বুধবার, জানুয়ারি ০৯, ২০১৯

কালিহাতীতে ইয়াবা সহ ঘাটাইলের বাচ্চু আটক

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৯৯পিস ইয়াবা সহ ১ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে টাঙ্গাইল র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃত আসামী হচ্ছে ঘাটাইলের হামিদপুর এলাকার দিনু মিয়ার ছেলে মো. বাচ্চু মিয়া (৪০)।

গত মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) রাতে টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর বিশেষ অভিযানে কালিহাতী উপজেলার উত্তর বেতডোবা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো.হাসান আরাফাত জানান, গোঁপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিহাতী উপজেলার উত্তর বেতডোবা এলাকা থেকে বাচ্চু মিয়াকে আটক করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশি করে ৯৯পিস ইয়াবা, ১টি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৪,২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

বাচ্চু মিয়া এলাকা ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসা করে আসছিল। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদক বিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

ঘাটাইলে মাদক সম্রাট শাহাদ আলী ৪ কেজি গাজাসহ আটক

মঙ্গলবার রাত ৯টায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা সাগরদিঘী ইউনিয়নের হাতিমারা নামক স্থান থেকে ৪ কেজি গাজা সহ মাদক সম্রাট মোঃ শাহাদ আলী (শাহেদ৫৮) আটক করেছে সাগরদিঘী তদন্ত কেন্দ্রর পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যাক্তি হাতী মারা গ্রামের মৃত মেহের আলীর ছেলে।তাকে বুধবার জেল হাজতে প্রেরন করা হয়। সাগরদিঘী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম জানায়, ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের হাতীমারা গ্রামের মৃত মেহের আলীর ছেলের শাহাদ আলী দির্ঘদিন যাবৎ মাদক পাচার ও বিক্রি করে আসছে।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক পাচারের সময় ৪কেজি গাজা সহ হাতে নাতে ধরে ফেলে পুলিশ।



মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মোঃ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার জানান তিনি একজন পেশাদার মাদদ ব্যাবসায়ী তার বিরুদ্ধে থানায় এক অধিক মামলা রয়েছে তাকে জেলা হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

ঘাটাইলে প্রানীসম্পদ প্রযুক্তি ব্যাবস্থাপনা ও ব্যাবহার বিষয়ে প্রশিক্ষন

বুধবার সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ২নং ঘাটাইল ইউনিয়ন, জামুরিয়া ইউনিয়নের ৩০জন সিআইজি সদস্যদের নিয়ে গাভীপালনে আধুনিক প্রানীসম্পদ প্রযুক্তি ব্যাবস্থাপনা ও ব্যাবহার বিষয়ে প্রশিক্ষন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ ২ প্রজেক্ট(এনএটিপি) এর সহযোগিতায় উপজেলা প্রানীসম্পদ দপ্তর বাস্তবায়িত প্রানীসম্পদ অফিস কার্যালয়ে প্রশিক্ষন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঘাটাইল উপজেলা প্রানীসম্পদ অফিসার (ইউএলও) আব্দুল মান্নান, ভেটেরিনারী সার্জন (ভিএস) বাহাউদ্দিন সরোয়ার রিজভী, উপজেলা প্রানীসম্পদ সম্প্রসারন কর্মকর্তা অমিত সাহা প্রমুখ ।

ঘাটাইলে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শীতের সকালে এক দশক আগেও চোখে পড়তো রসের হাড়ি ও খেজুর গাছ কাটার সরঞ্জামসহ গাছির ব্যস্ততার দৃশ্য। সাত সকালে খেজুরের রস নিয়ে গাছিরা বাড়ি বাড়ি হাকডাক দিতেন।

শীতের মৌসুম শুরু হতে না হতেই বাড়ি বাড়ি চলতো খেজুরের রস কিংবা রসের পাটালি গুড় দিয়ে মজাদার পিঠাপুলির আয়োজন।তবে গ্রামবাংলার এ দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। এর প্রধান কারণ বিভিন্ন কারনে খেজুর গাছ নিধন। এতে দিনে দিনে ঘাটাইলে কমছে খেজুরের গাছ। দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে খেজুরের রসও।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, দিনে দিনে শরীয়তপুরে খেজুর গাছ কমতে থাকলেও হারিয়ে যায়নি।সুস্বাদ ও পিঠাপুলির জন্য অতি আবশ্যক উপকরণ হওয়ায় এখনও খেজুর রসের চাহিদা রয়েছে। তবে আগের মত খেজুরের রস ও গুড় পাওয়া যায় না। পেলেও আগের চেয়ে ১০ গুন বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়।

এদিকে, শীত মৌসুম ঘনিয়ে আসতেই ঘাটাইলের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে খেজুর গাছের রস আহরণের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন গাছিরা। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক এই মধুবৃক্ষ (খেজুর গাছ) ঘিরে গ্রামীণ জনপদে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তুলনামূলক ভাবে ঘাটাইলের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে খেজুর গাছ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। গ্রামের মাঠে আর মেঠোপথের ধারে কিছু গাছ দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এই খেজুরগাছ আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। যে হারে খেজুরগাছ নিধন হচ্ছে সে তুলনায় রোপণ করা হয় না।শীত মৌসুমে সকালে খেজুরের তাজা রস যে কতটা তৃপ্তিকর তা বলে শেষ করা যাবে না।আর খেজুর রসের পিঠা এবং পায়েস তো খুবই মজাদার। এ কারণে শীত মৌসুমের গ্রামাঞ্চলে রসের ক্ষীর, পায়েস ও পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। শুধু খেজুরের রসই নয়,এর থেকে তৈরি হয় গুড় ও প্রাকৃতিক ভিনেগার। রস আর গুড় ছাড়া আমাদের শীতকালীন উৎসব ভাবাই যায় না।

উপজেলার মোঃহযরত আলী সরকার বলেন, কাঁচা রসের পায়েস খাওয়ার কথা এখনো ভুলতে পারিনা। আমাদের নাতি-নাতনীরা তো আর সেই দুধচিতই, পুলি-পায়েস খেতে পায় না। তবুও ছিটেফোঁটা তাদেরও কিছু দিতে হয়। তাই যে কয়টি খেজুর গাছ আছে তা থেকেই রস,গুড়, পিঠাপুলির আয়োজন করা হয়।

গাছি আঃ লতিফ জানান, খেজুরের গাছকমে যাওয়ায় তাদের চাহিদাও কমে গেছে।আগে এই কাজ করে ভালোভাবেই সংসার চালাতেন। এমনকি আগে যে আয় রোজগার হতো তাতে সঞ্চয়ও থাকতো, যা দিয়ে বছরের আরো কয়েক মাস সংসারের খরচ চলতো। গ্রামে যে কয়েকটা খেজুর গাছ আছে তা বুড়ো হয়ে যাওয়ায় রস তেমনপাওয়া যায়না।রস বাজারে বিক্রির মতোআগের সেই অবস্থা নেই।

তিনি জানান, এইতো কয়েক বছর আগে এক হাড়ি খেজুর রস বিক্রি করতাম ২০ টাকা। এখন খেজুর গাছ না থাকায় সে রসের দাম বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা।জানা গেছে, ইটের ভাটায় ব্যাপকভাবে খেজুর গাছ ব্যবহার করায় এ গাছ কমে গেছে।খেজুর গাছ সস্তা হওয়ায় ইটের ভাটায় এই গাছই বেশি পোড়ানো হয়। এছাড়া অনেক সময় ঘরবাড়ি নির্মাণ করার জন্য খেজুরের গাছ কেটে ফেলা হয়। ফলে দিন দিন খেজুর গাছ কমে যাচ্ছে।