মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৮

প্রেম না করায় ছাত্র যা বললেন শিক্ষক!


তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় তলা থেকে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন নডরডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র আজমাল মাহমুদ। শিক্ষক সুশান্তের চরম অপমানে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে পুলিশকে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে নডরডেম কলেজ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আজ মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) আজমাল মাহমুদের জ্ঞান ফিরলে লিখিত জবানবন্দি দেন তিনি। তবে তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নয়।

জবানবন্দিতে তিনি লেখেন, ফান করতে গিয়ে ভুলবশত ফ্রেন্ড নীলের মুখে বোতল লেগে ঠোঁট ফুলে যায়। তাকে আমি নিজেই গাইডেন্সের অনুমতি নিয়ে মেডিকেলে নিয়ে যাই। নীলের তেমন কিছু না হলেও আমি তাকে জোর করেই মেডিকেলের যাই। বিষয়টি ক্লাস ক্যাপ্টেন ওয়াফি দেখে ফেলার পর সে ক্লাস রুমে যেতে বলে। নীলকে গাইডেন্সে দিয়ে ক্লাসে গেলে পরে সেখান থেকে আমাকে ডেকে নেয় হয় গাইডেন্সে। 
আমাকে ডুকতে দেখেই ফাদার সুশান্ত বহিষ্কারের হুমকি দেয়। নীল আমার কোন দোষ নেই বললেও তিনি তাতে কর্ণপাত না করে আমাকে গালাগাল দিতে থাকে। অন্য আরও গার্ডিয়ান, স্টুডেন্ট আর স্টাফদের সামনে আমাকে চরম অপমান করে।

এসময় ফাদার সুশান্ত বলেন, ‘চুপ করো ফাজিল ছেলে। সাধু সাজার চেষ্টা করো না। তুমি যে কে, কেমন ছেলে সেটা তোমাকে দেখেই বুঝেছি আমি। এই কলেজ তোমার জন্য না। এইসব গুন্ডাবাজি, মারামারি অন্য কলেজে গিয়ে করো করবা।’

সাবেক স্কুল সেন্ট যোসেফ হওয়ায় তিনি বলেন, সেন্ট যোসেফের ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ভালো। ১ শতাংশ খারাপ, আর সেইটা হলো তুমি।

জবানবন্দিতে তিনি আরও লেখেন, প্রেম করি না জানতে পেরে ফাদার হাসতে হাসতে বলেন, তোমার মতো ছেলেদের মানুষ হিসেবে গণ্য করা যায় না। জন্তুর মতো তুমি। আনকালচারাল, বেয়াদব আর স্বার্থপর। তোমার মতো ছেলেরাই সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তোমার বেঁচে থাকা, তোমার পরিবারের লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এতো কিছু শুনে ঠিক থাকতে পারিনি। মাথা ঘুরে চোখে চারদিক ঝাপসা দেখছিলাম। স্টাফের একটি কথার উত্তরে ফাদার হাসতে হাসতে বলেন, মরতে হলে বা অজ্ঞান হলে এমনিতেই হতো। যারা এমন নাটক করে তারা আসলে কিছু করে না। ওদের সাহস নেই। পরের দিন গার্ডিয়ান নিয়ে দেখা করতে বলে। মায়ের অপমান দেখা আমার পক্ষে সম্ভব না। তখন বারান্দার রেলিং টপকে ঝাপ দেই।

আজমাল মাহমুদের পিতা টিটু বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমার ছেলে সেন্ট যোসেফে ভদ্রতার জন্য পুরষ্কারও পেয়েছে। তাকে ভদ্রতার সনদও দিয়েছে। সে সেন্ট যোসেফের ফার্স্ট বয় ছিল। এরপরও এতো ছোট একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফাদাররা এমন না বলতেও পারতেন।

তিনি আরও বলেন, এ কলেজে শিক্ষকদের অপমান সহ্য করতে না পেরে আগেও শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করেছে। তারা নানাভাবে শিক্ষার্থীদের অপমান করে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরাই সহ্য করে থাকে অনেকেই সহ্য করে থাকতে পারে না বলে অনেকই আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেয়। আমার ছেলেকে ফাদার সুশান্ত আত্মহত্যা জন্য উসকানি দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই। এ ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকটা খেয়াল রাখা উচিত।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে মতিঝিল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, এখানে শিক্ষক ছাত্রকে একটু কড়া ভাষায় কথা বলায় ঘৃনায় ছাত্র আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এর বেশি কিছু নয়। তারপরও বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব। যতটুকু সম্ভব আইনি সেবা দেয়ার চেষ্টা করব।

