মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

ঘাটাইলে ৭১তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত

“মানবাধিকার সুরক্ষায় তারুন্যের অভিযাত্রা”এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ৭১তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়েছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন উপজেলা ও পৌর শাখা আয়োজিত এ দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা চত্বর থেকে একটি র‌্যালি বের হয়।

র‌্যালিতে অংশগ্রহন করেন স্থানীয় সাংসদ আতাউর রহমান খান, উপজেলা চেযারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুল ইসলাম, পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান খান, জিবিজি সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল আলম মনি, উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি এমদাদুল হক খান, সাধারন সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম খান, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক দৈনিক যায়যায়দিন ঘাটাইল প্রতিনিধি উত্তম আর্য্য, বিআরডিবির চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল আমীন, পৌর শাখার সাধারন সম্পাদক আমার সংবাদ পত্রিকার ঘাটাইল প্রতিনিধি আব্দুল লতিফ প্রমুখ।

দায়সাড়াভাবে পালিত হলো ঘাটাইল হানাদার মুক্ত দিবস

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার পর একটি র‌্যালী করার মাধ্যমে এবং উপজেলা মিলনায়তনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

এ উপলক্ষে কোন আলোচনা সভা হয়নি। করা হয়নি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ। অন্যান্য বছরে বিভিন্ন কর্মসূচি ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধারা এ দিবসটি পালন করতেন। সে পরিবেশ লক্ষ্য হয়নি এ বছরে আজকের এ দিবসটিতে। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলনা আনন্দ ও উদ্দীপনা, ছিল সর্বত্র ক্ষোভ এবং অসন্তোষ। ইতিপূর্বে সরকারি বেসরকারি অফিস, শহরের বিভিন্ন দোকানপাটে জাতীয় পতাকা উড়তো অথচ আজকের এ গুরুত্বপূর্ণ দিবসটিতে ঘাটাইলের কোথাও উঠেনি জাতীয় পতাকা। যা চরম অবমাননাকর এবং মুক্তিযোদ্ধাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার সামিল।

উপজেলা মিলনায়তনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে একমাত্র স্থানীয় এমপি আতাউর রহমান খান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখলেও উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়রসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক নেতৃবৃন্দ কাউকে বক্তৃতার সুযোগ দেয়া হয়নি।
মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী হীরা বলেন, অচল পয়সার মূল্য আছে আজকের পরিবেশ দেখে মনে হলো মুক্তিযোদ্ধাদের কোন মূল্য নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে নেতৃত্বের কোন্দল সৃষ্টি করায় এহেন অবস্থা আমাদের দেখতে হচ্ছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এবারই দেখলাম ঘাটাইল উপজেলার সকল কর্মকান্ড রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ববিহীন অবস্থায় পালিত হচ্ছে। এতে করে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আলোচনার সমালোচনার ঝড় বইছে। ১০ ডিসেম্বর ঘাটাইলে হানাদার মুক্ত দিবস যে দায়সাড়াভাবে পালিত হলো এবং মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অবমূল্যায়ন করা হলো এমন নজির ইতিপূর্বে দেখিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, দিবসটি জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে পালনের জন্য আমি মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা চেয়েছি তারা এগিয়ে আসেননি।

দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র শহীদুজ্জামান খান, সরকারি জিবিজি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামছুল আলম মনি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. তোফাজ্জল হোসেন, ডেপুটি কমান্ডার শাহনেওয়াজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা সুলতানা (শিল্পী), সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ মিয়া, এমদাদুল হক খান হুমায়ুন প্রমুখ।

ঘাটাইলে অগ্নিকান্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) ভোররাতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অগ্নিকান্ডে একটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ঘরের ভিতরে থাকা টিভি, ফ্রিজ, স্বর্নালংকার ও সকল আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।

উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের কামারচালা গ্রামে সাবেক ইউপি সদস্য আতাব আলীর বাড়িতে অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টাকা। প্রতিবেশীরা জানান, ঘরের মালিক সাবেক ইউপি সদস্য আতব আলীর ছেলে সৌদি প্রবাসী নজরুল ইসলাম। তার স্ত্রী ঘরটি তালাবদ্ধ করে বাবার বাড়িতে যান। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) ভোর রাতে ঘরের চারদিকে দাউ দাউ করে হটাৎ আগুন জ্বলতে দেখে বাড়ির লোকজন । পরে বাড়ির লোকজনের ডাক চিৎকারে আশে পাশের লোকজন দৌড়ে যায়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। তৎক্ষনে ঘরের টিভি ফ্রিজসহ সকল আসবাপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। নজরুলের ভাই মসলিম জানান, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রায় ৭ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্রতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হয়। সংগ্রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমও অগ্নিকান্ডের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

