মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮

ভোটের ফল প্রকাশে সতর্কতার নির্দেশনা

জাতীয় নির্বাচনের ফল প্রকাশে সতর্কতা অবলম্বন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম।

নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) বিব্রতকর পরিস্থিতির বাইরে রাখতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইমিএস), ক্যান্ডিডেট ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএম) ও রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরএমএস) সফটওয়্যার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনকে বিব্রতকর পরিস্থিতির বাইরে রাখতে নির্বাচনে তথ্য ও ফল ব্যবস্থাপনা কাজে নিয়োজিতদের সতর্ক হয়ে সঠিক তথ্য দেয়া নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের ভুল তথ্য প্রচারিত হলে তা সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। এতে মানুষের আস্থা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সব মিলিয়ে ভোটের ফল প্রকাশে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

শেষ ভালো যার সব ভালো তার-মন্তব্য করে রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ভোটের ফল ঘোষণাই হল ভোটের শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনাদের এ দায়িত্বটি তাই ভালোভাবে পালন করতে হবে।

‘আর এ জন্য আপডেট সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে ফল পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে সবাইকে ভালো ধারণা রাখতে হবে।’

বেসিন রিজার্ভে ফিরে এলো সাগরিকার স্মৃতি

ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে সিরিজের প্রথম টেস্টে নিশ্চিত ইনিংস পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত দুটি সেঞ্চুরি করেছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ এবং কুশল মেন্ডিস। ৩ উইকেটে ২০ রান নিয়ে দিন শুরু করে দিন শেষ করেছেন ৩ উইকেটেই ২৫৯ রান নিয়ে।

সারাদিনে ৯০ ওভার ব্যাটিং করে কোনো উইকেট হারায়নি শ্রীলঙ্কা। প্রায় দেড় শতকের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এর আগে মাত্র ২১ বার এমন ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবশেষ ঘটনাটি ঘটেছিলো বাংলাদেশে, আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে।


চট্টগ্রামের সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে বিনা উইকেটেই ৪০৫ রান করে ফেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই ওপেনার নেইল ম্যাকেঞ্জি ও গ্রায়েম স্মিথ করেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি। সেদিন ওপেনিং জুটিতে করা ৪১৫ রান এখনো বিশ্বরেকর্ড হিসেবে টিকে রয়েছে।


প্রায় দশ বছর পর আজ সারাদিন ব্যাট করে ২৩৯ রান যোগ করার মাধ্যমে সেই স্মৃতিই ফিরিয়ে আনলেন মেন্ডিস ও ম্যাথিউজ। এছাড়া আরও বেশ কিছু রেকর্ড গড়েছেন এ দুজন। চলুন দেখে নেয়া সেগুলো:

২৩৯- সারাদিনে উইকেট পড়েনি এমন ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান। এর আগে ১৯৮৬ সালের মুম্বাই টেস্টের চতুর্থ দিনে উইকেটলেস দিনে হয়েছিল ২৩৫ রান।

২৪৬* - এখনো পর্যন্ত নিজেদের জুটিতে ২৪৬ রান যোগ করেছেন ম্যাথিউজ ও মেন্ডিস। যা কি-না শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের জুটি। এর আগে ১৯৮৬ সালে গুরুসিংহা ও রানাতুঙ্গা মিলে করেছিলেন ২৪০ রানের জুটি।

৫- এনিয়ে পঞ্চমবারের মতো সারাদিন কোনো উইকেট না হারানোর রেকর্ড গড়লো শ্রীলঙ্কা। সর্বপ্রথম ১৯৮৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুসিংহা ও রানাতুঙ্গা করেছিলেন এ কীর্তি। এছাড়া ১৯৯৭ সালে ভারতের বিপক্ষে ৫৭৬ রানের জুটি গড়ার পথে সনাৎ জয়াসুরিয়া ও রোশান মহানামাও একই রেকর্ড গড়েছিলেন।

২ - এনিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ার বাইরে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে দুই ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করলেন। এর আগে নিউজিল্যান্ডেই ১৯৯৫ সালে গুরুসিংহা ও হাসান তিলকারাত্নে এ কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন।

এসএএস/এমকেএইচৃ

অপরাধের পুরস্কার নয়, যোগ্যতার মূল্যায়ন!

