নিজস্ব প্রতিবেদক, আমাদের ঘাটাইল ঃ টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলায় এই প্রথমবারের মত বিভক্তি হয়ে ১৪টি ইউনিয়নের নির্বাচন হতে পারে। এর আগে ১১টি ইউনিয়নে নির্বাচন হয়েছে। উপজেলার ধলাপাড়া, সন্ধানপুর ও রসুলপুর ইউনিয়নকে ভাগ করে আরো ৩টি নতুন ইউনিয়ন গেজেটভূক্ত হয়েছে। এ গুলো হচ্ছে সাগরদিঘী, সংগ্রামপুর ও লন্দির। এবার ৩টি ইউনিয়নেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঝে ভিন্ন আমেজ বিরাজ করছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে আ’লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা উপজেলা এমনকি জেলা পর্যায়ের নেতাদের ম্যানেজ করতে সময় পার করছেন।
ভোটারদের মন জয় ও এলাকা গোছানোর পাশাপাশি তারা নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের নানা কৌশল করে যাচ্ছেন। এখানে মতাসীন দলের দুটি গ্রুপ থাকায় প্রার্থীরাও রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্বে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইউনিয়নবাসীদের ব্যানারে পোস্টার ছাপিয়ে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা অনেক এগিয়ে গেলেও বিএনপির প্রার্থীরা রয়েছে আতঙ্কে। মতাসীন দলের প্রার্থীদের সামনে দাঁড়াতে পারবে কিনা এ নিয়ে সংশয়ে রয়েছে তারা।
উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যায়ে নেতাদের সঙ্গে জোর লবিং চালাচ্ছেন। এই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগের অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী বিপাকে পড়েছেন। অপরদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা রয়েছেন নানা কারণে শংকিত ও নিবিড় পর্যবেণে। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিশ্বাস দলীয় মনোনয়ন পেলে তারা ইউপি নির্বাচনে নিশ্চিত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। ইউনিয়নের সর্বত্র প্রধান আলোচ্য বিষয়, কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক।
অন্যদিকে ১৪টি ইউনিয়নে ধানের শীষের বিএনপি’র প্রার্থীর আগ্রহীদের তালিকা কিছুটা কম। ধীরে ধীরে তারা মাঠ গোছাচ্ছেন।
দলীয় প্রতীক নৌকা মার্কা পাওয়ার জন্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য যারা জোড় লবিং চালাচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় উঠে এসেছে অনেকের নাম। দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের আওয়ীমীলীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, কায়সার রহমান খান কহিনূর, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান। ঘাটাইল সদর ইউনিয়নে আ’লীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, আওয়ামীলীগের প্রবীণ নেতা জাহাঙ্গীর খান, হায়দার আলী, আতিকুর রহমান সুমন, হারুন অর রশিদ। সাগরদিঘী ইউনিয়নে আ’লীগ থেকে স্থানীয় করিম চেয়ারম্যানের ছেলে সমাজসেবক কামরুজ্জামান মিন্টু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম, ওয়াজেদ আলী মেম্বার ও বর্তমান চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার। ধলাপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান চেয়ারম্যান হেকমত শিকদার ও ফজলুর রহমান মাস্টার। লন্দির ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব সাইদুর রহমান, আঃ আজিজ মেম্বার। জামুরিয়া ইউনিয়নে আওয়ামীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান (হেষ্টিং) ও শহিদুল আলম জুলফিকার। রসুলপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক সরকার, সাবেক সভাপতি একাব্বর আলী, মাহবুবুল হক মাসুদ। সংগ্রামপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ থেকে উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা আঃ রহিম মিয়া, আঃ মান্নান। সন্ধানপুরে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা যুবলীগের সহসম্পাদক মো. আবু বকর সিদ্দিক, সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহিম মিয়া, আ. মান্নান মিয়া, রফিকুল ইসলাম আজাদ, শেখ আল হেলাল, নজরুল ইসলাম, বেলায়েত