মঙ্গলবার, জুলাই ৩০, ২০১৯

নয়নের উদ্ধার করা ল্যাপটপে পাওয়া গেছে প্রচুর পর্ন ভিডিও

গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে শুধু একটাই আলোচনা চলছে। স্ত্রীর সামনে স্বামীকে খুন। আর তাও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল শ খানেক লোক। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসল না।

এ নিয়ে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। রিফাত শরীফের (২২) মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে চলছে শোকের মাতম।এদিকে রিফাত শরীফ হত্যার মূল নায়ক সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ডের মৃত্যুর পর তার সম্পর্কে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে।

তার সম্পর্কে মুখ খুলতে শুরু করেছেন তার প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। ছিঁচকে চোর থেকে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হয়ে ওঠা নয়ন বন্ডের মাদক, নারী, অবৈধ টাকা এসবের সঙ্গে ছিল নিত্য আনাগোনা। জনপ্রিয় বন্ড সিরিজের নাম থেকেই নিজের নাম রাখে নয়ন বন্ড।

বরগুনা শহরের কলেজের পাশেই তার বাড়ি। ফলে কলেজের আশপাশেই সময় কাটতো তার বেশি। কলেজের পাশের পরিত্যক্ত ইটের ঘেরা একটি জায়গায় ছিল নয়নের আস্তানা। ওই আস্তানার কক্ষে ছাত্রীদের নিয়ে ফূর্তি করতো নয়নবন্ড। এদের মধ্যে কাউকে ব্ল্যাকমেইল কাউকে ভয় দেখিয়ে আবার কাউকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নিয়ে যেত নয়নবন্ড।

সেখানে নিয়ে ছাত্রীদের ধর্ষণের সময় বিশেষভাবে রাখা ক্যামেরায় ভিডিও করে রাখতেন তিনি। পরে ওই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ছাত্রীদের সঙ্গে আপত্তিকর কাজে লিপ্ত হতেন। তার হাতে ঠিক কতজন ছাত্রীর সর্বনাশ হয়েছে তার সঠিক হিসাব পুলিশের কাছেও নেই। তবে নয়নের বিশেষ কক্ষ থেকে উদ্ধার করা একটি ল্যাপটপে প্রচুর পর্ন ভিডিও পাওয়া গেছে।

ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকটি পর্ন ভিডিওতে কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে নয়ন বন্ডের অন্তরঙ্গ মহুতের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ভিডিওর পাত্র পাত্রীদের মধ্যে নয়ন বন্ডের চেহারা স্পষ্ট। শুধু তার বিছানা সঙ্গী হওয়া তরুণীদের কারো কারো চেহারা অস্পস্ট।

একেকদিন একেক ছাত্রীকে নিয়ে তিনি ফুর্তিতে মেতেছেন। রিফাতের স্ত্রী মিন্নিও তার লালসার শিকার হয়েছেন। এমন অন্তত ১২ ছাত্রীর সম্ভ্রম হারানোর তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। এর বাইরেও অনেক ছাত্রী নয়নের লালসার শিকার হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, নয়ন বন্ডের বিশেষ কক্ষের গোপন জায়গায় আইপি ক্যামেরা (ইন্টারনেট ক্যামেরা) সুকৌশলে সেট করা থাকতো। এমনভাবে সেগুলো সেট করা থাকতো যে ভুক্তভোগীরা ক্যামেরার অস্তিত্ব টের পেতেন না। একবার নয়নের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার পর তার আর রক্ষা ছিল না।

বার বার সে নয়নের হাতে ব্যবহৃত হত। ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হত অনেক ছাত্রীকে। অনেক ছাত্রী নয়নের হাত থেকে বাঁচতে কলেজ ছেড়ে আড়ালে চলে গেছেন। অনেকে তার চাহিদামত মোটা অংকের টাকা তুলে দিয়ে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

পুলিশের হাতে এমন অন্তত ১২ জন ছাত্রীর তথ্য আছে বলে জানা গেছে। নয়ন নিহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কে বা কারা এসব ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছে তার সন্ধান করতে পারেনি পুলিশ।

