শুক্রবার, মে ৩১, ২০১৯

কে এই ‘গলিবয়’ রানা?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরে বেড়ানো আর দশটা পথশিশুর মতো রানাও একজন। থাকে কামরাঙ্গীর চর এলাকায়। তবে ক্যাম্পাস এলাকাতেই সারাদিন ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় তাকে। ছোট্ট এই শিশুটি দারুন র‌্যাপ গান গায়। ক্যাম্পাসে ঘুরে ঘুরে গান শোনানোর বিনিমেয়ে ২-৫ টাকা চেয়ে নেয় মানুষের কাছ থেকে।

সেই পথ শিশু রানা হঠাৎ করেই ফেসবুকে ‘গলিবয়’ রানা হিসেবে ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রানার গাওয়া র‌্যাপগান ঢাকাইয়া গালিবয় ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। কয়েক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসে রানার গানটি ভিডিও করে ফেসবুকে ছাড়ে। এরপর মুহূর্তেই রানার প্রতিভার প্রশংসা ছড়িয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকেই রানার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তার সন্ধান করতে শুরু করেছেন। অনেকেই জানতে চেয়েছেন ‘কোথায় পাওয়া যাবে গালিবয় রানাকে?’

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে গানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নুজহাত ঐশি ফেসবুকে ছাড়েন। এর পরপরই গানটি ছড়িয়ে পরতে থাকে বিভিন্ন পেইজে গ্রুপে এবং ওয়ালে ওয়ালে। তখনো গালিবয় খ্যাত রানার পরিচয় জানা যায়নি। এমনকি তার নামই যে ‘রানা’ তাও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি তখনো।

ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার ভেতরই বেড়িয়ে আসে এই ঢাকাইয়া গালিবয়ের পরিচয়। তার নাম রানা। থাকে কামরাঙ্গীর চরের একটি বস্তিতে। মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই ঘুরে বেড়ায় রানা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাকে এখানেই পাওয়া যায়। ঢাকাইয়া গালিবয় গানটি তার জীবনের কথা দিয়েই বানানো। পথ শিশু হিসেবে পরিচিত রানার ‘গালিবয়’ খ্যাত রানা হয়ে ওঠার পেছনে ছিলেন আরেকজন- মাহমুদ হাসান তবীব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীই রানার গান শুনে মুগ্ধ হয়ে তার জীবন নিয়েই লিখেন- ‘ঢাকাইয়্যা গালিবয়’ খ্যাত গানটি।

তারপর রানাকে দিয়ে গানটি অনুশীলন করিয়ে এর ভিডিও চিত্রও ধারন করেন। তৈরি করে ফেলেন একটি মিউজিক ভিডিও। সেখানে রানার সাথে মাহমুদ হাসান তবীব নিজেও মিউজিক ভিডিওতে অংশ নেন। গানের পাশাপাশি এর মিউজিক ভিডিওটিও পরিচালনা করেন তবীব।

মাহমুদ হাসান তবীব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। ভালো লাগা ভালোবাসা থেকে তিনি গান করেন। তবীব বলেন, ‘গত সাত আটদিন আগে প্রথম রানার সাথে আমার দেখা হয়। ওর গান শুনে আমি মুগ্ধ। ছেলেটির ভেতর টেলেন্ট আছে। আমি ওর গান শুনে ওর জীবন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠি। দরিদ্র রানার জীবন সংগ্রামের গল্প শুনে সেই রাতেই ওকে নিয়ে গানটি লিখি। এরপর রানাকে অল্প সময়ের যতটুকু সম্ভব গানটি অনুশীলন করিয়ে আমার এক বন্ধুর হোম স্টুডিওতে রের্কড করি। ও খুব অল্প সময়েই সব কিছু নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিতে পারে। রেকর্ডিং এবং ভিডিও ধারণ শেষে গতকাল রাতে (বৃহস্পতিবার) কাজটি শেষ হয়। এরপর আমি ফেসবুকে ছাড়ি।’


ঘাটাইলে পেশা বদলাচ্ছে বেত শিল্পের সাথে জড়িত লোকজন

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল : বাব দাদার কাছে শিখে ছিলাম তাই ছাড়তে পারি নাই আগের মত আর ব্যাবসা নাই।আমার সন্তানদের এ কাজে আসতে দেইনি তারা অন্য অন্যপেশায় নিয়োজিত কাজের ফাকে দির্ঘস্বাস ছেড়ে কথাগুলো বললেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া বট তলা গ্রামের রাম লাল চন্দ্র দাসের ছেলে চৈতন্য চন্দ্র দাস।

