রবিবার, জুন ৩০, ২০১৯

ঘাটাইলে আয়কর আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ

ঘাটাইল, ভুয়াপুর ও কালিহাতী নিয়ে গঠিত গাজীপুর সার্কেল ২২-এর উপ-কর কমিশনার অফিস ঘাটাইল। এ তিন উপজেলার প্রায় দুই হাজার ৯৫১ জন শিক্ষক রয়েছেন আয়করের আওতায়। সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে এসব শিক্ষকের কাছ থেকে আয়কর দাখিল ও রিটার্নের নামে রসিদ ছাড়াই হাতিয়ে নিচ্ছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এ নিয়ে শিক্ষক সমাজে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। 

আয়কর জমা দেওয়ার জন্য তিন উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন এ অফিসে। জানা যায়, বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন স্কেল অনুসারে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে- সরকার থেকে এমন পরিপত্র জারি করে প্রায় দুই বছর আগে। দুই বছর আগে এ পরিপত্র জারি হলেও মূলত ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর (টিন নম্বর) খুলে চলতি বছরের আয়কর নিচ্ছে অফিস। বিশেষ বিবেচনায় আগের দুই বছরের আয়কর শিক্ষকদের জন্য মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ঘাটাইলের সহকারী কর কমিশনার মো. শওকত আলী।

শিক্ষকদের অভিযোগ, জমা দেওয়া পুরো টাকার রসিদ অফিস দিচ্ছে না। যাদের বেতন স্কেল ২২ হাজার টাকা, তাদের কাছ থেকে আয়কর ও দাখিল বাবদ নেওয়া হচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। যাদের ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেলে শুধু আয়কর দাখিল বাবদ নেওয়া হচ্ছে এক হাজার ৫০০ টাকা। ২২ হাজার বা তার ঊর্ধ্বে বেতন স্কেলে কিছু টাকার রসিদ দিলেও ১৬ হাজার টাকা স্কেলের কোনো রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। উপজেলার মমরেজ গলগন্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ বলেন, আমার কাছ থেকে চার হাজার ৮০০ টাকা জমা নিয়ে রসিদ দিয়েছে তিন হাজার ১৮০ টাকার। 

আবু হানিফের মতো সমপরিমাণ টাকা জমা দিয়ে একই ধরনের রসিদ পেয়েছেন ঘাটাইল এসই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জান এবং সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। বাবুল নামে এক শিক্ষক জানান, ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেলে আমার কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছে, এক টাকারও রসিদ দেয়নি। মামুন নামে এক শিক্ষক বলেন, আমরা শিক্ষক, মানুষ গড়ার কারিগর। আমাদের কাছ থেকেও আয়কর অফিস ঘুষ নেয়। 

রসিদ ছাড়া প্রতি শিক্ষকের কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ করে টাকা নিলেও শিক্ষক সংখ্যা অনুসারে এর অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। তিন উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রায় দুই হাজার ৯৫১ জন শিক্ষক রয়েছেন আয়করের আওতায়। এ মধ্যে ঘাটাইলে এক হাজার, ভুয়াপুর ৯৫৩ ও কালিহাতীতে ৯৯৮ জন। 

রসিদ ছাড়া টাকা আদায়ে সরকারের কোনো বিধিবিধান আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ঘাটাইলের সহকারী কর কমিশনার মো. শওকত আলী। উল্টো ওপরের মহল থেকে ফোন করিয়ে প্রতিবেদকে নিউজ করা থেকে বিরত থাকতে বলেন।

বৃহস্পতিবার, জুন ২৭, ২০১৯

ঘাটাইলে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

আজ ২৭ জুন বৃহস্পতিবার সকালে ঘাটাইল উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির এক সভা উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

সভায় প্রধান অতিথী ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু। এতে মাদক, বাল্য বিবাহ, যানজটসহ আইন শৃঙ্খলার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজু, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও সংগ্রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদ সরকার, ঘাটাইল ইউপি চেয়ারম্যান হায়দার আলী, জামুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শামীম খান, দিগড় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাম মামুন, দিঘলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক অধীর চন্দ্র সাহা, অধ্যাপক মতিয়ুর রহমান, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমূখ।

প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, মিললো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশ্যে সড়কে রিফাত শরীফ (২৩) নামে এক যুবককে তার স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ধীরে ধীরে তা ভাইরাল হওয়ার পর নিন্দার ঝড় উঠেছে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিফাত শরীফ ও আয়েশা কলেজ থেকে বের হওয়ার সময়ই চার-পাঁচ জন তাদের ঘিরে ফেলে। তাদের মধ্যে দুজন রিফাতকে রামদা হাতে একের পর এক আঘাত করে চলেছেন। স্ত্রী আয়েশা হামলাকারীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও পারছিলেন না। রিফাতকে বাঁচানোর জন্য তার স্ত্রী চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি। হামলাকারী যুবকরা রিফাতকে রক্তাক্ত করে সবার সামনে দিয়েই চলে যায়।

পরে আহত অবস্থায় প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে রিফাতকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসক। সেখানে ভর্তির এক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়। স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় মূলত খুন হয়েছেন স্বামী রিফাত শরীফ।

নিহত রিফাতের পরিবার জানায়, স্ত্রীর সামনে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রিফাতের সঙ্গে দুই মাস আগে পুলিশ লাইন্স সড়কের আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি নামের এক মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নয়ন নামে এক যুবক মিন্নিকে তার প্রেমিকা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিতে থাকে। সেই সঙ্গে রিফাতের স্ত্রীর সঙ্গে নয়নের পরকীয়া সম্পর্ক আছে বলেও দাবি করে নয়ন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার নয়নকে নিষেধ করে রিফাত। এরপরও শোনেনি নয়ন। এক পর্যায়ে প্রতিবাদ করে রিফাত। সেই জেরেই তাকে খুন করা হয়।

রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বলেন, নয়ন প্রতিনিয়ত আমার পুত্রবধূকে উত্ত্যক্ত করত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিত। এর প্রতিবাদ করায় আমার ছেলেকে নয়ন তার দলবল নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমার একমাত্র ছেলেকে যারা দিনে-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই।



নিহত রিফাতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মঞ্জুরুল আলম জন বলেন, পরকীয়ার জেরে একবার রিফাত শরীফকে মিথ্যা অভিযোগে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়েছিল নয়ন বন্ড। এ সুযোগে নয়ন বন্ড রিফাতের স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করে। যা আমিসহ আমাদের আরও কয়েক বন্ধু দেখেছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার রিফাতের সাথে নয়নের দ্বন্দ্ব হয়েছে, এরপরও থামেনি নয়নের পরকীয়া। অবশেষে আজ পরকীয়ার কারণে রিফাতকে লাশ হতে হলো।

মঞ্জুরুল আলম জন আরও বলেন, বুধবার সকালে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়নসহ কয়েকজন রিফাতের ওপর হামলা চালায়।

তখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাতকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে নয়ন ও তার সহযোগীরা। রিফাতের স্ত্রী মিন্নি দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বলেন, বরগুনা পৌরসভার ধানসিঁড়ি সড়কের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে নয়ন বন্ড ও তার প্রতিবেশী দুলাল ফরাজীর দুই ছেলে রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী এবং রাব্বি আকন আমার স্বামীর ওপর হামলা চালায়। আমার সামনে ওই সন্ত্রাসীরা রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে। আমি শত চেষ্টা করেও আমার স্বামীকে বাঁচাতে পারিনি।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবীর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার করবে পুলিশ।

বুধবার, জুন ২৬, ২০১৯

ঘাটাইলে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী র‌্যালী ও আলোচনা সভা

”সুস্বাস্থ্যেই সুবিচার, মাদক মুক্তির অঙ্গিকার”- এই প্রতিপাদ্যে সারা দেশের মতো টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আর্ন্তজাতিক দিবস উপলক্ষে র‌্যালী, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

আজ বুধবার দুপুরের উপজেলা পরিষদের হল রুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম লেবু। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল পৌর মেয়র শহীদুজ্জামান খান,উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাসুদুর রহমান আজাদ, ঘাটাইল থানা অফিসার্স ইনচার্জ (তদন্ত) এনামুল কবির চৌধুরী,সহ এসময় বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‌্যালী বের শহর প্রদক্ষিণ শেষে একই জায়গায় এসে শেষ হয়।

মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০১৯

ঘাটাইলে যানজট নিরসনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল কলেজ মোড় চত্বরের যানজট নিরসন কল্পে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল সোমবার (২৪ জুন) বিকালে এ অভিযান পরিচলনা করেন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

কলেজ মোড় চত্বর ও কলেজ রোডে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে চা স্টলসহ বিভিন্ন দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে আসছিল দখলদাররা। এ কারনে কলেজ মোড় চত্বরে সব সময় যানজট লেগে থাকত। যানজট দুর করতেই এ উদ্যোগ গ্রহন করে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় প্রায় পনেরটি দোকান উচ্ছেদ করা হয়।

উচ্ছেদ অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম লেবু, ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার শাহজাহান, শামীম খান, হেকমত সিকদার প্রমুখ।

এ সময় সাংবাদিক ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘাটাইলে পুঠিয়ার রানী হেমন্ত কুমারীর পুকুর দখল করে লাল নিশান