শাহীনুর রহমান উপজেলার শ্রেষ্ঠ এসএমসি সভাপতি

ঘাটাইল উপজেলার শ্রেষ্ঠ এসএমসি (স্কুল ম্যানেজিং কমিটি) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ শাহীনুর রহমান (শাহীন)।  তিনি ঘাটাইল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি’র  বর্তমান সভাপতি।

জাতীয় প্রাথমিক  শিক্ষা পদক-২০১৯ উপলক্ষে শ্রেষ্ঠ এসএমসি বাছাই কমিটি বিভিন্ন ক্যাটাগরি বিচার করে তাকে  উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ এসএমসি সভাপতি নির্বাচিত করেন। ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ কামরুল ইসলাম শ্রেষ্ঠ এসএমসি নির্বাচন কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান  সদস্য সচিব ছিলেন।

আজ ১০ ডিসেম্বর ঘাটাইল হানাদার মুক্ত দিবস

আজ ঘাটাইল হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদারের কবল থেকে মুক্ত হয় ঘাটাইল। দীর্ঘ নয় মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঘাটাইলের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কাদেরিয়া বাহিনীতে বিশেষ বীরত্বের অবদান রাখেন এই এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা। কাদেরিয়া বাহিনীর নেতৃত্বে যমুনা নদীতে পাকিস্তানী যুদ্ধ জাহাজ ধবংস করা হয়।

এ সময় মুক্তিসেনারা ২১ কোটি টাকার গোলা বারুদ ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে মুক্তিযুদ্ধের নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে কাদেরিয়া বাহিনী পাকিস্তানী বাহিনী ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে দুর্বার লড়াই গড়ে তুলেন। মাকড়াই যুদ্ধে কাদের সিদ্দিকীর হাতে গুলি লাগলে তিনি মারাত্বক আহত হন। ৭ ডিসেম্বর ভুঞাপুর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় ৮ ডিসেম্বর রাত্রেই ঘাটাইলের প্রতিটি পাকবাহিনীর অবস্থানে এক যোগে আক্রমন করা হবে খোদ কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে।

এই মর্মে প্রতিটি কোম্পানী ও কোম্পানী কমান্ডারদের আক্রমন স্থল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এই লক্ষে ৫ হাজার মক্তিযোদ্ধাকে ৩০টি কোম্পানীতে বিভক্ত করে ৫টি মূল দলে ভাগ করে আক্রমনের স্থান নির্ধারণ করা হয়। ৮ ডিসেম্বর রাত ১১টায় হাবিবুল হক বেনুসহ আরও একটি কোম্পানী রতনপুর অবস্থান নেয়। গোলাপের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে বানিয়া পাড়া সেতুর পশ্চিম পাশে তেলেঙ্গাপাড়া গ্রামে অবস্থান নেয়। ৯ ডিসেম্বর কাদের সিদ্দিকীর নিদের্শ অনুযায়ী কালিদাস পাড়া, গুণগ্রাম, ঘাটাইল সদর ও বানিয়াপাড়া সেতু একযোগে আক্রমণ করা হবে। সে পকিল্পনা মোতাবেক ভোর চারটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত চতুর্দিক থেকে বৃষ্টির মত গুলি ছুড়তে ছুড়তে ঘাটাইল থানা আক্রমণ করেন মুক্তি বাহিনীরা। পরে কমান্ডার হাবিব ভোরে বানিয়া পাড়া সেতু, মেজর মোস্তফা কালিদাস পাড়া সেতু দখল করে ঘাটাইল থানার দিকে অগ্রসর হন। কাদের সিদ্দিকী নিজেই পশ্চিম দিক থেকে আক্রমণ করেন। এ যুদ্ধে ৫০ জন পাকিস্তানীহানাদার নিহত ও ১৫০ জন বন্দী হয়। এই দিন সম্পূর্ণরূপে ঘাটাইল থেকে হানাদার মুক্ত হয়। দিবসটি পালন উপলক্ষে ঘাটাইল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করেছেন।