।। সরোয়ার সৈকত ।। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল ৩ (ঘাটাইল) আসনটি অত্যন্ত আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনের বর্তমান সাংসদ আমানুর রহমান খান রানাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তার পরিবর্তে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আমানুরের বাবা আতাউর রহমান খানকে। তিনি সোনালী ব্যাংকের সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক। চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতি শুরু করেন। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। আতাউর রহমান খানকে মনোনয়ন দেয়া নিয়েই এ আসনটি সারাদেশে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

২৭ নভেম্বর ২০১৮, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলো-র অন লাইন ভার্সনে বিশিষ্ট কলাম লেখক সোহরাব হাসানের 'অপরাধের পুরস্কার' শিরোনামে একটি লেখা আমার দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি লিখেছেন- ''উদ্বেগের বিষয় হলো, লোকলজ্জার ভয়ে যে দুজন অতি বিতর্কিত ও নিন্দিত সাংসদকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিতে পারেনি, সান্ত্বনা হিসেবে সেই মনোনয়ন তাঁদের পরিবারেই রেখে দিয়েছে। বাইরে যেতে দেয়নি। এই দুই সাংসদ হলেন কক্সবাজার-৪ আসনের (টেকনাফ-উখিয়া) আবদুর রহমান ওরফে বদি ও টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আমানুর রহমান খান ওরফে রানা। তিনি আরো লিখেছেন- ধর্মের কথা হলো, পিতার অপরাধের জন্য পুত্রকে দায়ী করা যাবে না। কিন্তু এখানে পুত্রের অপরাধের জন্য পিতাকে পুরস্কৃত করা হলো।'’ 
পুত্রের অপরাধের জন্য পিতাকে পুরস্কৃত করা হলো- সোহরাব হাসানের এই কথাটির সাথে আমি শুধু ভিন্ন মত পোষণ করছি না, তীব্র প্রতিবাদও জানাচ্ছি। কারণ আতাউর রহমান খান শুধু আমানুরের বাবা নন তিনি সাবেক সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহযোদ্ধা প্রয়াত শামসুর রহমান খান শাহজাহানের আপন ছোট ভাই। যিনি আজীবন নির্লোভ ও নির্মোহ রাজনীতি করে গেছেন। ৭০ এর নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেছেন। গণমানুষের নেতা হিসেবে শামসুর রহমান খান শাহজাহানের মতো নিবেদিত প্রাণ ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ দেশ ও জনগণের কল্যাণে যে অবদান রেখে গেছেন তার জন্য জাতি তাকে চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। সেই পরিবারের সদস্য হিসাবে আতাউর রহমান খানের মতো একজন সজ্জন রাজনৈতিককে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এই পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাস অশ্রু আর রক্তভেজার ইতিহাস, দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। রাজনীতির কারণে নিজ পুত্রকে বিসর্জন দিতে হয়েছে আতাউর রহমান খানকে। ২০০৩ সালের ২ নভেম্বর তারাবির নামাজ পড়তে যাবার সময় বাড়ির কাছেই তাঁর বড় ছেলে তরুণ উদীয়মান আওয়ামীলীগ নেতা আমিনুর রহমান খান বাপ্পিকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়।

আরো একটু পেছনে ফিরে আসা যাক। আওয়ামী লীগে খান পরিবারের আবির্ভাব ঘটে শামসুর রহমান খান শাহজাহানের মাধ্যমে। তিনি ১৯৫৪ থেকে ৫৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তারপর ১৯৬৫ থেকে ৬৬ সাল পর্যন্ত টাঙ্গাইল মহকুমা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালের গণপরিষদ নিবার্চনে এমএনএ এবং ১৯৭৩ ও ১৯৮৬ সালে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৫ সালে শামসুর রহমান খান শাহজাহান টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে শামসুর রহমান খান শাহজাহান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মননীত হন। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক থেকে পুনরায় টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয় তাকে। শামসুর রহমান খান শাহজাহান ২০১১ সালের ২ জানুয়াারি মৃত্যুবরণের আগ পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। 
আতাউর রহমান খান হচ্ছেন এমন একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তিনি উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। তাকে নিয়েই জনাব সোহরাব হাসান বলেছেন- জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হয়েছেন সাংসদপুত্রের কল্যাণে। আবার তিনিই বলেছেন- আমানুরের বাবা আতাউর রহমান সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা। অবসর নেওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও কখনো নেতৃত্বে আসেননি। যদি সাংসদপুত্রের কল্যাণে সদস্য হতে পারেন, ইচ্ছা করলে তিনি নেতৃত্বেও আসতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এবারের নির্বাচনেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেননি। আওয়ামী লীগের মাননীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজে আগ্রহী হয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী ৮/১০ জন প্রার্থীর মধ্যে থেকে তাকেই বেছে নিয়েছেন। উল্লেখ করা প্রয়োজন, রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার মানে এই নয় তিনি অপরাধী। তবু সেসব বিবেচনায় রেখে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। সরকার দলীয় সাংসদ হয়েও অপরাধী প্রমাণ না হওয়ার পরও তাঁর জেলে থাকা এবং নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়াটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজীরবিহীন! এটি অপরাধের পুরস্কার নয়, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শী সিদ্ধান্ত।

