শুক্রবার, জুন ১৪, ২০১৯

প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করায় স্বামীকে মেরে ফেললেন ২য় স্ত্রী

ময়মনসিংহে যুবলীগ কর্মী শফিকুল ইসলাম সপু হত্যা মামলার প্রধান আসামি দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী শেখ ইতি।

শুক্রবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-১ এর বিচারক মাহবুবা আক্তার এ জবানবন্দি গ্রহণ করেন।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই মনিরুজ্জামান জানায়, শফিকুল পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে এবং প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেয়ার শর্তে এক বছর আগে ইতিকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতেই বসবাস করতো শফিকুল। মাঝে মধ্যে লুকিয়ে প্রথম স্ত্রী মাহমুদার সঙ্গে দেখা করতেন তিনি। এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি। গত ১০ জুন সকালে শফিকুলকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে সেখানে দুজনকে এক সঙ্গে দেখতে পায় ইতি। সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার পর নিজ বাড়িতে চলে আসেন তিনি।

ওইদিন দুপুরে প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে আসে শফিকুল। বিকেলে পার্শ্ববর্তী হাবুন বেপারীর মোড়ে বিশ্বকাপ খেলা দেখে রাত ১২টার দিকে বাসায় ফিরে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ঘুমের মধ্যেই দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি তার গলায় উড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ভোর হওয়ার আগেই মরদেহটি বিছানার চাদরে করে বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত ডোবায় কচুরিপানার নিচে পুতে রাখে।

পরদিন ১১ জুন ইতি তার স্বামী শফিকুল ইসলাম শপু নিখোঁজ হওয়ার কথা উল্লেখ করে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে বলা হয় যে, ১০ জুন রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে শফিকুল আর বাসায় ফিরে আসেনি।

নিখোঁজের তিনদিন পর বৃহস্পতিবার দুপুরে ইতির বাসা সংলগ্ন সেই ডোবায় শফিকুলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা নুরুন্নাহার বাদী হয়ে আফরোজা শেখ ইতিকে প্রধান, অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। রাতেই পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে মামলাটি হস্তান্তর করে এবং ওই রাতেই ইতিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বাজেটে ১০ সুসংবাদ

জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন)। প্রস্তাবিত বাজেটের ১০টি সুসংবাদ তুলে ধরা হলো:

১. শিক্ষাখাতের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনে বিদেশ থেকে শিক্ষক আনার ঘোষণা। এক্ষেত্রে জাপানের সম্রাট মেইজির দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা হতে পারে।

২. শ্রমিক শ্রেণির জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।

৩. আগামী ১১ বছরের (২০৩০ সাল) মধ্যে দেশে ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এর মাধ্যমে বেকারত্বের অবসান ঘটানোর চেষ্টা।

৪. যুবক উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য ১০০ টাকা বরাদ্দ রাখা।

৫. সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এবং পরিবহন খাতের উন্নয়নে ১ লাখ দক্ষ পেশাদার গাড়িচালক তৈরির বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেয়া।

৬. যেসব এলাকা নদীভাঙন কবলিত ওইসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।

৭. নারীদের অগ্রযাত্রা তরান্বিত করতে নারী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা করা।

৮. যেকোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে মোট জনবলের ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী অগ্রাধিকার দেয়া। প্রতিবন্ধীদের এই সুবিধা দিলে সেই প্রতিষ্ঠানকে করের ৫ শতাংশ রেয়াত দেয়া।

৯. নারী উদ্যোক্তারা ব্যবসা পরিচালনার জন্য শোরুম করলে শোরুম নির্মাণের ওপর মূসক অব্যাহতি প্রদান।

১০. বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জনসাধারণের প্রতিরক্ষার জন্য লাইটিং সিস্টেম স্থাপন করা।

সেই মসজিদের তালা খুলে দিয়েছে ঘাটাইলের প্রশাসন

কখনও শুধু ইমাম আবার কখনও দুই-তিনজন মুসল্লির নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে চলছে মসজিদের প্রতিদিনের কার্যক্রম। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চরবকশিয়া গ্রামে মসজিদের মালিকানা দাবি করে তালা দেওয়ায় এ অবস্থা চলছে প্রায় দুই মাস ধরে। এ নিয়ে গত সোমবার অনলাইন এবং মঙ্গলবার প্রিন্ট ভার্সনে 'মালিকানা দাবি করে মসজিদে তালা' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে সমকাল। সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম উভয়পক্ষকে ডেকে তালা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তালা খুলে দেওয়ার পরও নামাজে আসছেন না মুসল্লিরা।

