শনিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮

ঘাটাইলে আ.লীগের বিশাল নির্বাচনী জনসভা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করার লক্ষে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের শেখশিমুল মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মফিল উদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আতাউর রহমান খান।

এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইলঘজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. বালা মিয়া, ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু, যুগ্ন আহবায়ক শহিদুল ইসলাম খান হেস্টিংস, যুগ্ম আহবায়ক মাসুদুর রহমান আজাদ প্রমুখ।

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হামিদপুর ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকির হোসেন খান রতন, দিঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন, মো. স্বপন মিয়া, সাবেক সাধারন সম্পাদক মহিয়ার উদ্দিন মিয়া, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসতিয়াক আহমেদ রাজিব, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম খান, রনক খান, আসাদুজ্জামান সাহেথ, আবুল হোসেন খান, শহিদুল ইসলাম তালুকদার, আরিফ হোসেন খান, দিঘলকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. লিটন মিয়া, মো. রাসেল খান (কালিয়াগ্রাম), দিগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হাসান জনি প্রমুখ।

সভা পরিচালনা করেন মো. টিটু খান।বক্তারা বলেন, আসন্ন নির্বাচনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

ঘাটাইলে ফুলের দোকানগুলোতে ফুল বিক্রির উৎসব

ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা ১ মিনিট। শুরু হবে রাতের প্রথম প্রহর। মহান বিজয় দিবস উদযাপনে সবাই ছুটবেন শহীদ মিনারে। আর স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রিয় জন্মভূমি পা রাখবে ৪৭বছরে।

শিশু-কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নানা বয়সী মানুষের হাতে শোভা পাবে গুচ্ছ গুচ্ছ ফুল। দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি ফুলেল শুভেচ্ছা জানাবেন সবাই। বীর সেনানীদের শ্রদ্ধা জানাতে ফুল ফুলে ভরে দেবেন প্রত্যেক শহীদ বেদি।

দিবসটি সামনে রেখে টাঙ্গাইলে ঘাটাইলের চারদিকে ফুল বিক্রির ধুম পড়ে গেছে।

ফুল বিক্রেতাদের কাছে রয়েছে সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ব্যক্তি বিশেষের আগাম চাহিদা। এই সব ক্রেতাদের চাহিদার ফুল বিক্রি করতেই দিনরাত ব্যস্ত এখন দোকানিরা।

এছাড়া সাধারণ ক্রেতারাও ফুল কেনার দৌঁড়ে পিছিয়ে নেই। তারাও ফুল কিনতে ছুটছেন দোকানে দোকানে। বেছে বেছে কিনছেন পছন্দের সেরা ফুল। সব মিলিয়ে দোকানে দোকানে চলছে ফুল বিক্রির উৎসব।

শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে থানা রোডের আশেপাশের বিভিন্ন দোকানে গেলে ফুল ব্যবসায়ী ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ফুল কিনতে আসা ক্রেতা সাধারণের সঙ্গে কথা হলে এমন চিত্র উঠে আসে।

ফুলের দোকানগুলোয় থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে হরেক রকমের ফুল ও ফুলের তোড়া। এর মধ্যে গাঁদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা অন্যতম। এসব ফুল আকর্ষণীয়ভাবে বেঁধে শ্রদ্ধা জানানোর ফ্রেমে আটকে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন আকারের মালা তৈরি করা হচ্ছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুল ব্যবসায়ীরা।

ওসমানী বিমানবন্দরে ৬ কেজি স্বর্ণ জব্দ

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছয় কেজি ৩২ গ্রাম ওজনের ৫২ পিস স্বর্ণের বার জব্দ করেছে বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকালে স্বর্ণের বারগুলো জব্দ করা হয়।

ওসমানী বিমানবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার আহমেদুর রেজা চৌধুরী জানান, জব্দকৃত স্বর্ণের আনুমানিক বাজার মূল্য দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা।


তিনি জানান, সকালে দুবাই থেকে ছেড়ে আসা বাংলাদেশ বিমানের ঢাকাগামী বিজি-২৪৮ ফ্লাইটের একটি সিটের নিচে থাকা ব্যাগ থেকে স্বর্ণের বারগুলো জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন যাত্রীকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

