পরবর্তীতে তাদের সাহায্যের জন্য সেখানে রিলিফ ক্যাম্পও খোলা হয়। হিন্দু-মুসলিম বিভেদ ভুলে পারস্পরিক এমন একাত্মতার গল্প নিশ্চয়ই ভারতবাসী অনেকদিন মনে রাখবেন।

ভারতের কেরালা রাজ্যে গত একশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় পাঁচশ’র বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গৃহহীন হয়েছেন প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ।

এদিকে, কেরালার এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অধিকাংশ মসজিদ। এ কারণে ঈদুল আজহায় ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি কেরালার অধিকাংশ মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ। তবে ওই দিনই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন থৃসুর জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মালায় জেলার পুরাপ্পিল্লিকাভু রক্তেশ্বরী মন্দিরের দরজার তারা খুলে দিয়েছিলো মুসলিমদের জন্য।



মসজিদ মহল্লা কমিটির প্রধান খালিদ বলেন, মসজিদে পানি না নেমে যাওয়ায় আমরা মন্দির কমিটির সাথে কথা বলি। তারা সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যায় ও আমাদের মন্দিরে নামাজ আদায় করতে বলে।

স্থানীয়রা জানান, ঈদের দিন সকালেও বন্যাকবলিত ওই অঞ্চলের অধিকাংশ মসজিদই জলাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। কিন্তু মন্দির কর্তৃপক্ষের কারণে নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে তাদের। এ বিষয়ে স্থানীয় মসজিদ মহল্লা কমিটির পি.এ খালিদ বলেন,’ আমরা আশা করেছিলাম পানি নেমে যাবে। বুধবার মসজিদেই আমরা ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবো। কিন্তু বুঝতে পারলাম এটা কোন ভাবেই পানি নামবে না। তখন সবার মনেই কষ্ট নেমে আসলো এবার হয়তো ঈদের নামাজ আদায় করা হবে না। এরপরে আমরা মন্দির কমিটির একজনের সঙ্গে কথা বললাম। তিনি সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরে নামাজ আদায়ের জন্যে আমন্ত্রণ জানালেন।’

অপরদিকে, ঈদের খরচ কমিয়ে ভারতের মুসলিমরা কেরালার মানুষদের অর্থ সহায়তাও প্রদান করেছেন বলেও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ঘাটাইলে বজ্রপাতে একজন নিহত

বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিগর ইউনিয়নে কাশতলা গ্রামে মোঃ আজাহের আলী (৩৬) নামে এক ব্যক্তি বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন।

তিনি কাশতলা গ্রামের ওমেদ আলীর ছেলে।

দিগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে ওমেদ আলীর ছেলে আজাহের (৩৬) বিলে মাছ ধরতে সেখানে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

ঘাটাইলে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহতর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে হোসেন সরকার নামে এক দোকান ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে  জয়নাল, জাহাঙ্গীর ও তার লোকেরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ, জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবীতে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার হামিদপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাতে উপজেলার হামিদপুর বাজার এলাকায় হামিদপুরের আবুল হোসেন এর ছেলে জয়নাল (৩৮) ও জাহাঙ্গীর (৩৫) এর নেতৃত্বে ৪/৫ জনের একটি গ্রুপ হোসেন সরকারের দোকানে ঢুকে তার ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ৩ লাখ টাকা নিয়ে চলে যায় তারা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হোসেন সরকারকে উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্বজনরা।

আহত হোসেন সরকার(৫০) উপজেলার সালেংকা গ্রামের মৃত শমসের আলীর ছেলে।



এ ঘটনার প্রতিবাদ, জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবীতে হামিদপুর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে করে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। এসময় বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম খান ,শাজাহান মিয়া, মিনিবাস মালিক সমিতি হামিদপুর শাখার সভাপতি মো. সজল মিয়া,আওয়ামী লীগ নেতা সাহেদ মিয়া, ভোলা খান, জামাল হোসেন, মিলন সরকার, রাসেল মিয়া, শফি মাষ্টার, খরসু মিয়া প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন হাজারো গ্রামবাসী।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো.আশরাফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় চার জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৩, ২০১৮

