রবিবার, ডিসেম্বর ০২, ২০১৮

কদমতলিতে নৌকার প্রার্থী আতাউর রহমানের মতবিনিময়

রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান দলীয় নেতাকর্মীদের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে বলেছেন, মানুষের ভালবাসা ও পরম করুনাময়ের রহমত না থাকলে আমি দলীয় মনোনয়ন পেতাম না। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।

গতকাল শনিবার (১ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার কদমতলি গারট্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাঠে নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় কালে এ সব কথা বলেন তিনি।

এ সময় নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান খান নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি দলের সব পক্ষের সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। এ জন্য সবাইকে একটা জিনিস মাথায় রেখে নির্বাচনে কাজ করতে হবে। সকলকে মনে রাখতে হবে প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আর মার্কা নৌকা। নৌকা বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী হবে। তিনি নির্বাচনী আচারণ বিধি মেনে সবাইকে ঘরে ঘরে কাজ করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে ঘাটাইল থেকে আরেকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি প্রফেসর ডঃ অধীর চন্দ্র সরকার বলেন, আমি নৌকার টিকেট পাইনি তাতে আমার কোন দুঃখ নেই, নেত্রী যাকে নৌকার জন্য নির্বাচিত করেছেনে আমি তার জন্য সর্বদাই কাজ করে যাবো।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বজলুর রহমান রিপন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হেষ্টিং, বঙ্গবন্ধু চিকিৎসক কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. সুলতান মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা মফেল তালুকদার, হামিদপুর ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকির হোসেন রতন, দিগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহজাহান মোল্লা, দিঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিয়ার উদ্দিন মিয়া, রেজাউল করিম মটু, খন্দকার আসাদুজ্জামান সাহেদ, শহিদুল ইসলাম, মো. রাসেল খান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসতিয়াক আহমেদ রাজিব ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আসিফ সিদ্দিকী, দিগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান হাসান জনি প্রমুখ।

ঘাটাইলবাসীকে এ আসন উদ্ধার করে উপহার দিব: কাদের সিদ্দিকী


মাসুম মিয়া, ঘাটাইল: বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম বলেছেন, ‘এই ঘাটাইলে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার গায়ে গুলি লেগে রক্ত ঝড়েছিল, এইবার আমরা ঘাটাইলের আসন উদ্ধার করে জয় উল্ল্যাস করবো এবং ঘাটাইলের মানুষকে এ আসন উপহার দিব।’

রোববার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কলেজ মোড় চত্ত্বরে এক পথসভায় এসব কথা বলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দীয় নেতা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম।

সে সময় তিনি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আব্দুর রশিদ মিয়াকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে নির্বাচন করিয়ে এ আসন ঘাটাইলবাসীকে উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা যখন শুরু হবে আমি অবশ্যই আসবো জনসভা করতে।

এ সময় তার সাথে ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর খোকা, আওয়ামী লীগ থেকে সদ্য কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগদান করা টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার মো. লিয়াকত আলী, টাঙ্গাইল জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি এডভোকেট রফিকুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে ঐক্য ফ্রন্টের মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুর রশিদ মিয়া প্রমুখ।

পথসভা শেষে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী উপজেলার ধলাপাড়া ও সাগরদিঘী হয়ে সখীপুরে তার নির্বাচনী এলাকায় যান।

কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ ও ৮ আসনের প্রার্থী বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। 

ঋণ খেলাফি হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।



গত ৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। পুনঃতফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর। আর প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ ডিসেম্বর।

কাদের থাকেন স্ত্রীর বাড়িতে, ফখরুল ঘোরেন বউয়ের গাড়িতে

ওবায়দুল কাদের, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তিনি। এছাড়াও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তিনি। অথচ রাজধানীতে তার কোনো বাড়ি বা ফ্ল্যাট নেই। থাকেন স্ত্রীর বাড়িতে। আর রাজনীতিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের নিজস্ব কোনো গাড়ি নেই। স্ত্রীর দেয়া গাড়ি ব্যবহার করেন তিনি। রাজনীতির দুই মেরুর এই দুইজনই স্ত্রীর দ্বারস্থ। মির্জা ফখরুল একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ এবং ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী-৫ আসন থেকে নির্বাচন করছেন।

ওবায়দুল কাদেরের সম্পদ স্ত্রীর চেয়ে বেশি। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- উত্তরায় অর্জনকালীন সময়ের ৫০ লাখ ৭৯ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি এবং পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে ৬০ শতাংশ অকৃষি জমি। ওবায়দুল কাদেরের নিজস্ব কোনো বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট নেই। স্ত্রীর অর্জনকালীন সময়ের ১৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের এক হাজার ৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট আছে।


মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন- বর্তমানে তার নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। অতীতে ১২টি মামলা দায়ের হয়েছিল। অব্যাহতিমূলে ৯টি নিষ্পত্তি এবং ৩টিতে খালাস পেয়েছেন।

আয়ের স্থানে তিনি উল্লেখ করেছেন- বাড়িভাড়া/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে বছরে আয় ১৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, পেশা (শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন, পরামর্শক ইত্যাদি) থেকে ১২ লাখ ৬০ হাজার, বই লিখে আয় চার লাখ ৮৯ হাজার ৬৫১ টাকা। ৩১ লাখ ১৭ হাজার ৬৫১ টাকা। মাসিক গড় আয় দুই লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ টাকা ২৫ পয়সা।

স্ত্রীর আয় আসে বাড়িভাড়া/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে; বছরে আয় দুই লাখ ৬৬ হাজার ৪৩৬ টাকা, ব্যবসা থেকে আয় তিন লাখ ৯৩ হাজার ২৬০ টাকা, অন্যান্য আয় দেখিয়েছেন- তিন লাখ ৯৬ হাজার ৫১৯ টাকা।

ওবায়দুল কাদেরের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নিজের নগদ টাকা আছে ৫৫ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৮৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪২ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ এক কোটি ২৪ লাখ ২১ হাজার। ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি আছে। আর এক লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ২৫ তোলা স্বর্ণ আছে। তিনি উপহার পাওয়া মোবাইল ব্যবহার করেন। নিজের নামে আট লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র আছে।

স্ত্রীর হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা আছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২৬ লাখ ৩৪ হাজার ৬১১ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৫৫ লাখ ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা, ব্যক্তিগত কোনো গাড়ি নেই। এক লাখ টাকা মূল্যের ২০ তোলা স্বর্ণ আছে। ১২ হাজার টাকার টিঅ্যান্ডটি ও মোবাইল আছে। আছে এক লাখ টাকার আসবাবপত্র।

অন্যদিকে স্ত্রীর ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ১৪০ টাকা দামের একটি গাড়ি দানসূত্রে ব্যবহার করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া স্ত্রীর ব্যাংক-ব্যালেন্স তার চেয়ে বেশি।

হলফনামা অনুযায়ী, ফখরুলের নগদ ৪২ লাখ ৭১ হাজার ও ব্যাংকে এক লাখ ৪৩ হাজার টাকার মতো রয়েছে। তবে স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২১ লাখ ৭২ হাজার ৮৭০ টাকা রয়েছে। হলফনামায় ফখরুল তার আয়ের উৎস উল্লেখ করেন শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন ও পরামর্শক। এই চার খাত থেকে তিনি বছরে সর্বোচ্চ ছয় লাখ টাকা আয় করেন। এছাড়াও ফখরুল কৃষিখাত থেকে ৯৯ হাজার ৫০০, মার্কেটের ফার্মের শেয়ার থেকে এক লাখ ২৫ হাজার ৯৪৭, শেয়ার বাজার ও ব্যাংক আমানত থেকে এক লাখ ৪১ হাজার ১৮১ টাকা, দি মিজার্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এক লাখ ৬২ হাজার টাকার সম্মানী, ব্যাংকসুদ থেকে দুই হাজার ৮০৫ টাকা আয় করেন।

অতীতে ৩৮টি এবং বর্তমানে ৭টি ফৌজদারি মামলার আসামি তিনি। এর মধ্যে ১৪টি মামলার চার্জ গঠন ও শুনানি চলছে। হলফনামায় তিনি ৪৫টি মামলার কথা উল্লেখ করেন যার অধিকাংশ, নাশকতা, ভাঙচুরের হুকুম দেয়ার। ১৪টির কার্যক্রম চললেও বাকি মামলাগুলোর কার্যক্রম হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন, কয়েকটিতে অব্যাহতি পেয়েছেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ছিল ২৮ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই ২ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ ১০ ডিসেম্বর।

খালেদা জিয়ার মনোনয়ন পত্র বাতিল

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ফেনী-১ আসনের মনোনয়ন পত্র অবৈধ ঘোষণা করেছে আদালত। আজ রবিবার (২ ডিসেম্বর) আদালত এ আদেশ দেন।