হোসেন । দিগড় ইউনিয়নে আ’লীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা যুবলীগ নেতা সুমন খান বাবু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছানোয়ার হোসেন শাতিল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হুমায়ূন কবির বাবুল, শিানুরাগী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছাইফুল ইসলাম লিটন, উপজেলা যুবলীগ নেতা জামাল হোসেন ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সদস্য নূরুল ইসলাম নুরু। আনেহলা ইউনিয়নে শহীদ খাদেম আলী মন্ডলের নাতি ছাত্রনেতা মোঃ আনছার আলী এবং আওয়ামীলীগ নেতা সমাজসেবক হামিদুল বাশার হিরু,ইকবাল হোসেন তালুকদার। দিঘলকান্দি ইউনিয়নে আ’লীগের আব্দুল্লাহ আল মামুন বিদ্যুৎ, মো. ইকবাল হোসেন খান ও মফিল তালুকদার । লোকেরপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট বেলায়েত হোসেন খান কাপাস, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা অধ্যাপক মোজাম্মেল হক মিন্টু, আকরাম হোসেন খান ও জহিরুল ইসলাম বাবু। দেওপাড়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান আঃ রাজ্জাক, জয়নাল আবেদীনও দেওয়ান মো. মারুফ।
দলীয় প্রতীক ধানের শীষ মার্কা পাওয়ার জন্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য যারা মনোনয়ন পত্র কিনেছেন এবং জোড় লবিং চালাচ্ছেন। কথা বলে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় উঠে এসেছে যাদের নাম তারা হলো- দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যন মোঃ সোহরাব হোসেন এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম খান। ঘাটাইল ইউনিয়নের বিআরডবি’র সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ, যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান শাহীন, বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান। জামুরিয়া মডেল ইউনিয়নে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক ইখলাক হোসেন খান (শামীম খান) ও শ্রমিক দলের নেতা আঃ বাছেদ, সাবেক চেয়ারম্যান এখলাসুর রহমান খান। লোকেরপাড়া ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এডভোকেট সাইফুল ইসলাম শিবলী ও সোলায়মান কবীর, বর্তমান চেয়ারম্যান হায়দার আলী তালুকদার ও সোলায়মান হোসেন। আনেহলা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা শফিউর রহমান মুক্তা ও সবুজ খান। দিঘলকান্দি ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম ,সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শাহিনুর রহমান উপজেলা মহিলা দলের সহ সভাপতি সেলিনা তালুকদার। দিগড় ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোঃ আঃ ছাত্তার ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনছুর আহম্মেদ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মামুন। দেওপাড়া ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আঃ ছালাম, সাধারন সম্পাদক জামাল ভূইয়া, বিএনপি নেতা শুকুর মাহমুদ ও এরশাদুল ইসলাম রোকন। রসুলপুর ইউনিয়ন থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হক সেন্টু, সাবেক চেয়ারম্যান শামছুল আলম। সন্ধানপুর ইউনিয়ন থেকে বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম ও মাহবুবুর রহমান পালন। ধলাপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির জাহাঙ্গীর আলম লেবু, লায়ন নাজিবুল হক ঝন্টু, মাহবুবুর রহমান খান, বর্তমান চেয়ারম্যান আ. ছাত্তার ও আবুল কালাম আজাদ ।
ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ.খ.ম রেজাউল করিম জানান, ১৪ টি ইউনিয়নে আমাদের প্রার্থী আছে। ৬র্ষ্ঠ ধাপে আমাদের এখানে নির্বাচন হবে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি গ্রহন করলেও ইউনিয়ন বিভক্তিকরন এবং মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারনে ধলাপাড়া, রসুলপুর ও সন্ধানপুর এই তিনটি ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। সে কারনে আমরা কয়েকদিন আগে ৮টি ইউনিয়নে আমরা দলীয় মনোনয়ন বাছাই করেছি এবং ২০ জনকে দলীয় মনোনয়ন পত্র দিয়েছি।