বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯

ঘাটাইল হামদর্দের ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৯ উপলক্ষে আজ বৃহস্প্রতিবার টাঙ্গাইলের ঘাটাইল হামদর্দ শাখার উদ্যোগে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে প্রায় শতাধিক অসহায় দুস্থ্য ও গরীব রোগীদের মাঝে ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও বিনা মূল্যে ঔষধ প্রদান করা হয়।

এ সময় ঘাটাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি খান মোঃ ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুজ্জামান মিঞা, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল লতিফ, দপ্তর সম্পাদক এবিএম আতিকুর রহমান, হামদর্দ ঘাটাইল শাখার ভারপ্রাপ্ত শাখা ব্যবস্থাপক মহব্বত হোসেন, চিকিৎসক হাকীম মোঃ মাসুদুর রহমানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইলে সাবেক এমপি রানার পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পন

সারা বিশ্বের ন্যায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা পক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তব অর্পন করেছে উপজেলা, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম(রফিক)সদস্য এসএম বাবলু, সাবেক পৌর কাউন্সিরল মোঃ মুনছুর আলী  প্রমুখ।

ঘাটাইল ভিক্ষুকদের মাঝে চাল বিতরণ

মাসুম মিয়া, ঘাটাইল : ২১শে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে ভিক্ষুকদের মাঝে চাল বিতরণ করেছে সমাজসেবামূলক ক্লাব শেখ হাসিনা পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ক্লাবটির উদ্যোগে প্রায় ১৫জন ভিক্ষুকের প্রত্যেককে দশ কেজি করে চাল ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়।

এ পরিষদের উদ্দেশ্য হতদরিদ্র মানুষদের সাহায্য সহযোগিতা করা, বাল্যবিবাহ রোধ, দরিদ্র মেধাবী স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা কার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সভাপতি আ. হান্নান, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম মিয়া, লক্ষিন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এসকান্দর হক, মোহাম্মদ আলী মাষ্টার, রফিকুল ইসলাম জুলহাস, আরজু, ইউপি সদস্য নূরুল ইসলাম, গফুল প্রমুখ।

মাতৃভাষা দিবসে ঘাটাইল প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধা

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা।

আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের সাথে ঘাটাইল প্রেসক্লাব এ শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি খান ফজলুর রহমান, সাধারন সম্পাদক মোঃ নূরুজ্জামান মিঞা সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল লতিফ, অর্থ সম্পাদক মোঃ মাসুম মিয়া, দপ্তর সম্পাদক এবিএম আতিকুর রহমান সহ অন্যানরা।

সিগারেটের টুকরায় ৩ হাজার অগ্নিকাণ্ড, শীর্ষে ঢাকা

ধূমপান মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ধূমপান করার পর অনেকেই জ্বলন্ত ফিল্টারটি মাটিতে ফেলে দেয়। কখনো রাস্তায়, কখনো বারান্দায়, কখনো বা কারখানায়। একটিবার চিন্তাও করি না নিজের প্রাণহানির সঙ্গে সঙ্গে অপরের জীবনও হুমকিতে ফেলছি আমরা।

২০১৮ সালে বাংলাদেশে মোট ১৯ হাজার ৬৪২টি অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে ৩ হাজার ১০৮টি ঘটনায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছে সিগারেটের টুকরা থেকে। বাংলাদেশে দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর বলছে, বাংলাদেশের সংগঠিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ১৫ শতাংশের কারণ সিগারেটের টুকরা।



এ ছাড়া ৮ থেকে ১২ টাকা মূল্যের সিগারেটের কারণে ২০১৮ সালে পুড়েছে মোট ৫৫ কোটি ৩৮ লাখ ৩৩ হাজার ২৯৫ টাকার মালামাল। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি বগুড়া জিলা স্কুলের গুদাম ঘরে লাগা আগুনে অষ্টম ও নবম শ্রেণির প্রায় সাড়ে তিন হাজার পাঠ্যবই ও খাতা পুড়ে যায়। গুদামে বৈদ্যুতিক কোনো লাইন না থাকলেও কীভাবে ঘটলো এত বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা?