এ বিষয়ে নটরডেম কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

যে কারণে ভাঙল ২০ দলীয় জোট

নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ যখন পরিসর বাড়াতে একের পর এক আলোচনায় বসছে তখন বিএনপির বিরুদ্ধে জোটের অন্য শরিক দলগুলোকে অন্ধকারে রাখার অভিযোগ এনে ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেল বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি—ন্যাপ ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি—এনডিপি। দল দুটি বলছে তারা জোটের সঙ্গে ‘সম্পর্ক ছিন্ন’ করেছে।
দীর্ঘদিনের অভিমান আর অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে ছয় বছরের বেশি সময়ের সম্পর্ক ছিন্ন করল বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি। তার সঙ্গে ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করলেন এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজাও।
ন্যাপ ও এনডিপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কিনা, তা এখনও অন্ধকারে। অন্যদিকে পর-পর দুই নির্বাচনে অংশ না নিলে আরপিও অনুযায়ী নিবন্ধন বাতিল হবে। এ কারণে দলদুটো চায়, প্রচলিত আইন মেনেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে।
ন্যাপ ও এনডিপির নেতারা মনে করেন, ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মধ্য দিয়ে ২০ দলীয় জোটকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হবে। আর এর মধ্য দিয়ে বিএনপিই মূলত জোটকে বিলুপ্ত করে দিতে চাইছে। যদিও সোমবার (১৫ অক্টোবর) রাতে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
জোটের সেই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয়, ঐক্যফ্রন্টকে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০ দলীয় জোট। একইসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টে চারটি দলকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।
জেবেল রহমান গাণি বাংলাদেশ ন্যাপের চতুর্থ চেয়ারম্যান। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালে দলটি গঠিত হয়। এরপর ৭৬ সালে দলের সভাপতি নির্বাচিত হন মশিউর রহমান যাদু মিয়া, যিনি গাণির দাদা (বাবার বাবা)। এরপর তার নেতৃত্বেই জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টে যোগ দেয় ন্যাপ। এরপর ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ এ ন্যাপ যুক্ত হয়।
জেবেল রহমান গাণি জানান, বিএনপি গঠনের পূর্বে ন্যাপকে স্থগিত করেন মশিউর রহমান যাদু মিয়া। বিএনপি গঠনের প্রক্রিয়ার সময় ন্যাপের বিভাজন হয়। জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যেতে রাজি না হয়ে আলাদা হন নাসের খান ভাসানী, সেটা ছিল একটি ক্ষুদ্র অংশ। মূল ন্যাপ নিয়ে যাদু মিয়া ধানের শীষ প্রতীকের সঙ্গে বিএনপি গঠন করেন।
গাণি বলেন, ‘২০০৬ সালের ডিসেম্বরে আমার পিতা শফিকুল গণি স্বপন ন্যাপকে পুনরুজ্জীবিত করেন। ২০০৮ সালে ন্যাপ তার নেতৃত্বেই নিবন্ধন লাভ করে। তার মৃত্যুর পর ২০০৯ সালের আগস্ট ২৩ আগস্ট আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ২০১০ সালের প্রথমার্ধে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব শুরু করি।’
মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় গুলশানের ইম্যানুয়েলস ব্যাংকুয়েট হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জোট ছাড়ার ঘোষণা দেন ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি।
জোট ভেঙে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল গাণি বলেছেন, ন্যাপ ও এনডিপি সাংবিধানিক ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে। শুধু ক্ষমতার পালা বদলের নামে কোনো অশুভ শক্তির ক্ষমতা গ্রহণ করে ফের দেশকে রাজনীতিশূন্য করার কোনো অপচেষ্টায় অংশগ্রহণ করুক, একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা তা প্রত্যাশা করি না।
তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় তার শরিকদের অন্ধকারে রাখার অপচেষ্টা করে গেছে। জাতীয় নির্বাচন কাছাকাছি হলেও সে বিষয়ে বিএনপি তার অবস্থা শরিকদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করছে না।
এর আগে জেবেল রহমান গাণির বলেন, জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো, গত ১৩ অক্টোবর বিএনপি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ।
ন্যাপ ও এনডিপির নেতাদের ভাষ্য, বিএনপির পক্ষ থেকে আগামী নির্বাচন নিয়ে ২০ দলীয় জোট থেকে কোনো উদ্যোগ বা সংলাপ করেনি। যদিও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করতে গিয়ে ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে আসনের বিষয়ে বিএনপির আলোচনা প্রকাশ্যে এসেছে।
এক্ষেত্রে বিএনপির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন আছে ন্যাপের। এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে কখনো ন্যাপের চেয়ারম্যানকে সংসদীয় আসন দেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত বা সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ২০১৫ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ন্যাপ চেয়ারম্যানের নির্বাচনী এলাকা নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে বিএনপির সমর্থন চেয়েও প্রত্যাখ্যাত হন গাণি।
মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিভিন্ন বৈঠকে জোট শরিকদের মনোনয়নের বিষয়টি সামনে আনতে চাইলেও বিএনপি কৌশলে তা এড়িয়ে যায়। আর ১/১১ কুশীলব, মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়নকারীরা যখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নামে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, তখন আমরা মনে করি, বিএনপি তার সব নৈতিক অবস্থা থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে আসার পেছনে অনেকগুলো কারণ পাওয়া গেছে দলটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে। তাদের ভাষ্য, বিএনপির পক্ষ থেকে আগামী নির্বাচন নিয়ে ২০ দলীয় জোট থেকে কোনও উদ্যোগ বা সংলাপ করেনি। যদিও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করতে গিয়ে ড. কামাল হোসেন, আসম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে আসনের বিষয়ে বিএনপির আলোচনা প্রকাশ্যে এসেছে। এক্ষেত্রে বিএনপির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন আছে ন্যাপের। এছাড়া, বিএনপির পক্ষ থেকে কখনও ন্যাপের চেয়ারম্যানকে সংসদীয় আসন দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত বা সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ২০১৫ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ন্যাপ চেয়ারম্যানের নির্বাচনি এলাকা নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে বিএনপির সমর্থন চেয়েও প্রত্যাখ্যাত হন গাণি।
জোট ছেড়ে নতুন কোনও জোটে যাওয়ার চিন্তাভাবনা আছে ন্যাপ ও এনডিপির। এক্ষেত্রে বি. চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট বা অন্য কোনও জোটে দেখা যেতে পারে দল দুটিকে। এ বিষয়ে জেবেল রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে যেকোনও রাজনৈতিক মেরুতে ঐক্যবদ্ধ আপত্তি থাকবে না।’
‘ন্যাপ ও এনডিপি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, আমরা সংবিধানের ঊর্ধ্বে না। আইনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যদি থাকতে চাই, তাহলে আইনের অধীনেই থাকতে হবে। এই মুহূর্তে দেখতে পাচ্ছি, প্রত্যেকটি দল ভোটের মেজাজে চলে গেছে’— নিজের অবস্থানও তুলে ধরেন জেবেল রহমান গাণি।
এর আগে বিএনপি গত শনিবার ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, জাসদ (জেএসডি) ও নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে একটি জোট করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে দীর্ঘদিনের জোটগত সম্পর্ক ত্যাগ করে ইসলামি ঐক্যজোট। এর আগের বছর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিএনপি জোটে ভাঙন ধরিয়ে বেরিয়ে যায় শেখ শওকত হোসেন নিলুর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। প্রয়াত নীলু ওই সময় অভিযোগ করেছিলেন, ২০ দলের জোটে বিএনপি-জামায়াত সব সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতো।
মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) ন্যাপ ও এনডিপি বেরিয়ে গেলে গত দুই বছরে তৃতীয়বারের মতো ভাঙনের কবলে পড়ল বিএনপি জোট।
১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম এবং ইসলামি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হককে সঙ্গে নিয়ে চার দলীয় জোট গঠনের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
এরপর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল কলেবরে বেড়ে ১৮ দলীয় জোট হয়। পর্যায়ক্রমে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ও সাম্যবাদী দল যোগ দিলে তা ২০ দলীয় জোটে পরিণত হয়।

