রবিবার, জুন ১৬, ২০১৯

মধুপুরে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে আনারস

টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারস অধিক লাভের আশায় পরিপক্ক হওয়ার আগেই কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আনারস পরিপক্ক না হলেও কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে খুব সহজেই তা হলুদ বর্ণ ধারণ করছে। দেখতে ঠিক পাকার মতো মনে হলেও বাস্তবিক অর্থে আনারসগুলো আরও তিন থেকে চার মাস পর পরিপক্ব হবে। এসব আনারস কেমিক্যাল দিয়ে পাকানোর ফলে আনারসের আসল স্বাদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং এগুলো খেলে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

জানা যায়, জেলার মধুপুর ও ঘাটাইলের আশপাশের বাজারগুলোতে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে এসব বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত আনারস।
সরেজমিনে মধুপুরের মোটের বাজার এলাকার আনারস চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব কাঁচা আনারস পাকানোর জন্যে প্রতি ১৬ লিটার পানিতে ৪টা রাইপেন-১৫, লবণ ও পটাশ সারের মিশ্রণ ব্যবহার করে কয়েক দিন খেতের ভিতর রেখে দেওয়া হয়। বিস্বাদ হওয়ার কারণে কেউ এগুলো চুরি পর্যন্ত করে না।


আরো জানা যায়, কেমিক্যাল একবার দেওয়ার পর না পাকলে পুনরায় আবার দেওয়া হয়। দুই দফায় আনারসে কেমিক্যাল দেওয়ার ফলে অপরিপক্ক আনারসও হলুদ রং ধারণ করে। চাষি ও কেমিক্যাল ব্যবসায়ীরা বলেন, আনারস পাকানোর জন্য রাইপেন-১৫-এর পাশাপাশি হারবেস্ট, প্রমোট, সারাগোল্ড, ইটিপ্যাস, এলপেনসহ লবণ ও পটাশ সারের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আউশনারা এলাকার এক কেমিক্যাল ব্যবসায়ী বলেন, আমরাও জানি কেমিক্যাল ব্যবহার করা ঠিক না। কিন্তু চাষিদের চাহিদা বেশি থাকায় আমাদের বিক্রি করতেই হয়। আমরা বিক্রি না করলে কি হবে কেউ না কেউ বিক্রি করেই। একই এলাকার আনারস চাষি সাহাদত হোসেন বলেন, মেডিসিন ছাড়া আনারস বাজারে তোলার পর তা বিক্রি হয় না।

আমরা চাষিরা ব্যবহার না করেই বা কি করব? আমরা তো অসহায়! কেমিক্যাল ছাড়া আনারস কেনে না কেউ, কেমিক্যাল ছাড়া আনারস দেখতে ভালো লাগে না, একটু চাপ লাগলেই গলে যায়। আর মেডিসিন দেওয়া আনারস দেখতে হলুদ-পাকার মতো, বাজারে এর চাহিদাও বেশি। তাই আমরা ওটাই কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠাই।

এলাকাবাসীর দাবি, যে হারে কাঁচা আনারস ক্ষতিকর কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে মধুপুরের আনারসের যে সুনাম তা খুব অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে। তাই এখনই এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

বিশ্বের যে পাঁচটি মসজিদ দেখলে চোখ জুড়োয়ে যায়

পৃথিবীতে ইসলামিক স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন মুসলমানদের ইবাদতের পবিত্র জায়গা মসজিদ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই রয়েছে নয়নাভিরাম অনেক মসজিদ। সেগুলো থেকে ৫টি মসজিদের সংখিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো-

বাদশাহি মসজিদ, পাকিস্তান

মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব এই মসজিদ নির্মাণ করেন। ১৬৭১-১৬৭৩ সালের মধ্যে পাকিস্তানের লাহোরে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। ওই সময় এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদ। সামনের সুবিশাল চত্বরসহ মসজিদের আয়তন প্রায় দুই লাখ ৭৬ হাজার স্কয়ার ফুট। ১৯৬ ফুট উচ্চতার দৃষ্টিনন্দন আটটি মিনার ও তিনটি গম্বুজ মসজিদটিকে বেশ দৃষ্টিনন্দন করেছে। লাল মার্বেল পাথরে তৈরি মসজিদটি এতটাই সুদর্শন যে, ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে তা সহজেই স্থান করে নিয়েছে।


