শুক্রবার, মার্চ ২৫, ২০১৬

ঘাটাইলে দুইপক্ষের আধিপত্য নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আমাদের ঘাটাইল ঃ টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের সন্ধানপুর গ্রামে মকবুল বাহিনী ও খোরশেদ বাহিনী নিজেদের আধিপত্যকে ধরে রাখতে একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। উভয় গ্রুপ আধিপত্য নিয়ে সক্রিয় হওযায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয়রা জানায়, বিএনপি সমর্থিত মকবুল হোসেন ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত খোরশেদ আলী একই গ্রামের বাসিন্দা। এক সময় খোরশেদ আলী মকবুল হোসেনের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করত। এরা উভয়েই সরকারের উডলগ বাগানের গাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এই গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গত ১০ বছর যাবত দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলে আসছে।
আরো জানা যায়, মকবুল হোসেন একজন বদমেজাজী, কলহপ্রিয় এবং আইন অমান্যকারী লোক। গত বিএনপি সরকারের আমলে মকুবল হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুরো এলাকায় অস্থিতিশীল করে তোলে। এলাকায় আইনের অবনতি ঘটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। ঐ সময় তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাতো দূরের কথা ভাল কথাও বলতে সাহস করত না অনেকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানাজী গ্রামের এক ভূক্তভোগীরা (৫০) জানায়, মকবুল হোসেনের বাড়ী ছিল ’৭১ সালের পাকবাহিনীর টর্চার সেলের মতো। তার বিরুদ্ধে কোন কথা বললেই তার বাহিনীর লোক দিয়ে বাড়ী থেকে ধরে এনে গাছের সাথে বেঁধে হাত পা ভেঙ্গে দিত। কুপিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে রাখতো। হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ারত সুযোগ দিত না কাউকে। উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়ে দিত। যার কারনে মকবুল হোসেনের এই বিভৎস কর্মকান্ডের বিরোধিতা করে খোরশেদ নিজেই আলাদা বাহিনী গড়ে তোলে। শুরু হয় দুই দলের ক্ষমতার লড়াই। দুই দলের কোন্দলে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়ে অনেকেই।
সন্ধানপুর গ্রামের ফজলুল হক জানায়, বিগত ২০০৭ সালে খোরশেদ জেলখানায় গেলে  মকবুল বাহিনীর লোকজন খোরশেদ বাহিনীর লোক বাড়ী থেকে ধরে এনে গাছের সাথে বেধে মারধর করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিতো। গ্রামবাসী তার বিভৎস কর্মকান্ড দেখলেও সাক্ষী দিতো চাইতো না মকবুলের ভয়ে। মানাজী গ্রামের আনছের আলী জানায়, মকবুলের বেপোরোয়া কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে খোরশেদ মকবুলকে মারধর করে। সেই রাগের জের ধরে মকবুল বাহিনী কোন কারণ ছাড়াই সন্ধানপুর গ্রামের জোয়াদ আলীর ছেলে সেকান্দর আলী ও ইমান আলীর ছেলে ফজলুল হককে বাড়ী থেকে টর্চার সেলে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ কুপিয়ে পরে রাস্তায় ফেলে রাখে। এর প্রতিবাদ করায় মানাজী গ্রামের শরাফত আলী ও জয়েন উদ্দিনের ছেলে আনছার আলীকে গাছের সাথে উল্টো করে বেধে নির্মমভাবে নির্যাতন করে মকবুল হোসেন, তার ছেলে দুলাল ও সাবাজ আলীর ছেলে আমির ও শাহজাহান। একই কায়দায় সন্ধানপুর গ্রামের লস্কর আলীর ছেলে জাহিদুল ও আরশেদ আলীর ছেলে জামালকে মারধর করে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করে। ভূক্তভোগী আনছার আলী জানায়, সেই মিথ্যা মামলার ঘানি আজও টানতে হচ্ছে তাদের। সন্ধানপুর গ্রামের ফজলুল হক জানায়, নিজ দল ক্ষমতায় থাকতেও বিনা অপরাধে মকবুলের ভয়ে তিন মাস যাবত পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমার মতো সন্ধানপুর গ্রামের হাফিজুল, আকবর আলী, জাহাঙ্গীর, জাহিদুলসহ আরো অনেকের জীবনের নিরাপত্তা না থাকায় ভয়ে হাটবাজার করাও ছেড়ে দিয়েছে তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ঐ ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ইমান আলী জানান, মকবুল এবং খোরশেদ  দুইজনে প্রায় একই ধরনের লোক। তবে খোরশেদ ইদানিং ভালো হওয়ার জন্য চেষ্টা করেও মকবুলের কারণে ভাল হইতে পারছে না।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সন্ধানপুর গ্রামের মকবুল (বাহিনীর প্রধান ) মকবুল হোসেন এর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমাকে মারধর করার কারনেই আমার লোকজন তাদেরকে মেরেছে। এ বিষয়ে জরিমানাও দিয়েছি। তবে যারা আপনার কাছে অভিযোগ করেছে তারা সবাই চোর এবং ডাকাত।
মকবুল বাহিনীর অপকর্মের বিষয়ে সন্ধানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শহীদ এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মকুবল ও খোরশেদ এর সাথে পূর্ব থেকেই শত্রুতা আছে। তাই মকবুল অন্যায়ভাবে খোরশেদকে বেকায়দা ফেলতে চায়। খোরশেদও মকবুলকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে অভিযোগের বিষয়টি উত্থাপন হয়েছিল। দুইজনের নামেই বন মামলা আছে বলে জানা যায়।

ঘাটাইল সেনানিবাসে তৃতীয় ইনডিপেনডেন্স কাপ গলফ টুর্ণামেন্টের সমাপ্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, আমাদের ঘাটাইল ঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল শহীদ সালাহ উদ্দিন সেনানিবাসের গলফ ক্লাবে দুইদিন ব্যাপী তৃতীয় রেডিয়ান্ট ইনডিপেনডেন্স কাপ গলফ টুর্ণামেন্টের সমাপ্তি হয়েছে। আজ শুক্রবার টুর্ণামেন্টের সমাপনি দিনের খেলা উদ্বোধন করেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার ও ঘাটাইল শহীদ সালাহ উদ্দিন সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল ফিরোজ হাসান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেডিয়ান্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসরুর আহমেদ।
টুর্ণামেন্টে সাব জুনিয়ার, জুনিয়ার, লেডি এবং নিয়মিত গলফারসহ সর্বমোট ১০০ জন গলফার অংশ গ্রহণ করেন।
শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার ও ঘাটাইল শহীদ সালাহ উদ্দিন সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল ফিরোজ হাসান।