মহাজোটে ২০, ঐক্যফ্রন্টে দুই প্রার্থী রাজনীতিবিদ

এবারের একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ২০ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ২ জন প্রার্থী পেশাদার রাজনীতিবিদ।

দুই জোটের ৬০০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। হলফনামায় সাতজন প্রার্থী নিজেকে একই সঙ্গে রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মধ্যে মহাজোটের ছয় ও ঐক্যফ্রন্টের একজন।

রাজনীতির কেন্দ্রস্থল জাতীয় সংসদে পেশাদার রাজনীতিবিদেরা অনেক আগে থেকেই সংখ্যায় কমতে শুরু করেছেন। এবারের নির্বাচনেও তাঁরা নিরঙ্কুশভাবেই সংখ্যালঘু থাকবেন। কারণ, মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন পাওয়া সব কজন রাজনীতিবিদ নির্বাচিত হয়ে এলেও তাঁদের মোট সংখ্যা হবে ২২। অর্থাৎ সংসদের মাত্র ৪ শতাংশ হবেন ঘোষিত রাজনীতিক। আর হলফনামায় যে সাতজন নিজেদের রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী বলেছেন, তাঁরা সবাই নির্বাচিত হলেও সংসদে তাঁরা সংখ্যালঘুই থেকে যাবেন। আর তাঁদের মধ্যে কেউ নির্বাচিত হতে না পারলে এই হার আরও কমবে।

বিগত কয়েকটি সংসদের মতো একাদশ জাতীয় সংসদেও ব্যবসায়ীদের একচ্ছত্র প্রাধান্য বজায় থাকার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। কারণ, হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সব পেশার সম্মিলিত যতজন সদস্য মনোনয়ন পেয়েছেন, তার চেয়েও বেশি মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দুই প্রধান জোটেই ব্যবসায়ীরা সমান গুরুত্ব পেয়েছেন। দুই জোটের ৬০০ প্রার্থীর মধ্যে ৩২৯ জন বা প্রায় ৫৫ শতাংশ প্রার্থী পেশায় ব্যবসায়ী।

তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ১৫৩ জন বা ৫১ শতাংশ। আর ঐক্যফ্রন্টের ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১৭৬ বা প্রায় ৫৯ শতাংশ। ব্যবসা পেশার এই প্রার্থীদের মধ্যে ভুসি মালের ব্যবসায়ী থেকে ওষুধ কোম্পানির মালিক পর্যন্ত আছেন।

আগামী নির্বাচনে ব্যবসায়ী প্রার্থীদের হিসাব-নিকাশ এখানেই শেষ নয়। কারণ, এমন অনেক প্রার্থী আছেন, যাঁরা অন্যান্য পেশার পাশাপাশি ব্যবসাও করেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। যেমন কৃষিকাজের পাশাপাশি ব্যবসা করেন, এমন প্রার্থী দুই জোট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মোট ৪২ জন। তাঁদের মধ্যে মহাজোটের ২২ জন। আর ঐক্যফ্রন্টের ২০ জন।