ড. কামালকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

সাংবাদিকদের হুমকি দেয়ার ঘটনায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেধে দিয়েছে সাংবাদিকদের দুই সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। একই সঙ্গে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছে।

শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব জানানো হয়।

এ ছাড়া ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবেন বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতারা। এ ছাড়া মঙ্গলবার সারাদেশে বিএফইউজের অঙ্গসংগঠনগুলো বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে।

বিএফইউজের মহাসচিব শাবান মাহমুদ বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন- ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, বিএফইউজে যুগ্ম-মহাসচিব অমিয় ঘটক পুলক প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্য ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রশ্ন রেখে বলেন বলেন, ড. কামাল হোসেন জামায়াতের কাছ থেকে কত টাকা খেয়ে তাদের পক্ষে ওকালতি করছেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ এ বক্তব্যের দাঁত ভাঙা জবাব দেয়ার জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ভোটারদের আহ্বান জানান।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী ড. কামাল হোসেনের ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশন না করতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার সকালে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে যান জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তারা। ‘জামায়াতের তো রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিল হয়েছে, এখন জামায়াত সম্পর্কে আপনাদের সর্বশেষ অবস্থান কী?-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ক্ষিপ্ত হয়ে যান ড. কামাল। তিনি বলেন, ‘কত টাকা পেয়েছ এই প্রশ্নগুলো করার জন্য? শহীদ মিনারে এসেছ, শহীদদের কথা চিন্তা করা উচিত। কোন চ্যানেল থেকে এসেছ? চিনে রাখব। চুপ করো, খামোশ।’

শনিবার সকালে ওই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতিও পাঠান তিনি। এতে লেখা হয়েছে- হঠাৎ করেই তার কাছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সবিনয়ে জানান, এই দিনে এখানে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না। সাংবাদিক আবারও একই প্রশ্ন করলে তিনি একই মনোভাব প্রকাশ করেন। দুইবার এ বিষয়ে প্রশ্ন শুনতে না চাইলেও তৃতীয়বার ভিড়ের মধ্যে থেকে অনবরত ‘জামায়াত জামায়াত’ শব্দ শুনতে পাই। তখন আমার খুবই খারাপ লেগেছিল এবং আমি প্রশ্নকর্তাকে থামানোর চেষ্টা করেছিলাম। আমার বক্তব্য কোনোভাবে কাউকে আহত বা বিব্রত করে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

বিজয় দিবসের গান ‘বিজয়ের গল্প’

লাল সবুজের পতাকা, অনেক রক্তে আঁকা এমনই আবেগঘন কথা দিয়ে সজ্জিত গান ‘বিজয়ের গল্প’। স্বাধীনতার ৪৭তম বর্ষপূর্তী উপলক্ষে তৈরি হয়েছে এ গান। আজম চৌধুরীর লেখা এ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন 'বরুনা'খ্যাত গায়ক মাহাদী। দেশাত্ববোধক এই গানের সুর ও সংগীত আয়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ।

গানটির মিউজিক ভিডিও বিজয় দিবসেই দর্শক শ্রোতারা উপভোগ করতে পারবেন। গানের মিউজিক ভিডিওতে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে অভিনব এক শিল্পচিত্র। টি-ব্যাগ এর গায়ে আঁকা চিত্রের মাধ্যমে বিজয়ের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সে শিল্পচিত্রে, যার শিল্পী এমডি সাদিতুজ্জামান।

শিরোনাম থেকেই অনুমেয় যে এ গানের কথায় রয়েছে বাংলাদেশের বিজয় ইতিহাসের গল্প। গানটিতে উঠে এসেছে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা পরবর্তী তরুন প্রজন্মের ভাবনা।
বিজয়ের গল্প গানের প্রসঙ্গে মাহাদীর অভিব্যক্তি জানতে চাইলে তিনি বলেন, গীতিকার ও সুরকার এই গানে পলাশীর প্রান্তর, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, নতুন প্রজন্মের ভাবনা, সবই নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন। আমার বিশ্বাস, গানটি শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।

বিএনপির দেড়শ প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে এ পর্যন্ত বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের দেড়শো প্রার্থীর ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা হয়েছে। দু’জন প্রার্থীকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে আইনী জটিলতা সৃষ্টি করে প্রার্থী হওয়া অনিশ্চিত করে রাখা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক প্রার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামালসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা হয়েছে।

শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, হামলা করার পর গতকাল বর্ষিয়ান জননেতা ড. কামাল হোসেনের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলা দায়েরের মাধ্যমে সরকার যে বার্তাটি দিলো তা নিম্ন রুচির। সরকারের কাছে আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা ছাড়া আর কারো কানাকড়ি মূল্য নেই। এই খ্যাতিমান আইনজীবী ও দেশের সংবিধান প্রণেতাকে মামলার মাধ্যমে যে অপমান করা হলো সেটি সারা জাতিরই অপমান। এই ঘটনায় আবারও প্রমানিত হলো-সরকার পরিচালিত হচ্ছে দুস্কৃতিকারিদের দ্বারা।

তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন সাহেবের যদি খামুস বলা অন্যায় হয়ে থাকে তবে আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই-এইচ টি ইমাম যখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সাংবাদিকদেরকে ধমকিয়ে বলেন-‘তুমি কি বিএনপি যে বিএনপি’র মতো প্রশ্ন করো ? তুমি কি মওদুদ ?’ কই আপনি তো এ বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি। কারণ আপনি একচ্ছত্র ক্ষমতার মালিক, আপনার বিরুদ্ধের রাজনৈতিক শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য নিজেদের ক্যাডারদেরকে লেলিয়ে দিয়েছেন। পুলিশকে সন্ত্রাসীদের উৎসাহদাতা হিসেবে আপনি মদদ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আপনার আমলে যারা মামলা-মোকদ্দমার শিকার, গ্রেফতারের শিকার তারা ন্যায়ের পক্ষে, তারা গণতন্ত্রের পক্ষে। আজকের চলমান ন্যায় ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের তারা মুক্তিযোদ্ধা।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, তফসিল ঘোষণার পরে পুলিশের কর্মকান্ডের জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন। ক্ষমতাসীন দল ও নির্বাচন কমিশন একই ঝাঁকের কৈ। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য ও কার্যকলাপ পুলিশের ভয়ঙ্কর দমনের প্রবণতাকে আরও উস্কিয়ে দিচ্ছে। দেশব্যাপী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের ঘুম কেড়ে নেয়া হয়েছে পুলিশের চিরুনী তল্লাশী। দেশব্যাপী অকল্পনীয় সহিংসতা, রক্তপাত ও পুলিশী আক্রমণের বিষয়ে কমিশনে অভিযোগ দিলেও ইপ্সিত ফল মেলেনি। নির্বাচন কমিশন, দেশের কিছু আওয়ামী বুদ্ধিজীবী, আত্মা বিক্রি করা কিছু সাংবাদিক ক্ষমতার বিষাক্ত প্রতিক্রিয়ায় যেন মনে হয় মূমুর্ষ রোগী, যেন মারণরোগে তারা আক্রান্ত হয়েছে।

রিজভী আহমেদ বলেন, তারা ড. কামাল হোসেন সাহেবের গাড়ীতে আক্রমণের সাফাই গাইছেন, তার মতো বরেণ্য ব্যক্তিকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলছেন। এই সাফাইকারি ক্রীতদাসদের কারণেই বাংলাদেশ এখন দুর প্রস্তর যুগে ফিরে যাচ্ছে। তবে আমি অবৈধ শাসকগোষ্ঠী, নির্বাচন কমিশন এবং তাদের দুস্কর্মের সঙ্গীদের জানিয়ে রাখতে চাই-জনগণের শ্রবণেন্দ্রীয় সর্বক্ষণ প্রস্তুত আছে। কে কি বলছেন কিছুই এড়িয়ে যাচ্ছে না। আমি গণফোরামের সভাপতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে অসম্মানজনক মিথ্যা মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনেই বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই এই হামলাগুলো সংঘটিত হয়। সকল আসনেই বিএনপি প্রার্থীর পোষ্টার লাগাতে বাধা দেয়া হয়েছে, পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। প্রায় সকল প্রচারণার মাইক ভাংচুর করা হয়েছে, ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। ৩০০ আসনেই গণগ্রেফতার চলছে।