সংবেদনশীল এই মামলার তদন্তে নামে ফায়ার সার্ভিস। তদন্তে উঠে এসেছে, কক্ষের পেছনের খোলা জানালা দিয়ে কেউ ভেতরে সিগারেট ফেলেছে। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।

২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাঙামাটির লংগ উপেজলার মাইনীমখ বাজার সংলগ্ন কাঠের মিলে সিগারেটের আগুনে ভস্মীভূত হয় কোটি টাকার কাঠ। এর কয়েকদিন পর ২২ ডিসেম্বর কেশবপুরে ২টি পান বরজে আগুন লেগে ৩৩ শতাংশ জমির পান পুড়ে যায়। তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানতে পায় এই আগুনের মূল কারণও ছোট্ট সিগারেট।

ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে লাগা আগুনের ১৯ হাজার ৬৪২টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৮৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকার মালামাল। এসব ঘটনায় মধ্যে ৩৯ শতাংশ শর্ট সার্কিট এবং ১৮ শতাংশ চুলার আগুনে। এই কারণে গত মোট ১১ হাজার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি হয়েছে মোট ২৩৯ কোটি টাকার মালামাল।



এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী আহমদ খান বলেন, ‘আগুন লাগার জন্য এটা খুবই তুচ্ছ কারণ। সামান্য খামখেয়ালীর কারণে আমরা মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছি, দেশের কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট করছি। সিগারেট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের অবশ্যই সিগারেট খাওয়া ছাড়তে হবে, যদি কেউ সিগারেট খাই অবশ্যই তাকে ফিল্টারটি ফেলে নিজ দায়িত্বে আগুন নেভাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‌‌‌‌‘দেশের সিংহভাগ আগুনের কারণ সচেতনতার অভাব। এ ছাড়াও দিনে দিনে দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বেড়েছে। তবে বাসা-বাড়িতে অপরিকল্পিতভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেয়া, নিম্নমানের তার ব্যবহার করার ইত্যাদির কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেশি ঘটছে। অনেক বাড়িতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পুরনো এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। এগুলোর বিষয়ে সচেতন হলেই অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।’

দুর্ঘটনায় শীর্ষে ঢাকা

ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের সব বিভাগ থেকে ঢাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা ও ক্ষয়-ক্ষতি বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে সারাদেশে ৮ হাজার ৪৬১টি আবাসিক ভবনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে, এর ২০৮৮টি ঢাকায়, চট্টগ্রামে ২৮৫ ও রাজশাহীতে ১১৬টি। সারাদেশে ৫০৮টি নৌ দুর্ঘটনার মধ্যে ঢাকায় ১৯৫টি, চট্টগ্রামে ৫৪ ও খুলনায় ৪০টি। এসব ঘটনায় শুধুমাত্র ঢাকায় প্রাণ হারায় ১২১ জন।

এক বছরে দেশে ১৬টি ভবন ধসের ঘটনার ১০টি ঢাকায়। এতে ৬ জন নিহত হয়। দেশের গার্মেন্টগুলোতে ১৭৩টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে এর মধ্যে ১১৫টি ঢাকায়। শিল্প কারখানায় ১১৩১টি আগুনের ঘটনার মধ্যে ৫২৬টি ঢাকায়।



কেন এত দুর্ঘটনার শিকার ঢাকা? জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক বলেন, ‘ঢাকার ডেনসিটি বেশি। অল্প জায়গায় বেশি মানুষ বসবাস করে। অনেক অপরিকল্পিত ও অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগ রয়েছে। নতুন নতুন ইলেকট্রিক গ্যাজেট, ল্যাপটপ, মোবাইল চার্জারসহ অন্যান্য দাহ্য পদার্থের প্রাপ্যতা বেশি। তাই ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডসহ অন্যান্য দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি।’