তাঁদের ব্যবসায়ীর তালিকায় ধরলে দুই জোটের সর্বমোট প্রার্থীর সংখ্যা ৩৮২, যা দুই জোটের ৬০০ প্রার্থীর প্রায় ৬৪ শতাংশ।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান ও ক্রিশ্চিয়ান মিচেলসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইঙ্গে আমুন্ডসন ২০১২ সালে যৌথভাবে ‘বাংলাদেশের সংসদ: প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহি’ (দ্য পার্লামেন্ট অব বাংলাদেশ: রিপ্রেজেন্টেশন অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিবিলিটি) শিরোনামে একটি গবেষণা করেন। ওই গবেষণায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ১৯৭০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত সাংসদদের পেশা বিশ্লেষণ করা হয়।

ওই গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি, ৩০ শতাংশ ছিলেন আইনজীবী। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি মিলে ছিলেন ২৭ শতাংশ। রাজনীতিবিদ ছিলেন ৫ শতাংশ। সামরিক-বেসামরিক আমলা ছিলেন ৩ শতাংশ।

১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সংসদ নির্বাচনে আইনজীবী নির্বাচিত হন ২৭ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী-শিল্পপতি ছিলেন ২৪ শতাংশ। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে হঠাৎ করেই ব্যবসায়ীদের হার লাফিয়ে ৫৩ শতাংশে ওঠে। অন্যদিকে আইনজীবী সদস্যের হার কমে দাঁড়ায় ১৯ শতাংশ। সামরিক-বেসামরিক আমলাদের হারও বেড়ে হয়ে যায় ৮ শতাংশ। এরপর থেকে ব্যবসায়ীদেরই বাড়বাড়ন্ত চলে আসছে। ১৯৯৬,২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে ব্যবসায়ী সাংসদদের হার হয় যথাক্রমে ৪৮,৫৭ ও ৫৬ শতাংশ।

জাতীয় সংসদে রাজনীতিকদের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং ব্যবসায়ীদের ক্রমাগত প্রাধান্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার  বলেন, রাজনীতি যে ব্যাপকভাবে ব্যবসায়িকীকরণ হয়েছে, এই মনোনয়নে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। ব্যবসায়ীরা রাজনীতিকে ব্যবসা হিসেবে নিয়েছেন। রাজনীতি থেকে তাঁরা মুনাফা করতে চান। এতে রাজনীতির জনকল্যাণের দিকটি বিলুপ্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, বোঝাই যাচ্ছে, ভবিষ্যতের সংসদ প্রতিনিধিত্বমূলক হবে না। সংসদ ব্যবসায়ীদের কোটারি স্বার্থ রক্ষা করে চলবে।

আইনজীবী 
২০০৮ সালে সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে বিজয়ীদের মধ্যে আইনজীবী ছিলেন প্রায় ১৫ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে মহাজোট ৩৬ ও ঐক্যফ্রন্ট ২৯ জন আইনজীবীকে প্রার্থী করেছে। দুই জোট মিলে আইনজীবী প্রার্থীর হার দাঁড়ায় ১১ শতাংশের মতো।

পেশাজীবী
পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ব জাতীয় সংসদে কমে আসছে। প্রথম জাতীয় সংসদে ১৫ শতাংশ আসন ছিল শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ইত্যাদি পেশাজীবীদের দখলে। নবম জাতীয় সংসদে ওই হার কমে ৭ শতাংশে নামে। এবারের নির্বাচনে দুই জোট থেকে ৩৬ জন পেশাজীবী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। অর্থাৎ পেশাজীবী মনোনয়ন পেয়েছেন মাত্র ৬ শতাংশ। 

শিক্ষিত মানুষের সংসদ
স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও উচ্চতর ডিগ্রিধারী মোট ৪৮৯ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে দুই জোট। এ ক্ষেত্রে দুই জোটের অবস্থান সমানে সমান। মহাজোট থেকে স্নাতক পাস ১২৯ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট দিয়েছে ১২৮ জনকে। স্নাতকোত্তর ১০৫ জন মনোনয়ন পেয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট থেকে। মহাজোট থেকে পেয়েছেন ১০২ জন। উচ্চতর ডিগ্রিধারী ১৩ জন মনোনয়ন পেয়েছেন মহাজোট থেকে। একই পর্যায়ের ডিগ্রিধারী ১২ জন মনোনয়ন পেয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট থেকে।