নয়ন বন্ডের বাড়ি বরগুনা শহরের ডিকেপি রোডের মাঝ বরাবর একটি সরু গলির শেষ প্রান্তে। বাড়ির সামনে অনেকটা জায়গা খালি। সম্প্রতি সেখানে বাড়ি নিমানের জন্য প্রচুর ইট স্তুপ করে রাখা। নয়নের বাড়ির মূল দরজার পাশেই একটা ছোট বৈঠক ঘর। নয়ন সেখানেই থাকতেন।

গভীর রাত পযন্ত ঘরের দরজা খোলা থাকতো। সারাদিন এখানে সেখানে ঘোরাঘুরি করে গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন। রাত ১২ টার পর থেকেই তার কক্ষে নানা রকম লোকজনের আনাগোনা হত। আসতেন পুলিশের লোকজনও।

প্রতিবেশিরা বলছেন, পুলিশের অসাধু কয়েকজন সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারা নয়নকে ব্যবহার করে নিবিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। সূত্র বলছে, মাদক ব্যবসায়ী নয়ন নিজেও মরণ নেষা ইয়াবায় আসক্ত ছিলেন। কলেজ ঘেষা বাড়িটিকে প্রকাশ্যে তিনি মাদক বিক্রির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করেন।

এ ব্যাপারে নয়ন বন্ডকে নিয়ে তার মা সাহিদা বেগম বলেন, ছেলেকে ভালো করার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু একা একা পারিনি। আমার দুটি ছেলে। একটা বিদেশে থাকে। স্বামীকে হারিয়েছি অনেক আগে। নয়নকে সঙ্গে নিয়ে থাকতাম। কিন্তু নয়ন নেশাগ্রস্ত হয়ে গেল। ছেলেকে ভালো পথে ফিরিয়ে আনতে পারিনি। বলতে পারেন আমি একজন ব্যর্থ মা।

তিনি বলেন, তবে ছেলেটা অপরাধী হলে আইনের হাতে তুলে দিতে পারত। তার বিচার হতো। আদালত যে শাস্তি দিত তা সে ভোগ করত। কিন্তু তাকে ক্রসফায়ারের নামে মেরে ফেলল। কেন তাকে মেরে ফেলা হলো। তাকে যারা নয়ন বন্ড বানিয়েছে তাদের আড়াল করতেই কি তাকে মেরে ফেলা হলো?

যে কারণে ১০ তলার কার্নিশে ঝুলছিল গৃহকর্মী

রাজধানীর কাকরাইলের কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির পাশে ১৫ তলা একটি ভবনের দশম তলার বারান্দার কার্নিশে ঝুলে ছিল এক কিশোরী।ভবনটি অধিক উচ্চতার হওয়া প্রথমে বিষটি খেয়াল করতে পারিনি পথচারীরা।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে সেখানে উৎসুক মানুষের জটলা বাধে। খবর পেয়ে আসে পুলিশও। ততক্ষণে বারান্দারা গ্রিলের জানালা খুলে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন ওই নারী।

তবে ঘটনাটি কি ছিল যার জন্য এই কিশোরী কার্নিশে ঝুঁকি নিয়ে ঝলেছিল। পুলিশ জানায়, খাদিজা (১৪) নামের এই কিশোরী দশ তলায় বি-১০ ফ্ল্যাটে হাবিবুর রহমান ও লাভলী রহমানের গৃহকর্মী। অন্য এক গৃহকর্মীর সঙ্গে ঝগড়া করে সে বারান্দার গ্রিলের ফোকর দিয়ে পালাতে চেয়েছিল। তবে গৃহকর্ত্রী লাভলী রহমান তাকে উদ্ধার করেন।

লাভলী রহমান পুলিশকে জানিয়েছেন, খাদিজা ও হেলেনা নামে তার দুই গৃহকর্মী রয়েছে। দুজনের মধ্যে ঝগড়ার পর খাদিজা পালাতে চেয়েছিল। তাকে উদ্ধারের পর তিনি স্বজনদের খবর দিয়েছেন।