মুসলিম অনেক দেশ থেকে ইসরায়েলই ভালো : সৌদি মন্ত্রী

ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রশংসা করেছেন সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী আল শেখ। বৃহস্পতিবার তিনি ইসরায়েলের প্রশংসা করে বলেছেন, হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি যেতে হাজিদের বাধা দেয়নি ইসরায়েল। অথচ কিছু মুসলিম দেশ ঠিকই হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আসতে তাদের নাগরিকদের ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি মন্ত্রীর এ মন্তব্য আবারও প্রমাণ করল-সৌদি আগ্রাসী এ ইহুদি রাষ্ট্রটির সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


মন্ত্রী শেখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুল আজিজ আল শেখ বলেন, ‘আমরা ইসরায়েল রাষ্ট্রটির মাধ্যমে জানতে পেরেছি তারা হজ উপলক্ষে হাজিদের সৌদি আসতে কোনো বাধা-নিষেধ আরোপ করেনি। অথচ আমরা বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ সম্পর্কে জানতে পেরেছি বা আমাদের জানানো হয়েছে, তারা তাদের নাগরিকদের হজ মৌসুমে সৌদি ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।’

তবে সৌদি মন্ত্রী এ মন্তব্য করলেও আসলে কোন কোন দেশ হজের বিষয়ে তাদের নাগরিকদের বাধা দিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, পার্শ্ববর্তী দেশ কাতারের উদ্দেশে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। এদিকে কাতার পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, সৌদিই তার দেশের নাগরিকদের হজে যেতে বাধা দিয়েছে।

গত বছরের ৫ জুন সৌদির পথ ধরে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে আরব বিশ্বের চার দেশ। সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা এবং ইরানকে সমর্থনের অভিযোগ এনে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে আরব বিশ্বের দেশগুলো। কিন্তু এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে দোহা।

সৌদি মন্ত্রীর এ মন্তব্যের ভিডিও শেয়ার করেছে ইসরায়েল। পাল্টা টুইটার বার্তায় দেশটি জানায়, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, কারণ ইসরায়েল চার হাজারের বেশি মুসলিমকে হজ করার সুযোগ করে দিতে পেরেছে।

বুধবার, আগস্ট ২২, ২০১৮

ঘাটাইলে তিন ঈদগাহ মাঠে ১৪৪ ধারা

 টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে তিনটি এলাকার ৩টি ঈদগাহ মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসন এই ধারা জারি করে।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের মধ্যপাড়া সংগ্রামপুর, দেওপাড়া এবং নির্জনা এই তিন এলাকায় সমাজের দুই পক্ষের বিরোধের জেরে একই স্থানে ঈদুল আজহার নামাজের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেন। পরে পুলিশ আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা দেখে বিষয়টি উপজেলা নিবাহী অফিসারকে জানায়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবগত করেন। পরে জেলা প্রশাসক ওই তিনটি স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহম্মেদ পরির্বতন ডটকমকে বলেন, দুই পক্ষ একই স্থানে ঈদুল আজহার নামাজের বিষয়টি কেন্দ্র করে।

আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা দেখে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

আজ পবিত্র ঈদুল আজহা

আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং যথাযথ ধর্মীয় মর্যদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে মুসলিম সম্প্রদায় ঈদুল আজহা উদযাপন করেছন। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদুল আজহার জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ অনুয়ায়ি পশু কুরবানি করবেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এদিকে রাজধানীর সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণস্থ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে বুধবার সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে । তবে আবহাওয়া প্রতিকুলে থাকলে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য প্রধান জামাতে নারীদের জন্যও ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বুধবার কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সকল কারাগার, সরকারি হাসপাতাল, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোম্স, দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্র এবং শিশু ও মাতৃসদনগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।