জঙ্গি সন্ত্রাসীরাই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু: র‌্যাব ডিজি

জঙ্গি সন্ত্রাসীরাই বাংলাদেশের একমাত্র সংখ্যালঘু বলে মন্তব্য করেছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। বলেছেন, ‘এদেশে জঙ্গি, সন্ত্রাসীরা, অপরাধীরাই সংখ্যালঘু। বাংলাদেশে আর কোনও সংখ্যালঘু নেই।’

মঙ্গলবার দুপুরে মহাসপ্তমীতে বাগেরহাটের শিকদার বাড়ির দূর্গাপুজা মন্ডপ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র‌্যাব ডিজি একথা বলেন।

বেনজীর বলেন, ‘এদেশের সংবিধান সমস্ত নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার, তাদের সার্বিক মৌলিক অধিকার সংবিধানে নিশ্চয়তা দিয়েছে। আমাদের দেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ।’

নির্বাচন আয়োজন গনতান্ত্রিক দেশের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতি পাঁচ বছর পরপর নির্বাচন হবে। নির্বাচনে যারা বিজয়ী হবে তারা ক্ষমতায় আসবে। এটাই স্বাভাবিক।’

‘এটাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের শঙ্কিত হওয়ার কোনও কারন নেই। ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে যারা ভোটার হয়েছেন তারা আগামী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, ভোট দেবেন। নির্বাচনের যে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া তাতে সবাই সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণ করবেন।’

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারে সেজন্য দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জানিয়ে বেনজীর বলেন, ‘দুর্গাপুজার গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপগুলোতে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখেছি। সেগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।’



‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে এদেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে। কিন্তু গুটিকয়েক অপরাধীচক্র এই ধরনের উৎসবকে নস্যাৎ করার অপচেষ্টা করে থাকে। বিগত দিনে ওই চক্রকে জনগনকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের নিশ্চিহ্ন করা হবে।’

কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উষ্কানিমূলক গুজব ছড়ালে তাতে কান না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন র‌্যাবের মহাপরিচালক।

এসময় র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার হাসান ইমাম আল রাজীব, বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়সহ র‌্যাব কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে র‌্যাব মহাপরিচালক হেলিকপ্টারে করে বাগেরহাট ত্যাগ করেন।

ঘাটাইলে প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, পুরুষশূন্য এলাকা

মো. মাসুম মিয়া, ঘাটাইল : টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দুবাই প্রবাসী জুলহাসের স্ত্রী সাবিনা (২৬)-এর মৃত্যুরহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। এটা হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে ক্রমেই রহস্যের জট বাঁধছে। নিহতের কোনো অভিভাবক ছাড়াই রাতভর সালিশ, সকালে মিললো অর্ধ ঝুলন্ত লাশ। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হলেও মূল ঘটনা অনেকটাই রহস্যের বেড়াজালে। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করার পর থেকেই পলাতক রয়েছে ঘটনার মূল নায়ক ইউপি মেম্বার চান মিয়া ও একাধিক পরকীয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হাসমত আলী। এখন এলাকা অনেকটাই পুরুষশূন্য। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের পোয়া কোলাহা (নয়াপাড়া) গ্রামে।