খাদিজা এক বছর ধরে তার বাসায় ছিল। তার বাড়ি সিলেটে।

তবে ওই কিশোরীর ঝুলে থাকা ছবিতে দেখা গেছে, বারান্দার ভেতর থেকে এক নারী তার দিকে তাকিয়ে কিছু বলছিলেন। তবে তাদের মধ্যে কি কথা হয়েছে তা জানা যায়নি। এছাড়া মেয়েটি ঝূঁকিপূর্ণভাবে ঝুলে আছে, নিচ থেকে তা ঠিক বোঝাও যায়নি।

তবে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ জানিয়েছে, ওই গৃহকর্ত্রী মেয়েটিকে পুলিশের সামনেই গালাগাল করছিলেন। সোফায় বসিয়ে ঘটনা জানার চেষ্টা করলেও গৃহকর্ত্রী তাকে সোফায় বসতে দেয়নি। এই নারী নিজেকে মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দেন।

রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম বলেন, ওই নারী গৃহকর্ত্রীকে কোনো মারধর করেছে কিনা তা জানতে চাইলেও সে তা অস্বীকার করেছে। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

চট্টগ্রামের চাবি সাকিবের হাতে

বিশ্বের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের হাতেই সম্মানসূচক চট্টগ্রামের চাবি তুলে দিলেন নগর পিতা আজম নাছির উদ্দিন। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) ক্রিকেট কমিটির উদ্যোগে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ চাবি তুলে দেয়া হয়েছে। এই সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের ভিতরে-বাইরে সাকিব ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। প্রিয় ক্রিকেটারকে এক নজর দেখতে স্টেডিয়ামের গ্যালারি পরিপূর্ণ। হাজার কন্ঠে ‘সাকিব, সাকিব’ শব্দে মুখরিত হয় পুরো স্টেডিয়াম পাড়া।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) ক্রিকেট কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান যখন অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন, তখন এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের চিত্র ছিলো এমনি। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অসাধারণ পারফরমেন্সের জন্য সাকিব আল হাসানের জন্য এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের প্রথম কোনো খেলোয়াড় হিসেবে সাকিব আল হাসানের হাতে সম্মানসূচক ‘নগর চাবি’ তুলে দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, সাকিব শুধু একটি নাম নয়, নিজ গুণে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন। সাকিবের অসাধারণ পারফরমেন্স এর কারণেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মঞ্চে ভালো খেলেছে। তার প্রতি সারাদেশের মানুষের সঙ্গে চট্টগ্রামবাসীও কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, সাকিবের সঙ্গে দীর্ঘদিন মেশার কারণে বুঝেছি চট্টগ্রামের প্রতি, চট্টগ্রামের মানুষের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা আছে। চট্টগ্রামকে তিনি নিজের এলাকায়ই মনে করেন। দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বিশ্ব বরেণ্য এ ক্রিকেটারকে ‘নগর চাবি’ দেয়া হচ্ছে। তাকে সম্মানিত করে চট্টগ্রামবাসীই সম্মানিত হলো।
মেয়র বলেন, কোটি ক্রিকেট ভক্তের মতো খুদে ক্রিকেটারদের কাছেও সাকিব স্বপ্নপুরুষ। তাকে কাছে পেলে খুদে ক্রিকেটাররা অনুপ্রাণিত হবে। এ জন্য এ অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে চট্টগ্রামের খুদে ক্রিকেটারদের কথা বলার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। যাতে চট্টগ্রাম থেকে সাকিব, তামিম বা মাশরাফির মতো মানের ক্রিকেটার উঠে আসে। সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ও সিজেকেএস ক্রিকেট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলী আব্বাস বলেন, ক্রীড়াবান্ধব মেয়র হিসেবে পরিচিত পাওয়া চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সার্বিক সহায়তার কারণেই সাকিবকে সম্মানিত করার মতো অসাধারণ একটি আয়োজন আমরা করতে পেরেছি। এ জন্য তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আবু হাসান সিদ্দিক বলেন, সাকিবের কারণেই সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আজ পরিচিত। সাকিব আমাদের কাছে শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনিই আমাদের বাংলাদেশ। তার মতো ব্যক্তিকে সম্মানিত করতে পেরে আমরা সম্মানিত হলাম। তাকে কাছে পেয়ে এখানকার তরুণরাও অনুপ্রাণিত হবে। চসিক কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সিরাজ উদ্দীন, সদস্য আব্দুল হান্নান আকবর।