উল্লেখ্য, প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) নিজ পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)’কে কুরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কুরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে বিশ্বব্যাপি মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কুরবানি করে থাকে। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য আল্লাহ কুরবানি ফরজ করে দিয়েছেন। এজন্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কুরবানি করাই এ দিনের উত্তম ইবাদত। সেই ত্যাগ ও আনুগত্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সারাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় বুধবার দিনের শুরুতেই ঈদগাহ বা মসজিদে সমবেত হবে এবং ঈদুল আজহার দু’রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। নামাজের খুতবায় খতিব তুলে ধরবেন কুরবানির তাৎপর্য।

এদিকে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বরাবরের মতো এবারও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহর থেকে অগণিত মানুষ নাড়ির টানে গেছেন গ্রামের বাড়িতে । ঈদ উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে তিনদিনের সরকারি ছুটি। তবে এ সপ্তাহের শেষ দু’দিন শুক্র ও শনিবার হওয়ায় ছুটি দাঁড়িয়েছে ৫ দিনে। পবিত্র ঈদুল আযহার তাৎপর্য তুলে ধরে বরাবরের মতো এবারও দেশের সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করছে বিশেষ সংখ্যা। অপরদিকে বিটিভিসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিও ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচারের ব্যবস্থা নিয়েছে।
ঈদের দিন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

ঈদের নামায আদায়ের পদ্ধতি শিখে নিন

আল্লাহ তাআলা বলেন- فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ “তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও কোরবানি কর।” (সূরা কাওসার) অধিকাংশ সম্মানিত মুফাসসিরিনে কেরামের মতে এ আয়াতে সালাত তথা নামায বলতে ঈদের নামাযের কথাই বলেছেন। ঈদের নামায আদায় করা ওয়াজিব। তাই মুসলিম হিসেবে কর্তব্য হবে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে আগ্রহ সহকারে ঈদের নামাযে অংশ গ্রহণ করা, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা, এবং ঈদের প্রচলনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা।
যেহেতু ঈদের নামায বছরে কেবল দু’বার আদায় করা হয়, তাই অনেক মুসলিম ভাই-বোন আছেন যারা এর আদায় পদ্ধতি ভুলে যান। ফলে তারা অতিরিক্ত তাকবীরগুলোতে ভুল করে ফেলেন, কেউ কেউ অন্যরা কি করছে তা আড় চোখে দেখে অনুসরণের চেষ্টা করেন – যা অবশ্যই নামাযের জন্য ক্ষতিকর। তাই এ নিবন্ধে পাঠকদের জন্য ঈদের নামায আদায়ের পদ্ধতি তুলে ধরা হল।
প্রথমে কান বরাবর উভয় হাত তুলবে। তারপর এই ভাবে নিয়ত করবে যে “আমি ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহার দুই রাকা‘আত ওয়াজিব নামায এই ইমামের পিছনে পড়ছি।” অতঃপর তাকবীরে তাহরীমা বলে হাত নাভির নিচে বাঁধবে এবং ছানা “সুবহানাকা…” পুরা পড়বে। তারপর আরো তিন বার তাকবীর বলবে। প্রথম দুইবার হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে হাত ছেড়ে দিবে। এরপর তৃতীয় বার হাত কান পর্যন্ত তুলে আল্লাহু আকবার বলে হাত বেঁধে চুপ করে ইমামের কিরাআত শ্রবণ করবে।
এভাবে প্রথম রাকা‘আত আদায়ের পর দ্বিতীয় রাকা‘আতের কিরাআতের পর তিন বার হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে প্রত্যেকবার আল্লাহু আকবার বলে হাত ছেড়ে দিবে। এরপর চতুর্থ বার হাত না তুলে আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যাবে এবং অবশিষ্ট নামায অন্যান্য নামাযের ন্যায় সম্পন্ন করবে। (ফাতাওয়ায়ে শামী-১/১৭২)

