নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের ভারই উত্তর পাড়ায় আশিকুর রহমান ফরিদের বসত বাড়রি সন্নিকটে মুরগির খামার স্থাপনের উদ্যোগে হুমকির মুখে পড়েছে কয়েকটি পরিবার। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেও বন্ধ করতে পারছে না খামার স্থাপনের কাজ।
জানা যায়, উপজেলার ভারই গ্রামের মৃত ছবদের আলীর ছেলে শামীম আল মামুন প্রায় ১মাস যাবৎ তার নিজ জমিতে মুরগির খামার স্থাপনের কাজ করছে। বসত বাড়ীর নিকট এ খামারটি করা হলে কয়েকটি পরিবার মারাত্বক স্বাস্থ হুমকিতে পড়বে। বসবাসের অনউপযোগি হয়ে পড়বে দুইটি বাড়ী। এমতাবস্থায় পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে আশিকুর রহমান ফরিদ ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পত্রে অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সঠিক আছে মর্মে সুপারিশ করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল গত ৬ নভেম্বর শামীম আল মামুনকে নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে তার কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করে বলা হয়, বসত বাড়ীর সন্নিকটে মুরগির খামার স্থাপন আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ এবং পরিবেশের জন্য হুমকী স্বরূপ। নির্দিষ্ট সময়ে হাজির না হলে মোবাইল কোট পরিচালনা, ফৌজদারী মামলাসহ আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়। এমন নির্দেশনা সত্তেও খামার স্থাপন অব্যাহত রেখেছে শামীম আল মামুন। অপরদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক বরাবর দাখিলকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৩১ অক্টোবর অবস্থানগত ছাড়পত্র ব্যতীত লেয়ারফার্ম নির্মাণের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। উক্ত নোটিশের কোন জবাব না দেয়ায় ২০ নভেম্বর পুনরায় ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে নোটিশ প্রদান করেছেন। এসময়ের মধ্যে জবাব দিতে ব্যর্থ হলে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন।
এবিষয়ে আশিকুর রহমান ফরিদ বলেন, কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আমার বসত ঘড়ের পাশে খামার স্থাপন করা হচ্ছে। খামারের কার্যক্রম শুরু হলে আমার বাড়ীসহ কয়েকটি পরিবারকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। স্থানীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করেও ঠেকানো যাচ্ছে না অপতিরোধ্য শামীমকে। সে খামার স্থাপনের কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে।
শামীম আল মামুন বলেন, আমার জমিতে খামার করছি। খামার বন্ধের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন যে নির্দেশনা দিবেন তা মেনে নেব।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল বলেন, সরেজমিনে দেখেছি, এখনও খামার স্থাপন হয়নি। একটি ঘর উঠানো হয়েছে। এটিকে মুরগির খামার বলা যায় না। তবে অপরাধমূলক কিছু হলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন মুঠো ফোনে জানান, ভুক্তভোগিদের আমার বরাবর আবেদন করতে বলুন। বিষয়টি আমি দেখবো।