প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রম বৃদ্ধি

দুর্ঘটনার পাশাপাশি ২০১৮ সালে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম ও কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর মোট ১ লাখ ৮০ হাজার জনসাধারণকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ দেয়া হয় ১১৯ জন গেজেডেট/নন-গেজেডেট অফিসার, ৩৪২ জন ড্রাইভার, ১১৫০ জন ফায়ারম্যান এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ৩২০৮ জন কর্মচারীকে।

ঘাটাইলে মাতৃভাষা দিবসে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান।

এ সময় বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার ভুমি মোসা. নুর নাহার বেগম, ঘাটাইল থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মাকছুদুল আলম, বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক জুলফিকার হায়দার, অধ্যক্ষ শামছুল আলম মনি, ঘাটাইল পৌর মেয়র শহীদুজ্জুামান খান, সাবেক কমান্ডার মো. তোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।

সে সময় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে একুশে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগীতার বিজয়ীদের মাঝে পুরুষ্কার বিতরণ করা হয়।

পুরুষের যৌন লালসার শিকার যে শহরের কিশোররা

পৃথিবীর এমন কিছু স্থান আছে, ভয়ানক সুন্দর। মন চায় বারবার সেখানে ছুটে যেতে। সেখানে দেখা মেলে সুন্দর মনের সব মানুষের। আবার কিছু কিছু স্থান আছে, যেখানে চোখ মেললেই ধরা পড়বে হায়েনার লোলুপ দৃষ্টি, যেন আপনাকে ছিড়ে খেতে চাইবে।

তেমনি একটি স্থান পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের শাহরাগ শহর। বেলুচিস্তানের হারনাই জেলার একটি পাহাড়ি উপত্যকায় শহরটির অবস্থান।

শাহরাগ শহরে ৩০০ থেকে ৪০০টি কয়লাখনি আছে। যেখানে কাজ করেন ৩০ হাজারের বেশি শ্রমিক। খনিগুলোতে যারা শ্রমিক হিসেবে ‘কাজ’ করেন তাদের অনেকেই শিশু বা কিশোর। কিন্তু সংখ্যায় তারা ঠিক কত, প্রাতিষ্ঠানিক কোনো হিসাব মিলবে না।

শহরটিতে প্রধানত পশতুন জাতির বাস। কিন্তু পাহাড়ি ওই এলাকায় মারি বেলুচরা বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করেন। শাহরাগের পাহাড়ি ভূমির অধিকাংশের মালিক পশতুনরা। এছাড়া শহরে তাদের সংখ্যাই বেশি। শহরের দক্ষিণ অংশের পাহাড়গুলো কয়লায় পূর্ণ। শোনা যায়, সেখানে মারি প্রজাতির লোকজনেরও বসবাস।

p

শাহরাগের স্থানীয় ও ক্ষমতাবান এক পশতুনের কথায়, ‘এখানে বেকার থাকার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি আমাকে ২০০ লোকও এনে দেয় আমি সঙ্গে সঙ্গে কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পারব। সেটি হবে কয়লাখনিগুলোতে।’

এ কারণে কাজের সন্ধানে এখানে ছুটে আসেন খাইবার পাখতুনখাওয়া ও পাঞ্জাব প্রদেশের অসংখ্য মানুষ। পাশের দেশ আফগানিস্তান থেকেও অনেকে আসেন এখানে। এ অঞ্চলে খনি শ্রমিকের ৮০ ভাগই পাখতুনখাওয়া ও পাঞ্জাব প্রদেশের। বাকি ২০ ভাগ স্থানীয় ও বেলুচরার অধিবাসী। যাদের মারি বলেও ডাকা হয়।

শাহরাগ শহরের সমাজব্যবস্থা ঐতিহ্যগতভাবে পিতৃতান্ত্রিক। এছাড়া এখানে ধর্ম পালনেও রয়েছে প্রচণ্ড কড়াকড়ি। এখানকার নারীদের ঘর থেকে বের হওয়া একটা দুর্লভ ঘটনা। পুরুষরা সারাদিন বসে বসে কর্তৃত্ব খাটান।

