শুক্রবার, এপ্রিল ২৬, ২০১৯

সখীপুরে তরুণীকে চারদিন আটকে রেখে গণধর্ষণ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক তরুণীকে (২১) অপহরণের পর চারদিন আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের বাজাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে ওই তরুণীর বাবা বাদী হয়ে মোকলেছ উদ্দিনসহ (৩৫) চারজনের নামে মামলাটি করেন। ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ধর্ষিতার পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের বাজাইল গ্রামের তালাকপ্রাপ্ত ওই তরুণী নিখোঁজ হন। তিনদিন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে তাকে খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। হঠাৎ বুধবার বিকেলে মোবাইল ফোনে একই গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে ও দুই সন্তানের জনক মোকলেছ উদ্দিন (৩৫) নিখোঁজ ওই তরুণী তার কাছে রয়েছে বলে জানায়।

এ ঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যায় ওই নারীর বাবা অপহরণকারী মোকলেছ উদ্দিন (৩৫), তার বাবা আবদুল খালেক, মা মিলা বেগম ও বোন মেহেরুনকে আসামি করে সখীপুর থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলার সংবাদ পেয়ে ওইদিন রাতেই মোকলেছ উদ্দিন তরুণীকে তার বন্ধু মৃদুলের মামা মোবারকের বাড়িতে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে নিজ বাড়ি নিয়ে আসে পরিবার।

উদ্ধারকৃত তরুণী জানান, বখাটে মোকলেছ উদ্দিন তাকে জোরপূর্বক তুলে নেয় ও চারদিন আটকে রেখে বন্ধুদের নিয়ে গণধর্ষণ করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্বরচিত এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শস্তির দাবি করেছেন মামলার বাদী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সখীপুর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মো. লুৎফুল কবির জানান, থানায় মামলা করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘাটাইলে মুরগির বর্জ্য বংশাই নদীতে মরে ভেসে উঠছে মাছ

নদীর নাম বংশাই। ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা নদী এটি। এ নদীর ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল ধলাপাড়া দিয়ে বয়ে যাওয়া অংশে দুই ধারে গড়ে উঠেছে শতাধিক লেয়ার মুরগির খামার। এসব খামারের বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে নদীতে। ফলে অতি মাত্রায় পানি দূষিত হওয়ায় মরে ভেসে উঠছে মাছ। পানির সংস্পর্শে মানুষের শরীরে দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের চর্মরোগ।

সরেজমিন দেখা যায়, নদীর দুই ধারে গড়ে ওঠা লেয়ারের বর্জ্য কোনো স্থানে ড্রেন আবার কোনো স্থানে পাইপ দ্বারা সরাসরি নদীর পানিতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। পানিতে ভাসছে মুরগির পালক। নদীতে নেই তেমন স্রোত। পানির রঙ এতটাই কালো রূপ ধারণ করেছে যে, মানুষ তো দূরে থাক, গবাদি পশুও নাকি গোসল করানো হয় না। সারাবছরই কম-বেশি মাছ পাওয়া যেত এ নদীতে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখানকার মাছের বেশ কদর ছিল। এ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত ধলাপাড়া বড় মেধার গ্রামের প্রায় ২০-২৫ জেলে পরিবার। নদীর দূষিত পানি দিয়ে বোরো ধানের সেচ কাজ চালাচ্ছেন কৃষক। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীর পানির সঙ্গে বর্জ্য মিশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বাসাবাড়িতে থাকা কষ্ট হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ায় ক্ষতিসহ তাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ হচ্ছে। বড় মেধার গ্রামের জেলে চেতন চন্দ্র দাস বলেন, আগে নদীতে বড় বড় মাছ ছিল, এখন আর নেই। বড় মাছ তো নেই-ই, একটা ইচা (চিংড়ি) মাছও পাওয়া যায় না। জেলে সাধন দাস জানান, লেয়ার মুরগির বর্জ্য এত বেশি পরিমাণে ফেলা হচ্ছে, যা দু'একটা মাছ আছে তাও মরে ভেসে উঠছে। কলেজছাত্র বিদ্যুৎ বলেন, আগে নদীতে নেমে গোসল করতাম আর এখন গোসল করলে চুলকানি হয়।

ধলাপাড়া গ্রামের খামারি গিয়াস উদ্দিন বলেন, বর্জ্য নদীতে ফেলছি। আমার গ্যাস প্লান্ট আছে আর ফেলব না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, সরাসরি লেয়ারের বর্জ্য পানিতে ফেললে সেই দূষিত পানি দ্বারা সেচ কাজ চালালে ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, শুধু মাছ নয়, লেয়ারের বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে জীববৈচিত্র্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। মাছ প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন প্রাকৃতিক মাছ হারিয়ে যাবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, খামারগুলোর আইনগতভাবে কোনো বৈধতা নেই। তাদের প্রাণিসম্পদ অফিসে কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি খামার স্থাপনের কারণে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়, তবে তদন্ত করে খামার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘাটাইলে ব্রিজ ধসে দুর্ভোগে ৭ গ্রামের মানুষ

ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া হয়ে রত্নাআটা ও সরাবাড়ি যাওয়ার একমাত্র রাস্তার খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটির মাঝের অংশ কিছুদিন আগে ধসে পড়েছে। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন সাত গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার লোকের যাতায়াত। ব্রিজটি ধসে পড়ায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী।

