রবিবার, নভেম্বর ০৪, ২০১৮

ভোট নিরপেক্ষ হবে কোনো সংশয় নেই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের অধীনে সব নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়েছে। আগামীতেও জনগণ যাকে ভোট দিবে তারাই ক্ষমতায় আসবে।

১৪ দলের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে রোববার গণভবনে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোট গণতান্ত্রিক অধিকার। ভোট নিরপেক্ষ হবে এতে কোনো সংশয় নেই। জনগণ যাকে ভোট দেবে তারাই সরকার গঠন করবে।

তবে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়ন পৌঁছে দেয়া হয়েছে, দেশের মানুষ ভোট দিলে দেশকে আরও উন্নত করতে পারব, আশা করি উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে মানুষ আমাদের ভোট দেবে।

শেখ হাসিনার অবদান চিরস্মরণীয়: আল্লামা শফী


হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর সমমান মর্যাদা দিয়েছেন। তার এই স্বীকৃতিতে লাখো কওমী ওলামা ধন্য হয়েছে। এই অসামান্য অবদান ইতিহাসের সোনালী পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

রোববার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’র আয়োজনে শুকরিয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। 

সংগঠনের চেয়ারম্যান আহমদ শফীর উপস্থিতিতে তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুফতি নুরুল আমিন। 

এতে শাহ আহমদ শফী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, সনদকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার উপদেশ, নিজের ও হেফাজতের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। 

তিনি বলেন, ‘ওলামাদের দাবির প্রতি সম্মান দিয়ে শত আপত্তি ও বাধা উপেক্ষা করে ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে কওমী মাদ্রাসার বিলটি পাস করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিকতা ও সাহসিকতার যে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন, নিঃসন্দেহে তা কওমী ওলামাদের প্রতি তার দরদপূর্ণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক শুকরিয়া ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। কেন না, মানুষের শুকরিয়া একটি নৈতিক দায়িত্ব।’ 

হেফাজত আমির বলেন, ‘কওমী মাদ্রাসা হচ্ছে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সূচনালগ্ন থেকে সরকারি প্রভাবমুক্ত থেকে আল্লাহ তা’য়ালার উপর নির্ভরশীল হয়ে দল-মত-নির্বিশেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। ব্রিটিশ আমল থেকে অত্যন্ত বৈরি পরিবেশ ও হাজারো ঘাত-প্রতিঘাতের ভেতর দিয়ে আলেম সমাজ কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা বিকশিত করে আসছে।’ 

তিনি বলেন, ‘কওমী মাদ্রাসা মূলত জনগণেরই প্রতিষ্ঠান। জনগণ আতঙ্কিত কিংবা কোনো রকম বিভ্রান্ত হয়, এমন কাজ সঙ্গতভাবে কওমী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক করে না, করতে পারে না। জনগণের নৈতিক ও আত্মিক উন্নতি সাধনই তাদের অন্যতম দায়িত্ব।’ 

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আহমদ শফী বলেন, ‘আপনার পিতা (বঙ্গবন্ধু) ইসলামের জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। আপনার শাসনামলে লাখো কওমী ওলামা আপনার স্বীকৃতি দ্বারা ধন্য হয়েছে। আপনার এ অসামান্য অবদান ইতিহাসের সোনালী পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ 

আমার রাজনৈতিক পরিচয় নেই

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে হেফাজত আমির বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীভাবে বলতে চাই— আমার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। রাজনৈতিক কোনো প্ল্যাটফর্ম ও দলের সঙ্গে আমার এবং হেফাজতে ইসলামের নীতিগত কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। মনে রাখবেন, মুসলমানদের ঈমান আকিদা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষাই হেফাজতে ইসলামের মূল লক্ষ্য। হেফাজতে ইসলামের নীতি ও আদর্শের উপর আমরা অটল ও অবিচল আছি। তাই আমার কর্মকৌশল ও সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার সুযোগে নেই। আমার কোনো বক্তব্য-বিবৃতিকে কেন্দ্র করে অপব্যাখ্যা ও মিথ্যাচার করার সুযোগ নেই।’ 