ব্রিটিশ শাসনামলে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কুলিয়া গ্রামে প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর বিশাল আকারের একটি পুকুর খনন করেন পুঠিয়ার রানী হেমন্ত কুমারী। স্থানীয়দের কাছে পুকুরটি আন্দাদীঘি নামেও পরিচিত। উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, খাস জলাশয় হিসেবে এটি সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত ১৯৬২ সালে এবং হালনাগাদও হয়েছে সরকারের নামে। কিন্তু পুকুরটির মালিকানা নিয়ে জটিলতা বহু পুরনো। বিরাহিমপুর গ্রামের মান্নান মিয়ার মৃত্যুর পর তার ছেলে মাহফুজ আরিফ ও ফুয়াদ আরিফ গং দীর্ঘদিন ধরে পুকুরের মালিকানা দাবি করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি দখলে যেতে সালাম, আনছার আলী, সোহরাব হোসেনকে দিয়ে পুকুরে লাল নিশান টানিয়ে দিয়েছেন। মালিকানা নিয়ে সরকারের পক্ষে এলাকাবাসী ও অপর পক্ষের সঙ্গে প্রায় ৪৭ বছর ধরে চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা-মামলা। ফলে তিন বছর ধরে বন্ধ আছে সরকারিভাবে প্রদান করা লিজের কার্যক্রম।

জানা যায়, সুপেয় পানির অভাব থাকায় প্রজাদের সুখের কথা ভেবে পুঠিয়ার রানী হেমন্ত কুমারী পুকুরটি খনন করেন। জনকল্যাণকর কাজের জন্য তিনি মহারানী খেতাব পেয়েছিলেন। সেই থেকে ওই এলাকার মানুষ পুকুরটি সুবিধা ভোগ করে আসছিল। কিন্তু ১৯৭২ সালে পুকুরের মালিকানা দাবি করে বসেন আব্দুল মান্নান মিয়া। দখলে যেতে চাইলে এ নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের সংর্ঘষ হয়। পরে পুকুরটি উদ্ধারে সরকারের পক্ষে মামলা করে এলাকাবাসী। মামলার বিবরণে জানা যায়, পাকিস্তান শাসনামলে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোনায়েম খাঁর কাছ থেকে মান্নান মিয়া ভূমি বন্দোবস্ত করেন। পুকুরটি সেই সময় কৃষি জমি দেখিয়ে তারা এ কাজ করেন। বন্দোবস্ত গ্রহণ করলেও কোনো দিন ভোগদখলে যেতে পারেনি। দীর্ঘদিন মামলা চলার পর বন্দোবস্ত বাতিল করে প্রথমে নিম্ন আদালত ও পরে ২০০০ সালে হাইকোর্ট এলাকাবাসীর পক্ষে রায় দেন। ২০০০ সাল থেকে পুকুরটি সরকারি জলাশয় হিসেবে জেলে সমিতির মাধ্যমে লিজ দেওয়া হয়। পরে বিবাদী রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। প্রায় ১৬ বছর পর ২০১৬ সালে আদালত আবার বিবাদীর পক্ষে রায় দেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার বাদী হয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে, যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ওই সময়ই জেলা প্রশাসক পুকুরে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধজ্ঞা জারি করে দুই পাশে তিনটি সাইনবোর্ড দেন। কিন্তু কিছুদিন পরই সেই সাইনবোর্ড রাতের আঁধারে পুকুরপাড় থেকে উধাও হয়ে যায়। এ নিয়ে থানায় জিডি করেন ঘাটাইল ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা। এলাকাবাসী জানায়, পুকুর উদ্ধারে আমরা শুরু থেকেই একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। প্রায় তিন বছর ধরে লিজের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আবার দখলদাররা তাদের দখলে নিয়ে যেতে লাল নিশান টানিয়ে দিয়েছে। এলাকায় এ নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় দু'পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষ বাধতে পারে।

পুকুরের দাবিদার মাহফুজ আরিফ বলেন, হাইকোর্ট থেকে রায় এনে আমরা পুকুর দখল নিয়ে লাল নিশান দিয়েছি। 

সরকারি রেকর্ডভুক্ত পুকুর দখলে যেতে লাল নিশান টানানোর বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোছা. নুরনাহার বেগম বলেন, পুকুরটি খাস হিসেবে সব রেকর্ড সরকারের নামে। যদি কেউ দখল করে নিশান দিয়ে থাকে তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। অতিদ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালিকানা নিয়ে সরকারের মামলা চলছে, আমরা সরকারের পক্ষে লড়ছি।

সোমবার, জুন ২৪, ২০১৯

ঘাটাইলে শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে গিফট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল: শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গিফট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (২৪ জুন) দুপুরে আর্ন্তজাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির আয়োজনে গিফট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।

গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথী ছিলেন দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম খান, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোছা. রুবি খান, ইউপি সদস্য হাজী চাঁন মিয়া, গুডনেইবারস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. হোসনে আরা পারভীনসহ সকল শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীএবং অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ১১৫২ জন শিশুদের মাঝে ৫টি কলম, ৫টি খাতা, ১ লিটার সয়াবিন তৈল,৩০০ গ্রাম গুরো দুধ, ১ পেকেট বিস্কুট বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঘাটাইল সিডিপির প্রোগ্রাম অফিসার বিপ্লব কুমার ।

ঘাটাইলে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী গণধর্ষণ!

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক মাদরাসা ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এঘটনায় অভিযুক্ত দুই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হল, উপজেলার দশআনি বকশিয়া গ্রামের সোহরাব আলী তালুকদারের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৫) ও মৃত আমীর আলীর ছেলে হামিদ এলাইস আলফিন। গত শুক্রবার (২১ জুন) উপজেলার দশআনি বকশিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

এঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে আজ সোমবার (২৪ জুন) সকালে ওই দুইজনকে আসামী করে ঘাটাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ ধর্ষক আলমগীর ও হামিদকে গ্রেপ্তার করে সোমবার টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরণ করেছে।

পুলিশ ও মেয়েটির মা জানায়, উপজেলার লোকের পাড়া ইউনিয়নের দশআনী বকশিয়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে স্থানীয় একটি মাদরাসায় সপ্তম শ্রেণীতে পড়াশুনা করছে। গত শুক্রবার ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে তার বন্ধুর সাথে দেখা করতে বের হয়। এসময় ধর্ষক আলমগীর ও হামিদ তাকে বন্ধুর সাথে দেখা করার জন্য সহযোগিতা করবে বলে জানায়। পরে ওই ছাত্রীকে কৌশলে নিয়ে গিয়ে দুইজন মিলে গণধর্ষণ করে রাস্তায় ফেলে চলে যায়।

পরে ছাত্রীটি বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। পরে তার মা বাদী হয়ে আজ সোমবার সকালে দুইজনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, গণধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রীটির মা বাদী হয়ে সোমবার সকালে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ওই দুই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল কোর্টে প্রেরন করা হয়। পরে আদালত তাদের প্রত্যেককে সাতদিন করে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। এছাড়া ওই ধর্ষিত মেয়েটাকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রবিবার, জুন ২৩, ২০১৯

ঘাটাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আ.লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত

রোববার (২৩  জুন) সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সারা দেশের ন্যায় বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈকিত দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কী জাকজমকপুর্নভাবে উদযাপিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে দলীয় পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য লাঠি খেলা, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা চত্বর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ছাত্রলীগ, যুবলীগ সহ দলের অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীদের সমন্বয়ে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত, উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু এর সভাপতিত্বে উপজেলা চত্বরে আলাচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান।

এতে উপস্থিত ছিলেন, পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান খান, জেলা পরিষদের সদস্য এ্যাডঃ
শাহেনশাহ সিদ্দিকী (মিন্টু), উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামু, জিবিজি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম মনি, জামুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খান হেষ্টিংস, আওয়ালীগ নেতা মোতালিব হোসেন, আনেহলা ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক মাসুদুর রহমান আজাদ প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষ

ঘাটাইলে ছাত্রকল্যাণ পরিষদের আহবায়ক কমিটি গঠন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা শাখার ছাত্র কল্যাণ পরিষদের আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ জুন) সকাল ১০টার দিকে টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড মোড় সংলগ্নে ও জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের অফিসে এই কমিটি হয়।

এসময় মো: আবু সাইদ রুবেল আহবায়ক এবং রবিউল ইসলাম তমাল, মোঃ রঞ্জু আহমেদ, আবিদ হাসান সহ নয়জনকে যুগ্ম আহবায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। আগামী তিন মাসের জন্য ১০৫ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি মনির শিকদার, সহ-সভাপতি মো: জাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো: সোহেল রানা, সহ-সম্পাদক কাওসার ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক অমিত আনোয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোয়াব হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন, বৈশিষ্ট্য সমাজসেবক জামিল হাসান, সরকারি সা’দত কলেজ করটিয়া শাখার যুগ্ম আহবায়ক মো: মামুনসহ ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সকল নেতাকর্মী।

শনিবার, জুন ২২, ২০১৯

ছয় মাসেও গ্রেফতার হয়নি মূল হোতা

ঘাটাইলে চাঞ্চল্যকর কিশোর অটোবাইক চালক শাকিল খান হত্যার মূল হোতা হারুনকে ৬ মাসেও গ্রেফতার করতে পারেনি ঘাটাইল থানা পুলিশ। সে উপজেলার পাড়াকুশারিয়া গ্রামের করিম মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, কিশোর শাকিল অটোবাইক নিয়ে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর নিজ বাড়ি কামার চালা থেকে বের হয়।

