রবিবার, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

টাঙ্গাইল-২ আসনে তানভীর হাসান বিজয়ী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ মহাজোটের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনির।

ছোট মনির নৌকা প্রতীকে ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৩৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্ধী বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের মনোনিত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু পেয়েছেন মোট ১১ হাজার ৯২৬ ভোট।

উল্লেখ্য, ভূঞাপুর-গোপালপুর উপজেলা নিয়ে ১টি আসন। যার মধ্যে গোপালপুর উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্র ৭৫, এই উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১ হাজার ৯৫ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ১ হাজার ১৯৩ জন।

ভূঞাপুর উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নে ভোট কেন্দ্র ৫৭টি, এতে পুরুষ ভোটার ৭৪ হাজার ১৩৯ জন ও মহিলা ভোটার ৭২ হাজার ২৪৩ জন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭০ জন।

ঘাটাইলে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে নৌকার বিজয়

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল(৩) ঘাটাইল আসনে সবচাইতে আলোচিত ব্যাক্তি সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার পিতা আতাউর রহমান খান বিপুল ভোটের ব্যাবধানে নৌকা মার্কা প্রতিক বেসরকারী ভাবে বিজয়ী হয়েছেন ।

সকাল ৮টা থেকে টানা ৪টা পর্যন্ত ১১৯ টি কেন্দ্রে শান্তিপুর্ণভাবে ভোট গ্রহন চলে। এ আসনটি থেকে মোট ৬জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন।



আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আতাউর রহমান খান তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ২লাখ ৩৮হাজার ৯৫১ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লুৎফর রহমান খান আজাদ পেয়েছেন ৮ হাজার ৫৭০ ভোট।

ঘাটাইলে ধানের শীষ প্রার্থীর ভোট বর্জন

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে  ধানের শীষ প্রার্থী লুতফর রহমান খান ভোট বর্জন। তার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নৌকা প্রতীকের আতাউর রহমান খান।

বিস্তারিত আসছে..

ওই সাংবাদিক আইছে, বাইরে চইলা আয়

বেলা ১২টা। টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে যেতেই চোখে পড়ল ভোটার শূন্য মাঠ। কেন্দ্রের ভেতর গিয়ে দেখা গেল নারী ভোটারদের কক্ষে সাত থেকে আটজন যুবক। তারা প্রকাশ্যে সিল মারছেন। একজন বাইরে থেকে চিৎকার করে বললেন, ‘ওই সাংবাদিক আইছে, বাইরে চইলা আয়।’ যুবকেরা দ্রুত বের হয়ে গেলেন। তারা পাশেই পুরুষ ভোটারদের কক্ষের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে গেলেন। আশপাশ থেকে আরও কয়েকজনকে ডেকে দাঁড় করিয়ে লাইন লম্বা করলেন।

শুধু এলেঙ্গা হাইস্কুল কেন্দ্র নয়, এই আসনের এলেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোষনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কুড়িঘড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে একই চিত্র পাওয়া যায়। 

এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ইস্কান্দার মির্জা জানান, তার কেন্দ্রে মোটর ভোটার তিন হাজার ৮৬৯জন। দুপুর ১২টার মধ্যে দুই হাজারের বেশি ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। 

দুপুর দেড়টার দিকে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের গোপালপুর উপজেলার জগতপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সামনেই আওয়ামী লীগ কর্মীদের সিল মারতে দেখা যায়। 

ঐক্যজোট ও বিএনপি প্রার্থীদের অভিযোগ, টাঙ্গাইলের বিভিন্ন আসনে ভোটের আগের রাতেই ব্যালটে সিল মেরে রাখা হয়েছিল। এ জন্য ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও ভোট গ্রহণের হার বেশি ছিল। দুপুরের পর এসব কারণে জেলার পাঁচজন বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানান। এরা হচ্ছেন, টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের সরকার শহিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের প্রার্থী কারাবন্দী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে তার ভাই জেলা বিএনপির সভাপতি শামছুল আলম, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে লিয়াকত আলী, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে গৌতম চক্রবর্তী। 
এদিকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শফিউল্লাহ আল মুনির ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুরাদ সিদ্দিকী নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ করেছেন। 
তবে জেলার আটটি আসনের কোথাও গোলযোগের ঘটনা ঘটেনি। সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশের টহল ছিল পুরো জেলা জুড়ে।