কোন পর্যায়ের শিক্ষা অর্জন করলে মানুষ স্বশিক্ষিত হয়, তার কোনো মাপকাঠি নেই। এ ক্ষেত্রে দুই জোটের অবস্থান সমান। প্রতিটি জোটের ৯ জন করে ১৮ জন হলফনামায় লিখেছেন, তাঁরা ‘স্বশিক্ষিত’। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস প্রার্থীও দুই জোটেই প্রায় সমান। দুই জোটেরই একজন করে প্রার্থী শিক্ষা সম্পর্কে হলফনামায় কিছু লেখেননি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচন আজ

জাতীয় প্রেস ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ নির্বাচন বিরতিহীনভাবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে।

এ নির্বাচনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের ১৭টি পদে ৪৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটার ১ হাজার ২১২ জন। এবারের নির্বাচনে ক্লাবের বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল আলমের নেতৃত্বে সাইফুল-ফরিদা এবং শওকত মাহমুদের নেতৃত্বে শওকত-ইলিয়াস নামে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

এছাড়াও প্যানেলের বাইরে ১০ জন বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যারা ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হবে তারাই আগামী ২ বছর জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব দেবে।

নির্বাচন উপলক্ষে প্রেস ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক শাহ আলমগীরকে চেয়ারম্যান করে ৫ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন- মো. মোস্তফা-ই- জামিল, এসএএম শওকত হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও উদয় হাকিম।

এবার নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়ছেন দুজন। এরা হলেন যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এবং সিনিয়র সাংবাদিক শওকত মাহমুদ।

সিনিয়র সহ-সভাপতির একটি পদের জন্য লড়ছেন সিনিয়র সাংবাদিক কার্তিক চ্যাটার্জি, মোঃ ওমর ফারুক এবং সৈয়দ মেসবাহ উদ্দিন।

সহ-সভাপতির পদ একটি। এজন্য লড়ছেন বাংলাদেশের খবরের আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া ও সিনিয়র সাংবাদিক নূরুল হাসান খান।

সাধারণ সম্পাদক পদটির জন্য লড়ছেন সিনিয়র সাংবাদিক ফরিদা ইয়াসমিন, কামরুল ইসলাম চৌধুরী এবং ইলিয়াস খান।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দুটি পদ। এ পদের জন্য প্রদিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিনিয়র সাংবাদিক আবু সালেহ আকন, মাঈনুল আলম, মোঃ আশরাফ আলী, শাহেদ চৌধুরী এবং সাখাওয়াত হোসেন বাদশা।

কোষাধ্যক্ষ পদের লড়াইয়ে আছেন সিনিয়র সাংবাদিক কাজী রওনাক হোসেন, শ্যামল দত্ত এবং জহিরুল হক রানা।

প্রেসক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য পদ মোট ১০টি। এই ১০ পদের জন্য লড়ছেন ২৬ জন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন: সিনিয়র সাংবাদিক কুদ্দুস আফ্রাদ, মোঃ আইয়ুব ভূঁইয়া, কাজী রফিক, কল্যান সাহা, রেজওয়ানুল হক, জাহিদুজ্জামান ফারুক, শামসুদ্দিন আহমেদ চারু, রহমান মোস্তাফিজ, শাহনাজ সিদ্দিকী, জহিরুল হক টুকু, আনিসুর রহমান খান, শাহনাজ বেগম, আলী হাবীব, ইব্রাহিম খলিল খোকন, জীভন ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, নির্মল চক্রবর্তী, বখতিয়ার রানা, মোঃ আজিজুর রহমান, মোঃ মমিন হোসেন, মোঃ সানাউল হক, শামসুল হক দূররানী, শাহনাজ বেগম, সাঈদুল হোসেন সাহেদ, হাসান আরেফিন এবং সৈয়দ ফয়সাল আহমেদ।

এদিকে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ২২তম দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক, ক্লাবের স্থায়ী ও সহযোগী সদস্যরা। সভায় সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন ও কোষাধ্যক্ষ কার্তিক চ্যাটার্জি পৃথক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। পরে ক্লাব সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে তা পাস হয়।