আমাদের ঘাটাইল ডট কম’র পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমাদের ঘাটাইল ডট কম’র  সকল পাঠক-পাঠিকা, বিজ্ঞাপন দাতা ও সকল কর্মকর্তা কর্মচারীকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা ‘ঈদ মোবারক’৷

পবিত্র ঈদুল আজহা সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি৷ বছরের প্রতিটি দিন ঈদের দিনের ন্যায় আনন্দময় হোক। এই শুভ প্রত্যয় আবারও ঈদ মোবারক৷

আজ এক শুভেচ্ছা বার্তায় আমাদের ঘাটাইল ডট কম’র সম্পাদক ও সিইও এস আকবর খান বলেছেন, মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়েছে তিন দিনের সরকারি ছুটি। ঈদ ঘিরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে, অনলাইন নিউজপোর্টালগুলোও এনেছে ভিন্ন আয়োজন, টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। ঈদুল আজহা  সমগ্র বিশ্বে মুসলমানদের ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও আত্মোপলব্ধির শিক্ষা দেয়। পবিত্র এই দিনে আমাদের ঘাটাইল ডট কম’র পক্ষ হতে লেখক, পাঠক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপন দাতা, কলাকৌশলিসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

 শুভেচ্ছা বার্তায় আগমী দিনগুলোতে পাঠক-পাঠিকাসহ সবাই আমাদের ঘাটাইল ডট কম’র সঙ্গে থাকবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ঘাটাইলে ঈদুল আযহার নামাজের জামাত সকাল ৭.৩০ ও ৮.৩০ মিনিটে

পবিত্র ইদুল আযহা। প্রস্তুত টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান। মুসলমানদের অন্যতম উৎসবের দিন। এ দিনে মুসলিমদের আল্লাহর রাজি খুশীর জন্য পশু কুরবানি দেওয়া উৎসবকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। আজ বুধবার (২২ আগস্ট) টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আযহার প্রধান প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭.৩০ মিনিটে এবং দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮.৩০ মিনিটে।
জানা যায়, ঈদগাহে ব্যাগ বা টোপলা জাতীয় কিছু নিয়ে আসা যাবে না। সঙ্গে করে জায়নামাজ, পাটি, চাদর, খাবার পানি ইত্যাদি নিয়ে আসা যাবে। কোনক্রমেই নামাজের সময়সূচী পরিবর্তিত হবে না।
ঘাটাইল ডট কম ঘাটাইলবাসী, টাঙ্গাইলবাসী, দেশবাসী, বিশ্বর সকল মুসলমান এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। বিশ্বর সকল মানুষের উপর বর্ষিত হোক ঈদের আনন্দ, ভালবাসা। এবং ফিলিস্তিনসহ বিশ্বর সকল নিপীড়িত মুসলমানদের প্রতি রইল আন্তরিক সহমর্মিতা।

২১আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের আত্নার মাগফেরাত কামনায় ঘাটাইলে দোয়া মাহফিল

২০০৪ সালের একুশ আগষ্ট ঢাকায় গ্রেনেড হামলায় নিহত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আইভি রহমানসহ নিহতদের আত্নার মাগফেরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২১ আগস্ট (মঙ্গলবার) উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

২১ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর কন্যা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৩ জনকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে যা বর্বরোচিত এক ঘৃণিত অধ্যায় হিসেবে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

এ দিনে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা, আহতদের আশু রোগমুক্তি ও জননেত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্দ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে আজ দুপুর ১২টায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক মো. শহিদুুল ইসলাম লেবুর সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, সংগ্রামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, ঘাটাইল পৌরসভার প্যানেল মেয়র লিটন সরকার, যুবলীগ ঘাটাইল উপজেলা শাখার যুগ্ন আহ্বায়ক আব্দুল জলিল সরকার, ঘাটাইল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, পৌর যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক রেজাউল করিম, সরকারি জিবিজি কলেজের ভিপি আবু সাইদ রুবেল, টাঙ্গাইলে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য এস কে শিহাব প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।