শুক্রবার, আগস্ট ০৪, ২০১৭

ঘাটাইলে মিথ্যা সংবাদ দাবী করে এক এএসআই’র প্রতিবাদ

‘ঘাটাইলে মাদকরিরোধী অভিযানের নামে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি মিথ্যা বলে দাবি করে ঘাটাইল প্রেসক্লাব বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন সাগরদিঘী তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মুশফিরুর রহমান।
ক্লাবের সভাপতির বরাবর পাঠানো লিখিত অভিযোগে থেকে জানাযায়, গত ৩০ জুলাই ২০১৭ইং তারিখে বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ কয়েকটি অনলাইন  পত্রিকায় ‘মাদক বিরোধী অভিযানের নামে পুলিশি হয়রানীর অভিযোগ’ শীর্ষক এক সংবাদ প্রকাশিত হয়।  অভিযোগকারী জানায়, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোতি সাপেক্ষে আকন্দের বাইদ এলাকায় হাজী আব্দুস সাত্তারের ছেলে আকতার হোসেন (৩৭) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী মাদক বেচাকেনা করছে এমন অভিযোগে সাগরদিঘি বাজার থেকে ইয়াবা সহ তাকে আটক করা হয়। ফারুক হোসেন নামে জনৈক এক ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রির নিকটতম আতœীয় পরিচয়ে মাদক ব্যবসায়ী কে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করে। ঘটনাটি তিনি তাৎক্ষণিক ভাবে ঘাটাইল থানা অফির্সার ইনচার্জ মোঃ মহিউদ্দিন পিপিএম কে অবগত করেন । পরে তিনি ধৃত ব্যক্তি মাদকের সাথে জড়িত থাকলে কোন অবস্থাতেই ছাড় নেই বলে নির্দেশ দিলে তিনি মাদক ব্যবসায়ীকে ঘাটাইল থানায় নিয়ে যায় এবং তার বিরোদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। তিনি আরও জানান, এনিয়ে একটি সুবিধা বাদি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায় । সেই সাথে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় তাকে জড়িয়ে একটি মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ করেন। পত্রিকায় আনিত অভিযোগের সাথে তিনি কোন ভাবেই জড়িত নয় এবং পত্রিকার রির্পোটার তার সাথে কোন কথা না বলেই উদ্দেশ্য প্রণোদিত এ সংবাদ দেয়ায় তার এবং বাংলাদেশ পুলিশের ভাব মুর্তি নষ্ট হয়েছে বলে তিনি লিখিত অভিযোগে জানান ।

ঘাটাইলে মাদকের বিরুদ্ধে ওসির জিহাদ ঘোষনা

রবিউল আলম, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল)  ঃ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানায় সদ্য যোগদানকারী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন (পিপিএম) মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করেছেন।  তিনি মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীকে আইনের হাতে তুলে দিতে সাংবাদিক, মসজিদের মুসুল্লি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সবার সহযোগিতা প্রার্থনা করে থানাকে দালাল মুক্ত ঘোষনা করেন।  ফলে সাধারণ মানুষ ও ভূক্তভোগীরা ওসির কর্মকান্ডে আসস্থ হয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।