সভাপতির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে কুক্ষিগত প্রেস ক্লাবকে উদ্ধার করতে আন্দোলন করে আসছি। ২০০৫ সাল থেকে ক্লাবের জমি সরকারের হাতে চলে যায়। যেটি আবার উদ্ধার করেছি। কুক্ষিগত এ ক্লাব উদ্ধারসহ উন্নয়নে আমি নিজ থেকে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছি। আমাদের সবার জন্য। আজ অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। ক্লাবের জমিতে ৩১ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্স নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এজন্য ক্লাবের জমির লিজ বরাদ্দ নিয়ে যে জটিলতা ছিল, তা নিরসন করা হয়েছে। আশা করছি, নতুন নির্বাচিত কমিটি ক্লাব সদস্যদের স্বপ্নের মিডিয়া কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ শুরু করে এগিয়ে নিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্স’ নির্মাণসহ বিদ্যমান ভবনের সংস্কারকাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন বলেও জানান তিনি।

ফরিদা ইয়াসমিন তার প্রতিবেদনে বলেন, ক্লাবের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ২৯২। এর মধ্যে স্থায়ী ১ হাজার ২২১ ও সহযোগী সদস্য ৭১ জন। নির্বাচনের পর নতুন সদস্য পদ দেয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

চলতি বছর সামাজিক সমাবেশ (হাউজি) খাতে আয় হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৮ টাকা। যা গত বছর ছিল ১ কোটি ১৪ লাখ ১১ হাজার ৫২৬ টাকা। তবে ৪ দিন হাউজি বন্ধ না হলে আয় আরও বাড়ত।

এ বছর নিট আয় হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৮৪ টাকা। সদস্য চাঁদা পাওয়া গেছে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৮০ টাকা। তিনি বলেন, প্রেস ক্লাবের ৪টি রুমের নাম হবে ৪ সাংবাদিকের নামে। এখানে খেলাধুলা ও জিমনেশিয়াম হচ্ছে। অনেক সরঞ্জাম ইতিমধ্যে চলে এসেছে। সব সাংবাদিকের ডাটাবেস হয়েছে। তাদের ইন্স্যুরেন্সের কাজও শিগগিরই শুরু হবে।

সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদনের ভূয়সী প্রশংসা করেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, যখন আমরা ফরিদা আপাকে নির্বাচিত করি, তখন ভাবছিলাম কিভাবে চলবে। বিমান কোন দিকে যাবে। আজ তিনি বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। ক্লাবের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে তিনি বড় ভূমিকা পালন করেছেন।

সাধারণ সভায় প্রেস ক্লাবের সদস্য প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদুজ্জামান ফারুক, সাইফুল ইসলাম, তরুণ তপন চক্রবর্তী, শুক্কুর আলী শুভ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মাঠের খবর জানতে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন সিইসি

চট্টগ্রাম বিভাগীয় মাঠ পর্যায়ের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। এ সময় তিনি নগর ও জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটা থেকে নগরের কাজীর দেউড়ির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে এ বৈঠক শুরু হবার কথা রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগরীর ৬টি সংসদীয় আসনের রিটার্নিং অফিসার ও বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, জেলা পর্যায়ের ১০টি আসনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনির হোসাইন খানসহ চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের সকল সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন।

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান জানান, মতবিনিময় সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা চট্টগ্রাম ও বিভাগী জেলা গুলোর নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন।

আ’লীগ কার্যালয়ে বোমা বিস্ফোরণ

আওয়ামী লী‌গের নির্বাচনী কার্যালয় ও নেতাকর্মী‌দের বা‌ড়ির সাম‌নে গভীর রাতে একা‌ধিক বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। বিস্ফোরণের পরে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে সাতক্ষীরার তালা সদর ইউনিয়নের জিয়ালা নলতা গ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসের সামনে, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা লালটু শেখের বাড়ির সামনে ও জেলে পাড়ায় পরপর কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, রাত সা‌ড়ে ১১টার দি‌কে বিকট শব্দে পরপর ক‌য়েক‌টি বোমা বিস্ফোরণ হয়। এতে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হ‌য়ে প‌ড়ে।

তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সরদার জাকির হোসেন বলেন, গভীর রাতে তার ইউ‌নিয়‌নের বেশ ক‌য়েক‌টি এলাকায় একা‌ধিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘ‌টে‌। এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ কর‌ছে।

এ ব্যাপারে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত‌া (ওসি) মেহেদী রাসেল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

বিডি২৪লাইভ/এআইআর

লতিফ সিদ্দিকীর অনশনের ৩০ ঘণ্টা পার, বাড়ছে ঝুঁকি

 থানার ওসিকে প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে ৩০ ঘণ্টা যাবৎ অনশন করছেন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। এরই মধ্যে তিনি আমরণ অনশনের লিখিত ঘোষণাও দিয়েছেন।

দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি আর ঠান্ডার মধ্যেই তিনি টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে এ অনশন কর্মসূচী করছেন। আমরণ অনশন ঘোষণার পর সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফ হোসেন খান জানান, লতিফ সিদ্দিকী উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তিনি ওষুধও খাচ্ছেন না। খাবার না খাওয়ায় ধীরে ধীরে তাঁর শরীরের সুগার কমে যাচ্ছে। এতে শরীর নিস্তেজ হয়ে শারীরিক ঝুঁকি বাড়ছে।

এর আগে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, সদর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ও নিকটাত্মীয়রা তাকে দেখতে যান।

জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা তার সাথে দেখা করতে এলে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমার অনশন প্রতিবাদ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নয়, সরকারের বিরুদ্ধে নয়, স্থানীয় সাংসদের সহিংসতামূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে।

তিনি আরও বলেন, আমি শেখ হাসিনাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চাই না, আমি সরকারকে বিব্রত করতে চাই না। আমি চাই, সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন। আমি যদি শেখ হাসিনাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চাইতাম, তাহলে আমি এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে এই অবস্থান ধর্মঘট করতাম। তাহলে কি হত? যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেত। আমি তা চাই নাই। আমি জনগণের জন্য রাজনীতি করি। আমি জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলতে চাই না। আমি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। দাবি মানা হলে কাউকে বলতে হবেনা নিজেই চলে যাব, যতক্ষণ মানা না হবে ততক্ষণ কোথাও যাব না।

অনশনের দ্বিতীয়দিন সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) রিটার্নিং অফিসারের কাছে দেয়া লিখিত ঘোষণায় তিনি বলেন, আমার অনশন ধর্মঘটের ১৮ ঘণ্টা অতিক্রান্ত কিন্তু কোন প্রতিকার না পেয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম একই সঙ্গে আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার।

ঘোষণায় তিনি উল্লেখ করেন, আমার যদি কোন ক্ষতি হয় সেজন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী থাকবে বলে ঘোষণা দিচ্ছি।

রোববার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের সরাতৈল-বল্লভবাড়ি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খানের কর্মী-সমর্থকরা হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে লতিফ সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত গাড়িসহ চারটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিবাদে রোববার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি নিয়ে এসে তিন দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন লতিফ সিদ্দিকী।

দাবিগুলো হচ্ছে, কালিহাতী থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেনকে প্রত্যাহার, অপরাধীদের গ্রেফতার ও সরকার দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন পর্যন্ত আর কোন সহিংসতামূলক কার্যকলাপ করবে না মর্মে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মুচলেকা প্রদান।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, কালিহাতীতে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে তাঁর কর্মী-সমর্থকদেরকে পুলিশ ফোন করে প্রকাশ্যে-গোপণে হুমকি দিচ্ছে। সরকার দলীয় প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা নিয়মিত নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। তিনি ইতোপূর্বে তিনটি পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার কোন ব্যবস্থাই নেননি।

ওই হামলায় আহত ইউপি সদস্য মোর্শেদা খানম ডলি জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার তাঁর লাইসেন্সকৃত বন্দুক নিয়ে হামলায় নেতৃত্ব দেয়। সরকার দলীয় প্রার্থী হাছান ইমাম খানের কর্মী ওবায়দুল তালুকদার, আব্দুল হাই মেম্বার, জহুরুল, সোহেল সিদ্দিকী, জাহাঙ্গীর, রাসেল, সুলতান মেম্বার সহ প্রায় দেড়শ’ লোক হামলায় অংশ নেয়। তিনি সহ অন্যকর্মীরা মানবঢাল রচনা করে লতিফ সিদ্দিকীকে রক্ষা করেন। অথচ তাঁর (লতিফ সিদ্দিকীর) ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী পুলিশ দূরে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখেছে।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কালিহাতী থানার এএসআই মো. সেলিম হোসেন জানান, বাড়ির ভেতরে বসে কথা বলার সময় বর্তমান সংসদ সদস্য এমপি হাছান ইমাম খানের লোকজন অতর্কিতভাবে হামলা করেছে। আমরা লতিফ সিদ্দিকীকে রক্ষা করেছি।