ঐক্যফ্রন্টের রোডমার্চ দুপুরে, কাল বিজয় দিবস র‌্যালি

দুপুর ২টায় টঙ্গীর শফিউদ্দিন সরকারি একাডেমি মাঠে পথসভার মধ্য দিয়ে রোডমার্চ শুরু করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পরে ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুর পর্যন্ত যাবে রোডমার্চ। ড. কামাল হোসেনসহ জোটের শীর্ষ নেতারা রোডমার্চে অংশ নিবেন। 

বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রোডমার্চের প্রথম পথসভা হবে ঢাকায়। আজ দুপুর ২টায় টঙ্গীর শফিউদ্দিন সরকারি একাডেমি মাঠ থেকে এটি শুরু হবে। এরপরে গাজীপুর চৌরাস্তা, ময়মনসিংহের ভালুকা, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ, ফুলপুর হয়ে শেরপুরে এই পথসভা শেষ হবে।

১৬ ডিসেম্বর, বিজয় দিবসেও কর্মসূচি দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। এদিন সকাল ৯টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। একই দিনে বিকাল ৩টায় বিএনপির নয়াপল্টন অফিস থেকে বিজয় র‌্যালি করা হবে। আর ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে ঐক্যফ্রন্ট।

ঘাটাইলে চায়ের কাপে নির্বাচনী ঝড়ের সাথে আশঙ্কাও

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ডে বেলাল হোসেনের চা স্টল। তখন সকাল ৮টা। শীতের সকালে চা পান করতে বসেছেন কয়েকজন। চা তৈরি হচ্ছে আর লোকজন চালিয়ে যাচ্ছেন আড্ডা। আলোচনার বিষয় সংসদ নির্বাচন। গত নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে অনেকের। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিনা ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হন। এবার বিএনপিসহ অন্য দলের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। তাই নির্বাচনী আলোচনায় যেন প্রাণ পেয়েছেন ভোটাররা। এবার তাদের মনের মতো প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবেন।

তবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে আশার সঙ্গে আশঙ্কাও রয়েছে। ভোট ঠিকমতো দিতে পারবেন কি না, কেন্দ্র দখল করা হবে কি না, সরকার দলীয় প্রার্থী জোর করে জয় ছিনিয়ে নেবে কি না এসব আশঙ্কা তাদের মধ্যে। আশার কথা, বিএনপি এবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এতে জাগবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। জমে উঠবে নির্বাচন।

সেখানে চা পান করতে বসেছিলেন ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনে শুধু আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থী থাকায় ভোট হয়নি। এবার প্রায় সব দল আছে। মনে হচ্ছে ভালই জমবে নির্বাচন। পছন্দের লোককে হয়তো ভোট দিতে পারবো।’

কৃষক আরশেদ আলী বলেন, ‘ভোটের আগে কি হয় বুঝতাছি না। যদি কোনো হাঙ্গামা হয় তাইলে ভোট আর দেয়া হবে না।’

চা স্টলের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন আসায় চা খেতে আসা মানুষ অনেক সময় বসে থেকে গল্প-গুজব করে। কে জিতবে, কে হারবে, আওয়ামী লীগ কি চায়, বিএনপি কি চায়, কে কি বুদ্ধি করে আরো কত কথা যে তারা কয়! আমি শুনি, মজা পাই আর চা বিক্রি করি।’

জেলার কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড থেকে বল্লা রোডে একটু এগিয়ে গেলেই রাস্তার ডানপাশের চা স্টলে ছয়জন বিভিন্ন বয়সের লোক বসে চা পান করছেন। তাদের কাছে নির্বাচনের খবর জানতে চাইলে বলেন, বিএনপি এ নির্বাচনে আসায় ভালো হয়েছে। নেতা-কর্মীদের মধ্যে যারা ঝিমিয়ে পড়েছিল তারা এবার জাগবে। আমারাও খুশি। শক্তিশালী দুই দল আছে নির্বাচনে। গত নির্বাচনে ভোট ছাড়াই অনেকে এমপি হয়েছিল। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয়।

মির্জাপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি গোলাম ফারুক সিদ্দিকী বলেন, গত ১০ বছর আগে মির্জাপুরে জাতীয় নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৪ সালে মির্জাপুর আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী একাব্বর হোসেন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। আগামী নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু ভোটের আশা করছি। নির্বাচন কমিশন দেশের জনগণের শান্তির জন্য নিরপেক্ষ ভোটের ব্যবস্থা করবে বলে আমাদের আশা।