ঘটনার এক মাস পর সন্দিগ্ধ আসামি গৌরিস্বর গ্রামের দৌলত আলীর ছেলে শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে তার কাছ থেকে ভিকটিম শাকিলের ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করা হয়। পরে মোবাইলের সূত্র ধরে একে একে গ্রেফতার করা হয় নলমা গ্রামের মজিদের ছেলে আমির আলী, পাড়াকুশারিয়া গ্রামের আ. ছালামের ছেলে শাহআলম ও সিরাজ খানের ছেলে শফিক খান। স্থানীয় অটোবাইক ও সিএনজি চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহআলমসহ ৫ যুবক সুপরিকল্পিতভাবে অটোবাইকসহ শাকিলকে অপহরণ করে মধুপুর শালগড়ের ভেতর নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ পুঁতে রাখে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঘাটাইল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আপেল মিয়া জানান, ঘটনার মূল আসামি হারুনকে ধরার চেষ্টা চলছে।

ঘাটাইলে মালামাল লুট আসামিরা প্রকাশ্যে

জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি বাজারের জালালপুর এলাকায় প্রকাশ্যে একতা ফুড প্রোডাক্টের ৫টি গুদাম ঘর থেকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট হওয়ার ঘটনায় মামলার চার মাস পেরিয়ে গেলেও ১০ আসামির কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

আসামি ধরার নামে বাদীর কাছ থেকে নানা অজুহাতে কয়েক দফায় টাকা নিলেও কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। উল্টো ওই কর্মকর্তা বাদীকে আসামির খবর দিলে ধরে দেয়ার কথা বলে নানা টালবাহানা করছেন। ২৭ এপ্রিল নিরুপায় হয়ে মামলার বাদী একতা ফুড প্রোডাক্টের মালিক ইউসুফ আলীর ছেলে হায়দার আলী আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও মামলার অগ্রগতি চেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ঘাটাইলের সাগরদীঘি ফাঁড়ির মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফজলুল হককে মামলার অগ্রগতির নির্দেশনা দেন পুলিশ সুপার। তাতেও কিছু হয়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফজলুল হক বলেন, গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। বাদীকে আসামির খোঁজ পেলে আমাকে জানাতে বলেছি। মামলার বাদী হায়দার আলী বলেন, মামলার চার মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত একজন আসামিকেও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। উল্টো তদন্তকারী কর্মকর্তা নানা টালবাহানা করছেন। এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ওসি মাকছুদুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার, জুন ২১, ২০১৯

ঘাটাইলের প্রথম মেয়র হাসান আলীর ইন্তেকাল

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদকও যুগ্ম আহবায়ক ঘাটাইল  পৌর সভার প্রথম প্রশাসক ও মেয়র পৌরএলাকার চাঁন্দশী নিবাসী মুক্তি যোদ্ধা হাসান আলী(৮০) শুক্রবার সকাল ৮.৩০ মিনিটে ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন ।

ইন্না লিল্লাহে......ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। তিনি ফুস ফুসে সংক্রামক ব্যাধি সহ নানা অসুখে ভুগছিলেন। বাদ মাগরীব ঈদ গাহ মাঠ প্রাঙ্গনে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়

 শেষে ঘাটাইল পৌর সভায় অবস্থিত ছোট গোরস্থানে দাফন করা হয় বলে পারিবারিক সুত্রে জানা যায় । মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ৫ মেয়ে ২ ছেলে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

ঘাটাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সম্মেলন অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও মাদক প্রতিরোধ ইমাম মুয়াজ্জিম কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যদের উপজেলা পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন কোর্স এবং মাজার শরীফ ও খানকাহ্ সমুহের তত্ত্বাবধায়কদের নিয়ে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসলামী ফাউন্ডেশন ঘাটাইলের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হল রুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সভাপেিতত্বে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম লেবু।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ সুফি মজিবর রহমান, উপজেলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাও. মো.শফিকুল ইসলাম, ইসলামী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ ।


ঘাটাইলে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‌্যালীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মো. শহিদুল ইসলাম লেবু ও ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিকবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার, জুন ২০, ২০১৯

ঘাটাইলে ৫ম শ্রেণির সিয়াম বাঁচতে চায়

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাহাপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. সিয়াম (১২) গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। সিয়াম মাদ্রাসায় ৫ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করতো। সে বিগত ৫ বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। পরে তার হার্টে একটি ছিদ্র ধরা পড়েছে। সেই সাথে একটি বাল্ব অকেজো হয়েছে।

সে বর্তমানে ঢাকা ল্যাব এইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের ব্রিগেয়িার জেনারেল প্রফেসর নুরুন্নাহার ফাতেমার নিকট চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সিয়ামকে ওপেন হার্ট সার্জারী করার জন্য ভারতে রেফার করা হয়েছে। ওপেন হার্ট সার্জারী করাতে অন্তত ৪/৫ লাখ টাকা খরচ হবে বলে তার চিকিৎসক জানিয়েছেন।

সিয়ামের গরীব বাবা মার পক্ষে এত টাকা জোগার করা সম্ভব নয়। তাই সিয়াম ও তার পরিবার দেশবাসীর কাছে সাহায্যে আবেদন করেছন। আপনার সামান্য সাহায্য পেলেও বেঁচে যেতে পারে ১২ বছর বয়সী সিয়াম।

সাহায্য পাঠাবার ঠিকানাঃ মোছা. শাহিনা, সঞ্চয়ী হিসাব নং ২৭০৪৭৮৬, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, ঘাটাইল শাখা টাঙ্গাইল। বিকাশ নং: ০১৭৫৪৭২৮৩২০

ঘাটাইলে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ

প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমকে গ্রতিশীল করার জন্য শিক্ষকদের ইংরেজী বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির আয়োজনে ঘাটাইলের বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির অফিস কক্ষে এ প্রশিক্ষণ করানো হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,ঘাটাইল উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুবি খানম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষক এম এ সামাদ মিয়া, ঘাটাইল সিডিপির ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রোগ্রাম অফিসার বিপ্লব কুমার প্রমুখ।

১০ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০ জন শিক্ষক/শিক্ষিকা উক্ত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহন করেন।

আটকে গেল এমপি রানার জামিন!

যুবলীগের দু্ই নেতা হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছে চেম্বার বেঞ্চ। একইসঙ্গে এ মামলাটি ১ জুলাই শুনানির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার (১৯ জুন) আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে জামিন দেন হাইকোর্ট। এদিন জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল শুনানি শেষে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

পরে রানার আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলাতেও তিনি জামিনে আছেন। এখন আরেক মামলায় জামিন পাওয়ায় কারাগার থেকে মুক্তি পেতে তার আর কোন বাধা রইল না।

এর পরদিন রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিনের বিরোধিতা করে আপিল করেন।

আজ আমানুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট রুশো মোস্তাফা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন ২০১২ সালের ১৬ জুলাই তাদের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে টাঙ্গাইল শহরে এসে নিখোঁজ হন। পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এক বছর পর ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত করে পুলিশ ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে। ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার খন্দকার জাহিদ, শাহাদত হোসেন ও হিরণ মিয়া হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে তারা সাংসদ আমানুরের দিকনির্দেশনায় যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

আমানুর রহমান খান রানা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলারও আসামি।

রানার জামিন ঠেকাতে আপিল, আজই শুনানি

দুই যুবলীগ নেতাকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আমানুর রহমান খান রানাকে দেয়া হাইকোর্টের স্থায়ী জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ। 

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে এ আবেদন করা হয়েছে। আজই হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত সংক্রান্ত শুনানি হতে পারে চেম্বার আদালতে।

বুধবার (১৯ জুন) জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল শুনানি শেষে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রানাকে স্থায়ী জামিন দেন। 

এর আগে গত ৬ মার্চ হাইকোর্ট রানাকে ৬ মাসের জামিন দিয়ে রুল জারি করেন। 

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন ২০১২ সালের ১৬ জুলাই তাদের বাড়ি থেকে মোটর সাইকেলযোগে টাঙ্গাইল শহরে এসে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এক বছর পর ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত করে পুলিশ ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভূক্ত করে। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার খন্দকার জাহিদ গত বছর ১১ মার্চ, শাহাদত হোসেন ১৬ মার্চ এবং হিরন মিয়া ২৭ এপ্রিল আদালতে এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করেন এমপি আমানুর রহমান খান রানার দিক দির্দেশনায় যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল।

এদিকে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তৎকালীন এমপি রানা ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠান টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালত। বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন এমপি রানা।

ঘাটাইল-সাগরদীঘি ৩২ কিলোমিটার সড়কে উন্নয়ন কাজ চলছে

খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা সদর থেকে সাগরদীঘির গুপ্তবৃন্দাবন পর্যন্ত সওজের ৩২ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই বেহালদশায় পতিত হয়েছে এবং ভাঙাচোরা আর স্থানে স্থানে গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলের একেবারে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কিন্তু সড়কটি উন্নয়নের জন্য ৩-৪ মাস আগে টেন্ডার হয়ে ঠিকাদারও প্রায় সিলেকটেড হয়ে গিয়েছিল, তারা কাজ শুরু করতে বিলম্ব করায় দরপত্রটি বাতিল হয়ে রিটেন্ডার হয়েছে। এখন ঘাটাইল থেকে সাগরদীঘি পর্যন্ত দুই ভাগে দু’জন ঠিকাদার কাজ পেয়েছে, প্রথম অংশের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্বিতীয় অংশের ঠিকাদারও নিয়োগ হয়েছে দ্রুত কাজ শুরু হবে।