বেলুচিস্তান প্রদেশের বাকি অংশের সঙ্গে একেবারেই বিচ্ছিন্ন শাহরাগ শহর। এখানকার কেউ-ই জানেন না গোটা দেশে কী হচ্ছে? দেশের বাকি অংশেরও শাহরাগ নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই, নেই মাথাব্যথাও।

p

কোনো আগ্রহ না থাকায় শাহরাগে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে খুবই কুৎসিত, মারাত্মক কিন্তু গোপন একটি ঘটনা। সেটি হলো এখানকার কোনো ছেলে কিংবা কিশোর পুরুষের লালসা থেকে নিরাপদ নয়।

চলতি বছরের শুরুতে ১৩ বছরের কলিম দায়ার কয়লাখনিতে আসে কাজের সন্ধানে। বেশিকিছু আশা ছিল না তার। পরিবারের জন্য সামান্য অর্থ উপার্জন বা দুবেলা পেটপুরে খাওয়া। কিন্তু সে জানতো না, তার আসার অপেক্ষায় ছিল ওই কলোনির সব শ্রমিক।

পাহাড়ে ঘেরা আল-জিলানিতে আছে আটটি কয়লাখনি। কলিমের আসার খবরে খনি শ্রমিকদের মধ্যে যেন টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়। চারদিকে দাবানলের মতো সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে, দায়ার কয়লা খনিতে নতুন একটি ছেলে এসেছে। গোটা শহরের মূল আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে কলিম। আশপাশের কয়লাখনি থেকে অনেকেই তাকে দেখতে আসে।

কিশোর কলিম সদ্য বিবাহিত কোনো বধূ নয় কিন্তু তারপরও তাকে দেখে পুরুষদের চোখগুলো যেন চিকচিক করে ওঠে।

p

শাহরাগ থেকে বেশ দূরে একটি পাহাড়ের চূড়ায় কাদা ও পাথরে তৈরি একটি নির্জন ঘরে আরও জনাবিশেক কিশোরের সঙ্গে কলিমকেও রাখা হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কলিম একটা কালো সালোয়ার-কামিজ আর হলুদ শার্ট পরে বসে আছে। অনেক প্রশ্নের পর তার কাছ থেকে জবাব আসে, ‘আমার বাবা নেই। পরিবারকে সাহায্য করতে কাজের খোঁজে এখানে আসা।’

কিন্তু ১৩ বছরের এক কিশোরকে সালোয়ার-কামিজ পরিয়ে কেন নির্জন জায়গায় রাখা হয়েছে তা বুঝতে এতটুকু অসুবিধা হয় না। কলিমকে যখন পুনরায় প্রশ্ন করা হয়, কী কাজ? তখন সে মৃদু হাসিতে উত্তর দেয়, ‘আমি এখানে রান্নার কাজ করি। এখানে যারা কাজ করে তাদের বাবা-মা নেই, স্ত্রী-সন্তান নেই; অথবা তারা পঙ্গু নয়তো বয়স্ক।’

কলিমের কাছ থেকে জানা যায়, তাকে প্রতি মাসে ১০ হাজার রুপি দেয়া হয়। সেখানকার গোপন কিন্তু কুৎসিত সত্যটা ভয়ে সে আড়াল করে যায়। কারণ, যখন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কলিমের কথা হয় তখন তার মনিব নিচে যান প্রয়োজনীয় কাজে। প্রথমে তো কলিম কিছুই বলতে রাজি হচ্ছিল না। যখন তাকে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় তখন সে কোনো কথা না বলে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।

p

কলিমের মতো হাজার হাজার কিশোর আছে শাহরাগে। তাদের বেশির ভাগই আসে খাইবার পাখতুনখাওয়া কিংবা আফগানিস্তান থেকে। তাদেরকে এখানে আনা হয় মূলত বয়স্ক খনি শ্রমিকদের যৌনসঙ্গী বানানোর জন্য। তারা কিছু বলতে পারে না আবার সইতেও পারে না।