উপজেলার দড়ি চৈথট্র গ্রামের আঃ জলিলের মেয়ে সাবিনা।

জানা যায়, গত ৮ বছর আগে একই উপজেলার পোয়া কোলাহা গ্রামের সুলতান মাহমুদের (৭০) পুত্র জুলহাসের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পরেই প্রবাসে চলে যান তিনি। একই সঙ্গে তার অপর ৩ ভাইও প্রবাসে থাকেন। একমাত্র বৃদ্ধ বাবা ছাড়া বাড়িতে পুরুষ মানুষ আর নেই।

সরেজমিন নিহতের শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রবাসী জুলহাসের স্ত্রী সাবিনা ৫ বছরের শিশু কন্যা ছোঁয়া ও ২ বছরের শিশু কন্যা তোয়াকে নিয়ে আলাদা বাড়িতে বাস করতেন। প্রবাসী জুলহাসের অপর দু’ভাইয়ের বাড়ি পাশাপাশি থাকলেও তারাও প্রবাসে থাকায় বাড়িটি একেবারে জনমানবহীন। একমাত্র জুলহাসের স্ত্রী থাকতো ওই বাড়িতে। ফলে রাতের বেলায় বাড়িটিতে অনেকটা নির্জনতাই বিরাজ করতো। ঘটনার রাত ঘড়ির কাঁটায় তখন সাড়ে এগারোটা। পরকীয়া সম্পর্কে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে যান প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের ছেলে হাসমত আলী (৩৫)। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি টের পান একই গ্রামের আরশেদ আলীর ছেলে নাজমুল (৩৬)। হাসমতকে ঘরের ভেতর প্রবাসীর স্ত্রী’র সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি ঘরের বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে ইউপি মেম্বার চান মিয়া সহ স্থানীয়দের খবর দেন।

পরে লোকজন ঘরের ভেতর ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রী সাবিনা ও ঘুমে থাকা দু’শিশু সন্তান ছাড়া আর কাউকে পাননি। পরে ঘরের সিলিংয়ের উপর উঁকি দিয়ে দেখতে পান হাসমত আলী আত্মগোপন করে রয়েছে। পরে মাতব্বররা সেখান থেকে তাকে নিচে নামান। এক পর্যায়ে নাজমুলের সঙ্গে হাসমতের ধস্তাধস্তির মতো ঘটনাও ঘটে।

নিহতের শ্বশুর বৃদ্ধ সুলতান মাহমুদ জানান, আমি মসজিদ থেকে ফজরের নামাজ পড়ে আসছিলাম। এ সময় নাতি দুটোর কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে আমার স্ত্রী ফাতেমাকে সেখানে পাঠাই।

ফাতেমা (৫৫) বলেন, আমি বাচ্চা দুটি কোলে নিলে নাতনি ছোঁয়া বলে মা’র গলা থেকে দড়ি খুলে দেও। তখন আমি গলায় দড়িতে ফাঁস দেয়া লাশটি দেখতে পাই। পরে বাচ্চা দুটিকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে এসে বিষয়টি অন্য সবাইকে জানাই। এর আগে রাতে ঘরে থাকা অবস্থায় সাবিনাকে নাকি শারীরিকভাবে প্রহার করে হাসমত এমন কথা জানায় সাবিনার ৫ বছরের মেয়ে ছোঁয়া।

নিহতের স্বামী প্রবাসী জুলহাসের সঙ্গে সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার স্ত্রী সাবিনা সম্পর্কে আমার জানা আছে। সে আত্মহত্যা করতে পারে না। আর আত্মহত্যা করলেও তার কারণ জানিয়ে চিরকুট লিখে যেত।

সম্প্রীতির বার্তা ছড়ানো প্রধানমন্ত্রীর ছবিটি এখন ভাইরাল

মহাষষ্ঠী উদযাপনের মাধ্যমে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আজ চলছে মহাসপ্তমীর আরাধনা। এর মাঝেই ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ছবি ভাইরাল হয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে যা এখন সোশ্যাল সাইট ইউজারদের হোমপেইজে ঘুরছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই বাংলাদেশের নাগরিকরা ছবিটির উচ্ছসিত প্রশংসা করছেন। 

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সোমবার ১৫ অক্টোবর জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দূর্গা মন্দিরের সামনে উপবিষ্ট পুরোহিতগণ প্রধানমন্ত্রীকে নমস্কার জানান। জবাবে হাসিমুখে তাদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রদায়িক উস্কানির এই বাজে সময়ে ছবিটি যেন সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই ছবিটিই যেন হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থানের হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্যের বড় উদাহরণ।

সারাদেশে ৩১ হাজার ২৭২টি পূজা মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে ৮০০ বছরের পুরনো এ মন্দিরের দেড় বিঘা জমির মালিকানা নিয়ে ৬০ বছর ধরে চলা জটিলতার সমাধান করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে এক সমাবেশে তিনি বলেছেন, 'আজ আমরা আনন্দিত, সারা বাংলাদেশেই পূজো হচ্ছে এবং প্রতিবছরই পূজোর সংখ্যা বাড়ছে। প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মন্ডপে পূজো হচ্ছে।'