সাগরদীঘি এলাকাটি ঘাটাইলের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম ব্যবসায় কেন্দ্র হওয়ায় জনগুরুত্ব সম্পন্ন সড়ক এটি। তাছাড়াও সড়কটি ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ভরাডোবা পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করায় গুরত্ব আরও বেড়ে গেছে। এ সড়কে প্রতিনিয়ত শত শত যানবাহন চলাচল করে থাকে। ফলে বেহাল অবস্থার মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।

সরেজমিন দেখা যায়, ঘাটাইল উপজেলা সদর থেকে ধলাপাড়া বাজার হয়ে সাগরদীঘির গুপ্তবৃন্দাবন পর্যন্ত ৩২ কিমি. সড়কে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও থেমে নেই যান চলাচল। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন যানবাহন চলাচল করছে।

জানা যায়, ঘাটাইল সাগরদীঘি সড়কে দীর্ঘদিন যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রীদের বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাহিন্দ্রা, সিএনজি ও অটোরিকশায় চলাচল করতে হচ্ছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত পাহাড়ি এলাকার মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।  ঘাটাইলের পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলকার ৭টি ইউনিয়নের একসময়ের স্বপ্নের সড়ক এখন দুঃস্বপ্নের সড়কে পরিণত ।

সাগরদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার জানান, বর্তমানে ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়ি এলাকা পোলটি শিল্পের জোন হিসেবে পরিচিত। এখানে রয়েছে সিপি ও নারিশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির মুরগির খামার। তাছাড়া এ এলাকার উৎপাদিত কলা, আনারস, কাঁঠাল, কৃষি ফসলাদিসহ অন্যান্য উৎপাদিত পণ্য সাগরদীঘি-গুপ্তবৃন্দাবন-ভরাডোবা সড়ক ব্যবহার করেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। কিন্তু যোগাযোগের ব্যবস্থা খারাপ থাকায় সঠিক সময়ে তা সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। ফলে খামারি এবং কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায্যমূল্য থেকে।

টাঙ্গাইলের সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিমুল এহসান বলেন, প্রথমত, এটা ৩-৪ মাস আগে টেন্ডার হয়ে ঠিকাদারও প্রায় সিলেকটেড হয়ে গিয়েছিল। তারা কাজ শুরু করতে বিলম্ব করায় দরপত্রটি বাতিল হয়ে রিটেন্ডার হল।

তিনি জানান, ঘাটাইল থেকে সাগরদীঘি পর্যন্ত দুই ভাগে দু’জন ঠিকাদার কাজ পেয়েছে। ১ম অংশের কাজ শুরু হয়েছে অলরেডি। ২য় অংশের ঠিকাদারও নিয়োগ হয়েছে। তিনি এখনও মাঠে নামেনি। তবে দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

বুধবার, জুন ১৯, ২০১৯

সাবেক এমপি রানার জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।বুধবার (১৯ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ আদেশের ফলে সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার কারাগার থেকে জামিনে মুক্তিতে আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

আদলতে আজ (বুধবার) রানার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট রুশো মোস্তাফা এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

বিস্তারিত আসছে...

মঙ্গলবার, জুন ১৮, ২০১৯

ঘাটাইলে জমি নিয়ে বিরোধে দুই পরিবারে মারামারি, মামলা

রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সন্ধানপুর ইউনিয়নের কুশারিয়া গ্রামে জমি দুইপক্ষের সৃষ্ট ঘটনা একরকম। অপরদিকে আদালতে পুলিশের প্রতিবেদন অন্যরকম দেয়ায় ১৬ জুন কুশারিয়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে শামীম আহমেদ বাদী হয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস/আই আপেল মাহমুদের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপার ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বাদীর লিখিত অভিযোগ ও সরজমিনে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায় সন্ধানপুর ইউনিয়নের কুশারিয়া গ্রামের জমি নিয়ে মারামারি বাদী এবং বিবাদী তারা একই গ্রামের পাশপাশি বাড়ীর বাসিন্দা। তাদের পক্ষ মৃত-আবুল হোসেনের ছেলে শামীম ও শাহিন অত্যান্ত দরিদ্র এবং দিনমজুর। অপরপক্ষ আমজাদ কবিরাজ ও তার ছেলে হারুন অত্যান্ত দাঙ্গাবাজ, প্রভাবশালী, খামখেয়ালীপনা, জাল কাগজ সৃষ্টিকারী, চিহ্নিত জবরদখলকারী, লাঠিয়াল, পরসম্পদ লোভী, আইন অমান্যকারী, অত্যাচারী ও ফটকবাজ লোক বলে জানা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আমজাদ কবিরাজ ও তার ছেলে হারুন জাল দলিল তৈরি করে আবুল হোসেনের ২ একর ১০ শতক জমি প্রভাব খাটিয়ে হালজরিপে রেকর্ড করে নেয় এবং আরও জাল দলিল দেখাইয়া জমি দাবী করে আবুল হোসেনের পরিবারকে বিভিন্ন কায়দায় হয়রানি করতে থাকে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় হৈচৈ, মারামারি, জবরদখল, মামলা মোকদ্দমা ছাড়াও একাধিক শালিসী বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার কতিপয় ভূঁইফোড় মাতাব্বরের ইশারায় বিষয়টি অমীমাসিংত থেকে যায় বলে জানা যায়।

ঘটনা কি

সরেজমিনে গেলে কুশারিয়া গ্রামের জয়েন উদ্দিনের ছেলে নূরুল ইসলাম ও মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে মজিবর জানায় কুশারিয়া মৌজার ৩৯৯৯ দাগে মোট ১৭ একর ৭৬ শতক জমি রয়েছে। এই জমির মধ্যে মৃত আবুল হোসেনের পরিবারের নামে ৬ একর ৩৪ শতক জমি আরওআর ভূক্ত। অবশিষ্ট জমি বন বিভাগের নামে। সেই রেকর্ডভূক্ত জমি থেকে আমজাদ কবিরাজ ৩ বিঘা জমি দানপত্র সূত্রে মালিক হলেও তিনি জাল দলিল সৃষ্টি করে প্রভাব খাটিয়ে ৩ বিঘার স্থলে ৬ বিঘা ১০ শতক জমি হাল জরিপে রেকর্ড করে নেয়। আমজাদ কবিরাজ এই রেকর্ডকে পুঁজি করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকার নামকরা ভূঁইফুড মাতাব্বর জয়নাল তালুকদার কে হাত করে আবুল হোসেনের জমি ছাড়াও বন বিভাগের সহ প্রায় ২০ বিঘা জমি জোর করে দখল করে নেয় বলে জানা যায়। পরে আবুল হোসেনের ছেলে শামীম টাঙ্গাইল আদালতে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করলে আমজাদ কবিরাজ ও তার ছেলে হারুন ক্ষিপ্ত হয়ে এ মারামারির সৃষ্টি করে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে আমজাদ কবিরাজের ছেলে হারুনের কাছে বির্তকিত জমির দলিল দেখতে চাইলে তিনি দেই দিচ্ছি বলে কয়েকবার স্বীকার করলেও শেষে সাংবাদিকের দলিল লেখার এখতিয়ার নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন।

সেদিন যা ঘটেছিল

অনুসন্ধানে জানা যায় চলতি বৎসরের ৭ ফেব্রুয়ারি মৃত আবুল হোসেরে ছেলে শামীম ও শাহীন তাদের নিজস্ব লেবুর বাগানে কাজ করিতেছিল। অপরদিকে আমজাদ কবিরাজ তার দুই ছেলে হারুন ও লিয়াকত বোন জামাই আজমত ও মোন্নাফ ছাড়াও তার দুই বোন এবং দুই ভাইয়ের স্ত্রী ও তার মা সহ ১০/১২ জনের একটি দল সন্ত্রাসী কায়দায় লাঠি, শোঠা নিয়ে নিরীহ শামীম ও শাহীনের উপর অর্তকিত হামলা করে। কোনকিছু বুঝে উঠার আগেই তাদের মাথা ফাটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় হৈচৈ পড়ে যায় এবং ঐ রাতেই থানায় মামলা হয়। এ বিষয়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ির আমান আলীর স্ত্রী রিতা জানায় আমজাদ কবিরাজ ও তার পরিবারের সদস্যরা অবস্থা বেগতি দেখে মারামারি ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেরাই নিজেদের ঘরের দুইটি জানালা ভাংচুর করে এবং চেয়ারম্যানের সহায়তায় এ্যাম্বুলেন্স ডেকে এনে সুস্থ মানুষ ঘাটাইল হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে টাকার জোড়ে মিথ্যা সাক্ষী এবং মিথ্যা আসামী দিয়ে থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ঐ গ্রামের একাধিক যুবক জানায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস/আই আপেল মাহমুদ আইনের লোক হয়ে আদালতে সঠিক প্রতিবেদন দেওয়া কথা থাকলেও তিনি তা না করে বিবাদী আমজাদ কবিরাজের কাছ থেকে মোটা টাকা উৎকোচ গ্রহন করে বাদী পক্ষকে আসামী বানিয়ে ২৪মে আদালতে মিথ্যা মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করে।