তিনি বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রায় ৩৫ বৎসর যাবৎ আমি বেত দিয়ে তৈরী কুটির শিল্পের বিভিন্ন জিনিষ তেরী কওে দেন। ফুল হারা গ্রামে কাজের ফাকে কথা হয় তার সাথে।তিনি বেতের তৈরী দাড়ি পাল্লা, কুলা, কাটা সহ বিভিন্ন জিনিষ তৈরী করে হাটে বাজারে বিক্রি করেন। প্রায় ২০ বৎসর আগে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বেতের গাছ চাষ করা হতো তখন জিনিষ পত্র বিক্রি করে অনেক লাভ। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের সিলেট, চট্রগাম থেকে বেত আমদানী করা হয় ফলে পরিবহন খরচবেশী পড়ে যাওয়ার কারনে যার দরুন আগের মত আর লাভ দেখা যায় ।চৈতন্য চন্দ্র দাস জানয় আগে কয়েক গ্রাম ঘুরে ও বেতের কাজ করে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করাযেতো কিন্তু বর্তমানে ৫০০ টাকা রোজগার করতে হিম শিম খেতে হয়।

একটি সময় মানুষ বেতে দিয়ে জিনিস তৈরী করে জিবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু বর্তমানে কাঠ বাশের তৈরী জিনিষ বাজারে আসাতে এখন মানুষ তেমন বেতের তৈরী জিনিষ কিনতে চায় না।তাইতো আমার ৩ ছেলে খুশি চন্দ্র দাস ফার্নিচারের কাজ করে সুশিল চন্দ্র দাস নর সুন্দরের কাজ শান্ত চন্দ্র দাস টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইনষ্টিউট পড়া শোনা করছে। তাদেও আমার পেশায় আসতে দেইনি কারন এ পেশায় থাকলে কোন লাভ নেই। সরকারকারী সহযোগিতা বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে চৈতন্য দাস জানায় আমি কোন সহযোগিতা পাই না তবে আপনার যদি(সাংবাদিক কে) কোন সংস্থার বিষয়ে জানা থাকলে জানাবেন যদি কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়।

ফরেন রেমিটেন্সে জনতা ব্যাংকের হামিদপুর শাখার রেকর্ড

ফরেন রেমিটেন্সে রেকর্ড করেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুরের জনতা ব্যাংকের শাখাটি।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পবিত্র রমজান সামনে রেখে মে মাসে জনতা ব্যাংকের সারাদেশে "ফরেন রেমিটেন্স সেবা মাস-২০১৯" ঘোষণা করা হয়। যার অংশ হিসেবে ব্যাংকের টাঙ্গাইল এরিয়াধীন হামিদপুর শাখাতেও আন্তরিকতার সাথে এই মাসটি পরিপালিত হয় বলে জানিয়েছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি জানান, এ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী ভাই-বোনেরা তাদের নিজ নিজ স্বজনদের অনুকূলে অর্থ প্রেরণ করেন। এবারের সেবা মাসে সর্বমোট ৯২৮ জন উপকারভোগীর মাঝে চার কোটি বিশ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। যা এ যাবৎকালে হামিদপুর শাখার একটি রেকর্ড।

ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঠিক ও সময়োচিত দিকনির্দেশনা এবং শাখার তরুণ, মেধাবী ও চৌকস কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার বদৌলতে এ সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বলেও শাখা ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন। 

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, হামিদপুর শাখার ফরেন রেমিটেন্স উপকারভোগীদের নব্বই শতাংশের ওপরে নারী গ্রাহক। জনতা ব্যাংক লিমিটেড হামিদপুর শাখার উপর অব্যাহত আস্থা রাখায় শাখার পক্ষ থেকে রেমিটার ও উপকারভোগীসহ স্থানীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম।

ঘাটাইল বিএনপি’র দোয়া ও ইফতার মাহফিল

আতিক সরকার, ঘাটাইল: শহীদ প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে, কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল বিএনপির আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ (৩০ মে) বৃহস্পতিবার উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্দ্যোগে উপজেলা অডিটরিয়ামে উক্ত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মোঃ রফিকুল ইসলাম বুলবুল ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্ঠা সাবেক এম পি ও মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ খ ম রেজাউল করিম, দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, সহ বিএনপির অন্যান্য সহযোগি সংগঠনের বিপুল সংখ্যাক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক।

উক্ত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় লুৎফর রহমান খান বলেন আজ আমরা এমন একটি রাষ্ট্রে বাস করছি যে রাষ্ট্রটি চোখেও দেখেনা কথা বলতে পারেনা। দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন বলতে কিছু নেই। এটা বর্তমানে যাদুঘরে আশ্রয় নিয়েছে। দেশে যদি গণতন্ত্র থাকতো তাহলে একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনা প্রধানের স্ত্রীর আশ্রয় জেলখানায় হতো না, দেশে গণতন্ত্র থাকলে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গণতন্ত্রের অতন্দ্রপ্রহরী তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রি, একজন ৭৮ বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ, স্বামী সন্তান হারা অসহায় নারীকে জেলাখানার ভেতরে খাওয়া, দাওয়া ও নিন্দ্রাহীন চোখে থাকতে হতো না।

তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন ও সুশাসন নেই বলেই তিন বৎসরের শিশু থেকে শুরু করে শতবর্ষি বৃদ্ধা নারী ও শিশুরা ধর্ষন ও মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। একদিকে কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অপরদিকে পত্রিকায় বেরিয়েছে এবার ঈদে ৬ লক্ষের বেশি মানুষ ঈদ করতে বিদেশ যাচ্ছে। আমার প্রশ্ন বিদেশে ঈদ করতে যাচ্ছে এই লোকগুলো কারা? এরাই সেই ব্যক্তি যাহারা এ দেশের কৃষকের রক্ত সকাল/সন্ধ্যা চুষে খাচ্ছে-আর হারাম টাকার পাহাড় বানিয়ে দেশের বাহিরে গিয়ে ঈদ উদ্যাপন করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, ভাবতে অবাক লাগে, দুঃখ হয় আজ বাংলাদেশের মানুষের বুকে যে জগদ্দল পাথর চেপে বসে আছে, সেই অবৈধ পাথর আমাদের দেশের সহজ সরল, গরীব অসহায় মানুষগুলোকে বাঁচতে দিচ্ছে না।

আপনারা পেপার পত্রিকায় পড়বেন ও টেলিভিশন খুল্লেই দেখতে পাবেন বাবা তার অভাবের কারনে প্রিয় দুই সন্তানকে ঈদের পোষাক কিনে না দিতে পেরে নিজ হাতে সন্তানকে গলাটিপে হত্যা করছে, মা সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে পরে নিজেই আত্মহত্যা করছে। অথচ এ ব্যাপারে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রির কোন দায়িত্ব নেই, প্রশাসনের কোন গুরুত্ব নেই। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এ দেশের জনগণ সরকারের কাছে বোঝা হয়ে গেছে। সরকার আমাদের বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াচ্ছে আর আমরা তা হজম করছি। মানুষ এ সব থেকে মুক্তি চায়, মানুষ স্বাধীনতা চায়, ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। সর্বোপরি এই অবৈধ সরকারের পতন চায়।

বক্তৃতায় তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে তার সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন ইতিহাস তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেন এবং তার আদর্শে জীবন গড়ার জন্য নেতা কর্মিদের পরামর্শ দেন।

এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সহ প্রিন্টি ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ইফতারের আগে দেশে ও দেশের মানুষের কল্যান কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা পরিষদ মসজিদের ঈমাম ও খতিব মাওলানা মোঃ জোবায়ের মাহমুদ।

সন্তান জন্ম দিল প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করা প্রেমিকা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর সদরের চৌধুরীকান্দা গ্রামে গর্ভে সন্তান নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করা সেই স্কুলছাত্রী (১৫) সন্তান প্রসব করেছে। বৃহস্পতিবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছে সে। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে ফাতেমা। মা ও সন্তান দুজনেই সুস্থ আছে।

এদিকে সন্তানের পিতৃ পরিচয় ও নিজের স্ত্রীর মর্যাদার দাবি জানিয়েছে ওই স্কুলছাত্রী। তবে তার প্রেমিক লুৎফর তালুকদার ওই ছাত্রীর বাড়িতে অবস্থানের পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। লুৎফরের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় শিশুটির ক্ষতি করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে স্কুলছাত্রী ও তার পরিবার।



জানা যায়, পৌর সদরের চৌধুরীকান্দা গ্রামের ছিদ্দিক তালুকদারের বিবাহিত ছেলে লুৎফর তালুকদার (২৫) প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্ক করে। এতে করে স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যায়। ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারে আলোচনা করেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে না পেরে গত ১৭ মে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেয়। সেখানে ১০দিন অবস্থান নেয়ার পর ২৭ মে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা।

এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাঙ্গা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আশুতোষ বলেন, মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে স্কুলছাত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের অভিনয় করে আসছিল ওই গ্রামের ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে লুৎফর তালুকদার (২৫)। লুৎফর তালুকদার বছর খানেক আগে ওই গ্রামের পাশের একটি মেয়েকে বিয়ে করে। বিয়ের পরও প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্ক করে। এতে করে স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

মামলার বাদী বলেন, দিনমজুরি করে চার মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে কোনোরকম সংসার চলে আমার। নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় টাকার জন্য মেয়েটিকে করিম জুট মিলে কাজ করতে পাঠাই। সেখানে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে লুৎফর আমার মেয়ের এই সর্বনাশ করেছে। আমি আমার মেয়ের জন্ম দেয়া সন্তানের পিতৃ পরিচয় চাই।

ওই স্কুলছাত্রী জানায়, লুৎফর আমার জীবন নিয়ে খেলেছে। আমি ও আমার মেয়ে মর্যাদা নিয়ে সমাজে বাঁচতে চাই। সন্তান জন্ম দেয়ার পর থেকেই শঙ্কায় রয়েছি, লুৎফরের পরিবার প্রভাবশালী তাই আমার সন্তানের ক্ষতি করে বসতে পারে।

ভাঙ্গা থানা পুলিশের ওসি কাজী সাইদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলা রেকর্ডের পর থেকে আমরা লুৎফরকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে কোনো রকম ছাড় দেয়া হবে না।