বক্তৃতা পর্ব শেষে সাকিবের হাতে সম্মানসূচক ‘নগর চাবি’ তুলে দেন, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, নেছার উদ্দীন মঞ্জু, জোবাইদা নার্গিস খান এবং চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দৌহা। অনুষ্ঠানে সাকিবের হাতে সিজেকেএস এর পক্ষ থেকে ক্রেস্ট তুলে দেন সিজেকেএস এর সহ সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আবু হাসান সিদ্দিকসহ সিজেকেএস এর ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট তুলে দেন সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিনিয়র সহ সভাপতি সালাউদ্দীন রেজা, সহ সভাপতি মনজুর কাদের মনজু, যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

বিমানে জন্ম, আজীবন আকাশ ভ্রমণ ফ্রি!

ভারতের বেসরকারি এয়ারলাইন্স জেট এয়ারওয়েজে এক শিশু জন্ম নিয়েছে। সৌদি আরব থেকে ভারত যাওয়ার পথে শিশুটির জন্ম হয়। ওই বিমান কর্তৃপক্ষ শিশুটির আজীবন বিনামূল্যে আকাশ ভ্রমণের সুবিধা করে দিয়েছে। তবে শিশুটি পৃথিবীতে আসার ব্যাপারটি সহজ ছিল না।

বিমান কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, বিমানটি তখন ৩৫ হাজার ফুট উঁচুতে। হঠাৎ করে গর্ভবতী এক নারীর নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রসব ব্যথা শুরু হয়। বিমানে কোনো ডাক্তার না থাকায় একজন ক্রু ও এক যাত্রী নারীটিকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। অবশ্য তারা দুইজনই ছিলেন প্রশিক্ষিত নার্স।
তাদের সাহায্যে প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উঁচুতে মধ্য আকাশে জন্ম হয় শিশুটির। জেট এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি মুম্বাই পৌঁছানোর পর মা ও শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিমান কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছে। সফলভাবে একটি ছেলের শিশুকে পৃথিবীতে আনতে প্রসবকাজে সহায়তার জন্য বিমানের ওই যাত্রী ও কেবিন ক্রুকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছে জেট এয়ারওয়েজ।

এর আগে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ৪২ হাজার ফুট উঁচুতে এক শিশুর জন্ম হয়েছিল। প্রসঙ্গত, বেশিরভাগ এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুযায়ী, গর্ভবতী নারীদের গর্ভধারণের ৩৬ সপ্তাহ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের বিমানে চড়তে কোনো বাধা নেই।তবে এক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীদের ডাক্তারের স্বাক্ষরসহ একটি চিঠি দেখাতে হয় যে তাদের গর্ভধারণের কত সপ্তাহ পার হয়েছে।

ঘাটাইলে হেরোইনসহ নারী গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর) ৫ গ্রাম হেরোইন সহ জোসান বেগম (৩২) নামে একনারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি ভূয়াপুর উপজেলার বীর হামদি গ্রামের বিপ্লব মিয়ার স্ত্রী।

জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর) এর অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে এস আই নুরুজ্জামান, এ এস আই সুমন চৌধুরী ও এ এস আই আবুল হাশেমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘাটাইল উপজেলার লোকের পাড় এক মাদক বিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় স্থানীয় শাহজাহান তালুকদারের বাড়ীর সামনে থেকে জোসনা বেগমকে ৫ গ্রাম হেরোইন সহ হাতে নাতে গ্রেপ্তার করে।

এ ব্যাপারে গোয়েন্দা পুলিশের এস আই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে সোমবার ঘাটাইল থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।