কুশারিয়া গ্রামের ইমান শেখেন ছেলে মানিক (৪০) জানায় ঘটনাস্থলে আমি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলাম। পাড়ার সকল লোকের উপস্থিতিতে পুলিশের কাছে মারামারির সকল কিছু খুলে বলেছি। কিন্তু পুলিশ আমাকে সাক্ষীর কলামে নাম না দিয়ে ঘটনাস্থলে যাদের কখনো দেখি নাই তাদেরকে সাক্ষী মানা হয়েছে এবং আমার মতো অনেকেই উপস্থিত ছিল তাদেরকে সাক্ষী না মেনে ঘটনাস্থল থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে মন্টুর বাড়ি এবং মারামারির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না অথচ তাকেও সাক্ষী মানা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক এস/আই আপেল মাহমুদের কাছে জানতে চাইতে তিনি ঘাটাইলডটকমকে বলেন উভয়পক্ষের ডাক্তারী রিপোর্ট দেখে আমি প্রতিবেদন দিয়েছি।

একই গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে আঃ লতিফ (৫০) জানায়, গ্রামে চেয়ারম্যান থাকতেও আমজাদ কবিরাজ ও তার পরিবারের সদস্যরা এতটাই বেপেরোয়া হয়েছে যে, আইনগতভাবে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করায় হারুন নিরীহ শামীম ও শাহিনের নামে ৬টি মাসে ৫টি মামলা দায়ের করেছে যা অমানবিক এবং দুঃখজনক।

আমজাদ আলীর জাল দলিল সৃষ্টির বিষয়ে একই গ্রামের ইন্তাজ আলীর ছেলে আবুল হোসেন (৭৫) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন শুনেছি আমজাদ আলীর কয়টি টাকা হওয়ায় জাল কাগজ দিয়ে মানুষকে হয়রানি করছে।

গ্রামবাসীর এসব অভিযোগের বিষয়ে সন্ধানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দুইপক্ষকেই মীমাংসা হতে বলি কিন্তু কেউ আমার কথা নেয় না।

ঘাটাইলে স্কুল ছাত্রী নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার

টাংগাইলের ঘাটাইল উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের শান্তা নামের এক কিশোরী গত চারদিন যাবৎ নিখোঁজ রয়েছে। শান্তা উপজেলার কে নাগবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন শুক্রবার বেলা ১১টায় শান্তা আত্মীয় বাড়ি গমনের উদ্দেশ্য বাড়ি থেকে বের হয়। পরে আত্মীয় বাড়ি সহ সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ নিয়েও অদ্যাবধি পর্যন্ত তার কোন সন্ধান মেলেনি। শান্তার গায়ের রং শ্যামলা, মুখ মন্ডল লম্বাটে,লম্বা অনুমান ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, পড়নে ছিল হলুদ রঙের থ্রি পিস।

এ ব্যাপারে শান্তার বাবা শামীম গত ১৫ জুন শনিবার ঘাটাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। কেউ শান্তার সন্ধান পেলে নিকটস্থ থানা কিংবা ০১৭৮৬ ৩১৭৯৩৫, ০১৮১৮ ৩৫১৮৮৭, ০১৭৪৮ ৭০৩৩৫৩ নাম্বারে কল করার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

সোমবার, জুন ১৭, ২০১৯

বিকাশ, রকেট, নগদের ব্যালেন্স জানতে লাগবে ৪০ পয়সা!

এখন থেকে বিকাশ, রকেট, নগদসহ সব মোবাইল ব্যাংকিং সেবার ব্যালেন্স জানতে ৪০ পয়সা খরচ করতে হবে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের। রোববার (১৬ জুন) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেখা গেছে। গত বৃহস্পতিবার এই নিদের্শনা জারি করে বিটিআরসি। 

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে প্রতিবার লেনদেন, ব্যালেন্স চেক বা স্টেটমেন্ট নেওয়াসহ নানা ধরণের কাজকে একেকটি সেশন ধরা হবে। আর প্রতিটি সেশনের সময় হবে ৯০ সেকেন্ড। প্রতি ৯০ সেকেন্ডের একেকটি সেশনের জন্যে মোবাইল ফোন অপারেটরদেরকে ৮৫ পয়সা করে দিতে হবে। একেকটি সেশনের মধ্যে দুটি এসএমএসও থাকবে। তবে গ্রাহক যদি শুধু ব্যালেন্স চেক করতে চায় তবে তার জন্য তাকে সেশনের চার্জ দিতে হবে ৪০ পয়সা।

নিদের্শনায় আরো বলা হয়েছে, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবার জন্যে এমএফএস অপারেটররা মোবাইল অপারেটরদের নেওয়ার্ক ব্যবহার করে। এই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্যেই তাদেরকে পয়সা দিতে হবে এমএফএস অপারেটদের।

শেষ পর্যন্ত এই খরচ এমএফএসরা হয়তো গ্রাহকদের ওপরেই চাপাবে। এর আগে কখনো ব্যালেন্স চেক করতে এমএফএস অপারেটরদের কোনো খরচ করতে হতো না। ফলে ব্যালেন্স চেক করা ছিল ফ্রি।

এছাড়া কোনো গ্রাহক যদি অ্যাপের মাধ্যমে এমএফএস সেবা গ্রহণ করেন তাহলে তারা এই সব খরচের বাইরে থাকবেন।

তবে রবির গ্রাহকদের এ টাকা খরচ হবে না জানানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। তবে অন্যান্য অপারেটরের ক্ষেত্রে এই ৪০ পয়সা গ্রাহকদের দিতে হবে কি না, সে বিষয়ে অধিকাংশ অপারেটরের বক্তব্য জানা যায়নি।

গো নিউজ২৪/আই

২ সিনিয়রের সঙ্গে সরফরাজের ঝগড়া!

ভারত যদি পাল্টে যাওয়া ভারত হয়, পাকিস্তান তা হলে সেই পুরোনো পাকিস্তান। রোববার ম্যানস্টারে সেই দৃষ্টিপটই দেখল ক্রিকেট দুনিয়া। ভারতের দেওয়া ৩৩৬ রানের জবাবে খেলতে নেমে পাকিস্তান যেভাবে লেজ গুটিয়ে নিল তা ছিল বেশ দৃষ্টিকটু। যে কারণে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ১৫০+ গতির বাউন্সে বিদ্ধ হতে হয়েছে ক্যাপ্টেন সরফরাজকে।

ম্যাচ শেষে তার ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত এবং অধিনায়ক হিসেবে দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তো উঠছেই। সঙ্গে যথেষ্ট সুখি সংসার তিনি রাখতে পারছেন কি না, তা নিয়েও কথা তুলছেন সাংবাদিকরা। 

এ দিন ম্যাচ হারার পরে সরফরাজকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনি কি নিজের ফিটনেস এবং দক্ষতা ঠিক আছে বলে মনে করেন? সরফরাজ প্রথমে হকচকিয়ে গেলেন মনে হল। সবে বুমরাদের বাউন্সার খেলে উঠতে না উঠতেই নিজের দেশের মিডিয়ার দিক থেকে বাউন্সার। কোনক্রমে বললেন, ‘আমার কথা জিজ্ঞেস করছেন? আমার ফিটনেস ঠিকই আছে বলে আমি মনে করি।’

সকালে ম্যাচ শুরুর আগে থেকে পাক সংবাদমাধ্যমে সব চেয়ে বেশি করে চলছিল ইমরান খানের টুইট। যেখানে পাক প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের দেশের একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক বর্তমান অধিনায়ককে বলছেন, ‘টস জিতে ব্যাট নিও কিন্তু।’ কিন্তু সরফরাজ ইমরানের সেই কথা শুনলেই তো। সে আর যাই হোক, পাক মিডিয়া তাকে এটা নিয়েও প্রশ্নবাণ ছুড়ল। সরফরাজ় আপ্রাণ চেষ্টা করলেন নিজেদের সিদ্ধান্তকে আড়াল করার। ‘পিচে ভিজে ভাব ছিল। গত দু’দিন ধরে এখানে বৃষ্টি হয়েছে। কোহালিও তো টসের সময় বলল, ও ফিল্ডিংই করত। ম্যাচ হয়ে যাওয়ার পরে ফলাফল দেখে এ সব বলা যায়।’

আর একজন জানতে চাইলেন, আপনার দল নির্বাচন ঠিক ছিল বলে মনে করেন? সরফরাজের জবাব, ‘যেটা সেরা কম্বিনেশন মনে হয়েছিল, সেটাই আমরা খেলিয়েছি। হয়তো আজ কাজ করল না।’ তাতেও রেহাই নেই। এ বার আরও সরাসরি প্রশ্ন গেল, আপনাদের ড্রেসিংরুমে না কি প্রচুর গোলমাল চলছে। দুই সিনিয়র ক্রিকেটার শোয়েব মালিক এবং মোহাম্মদ হাফিজের সঙ্গে আপনার বনিবনা হচ্ছে না। ওদের দিয়ে আপনি বলই করাচ্ছেন না। কী বলবেন? সরফরাজকে দেখে মনে হল আবার বাউন্সার উড়ে আসার মুখে ডাক করার চেষ্টা করছেন। বললেন, ‘এ সব আপনাদের কাহিনি। আমাদের ড্রেসিংরুমে সব ঠিকই আছে। হাফিজ আর মালিককে দিয়ে বেশি বল করানো হয়নি কারণ আমরা পাঁচ বিশেষজ্ঞ বোলারে খেলছিলাম। ভারতের দু’জন সেট ব্যাটসম্যান খেলছিল। তাই পার্টটাইম বোলিংয়ের দিকে যাইনি।’