রত্নাআটা থেকে ৩ কি.মি. রাস্তার খালের ওপর ব্রিজটি ১৯৭৪-৭৫ সালে নির্মাণ করা হয়। ইতিমধ্যে ব্রিজটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। জানা যায়, রাস্তাটি দিয়ে রত্নাআটা, সরাবাড়ি, কাঁঠালিয়াটা, নোয়াবাড়ি, বাসাবাইদ, কাজলা ও ধলাপাড়ার বড় মেধার গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার লোকের যাতায়াত। এ ছাড়া ধলাপাড়া কলেজ, ধলাপাড়া এসইউপি উচ্চ বিদ্যালয় ও চন্দন বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি।

ধলাপাড়া গ্রামের রানা জানান, ব্রিজটিতে যে গর্ত হয়েছে তাতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ধলাপাড়া চন্দন বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তাসলিমা জানায়, আমরা অনেক দূর থেকে স্কুলে আসি। ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ভ্যান-রিকশা চলাচল করতে না পাড়ায় স্কুলে আসতে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী একেএম হেদায়েত উল্লাহ বলেন, ব্রিজটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় নতুন একটি ব্রিজের প্রস্তাব ওপরে পাঠানো হবে। এলাকাবাসীর চলাচলে সাময়িকের জন্য একটি স্লাব বসানোর ব্যবস্থা করা হবে।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সুযোগ হয়নি যেসব তারকার

অভিজ্ঞতা, ফিটনেস, টিম ব্যালেন্স, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও কন্ডিশন বিবেচনায় বিশ্বকাপের জন্য দল চূড়ান্ত করেছে অংশ গ্রহণকারী ১০টি দেশ।


তবে এসব গুণেগুনান্বিত হওয়া স্বত্ত্বেও বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে সুযোগ হয়নি বেশ কিছু ক্রিকেটারের। আর সেই তালিকায় আছেন বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার তাসিকন আহমেদ ও ইমরুল কায়েস।

বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা তারকা পেসার হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বকাপে সুযোগ হয়নি পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমিরের। যদিও বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ড সিরিজের দলে তাকে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ইংল্যান্ড সিরিজে ভালো করলে বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে পারেন আমির।

চলতি আইপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন রিশব প্যান্ট। দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে রীতিমতো ব্যাটিং তাণ্ডব চালাচ্ছেন তিনি। অথচ এই তরুণ ব্যাটসম্যানকে বাদ দিয়ে অফ ফর্মে থাকা দিনেশ কার্তিককে বিশ্বকাপে নিয়েছে ভারত। অবশ্য অনেক সমালোচনার পর স্ট্যান্ডবাই হিসেবে নেয়া হয়েছে রিশব প্যান্টকে।

শ্রীলংকা ক্রিকেট দলের নিয়মিত পারফর্মার দীনেশ চান্দিমাল। ফর্মে থাকা সত্ত্বেও জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ককে রাখা হয়নি বিশ্বকাপ দলে।

চলতি আইপিএলে দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন কায়রান পোলার্ড, সুনীল নারিন ও জোফরা আর্চার। অভিজ্ঞ পোলার্ড-নারিনের পাশপাশি তরুণ পেসার জোফরাকে ছাড়াই দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড।

একই অবস্থা দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া শিবিরে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকান পেস বোলার ক্রিস মরিসের।

অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বিশ্বকাপ দলে সুযোগ করে নিয়েছেন স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। তাদের কারণে দল থেকে বাদ পড়ে গেলেন ফর্মে থাকা পিটার হ্যান্ডসকম্ব।

আগামী ৩০ মে ইংল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ থেকে এসব তারকা ক্রিকেটারের বাদ পড়া নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। যদিও স্ব স্ব ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচকরা বলছেন ফিটনেস এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে পিছিয়ে থাকায় তাদেরকে রাখা সম্ভব হয়নি।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ছে না

সরকারি চাকরিতে প্রবেশে বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার একটি বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় সংসদ।

আজ বৃহস্পতিবার স্বতন্ত্র সাংসদ রেজাউল করিম ওই সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি এনেছিলেন। কণ্ঠভোটে তাঁর প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

রেজাউল করিমের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সংসদে বলেন, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের যে বয়সসীমা, সবদিক বিবেচনায় সেটাকে সরকার যৌক্তিক বলে মনে করছে। স্বাধীনতার পর প্রেক্ষাপট বিবেচনায় চাকরিতে প্রবেশে বয়সসীমা ২৫ থেকে ২৭ ও পরবর্তীতে ৩০ করা হয়। এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশনজট নেই। ২৩ বছর বয়সে শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাচ্ছেন। ছয়-সাত বছর চাকরির প্রস্তুতির জন্য সময় পাচ্ছেন। তা ছাড়া চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করা হলে পেনশন সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হবে।

এসব বিবেচনায় নিয়ে প্রতিমন্ত্রী স্বতন্ত্র সাংসদ রেজাউল করিমকে তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করবেন না বলে সংসদকে জানান। পরে প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দেওয়া হয়। কণ্ঠভোটে তাঁর প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর প্রস্তাব এনে রেজাউল করিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্বের ১৯২টি দেশের মধ্যে ১৫৫টি দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৫৫ বছর কোথাও কোথাও ৫৯ বছর পর্যন্ত। দেশে এখন শিক্ষিত বেকার ২৮ লাখের বেশি। শিক্ষিত বেকার পরিবারের জন্য বোঝা। শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলন করেছিল। তাঁদের সে সময় রাজাকার, শিবির, জঙ্গি বানানোর চেষ্টা হয়েছিল। এখন চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করছে। চাকরি না পেয়ে অনেক যুবক মাদক, ছিনতাই ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করা উচিত হবে।