একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশজুড়ে চলছে বিএনপি নেতা-কর্মীদের তাণ্ডব। এ পর্যন্ত নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী ও রাঙ্গামাটির বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বিএনপি কর্মীদের হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই হামলায় বহু আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত এবং আহত হয়েছে।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও কর্মীদের বসত বাড়িতে হামলাসহ তাঁদের নির্বাচনী ক্যাম্পে বিএনপি কর্মীরা গতকাল (২৯ ডিসেম্বর) রাত থেকেই হামলা চালাচ্ছে বলে জানা যায়। এ পর্যন্ত সারা দেশে ৫ জন আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত এবং অসংখ্য কর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নির্বাচনে বানচাল করতে বিএনপি এমন হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে বলে মনে করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে এসবের সত্যতাও নিশ্চিত করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
গতকাল রাতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মুখপাত্র, এলডিপির চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-১৪ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সঙ্গে মাহমুদুল হক নামে জনৈক দলীয় কর্মীর কথোপকথন ফাঁস হওয়ার পর বিএনপি কর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠে।
ওই ফোনালাপে অলি জনৈক মাহমুদুল হককে নির্বাচনের সময় লাঠি-সোটা নিয়ে মাঠে নামতে বলেন। এই ফোনালাপ ছড়িয়ে যায় গোটা দেশে। বিএনপির এমন কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয় অলির কথা খুব ভাল ভাবেই আমলে নিয়েছেন তারা।
জনৈক মাহমুদুলের সঙ্গে কর্নেল অলির ফোনালাপ ছিল এরকম-
অলি : হ্যাঁ, বাবুল।
বাবুল : বড়দা, আসসালামু আলাইকুম।
অলি : ওয়ালাইকুম।
বাবুল : বড়দা মাহমুদুল হকের সঙ্গে কথা বলেন।
মাহমুদুল : আসসালামু আইকুম।
অলি : মাহমুদুল হক, মিল্লাত আছে না?
মাহমুদুল : হ্যাঁ, মিল্লাত আঙ্কেল।
কর্নেল অলি : তুমি আর মিল্লাত লাঠি নিয়ে রেডি থেকো। সম্মান-ইজ্জত তোদের হাতে। নিজের ইজ্জত নিজে বাঁচাও।
মাহমুদুল হক : জ্বি।
কর্নেল অলি : আর কোনো কথা বলিস না। লাঠি-সোটা নিয়ে নাম।
মাহমুদুল হক : লাঠি-সোটা নিয়ে নামছি। তবে হামলা দিলে ভালো হবে বেশি।
কর্নেল অলি : না না, তোরা হামলা দিবি কেন? আমি দিতে পারি না? আমার বাড়ি চন্দনাইস, আবার বাড়ি বহুত দূর। প্রধানমন্ত্রী শুধু দেশের শক্রু।
মাহমুদুল হক : আপনার কথা ঠিক আছে।
কর্নেল অলি : কথা না, লাঠি নাও, লাঠি চাচো। দরকার হলে পয়সা দিয়ে আরও লোক নাও।
মাহমুদুল হক : আচ্ছা বাবাজি।
-- বাংলা ইনসাইডার