ঘাটাইলে অধীর চন্দ্র সরকারের দুর্গাপূজা মন্ডপ পরিদর্শন

আব্দুল লতিফ, ঘাটাইল : হিন্দু ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা জমে ওঠেছে। ইতোমধ্যে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এ উৎসবটি পালন করা হচ্ছে ৭৭টি পূজা মন্ডপে। আজ মঙ্গলবার ছিল মহাসপ্তমী। এ উপলক্ষে প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপে ছিল লোকজনের উপচে পড়া ভিড়। এর মধ্যে শিশু-কিশোর ও নারীদের সংখ্যই বেশি। এ সময় ওইসব পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন  বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি; সমৃদ্ধ ঘাটাইল ঢাকা এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. অধীর চন্দ্র সরকার।

এ সময় তিনি প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহযোগিতাও করেন।

শারদীয় দুর্গাপূজায় পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মানুষের স্বাস্থ্য, অন্য, বস্ত্র, বাসস্থানসহ নানা দিকের উন্নয়ন হয়। এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি আবার নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।

সে সময় ঘাটাইলের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাএলীগ ও কৃষকলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীবৃন্দ তার সাথে উপস্থিত ছিলেন।

ধুতি পরেই ম্যারাথনে মন্ত্রিমশাই, অতঃপর...

কয়টি হলে মুক্তি পাচ্ছে দেবী?

‘দেবী’ সিনেমাটিকে ঘিরে আগ্রহের শেষ নেই মানুষের। দীর্ঘদিন থেকেই ছবিটির প্রচারণা চলছে নানা মাধ্যমে। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিব, টেলিভিশন, ফ্যাশন শো এমন নানা মাধ্যমে দিকে দিকে ছড়িয়ে গেছে সিনেমাটির খবর। এদিকে হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলী চরিত্রটির প্রতি লক্ষ লক্ষ মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়ে আছে অনেক আগে থেকেই। উপন্যাসের চরিত্র ‘মিসির আলী’ নষ্টালজিক করে রেখেছে অনেককেই। মিসির আলী ও দেবীকে পর্দায় কেমন দেখা যাবে? এক ঝলক দেখার অপেক্ষা এবার কাটতে চললো ।

আর মাত্র দুই দিন পরেই সিনেমা হলে আসছে অনম বিশ্বাস পরিচালিত এ বছরের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘দেবী’। আগামী ১৯ অক্টোবর সারাদেশে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। শোনা যাচ্ছিলো প্রথমে ২৪টি হলে মুক্তি দেওয়া হবে সিনেমাটি। সোমবার ঢাকা ক্লাবে এই সিনেমাকে ঘিরে হওয়া এক জমকালো অনুষ্ঠান। কথায় কথায় জয়া জানালেন ১৮টির মতো হলে সিনেমাটি মুক্তি দিতে চান তিনি। প্রথমে দেশের প্রথম সারির হলগুলোতে মুক্তি পাবে ‘দেবী’।


প্রযোজক এই সিনেমার জন্য হল পাচ্ছেন না, বিষয়টি এমন নয়। ইচ্ছে করে অল্প সিনেমা হলে ‘দেবী’ মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। জয়া আহসান বলেন,‘আমরা হল সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে, ভালো হলে ছবিটি মুক্তির কথা ভেবেছি। যারাই দেখবেন তারা যেনো ভালোভাবে ছবিটি উপভোগ করতে পারেন। রাজধানীর বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার, বলাকা, শ্যামলী, মধুমিতাসহ এই মানের হলগুলোতে প্রথমে মুক্তি দেওয়ার কথা ভেবেছি। মানুষের ভালোবাসা পেলে পরের সপ্তাহে হল সংখ্য অবশ্যই বাড়বে।’

এরই মধ্যে চলচ্চিত্রটির টিজার, ট্রেলার ও একটি গানও উপভোগ করেছেন দর্শক। এবার দেখবেন সিনেমা ‘দেবী’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরী, অনিমেষ আইচ, ইরেশ যাকের ও শবনম ফারিয়া।

কবি কবিতা ও সজারু

জলবায়ু মোকাবেলায় আ.লীগকে ফের ক্ষমতায় আনতে হবে

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘দেশে যেভাবে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে এই পরিবর্তনের মোকাবেলা করতে হলে আওয়ামী লীগ সরকারকে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে।’

মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তন এবং খাদ্য সর্বভূতের উপর প্রভাব শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘দেশে যেভাবে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে তাতে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বঙ্গোপসাগরে বড় ভূখণ্ড জাগার সম্ভাবনা রয়েছে । তাই এসব এর মোকাবেলা করতে হলে এই সরকারের কন্টিনিউ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর ১০টি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। আমরা আশা করবো বর্তমান সরকার এর দিকে গুরুত্বপূর্ণভাবে নজর দিবেন।’

এ সময় তিনি দেশের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সব রাজনৈতিক দলকে আপনারা প্রশ্ন রাখবেন ক্ষমতায় আসলে জলবায়ুর জন্য আপনারা কী পদক্ষেপ নেবেন? এটা ইশতেহারে প্রকাশ করতে হবে।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, কৃষি বিজ্ঞানী ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস, ওয়ার্কাস পার্টির নেতা আনিসুর রহমান মল্লিক, শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হক আমিন প্রমুখ।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচে মেসিকে নিয়ে যা বললেন নেইমার