দিনের পর দিন নির্মম নির্যাতনের পর একসময় অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেলে তাদেরকে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়।

টাকার বিনিময়ে নেতাদের পাশে তারকারা

সব দেশেই নির্বাচনী প্রচারণায় তারকাদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো। সামনে ভারতের লোকসভা নির্বাচন। এরই মধ্যে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন নেতারা। নির্বাচনকে ঘিরেই এবার চাঞ্চল্যকর এক তথ্য উঠে এসেছে। এই নির্বাচনে একাধিক বলিউড তারকা নাকি টাকার বিনিময়ে সোশ্যালি টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে প্রচার করতে আগ্রহী হয়েছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম মহানগর.কমের খবরে এসেছে, সম্প্রতি ট্যুইটারে এমনি চাঞ্চল্যকর ভিডিও আপলোড করে কোবরা পোস্ট। এই পোস্টের খবর অনুযায়ী, ৩৬ জনের মতো তারকা টাকার বিনিময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক দলের প্রচার-প্রচারণা চালানোর জন্য রাজি হয়েছিলেন। কেউ কেউ একটি পোস্টের জন্য ২ থেকে ২.৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্তও দাবি করেন।

ভিডিওতে দেখা যায় সোনু সুদ, গনেশ আচার্য, শক্তি কাপুর, সানি লিওন, রাখী সাওয়ান্ত, অভিজিৎ ভট্টাচার্য, বিবেক ওবেরয়, টিসকা চোপড়া, জ্যাকি শ্রফ, শ্রেয়াল তালপাড়ে, আমিশা প্যাটেল, মহিমা চৌধুরী, পুনিত ইশর, পঙ্কজ ধীর, কৈলাশ খের, ইভলিন শর্মা, কোয়েনা মিত্র, মিনিশা লাম্বা, পুনম পান্ডে, মিকা সিং, বাবা সেহগল, রাজু শ্রীবাস্তব, রাজপাল যাদব, কৃষ্ণা অভিষেক, উপাসনা সিং, সুনীল পাল, দীপশিখা নাগপাল, রোহিত রায়, আমান বর্মা, হিতেন তেজওয়ানি, গৌরী প্রধানের মতো তারকাদের নাম।

যদিও অভিনেত্রী বিদ্যা বালান, আরশাদ ওয়ারসি, সৌম্য ট্যান্ডন এবং রেজা মুরাদ এমন লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন বলেও কোবরা পোস্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

একুশ শিখিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে চলবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে মর্যাদার সঙ্গে সুরক্ষা দেওয়া ও চর্চা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের তৈরি করা পথে তরুণ প্রজন্মকে মাথা নত না করে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে চলবে, কারণ একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত একুশে পদক ২০১৯ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, আসুন আমাদের মাতৃভূমিকে এমনভাবে গড়ে তুলি যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর সুফল ভোগ করতে পারে এবং আমরা এক অনন্য মর্যাদায় চলতে পারি।
তিনি একুশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে চলবে কারণ একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করা। একুশ আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করা যায়। কীভাবে নিজের মাতৃভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সবকিছুকেই রক্ষা করা যায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের ভাষার অধিকার আমাদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে রক্ষার চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা আমাদের কর্তব্য। আমরা অনেক সংগ্রামের মধ্যদিয়ে যেটা অর্জন করেছি তার সুফলটা যেন আগামী প্রজন্ম ভোগ করতে পারে, তারা যেন একটা সুন্দর জীবন পায় সেটাই আমরা চাই।’

