দরিদ্র ঘরের ষোড়শী কিশোরীকে চাকরি দিওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও যৌন ব্যবসায় বাধ্য করার ঘটনার হেলেনা বেগম নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনার ৯ দিন পর অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) রাতে অভিযান চালায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। অভিাযানে ঢাকার উত্তর মুগদা মদিনাবাগের একটি বাসা থেকে ভুক্তভোগি কিশোরীকে উদ্ধারসহ এ ঘটনার সাথে জড়িত ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত হেলেনা বেগম পিরোজপুর জেলার মটবাড়ীয়ার উত্তর মিঠাখালী গ্রামের তাহের মৃধার মেয়ে এবং বাবুল সরদারের স্ত্রী। অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা মনির হোসেন জামাল বরগুনার নলটোনা ইউনিয়ন পরিষদের উলা পদ্মা (বাবুগঞ্জ) গ্রামের ইউসুফের ছেলে। সে এখনও পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই ৮ জনের নাম উল্লেখ করে কিশোরীর দুলাভাই বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
কিশোরীর পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরী গত ২৫ জুন সকালে চাকুরীর উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত আদমজী ইপিজেড এলাকায় যায়। সেখান থেকে বেলা ১১টায় মনির চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে ঢাকার উত্তর মুগদা মদিনাবাগ এলাকার আব্দুল জব্বারের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে হেলেনা বেগমের সহযোগিতায় মনির হোসেন জাামাল কিশোরীটিকে ধর্ষণ করে। পরে হেলেনা বেগম ও মনিরের যোগসাজসে বিভিন্ন সময়ে ওই কিশোরীকে দিয়ে যৌন ব্যবসা করাতে বাধ্য করে।
ভুক্তভোগির আত্মীয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে ওই বাসা থেকে কিশোরীটিকে উদ্ধারসহ প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য হেলেনা বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পলাতক অন্যান্য আসামীরা হলো, নানা ওরফে কারফু (৫২), পনির (৪০), নাঈম (৩৫), ইমন (৩২), মাজহারুল (৪৮) ও দেবাশীষ (৩২)।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. শামীম হোসেন জানান, অপহরণের পর ধর্ষণ ও নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পতিতাবৃত্তির অভিযোগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী হেলেনা বেগমকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে শুক্রবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত হেলেনা বেগমসহ পলাতক আসামীরা একটি অপহরণকারী চক্র। চক্রটি চাকুরীপ্রার্থী মেয়েদের কৌশলে অপহরণ করে নিজেদের হেফাজতে রেখে পতিতাবৃত্তি করায় বলে গ্রেফতারকৃত হেলেনা বেগম প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।