টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের গৌরাঙ্গী গ্রামের হাক্কানী দরগাহ শরীফের পীর আব্দুল হালিম এর ঢাকা মিরপুর ছয় নং রোডের বাসায় ১১ বছরের গৃহকর্মীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য ঘনিভূত হচ্ছে। ঘাটাইল থানা পুলিশের সহযোগিতায় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নিহতের পরিবারকে দেড়লাখ টাকা আর ১২শতক জায়গার বিনিময়ে আপোসরফা হয়েছে বলে নানা সুত্রে জানা গেছে।
এদিকে এটি হত্যা, না ছাদে থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এনিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। নিহতের গায়ে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখে এটিকে নিছক হত্যাকান্ড বলেই ধারনা করছে স্থানিয়রা। আর এ নিয়ে অভিযোগের তীর ছুড়েছে আব্দুল হালিমের ছেলে হামিম ও তার স্ত্রী জুলি এবং নিহতের দূরসম্পর্কের মামা সহিদ এর দিকে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার নির্বাক হলেও এলাকাবাসির মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
নিহত রাসেল ঘাটাইলের গৌরাঙ্গী গ্রামের দিনমজুর আঃ হামিদের ছেলে। গত ১০ আগষ্ট ঢাকা মিরপুরের রোড নম্বর- ১১ , সেকশন- ৬- এর ১৩ নম্বর বাসার ৪র্থ তলার নিজ ফ্লাটে এ মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, হাক্কানী পীড়ের তত্বাবধায়ক আব্দুল হালিমের গ্রামের বাড়ি ঘাটাইলের গৌরাঙ্গী গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মিরপুরে ৪ তলা ফ্ল্যাট কিনে বসবাস করছেন। একই গ্রামের লোক হওয়ায় গত ৮ মাস আগে তার বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেয় রাসেল (১১)।
সরেজমিনে গৌরাঙ্গী গ্রামে নিহতের বাবা আঃ হামিদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ঘটনা আমি কিছু বলতে পারব না। ঘটনার মধ্যে আমি এইটুকু জানি গত ৯ আগষ্ট তারিখ বৃহস্পতিবার রাতে এশার নামাজের সময় আমার ছেলের সাথে কথা বলেছি। মোবাইলে বলছিলাম বাবা তুমি বাড়ি আসবা না। সে বলছিল বাবা আমি ঈদের মধ্যে বাড়ি আমু। এটাই ছিল আমার সাথে শেষ কথা। শুক্রবার বাসা থেকে জানানো হয় রাসেলের পাতলা পায়খানা হয়েছে। ওই রাত ১.১৫ মিনিটের সময় আমার খালাত শালা সহিদ গাড়ী পাঠিয়ে দিয়ে বলে তোমার ছেলের অসুখ তোমাকে যেতে হবে। আমি আর আমার পরিবার দুজনে গেছি। ভোরে মিরপুরে ডেলটা হাসপাতালে যাই। সেখানে লাশটা চাদরে মোড়ানো ছিল। সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিয়ে পরে এ্যাম্বুলেন্সে করে লাশটা বাড়িতে নিয়ে আসি।
নিহতের বাবা আঃ হামিদ আরও বলেন, লাশের পুরো শরীরে জখমের চিহ্ন। ছাদে থেকে পড়লে হাত পা গুড়া হয়ে যেত। অন্ডকোষ গলানো ছিল।
মামলা করলেন না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি পরের জায়গায় থাকি। টাকা পয়সা নাই, মামলা মোকদ্দমা চালাইতে পারব না। আদালতে যাইতে গাড়ী ভাড়াও জোটাতে পারব না।
তিনি জানান, লাশটি পৌছানোর আগেই কবর কাটা হয়েছিল। তড়িঘড়ি করে দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। এলাকাবাসির চাপে থানা পুলিশ লাশটি থানায় নিয়ে যায়। পোষ্টমর্টেম শেষে রোববার লাশ দাফন করা হয়।
নিহতের বাবা বলেন, পরে থানায় বসে ৩০০টাকার ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে আমাকে দেড় লাখ টাকা আর ১২শতক জায়গা জমি দেয়া হবে বলে জানানো হয়।
জানতে চাইলে হামিমের স্ত্রী জুলি বলেন, সন্ধ্যায় ছাদে খেলতে গেছিল, সেখান থেকে পড়ে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে ঘাটাইল ডট কমকে তিনি বলেন,বিল্ডিং-এর পাশে একটি গাছ রয়েছে, গাছ বেয়ে নামতে গিয়ে হয়তো এরকম আঘাত পেয়েছে।
জানতে চাইলে ঘাটাইল থানা অফিসার ইনচার্জ মাকছুদুল আলম ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, ছেলেটি ছাদে থেকে পড়ে মারা গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়েছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুনেছি আপোষ হয়েছে। থানায় বসে আপোস হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, শুনেছি আপোস হয়েছে। থানায় বসে শুধু বাদী মামলা করবে না শর্ত সাপেক্ষে লেখালেখি হয়েছে। সে কাগজ আমার কাছে রয়েছে।
