টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় শতাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহকের মিটার আছে কিন্তু তাদের
নামে কোন হিসাব নম্বর নেই। হিসাব নম্বর না থাকায় ওইসব গ্রাহকদের অবৈধ
ঘোষণা করে ১৪০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ
বিভাগ। এক বিশেষ অভিযানে সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আওতাধীন
পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার ৮টি গ্রামের ১৪০ জন গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন
করা হয়। তবে ওইসব গ্রাহক নিজেদের বৈধ গ্রাহক বলে দাবি করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় দু’বছর আগে টাঙ্গাইল জেলার এলেঙ্গা সেন্ট্রাল
জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন প্রকল্প সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের
আওতাধীন পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের আমতৈল, গারোবাদা,
আকন্দের বাইদ, লক্ষীন্দর, মালিরচালা, বেইল্যা, তোলাবর, পাগারিয়া গ্রামের
জন্যে ২৫০ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করে। সেখান থেকে
ঘাটাইল উপজেলার ওই ৮ গ্রামের তিন শতাধিক গ্রাহক নিজেদের বাড়ি, পোল্ট্রি
ফার্ম ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎসংযোগ নেন। কিন্তু এখনও তারা কোনো হিসাব
নম্বর পাননি। সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ অননুমোদিতভাবে বিদ্যুৎ
ব্যবহারের তালিকা প্রণয়ন করে সাগরদীঘি ফিডারের ১৪০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে
দেন। এতে করে হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ওই ৮টি গ্রাম অন্ধকারে রয়েছে।
তবে গ্রাহকরা দাবি করেছেন সখীপুর পিডিবি অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে প্রতি
সংযোগে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা নিয়ে তাদের মিটার দেয়া হয়েছে। কিন্তু মিটার
পেলেও দীর্ঘদিনেও তারা কোনো বিলের কাগজ পাননি জানিয়ে আকন্দের বাইদ গ্রামের
গ্রাহক আবদুস সাত্তার (মিটার নং-৪২২১১৭) ও আবদুল কদ্দুছ (মিটার নং-৪২২১১৮)
বলেন, হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় আমরা পোল্ট্রি খামার নিয়ে খুব বিপাকে
পড়েছি। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ না পেলে আমরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবো।
আমতৈল গ্রামের গ্রাহক ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন (মিটার নং-৪৬০২৫৮) জানান,
‘টাকা দিয়ে সংযোগ আনছি। বিলের কাগজ দিবো দিবো কইয়া দেরি করছে। এহন নাকি
আমাগো নামে মামলা হবে। খুব টেনশনে আছি।’ ধলাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
হেকমত শিকদার বলেন, সংযোগ বিচ্ছিন্নের খবরটি পেয়েছি। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের
লোকজনের কারসাজির কারণে ওইসব গ্রাহক মামলা ও হয়রানির শিকার হবে এটা মেনে
নেয়া যায় না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানান
তিনি।
এ ব্যাপারে সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী
শাহাদাত আলী বলেন, ‘তাদের সংযোগ আছে, মিটার আছে, কিন্তু তাদের নামে কোনো
হিসাব নম্বর নেই। এ পর্যন্ত তারা কোনো বিলও পরিশোধ করেনি। হিসাব নম্বর
ছাড়াই বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক
তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।’ তবে এসব অবৈধ সংযোগ
দেয়ার ক্ষেত্রে কারা জড়িত এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।
এলেঙ্গা সেন্ট্রাল জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী
প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রকল্প অনুযায়ী আমরা ওই তিনটি
ট্রান্সফরমার স্থাপন করেছি। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে আমাদের কোনো
দায়দায়িত্ব নেই। তবে সখীপুরে এক শ্রেণির বিদ্যুৎ সংযোগ দালালের দৌরাত্ম্যের
কারণে সাধারণ গ্রাহকরা প্রতারিত হচ্ছেন।