স্যোশাল মিডিয়ায় বিভ্রান্ত হবেন না

আহমদ শফী বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে নানা ফেতনা ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে মুসলমানদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ ও বিভেদ বাড়ছে। আমাকে ও হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগান্ডা ও মিথ্যাচার চালাচ্ছে। কোনো ইলেক্ট্রনিক ও স্যোশাল মিডিয়ার কথায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ 

তিনি বলেন, ‘মুসলিম উম্মাহর বর্তমান সঙ্কটকালে উলামায়ে কেরাম, ছাত্রসমাজ ও সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সিসাঢালা প্রাচীরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এটি সময়ের দাবি।’ 

কওমী শিক্ষার্থীদের আল্লামা শফী বলেন, ‘সনদের স্বীকৃতির মাধ্যমে তোমাদের সামাজিক অবস্থান সুদৃঢ় ও উজ্জ্বল হয়েছে। তোমাদের দ্বীনি খেদমতের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজেদের মেধা ও প্রতিভা কাজে লাগিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’ 

আল্লামা আহমদ শফীর ৪ দাবি

অনুষ্ঠানে আল্লামা শফী চারটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো— মহান আল্লাহ, মহানবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের বিরুদ্ধে অবমাননা বন্ধ। খতমে নবুওয়তের আকিদা বিশ্বাস পরিপন্থী অপতৎপরতারোধ। দাওয়াত ও তাবলিগের মহান কাজ ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধায়নে সঠিক পন্থায় পরিচালনার ব্যবস্থা করবেন ও ওলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে দায়ের সকল হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার। 

দাবিগুলোর প্রতি তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন। 

গত ১১ এপ্রিল দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান মর্যাদার ঘোষণা দেয় সরকার। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। তারই সূত্র ধরে ১৯ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত আইন সংসদে পাস হয়। 

এ স্বীকৃতির জন্য শোকরানা মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

মাওলানা মাহফুজুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, আওয়ামী লীগের ধর্মসম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ, মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ, মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ। 

যা করলে মাথাব্যথা কমে

মাথাব্যথায় নাজেহাল হননি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অল্প-বিস্তর মাথাব্যথা নিয়ে দুশ্চিন্তা না থাকলেও ঘন ঘন মাথাব্যথা বা দীর্ঘ সময় ধরে মাথাব্যথা থেকে বড় কোনো অসুখও হতে পারে। তবে মাথাব্যথা হলেই ওষুধ খেয়ে নেয়া বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াটাও সব সময় কার্যকরী নয়। তাই ঘরোয়াভাবে মাথাব্যথা সারানোর উপায় জেনে নিন-

মাথাব্যথার কারণে কাজে মন দিতে না পারলে কিছু সময় বিরতি নিন। অন্তত আধঘণ্টা যদি কোনো অন্ধকার ঘরে একেবারে রিল্যাক্সড মুডে বা চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকতে পারেন, তাহলে উপকার পাবেন। এই সময়ে আপনার ঘাড়ে যেন বাড়তি প্রেশার না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

শরীর ডিহাইড্রেটেড হতে আরম্ভ করলেই কিন্তু মাথাব্যথার মাধ্যমে আপনাকে সিগন্যাল দিতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করুন। মাথাব্যথা একবার শুরু হয়ে গেলে কিন্তু খুব ঠান্ডা বা খুব গরম পানি খাবেন না, তাতে অস্বস্তি বাড়তে পারে।

মাথাব্যথা কমাতে অনেকেই কফি বা চায়ের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, সেটা উচিত নয়। এর ফলে সাময়িক আরাম হলেও পরে আবার ক্যাফেইনে অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হতে পারে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

টেনশন বা সাইনাসের ব্যথার ক্ষেত্রে মাসাজে আরাম পাবেন। এক্ষেত্রে মাসাজের বিশেষ কয়েকটি পদ্ধতি কাজে দিতে পারে। ঘাড়ের ব্যায়াম আর নির্দিষ্ট কিছু প্রাণায়ামও এই ধরনের ব্যথা কমাতে কার্যকর।

সাবান, ময়েশ্চরাইজার বা আপনার প্রিয় সুগন্ধির বোতলটিও হতে পারে আপনার মাথাব্যথার কারণ। তাই এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন। গন্ধহীন প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়।

