ঘরের মাঠে এর আগেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে টেস্ট সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম টেস্টের আগে জয় তো বহুদূরে, খেলে ড্র‘ও করতে পারেনি। তবে ২০১১ সালে চট্টগ্রামে একটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল, সেটিও বৃষ্টির কল্যাণে। দুদিন বৃষ্টিতে খেলাই হয়নি। সেখানে এবার হোয়াইটওয়াশের মঞ্চ প্রায় প্রস্তুত। আজ পড়ন্ত বিকেলে সাকিব-মিরাজের স্পিন ঘূর্ণির মুখে দিশেহারা ক্যারিবীয়রা ফলোঅন এড়াতে লড়ছে।
সামনের দিন বিশেষ করে আগামীকাল হেটমেয়ার আর ডোরিচরা খুব বড় কিছু করে না ফেললে সাকিব বাহিনীর টেস্ট জেতার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে কি বিপরীত চিত্র টাইগারদের!
এই দেশের মাটিতে এক মাস আগে জিম্বাবুয়ের কাছে সিলেটে হেরে ঢাকায় জিতে মুখ রক্ষা। আর সেখানে এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হঠাৎ ব্যাট ও বল হাতে সমান উজ্জ্বল টাইগাররা! একদম জিততে মরিয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ বিজয়ে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ পুরো দল। হোয়াইটওয়াশ মিশন সফল করার পথে অনেকদূর এগিয়ে সাকিবের দল। হঠাৎ এমন কি হলো যে পুরো দল তেজোদ্দীপ্ত, উজ্জীবিত? ব্যাট ও বল হাতে যে যার কাজ গুলো খুব ভালো মত করছেন?
ওপেনিং সংকটে তরুণ সাদমান ইসলাম অনিককে নেয়া। ২৩ বছরের তরুণ সুযোগ পেয়ে ঠিক জ্বলে উঠে ওপেনিং দুর্বলতা ও ঘাটতি কাটিয়ে দিলেন অনেকটা। ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিক কিছু করতে পারেননি। তবে অধিনায়ক সাকিব ৮০ রানের সাহসী ও আস্থা জাগানিয়া ইনিংস উপহার দিয়ে সে ঘাটতি পোষানোর পাশাপাশি দলকে এগিয়ে দিলেন।
ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতে না পারা লিটন দাস 'ব্যাকআপ উইকেটকিপার' হিসেবে সুযোগ পেয়ে আট নম্বরে নেমে কি ব্যাটিংটাই না করলেন! তার ব্যাট থেকে বেরিয়ে এসেছে দারুণ হাফ সেঞ্চুরি (৬২ বলে ৮ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৫২)।
পড়ন্ত বিকেলে বল হাতে নিয়েই দূর্বার অধিনায়ক সাকিব। উদ্বোধনী বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের একদম শুরুতে মানে প্রথম ওভারেই আঘাত টাইগার অধিনায়কের। তার স্টক ডেলিভারিতে বোল্ড ক্যারিবীয় অধিনায়ক ওপেনার ব্রেথওয়েট।
এরপর সুনিল এমব্রিসও বোল্ড সাকিবের স্পিন ঘূর্ণিতে। অধিনায়কের দেখানো পথে হাঁটলেন মিরাজ। এ অফস্পিনারের টার্নে পরাস্ত হয়ে সাজঘরে আরও তিন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যান। মোদ্দা কথা, যে যেখানে সুযোগ পাচ্ছেন, সেখানেই জ্বলে উঠছেন। ভালো খেলার পাশাপাশি পুরো দল জিততে মরিয়া। এর পেছনের কাহিনী কি? টাইগারদের এমন উজ্জ্বল, স্বপ্রতিভ আর তেজোদ্দীপ্ত রূপের রহস্য কি ?
খুব জানতে ইচ্ছে করছে, তাই না? তাহলে শুনুন, এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কেন কি কারণে বাংলাদেশ দল এত বেশী উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত, সে রহস্য বেরিয়ে এসেছে।
টিম বাংলাদেশ অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত হয়েছে আসলে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের উদ্দীপক বক্তব্যে। হাওয়া থেকে পাওয়া খবর নয়। শেরে বাংলার আশপাশে ভেসে ওঠা গুঞ্জনও নয়। সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ স্বয়ং জানিয়ে দিলেন, কেন তারা এত তেজোদ্দীপ্ত ও ক্যারিবীয়দের হারাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
আজ শনিবার শেরে বাংলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক ধ্রুপদী টেস্ট শতক উপহার দেয়া মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সন্ধ্যায় প্রেস কনফারেন্সে জানিয়ে দিলেন, তারা উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের একটি আবেগ মাখা সংলাপে।
কি সে কথা? রিয়াদ বলেন, ‘টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে সাকিব আমাদের সবার উদ্দেশ্যে বলে, সবাই মন থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে আমাদের পরিণতির কথা মনে করো। আমরা ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে তাদের কাছে কিভাবে পর্যুদস্ত হয়েছিলাম, হারের ধরণ ও পরিণতি কেমন ছিল, তা সবাই যেন ভালো মত অনুভব করে। সেই অনুজ্জ্বল- শ্রীহীন পারফরমেন্স এবং বাজে ভাবে হারের কথাটা যেন সবার ভিতরে জাগ্রত হয়। আমার মনে হয় সাকিবের সেই বক্তব্য সবাইকে আলোড়িত করেছে। সবার ভিতরে ভালা খেলার জেদ জন্মেছে। আর সে কারণেই পুরো দল একাট্টা, ক্যারিবীয়দের হারাতেই হবে।’
হোক তা দেশে কিংবা বিদেশে-বাংলাদেশের পুরো সিরিজ ভালো খেলার রেকর্ড কম। অনেক সিরিজেই দেখা গেছে, প্রথম টেস্ট জিতে পরের ম্যাচ হেরে সিরিজ ড্র করতে। খুব বেশি দূর পেছন ফিরে তাকানোর দরকার নেই। গত বছর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার সাথেই এমন হয়েছে। ঢাকার শেরে বাংলায় প্রথম টেস্ট জিতে চট্টগ্রামে হেরে সিরিজ জেতার সুবর্ণ সুযোগ হারিয়েছে টাইগাররা।
আর এবার চট্টগ্রামে স্পিন ট্র্যাকে চার স্পিনার নিয়ে খেলে ৬৪ রানের দারুণ জয়ের পর ঢাকায়ও জয়ের সম্ভাব্য ক্ষেত্র প্রস্তুত। দ্বিতীয় দিন শেষে সাকিবের দল ৪৩৩ রানের বিরাট ব্যবধানে এগিয়ে। পড়ন্ত বিকেলে সাকিব আর মিরাজ টুটি চিপে ধরেছেন ক্যারিবীয়দের। ৭৫ রান তুলতেই শেষ ব্রেথওয়েট বাহিনীর ইনিংসের প্রথম অর্ধেক। ফলোঅন এড়াতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরও ২৩৪ রান করতে হবে। এই যখন খেলার অবস্থা, সেখান থেকে জয় ভিন্ন ভাবার আর কিছু থাকে কি?