ফুটবল মানেই উত্তেজনা-উন্মাদনা। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে মাঠের নব্বই মিনিট যেন জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়! আর ম্যাচটি যদি হয় আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিলের- তাহলে সেই উত্তাপ পৌঁছে যায় অন্য মাত্রায়। উত্তাপ আর তর্ক-বিতর্কের ছড়িয়ে পড়ে পুরো ফুটবল জগতে। তবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সেই লড়াইয়ের চব্বিশ ঘণ্টা আগে হতাশায় ডুবলো ফুটবলপ্রেমীরা! মঙ্গলবার জেদ্দায় ফিফা ফ্রেন্ডলিতে লিওনেল মেসি বনাম নেইমার দা সিলভা স্যান্টোস (জুনিয়র) দ্বৈরথই যে হচ্ছে না।

রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের বিরুদ্ধে হারের পরেই আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে বিশ্রাম নিয়েছেন মেসি। তাই ফিফা ফ্রেন্ডলিতে আর্জেন্টিনা খেললেও আগ্রহ নেই ভক্তদের। মেসি না থাকায় হতাশ নেইমারও। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে এক সাক্ষাৎকারে ব্রাজিল তারকা বলেছেন, ‘‘মেসি খেললে ফুটবলেরই উপকার হবে। ওর খেলা দেখা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সেরা প্রাপ্তি।’’ নেইমারের আশা, দ্রুতই ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মেসির আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে খেলবেন।

মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে না খেলায় হতাশ ব্রাজিলের অন্য ফুটবলারেরাও। জোয়াও মিরান্দা ফিলহো বলেছেন, ‘‘মেসি-নেইমার দু’জনেই এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ফুটবলার। ওদের খেলা দেখার জন্যই সবাই অপেক্ষা করে থাকে।’’

দানিলো দা সিলভার কথায়, ‘‘মেসি, নেইমারের মতো ফুটবলার দলকে সব সময় অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। আশা করছি, মঙ্গলবার নেইমার সেই কাজটাই করবে।’’ 

ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা ফিফা ফ্রেন্ডলি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীরা আগ্রহ হারিয়েছেন। কিন্তু মঙ্গলবারের মর্যাদার লড়াইয়ে পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা জিততে মরিয়া। ম্যাচের আগে সতীর্থদের উজ্জীবিত করার দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন নেইমার। 

তাঁর কথায়, ‘‘সতীর্থদের বলেছি, এই ম্যাচটা আমাদের কাছে স্পেশ্যাল। কারণ, আর্জেন্টিনা আমাদের চিরশত্রু। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কোন ম্যাচই বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারে না।’’ 

তিনি যোগ করেছেন, ‘‘আর্জেন্টিনা দলে প্রচুর ভাল ফুটবলার রয়েছে। আমাদের দায়িত্ব ম্যাচটাকে সুন্দর করে তোলা।’’ আর্জেন্টিনা ম্যাচের প্রস্তুতির মাঝেই মরুভূমি সফরে গিয়েছিলেন নেইমাররা।

ঘাটাইলে দীর্ঘ জ্যাম (ভিডিও)

টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ট্রাক উল্টে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে মির্জাপুরের সুভুল্লা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- জয়পুরহাট সদর উপজেলার শিখারঞ্জন গ্রামের নিরঞ্জন মালী (৩০), তার স্ত্রী সাগরী মালী (২৫) ও তাদের মেয়ে স্বর্ণা (৮)।

মির্জাপুর থানার ওসি মিজানুল হক জানান, ভোরে ট্রাকে করে ওই তিনজন গাজীপুর থেকে জয়পুরহাট যাচ্ছিলেন। ট্রাকটি মির্জাপুরের সুভুল্লা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যায়। এতে টাইলসের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ৩ জনের মৃত্যু এবং ৫ জন আহত হয়।

নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনজনের মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এবার ক্লিনটনের যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খুললেন হিলারি

‘#মি টু’ আন্দোলন নিয়ে যখন পুরো বিশ্ব তোলপাড় তখন দীর্ঘ দুই দশক পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সাবেক ইন্টার্ন মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন হিলারি ক্লিনটন। রবিবার (১৪ অক্টোবর) সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

হিলারি বলেন, বিল ক্লিনটন সে সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নয় বরং মনিকা লিউনস্কির সম্মতিতেই তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। আর এ জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট পদ না ছেড়ে ঠিকই করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘#মি-টু’ আন্দোলন নিয়ে যখন পুরো বিশ্ব তোলপাড় হচ্ছে তখন মনিকা লিউনস্কি কিছুই বলেননি। কারণ মনিকার ওই যৌন সম্পর্কে সম্মতি ছিল। লিউনস্কি ছিলেন একজন প্রাপ্তবয়স্ক।

আর এ কারণেই বিল ক্লিনটনের পদত্যাগ করার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। এদিকে, মনিকার সঙ্গে সম্পর্কের কথা লুকানোর কারণে বিল ক্লিনটনের পদত্যাগ করা উচিত ছিল, মার্কিন সিনেটর ক্রিস্টিন গ্রিলব্যান্ডের এই দাবিকে খারিজ করে দিয়েছেন হিলারি। বরং পদত্যাগ না করার প্রশ্নে ক্লিনটনের পাশেই দাঁড়িয়েছেন হিলারি। এত দিন পরে সে কথা প্রকাশ করলেন তিনি। উল্লেখ্য, মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে বিল ক্লিনটনের যৌন কেলেঙ্কারি মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। সে সময় বিল ক্লিনটনের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়ে উঠেছিল বিরোধীরা। যদিও এই নিয়ে সে সময় কোনো মন্তব্য করেননি ক্লিনটনের স্ত্রী হিলারি।