ঘাটাইলে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন

রবিবার টাঙ্গাইল(৩)ঘাটাইল আসনে শান্তিপুর্ন ভাবে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটাররা সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাড়িয়ে ভোট ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন। ভোট প্রদান শেষে তারা হাসিমুখে কেন্দ্র থেকে বের হচ্ছেন।এছাড়া ঘাটাইল উপজেলার কোথাও কোন ধরনের নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে কোন অভিযোগও পাওয়া যায়নি। অনেকেই।সকাল থেকে ঘাটাইল পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে ভোট শুরু হওয়ার এক-দেড় ঘন্টা পর সাড়ে নয়টার দিকে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে। বিভিন্ন কেন্দ্রে নারী ভোটারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যাই বেশি দেখা গেছে। এছাড়া তরুন ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্ত ভোট প্রদান করেছেন।সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘাটাইল হাই স্কুল, রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুকুল একাডেমী হাই স্কুল কেন্দ্রে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পুরুষ ভোটাররা ধীরে সুস্থে আসছেন। বুথের সামনে বারান্দায় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন ভেতরে প্রবেশের জন্য। এ কেন্দ্রগুলোতে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যাধিক্য দেখা গেছে।

কেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় রয়েছেন। পুলিশ, রিজার্ভ ও অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি আনসার বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ভোটারদের স্লিপ দেখে তাদের ভেতরে প্রবেশ এবং নম্বর অনুযায়ী বুথের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছেন। রবিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহন কার্যক্রম চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এরপর ভোট গণনা শেষে ঘোষণা করা হবে ফলাফল। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ জানান, ঘাটাইলে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোন নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।



টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আতাউর রহমান খান, বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে রয়েছেন লুৎফর রহমান খান আজাদ। এ ছাড়া এই আসনে আরো ৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন, ন্যাশনাল পিপলস পাটির প্রার্থী এসএম চাঁন মিয়া (আম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থীর রেজাউল করিম (হাত পাখা), জাকের পার্টিও প্রার্থী খলিলুর রহমান (গোলাপ ফুল), বিএনএফ এর প্রার্থী আতাউর রহমান খান (টেলিভিশন)।
এ আসনে পৌরসভা ১টি, ইউনিয়ন ১৪টি, ভোট কেন্দ্র ১১৯টি। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৭ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৯ জন, মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৬ জন।

অলির কথাই শুনল বিএনপি কর্মীরা (ফোনালাপ ফাঁস)

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশজুড়ে চলছে বিএনপি নেতা-কর্মীদের তাণ্ডব। এ পর্যন্ত নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী ও রাঙ্গামাটির বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বিএনপি কর্মীদের হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই হামলায় বহু আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত এবং আহত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও কর্মীদের বসত বাড়িতে হামলাসহ তাঁদের নির্বাচনী ক্যাম্পে বিএনপি কর্মীরা গতকাল (২৯ ডিসেম্বর) রাত থেকেই হামলা চালাচ্ছে বলে জানা যায়। এ পর্যন্ত সারা দেশে ৫ জন আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত এবং অসংখ্য কর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নির্বাচনে বানচাল করতে বিএনপি এমন হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে বলে মনে করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে এসবের সত্যতাও নিশ্চিত করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

গতকাল রাতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মুখপাত্র, এলডিপির চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-১৪ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সঙ্গে মাহমুদুল হক নামে জনৈক দলীয় কর্মীর কথোপকথন ফাঁস হওয়ার পর বিএনপি কর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠে।

ওই ফোনালাপে অলি জনৈক মাহমুদুল হককে নির্বাচনের সময় লাঠি-সোটা নিয়ে মাঠে নামতে বলেন। এই ফোনালাপ ছড়িয়ে যায় গোটা দেশে। বিএনপির এমন কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয় অলির কথা খুব ভাল ভাবেই আমলে নিয়েছেন তারা।

জনৈক মাহমুদুলের সঙ্গে কর্নেল অলির ফোনালাপ ছিল এরকম-

অলি : হ্যাঁ, বাবুল।

বাবুল : বড়দা, আসসালামু আলাইকুম।

অলি : ওয়ালাইকুম। 

বাবুল : বড়দা মাহমুদুল হকের সঙ্গে কথা বলেন।

মাহমুদুল : আসসালামু আইকুম।

অলি : মাহমুদুল হক, মিল্লাত আছে না?