প্যারোলে খালেদার মুক্তির আলোচনা হতে পারে

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয় যদি ঐক্যফ্রন্ট নেতারা ভেবে থাকেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলতে পারেন। এ বিষয়ে আলোচনার দ্বার খোলা রয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যে মামলায় রায় হয়েছে, খালেদা জিয়া কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। সেই মামলায় জামিন দেবে কিনা এটা উচ্চ আদালত বলতে পারবেন। এটা একটা আইনি যুদ্ধ। বিএনপি তা করতে পারেন।’

প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সে রকম যদি কিছু তারা (ঐক্যফ্রন্ট কিংবা বিএনপি) চান, তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে পারেন। তারাতো আলোচনা করছেন, আলোচনা খোলামেলা। সেখানে সব বিষয়ে আলোচনার দ্বার খোলা রয়েছে।’

কাদের দাবি করেন, ‘বিএনপি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে রাজনৈতিভাবে স্ট্যান্টবাজি করেছে। তার অসুস্থতার বিষয়ে কোনোভাবেই কর্তৃপক্ষ অবহেলা করেনি। এখনতো তার চিকিৎসার নিয়ে কোনো কথা নেই। তারা এই ইস্যুতে বেশি বেশি রাজনীতি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মামলার সঙ্গে নির্বাচনকে যুক্ত করার কোনো মানে নেই। মামলা আমরা করিনি, বেগম জিয়াকে দণ্ডও আমরা দেইনি। আমরা যেখানে দণ্ড দেইনি, সেখানে চাইলেও আমরা তাকে মুক্তি দিতে পারি না। আইনি যুদ্ধ করুক, সেখানে তারা চেষ্টা করুক। যদি কোনো অপশন ওপেন থাকে, তারা আদালতে যেতে পারেন।’

ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘খালেদা জিয়া ৩০টির মতো মামলায় জামিন পেয়েছেন। আমরা কী বাধা দিয়েছি? দেইনি। তাহলে শুধু এই মামলা নিয়ে এত প্রশ্ন কেন?’

তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলছেন ছোট পরিসরে ফের আলোচনা করা যায়। আমরাও সেটা মনে করি। তারা আজ একটি চিঠি দিয়েছে। এ বিষয়ে নেত্রীর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব। তবে আমরা কোনোভাবেই ৭ নভেম্বরের পরে যেতে চাইছি না, সেটি সম্ভবও হবে না। কারণ, বাংলাদেশেতো রাজনৈতিক দল দুইশ’র কাছাকাছি। অনেকেই বসতে চেয়ে আবেদন করেছে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাকে একটু আগে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু ফোন করে জানিয়েছেন, সংলাপ চেয়ে একটি চিঠি আমাদের অফিসে পাঠিয়েছেন। আমি অফিসে চিঠি রিসিভ করার কথা বলে দিয়েছি। বিকেলে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করব।’

তিনি বলেন, ‘সংলাপে আমরা আর বেশি সময় নিতে চাইছি না। কারণ, আমাদের হাতে সময় খুব কম। ইলেকশন এবং মনোনয়ন ফরম বিতরণের ঘোষণাসহ অনেক কাজ রয়েছে। ফরম বিতরণের পর ইন্টারভিউ ছাড়াও জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা রয়েছে।’

কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে গেল দিন (১ নভেম্বর) ঐক্যফ্রন্টের নেতারাই বেশি কথা বলেছেন। লম্বা সময় ধরে তাদের ২১ জনই কথা বলেছেন। বিপরীতে আমাদের মাত্র ৪ জন কথা বলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের কয়েকজন একাধিকবার কথা বলেছেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদতো তিন তিনবার কথা বলেছেন।’

সংলাপের মাধ্যমে দূরত্ব কমেছে কিনা— এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেখুন, আলাপ-আলোচনার একটি ভাল দিক আছে। সামনাসামনি বসে দেখাদেখিতো হলো, চোখাচোখিও হলো। এটাও তো এক সময় ছিল না। আর পরিবেশটা ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং খোলামেলা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে তাদের কেউ ইন্টারফেয়ার করতে বলেনি। কাউকে থামিয়ে দেয়া হয়নি। স্বাধীনভাবে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।’

কওমির আলেমরা সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক

কওমি মাদরাসার আলেমরা সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন।

তিনি বলেন, ৫ মে সম্পর্কে অনেক মিথ্যাচার করা হয়েছে, বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে।