মির্জাপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আশা করছি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তবে নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত সেই উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি।

দেলদুয়ার বাসস্ট্যান্ডের ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান বলেন, গত নির্বাচনে দেলদুয়ারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন খন্দকার আব্দুল বাতেন। একজন নামমাত্র তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ফলে নির্বাচন জমেনি একতরফা।

ঘাটাইলে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ৪

শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের পাকুটিয়া বাসষ্ট্যান্ডে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ও বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্বাচনী মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে চারজন আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী আহত হয়েছে।

আহতরা হলেন দেউলাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হুমায়ন কবির (৪৫), আমির হামজা(৩০), মাহারুল (৫২), ইয়ামিন (৪০)। তাদেরকে ঘাটাইল হাসাপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় পাকুটিয়া বাসষ্ট্যান্ড চত্বরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নৌকার মিছিল করার সময় একই সময়ে বিএনপি নেতা কর্মীরা ধানের শীষের মিছিল করার সময় মুখোমুখি হলে আওয়ামী লীগের মিছিলে ঢিল ছুঁড়লে উভয় দলের নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এ সময় আওয়ামী লীগের চারজন নেতা আহত হন।

এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মিছিল করার সময় ঢিল ছুঁড়লে সংঘর্ষ বেধে যায়। থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

ঘাটাইলে আ.লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠিত

শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকালে টাঙ্গাইলে ঘাটাইল উপজেলার পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সাবেক পৌর মেয়র মোঃ হাসান আলীর সভাপতিত্বে কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান খান, কাউসিন্সর শেখ মোহাম্মদ কবির আহমেদ, পৌর আওয়ামী লিগের আহবায়ক খলিলুর রহমান, সাধারন সম্পাদক মোঃ খাদেমুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ মোতালেব হোসেন, অ্যাডভোকেট মোঃ হোসেন আলী (হলুদ), উপজেলা তাতী লীগের আহবায়ক মোঃ খোরশেদ আলম, ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ নুরুল ইসলাম (ধলা), সাধারন সম্পাদক মোঃ বিপ্লব হোসেন প্রমুখ।

ভূঞাপুরে মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণকারী ঘাটাইলের সাইদুল আটক

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১০ম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রী। জয়নাল ওরফে সাইদুল (৩০) ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিজ বাড়িতে আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণ করে বলে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ শুক্রবার সকালে সাইদুলকে গ্রেপ্তার করে।

সাইদুল ঘাটাইল উপজেলার নলছোপা গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে এবং সে বিবাহিত।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আব্দুল লতিফের ছেলে জয়নাল ওরফে সাইদুলের সাথে মাস তিনেক আগে ওই মাদ্রাসা ছাত্রীর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। নিজের বিয়ের বিষয়টিও গোপন রাখে প্রেমিকার কাছে।

এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক দৈহ্যিক সম্পর্কে রুপ নেয়।

ওই ছাত্রীকে টাঙ্গাইল কোর্টে বিয়ের করার আশ্বাস দিয়ে গত ৯ ই ডিসেম্বর বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসে সাইদুল। ওইদিন কোর্ট বন্ধ থাকায় সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায় তারা। স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় রবিবার কোর্টে বিয়ে করা হবে বলে ওই মেয়েকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় সাইদুল।

রাতভর ওই মেয়ের সাথে সে অনৈতিক কাজ চালায়। পরের দিন বিয়ে না করে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

মেয়েটি বাড়ি গিয়ে বিষয়টি তার মা বাবার কাছে খুলে বলে। পরে মেয়ের পিতা বাদী হয়ে জয়নাল ওরফে সাইদুলকে আসামী করে বৃহস্পতিবার রাতে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। শুক্রবার সকালে পুলিশ ভূঞাপুর বাজার এলাকা থেকে সাইদুলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর সে পুলিশের কাছে ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

এব্যাপারে ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো.রাশিদুল ইসলাম বলেন, সাইদুল বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তা গোপন করে মেয়েটিকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রাতভর তাকে ধর্ষণ করে। মেয়ের বাবার করা মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।