মাহমুদুল : হ্যাঁ, মিল্লাত আঙ্কেল।

কর্নেল অলি : তুমি আর মিল্লাত লাঠি নিয়ে রেডি থেকো। সম্মান-ইজ্জত তোদের হাতে। নিজের ইজ্জত নিজে বাঁচাও।

মাহমুদুল হক : জ্বি।

কর্নেল অলি : আর কোনো কথা বলিস না। লাঠি-সোটা নিয়ে নাম।

মাহমুদুল হক : লাঠি-সোটা নিয়ে নামছি। তবে হামলা দিলে ভালো হবে বেশি।

কর্নেল অলি : না না, তোরা হামলা দিবি কেন? আমি দিতে পারি না? আমার বাড়ি চন্দনাইস, আবার বাড়ি বহুত দূর। প্রধানমন্ত্রী শুধু দেশের শক্রু।

মাহমুদুল হক : আপনার কথা ঠিক আছে।

কর্নেল অলি : কথা না, লাঠি নাও, লাঠি চাচো। দরকার হলে পয়সা দিয়ে আরও লোক নাও।

মাহমুদুল হক : আচ্ছা বাবাজি।

-- বাংলা ইনসাইডার

গোপালপুরে বিএনপি নেতা নিহত

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে দুর্বৃত্তের হামলায় স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নিহত হয়েছেন।

আজ রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের নগদা শিমলা ইউনিয়নের বাইসকাইল এলাকা থেকে তার লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত বিএনপি নেতার নাম হাজী আব্দুল আজিজ (৬৫)। তিনি নগদা শিমলা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আল মামুন জানান, হাজী আব্দুল আজিজ শনিবার রাত থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। রবিবার সকালে স্থানীয় লোকজন নগদা শিমলা এলাকায় আব্দুল আজিজের লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়।

তিনি আরো জানান, পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ঘাটাইলে দুই ভাইয়ের লড়াই

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দুই ভাই। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার পিতা টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান। আর বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক প্রতি মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ। আসনটিতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী থাকলেও মূলত লড়াই হবে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীককে ঘিরেই।



ঘাটাইল আসনে সংসদ সদস্য রানার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তার পিতা আতাউর রহমান আছেন অনেকটা শক্ত অবস্থানে, এমনটাই মনে করেন তার দলের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী প্রচারণায় বাঁধা দেওয়া, গায়েবী মামলা, হামলার ও পুলিশি হয়রানীর অভিযোগ জানাচ্ছেন টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে।



টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় ঘাটাইলের দুইবারের এমপি রানা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ঘাটাইলে রানার ব্যাপক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আসনটি ধরে রাখতে তৎপর আওয়ামী লীগ। প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়া আতাউর রহমান খানের বড় ভাই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠনক প্রয়াত শামছুর রহমান খান শাহজাহান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৭০, ১৯৭৩ ও ১৯৮৬ সালে এমপি নির্বাচিন হন।



অন্যদিকে, এখানে বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদেরও ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগে ঘাটাইল থানার ওসি মাকসুদুুল আলম ও ঘাটাইলের ধলাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিরুল ইসলামকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদ। শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। এ আসনে লুৎফর রহমান খান আজাদ ধানের শীষ প্রতীকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শামসুর রহমান খান শাহজাহানকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন।



নির্বাচনী এলাকার শহর গ্রাম গঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকরা স্বতঃস্ফূর্ত নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই। আতাউর রহমান ঘাটাইলের দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করে আলাদা একটা ইমেজ তৈরি করতে সমর্থ হয়েছেন। অপরদিকে, ঘাটাইলে বিএনপি প্রার্থী নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন দ্বিধাবিভক্তি না থাকলেও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘটনা বিএনপি প্রার্থীকে বেশ বেকায়দায় ফেলেছে বলে মনে করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।



আগামীকাল রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। এখন কার গলায় উঠবে বিজয়ের মালা তাই দেখার অপেক্ষায় শান্তিপ্রিয় রাজনৈতিক সচেতন ঘাটাইলবাসী।



এই আসন থেকে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী আবু হানিফ (ফুলের মালা) আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ ছাড়া এই আসনে আরো ৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। এরা হলেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী এসএম চাঁন মিয়া (আম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী রেজাউল করিম (হাত পাখা), জাকের পার্টির প্রার্থী খলিলুর রহমান (গোলাপ ফুল), বিএনএফ এর প্রার্থী আতাউর রহমান খান (টেলিভিশন)।



টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) অাসনে পৌরসভা ১টি, ইউনিয়ন ১৪টি, ভোট কেন্দ্র ১১৯টি, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৭ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৯ জন, মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৬ জন।