রবিবার, জুন ১৬, ২০১৯

মধুপুরে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে আনারস

টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারস অধিক লাভের আশায় পরিপক্ক হওয়ার আগেই কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আনারস পরিপক্ক না হলেও কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে খুব সহজেই তা হলুদ বর্ণ ধারণ করছে। দেখতে ঠিক পাকার মতো মনে হলেও বাস্তবিক অর্থে আনারসগুলো আরও তিন থেকে চার মাস পর পরিপক্ব হবে। এসব আনারস কেমিক্যাল দিয়ে পাকানোর ফলে আনারসের আসল স্বাদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং এগুলো খেলে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

জানা যায়, জেলার মধুপুর ও ঘাটাইলের আশপাশের বাজারগুলোতে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে এসব বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত আনারস।
সরেজমিনে মধুপুরের মোটের বাজার এলাকার আনারস চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব কাঁচা আনারস পাকানোর জন্যে প্রতি ১৬ লিটার পানিতে ৪টা রাইপেন-১৫, লবণ ও পটাশ সারের মিশ্রণ ব্যবহার করে কয়েক দিন খেতের ভিতর রেখে দেওয়া হয়। বিস্বাদ হওয়ার কারণে কেউ এগুলো চুরি পর্যন্ত করে না।


আরো জানা যায়, কেমিক্যাল একবার দেওয়ার পর না পাকলে পুনরায় আবার দেওয়া হয়। দুই দফায় আনারসে কেমিক্যাল দেওয়ার ফলে অপরিপক্ক আনারসও হলুদ রং ধারণ করে। চাষি ও কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা বলেন, আনারস পাকানোর জন্য রাইপেন-১৫-এর পাশাপাশি হারবেস্ট, প্রমোট, সারাগোল্ড, ইটিপ্যাস, এলপেনসহ লবণ ও পটাশ সারের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আউশনারা এলাকার এক কেমিক্যাল ব্যবসায়ী বলেন, আমরাও জানি কেমিক্যাল ব্যবহার করা ঠিক না। কিন্তু চাষিদের চাহিদা বেশি থাকায় আমাদের বিক্রি করতেই হয়। আমরা বিক্রি না করলে কি হবে কেউ না কেউ বিক্রি করেই। একই এলাকার আনারস চাষি সাহাদত হোসেন বলেন, মেডিসিন ছাড়া আনারস বাজারে তোলার পর তা বিক্রি হয় না।

আমরা চাষিরা ব্যবহার না করেই বা কি করব? আমরা তো অসহায়! কেমিক্যাল ছাড়া আনারস কেনে না কেউ, কেমিক্যাল ছাড়া আনারস দেখতে ভালো লাগে না, একটু চাপ লাগলেই গলে যায়। আর মেডিসিন দেওয়া আনারস দেখতে হলুদ-পাকার মতো, বাজারে এর চাহিদাও বেশি। তাই আমরা ওটাই কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠাই।

এলাকাবাসীর দাবি, যে হারে কাঁচা আনারস ক্ষতিকর কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে মধুপুরের আনারসের যে সুনাম তা খুব অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে। তাই এখনই এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

বিশ্বের যে পাঁচটি মসজিদ দেখলে চোখ জুড়োয়ে যায়

পৃথিবীতে ইসলামিক স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন মুসলমানদের ইবাদতের পবিত্র জায়গা মসজিদ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই রয়েছে নয়নাভিরাম অনেক মসজিদ। সেগুলো থেকে ৫টি মসজিদের সংখিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো-

বাদশাহি মসজিদ, পাকিস্তান

মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এই মসজিদ নির্মাণ করেন। ১৬৭১-১৬৭৩ সালের মধ্যে পাকিস্তানের লাহোরে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। ওই সময় এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদ। সামনের সুবিশাল চত্বরসহ মসজিদের আয়তন প্রায় দুই লাখ ৭৬ হাজার স্কয়ার ফুট। ১৯৬ ফুট উচ্চতার দৃষ্টিনন্দন আটটি মিনার ও তিনটি গম্বুজ মসজিদটিকে বেশ দৃষ্টিনন্দন করেছে। লাল মার্বেল পাথরে তৈরি মসজিদটি এতটাই সুদর্শন যে, ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে তা সহজেই স্থান করে নিয়েছে।


মসজিদের রাজকীয় সিঁড়ির ২২টি ধাপ পেরিয়ে মূল ফটকে পৌঁছতে হয়। আর মূল ফটকে ক্যালিগ্রাফিতে মসজিদের নাম লেখা রয়েছে, ‘মসজিদ আবুল জাফর মহিউদ্দিন মুহাম্মাদ আলমগীর বাদশাহ গাজী।’ ভেতর আর আঙিনা মিলে এই মসজিদের ধারণক্ষমতা এক লাখ মুসল্লি।

ফয়সাল মসজিদ, পাকিস্তান

ফয়সাল মসজিদ পাকিস্তানের বৃহত্তম মসজিদ। রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত এ মসজিদ ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদটির শিল্প-নকশা করেন তুর্কি স্থপতি ভেদাত ডালোকে। দেখতে মসজিদটি অনেকটা মরুভূমির বেদুঈনদের তাঁবুর মতো। বিশ্বে ইসলামাবাদের প্রতীক হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।

মসজিদটি নির্মাণে সমর্থন এবং আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা করেন সৌদি বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ। তাই এই মসজিদটি বাদশাহ ফয়সালের নামে নামকরণ করা হয়। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এটি পৃথিবীর (মক্কা-মদিনার পর) বৃহত্তম মসজিদ ছিল। পরবর্তীতে মরক্কোর হাসান-২ মসজিদ নির্মাণ হলে ফয়সাল মসজিদ দ্বিতীয় স্থানে চলে আসে।

জহির মসজিদ, মালয়েশিয়া  

জহির মসজিদ মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যে অবস্থিত। এটি মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রাচীন মসজিদ। সুলতান তাজউদ্দিন মুকারাম শাহর ছেলে টুংকু মাহমুদের অর্থায়নে ১৯১২ সালে এটি নির্মাণ করা হয়। মূলত ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রার আজিজি মসজিদের আদলে ও স্থাপত্যশৈলীর মিশেলে এটি নির্মাণ করা হয়। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের কথা মাথায় রেখেই মসজিদটিতে পাঁচটি গম্ভুজ নির্মাণ করা হয়েছে। এই মসজিদের প্রাঙ্গণে প্রতি বছর বার্ষিক কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

তাজুল মসজিদ, ভারত

তাজুল মসজিদ ভারতের সর্ববৃহৎ মসজিদ এবং বিশ্বের অন্যতম বড় মসজিদ। মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের শাসনামলে নবাব শাহজাহান বেগম কর্তৃক নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে আল্লামা মুহাম্মাদ ইমরান খান নদভী আজহারি এবং মাওলানা সাইয়্যেদ হাসমত আলী সাহেব ১৯৮৫ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। মসজিদের তিনটি গম্বুজ ও দু্ইটি সুউচ্চ মিনার এবং সামনে বিশাল চত্বর রয়েছে।

মসজিদের ভেতর-বাইরে এক লাখ ৭৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। ৪৩ লাখ স্কয়ার ফুটের এই মসজিদটির চত্বরের মাঝখানে রয়েছে বিশাল পানির হাউস।

সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দিন মসজিদ, ব্রুনেই

১৯৫৮ সালে ঐতিহাসিক ও দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। এটি ব্রুনাইয়ের রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানে অবস্থিত। মসজিদের প্রধান গম্বুজের বাইরের অংশ সম্পূর্ণ খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি। পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত এ মসজিদের ভেতরের অংশে একসঙ্গে তিন হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদটি নির্মাণে অত্যন্ত মূল্যবান গ্রানাইট, মার্বেল ও ক্রিস্টাল ব্যবহার করা হয়।

শনিবার, জুন ১৫, ২০১৯

সুস্বাগতম হে বর্ষা!