রোববার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দিয়ে সংসদে আইন পাস হওয়ায় শোকরানা মাহফিলের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘সামান্য সমন্বয়ক হিসেবে এ মাহফিলকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আয়োজকদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, যারা কষ্ট করে এখানে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই। ১৪ হাজার ৩৮ মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ১৩ লাখ ৪২২। এখান থেকে পাস করে লাখ লাখ আলেম দ্বীনের খেদমত করছেন।’

‘তবে দুর্ভাগ্যজনক, দুঃখজনক ১৯৭৭ সালে অন্যায়ভাবে এ কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি বাতিল করা হয়। ফলে আলেম-ওলামারা নানা সমস্যায় পড়েন। সনদের স্বীকৃতি না থাকায় চাকরিসহ নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা, এটা কওমি শিক্ষার প্রতি দ্বীনি এলেমের অবমাননার শামিল।’

প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আলেম-ওলামাদের প্রতি সব সময় শ্রদ্ধাশীল ও আন্তরিক। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, একটা প্লাটফর্মে আসতে হবে। তারা আল্লামা শফীর নেতৃত্বে একত্রিত হয়েছেন। একটা অভিন্ন প্লাটফর্মে সমবেত হয়েছেন। দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী এটার স্বীকৃতি দেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় এটা প্রজ্ঞাপন জারি করেন। প্রধানমন্ত্রী শুধু প্রজ্ঞাপন জারি করেই থেমে থাকেননি এটাকে স্থায়ী রূপ দিতে মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন এবং জাতীয় সংসদে আইন হিসেবে পাস করেন। কওমি মাদরাসার স্বকীয়তা ও স্বাধীনতা বজায় রেখে এ আইন পাস করা হয়। এ সনদের স্বীকৃতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া অভূতপূর্ব, অকল্পনীয়।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘৫ মে সম্পর্কে অনেক মিথ্যাচার করা হয়েছে, বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, এখনো হচ্ছে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল আলেম-ওলামা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই নির্দেশনা মাথায় রেখে ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। কেউ আজ পর্যন্ত হতাহতের সঠিক তালিক দিতে পারেনি। যাদের নাম বলা হয়েছিল আমরা তদন্ত করে দেখেছি তারা বেঁচে আছেন। সব অপপ্রচার ভুল ও মিথ্যা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। আপনারা এ মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত হবেন না। যারা এ মিথ্যাচার ছড়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া উচিত। যে সব মামলা হয়েছে তাতে নির্দোষ আলেম-ওলামারা যাতে হয়রানির শিকার না হয় এ জন্য কঠোর নির্দেশ দেয়া আছে। আপনারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখুন, তিনি বেঁচে থাকতে কোনো আলেম-ওলামার সামান্যতম ক্ষতি হবে না।’

এর আগে বেলা পৌনে ১১টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুকরানা মাহফিলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তাকে অভিবাদন জানান কওমি মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। পরে প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর পাশে মঞ্চে বসেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান।

সকাল ৯টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে মাহফিল শুরু হয়।

সমঝোতা হলে খালেদার মুক্তিতে রাজি সরকার!

বহু প্রত্যাশিত ও বহুল আলোচিত সংলাপের মধ্যে দেশের সচেতন নাগরিকসমাজ আশার আলো দেখলেও সরকার ও বিরোধী পক্ষের সম্পর্কে এ মুহূর্তে ‘জট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে মূলত খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ইস্যু। এ বিষয়টি যে উভয় পক্ষের কাছেই এখন দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার, তা দুই পক্ষের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে জট থেকে বেরিয়ে আলোতে আসার একটি ফর্মুলার কথা সরকারপক্ষ ভেবে রেখেছে বলে জানা গেছে। আর সেটি হলো দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হবে। বিএনপি এই নিশ্চয়তা দিলে সরকার খালেদা জিয়ার কারামুক্তির ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে ক্ষমতাসীনরা।