বিস্তারিত আসছে…

ঘাটাইলে ভাটার পেটে কৃষিজমি ও বন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ৬০টির বেশি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি ভাটার লাইসেন্স নেই। বৈধগুলোর লাইসেন্সও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে দেওয়া হয়নি। বৈধ-অবৈধ ভাটাগুলোতে ফসলি জমির মাটি ও বনের গাছ পোড়ানো হচ্ছে। বন, পরিবেশ বা উপজেলা প্রশাসন এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইনে বলা হয়েছে, বন বিভাগের তিন কিলোমিটার আর বসতভিটা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে, তিন ফসলি জমিতে এবং পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো স্থানে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইলে আবাদি ভূমির পরিমাণ ৩০ হাজার ১৫০ হেক্টর। ৬০টির মতো ইটভাটা স্থাপনে চলে গেছে কমপক্ষে ৪০০ একর আবাদি ভূমি।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ২৩টি ভাটার লাইসেন্স রয়েছে। অনেকের আবার লাইসেন্স নবায়ন নেই। বাকিরা অবৈধ। কেউ উচ্চ আদালতে রিট করে বছরের পর বছর ধরে চলছে। এর মধ্যে উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নে বনের ভেতর গড়ে উঠেছে ১০টি, রসুলপুর ইউনিয়নে ১১টি, দেউলাবাড়ী ইউনিয়নে ফসলি জমিতে ১০টি, ঘাটাইল সদর ইউনিয়নে দুটি, জামুরিয়া ইউনিয়নে আবাসিক এলাকা এবং তিন ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন ১৬টি ভাটা গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া লোকেরপাড়া, আনেহলা, দিগড়, দেওপাড়া ও দিঘলকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দুই ও তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা গড়ে উঠেছে।

সম্প্রতি উপজেলার চানতারা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এ গ্রামে আটটি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। গ্রামের প্রায় সব আবাদি জমিই চলে গেছে ভাটার পেটে। এটি এখন ভাটার গ্রাম হিসেবে পরিচিত।

গ্রামবাসী জানায়, একসময় এ এলাকায় বছরে তিনটি ফসল উৎপাদিত হতো। এখন আর আবাদ করা যায় না। শুধু এ গ্রামের না, আশপাশের গ্রামের আবাদি জমি নষ্ট হয়েছে। যেসব জমি ফাঁকা রয়েছে সেগুলোর উপরিভাগের মাটি চলে গেছে ভাটায়। ফসলি জমির পাশাপাশি ভাটার কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে। আর এর বিরূপ প্রভাবে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে মৌসুমি ফল। মাটির ওপরের অংশের উর্বরতাও নষ্ট হচ্ছে। একই অবস্থা উপজেলার রসুলপুর, পেচারআটা, ধলাপাড়া ও সরাবাড়ী এলাকায়। এসব গ্রাম ঘিরে স্থাপিত হয়েছে ১৫ থেকে ২০টি ভাটা।

যত্রতত্র ভাটা স্থাপন করায় ট্রাকের চাপে গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। জনগণের ভোগান্তি বাড়ছে এবং সরকারের লোকসান হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। কয়লা পোড়ানোর নিয়ম থাকলেও তারা আইনের তোয়াক্কা না করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে কাঠ। বিশেষ করে উপজেলার বন বিভাগের ভেতরে ধলাপাড়া, পেচারআটা, সরাবাড়ীসহ বনসংলগ্ন ইটভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। সেদিকে নজর নেই বন বিভাগের। ফলে অবাধে কাটা হচ্ছে গাছ। উজাড় হচ্ছে বনভূমি।



কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তিন ফসলি জমিতে স্থাপন করা তিনটি ভাটা দেখেছেন এ প্রতিবেদক। এগুলো হলো বেলদহ গ্রামের রানা ব্রিকস, খিলগাতি গ্রামের এমআরবি ব্রিকস ও মাকড়াই গ্রামের কেআরবি ব্রিকস। বেলদহ গ্রামে রানা বিকস বন্ধের দাবিতে আদালতে মামলা করেছে এলাকাবাসী। ভাটাটি বন্ধের দাবিতে সম্প্রতি এলাকায় মানববন্ধনও করেছে তারা। মাকড়াই কেআরবি বিকস স্থাপন করা হয়েছে আবাসিক এলাকার মাঝখানে। কোনো অনুমতি ছাড়াই ভাটাটি চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে মালিকপক্ষ। ইটভাটা তিনটি স্থাপিত হওয়ায় এলাকার কৃষিজমির ক্ষতিসহ পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে জানায় এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে ভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা বলেন, ‘অনেকের লাইসেন্স না থাকলেও সব ইটভাটা বৈধ। যেহেতু সবাই উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে এবং অনুমতি চেয়ে আবেদন করে ভাটা পরিচালনা করছে।’

দুই ও তিন ফসলি জমিতে ইটভাটার অনুমতি দেওয়া প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, ‘ইটভাটার অনুমোদন দেওয়ার বিষয় কৃষি বিভাগের না। কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক আমরা শুধু প্রতিবেদন দাখিল করে থাকি।’

বন বিভাগের ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, ইটভাটার লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে বন বিভাগের কোনো ভূমিকা নেই। ভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানোর বিষয়টি দেখে বন বিভাগ। ভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানো হলে ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ জানান, অবৈধভাবে স্থাপিত এবং লাইসেন্সবিহীন ভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমতি না থাকায় নতুন স্থাপিত দুটি ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। - কালের কণ্ঠ।