‘আবার এসেছে আষাঢ়, আকাশ ছেয়ে, আসে বৃষ্টির সুবাস বাতাস বেয়ে।’ আজ পহেলা আষাঢ়। বর্ষা ঋতুর প্রথম দিন। আষাঢ়ের প্রথম দিনের সকালে রাজধানী ভিজছে স্বস্তির বৃষ্টিতে। দীর্ঘ কয়েকদিনের তাপতাহের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বর্ষার প্রতীক্ষায় ছিলো রাজধানীবাসী। তাদের মন রাঙাতেই যেন বর্ষা হাজির তারা বৃষ্টির ঝাঁপি নিয়ে।


বৃষ্টির ছোঁয়া পেয়ে রাজধানী ঢাকার ধুলোমলিন বৃক্ষরাজি সেজেছে ঘন সবুজে শাড়িতে। কদিন পরেই হলুদ সাদা ফুলে ভরে যাবে শহরের কদম গাছগুলো। তখন হয়তো কোনো কবির সুরে গুনগুনিয়ে প্রেমিকা গেয়ে উঠবে, ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান/ আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান/ মেঘের ছায়ায় অন্ধকারে রেখেছি ঢেকে তারে/এই-যে আমার সুরের ক্ষেতের প্রথম সোনার ধান।’

ঋতু বৈচিত্র্যের বাংলাদেশে বর্ষাকালের মেয়াদ আষাঢ়-শ্রাবণ। তবে জৈষ্ঠ্য মাসের শেষ থেকেই শুরু হয় বৃষ্টির মুখরতা, চলে ভাদ্র মাসের শেষ পর্যন্ত। তখন গাছপালা সুশোভিত হয়ে উঠে ফুলে ফুলে। শুধু বাগান নয়, রাস্তার পাশের ঝোপঝাড়েও ফুটে থাকা কত না দৃষ্টিনন্দন অজানা ফুল। তই বর্ষা মানেই বাহারি রঙের সুগন্ধি ফুলের সমাহার। বর্ষা যেন আমাদের প্রকৃতিকে আপন মনে বিলিয়ে দেয় এবং এর ফুলের সৌন্দর্য আমাদের করে তোলে বিমোহিত। বর্ষার যে ফুলগুলো আমাদের আকৃষ্ট করে তা হলো: কদম, বেলি, টগর, হাস্নাহেনা, বকুল, শাপলা, পদ্ম, দোলনচাঁপা, কেয়া, কামিনী, রঙ্গন, দোপাটি, কলাবতী, সন্ধ্যামালতি,সোনাপাতি (চন্দ্রপ্রভা), বনতুলসী, কলমিসহ আরো নাম না জানা কত ফুল। বর্ষা ঋতু যেন ফুলের জননী।

আর এভাবেই গ্রীস্মের প্রচণ্ড তাপদাহে মলিন হয়ে যাওয়া প্রকৃতিকে যৌবনাবতী করে তুলে বর্ষা ঋতু। হয়তোবা একারণেই বাংলার কবি সাহিত্যিকদের কাছে বর্ষা এত প্রিয়। বর্ষা তাদের কাছে প্রেমের ঋতু, ভালোবাসার ঋতু। মনের মাধুরী দিয়ে কবিতা লেখারও সময়। এই ঋতু নিয়ে আমাদের কবিরা কত যে কবিতা লিখেছেন এবং এখনও লিখে চলেছেন।

এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকায় গ্রীষ্মের ধুলোমলিন জীর্ণতাকে ধুয়ে গাঢ় সবুজের সমারোহে সেজেছে প্রকৃতি। বৃষ্টি এলেই তাই নাগরিক মনে সাড়া পড়ে যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বর্ষার গান-ছবি। আর প্রেমিক মন গেয়ে ওঠে ,‘এমন দিনে তারে বলা যায়/ এমন ঘনঘোর বরষায়’।

বর্ষা যেমন আনন্দের, তেমনি কষ্টেরও। বৃষ্টি হলে গ্রামের নদী নালা পুকুরে জল জমে থৈ থৈ করে। নদীর তীর উপচে কখনও বা ধেয়ে আসে বন্যা। তখন গ্রামের সাধারণ লোকজনের কষ্টের শেষ থাকে না। তারপরও গ্রীস্মের তাপদাহ এড়িয়ে বর্ষায় বারিধারায় শান্তি খুঁজে পায় বাঙলার মানুষ। সবুজের সমারোহে, মাটিতে নতুন পলীর আস্তরণে আনে জীবনেরই বারতা। সুজলা, সুফলা, শস্য শ্যামলা বাংলা মায়ের নবজন্ম এই বর্ষাতেই। সারা বছরের খাদ্য-শস্য-বীজের উন্মেষতো ঘটবে বর্ষার ফেলে যাওয়া অফুরন্ত সম্ভাবনার পলিমাটি থেকে। তাই বর্ষা বাঙালির প্রাণের ঋতু। সুস্বাগতম হে বর্ষা!

গোপালপুরে মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পুরাতন মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (১৫ জুন) সকাল ৮টার পরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট। এখন পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত আসছে…

শুক্রবার, জুন ১৪, ২০১৯

প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করায় স্বামীকে মেরে ফেললেন ২য় স্ত্রী

ময়মনসিংহে যুবলীগ কর্মী শফিকুল ইসলাম সপু হত্যা মামলার প্রধান আসামি দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী শেখ ইতি।

শুক্রবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-১ এর বিচারক মাহবুবা আক্তার এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই মনিরুজ্জামান জানায়, শফিকুল পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে এবং প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেয়ার শর্তে এক বছর আগে ইতিকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতেই বসবাস করতো শফিকুল। মাঝে মধ্যে লুকিয়ে প্রথম স্ত্রী মাহমুদার সঙ্গে দেখা করতেন তিনি। এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি। গত ১০ জুন সকালে শফিকুলকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে সেখানে দুজনকে এক সঙ্গে দেখতে পায় ইতি। সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার পর নিজ বাড়িতে চলে আসেন তিনি।

ওইদিন দুপুরে প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে আসে শফিকুল। বিকেলে পার্শ্ববর্তী হাবুন বেপারীর মোড়ে বিশ্বকাপ খেলা দেখে রাত ১২টার দিকে বাসায় ফিরে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ঘুমের মধ্যেই দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি তার গলায় উড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ভোর হওয়ার আগেই মরদেহটি বিছানার চাদরে করে বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত ডোবায় কচুরিপানার নিচে পুতে রাখে।

পরদিন ১১ জুন ইতি তার স্বামী শফিকুল ইসলাম শপু নিখোঁজ হওয়ার কথা উল্লেখ করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে বলা হয় যে, ১০ জুন রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে শফিকুল আর বাসায় ফিরে আসেনি।

নিখোঁজের তিনদিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে ইতির বাসা সংলগ্ন সেই ডোবায় শফিকুলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা নুরুন্নাহার বাদী হয়ে আফরোজা শেখ ইতিকে প্রধান, অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। রাতেই পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে মামলাটি হস্তান্তর করে এবং ওই রাতেই ইতিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বাজেটে ১০ সুসংবাদ

জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন)। প্রস্তাবিত বাজেটের ১০টি সুসংবাদ তুলে ধরা হলো:

১. শিক্ষাখাতের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনে বিদেশ থেকে শিক্ষক আনার ঘোষণা। এক্ষেত্রে জাপানের সম্রাট মেইজির দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা হতে পারে।

২. শ্রমিক শ্রেণির জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।

৩. আগামী ১১ বছরের (২০৩০ সাল) মধ্যে দেশে ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এর মাধ্যমে বেকারত্বের অবসান ঘটানোর চেষ্টা।

৪. যুবক উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য ১০০ টাকা বরাদ্দ রাখা।

৫. সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এবং পরিবহন খাতের উন্নয়নে ১ লাখ দক্ষ পেশাদার গাড়িচালক তৈরির বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেয়া।

৬. যেসব এলাকা নদীভাঙন কবলিত ওইসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।

৭. নারীদের অগ্রযাত্রা তরান্বিত করতে নারী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা করা।

৮. যেকোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে মোট জনবলের ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী অগ্রাধিকার দেয়া। প্রতিবন্ধীদের এই সুবিধা দিলে সেই প্রতিষ্ঠানকে করের ৫ শতাংশ রেয়াত দেয়া।

৯. নারী উদ্যোক্তারা ব্যবসা পরিচালনার জন্য শোরুম করলে শোরুম নির্মাণের ওপর মূসক অব্যাহতি প্রদান।

১০. বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জনসাধারণের প্রতিরক্ষার জন্য লাইটিং সিস্টেম স্থাপন করা।

সেই মসজিদের তালা খুলে দিয়েছে ঘাটাইলের প্রশাসন

কখনও শুধু ইমাম আবার কখনও দুই-তিনজন মুসল্লির নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে চলছে মসজিদের প্রতিদিনের কার্যক্রম। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চরবকশিয়া গ্রামে মসজিদের মালিকানা দাবি করে তালা দেওয়ায় এ অবস্থা চলছে প্রায় দুই মাস ধরে। এ নিয়ে গত সোমবার অনলাইন এবং মঙ্গলবার প্রিন্ট ভার্সনে 'মালিকানা দাবি করে মসজিদে তালা' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে সমকাল। সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম উভয়পক্ষকে ডেকে তালা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তালা খুলে দেওয়ার পরও নামাজে আসছেন না মুসল্লিরা।

বুধবার মাগরিবের নামাজের সময় হলেও আজান দিয়ে শুধু ইমামকে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। মূলত ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মসজিদটি নিজের দাবি করতে থাকে দুবাই প্রবাসী বেলাল এবং ভাই আব্দুস সালামের মাধ্যমে তালা ঝুলিয়ে দেয়। আর সে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ে পুরো সমাজে। বেলালরা ছয় ভাই। সবার ছোট বেলাল। ছয় ভাইয়ের পৈতৃক সম্পত্তি ১০ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ করা হয় মসজিদ। বড় দুই ভাই আবুল কাশেম ও আব্দুল বাছেদ জানান, আমরা তিন ভাই মসজিদের নামে জমি ওয়াকফ করে দিলেও অন্য তিনজন দেয়নি। মসজিদের জমি ওয়াকফ করার দরকার নেই- এমন ফতোয়া দিয়ে মালিকানা দাবি করা বেলাল অন্য ভাইদের মগজ ধোলাই করেন। কুয়েত সরকারের অর্থায়নে নির্মিত মসজিদের নকশাও পরিবর্তন করেন তিনি। তার মন মতো নকশা করেন। দুই মাস আগেও মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ১৫-২০ এবং জুমার নামাজে ৫০-৬০ জন লোক নামাজ আদায় করতেন।

উৎস : সমকাল।

১০০ টাকার কথা বললে ২৭ টাকা ট্যাক্স!