ঘাটাইলে জেএসসি শিক্ষার্থীদের ফরম পুরণের জন্য আর্থিক সহায়তা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং শতভাগ পাশ নিশ্চিত করনের লক্ষে গুডনেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির উদ্যোগে  বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮৭ জন  জেএসসি পরীক্ষার্থীদের  মাঝে ফরম পুরনের জন্য  ৫শত করে মোট ৪৩ হাজার ৫ শত  টাকা বিতরণ করা হয় ।  


মঙ্গলবার  (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার শালিয়াজানি  গুড নেইবারস বাংলাদেশ  ঘাটাইল সিডিপি প্রাঙ্গনে এ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।   

 বিতরণ অনুষ্ঠানে গুড নেইবারস বাংলাদেশ ঘাটাইল সিডিপির ম্যানাজার  মো.জাহাঙ্গীর আলম   সভাপতিত্ব করেন। 


এ সময়  উপস্থিত ছিলেন,ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো.নজরুল ইসলাম, গুড নেইবারস বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা,প্রোগ্রাম অফিসার বিপ্লব কুমার, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল লতিফ,বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন গুডনেইবারস  উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো.মোশারফ হোসেন ।

ঘাটাইলে বিশেষ বরাদ্দকৃত বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বিতরণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিশেষ বরাদ্দকৃত বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আতোয়ার রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম বিন্তে হুসাইয়ন (খেয়া)। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা সুলতানা শিল্পী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম ও মনিরুজ্জামান।

এসময় ১২০ জনের মাঝে বিশেষ বরাদ্দকৃত বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড বিতরণ করা হয়।

ঘাটাইলে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সাথী (২০) নামের এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নিহতের শ্বশুরবাড়ি ঘাটাইলের দিগড় ইউনিয়নের ধোপাজানি (কালিদাসপাড়া) গ্রামে। এ ঘটনায় সোমবার সাথীর বাবা হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নিহতের স্বামী আলম, শ্বশুর বেলায়েত হোসেন, দেবর সজিব (৩০) ও শাশুড়ি নুরনাহার বেগমকে (৬০) আসামি করা হয়েছে।


নিহত সাথী মধুপুর উপজেলার গাংগাইর গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে ও ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের ধোপাজানি (কালিদাসপাড়া) গ্রামের বেলায়েত হোসেনের স্ত্রী। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
জানা গেছে, অকারণে মাঝে মাঝেই তার স্ত্রী সাথীকে অকথ্য গালিগালাজ ও নির্যাতন করতো। এক পর্যায়ে সাথীকে তার স্বামী দেবর ও শাশুরি মিলে নির্যাতন করে ঘরে আটকে রেখে দুই দিন না খাইয়ে রাখে। এতে সাথী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দুদিন পর গত ২০ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাথীর গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিলে তার আত্মচিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে আসে। ততক্ষণে আগুনে ঝলসে গিয়ে শ্বাসনালীসহ শরীরের ৭৬% অংশ পুড়ে যায়।

মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঘাটাইল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ২৬ জুলাই সেখানে তার মৃত্যু হয়।

সাথীর মা রাশিদা বেগম বলেন, ৬ বছর আগে আমার মেয়ে সাথীকে ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের ধোপাজানি (কালিদাসপাড়া) গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে আলমের (৩০) সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের ২-৩ বৎসর পর থেকেই আমার মেয়েকে নির্যাতন করতে থাকে। নির্যাতনের পরেও ‘বুকে পাথর বেঁধে’ আমার মেয়ে সব কিছুই সহ্য করেছে।

ধোপাজানি গ্রামের স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মনিরুজ্জামান মনির জানান, তাদের দাম্পত্য জীবনে যে কলহ হয়েছে তা আমাকে কখনো জানানো হয়নি। ঘটনার পরে জানতে পারলাম ভেতরে ভেতরে তাদের কলহ চলছিল। দুই দিন না খাইয়ে রাখা হয়েছিল।

ঘাটাইল থানার ওসি মো. মাকছুদুল আলম বলেন, মানসিক অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে নিজের গায়ে নিজেই কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাড়াতাড়িই মামলাটি রেকর্ড হবে। তদন্তে ঘটনার কারণ উদঘাটিত হবে বলে জানান তিনি।<