টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা থেকে সাগরদিঘী রাস্তা খানা খন্দে ভরা একটু বৃষ্টিতেই পানি জমে ফলে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিন যাবত রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পূর্বাঞ্চল ঘাটাইল থেকে সাগরদিঘী, ঘাটাইল থেকে ভূয়াপুর প্রায় ৪১ কিঃ মিঃ পাকা রাস্তা শতশত গর্তের সৃষ্টি হওয়ার কারনে ভারী যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঢাকা সাগরদিঘী, সাগরদিঘী ভালুকা এই রাস্তাটি যাতায়াতের জন্য ব্যবহার হয়ে থাকলেও সংস্কারের অভাবে এখানে দুরপাল্লার গাড়ী তেমন চলাচল করেনা।
সাগরদিঘী থেকে ঘাটাইলে আসার পথে বাস, ভ্যান, সিএনজি অটোবাইক সহ বিভিন্ন হালাকা ও ভারী যানবাহন প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় চলাচল করছে। যেখানে সাগরদিঘী থেকে ঘাটাইল আসতে সর্বোচ্চ ৪০ মিঃ সময় লাগার কথা সেখানে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। জরুরী ভিত্তিতে কোন রোগী হাসপাতালে নিতে হলে তড়িৎ গতিতে নেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে রাস্তায় ঘটতে পারে যে কোন দুর্ঘটনা। ১৯৯৬ সালে ঘাটাইল সাগরদিঘী রাস্তাটি স্থানীয় প্রকৌশলী অধিদপ্তর থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাস্তাটি নিয়ে নেয়। নেওয়ার পর থেকে সামান্য জায়গায় কিছু মাটি ভরাট ছাড়া বড় কোন কাজ হয়নি। কামালপুর, শহরগোপিনপুর, ধলাপাড়া বাজার, কুশারিয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সাগরদিঘী রোডের এম এম এন্টারপ্রাইজের বাস চালক কদমতলী গ্রামের মোঃ রহিজ উদ্দিন জানান আমরা বড় ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় চলাচল করছি যে কোন সময় আমাদের বিপদ হতে পারে কিন্তু এত কিছু জেনেও পেটের দায়ে ঝুঁকি নিয়ে ভাঙ্গা রাস্তায় গাড়ী চালাচ্ছি।
ধলাপাড়া বাজারের ডেকারেটর ব্যবসায়ী সিদ্দিক বার্বুচী জানান, তিন বৎসর যাবত এই রাস্তার অবস্থা একই থাকার দরুন আমাদের দোকানের সামনে বড় বড় খানাখন্দে সৃষ্টি হয়েছে।
কুশারিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম সুজন জানান এই রাস্তাটি অনেকদিন যাবত খানা খন্দে ভরা একটু বৃষ্টি হলেই যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামু কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন আমি এই রাস্তাটি নিয়ে জেলা সমন্বয় মিটিংয়ে উত্থাপন করেছি তাতে কোন লাভ হয়নি। সাগরদিঘী ঘাটাইলের রাস্তাটি এমন ঝুঁকিপূর্ণ কোন মহিলাকে প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে যেতে চাইলে রাস্তার বেহাল দশার কারনে পথিমধ্যেই সন্তান প্রসব হয়ে যাবে।
সাগরদিঘী-ঘাটাইল ও ভূয়াপুর থেকে ঘাটাইল আসার রাস্তা বেহলা দশা সর্ম্পকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন জানান-ডিসি স্যার মন্ত্রনালয়ে তদবির করেছে এবং অচিরেই রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হবে।
টাঙ্গাইল জেলা সড়ক ও জনপদ এর সাবডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জাবেদ হোসেন তালুকদারকে মুঠোফোনে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, আমরা মাঝে মধ্যে রাস্তার সংস্কার করি কিন্তু ছোট কোন অনুদানে এই বড় কাজের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। আমরা চাহিদাপত্র দিয়েছি অনুমোদন হলে বড় কোন পদক্ষেপ নেয়া যাবে।
টাঙ্গাইল জেলা সড়ক ও জনপদ এর সাবডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জাবেদ হোসেন তালুকদারকে মুঠোফোনে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, আমরা মাঝে মধ্যে রাস্তার সংস্কার করি কিন্তু ছোট কোন অনুদানে এই বড় কাজের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। আমরা চাহিদাপত্র দিয়েছি অনুমোদন হলে বড় কোন পদক্ষেপ নেয়া যাবে।