জানা
যায়, ঘাটাইল উপজেলায় তিন বছর যাবৎ এমপি না থাকার ফলে জবাবদিহিতা না থাকায় থানা পুলিশ অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে উঠে।  ফলে আইনের পথে স্বচ্ছতা না থাকায় প্রতিদিন চুরি, ডাকাতী, ছিনতাই, ধর্ষন, মারামারি, জবরদখল ছাড়াও ঘরে ঘরে মাদক ও জুয়ার স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হয়ে উঠে।  থানা পুলিশ মাঝে মধ্যে লোক দেখানো ২/১ জন মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীকে আটক করলেও পুলিশ আইনের ধারা বদল করে অপরাধীকে সন্দেহমূলক চালান করায় ২/৪ দিন পরেই তারা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসা শুরু করে।  যার ফলে দিন দিন মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।  এক পর্যায়ে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের অত্যাচারে ঘাটাইল বাসী বিষিয়ে উঠে এবং পুলিশের প্রতি মানুষ অনেকাংশে আস্থা হারিয়ে ফেলে।  ঠিক সেই মুহুর্তে চলতি বছরের ২০মে ওসি মহিউদ্দিন (পিপিএম) ঘাটাইল থানায় যোগদান করে মাদককে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করে প্রতিদিন মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করেন।  যারা দীর্ঘদিন যাবত মাদকের ব্যবসা করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন অথচ পুলিশ তাদের আটক করতে পারেন  নাই।  ওসি মহিউদ্দিন সেই সব মাদক ডিলারদের গ্রেফতার করে অস্ত্রসহ জেল হাজতে প্রেরন করেছেন।  এভাবে গত ২ মাস ১০ দিনে ৫৭ জন মাদক ব্যবসায়ীকে মাদক মামলায় চালান করেন এবং মাদক ও জুয়ার অপরাধে মোবাইল কোটের মাধ্যমে ৮৩ জন অপরাধীকে জেল হাজতে প্রেরন করেন।  তাছড়াও ১টি বিদেশী ও দুইটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে মানুষকে সাড়া জাগিয়ে তোলেন।  যে কারনে ভয়ে অনেক মাদক বিক্রেতা ও সন্ত্রাসীরা ওসির ভয়ে গা ঢাকা দিয়ে তাবলীগে কিংবা অন্য কোথাও সম্পৃক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।  যার ফলে দালাল মুক্ত থানা ও মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করায় অপরাধীরা সুবিধা করতে না পেরে ওসির কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। 

এ ব্যাপারে রসুলপুর ইউনিয়নের সলিং বাজারের আবু হানিফ জানায় নতুন ওসি যোগদানের পর কিছু সংখ্যক মাদক বিক্রেতাদের আটক করে চালান করায় এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্র্রনে অনেকটাই উন্নতি হয়েছে তবে বড় বড় মাদক ডিলারা এখন পর্যন্ত গ্রেফতার না হওয়ায় মানুষ এখনো আতঙ্কে ভুগছে।
 
এ বিষয়ে জামুরিয়া ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মিন্টু বলেন, গত দুই বছর যাবত মাদক ব্যবসায়ী/সেবনকারী ও পুলিশ সোর্সদের নানামুখী অত্যাচারে সাধারণ মানুষে ভয়ে সর্বদা আতঙ্কে থাকত।  কিন্তু নতুন ওসি মহিউদ্দিন সাহেব ঘাটাইলে যোগদানের পর এখন আর সে আতঙ্ক নেই।  তাছাড়াও মাদক ব্যবসায়ী সেবনকারীর সংখ্যাও অনেকাংশে কমে গেছে।  তবে আমার বিশ্বাস ওসি মহিউদ্দিন সাহেবী পারবে ঘাটাইলকে মাদক মুক্ত করতে।


এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার্স ইনচার্জ ওসি মহিউদ্দিন (পিপিএম) বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা হবে।  তবে সকলের সহযোগিত প্রয়োজন। 

ঘাটাইলে ফেনসিডিলসহ আ’লীগ নেতা গ্রেফতার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শুক্রবার ভোরে ফেনসিডিলসহ এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তারকৃত মো. আজিজুর রহমান লুৎফর জামুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।  সে ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের হেলনাপাড়া গ্রামের মৃত জুব্বার সরকারের ছেলে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার সিংহ জানান, গত শুক্রবার ভোরে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের
ভিত্তিতে ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের হেলনাপাড়া গ্রামের মো. আজিজুর রহমান ওরফে লুৎফরের (৪৫) বাড়িতে অভিযান চালায়।  এসময় তার ঘরে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা একশ’ ৭০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।   এ ব্যাপারে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফ হোসেন বাদি হয়ে ঘাটাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।