বুধবার মাগরিবের নামাজের সময় হলেও আজান দিয়ে শুধু ইমামকে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। মূলত ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মসজিদটি নিজের দাবি করতে থাকে দুবাই প্রবাসী বেলাল এবং ভাই আব্দুস সালামের মাধ্যমে তালা ঝুলিয়ে দেয়। আর সে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ে পুরো সমাজে। বেলালরা ছয় ভাই। সবার ছোট বেলাল। ছয় ভাইয়ের পৈতৃক সম্পত্তি ১০ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ করা হয় মসজিদ। বড় দুই ভাই আবুল কাশেম ও আব্দুল বাছেদ জানান, আমরা তিন ভাই মসজিদের নামে জমি ওয়াকফ করে দিলেও অন্য তিনজন দেয়নি। মসজিদের জমি ওয়াকফ করার দরকার নেই- এমন ফতোয়া দিয়ে মালিকানা দাবি করা বেলাল অন্য ভাইদের মগজ ধোলাই করেন। কুয়েত সরকারের অর্থায়নে নির্মিত মসজিদের নকশাও পরিবর্তন করেন তিনি। তার মন মতো নকশা করেন। দুই মাস আগেও মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ১৫-২০ এবং জুমার নামাজে ৫০-৬০ জন লোক নামাজ আদায় করতেন।

উৎস : সমকাল।

১০০ টাকার কথা বললে ২৭ টাকা ট্যাক্স!

কথায় বাড়লো কর। মোবাইল ফোনে কথা বললে আগের চেয়ে বেশি হারে কর দিতে হবে সরকার। নতুন করে আরও ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করায় বাড়ছে কলরেট। এখন থেকে প্রতি ১০০ টাকার কথা বললে স্বয়ক্রিয়ভাবে ২৭ টাকা চলে যাবে সরকারের পকেটে।

বর্তমানে মোবাইল ফোনে কথার বলার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা আছে। যাতে করে গ্রাহককে মোবাইলে কথা বলতে হলে সরাসরি ২২ শতাংশ কর দিতে হয়। আরও ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ হওয়ায় তা হবে ২৭ শতাংশর কিছু বেশি। অর্থাৎ প্রতি একশো টাকা কলরেটে বসলো ২৭ টাকা ট্যাক্স।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বাজেট পেশ করেন। এটি দেশের ৪৮তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট।

নতুন বাজেটের আকার বাড়ছে ১২ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি। বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকে ২০ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা বেশি। আগামী ৩০ জুন এই বাজেট পাস হবে। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।

মির্জাপুরে ইজতেমা বন্ধ করে দিলো প্রশাসন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় মাওলানা সা’দ পন্থীদের উদ্যোগে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের অনুমতি না নেয়ার অভিযোগে এ ইজতেমা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর থেকে মির্জাপুর পৌরসভার কুতুব বাজার সংলগ্ন মাঠে দিল্লী নিজাম উদ্দিন বিশ্ব মারকাসের অনুসারী মাওলানা সা’দ অনুসারীরা তিন দিনব্যাপী ইজতেমার আয়োজন করেন।


রোববার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন ইজতেমা মাঠে খুঁটি স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৮-১০টি টিউবওয়েল, অস্থায়ী অজুখানা, টয়লেট স্থাপন ও মাইক লাগানোসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।



বুধবার থেকে এ ইজতেমায় দেশ-বিদেশের তাবলিগ জামাতের সদস্যরা আসতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়া কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ, জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন ইজতেমা মাঠে অবস্থান নেয়।

এছাড়া ইজতেমার জন্য নির্মিত প্যান্ডেলের বাঁশ, খুঁটি ও তাঁবু সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় সেখানে টাঙ্গাইলের অতিরক্তি পুলিশ সুপার আহাদুজ্জামান মিয়া, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, জেলা প্রশাসন অফিসের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রোকনুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাঈনুল হক, সহকারী পুলিশ সুপার মির্জাপুর সার্কেল দীপঙ্কর ঘোষ ও মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে, ইজতেমা মাঠে অবস্থান নেয়া তাবলিগ জামাতের সদস্যদের সরিয়ে দিলে তারা পাশের কাণ্ঠালিয়া ঈদগাহ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে তাঁবু টাঙিয়ে অবস্থান নেন।

এর আগে স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও তাবলিগের সাথীর ব্যানারে অপর একটি পক্ষ গত কয়েকদিন ধরে এ ইজতেমা বন্ধের জন্য সভা-সমাবেশ করা ছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেন।



সুনামগঞ্জ থেকে ইজতেমায় অংশ নিতে আসা ময়না মিয়া জানান, তারা ২২ জন সাথী এক চিল্লায় বের হয়েছেন। বুধবার মির্জাপুর ইজতেমা মাঠে এসে পৌঁছান। বৃহস্পতিবার প্রশাসনের লোকজন তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তাবলিগ জামাতের সদস্য আব্দুর রহমান শামীম ও মো. রাসেলসহ কয়েকজন জনান, মির্জাপুরের এমপি মো. একাব্বর হোসেন রোববার ইজতেমা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় ইসলামের দাওয়াতের কাজে আয়োজিত ইজতেমায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহায়তা করা হয়। কিন্তু মির্জাপুরে ইজতেমা করতে সহযোগিতা না দেয়ার কারণ আমাদের বোধগম্য নয়। এ সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেক বলেন, আয়োজকরা অনুমতি না নিয়ে ইজতেমার আয়োজন করেছেন। এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।