মসজিদের রাজকীয় সিঁড়ির ২২টি ধাপ পেরিয়ে মূল ফটকে পৌঁছতে হয়। আর মূল ফটকে ক্যালিগ্রাফিতে মসজিদের নাম লেখা রয়েছে, ‘মসজিদ আবুল জাফর মহিউদ্দিন মুহাম্মাদ আলমগীর বাদশাহ গাজী।’ ভেতর আর আঙিনা মিলে এই মসজিদের ধারণক্ষমতা এক লাখ মুসল্লি।

ফয়সাল মসজিদ, পাকিস্তান

ফয়সাল মসজিদ পাকিস্তানের বৃহত্তম মসজিদ। রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত এ মসজিদ ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মসজিদটির শিল্প-নকশা করেন তুর্কি স্থপতি ভেদাত ডালোকে। দেখতে মসজিদটি অনেকটা মরুভূমির বেদুঈনদের তাঁবুর মতো। বিশ্বে ইসলামাবাদের প্রতীক হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।

মসজিদটি নির্মাণে সমর্থন এবং আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা করেন সৌদি বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ। তাই এই মসজিদটি বাদশাহ ফয়সালের নামে নামকরণ করা হয়। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এটি পৃথিবীর (মক্কা-মদিনার পর) বৃহত্তম মসজিদ ছিল। পরবর্তীতে মরক্কোর হাসান-২ মসজিদ নির্মাণ হলে ফয়সাল মসজিদ দ্বিতীয় স্থানে চলে আসে।

জহির মসজিদ, মালয়েশিয়া  

জহির মসজিদ মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যে অবস্থিত। এটি মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রাচীন মসজিদ। সুলতান তাজউদ্দিন মুকারাম শাহর ছেলে টুংকু মাহমুদের অর্থায়নে ১৯১২ সালে এটি নির্মাণ করা হয়। মূলত ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রার আজিজি মসজিদের আদলে ও স্থাপত্যশৈলীর মিশেলে এটি নির্মাণ করা হয়। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের কথা মাথায় রেখেই মসজিদটিতে পাঁচটি গম্ভুজ নির্মাণ করা হয়েছে। এই মসজিদের প্রাঙ্গণে প্রতি বছর বার্ষিক কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

তাজুল মসজিদ, ভারত

তাজুল মসজিদ ভারতের সর্ববৃহৎ মসজিদ এবং বিশ্বের অন্যতম বড় মসজিদ। মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের শাসনামলে নবাব শাহজাহান বেগম কর্তৃক নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে আল্লামা মুহাম্মাদ ইমরান খান নদভী আজহারি এবং মাওলানা সাইয়্যেদ হাসমত আলী সাহেব ১৯৮৫ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। মসজিদের তিনটি গম্বুজ ও দু্ইটি সুউচ্চ মিনার এবং সামনে বিশাল চত্বর রয়েছে।

মসজিদের ভেতর-বাইরে এক লাখ ৭৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। ৪৩ লাখ স্কয়ার ফুটের এই মসজিদটির চত্বরের মাঝখানে রয়েছে বিশাল পানির হাউস।

সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দিন মসজিদ, ব্রুনেই

১৯৫৮ সালে ঐতিহাসিক ও দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। এটি ব্রুনাইয়ের রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানে অবস্থিত। মসজিদের প্রধান গম্বুজের বাইরের অংশ সম্পূর্ণ খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি। পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত এ মসজিদের ভেতরের অংশে একসঙ্গে তিন হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদটি নির্মাণে অত্যন্ত মূল্যবান গ্রানাইট, মার্বেল ও ক্রিস্টাল ব্যবহার করা হয়।