একুশে পদক বিজয়ীদের উদ্দেশে সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকে যারা একুশে পদক পেয়েছেন তারা গুণীজন। তারা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কীর্তিমান, তাদের বিশাল অবদান রয়েছে। সেই অবদানের কথা সবসময়ই আমরা স্মরণ করি এবং আমি মনে করি, আমাদের আগামী দিনের প্রজন্মও তাদের অনুসরণ করে নিজেদেরকে গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, আমরা বাঙালি জাতি, বাংলাদেশ আমাদের দেশ, বাংলা আমাদের ভাষা- যে কথা জাতির পিতা বারবার বলে গেছেন। সেই দেশকেই আমরা গড়ে তুলতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দরবারে একটি মর্যাদার আসনে বাংলাদেশ যেন অধিষ্ঠিত হয় এবং বাঙালি জাতি যেন বিশ্বসভায় সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২১ জন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক ২০১৯ এ ভূষিত করেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই পদক বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

এ বছরের একুশে পদক বিজয়ীরা হচ্ছেন: ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য মরহুম অধ্যাপক হালিমা খাতুন (মরণোত্তর), যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু এবং অধ্যাপক মনোয়ারা ইসলাম। ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য একুশে পদক পেয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য। প্রয়াত পপ শিল্পী আজম খান (মরণোত্তর) ও নজরুল সংগীত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিলের সঙ্গে এবার সংগীত বিভাগে এ পুরস্কার পান গায়ক সুবীর নন্দী। সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে লাকী ইনাম ও লিয়াকত আলী লাকী একুশে পদক পান অভিনয়ের জন্য। দেশের প্রথম নারী আলোকচিত্রী সাইদা খানম আলোকচিত্রে অবদানের জন্য এবং চিত্রশিল্পী জামাল উদ্দিন আহমেদ চারুকলায় এ পুরস্কার পান। গবেষণায় ড.বিশ্বজিৎ ঘোষ ও ড.মাহবুবুল হক এবং শিক্ষায় ড.প্রণব কুমার বড়ুয়াকে এ পদক প্রদান করা হয়।

এছাড়া ভাষা সাহিত্যে রিজিয়া রহমান, ইমদাদুল হক মিলন, অসীম সাহা, আনোয়ারা সৈয়দ হক, মইনুল আহসান সাবের ও হরিশংকর জলদাস একুশে পদক পান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশে পদক বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন এবং মরণোত্তর একুশে পদক বিজয়ী মরহুম অধ্যাপক হালিমা খাতুনের পক্ষে তাঁর কন্যা  প্রজ্ঞা লাবনী এবং পপ শিল্পী আজম খানের পক্ষে তার কন্যা ইভা খান পুরস্কার গ্রহণ করেন।

সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. আবু হেনা মুস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি পাঠ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের যা কিছু অর্জন তা কিন্তু সবসময় আওয়ামী লীগ সরকারই এনে দিয়েছে। যার মধ্যে- ভাষা আন্দোলন ছাড়াও ৬দফা, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় রয়েছে।

আওয়ামী লীগ ১৯৫৬ সালে সরকার গঠন করেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময়ই ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয় এবং শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী কাজ শুরু হলেও ১৯৫৮ সালে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান মার্শাল ল’ ঘোষণা করেন এবং শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগের ফলেই ইউনেস্কো মহান একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে।
তিনি বলেন, প্রায় কুড়ি বছর আগে প্রয়াত রফিকুল ইসলাম, আবদুস সালামসহ কয়েকজন প্রবাসী বাঙালির উদ্যোগে এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। আমাদের একুশ এভাবে পরিণত হয় পৃথিবীজোড়া মানুষের মাতৃভাষা দিবসে।
মাতৃভাষাকে রক্ষা, চর্চা এবং মাতৃভাষা নিয়ে গবেষণা করার জন্য তার সরকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ করার পর ২০০১ সালে স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মত শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেও পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী নির্যাতনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নির্মাণসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সকল উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেয়।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে পুনরায় সরকারের আসার পরই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব পর হয়। যেখানে বর্তমানে বিশ্বের হারিয়ে যাওয়া মাতৃভাষার নমুনা সংগ্রহ এবং মাতৃভাষা নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, আমাদের মাতৃভাষা যেন সুরক্ষিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে আমরা সে উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি আমাদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং পৃথিবীর অন্য ভাষাভাষী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষার ওপরও এখানে নমুনা সংগ্রহ এবং গবেষণা কার্যক্রম চলছে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে জাতির পিতার বাংলায় প্রদত্ত ভাষণের পদাংক অনুসরণ করে প্রতি বছর তার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা তার ভাষণে ১৯৫২’র মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে রফিক, সালাম, বরকতদের রাজপথ রঞ্জিত করার গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে এই আন্দোলন গড়ে তোলার পেছনে জাতির পিতার অনন্য ধারবাহিক অবদানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন।