বলিউডে যে তারকারা #মিটু বিতর্কে মুখ খুলেছেন



বলিউড এখন #মিটু নিয়ে সরগরম। একের পর এক যৌন নিগ্রহের অভিযোগ আনছেন বলিউড তারকারা। কখনও না কখনও হেনস্থা নিয়ে মুখ খুলেছেন তারা। তনুশ্রী দত্ত যেমন সম্প্রতি অভিযোগ এনেছেন নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে। অতীতে বা পরবর্তীতেও যৌন নিগ্রহের শিকার হওয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন এই তারকারা।ত্র : গায়ক কৈলাস খেরের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহ নিয়ে মুখ খুলেছেন ‘অম্বরসরিয়া’ গায়িকা। কৈলাস ও তার ব্যান্ডের এক সঙ্গে পারফর্ম করার কথা নিয়েই আলোচনা ছিল দু’জনের।

রূপসী মান্দানা

মান্দানা করিমি ইরানি মডেল-অভিনেত্রী। কাজ করছেন বলিউডে। রূপ, গুণে ও অভিনয়ে এরইমধ্যে শোবিজ অঙ্গনে নিজেকে মেলে ধরেছেন।

এবার মুখ খুললেন সালমানের প্রথম প্রেমিকা

বলিউডের ব্যাড বয় সালমান খান। অভিনয়ের শুরু থেকেই নানা রকম বিতর্কে জর্জরিত তিনি। বিতর্ক আর কানাঘুষা যেন তাকে ছাড়ছেই না। এবার মুখ খুললেন সালমান খানের প্রথম প্রেমিকা সোমি আলি। মাত্র ৫ বছর বয়সে যৌন নিপীড়ন আর ১৪ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা জানালেন তিনি।

ভারতে এখন তোলপাড় চলছে ‘মি টু’ আন্দোলন নিয়ে। নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত’র যৌন হেনস্থার অভিযোগ আসার পর থেকেই একে একে নারীরা কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বাঘা বাঘা সব তারকাদের। সেই ধারাবাহিকতায়ই মুখ খুললেন সোমি আলি।

না, তিনি কোনো তারকার বিরুদ্দে সরব হননি। সোমি আলি কেবল একটি টুইটের মাধ্যমে জানিয়েছেন নিজের জীবনের যন্ত্রণাদায়ক অতীতের কথা।

তিনি জানান, ‘আমি যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছিলাম ৫ বছর বয়সে এক গৃহকর্মীর দ্বারা। আমি ধর্ষণের শিকার হয়েীছলাম ১৪ বছর বয়সে। আমি বড় হয়েছিলাম পাকিস্তানের সেই সময়টাতে যেখানে গৃহে নারীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনা ছিলো খুবই স্বাভাবিক। প্রায়ই দেখতাম মায়ের বান্ধবীদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন। মা বলতেন, তারা পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছেন।’

নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে সিনেমায় অভিনয় করা সোমি আলি পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠা করেছেন মানবতাবাদী সংগঠন ‘নো মোর টিয়ার্স’। এই সংগঠনের মাধ্যমে নিপীড়িত নারীদের জন্য কাজ করেন তিনি।

সালমান খানের প্রথম প্রেমিকা সোমি আলি ১৯৯০-র দশকে ৯টি হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। কিন্তু সালমানে খানের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় চলে যান। আর ফিরে আসেননি।

নাতাশ স্তানকোভিচ

সার্বিয়ার এই মডেল কাজ করতে এসেছিলেন বলিউডে। নাম নাতাশ স্তানকোভিচ। ইনিই এখন বলিউডের নতুন সেনসেশন। বিগ বসের সিজন আটে এই মডেল এসেছিলেন। সেখান থেকেই হিন্দি শেখার শুরু। নাতাশা অসাধারণ একজন নৃত্যশিল্পী। ছবি : ইন্টারনেট

৫ সেকেন্ডেই শাড়ি পড়ুন

বঙ্গবন্ধুর ভারত সফর (২১-৯-১৯৭২)

সংকট সমাধানে ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’


বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অনেকটাই উত্তাল। নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতে ভোটের মাঠের জোট গঠনে চলছে নানা মেরুকরণ। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন প্রস্তাবনা আসছে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে। যার মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু যেমন, নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, সেনাবাহিনী মোতায়েন, রাষ্ট্রপতি- প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারে কে থাকবে তা নিয়ে আলোচনা ও বিরোধ চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। আদালত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা) অবৈধ ঘোষণা করায় এবং সংসদ কর্তৃক সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

   নির্বাচনকালীন জটিলতা ও রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সর্বোপরি দেশের গণতন্ত্রের উন্নয়নের স্বার্থে বিশ্বের অন্যান্য আধুনিক ও উন্নত দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের জন্য এখন সময়ের প্রয়োজন ও বাস্তবতা 

তবে, অনির্বাচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছিল সংবিধান ও সংসদীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাছাড়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে না পারলে দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অপরদিকে, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক।

নির্বাচনকালীন সময়ের সরকার ব্যবস্থা নিয়ে অনেকেই অনেক প্রস্তাবনা দিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে এসব প্রস্তাবনা এসেছে। তবে এখনো যে কথাটি আসেনি তা হলো, ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’। গণতান্ত্রিক বিশ্বে ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ কোন নতুন বিষয় নয়। উন্নত ও আধুনিক সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রায় সকল রাষ্ট্রেই ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ বিদ্যমান। শুধু উন্নত দেশ নয়, অনেক উন্নয়নশীল, মধ্যম আয় ও নিম্ন আয়ের দেশেও ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ রয়েছে।