কথায় বাড়লো কর। মোবাইল ফোনে কথা বললে আগের চেয়ে বেশি হারে কর দিতে হবে সরকার। নতুন করে আরও ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করায় বাড়ছে কলরেট। এখন থেকে প্রতি ১০০ টাকার কথা বললে স্বয়ক্রিয়ভাবে ২৭ টাকা চলে যাবে সরকারের পকেটে।

বর্তমানে মোবাইল ফোনে কথার বলার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা আছে। যাতে করে গ্রাহককে মোবাইলে কথা বলতে হলে সরাসরি ২২ শতাংশ কর দিতে হয়। আরও ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ হওয়ায় তা হবে ২৭ শতাংশর কিছু বেশি। অর্থাৎ প্রতি একশো টাকা কলরেটে বসলো ২৭ টাকা ট্যাক্স।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বাজেট পেশ করেন। এটি দেশের ৪৮তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট।

নতুন বাজেটের আকার বাড়ছে ১২ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি। বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকে ২০ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা বেশি। আগামী ৩০ জুন এই বাজেট পাস হবে। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।

মির্জাপুরে ইজতেমা বন্ধ করে দিলো প্রশাসন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় মাওলানা সা’দ পন্থীদের উদ্যোগে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের অনুমতি না নেয়ার অভিযোগে এ ইজতেমা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর থেকে মির্জাপুর পৌরসভার কুতুব বাজার সংলগ্ন মাঠে দিল্লী নিজাম উদ্দিন বিশ্ব মারকাসের অনুসারী মাওলানা সা’দ অনুসারীরা তিন দিনব্যাপী ইজতেমার আয়োজন করেন।


রোববার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন ইজতেমা মাঠে খুঁটি স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৮-১০টি টিউবওয়েল, অস্থায়ী অজুখানা, টয়লেট স্থাপন ও মাইক লাগানোসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।



বুধবার থেকে এ ইজতেমায় দেশ-বিদেশের তাবলিগ জামাতের সদস্যরা আসতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়া কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ, জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন ইজতেমা মাঠে অবস্থান নেয়।

এছাড়া ইজতেমার জন্য নির্মিত প্যান্ডেলের বাঁশ, খুঁটি ও তাঁবু সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় সেখানে টাঙ্গাইলের অতিরক্তি পুলিশ সুপার আহাদুজ্জামান মিয়া, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, জেলা প্রশাসন অফিসের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রোকনুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাঈনুল হক, সহকারী পুলিশ সুপার মির্জাপুর সার্কেল দীপঙ্কর ঘোষ ও মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে, ইজতেমা মাঠে অবস্থান নেয়া তাবলিগ জামাতের সদস্যদের সরিয়ে দিলে তারা পাশের কাণ্ঠালিয়া ঈদগাহ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে তাঁবু টাঙিয়ে অবস্থান নেন।

এর আগে স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও তাবলিগের সাথীর ব্যানারে অপর একটি পক্ষ গত কয়েকদিন ধরে এ ইজতেমা বন্ধের জন্য সভা-সমাবেশ করা ছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেন।



সুনামগঞ্জ থেকে ইজতেমায় অংশ নিতে আসা ময়না মিয়া জানান, তারা ২২ জন সাথী এক চিল্লায় বের হয়েছেন। বুধবার মির্জাপুর ইজতেমা মাঠে এসে পৌঁছান। বৃহস্পতিবার প্রশাসনের লোকজন তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তাবলিগ জামাতের সদস্য আব্দুর রহমান শামীম ও মো. রাসেলসহ কয়েকজন জনান, মির্জাপুরের এমপি মো. একাব্বর হোসেন রোববার ইজতেমা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় ইসলামের দাওয়াতের কাজে আয়োজিত ইজতেমায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহায়তা করা হয়। কিন্তু মির্জাপুরে ইজতেমা করতে সহযোগিতা না দেয়ার কারণ আমাদের বোধগম্য নয়। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক বলেন, আয়োজকরা অনুমতি না নিয়ে ইজতেমার আয়োজন করেছেন। এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০১৯

টাঙ্গাইলে খুনিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ৭ নং দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যাকারী খুনিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন- নিহত ফারুক আহমেদের ভাই ও বর্তমান দাইন্যা ইউপি চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাভু, ইউপি সদস্য শাহজাহান সাজু, মো. নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

মানববন্ধনে দাইন্যা চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাভু বলেন, সাড়ে ৫ বছর আগে ফারুক আহমেদকে টাঙ্গাইল শহরের বটতলা কাঁচা বাজারের দিবালোকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। তারপর থেকে একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, স্বারকলিপি দেয়া হয়েছে।

তারপরও প্রধান আসামিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাই দ্রুত সময়ে খুনীদের গ্রেফতার করে বিলম্বে ফাঁসি দাবি করছি।

টাঙ্গাইলে ১০০ টাকায় মিলবে পুলিশের চাকুরি ....পুলিশ সুপার

টাঙ্গাইলে জনবান্ধব ও ঢাকা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় (বিপিএম) বলেছেন, এখন ১০০ টাকায় মিলবে পুলিশের চাকুরি।

আগামী ১ জুলাই (সোমবার) টাঙ্গাইল জেলা পুলিশে কনস্টেবল পদে মাত্র ৩ টাকা মূল্যের ১ টি চালান ফরম ও ১০০ টাকায় মিলবে পুলিশের চাকুরি।

এই ১০০ টাকা কনস্টেবল নিয়োগে সরকার নির্ধারিত পরীক্ষার ফি বাবদ ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেয়া হবে।

নিয়োগ প্রার্থীদের প্রতারক ও দালাল চক্রের প্রতারণা থেকে সাবধান থাকার জন্য আহবান করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় (বিপিএম)।

উল্লেখ্য, আগামী ১ জুলাই পুলিশ কনস্টেবল পদে টাঙ্গাইলের স্থানীয় পুলিশ লাইনে লোক নেয়া হবে। ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

বাজেট : বেনসন ২০ টাকা হচ্ছে, গোল্ডলিফ ১৬ টাকা!

আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে শুল্ককর বাড়ানোর মাধ্যমে ধূমপায়ী ও তামাকসেবীর সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সিগারেটের দাম সর্বনিম্ন ৯ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।


অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে সম্প্রতি লেখা এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।


চিঠিতে আসন্ন বাজেট সামনে রেখে সিগারেটসহ সবধরনের তামাকজাত পণ্যের ওপর বিদ্যমান করকাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে বাজারে চলমান প্রতিটি কম দামের সিগারেটে কমপক্ষে চার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

একই সঙ্গে বেনসন ও গোল্ডলিফসহ সমমানের ব্র্যান্ডের প্রতিটি সিগারেটের দাম বাড়বে অতিরিক্ত আট টাকা। বর্তমানে বাজারে প্রতি সিগারেটের সর্বনিম্ন দাম পাঁচ টাকা ও উচ্চস্তরে প্রতি সিগারেট ১২ টাকা খুচরা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে এক শলাকা বেনসনের দাম ২০ টাকা এবং গোল্ডলিফের দাম ১৬ টাকা হতে পারে।

চিঠিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর আরোপের ক্ষেত্রে এসব প্রস্তাব বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশে গড়তে তামাকের করকাঠামো পরিবর্তন করে বিশেষ করে সিগারেটের মূল্যস্তর চারটি থেকে কমিয়ে দুটি করার পাশাপাশি ১০ শলাকা সিগারেটের ওপর সুনির্দিষ্ট অতিরিক্ত পাঁচ টাকা কর আরোপের প্রস্তাব করেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবে সিগারেটে করারোপের ক্ষেত্রে বর্তমান নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে একটি এবং উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরকে একত্রিত করে আরেকটি স্তর করতে বলা হয়েছে। নিম্নস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং উচ্চস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য কমপক্ষে ১০৫ টাকা নির্ধারণ করে ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার পাশাপাশি সব সিগারেটের প্রতি শলাকার ওপর পাঁচ টাকা হারে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে।

এই প্রস্তাবে বিড়ির ক্ষেত্রে মূল্য বিভাজন তুলে দিয়ে ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৮ টাকা করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং চার টাকা ৮০ পয়সা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তাবে ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা বিলুপ্ত করে সিগারেট ও বিড়ির মতোই খুচরা মূল্যের ভিত্তিতে করারোপ, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার মূল্য ৩৫ টাকা এবং গুলের দাম ২০ টাকা করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া জর্দার ওপর পাঁচ টাকা এবং গুলের ওপর তিন টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্প আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার চিঠিতে বলেছেন, তামাকজাত দ্রব্যের ওপর বর্তমান করকাঠামো অত্যন্ত জটিল ও তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এ ধরনের করকাঠামো কোনও ভূমিকা রাখতে পারছে না। সিগারেটে বহুস্তর বিশিষ্ট করকাঠামো চালু থাকায় বাজারে অত্যন্ত সস্তা ও সহজলভ্য সিগারেট পাওয়া যাচ্ছে। ধূমপান ছেড়ে দেয়ার পরিবর্তে ভোক্তা কমদামি সিগারেট বেছে নিচ্ছে।