একুশের গানে নতুন মাত্রা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (২১শে ফেব্রুয়ারি) উপলক্ষে ভাষা শহীদদের সম্মান জানাতে এ বছর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটির কয়্যার-এর আয়োজন করেছে গ্রামীণফোন।

চট্টগ্রামে অবস্থিত ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব উইমেন’-এর বিভিন্ন ভাষাভাষী ছাত্রীরা তাদের সম্মিলিত কণ্ঠে সুর ঠিক রেখে গানটি পরিবেশন করেন। যার মাধ্যমে অসাধারণ এই গানটি পেয়েছে নতুন মাত্রা।

এর নতুন সংগীত নির্দেশনায় ছিলেন বাংলাদেশের কয়্যার গানে বিশেষ পারদর্শী আরমিন মুসা। মুসা বলেন, ‘একুশের গানের কয়্যার পরিবেশনার সাথে যুক্ত হতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত। আর গর্বিত এই পরিবেশনের অংশ হতে পেরে।’

এই আয়োজনটিতে উপস্থিত ছিলেন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটির সুরকার আলতাফ মাহমুদের কন্যা শাওন মাহমুদ।  
তিনি বলেন, ‘‘বাবাকে উৎসর্গ করে ‘একুশের গান’-এর এমন আয়োজন আগে কখনও হয়নি। মাতৃভাষার গান মাতৃতুল্যদের কণ্ঠে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বময় ছড়িয়ে যাওয়ার এই প্রচেষ্টাকে আমি আন্তরিকভাবে সম্মান জানাই। আর আমি মনে করি, এখানে আমার মাধ্যমে বাবাকে সম্মান জানানো হয়েছে।’’

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব উইমেন-এর চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসে ছাত্রীরা এবং আয়োজকগণসহ সম্প্রতি সারাদিনব্যাপী গানটি রেকর্ড ও চিত্রায়ন করেন। আর অনবদ্য এই আয়োজনটি ভিডিও করে আজ (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ পেয়েছে গ্রামীণ ফোনের ফেসবুক পেজে।

আয়োজকরা জানান, এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ১৬টি দেশের বিভিন্ন ভাষার ছাত্রীরা লেখাপড়া করছেন। তাদের সম্মিলিত কণ্ঠে ও ভাষায় ‌‘একুশের গান’ একটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

মহান ২১ ফেব্রুয়ারি আজ

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। বাঙালি জাতির জন্য এই দিবসটি হচ্ছে চরম শোক ও বেদনার, অনদিকে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত।

রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের এদিনে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠীর চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি সেদিন ‘মায়ের ভাষার’ মর্যাদা অর্জনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পায় নব প্রেরণা। এরই পথ বেয়ে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। পরবর্তী নয় মাস পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হয় নতুন এক স্বাধীন সার্বভৌম দেশ- ‘বাংলাদেশ’।

একুশে ফেব্রুয়ারি শোকাবহ হলেও এর যে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় তা পৃথিবীর বুকে অনন্য। কারণ, বিশ্বে এ যাবতকালে একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এদিন রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি একুশের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে। দিবস‌টি উপল‌ক্ষে রাষ্ট্রপ‌তি মোঃ আবদুল হা‌মিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা পৃথক বাণী দি‌য়ে‌ছেন। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।