বিএনপি চাইলে দ্বিতীয় দফা সংলাপে বিষয়টি পরিষ্কার করবে সরকার। এ ব্যাপারে দুটি পথ বাতলে দেবে সরকার। একটি হলো বিদ্যমান ব্যবস্থায় খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে এভাবে তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামিনের আবেদন করলে সরকারপক্ষ তাঁর বিরোধিতা করবে না। আর দ্বিতীয়টি হলো প্যারলে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দ্বিমত নেই। নির্বাচনের আগেই সম্পূর্ণ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় এই মুক্তি সম্পন্ন করা যেতে পারে। এই প্রাপ্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে বিএনপি রাজনৈতিক সমঝোতায় এলে তাদের স্বাগত জানাবে সরকার। বিনিময়ে বিএনপির কাছ থেকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা চাইবে সরকার। আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন নিজেও বলেছেন এবং কামাল হোসেনের সঙ্গে তাঁরাও কথা বলে জেনেছেন, সংলাপের ব্যাপারে তিনি সন্তুষ্ট। সংলাপে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য একটি স্থায়ী সাংবিধানিক ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ প্রস্তাবে ড. কামাল হোসেনসহ তাঁর সমমনাদের সায় দিতে দেখা গেছে। বিএনপির মধ্যে সবাই না হলেও কেউ কেউ বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁরা আর সরকারের সঙ্গে লড়াই করতে চান না।

বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সরকারের দ্বিতীয় দফা সংলাপে রাজি। সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে অনানুষ্ঠানিক কথাও হয়েছে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের। বিএনপির একটি পক্ষ চায় দ্বিতীয় দফায় সংলাপ হোক। তাদের মূল দাবি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টির সুরাহা হলে অন্যান্য বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব বলে তারা মনে করে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সরকারের হাইকমান্ড বিএনপির কাছ থেকে নিশ্চয়তা পেলে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবির অন্যগুলোর আংশিক কিছু বিষয়েও ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি সংলাপে এসেছিল। আমরা বলেছি, এটা আদালতের বিষয়। আদালত চাইলে মুক্তি দিতে পারে। আমরা বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করি না।’ তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পুনরায় সংলাপে বসতে ইচ্ছুক। আবার সংলাপ হলে বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা হতেই পারে।

রাজনৈতিক সমঝোতা হলে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি সম্ভব কি না জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক কালের কণ্ঠকে বলেন, আপিল বিভাগে খালেদা জিয়াকে জামিন চাইতে হবে। তিনি বলেন, ইতিহাসে নজির আছে, যে দলের প্রধান কারারুদ্ধ ছিলেন সেই দল ভোটের ময়দানে সুবিধা পেয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল গতকাল শনিবার একটি গণমাধ্যমকে বলেন, যদি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়, তাহলে জুডিশিয়ারিকে এই রাজনৈতিক সমঝোতার অন্তরায় হতে কখনো দেখিনি। অবশ্যই খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পেতে পারেন। তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য প্যারলে মুক্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর খুবই গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে উন্নয়নের রাজনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ায় সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে তিনি ‘মানবতার মা’ বা ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন গোটা বিশ্বে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য পেয়েছেন একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার। তবে এত কিছুর পরেও দেশে বিরোধীদের দমন এবং বিএনপিবিহীন নির্বাচন নিয়ে কিছু সমালোচনা আগে থেকেই রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। এর মধ্যে আবার নতুন করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে যে দেশের প্রধানমন্ত্রী এত ভালো কাজ করছেন, সেই দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা কেন? ঠিক যেমন করে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন মিয়ানমারে অং সান সু চি, যিনি শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন, অথচ তাঁর দেশেই কেন রোহিঙ্গা নিধনের মতো অশান্তির আগুন? এমন প্রশ্ন যেন নিজের বেলায় না ওঠে, সে কারণেই মূলত শেখ হাসিনা চান বিএনপির সঙ্গে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সমালোচকদের মুখ বন্ধ রাখতে।

রাজনৈতিক সমঝোতা হলে খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভরশীল। তবে আমরা সংলাপ করব, ব্যর্থ হব, তারপর আবার সংলাপ করব। আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গতকাল শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে চিঠি দিয়ে সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। সিইসিকে দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘৮ নভেম্বরের পরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের বিষয়টি আবারও বিবেচনায় রয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবারও সংলাপে বসার ব্যাপারে ইচ্ছুক।’ এ অবস্থায় আজ রবিবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ওই চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়। সূত্র: কালের কন্ঠ।