বাংলাদেশের নিকট প্রতিবেশি দুইটি রাষ্ট্র ভারত ও মিয়ানমার। ভারতকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের দেশ বলা হয়ে থাকে। সেই ভারতে কাউন্সিল অফ স্টেটস (রাজ্যসভা) ও কাউন্সিল অফ দ্যা পিপল (লোকসভা) নামে ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ রয়েছে। আরেক প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমার, যেখানে সামরিক জান্তার প্রভাবে গণতন্ত্র মৃতপ্রায় সেখানেও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ও পিপলস অ্যাসেম্বলি নামে ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ রয়েছে।

যে যুক্তরাজ্য আমাদের ১৯০ বছর শাসন করেছে, যাদের আইন- নীতি বংশানুক্রমে বাংলাদেশ এখনো বহন করে যাচ্ছে সেই দেশেও কিন্তু ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ কার্যকর, যা হাউজ অফ লর্ডস ও হাউজ অফ কমন্স নামে পরিচিত।


বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন জটিলতার সমাধান পাওয়া যায় ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ ব্যবস্থায়। যেখানে সংসদের দুইটি কক্ষ থাকে। একটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও অপরটি বিদ্যমান থাকে, ফলে দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা দেখা দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

অপর দিকে সংসদের দুটি কক্ষ থাকায় নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বা নির্বাচনে সরকারের প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ থাকে না। আবার সংসদের দুটি কক্ষেই নির্বাচিতরা থাকায় অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দ্বারা সরকার গঠনের প্রশ্নই আসে না। সুতরাং ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভূমিকা রাখে। প্রধানমন্ত্রী সংসদের নিম্নকক্ষ বা রাজনৈতিক পরিষদের নেতা হলে রাষ্ট্রপতি সংসদের উচ্চকক্ষ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রধান হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারেন।

সংসদের নিম্নকক্ষ বা রাজনৈতিক পরিষদে সকল দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা থাকলেও উচ্চকক্ষ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ, বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধির পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো থেকে নির্বাচিত, দক্ষ ও অপেক্ষাকৃত প্রবীণদের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে। ফলে উচ্চকক্ষ ও নিম্ন কক্ষের মধ্যে এক ধরনের ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ কাজ করবে। উচ্চকক্ষ যেমন জনবিরোধী কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না আবার তেমনি নিম্ন কক্ষ কোন অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত নিলে বিশেষজ্ঞ পরিষদ সেটা ঠিক করতে পারবে।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি প্রভৃতি দেশে ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সিনেট ও হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ নামে দুইটি কক্ষ রয়েছে। এছাড়া রাশিয়ায় ফেডারেশন কাউন্সিল ও স্টেত ডুমা, ফ্রান্সে সিনেট ও ন্যাশনাল এসেম্বলি, অস্ট্রেলিয়ায় সিনেট ও হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ, জার্মানিতে ফেডারেল কাউন্সিল ও ফেডারেল ডায়েট নামে ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ বিদ্যমান।

এমনকি আফ্রিকা মহাদেশের মিশর, সুদান, ইথিওপিয়া, দক্ষিণ সুদান প্রভৃতি দেশগুলোতেও ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ রয়েছে। মিশরে মজলিসে শুরা ও মজলিসে সা’ব, সুদানে ন্যাশনাল লেজিসলেচার ও কাউন্সিল অফ স্টেটস, ইথিওপিয়ায় হাউজ অফ ফেডারেশন ও হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ, দক্ষিণ সুদানে ন্যাশনাল লেজিসলেচার ও কাউন্সিল অফ স্টেটস নামে ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ রয়েছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জাপান, মালয়েশিয়া, কাজখাস্তান, ওমান, উজবেকিস্তান প্রভৃতি দেশে ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ রয়েছে। জাপানে হাউজ অফ কাউন্সিলর্স ও হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস, মালয়েশিয়ায় সিনেট ও হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস, কাজখাস্তানে সিনেট ও অ্যাসেম্বলি, ওমানে মজলিসে শুরা ও মজলিসে দৌলা, উজবেকিস্তানে সিনেট ও লেজিসলেটিভ চেম্বার নামে ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও শ্রীলংকা ছাড়া অন্যান্য দেশে ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ কার্যকর। পাকিস্তানে সিনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি, আফগানিস্তানে হাউজ অফ এল্ডার্স ও হাউজ অফ দ্যা পিপল, ভুটানে ন্যাশনাল কাউন্সিল ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি, নেপালে ন্যশনাল অ্যাসেম্বলি ও হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস নামে ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ রয়েছে।

‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ নির্বাচন সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ থেকে উন্নত নয় এবং সমপর্যায়ের অনেক দেশেই ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ রয়েছে। তাই, ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ বাংলাদেশের জন্য কোন বিলাসিতা নয়।

নির্বাচনকালীন জটিলতা ও রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সর্বোপরি দেশের গণতন্ত্রের উন্নয়নের স্বার্থে বিশ্বের অন্যান্য আধুনিক ও উন্নত দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে ‘দ্বি- কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের জন্য এখন সময়ের প্রয়োজন ও বাস্তবতা।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।