রবিবার, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৮

ঘাটাইলে বিএনপি’র চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন লুৎফর রহমান আজাদ

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিএনপি’র চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বিএনপি প্রার্থীদের তালিকা থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ আসনে আওয়ামী লীগ হত্যা মামলায় কারান্তরিন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার পিতা আতাউর রহমান খানকে মনোনয়ন দিয়েছে।

এদিকে টাঙ্গাইল-৩ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী মাইনুল ইসলাম ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী আব্দুর রশিদ মিয়া তাদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। রোববার (৯ ডিসেম্বর) মনোয়নপত্র প্রত্যাহার শেষ দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সহকারি রিটার্নিং কর্মকতার কাছে তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের চিঠি দেন।

এ আসনে লুৎফর রহমান খান আজাদ ধানের শীষ প্রতীকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শামসুর রহমান খান শাহজাহানকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি কয়েকটি মন্ত্রনালয়ের প্রতি মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

আর এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতাউর রহমান খান প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছেন। ২৫ নভেম্বর (রোববার) ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তাকে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়। এর আগে গত ২০ নভেম্বর (মঙ্গলবার) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আতাউর রহমান খানের এই আসনে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সেখানে (ঘাটাইল) আমানুর রহমান খান রানা মনোনয়ন পাচ্ছেন না, পাচ্ছেন আতাউর রহমান খান।’ সূত্র : ঘাটাইল ডট কম।

আর্ন্তজাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসে ঘাটাইলে মানববন্ধন

‘আসুন জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একতা বন্ধ হই’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আর্ন্তজাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে রবিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরের উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মতিয়ুর রহমান খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা আহমেদ।


সভায় বিশেষ অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, সরকারী গণপাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাহারুল ইসলাম, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব লুৎফর রহমান, যুগান্তর সাংবাদিক ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য খান ফজলুর রহমান, সাংবাদিক আতিকুর রহমান, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল লতিফ, মাদ্রাসা সুপার লিয়াকত আলী প্রমুখ।

আলোচনা সভা পরিচালনা করেন সরকারী গণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরাধ কমিটির সদস্য মো. হেলাল উদ্দিন ।

আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয়ের সামনে (টাঙ্গাইল- ময়মনসিংহ) সড়কে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ঘাটাইল স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী সভা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার (৯ ডিসেম্বর) সকালে ঘাটাইল কিন্ডারগার্টেন হল রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মী সভায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হামিদের সভাপতিত্বে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতাউর রহমান খান।

সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মির্জা আনোয়ার হোসেন বাবুল, বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সরকার, ক্রিড়া সম্পাদক শফিক, সহ-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক  দুলাল হোসেন, উপেজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা, দেওপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রোকন তালুকদার, দেওলাবাড়ী ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম রব্বানী, জামুরিয়া ইউনিয়নের সভাপতি শামছুল আলম, ধলাপাড়া ইউনিয়নের সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

১০ ডিসেম্বর ঘাটাইল হানাদারমুক্ত দিবস

উত্তম আর্য্য, ঘাটাইল ঃ আগামী কাল সোমবার ১০ ডিসেম্বর ঘাটাইল উপজেলা এই দিনে হানাদারমুক্ত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২ টা হতে ৫টি কোম্পানি কমান্ডারেরর নেতৃত্বে ও অন্যান্য সহযোগী মুক্তিযোদ্ধার বলিষ্ঠ ভূমিকায় লড়াই শুরু হয়।

এই দিনে কাদেরিয়া বাহিনীর নেতৃত্বে সম্মুখ যুদ্ধে ঘাটাইল মুক্ত হয় এবং বানিয়াপাড়া, ব্রাহ্মনশাসন, কালিদাসপাড়ায় তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। হাবিবুর রহমান বীরবিক্রম এর নেতৃত্বে বানিয়াপাড়ায় প্রতিরোধ গড়ে তোলে, ঘাটাইলে রতনপুর এলাকা থেকে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরত্তোম, মুক্তিবাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার চাঁন মিয়ার নেতৃত্বে কালিদাস পাড়া ও ব্রাহ্মন শাসন তীব্র লড়াই শুরু হলে পিছু হটতে থাকে পাকহানাদার বাহিনী।



ঐ দিন যুদ্ধে ৬ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এরা হচ্ছে-বানিয়াপাড়া যুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী, ব্রাহ্মন শাসন যুদ্ধে শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, আলী আকবর ও মানিক, কালিদাসপাড়া শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান ও আব্দুল আজিজ ঐ দিন খোরশেদ আলম ও ইউনুস আলীর নেতৃত্বে সম্মুখ যুদ্ধে বীরঘাটাইল-গুণগ্রাম ব্রীজের কাছে তীব্র লড়াই শুরু হলে ১৭ জন পাকসেনাসহ আলবদর রাজাকার অনেক অস্ত্রসহ ১’শর বেশি আটক করে। ঘাটাইল উপজেলা হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে সারাদিন ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচীগুলির মধ্যে সূর্যোদয়ের সাথে উপজেলা চত্বরে ১০ বার তপোধ্বনি, সকাল নয়টায় শহীদ মিনার পুষ্পকস্তবক অর্পণ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতকা ও মুক্তিযোদ্ধা পতাকা উত্তোলন, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনাসভা।

ঘাটাইলে সরিষা চাষে ব্যাপক সফলতা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় বর্তমান মৌসুমে বিভিন্ন ইউনিয়নের চাষিরা রবি শষ্যের মধ্যে সরিষা আবাদে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে।সরিষার মুল্য বেশী হওয়াতে কৃষকরা ঝুকে পড়েছে সরিষা চাষে।চারিদিকে শোভা পাচ্ছে সরিষা ফুলের সৌন্দর্য।

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায় কৃষি ক্ষেত্রে যতগুলি রবি শষ্য আছে তার মধ্যে সরিষা অন্যতম। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ১৭৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করলেও বর্তমানে ১৪০০ হেক্টও জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে।ঘাটাইল উপজেলা ১৪টি ইউনিয়নের দিগলকান্দি, লোকের পাড়া, জামুরিয়া,সন্ধ্যানপুর কিছু এলাকা নিয়ে সরিষা আবাদ হচ্ছে।গতবছর ১৪৫০ হেক্টও জমিতে সরিষা আবাদ হলে এ বছর ৫ হেক্টর চাষ কম হচ্ছে।কারন হিসেবে জানা যায় বোরো ধান চাষ হওয়াতে দেরীতে ধান কাটাতে হয় বলে সে সব জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে না।টরি৭/বারি১৪/বারি১৭ জাতের সরিষা বর্তমানে এলাকায় বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।বারি ১৪জাতের সরষিার আগেই রোপন করা যায় এবং অনেক ফলন বেশী হয়।লক্ষমাত্রা অনুযায়ী বিগাপ্রতি ১.২ মেট্রিক টন মোট ১৬৮০ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন হবে।এ থেকে ১৫০০/২০০০ টাকা মন বিক্রি করা যাবে বলে অফিস সুত্রে জানা যায়।



ঘাটাইলে সরিষা চাষের সফলতা সম্পর্কে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মতিন বিশ্বাস জানায় বর্তমানে সরষিা চাষ যে পরিমানে চচ্ছে আরো বাড়ানোর জন্য চাষিদের প্রশিক্ষনের দেওয়া হচ্ছে। মৌমাছি তার পরাগায়নের মাধ্যমে সরিষা বীজ ভলো হয় সে দিকে লক্ষ রেখে সরিষা চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।